সর্বশেষ সংবাদ-
সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই বোতলজাত সায়াবিন তেল খেতে হবে– সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভায় বক্তারাদেবহাটায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে ৪৮ ক্যারেট ক্যামিক্যাল মিশ্রিত আম বিনষ্ট‘আমাদের দুর্ভাগ্য একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ এখনও রাষ্ট্রপতি’বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমকে তাড়াতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে  হয়রানির অভিযোগকালীগঞ্জের নলতায় সড়ক ও জনপদ থেকে উচ্ছেদের পরেও পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িকসাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনসারা দেশে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্ক সংকেতKeuntungan Menggunakan Bonus Istana Casino untuk Meningkatkan Peluang MenangIemesli, kāpēc Spinight online kazino ir tik populārs Latvijas tirgūΗ πλήρης καθοδήγηση για το Buran Casino no deposit bonus και τις προσφορές του

এবার ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ খেতাব হারাচ্ছেন সু চি

ব্রিটেনের অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ থেকে প্রতিকৃতি সরানোর পর এবার মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে দেয়া ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ খেতাব প্রত্যাহার করে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে শহরের নগর কাউন্সিল। খবর বিবিসির।

অক্সফোর্ড নগর সরকারের প্রধান বলেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করছে, তাতে তিনি আর ওই পুরস্কারের যোগ্য নন।

গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করার জন্য ২০ বছর আগে ১৯৯৭ সালে তাকে ওই সম্মান দেয়া হয়েছিল। তাছাড়া অক্সফোর্ড শহরের সাথে নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী অং সান সুচির নাম জড়িয়ে আছে, কারণ তিনি সেখানে পড়াশোনা করেছিলেন। পরে তিনি তার শিক্ষাবিদ স্বামীর সাথে ওই শহরে থাকতেন।

এর আগে, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের ধারাবাহিক নির্যাতনের ব্যাপারে সু চি তাঁর নিশ্চুপ ভূমিকার কারণে গত সপ্তাহে অক্সফোর্ড থেকে তাঁর একটি প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইতালিতে মিয়ানমারের গণহত্যা বিরোধী বিক্ষোভ ও সমাবেশ

ইতালির ভেনিসে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা মিয়ানমারের গণহত্যা বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এতে কম্যুনিটির বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করেন।

ভেনিস বাংলা স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের ব্যানারসহ যোগ দেন ভেনিসের বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, শরিয়তপুর জেলা সমিতি এবং শরিয়তপুর সমিতি। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

ভেনিসের মেসত্রের ট্রেন স্টেশনের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রাণ কেন্দ্র পিয়াচ্ছা ফেরেত্তোয় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বাংলা স্কুলের সভাপতি সৈয়দ কামরুল সরোয়ারের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মিয়ানমারের সরকার সে দেশের আরাকান প্রদেশে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে। অথচ ইতালিসহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশ চোখ বন্ধ করে আছে। তারা এ বিষয়ে কিছুই বলছে না। বরং রাশিয়া, চীন এবং ভারত সরাসরি গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা ইতিহাসে এক জঘন্যতম অধ্যায় হিসাবে লিপিবদ্ধ থাকবে।

বক্তারা ইতালিয় সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের উপর সেনা অবরোধ জারি করতে করতে হবে। বাংলাদেশে অবস্থান করা সকল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।

নগরীর অন্যতম প্রধান সড়ক ভিয়া পিয়াভে জুড়ে বিক্ষোভ মিছিলের সময় গোটা শহর জুড়ে যানজট লেগে যায়। এ সময় রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে বিপুল সংখ্যক ইতালিয়ান এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকরা হাত নেড়ে মিছিলকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। বিক্ষোভ মিলিলের নেতৃত্ব দেন ভেনিস বাংলা স্কুলের সভাপতি সৈয়দ কামরুল সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কম্যুনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্রেকফাস্টের যেসব ভুলেই বাড়ছে আপনার ওজন

সকালে খাবার খেলে মেদ বাড়ে। চিকিৎসকেরা বার বার এমন কথাই বলে থাকেন।
ফলে কিছু না খেয়ে হয়তো কখনওই ঘরের বাইরে বের হন না আপনি। কিন্তু সকালের খাবারটা যাতে হালকাই হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখেন অনেকেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওজন তো কমছেই না, বরং উল্টে বেড়ে যাচ্ছে।

তবে সকালে আপনি কম খাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু ব্রেকফাস্টে এমন কিছু থাকছে, যে কারণে আপনার মেদ বেড়ে যাচ্ছে দ্রুতই। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন, আপনার ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী ব্রেকফাস্টের যেসব ভুল-

১। সকালে ব্রেকফাস্টের সঙ্গে দই রাখা ভাল। কিন্তু সেই দই যদি ফ্লেভারড হয় তাহলে বিপদ। অর্থাৎ সাধারণ দই’র পরিবর্তে ম্যাঙ্গ ইয়োগার্ট বা অন্য কোনও ইয়োগার্ট যদি প্রতিদিন খেতে শুরু করেন তাহলে আপনার শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। আর তাতেই বেড়ে যেতে পারে আপনার ওজন।

২। প্রতিদিন সকালে অনেকেই ফলের রসের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু বাজার চলতি যে প্যাকেটজাত ফ্রুট জুস আপনার পেটে যাচ্ছে, সেখানেও অত্যধিক মাত্রায় সুগার থাকছে যেমন তেমনি অন্য উপাদানও থাকছে। এবং তা থেকেই বেড়ে যেতে পারে আপনার ওজন।

৩। সকালে যদি লুচি, পুরি খান তাহলে বিপদ ঘনিয়ে আসছে কিন্তু। এসবের চেয়ে যদি সকালে খিচুরি কিংবা রুটি খান, তাহলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অনেক সময় সকালে এনার্জি ড্রিংকসের উপর নির্ভর করেন। যা একেবারেই অনুচিত বলেও মনে করেন চিকিৎসকদের একাংশ।

৪। ওজন বেড়ে যাবে, সেই ভয়ে যদি শুধু একটা ডিমসেদ্ধ খেয়ে কিংবা চা, কফি দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে ফেলার চেষ্টা করেন, সেটাও কিন্তু ক্ষতিকর। সকালে যদি পেট ভরে খেয়ে নিতে পারেন, তাহলে দিনভর জাংক ফুড খাওয়ার ইচ্ছেটা চলে যাবে। আর তাতেই আপনার ওজনও নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এভ্রিল ছাড়া বাকি ৯ প্রতিযোগীকে ডাকা হয়েছে আজ

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ থাকছেন না জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। এভ্রিলের বিয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরেই অনুষ্ঠানটির আয়োজক অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট এর একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেলে হোটেল ওয়েস্টিনের বল রুমে বাকি ৯ প্রতিযোগীকে ডাকা হয়েছে। বিচারকদের রায়ে উপস্থিত সেই ৯ জনের মধ্য থেকে শীর্ষ সুন্দরী বাছাই করা হবে। একই দিন তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। সব বিচারক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় ঘোষণা করা হবে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ এর নাম।

উল্লেখ্য, জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের মাথায় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেননা তার আগে আরেকজনের নাম ঘোষণা করা হয়। যেটাকে আয়োজকরা ‘ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তোপের মুখে ফারিয়া

তোপের মুখে ফারিয়া

কর্তৃক Daily Satkhira

সদ্য গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ফোরাম’ আর ফোরামে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠানে বেফাঁস মন্তব্য করে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীদের তোপের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপানার এক পর্যায়ে ফারিয়া বলেন, ‘জাজের ইশারায় চলচ্চিত্র চলে।
জাজ না থাকলে চলচ্চিত্র অচল। ’ আর ফারিয়ার এমন মন্তব্যে শাকিব খান ও শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খানসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি জাজকে চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন সেলিম খান।

সেলিম খান জাজকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি জাজ মাল্টিমিডিয়াকে চ্যালেঞ্জ করছি, ওরা যদি বছরে চারটা ছবি নির্মাণ করে তাহলে আমি আমার শাপলা মিডিয়া থেকে নির্মাণ করবো ৮ টা। আর যদি জাজ ১০ টা নির্মাণ করেন আমি করবো ১৫ টা। সেটাও হবে দেশের ছবি। বিদেশি শিল্পীদেরকে নিয়ে এদেশে চলচ্চিত্রকে উন্নতি করতে চাই না। খাটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণ করবো। ’

ফারিয়ার মন্তব্যে শুধু সেলিম খানই নয়, বিরক্ত হয়ে অনুষ্ঠান শেষ না করেই বেরিয়ে যান মৌসুমী ও নির্মাতা উত্তম আকাশসহ অনেকে।

এদিকে, ওই ঘটনার পর থেকেই ফারিয়ার মন্তব্যের জেরে ফিল্ম পাড়ায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এ নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনামূলক স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।

কেউ কেউ বলছেন, এটি ছিল চলচ্চিত্র ফোরামের অনুষ্ঠান। কিন্তু ফারিহার বক্তব্য শুনে মনে হলো, ফোরাম নয়, এটি যেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার একক প্রোগ্রাম।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে ফারিহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এখন আমি একটি প্রোগ্রামে ব্যস্ত রয়েছি। ঘন্টাখানেক পরে যোগাযোগ করুণ। ”

এরপর এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেশ কয়েকবার তার মুঠোফোনে কল করা হয়েছে। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুতা পরিষ্কার করে নারকেল তেল

লাইফস্টাইল ডেস্ক : চুল ও ত্বকের যতেœর পাশাপাশি আসবাবের যতেœও অতুলনীয় নারকেল তেল। এছাড়া চামড়ার অনুষঙ্গের জৌলুস বাড়াতে ব্যবহার করতে পারেন এটি। মরিচা দূর করতেও কার্যকর নারকেল তেল।
চামড়ার জুতা পরিষ্কার করতে পারেন নারকেল তেল দিয়ে।
জেনে নিন নারকেল তেলের বিভিন্ন গৃহস্থালি ব্যবহার সম্পর্কে-
আসবাবের জৌলুস বাড়াতে ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল। আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে আধা কাপ লেবুর রস মিশিয়ে নরম কাপড়ের সাহায্যে পরিষ্কার করে নিন কাঠের আসবাব। এটি কাঠের শুষ্কতা দূর করবে ও আসবাবের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করবে।
কার্পেট থেকে কঠিন দাগ দূর করতে সামান্য নারকেল তেল ঘষে নিন। ৫ মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার করে ফেলুন কার্পেট।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে মরিচা পড়ে যেতে পারে দরজার লকে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নারকেল তেল ঘষে নিন লকে। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে মুছে ফেলুন পাতলা কাপড় দিয়ে।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে কাঁচির ধার গায়েব হয়ে গেছে? সামান্য নারকেল তেল ঘষে নিন কাঁচির ব্লেডে। ১ ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আবার আগের মতোই ধারালো হবে কাঁচি।
কাঠের চামচ ও কাটিং বোর্ডের যতেœ ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল।
চুইংগাম ওঠাতে ব্যবহার করা যায় নারকেল তেল।
নারকেল তেলের সাহায্যে জৌলুস বাড়াতে পারেন চামড়ার জুতা কিংবা
ব্যাগের। প্রথমে পাতলা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন ব্যাগ অথবা জুতা। প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে গেলে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল ছিটিয়ে শুকনা কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে নিন। ঝকঝকে হবে চামড়ার অনুসঙ্গ।
মেঝে পরিষ্কার করতে সামান্য নারকেল তেল কাপড়ের সঙ্গে মিশিয়ে মেঝে ঘষে নিন। তারপর সাবান পানি দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে মুছে ফেলুন।
ব্রোঞ্জ পরিষ্কার করতে পাতলা কাপড়ে নারকেল তেল নিয়ে ঘষে নিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারের ‘আশ্বাসে’ রোহিঙ্গাদের অবিশ্বাস

ন্যাশনাল ডেস্ক : সেনাবাহিনীর নির্যাতন-হত্যা-ধর্ষণের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার যে আশ্বাস মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে, তাতে খুব বেশি আশার কিছু দেখছে না ‘দেশহীন এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠী’।
২৫ আগস্ট নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ সাত হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত ৫০০ জন মারা গেছে, যাদের অধিকাংশই ‘বিদ্রোহী’। অন্যদিকে, জাতিসংঘ এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
যদিও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সেখানে ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ‘বিদ্রোহীরা’ দেশটির পুলিশ ও সেনাক্যাম্পে হামলা চালানোর পরই আত্মরক্ষার্থে অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনার পর যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার।
সবশেষ গতকাল সোমবার ঢাকায় এক বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও নোবেল জয়ী অং সান সু চির দপ্তরবিষয়কমন্ত্রী উ কিয়া তিন্ত সোয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এ ব্যাপারে একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের ব্যাপারেও একমত হয়েছে দুই দেশ। শিগগির তাতে দুই দেশ নাম দেবে। তারাই নির্ধাণ করবে, কী পন্থায়, কারা, কখন কীভাবে রাখাইনে ফিরবে।
মিয়ানমারের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই রোহিঙ্গারা ফিরতে পারবে।
‘কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের’ প্রতিক্রিয়ায় আবদুল্লাহ নামের একজন রোহিঙ্গা বলেন, ‘সবকিছুই তো পুড়ে গেছে, এমনকি মানুষও পুড়ে গেছে।’
যদিও ১৯৯৩ সাল থেকেই রোহিঙ্গাদের কোনো নাগরিকত্ব নেই, তবু মিয়ানমার বলছে, যারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ দিতে পারবে, শুধু তাদেরকেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিয়ানমার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।’
২০১৬ সালের অক্টোবরের আগ থেকেই বাংলাদেশে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার বলছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে বাংলাদেশে যে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে তাদেরকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, অনেক রোহিঙ্গার কোনো পরিচয়পত্র নেই। এ ক্ষেত্রে নিয়মের শিথিলতা কাম্য। তারা বলেছে, যৌথ ওয়ার্কিং কমিটিতে যাচাই-বাছাইয়ের কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত থাকবেন, তাঁরাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। বাংলাদেশ চায়, এখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যুক্ত হোক।’
মিয়ারমার সরকারের মুখপাত্র জ্যা হ্যতে বলেন, ১৯৯৩ সালের বিধি অনুযায়ী, মিয়ানমারের নাগরিক প্রমাণের জন্য দেশটির যে কোনো হাসপাতালের একটি সনদ থাকাই যথেষ্ট। কিন্তু সেটি বাংলাদেশের হাসপাতালের হলে হবে না।
‘প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের একটি নীতি আছে। আমরা সেই নীতি ধরেই এগিয়ে যাব’, যোগ করেন মুখপাত্র।
রোহিঙ্গাদের কারো কারো কাছে এ ধরনের দলিল-দস্তাবেজ থাকলেও পূর্ণ নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা ব্যতীত মিয়ানমারে ফিরে যেতে তাদের আগ্রহের অভাব রয়েছে।
মিয়ানমার ফিরিয়ে নেবে এ কথা শুনেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন ৬০ বছরের বৃদ্ধা আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা সেখানে ফিরেও যাই, তাহলে আবার ফিরে আসার জন্যই যাব। যদি তারা আমাদের অধিকার দেয়, তাহলে হয়তো আমরা যাব। এর আগেও মানুষ এভাবে গিয়েছে কিন্তু আবার তারা ফিরে এসেছে।’
গত মাসে আনোয়ারা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারী রয়টার্সকে বলছিলেন, তিনি তিনবার রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন আবার ফিরে গেছেন। ৫৫ বছরের এই নারী প্রথমবার উদ্বাস্তু হয়ে আসেন ১৯৭৮ সালে। কয়েক বছর পর তিনি আবার মাতৃভূমিতে ফিরে যান। সহিংসতার মুখে ১৯৯১ সালের আবার বাড়ি ছাড়তে হয় তাঁকে। ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশে থেকে রাখাইনে ফিরে যান। এবার নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর আবার উদ্বাস্তু হন আনোয়ারা।
‘আমি আর ফিরতে চাই না। আমি ওই (মিয়ানমার) সরকারকে আর বিশ্বাস করি না। আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সরকার প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দেয়। আমরা যখন সেখানে ফিরে যাই, তখনই সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে’, যোগ করেন আনোয়ারা।
রাখাইন সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশন বেশকিছু সুপারিশ করেছে। সেখানে ১৯৮২ সালের যে আইনের বলে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের উদ্বাস্তু করেছে তা পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছে এবং তাদেরকে নাগরিক অধিকার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবশেষে হানিপ্রীত গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হানিপ্রীত ইনসান অবশেষে ৩৮ দিন পর ধরা পড়লেন ধর্ষণের মামলায় সাজা পাওয়া ভারতের হরিয়ানার স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিম ইনসানের ‘দত্তক কন্যা’ হানিপ্রীত। মঙ্গলবার হরিয়ানা পুলিশ চ-ীগড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
হানিপ্রীতের বিরুদ্ধে পুলিশ দেশ দ্রোহিতার অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাম রহিমকে নিয়ে দেশ ছাড়ার চক্রান্তও করেছিলেন তিনি। আর অভিযোগ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, এর পেছনেও ছিল হানিপ্রীতের হাত।
হানিপ্রীত ধরা পড়লেন, নাকি ধরা দিলেন, সারা দিন এটাই ছিল আলোচনার বিষয়। জল্পনার কারণ, ধরা পড়ার আগে দিনভর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকার। এই সাক্ষাৎকারগুলোয় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, বাবা ও মেয়ের পবিত্র সম্পর্ককে কেউ কেউ কীভাবে নোংরা চোখে দেখে। তিনি বলেন, তাঁদের সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারপতির রায়ে রাম রহিম যেদিন দোষী সাব্যস্ত হন, সেদিন হানিপ্রীত হরিয়ানার পাঁচকুলা আদালতে ছিলেন। সেদিনই উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেই তা-বের নির্দেশ নাকি হানিপ্রীতেরই দেওয়া। এ অভিযোগ অস্বীকার করে রাম রহিমের পালিত কন্যা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যেভাবে আমাকে উপস্থাপিত করা হচ্ছে, তাতে আমি নিজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। প্রবল মানসিক চাপে রয়েছি।’ তিনি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তিনি আদালত চত্বরে গিয়েছিলেন। অনুমতি নিয়েই রাম রহিমের সঙ্গে হেলিকপ্টারে উঠেছিলেন। আদালতের রায় শুনে ভেঙে পড়েছিলেন। হিংসাত্মক ঘটনার নির্দেশ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
৩৬ বছরের হানিপ্রীতের আসল নাম প্রিয়াঙ্কা তানেজা। বিশ্বাস গুপ্ত নামে একজনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। স্বামী ছিলেন রাম রহিমের ভক্ত ও ডেরা সচ সউদার একনিষ্ঠ কর্মী। রাম রহিমের নজরে পড়তে প্রিয়াঙ্কার দেরি হয়নি। এরপর ক্রমে ক্রমে তিনি রাম রহিমের ঘনিষ্ঠতম হয়ে ওঠেন। নতুন নাম হয় হানিপ্রীত। রাম রহিমের তৈরি মোট ছয়টি সিনেমার তিনিই ছিলেন নায়িকা। বিশ্বাস গুপ্তর অভিযোগ, ডেরায় তিনি নিজে রাম রহিমের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেছেন। রাম রহিমের চাপেই জোর করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানো হয়। এরপর থেকেই হানিপ্রীত স্বঘোষিত ধর্মগুরুর চব্বিশ ঘণ্টার সঙ্গী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest