মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করা হচ্ছে: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের প্রধান বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর যেভাবে পদ্ধতিগত-ভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, সেটি ‘জাতিগত-ভাবে নির্মূল’ করার শামিল।

মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে যেভাবে সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে , সেটি মনে হচ্ছে পাঠ্য বইয়ের জন্য ‘জাতিগত নিধনের’ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

অবিলম্বে মিয়ানমার সরকারকে সামরিক অভিযান বন্ধের আহবান জানিয়েছেন মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের তদন্তকারীদের রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে না দেয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্ণয় করা যাচ্ছে না।

গত মাসে মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমারের সরকার বলছে সন্ত্রাসীদের হামলার জবাবে এ সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে মিয়ানমারের সরকার সে দেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান চালাচ্ছে।

তখন কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর অফিসের প্রধান কর্মকর্তা জন ম্যাককিসিক বলছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা পুরুষদের হত্যা করছে, শিশুদের জবাই করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং লুঠতরাজ চালাচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন দেয়া স্বচক্ষে দেখলেন বিবিসির সাংবাদিক

গত দু সপ্তাহে যে রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন, তারা এসেছে তিনটি জেলা থেকে: মংডু, বুথিডং, এবং রাথেডং।

এ তিনটিই হচ্ছে মিয়ানমারের শেষ তিনটি এলাকা যেখানে বড় সংখ্যায় ‘মুক্ত পরিবেশে’ রোহিঙ্গা বসতি আছে। এ ছাড়া বড় সংখ্যায় রোহিঙ্গারা আছে শুধু মাত্র বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের শিবিরে।

এসব জেলায় যাওয়া খুব কঠিন, রাস্তা খারাপ – তা ছাড়া সেখানে যেতে সরকারি অনুমতিপত্র লাগে। আর সাংবাদিকরা এ পারমিট খুব কমই পায়।

বিবিসির জোনাথন হেড এক রিপোর্টে লিখছেন, সম্প্রতি তারা ১৮ জন দেশী-বিদেশী সাংবাদিকের এক দলের অংশ হিসেবে মংডু জেলায় যাবার এক বিরল সুযোগ পেয়েছিলেন। এ সফরের একটা সমস্যা হলো, আপনি শুধু সেসব জায়গাই দেখতে পারবেন যেগুলোতে কর্তৃপক্ষ তাদের যেতে দেবে।

কিন্তু কখনো কখনো এমন হয় যে এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও আপনি অনেক কিছু বুঝে নিতে পারবেন।

তা ছাড়া সরকারের কিছু যুক্তি আছে যা শোনা দরকার। মিয়ানমার সরকার এখন একটা বিদ্রোহ পরিস্থিতি মুখোমুখি, তবে অনেকে বলতে পারেন যে তারা নিজেরাই এ সমস্যা তৈরি করেছে। রাখাইন প্রদেশের এই জাতিগত সংঘাতের এক বিরাট ইতিহাস আছে, এবং যে কোন সরকারের পক্ষেই এটা মোকাবিলা করা কঠিন।

রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটওয়েতে পৌঁছার পর সাংবাদিকদের বলে দেয়া হলো, কেউ গ্রুপ ছেড়ে গিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। সন্ধ্যে ৬টা থেকে কারফিউ, তাই এর পর ঘুরে বেড়ানো যাবে না। সাংবাদিকরা যেখানে যেতে চান তারা সাংবাদিকরা যেখানে যেতে চান সেসব অনুরোধ নিরাপত্তার কারণে প্রত্যাখ্যান করা হলো। হয়তো তারা সত্যি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল।

সিটওয়ে থেকে বুথিডং যেতে লাগে ৬ ঘন্টা। সেখান থেকে এক ঘন্টা পাহাড়ি পথ ধরে গেলে পেীঁছবেন মংডু।

যারার পথে পড়লো মাইও থু গি গ্রাম। সেখানে প্রথমবারের মতো পুড়িয়ে দেয়া গ্রাম দেখতে পেলাম। এমনকি তালগাছগুলোও পুড়ে গেছে।

মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য হলো, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে ঢুকে তাদের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পিত আক্রমণ ও ধবংসযজ্ঞ চলার বর্ণনা দিচ্ছে, সেই নেতিবাচক প্রচারের একটা জবাব দেয়া।

কিন্তু এসব প্রয়াস ভালোভাবে কাজ করছে না।

বিবিসির জোনাথন হেড বলছেন, “আমাদের প্রথম নেয়া হলো মংডুর একটি ছোট স্কুলে, এখানে আশ্রয় নিয়েছে ঘরবাড়ি হারানো হিন্দু পরিবার। সবাই বলছে একই গল্প – তাদের ওপর মুসলিমদের আক্রমণ, এবং তার পর ভয়ে পালানোর কাহিনি”।

“কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, যে হিন্দুরা বাংলাদেশে পালিয়েছে তারা সবাই বলছে, তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে রাখাইন বৌদ্ধরা, কারণ তারা দেখতে রোহিঙ্গাদেরই মতো।”

“এই স্কুলে আমাদের সাথে ছিল সশস্ত্র পুলিশ ও কর্মকর্তারা । তারা কি মুক্তভাবে কথা বলতে পারছিল?”

“একজন লোক বলতে শুরু করলো কিভাবে সেনাবাহিনী তাদের গ্রামের ওপর গুলি করলো। কিন্তু খুব দ্রুত একজন প্রতিবেশী তার কথা সংশোধন করে দিল।”

“কমলা রঙের ব্লাউজ এবং ধূসর-বেগুনি লুঙ্গি পরা এক মহিলা উত্তেজিতভাবে মুসলিমদের আক্রমণের কথা বলতে লাগলো।”

“এর পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো একটি বৌদ্ধ মন্দিরে। সেখানে একজন ভিক্ষু বর্ণনা করলেন, কিভাবে মুসলিমরা তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। অগ্নিসংযোগের ছবিও আমাদের দেখানো হলো। ছবিগুলো অদ্ভূত।”

“হাজিদের সাদা টুপি পরা কিছু লোক একটি ঘরের পাতার তৈরি চালায় আগুন দিচ্ছে। মহিলাদের দেখা যাচ্ছে – তারা নাটকীয় ভঙ্গিতে তলোয়ার এবং দা ঘোরাচ্ছে, তাদের মাথায় টেবিলক্লথের মতো লেসের কাজ করা কাপড়।”

“এর পর আমি দেখলাম, এই মহিলাদের একজন হচ্ছে স্কুলের সেই হিন্দু মহিলাটি – যে উত্তেজিতভাবে নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিল। আর এই ঘর পোড়ানো পুরুষদের মধ্যে একজনকে আমি সেই বাস্তুচ্যুত হিন্দুদের মধ্যে দেখেছি।”

“তার মানে, তারা এমনভাবে কিছু ভুয়া ছবি তুলেছে, যাতে মনে হয় মুসলিমরা ঘনবাড়িতে আগুন লাগাচ্ছে।”

বিবিসির জনাথন হেড বলছেন, তাদের আরো কথা হয় কর্ণেল ফোনে টিন্ট-এর সাথে। তিনি হচ্ছেন স্থানীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী্ ।

তিনি বর্ণনা করলেন, কিভাবে বাঙালি সন্ত্রাসীরা (আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির জঙ্গীদের তারা এভাবেই বর্ণনা করে) রোহিঙ্গা গ্রামগুলো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে, এবং গ্রামের লোকদের চাপ দিয়েছে যেন প্রতি বাড়ি থেকে যোদ্ধা হিসেবে একজন লোক দেয়া হয়। যারা একথা মানছে না তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

এই কর্নেল আরো অভিযোগ করলেন, জঙ্গীরা মাইন পাতছে এবং তিনটি সেতু উড়িয়ে দিয়েছে।

জোনাথন হেড তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তার মানে তিনি কি এটাই বলতে চাচ্ছেন যে – এই যে এতসব গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে – এগুলো জঙ্গীরাই করছে?

তিনি নিশ্চিত করলেন যে এটাই সরকারের বক্তব্য। সেনাবাহিনীর নৃশংসতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা উড়িয়ে দিলেন। বললেন, “এর প্রমাণ কোথায়? যেসব মহিলারা এ দাবি করছে, আপনি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখুন। এদেরকে কি কেউ ধর্ষণ করতে চাইবে?”

মংডুতে যে মুসলিমদের সাথে আমরা কথা বলতে পেরেছি, তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলার সাহস করতে পারে নি। আমাদের পাহারাদারদের নজর এড়িয়ে এদের দু’একজনের সাথে কথা বললাম। তারা বললো, নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে গ্রাম ছাড়তে দিচ্ছে না। তারা খাদ্যাভাব এবং তীব্র আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

একজন যুবক বলছিল, তারা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু তাদের নেতারা কর্তৃপক্ষের সাথে এক চুক্তি করেছে যাতে তারা চলে যেতে না পারে। এখানকার বাঙালি বাজার এখন নিরব। এজনকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা কিসের ভয় করছেন। “সরকার” – তার জবাব।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের সভায় বহুতল বিশিষ্ট কমপ্লেক্স’র নকশা অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের ম্যানেজিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ আজিজুল হক, সহ-সভাপতি শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু, আলহাজ্ব ফজলুর রহমান, আলহাজ্ব কাজী মুহম্মদ অলিউল্লাহ, যুগ্ম সম্পাদক কাজী সিরাজুল হক, সহ সম্পাদক মুজিব হোসেন নান্নু, কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব আবু দাউদ, সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ, কাজী মনিরুজ্জামান মুকুল, আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার, মো. হাদিউজ্জামান, আলহাজ্ব এড. মোনায়েম খান চৌধুরী, শেখ আব্দুল মাসুদ, কাজী আমিরুল হক (আহাদ), মো. সেলিম, আব্দুর রহমান প্রমুখ। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের প্রতিনিধি ডাঃ নজরুল ইসলাম, ইউনাইডেট প্রিন্টিং প্রেস’র ডাইরেক্টর আবু সোয়েব এবেল, ইঞ্জিনিয়ার শেখ আহসান হাবীব টিপু, কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সদস্য আলহাজ্ব মো. ইনামুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আহ্ছানিয়া মিশন জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম জিয়া। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, ‘সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশন একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.) এর প্রতিষ্ঠাতা। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ¯্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্ট্রের সেবা করা। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনে খুব শীঘ্রই একটি মাল্টিকমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।’ এসময় সকলের সর্বসম্মতিক্রমে ৪তলা বিশিষ্ট মাল্টিকমপ্লেক্স এর ডিজাইন অনুমোদন করা হয় এবং দ্রুত কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্রীলংকার বিপক্ষে জোর করে টস জিতে ভারত!

সম্প্রতি শ্রীলংকার বিপক্ষে শেষ হওয়া টি২০ সিরিজের একমাত্র ম্যাচে ভারতের টস জয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ তোলপাড় হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই টসে ভারতকে জোর করে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

সেই টসের ভিডিও ক্লিপিং নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে খেলার সম্প্রচারকারী সংস্থা। এরপরেই বিতর্ক ছড়ায় অনলাইন আর অফলাইনে। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অবশ্য শনিবার এক টুইটবার্তায় নিজেদের মতামত জানায় শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ড।

বলা হয়, ম্যাচ রেফারি ‘হেড’ বলেছিলেন বলেই মেনে নিয়েছে শ্রীলংকার ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ড মেনে নিলেও এখনও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে- ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের সিদ্ধান্ত নিয়ে।

পাইক্রফটের আওয়াজ থেকে এখনও পরিষ্কার নয় আদৌ তিনি ‘হেড’ বলেছেন কিনা! তার শারীরিক ভাষা দেখে বারবার মনে হচ্ছিল টসে ভারতকে জয়ী ঘোষণা করায় তিনি হতবাক। এই পরিস্থিতিতে আসলে কে টস জিতেছিল তার সত্যতা হয়তো আর কখনই জানা সম্ভব হবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমার গণহত্যা চালাচ্ছে- মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে এখনও নৃশংসভাবে রোহিঙ্গা ‘গণহত্যা’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক।

সহিংসতার শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে

আজ সোমবার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এ মন্তব্য করেন।

রিয়াজুল হক বলেন, রাখাইনে মুসলমান নিধন অভিযান চলছে। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কিছু প্রভাবশালী রাষ্ট্রের মদদে আরাকানকে খালি করা হচ্ছে।

এই গণহত্যাকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম ও জঘন্যতম উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যূতে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নসহ রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত করা এবং গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে গতকাল রোববার থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন রিয়াজুল হক। এ সময় তিনি রোহিড়ঙ্গাদের মুখ থেকে মিয়ানমারে গণহত্যা ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের করুণ বর্ণনা শোনেন। রোহিঙ্গাদের নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে-ওবায়দুল কাদের

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও নিরাপত্তাসহ সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং এ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছি। তারা স্থায়ীভাবে না যাওয়া পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা এখন অসহায়। মানবিক কারণে তাদের সহযোগিতা করবে সরকার। সরকারের ভুমিকা আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।কিন্তু আমরা প্রশংসার জন্য করছি না।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। একদিনেই এসেছে ২০ হাজার। রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে এ মুহূর্তেই অন্তত ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার (৬৩০ কোটি টাকা) দরকার বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় আইন শৃংঙ্খলা, চোরাচালান, মানব পাচার প্রতিরোধ ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

কেএম রেজাউল করিম : দেবহাটা উপজেলা আইন শৃংঙ্খলা, চোরাচালান, সন্ত্রাস-নাশকতা, মানব পাচার প্রতিরোধ, যৌতুক, বাল্য বিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন ও মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভা কক্ষে উক্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীন, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) ও তদন্ত ওসি শরিফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওহাব, কৃষি কর্মকর্তা জসিমউদ্দীম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান, এলজিইডি কর্মকর্তা আলহাজ্ব হামিদ মাহমুদ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণাব কুমার মল্লিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা অধির কুমার গাঈন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ। এসময় চলমান দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সাথে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রথম টেস্টে বিশ্রামে সাকিব, ফিরতে পারবেন দ্বিতীয় টেস্টে

বিষয়টি বেশ আলোচনায় গতকাল রোববার থেকেই। টেস্ট ক্রিকেট থেকে ছয় মাসের বিশ্রাম চাচ্ছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বরাবর চিঠিও দিয়েছেন তিনি। সাকিবের এই আবেদনে সাড়া দিয়েছে বিসিবি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে।

আজ সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম জানিয়েছেন, প্রথম টেস্টে খেলবে না সাকিব। তবে সে যদি চায় দ্বিতীয় টেস্টে ফিরতে পারবে। মানে দ্বিতীয় খেলাটা নির্ভর করবে তার ওপর।

কেন সাকিবকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে? এ ব্যাপারে বিসিবির এই পরিচালক বলেন, ‘সাকিব আমাদের একটা চিঠি দিয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই ক্লান্ত বলে উল্লেখ করেছে সে। এটা তো সত্যিই। আসলে সে অনেক বেশি ক্রিকেট খেলছে। সে কারণে কিছুটা বিশ্রাম চেয়েছে। সে আমাদের সেরা ক্রিকেটার। আমরা চাই না চোটে আক্রান্ত হোক। সে বিবেচনায় তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বিসিবির এই পরিচালক বলেন, ‘আমরা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তাকে প্রথম টেস্টে বিশ্রাম দিয়েছি। যদি দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে চায় আমরা ওকে নিয়ে যাব। দলের সঙ্গে আপাতত সে যাবে না। যদি দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে চায় তাহলে পরে যাবে। ওর জন্য আমরা একটা অপশন রেখেছি।’

এ বছর টেস্ট ক্রিকেটে সাকিবের পারফরম্যান্স ছিল খুবই ভালো। ৭ টেস্টে ব্যাট হাতে করেছেন ৬৬৫ রান, উইকেট নিয়েছেন ২৯টি। সদ্য সমাপ্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দুই বিভাগেই ভালো খেলেছেন তিনি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। সেখানে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest