সর্বশেষ সংবাদ-
বিজনেস অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাতক্ষীরার সুদীপ্তকেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আনিছুর রহমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজআশাশুনিতে ওসি জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৬দেবহাটায় সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার৫ হাজার টাকা সম্মানিসহ ৭ দফা দাবিতে সাতক্ষীরায় দলিল লেখক সমিতির সমাবেশসাতক্ষীরায় নতুন আঙ্গিকে চালু হলো ‘মাল্টি কম্পিউটার ল্যান্ড ও ডিজিটাল রেকর্ডিং স্টুডিও’সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতার চেষ্টা, মামলা ও গ্রেপ্তার ৫কালিগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুআশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৪সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মিয়াওয়াকি বনায়নের উদ্বোধন

সাতক্ষীরায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, চলছে সমাধানের চেষ্টা

এম. বেলাল হোসাইন : ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়েছে সাতক্ষীরাবাসী। বিদ্যুৎ বিভাগের ১০ এম ভি এ পাওয়ার ট্রান্সফরমারের আন্ডারগ্রাউন্ড ইনকামিং ক্যাবল ফল্ট্ এর কারণে এ বিভ্রাটে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিকভাবে সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ৩৩/১১ কে.ভি উপকেন্দ্রে এঘটনা ঘটে। এ কারণে ৮:৪৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে সারা শহরে। পরে অবশ্য বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই ক্যাবলের কারণে ১০ এম ভি এ পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে। এ কারণে সাতক্ষীরা শহরের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ৮টি ফিডারের বৃহৎ ও প্রধান ফিডার টাউন ফিডার কাটিয়া ফিডারে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই ফিডার দুটির গ্রাহকরা বিদ্যুতের দেখা পান বুধবার ভোর রাতে প্রায় ৩টার দিকে।

ভূ-গর্ভস্থ বৈদ্যুতিক তার

এদিকে কেবলে মারাত্মক এ ক্রুটির সংবাদ পেয়ে যশোরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আলম ও খুলনার এস ডি ই শফিকুল ইসলাম ওই রাতেই সাতক্ষীরায় চলে আসেন। তারপর থেকে অদ্যাবধি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা ওজোপাডিকোর ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী খালিদ হাসানের সাথে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি যান্ত্রিক ত্রুটি মাত্র। আমরা দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বল্প আকারে সকল ফিডারে কম বেশি লোড শেডিং অব্যাহত থাকছে।” তবে যেকোন মুহুর্তে ক্রটি মেরামত হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনি রিভারভিউ কেওড়া পার্কে তালবীজ বপন করলেন ইউএনও

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির চাপড়া রিভারভিউ কেওড়া পার্কে তালবীজ বপনের উদ্বোধন করা হয়েছে। বজ্রপাত হতে সুরক্ষা পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রানমন্ত্রনালয়াধীন কাবিটা/ টিআর/ ইজিপিপি নির্মিত রাস্তাসহ বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে তালবীজ বপনের অংশ হিসাবে পার্কের মধ্যের রাস্তায় তালবীজ বপনের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে তালবীজ বপন উদ্বোধন কালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ হান্নান, উপজেলা আ’লীগ নেতা এস এম রফিকুল ইসলাম মোল্লা, কৃষকলীগ আহবায়ক সম সেলিম রেজা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান, কৃষি অফিসার সামিউর রহমান, আশাশুনি রিপোটার্স ক্লাব সভাপতি মোস্তাফিুর রহমান, সাংগঠনিক শেখ বাদশা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে প্রত্যেককে ৫টি করে তালবীজ বপনের পরামর্শ দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিংড়ীতে ৮ দলীয় চেয়ারম্যান কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

মাহবুবুর রহমান : ফিংড়ী ইউনিয়নের গাভা হাইস্কুল মাঠে ( বারদোলা) বৃহস্পতিবার ৮ দলীয় চেয়ারম্যান কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ’১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত খেলায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে পুরষ্কার বিতরণ করেন ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো: শামসুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আছাদুল হক, ফিংড়ী ইউপি সদস্য আ: রকিব,আশরাফ হোসেন, আফসার উদ্দীন, আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধ সন্তোষ কুমার দাশ, যুবলীগ নেতা সোহাগ হোসেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো: মহিনুর ইসলাম ও সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশ^জীৎ বাছাড় ও মনিরুল ইসলাম। খেলাটির মাঠ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন আবু অহিদ বাবলু, আবু নাছের ও আবু সাইদ। খেলায় টিকেট ফুটবল একাদশ ৫-৪ গোলে বাঁকড়া ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা-৩ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন চান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা-৩ আসনের তথা আশাশুনি, দেবহাটা ও কালীগঞ্জের একাংশ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ ’লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রার্থী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি গোলাম রসুল বিপ্লব। তিনি বুধবার তার নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে একথা উল্লেখ করে বলেন, “আশাশুনি তথা সাতক্ষীরা-৩ আসনের মানুষের পাশে থেকে আগামী প্রজন্মকে যেন সুন্দর একটা সমাজ উপহার দিতে পারি তার জন্য সর্বস্তরের মানুষের কাছে আন্তরিক দোয়া চাই।”
এ বিষয়ে গোলাম রসুল বিপ্লবের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান সাতক্ষীরা-৩ আসনের আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছি। আমি নেতা নই, তবে সেবক হিসাবে যেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সর্বস্তরের মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে পারি এ জন্য সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এসপি, ওসির ৫৭৭টি নকল সিলসহ গ্রেপ্তার ৫

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ‘সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে’র একটি দল এসপি, ওসির ৫৭৭টি নকল সিলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। গতকাল বুধবার ফকিরাপুল এলাকার কোমর গলির হাসেম আলীর বাড়ি থেকে এই পাঁচ জালিয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জালিয়াতচক্রটি জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পিসিসি) ও নকল সিল তৈরি করত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যগুলো জানান ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আবদুল বারিক, মো. মোহাম্মদ আলী, মো. সাব্বির হোসেন, মো. শহিদুল হক নিজাম ও মো. মোরশেদ ভূঁইয়া। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সিলসহ মোট নকল সিল ৫৭৭টি, ১৪৫০টি পিসিসি, দুটি কম্পিউটার ও একটি প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পিসিসি সার্টিফিকেট তৈরি করতেন। এরপর সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে ট্র্যাভেল এজেন্সিতে সরবরাহ করতেন।

মো. আবদুল বাতেন আরো জানান, পিসিসি রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সনদ। এর মাধ্যমে নাগরিকের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হয়। বিদেশ যাওয়ার পর সে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই সার্টিফিকেটের মাধ্যমেই ওই ব্যক্তির স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু কিছু অসাধু ট্র্যাভেল এজেন্সি বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে চুক্তির মাধ্যমে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেয়।

আবদুল বাতেন আরো বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে কোনো হয়রানির শিকার হতে হয় না। যে কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে পারে। এই সার্টিফিকেট পেতে হলে প্রথমে ব্যাংকে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে টাকার রসিদসহ পুলিশ সুপারের অফিস বরাবর আবেদন করতে হয়। তারপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এখানে ঝামেলার কোনো বিষয় নেই বলেও উল্লেখ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা। তাই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সঠিক উপায়ে পুলিশের মাধ্যমে সংগ্রহ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাহিত্যে নোবেল পেলেন ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ইশিগুরু

এবার সাহিত্যে নোবেল পেলেন জাপানি বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের ঔপন্যাসিক কাজুয়ো ইশিগুরো। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেলজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

সুইডিশ কমিটির পক্ষ থেকে এই ব্রিটিশ লেখকের ব্যাপক প্রশংসা করে বলা হয় হয়-এই লেখক নিজের আদর্শ ঠিক রেখে, আবেগপ্রবণ শক্তি দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সংযোগ ঘটিয়েছেন’।

৮টি বই লিখেছেন তিনি, আর এই ৮টি বই মোট ৪০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কাজুয়ো উপন্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘দ্য রিমেইন্স অব দ্য ডে’ এবং ‘নেভার লেট মি গো’। এই দুইটি উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্রও তৈরি করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। এরা হলেন সুইজারল্যান্ডের জ্যাক দোবোশে, যুক্তরাষ্ট্রের জোয়াকিম ফ্রাঙ্ক এবং ব্রিটেনের রিচার্ড হেন্ডারসন।

ক্রারাইও-ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপি নিয়ে গবেষণা করে এবার রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেলেন এই তিন বিজ্ঞানী।

গত ৩ অক্টোবর পদার্থে নোবেল পুরস্কার জয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এই পুরস্কারের জন্য রাইনার ভাইস, কিপ এস থর্ন ও ব্যারি বারিশের নাম ঘোষণা করে। প্রথম জন জার্মান। বাকি দুই বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরের গাবুরা থেকে অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত আটক

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে অস্ত্রসহ তিন ডাকাতকে আটক করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা। বৃহস্পতিবার ভোর রাত দেড় টার দিকে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি রিভলবার, একটি পাইপগান ও একটি দা উদ্ধার করা হয়। পরে সকালে তাদের শ্যামনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কোষ্টগার্ড সদস্যরা।
আটককৃত ডাকাতরা হল, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী গ্রামে ইউছুপ গাইনের ছেলে সবুজ গাইন (৩২) একই গ্রামে নাসির গাজীর ছেলে সিদ্দিক গাজী ওরফে বোমা সিদ্দিক (৩০) ও একই ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের ইশার আলী মিস্ত্রির ছেলে সিদ্দিক মিস্ত্রী (২৮)।
আংটিহারা কোস্টগার্ড সিনিয়র চীফ পেটি অফিসার সাইদুর ইসলাম জানান, মৎস্য ঘেরে ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে এমন সংবাদ গোপনে সংবাদের ভিত্তিতে গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী এলাকায় পৌছানো মাত্র কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি বর্ষন করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় ঘন্টা ব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে উভয় পক্ষে ৩৫-৪০ রাউন্ড গুলিবিনময়ের একপর্যায়ে ডাকাত দল পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থললে তল্লাশী চালিয়ে ১টি রিভলবার, ১টি পাইপগান, ১টি রামদা ও ২টি হিরোহোন্ডা মোটর সাইকেলসহ তিন ডাকাতকে আটক করে। এ সময় ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, গোলাগুলির সময় স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদ থেকে গ্রামে ডাকাতি চলছে এমন প্রচার দেয়ার পর সেখানে বহু স্থানীয় জনতা হাজির হন। পরে অস্ত্রসহ উক্ত তিন ডাকাতকে শ্যামনগর থানায় সোপর্দ করা হয়।
পার্শ্বেমারী গ্রামের আমিরুল ও সফিউল্যাহসহ অনেকেই জানান, শফিউল নামে এক ব্যক্তি তার হাতে থাকা শার্টার গান দিয়ে কোস্টগার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষন করে। পরে তিনি খাল সাতরিয়ে পালিয়ে যান। এদিকে আটক সবুজ গাইন গাবুরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশার ছোট ভাই বলে জানাগেছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মান্নান আলি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গোঁফ দেখিয়ে অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নেমেছে ভারতের দলিতরা

ভারতের গুজরাত রাজ্যের দলিতরা নিজেদের গোঁফসহ ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল বানিয়ে এক অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছে।
গত কয়েকদিনে গোঁফ রাখার অজুহাতে উচ্চবর্ণের লোকজন অন্তত চারজন দলিতের ওপরে হামলা চালিয়েছে।
দলিত শ্রেণীর এক যুবক গরবা নাচ দেখতে গিয়ে খুন হন গত সপ্তাহে।
একের পর এক হামলার দায় নিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে মিছিল করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বেশ কিছু দলিত যুবক।
তারা বলছেন, দলিতদের ওপরে আক্রমণের কোনও সাজা হয় না বিজেপি-শাসিত গুজরাতে, অথচ সেই রাজ্যেরই সবথেকে পরিচিত ব্যক্তিত্ব মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী এই দলিতদেরই আপন করে নিয়ে হরিজন নাম দিয়েছিলেন।
সতের-বছর বয়সী দলিত ছাত্র দিগন্ত মাহেরিয়া যখন মঙ্গলবার স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল, তখন দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মোটরসাইকেলে চেপে এসে তার পিঠে ব্লেড চালিয়ে দেয়। তার এক দাদা পিযুষ পারমার গত সপ্তাহে মার খেয়েছে গ্রামেই।
এদের অপরাধ, দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও এরা গোঁফ রেখেছিল।
সন্দেহ করা হচ্ছে আক্রমণকারীরা রাজপুত সম্প্রদায়ের, যারা মনে করে যে দলিত শ্রেণীর মানুষের গোঁফ রাখার অধিকার নেই।
তারপরেই গুজরাতের দলিতরা সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ছবি বদলে দিতে শুরু করেছেন – নিজের ডিসপ্লে পিকচারে গোঁফ সহকারে ছবি দিচ্ছেন তারা।
দলিতদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেন জিগনেশ মেওয়ানী।
তিনি বলছিলেন, গতবছর উনাতে চারজন দলিতকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল – যা নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল।
“কিন্তু গুজরাতে দলিতদের ওপরে তার থেকে বহু গুন বেশী অত্যাচার প্রতিদিন ঘটছে। আর এই এত বছর ধরে সেইসব অত্যাচারের কোনও বিচার হয় নি। রাজ্যে দলিতদের ওপরে অত্যাচারের ১০০টা ঘটনা হলে, ৯৭ জন অভিযুক্তই ছাড়া পেয়ে যান,” তিনি বলেন, “সব ঘটনাতেই উচ্চবর্ণের লোকেরা জড়িত, তাই বিজেপি শাসিত সরকার বলতে গেলে কিছুই করে না। এতদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ এবারে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।”
তিনি যখন কথা বলছিলেন, তার কয়েক মিনিট আগেই হাজত থেকে বেরিয়েছেন তিনি।
দলিতদের ওপরে ক্রমাগত আক্রমণের প্রতিবাদে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে একটি মিছিল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মেওয়ানীসহ আরও অনেকে।
তার কথায়, শুধুমাত্র গোঁফ রাখার কারণে উচ্চবর্ণের লোকরা দলিতদের মারছে। নবরাত্রির উৎসবে গরবা নাচ দেখতে গিয়েছিল বলে এক দলিত যুবককে দেওয়ালে মাথা ঠুকে দিয়ে মেরে ফেলা হল – এ সবই হচ্ছে সত্যিকারের গুজরাত মডেল – যে মডেলের কথা নরেন্দ্র মোদী সারা দেশে বলে বেড়াচ্ছেন।
মোদী গান্ধীজীর কথা বলেন, যে গান্ধীজী দলিতদেরকেই হরিজন বলে আপন করে নিয়েছিলেন, তাদেরই আজ এই অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে গুজরাতে গ্রামে গ্রামে, বলছিলেন জিগনেশ মেওয়ানী।
সাংবাদিক দীপক চুডাসামার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, দলিতদের এই ক্ষোভ কি বিজেপি বিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা আছে ডিসেম্বরে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে?
তার জবাব ছিল, বিজেপি উচ্চবর্ণের দল হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত। আর কেন্দ্র এবং রাজ্য – দুই জায়গাতেই তাদেরই সরকার, অথচ দলিতদের ওপরে একের পর এক অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসছে, অথচ সরকারকে কোনও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
“তাই বিজেপি-বিরোধী বিক্ষোভ তো বাড়ছেই। তবে শুধু মাত্র দলিতরা বিজেপিকে খুব একটা বেগ দিতে পারবে বলে মনে হয় না। কিন্তু পাটিদার সম্প্রদায়ও আগেই বিজেপি-র সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেছে। অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষেরও ক্ষোভ রয়েছে, বলছিলেন চুডাসামা, “তাদের সঙ্গেই যদি এই দলিতদেরও বিক্ষোভ শুরু হয়, তাহলে সেটা তো বিজেপিকে নির্বাচনে কিছুটা হলেও বেগ দেবে।”
লক্ষণীয় বিষয় হল, যে সামাজিক মাধ্যমকে নিজেদের প্রচারের সবথেকে বড় হাতিয়ার করে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এই দলিত যুবকরাও কিন্তু সেই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছেন নিজেদের প্রতিবাদ জানানোর জন্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন এখনই হয়তো দলিত শ্রেণীর সব মানুষ এক জায়গায় আসতে পারছেন না কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপে গোঁফসহ নিজের ছবি লাগিয়ে প্রতিবাদটা তারা ছড়িয়ে দিতে পারছেন অনেক সহজেই।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest