সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনির এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলাদ্রুত বিচার আইনের মামলায় জামায়াত নেতা আজহারুজ্জামান ‍মুকুল কারাগারেসাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা: আটক -০২তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ভূগর্ভ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের শীর্ষে আশাশুনিদীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষ : কাঁকড়া আহরণ অনুমতি পেলো বনজীবীরাসাতক্ষীরা কারাগারে হাজতির মৃত্যুনার্সিং ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মায়ের বকুনিতে ছাত্রীর আত্ম#হত্যাশ্যামনগরে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতা ও তার পরিবারকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

হর্ষিত শর্মা। পড়ালেখা করছে স্কুলে। কিন্তু পড়ালেখা শেষ না করতেই হর্ষিত পেয়ে গেছে মাসিক বেতন ১২ লাখ রুপির চাকরি। বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য। বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান গুগল এই শিক্ষার্থীকে বার্ষিক ১ কোটি ৪৪ লাখ রুপি বেতনে নিয়োগ দিয়েছে।

জানা গেছে, এক বছর ট্রেনি হিসেবে গুগলে কাজ করবে হর্ষিত। ট্রেনিংয়ের সময়ে মাসে চার লাখ টাকা করে স্টাইপেন্ড পাবে সে। এক বছরের এই ট্রেনিংয়ের পর ১২ লাখ টাকা মাসিক বেতনের চাকরি করবে ওই কিশোর। এই মাসেই আমেরিকায় গুগলের চাকরিতে যোগ দিবে হর্ষিত।

এ প্রসঙ্গে চণ্ডীগড়ের ছাত্র হর্ষিত জানিয়েছে, সে মাঝে-মধ্যেই অনলাইনে চাকরির খোঁজ নিতো। গত মে মাসে সে এই চাকরির জন্য আবেদন করে। অনলাইনেই হয় তার ইন্টারভিউ। গত ১০ বছর ধরে তার গ্রাফিক ডিজাইনিং-এর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তার ডিজাইন করা পোস্টার দেখেই তাকে বেছে নেয় গুগল। জুন মাসে তার কাছে গুগলের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার আসে।

প্রসঙ্গত, সে গর্ভমেন্ট মডেল সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এক দিন-দু দিন নয়, চার বছর ধরে দুজনে বার্সেলোনায় সতীর্থ। শুধু সতীর্থই নন, আক্রমণভাগে দুজনে মিলে গড়ে তুলেছেন দু্র্ধর্ষ এক জুটি। নেইমারের সম্ভাব্য বিদায়ে লিওনেল মেসির মন তাই ভারাক্রান্ত। প্রিয় বন্ধুকে অবশ্য খালি হাতে বিদায় দিচ্ছেন না আর্জেন্টাইন তারকা, দারুণ এক উপহার দিচ্ছেন।

বুধবার ইন্সটাগ্রামে নেইমারের সঙ্গে নিজের বেশ কিছু ছবি দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন মেসি। সেখানে পাঁচবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার লিখেছেন, ‘বন্ধু নেইমার, তোমার সঙ্গে কাটানো বছরগুলো ছিল দারুণ আনন্দদায়ক। জীবনের নতুন অধ্যায়ে তোমাকে শুভকামনা জানাই। তোমার প্রতি অনেক অনেক ভালোবাসা।’

চার বছর আগে নেইমারের বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিলেন মেসি। ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজেই জানিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে খেলতে তিনি কতটা উদগ্রীব। মাঠের বাইরেও দুজনের মধ্যে ছিল দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

অথচ এখন বন্ধুত্বের টান অগ্রাহ্য করে প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের (পিএসজি) পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। বুধবার বার্সেলোনার অনুশীলনে এলেও ঘাম ঝরাননি, বরং সতীর্থদের জানিয়ে দিয়েছেন ক্লাব ছাড়ার কথা। বার্সাও তাকে অনুমতি দিয়েছে পিএসজিতে যাওয়ার। তাই দুয়ে-দুয়ে চার মেলাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিনোদন ডেস্ক : বয়স ৭৫। কিন্তু এই বয়সেও তিনি প্রচ্ছদকন্যা! লাইফ স্টাইল ম্যাগাজিন ‘আইস টুডে’র আগস্ট সংখ্যার প্রচ্ছদে একদম ভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী দিলারা জামানের ছবি। ছবিগুলো প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমে।
জমকালো পোশাক, ছিমছাম মেকআপ, গাড় লিপস্টিক এবং অভিজাত লুকে দিলারা জামানকে অসাধারণ লাগছে প্রচ্ছদে। তিনি পড়েছেন ফ্যাশন হাউস ওয়ারার লং কামিজ। তার মেকআপ করা হয়েছে ফারজানা শাকিল’স-এ। কানে সোনালী দুল এবং খোলা চুলে তাকে বেশ গর্জিয়াস দেখাচ্ছে প্রচ্ছদে। দিলারা জামানের ফিচারটিতে আরও দুটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে যার একটিতে তিনি গাড় নীল কামিজের সাথে চুলগুলো বেণি করে রেখেছেন। আরেকটিতে একটি গর্জিয়াস কালো শাড়ির সাথে চুলগুলো খোপা করে রাখা। গুলশানের ২-এর একটি রেস্টুরেন্টে এই ফটোশুট করেছেন আবির হোসাইন নোমান এবং ফটোশুটের ধারণা এবং নির্দেশনা গৌতম সাহা’র ।
‘আইস টুডে’র আগস্টের ‘ওয়ার্ক অফ আর্ট’ সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে দিলারা জামান, সারা যাকের, শম্পা রেজা, শামীম খান, শারমিন লাকীকে নিয়ে। ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের ছবি প্রকাশের পরপরই তা ব্যাপক সাড়া ফেলে সামাজিক মাধ্যমে। দিলারা জামানের অভিনয়ের শুরু ১৯৬৬ সালে ত্রিধরা নাটক দিয়ে। নাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চাকা’ ও ‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে ‘ব্যাচেলর’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’ ও ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৯৩ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০০৮ সালের ‘চন্দ্রগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে ময়রা মাসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কলারোয়া প্রতিনিধি : আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ও মানব সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথকে মাদার তেরেসা ২০১৭ স্বর্ণপদক প্রদান করেছে ঢাকার হিউম্যান রাইটস কালচারাল সোসাইটি নামে একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান। গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন(এফডিসি)মিলনায়তনে এ স্বর্ণ পদক ও সনদ পত্র প্রদান করা হয়। ঢাকার হিউম্যান রাইটস কালচারাল সোসাইটি পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্-ব মোর্শেদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন ও ঢাকার হিউম্যান রাইটস কালচারাল সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক এম.শফিক উদ্দিন অপু স্বাক্ষরিত এ সনদপত্র ও স্বর্ণ পদক তুলে দেন কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথকে। সনদপত্র ও স্বর্ণপদক বিতরণকালে ঢাকার হিউম্যান রাইটস কালচারাল সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক এম. শফিক উদ্দিন অপু বলেন- আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও মানব সেবায় বিশেষ অবদান রেখেছে কলারোয়া থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ। নি:সন্দেহে এ অবদান কৃতিত্বপূর্ণ। তিনি দেশ ও জাতির গৌরব। এ অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ঢাকার হিউম্যান রাইটস কালচারাল সোসাইটি স্বীকৃতিস্বরূপ কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ কে মাদার তেরেসা ২০১৭ স্বর্ণ পদক ও সনদপত্র প্রদান করেছে। তার মহতী কর্মকান্ড দেশ ও জাতির অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথ উন্মোচনে অতিশয় ভূমিকা রাখবে বলে হিউম্যান রাইটস কালচারাল সোসাইটি বিশ্বাস করে। উল্লেখ্য-এর আগে তিনি গত ৮জুন বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ঢাকা শেরে বাংলা সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন থেকেও স্বর্ণ পদক ও সনদ পত্র প্রদান করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম মোফাজ্জেল হক এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন, শেরে বাংলা সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জসিম উদ্দিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাবুল আক্তার, পাইকগাছা : পাইকগাছায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র (পিসি) রায়ের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার সকালে বিজ্ঞানীর বসত ভিটা রাড়–লীতে জেলা, উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ও রাড়–লী ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, তথ্য চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক আমিন-উল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা আ’লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানারা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, এএসপি (ডি সার্কেল) মোঃ ইব্রাহিম, জেলা আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, স্বাস্থ্য ও গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মোঃ শেখ শহিদুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, রবিউল ইসলাম, গোপাল চন্দ্র ঘোষ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জি.এম আজহারুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ সরদার মোহাম্মদ আলী। সহকারী শিক্ষা অফিসার শোভা রায় ও প্রভাষক ময়নুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দার, পাইকগাছা প্রেসক্লাব সম্পাদক এম. মোসলেম উদ্দীন আহম্মেদ, উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাঈদ, মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র দাস, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুব্রত দত্ত, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি শংকর দেবনাথ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সবুর, ইউপি সদস্য আরশাদ আলী, পি.সি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাশ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বিজ্ঞানী পিসি রায় ১৮৬১ সালের ২ আগষ্ট পাইকগাছার কপোতাক্ষ নদের তীরে রাড়–লীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হরিশ্চন্দ্র রায় ও মাতার নাম ভুবন মোহিনী রায়। তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি, রসায়নবিদ, সমাজ সেবক, রাজনীতিবিদ, সমবায় আন্দোলনের পুরোধা। পিসি রায় ১৮৯২ সালে কলকাতার মানিক তলায় মাত্র ৮শ টাকা পুঁজি নিয়ে বেঙ্গল কেমিক্যাল এ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ঔষধ শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাপড়ের মিল ও জন্মভূমি রাড়ুলীতে সমবায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একাধারে ২০ বছর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন শাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার ১৯৩০ সালে তাকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়া একই বছর লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভারত বর্ষের মহীশুর ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। চিরকুমার এই বিজ্ঞানী তার জীবনের অর্জিত সমস্ত সম্পদ মানব কল্যানে দান করে গেছেন। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন ৮৩ বছর বয়সে বিজ্ঞানীর জীবনাবসান ঘটে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

জনপ্রিয় গায়ক ও সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ ও মডেল-অভিনেত্রী তানজিন তিশা নতুন করে গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি হাবিবের দেয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের কমেন্ট বক্সে তিশা হাবিবকে ‘নট সিঙ্গেল’ বলে উল্লেখ করেন। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়।

জানা যায়, সোমবার হাবিব তার একটি ফেইসবুকে পোস্টে লেখেন, ‘সিঙ্গেল লাইফ ইজ দ্য বেস্ট। ’ এরপর মন্তব্যের ঘরে তিশা লেখেন, ‘সিঙ্গেল লাইফ বাবা?’ হাবিব এরপর লেখেন, ‘সরি?’ এরপর তিশা তার বিপরীতে লেখেন, ‘রাগ কমাও। ইউ আর নট সিঙ্গেল, এভরিওয়ান নোজ। ’

সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানের সাথে হাবিব ওয়াহিদের বিচ্ছেদ হয়। এই বিচ্ছেদের পর তানজিন তিশার সাথে তার প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এরপর হাবিব তার ফেইসবুকে বলেছিলেন, তিশার সঙ্গে তার সম্পর্কটা একান্তই ব্যক্তিগত।

তবে সোমবার একাকী জীবন নিয়ে হাবিবের ফেসবুকে এমন পোস্ট প্রকাশের পর তাদের সম্পর্কের ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে গেছে। পোস্টটি নিয়ে বেশ সমালোচনায় পড়তে হয় হাবিবকে। যার কারণে হাবিবের ওয়াল থেকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের অন্যতম দাতা ও ক্লিনটন পরিবারের এক বন্ধুকে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত থেকে বাঁচাতে গিয়ে বাংলাদেশকে দমনের চেষ্টা করেছিলেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। পারিবারিক বন্ধুর দুর্নীতির তদন্ত থামাতে শুধু প্রাণপণ চেষ্টাই করেননি তিনি; বাংলাদেশের ওপর অনৈতিক অনধিকার চর্চাও করেছিলেন সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শান্তিতে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের ওপর হুমকি-ধামকি ও চাপ প্রয়োগ করেছিলেন হিলারি। মার্কিন দৈনিক ডেইলি কলারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন এই দৈনিক দাবি করে বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুরোধে বাংলাদেশের দুটি সরকার বেশ কিছু নথি দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্রতম দেশটির বিরুদ্ধে ‘হার্ড-বল’ কৌশলের ব্যবহার করে ক্লিনটন তার কোটিপতি বন্ধু এবং ফাউন্ডেশনের দাতাকে সাহায্য করার জন্য বিরক্তিকর ছায়া ফেলেছিল।

নথিতে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংক নামে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সম্মুখীন ইউনূসকে বাঁচাতে হিলারি ক্লিনটন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, দূতাবাস এবং বিশ্বব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা আঁকেন। পরে ইউনূসকে ওই ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে ৩ লাখ ডলারের বেশি দান করেছিলেন তিনি।

২০১০ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ইউনূস একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হন। এর মধ্যে ডেনমার্কের ডক্যুমেন্টারিতে উঠে আসে তিনি কীভাবে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছেন।

ইউনূসের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ বাংলাদেশে ব্যাপক তোলপাড় ফেলে; যেখানে মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় এক হাজার ডলার।

ইউনূসের হয়ে ক্লিনটন বারবার এবং সরাসরি বাংলাদেশকে হুমকি-ধামকি দেন। এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক যে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে; তা প্রত্যাহার করে নেবে।

বিশ্বব্যাংকের সর্ববৃহৎ দাতা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে দেশটি বিশ্বব্যাংককে ১৫০ কোটি (দেড় বিলিয়ন) ডলার দান করে। হিলারি ক্লিনটন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এই ব্যাংকের ওপর প্রচণ্ড রকমের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রধান শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের ভীত নাড়িয়ে দিতে ও অপমান করতে পদ্মা সেতু ইস্যুতে ক্লিনটনের পদক্ষেপ আগে থেকেই সাজানো হয়েছিল। মার্কিন আরেক প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি হচ্ছে পদ্মা নদী প্রকল্প।

তিনি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের একটি অনুন্নত অঞ্চলের সংযোগ স্থাপনে পদ্মা নদীর ওপর একটি রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের আশা করেছিলেন; যা নতুন ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

হিলারি ক্লিনটনের ঔদ্ধত্যমূলক চাপ প্রয়োগ কৌশল ও ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দাতার পক্ষে বিশ্বব্যাংককে ব্যবহার মার্কিন সিনেটের কমিটিতে চলমান তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার এই ছোট দেশের বিরুদ্ধে হিলারি ক্লিনটনের চাপ প্রয়োগ কৌশলের তদন্ত করছে সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটি।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় সজীব ওয়াজেদ জয়ের মাধ্যমে ওই সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে আর্থিক হিসাব তদন্তে (আইআরএস) শেখ হাসিনাকে হুমকি দেয়া হয়েছিল কি না তা জানতে চলতি বছরের ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর ও সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের বক্তব্য চান।

আইওয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় এই রাজনীতিক ডেইলি কলারকে বলেন, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দাতাকে বাঁচাতে বিশেষ বিবেচনার জন্য আর্থিক হিসাব বিভাগের তদন্ত ব্যবহার করে অথবা অন্য কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না তা জানতে আমি পররাষ্ট্র দফতরের কাছে প্রতিনিয়ত জবাব চাইব।

হিলারি ক্লিনটন খোলস ঝেড়ে বেরিয়ে আসেন ২০১১ সালের শুরুর দিকে; যখন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সেই সময় দীপু মনি বলেন, মরিয়ার্টি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা যদি ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ না করি, তাহলে বেশ কিছু ফলাফলের মুখোমুখি হতে হবে। উদাহরণ হিসেবে মরিয়ার্টি বলেন, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নেবে।

এসময় দীপু মনি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির কােছে জানতে চান, একটা নির্বাচিত সরকার হিসেবে, জনগণের সরকার হিসেবে আমরা কেন ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে উঠা অনেক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করবো না। মরিয়ার্টি এসময় গ্রামীণ ব্যাংককে ‘স্বতন্ত্র’ এবং ‘বেসরকারি সংস্থা’ বলে হিলারি ক্লিনটনের দাবির পুনরাবৃত্তি করেন।

তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষকে; বিশেষ করে নারীদেরকে সহায়তার জন্য পরীক্ষামূলক ‘ক্ষুদ্র-ঋণ’ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা। গ্রামীণ ব্যাংকের ২৫ ডলারের ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতারা ছোট্ট ব্যবসা শুরু করার অনুমতি পেতেন। দীপু মনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এসব মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ছিল রাষ্ট্রের তালিকাভূক্ত এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি ব্যাংক। সরকারি নথিতে গ্রামীণ ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় হিসেবে দেখা যায়।

ইউনূস ইস্যুতে হিলারি ক্লিনটন তার আক্রমণ আরো শানাতে থাকেন। নথিতে দেখা যায়, ২০১১ সালের মার্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেইক ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তদন্ত বন্ধ করতে খুবই জেদ দেখান। বাংলাদেশ সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হককে দ্রুত সরিয়ে দেয়ার দাবি জানান মরিয়ার্টি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই বৈঠকে ব্লেইক ও মরিয়ার্টি ছাড়াও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেমস ওফেনসন উপস্থিত ছিলেন। জেমস ওফেনসনকে বিশ্বব্যাংকের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটনের স্বামী ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। বৈঠকে ইউনূসের বিষয়ে আলোচনার সময় জেমস ওফেনসন সামান্য বিব্রতবোধ করেন।

সেই সময়ের ওই বৈঠকের বিষয়ে জানতে ডেইলি কলার বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই প্রধানের অফিসের সঙ্গে যোগাযাগ করেছে। এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না বলে তার গণমাধ্যম প্রতিনিধি জানিয়ে দিয়েছেন। ইউনূসের জন্য তদবির ও সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতে দেশের এলিট শ্রেণির তালিকা তৈরি করেন রবার্ট ও ব্লেইক।

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির বাসভবনে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেইক দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন যে, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধানের পদে ইউনূসের থাকা উচিত। ব্লেইক বলেন, অন্যথায় ওয়াশিংটন এমন পদক্ষেপ নেবে; যা দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ব্লেইকের সঙ্গে কথা বলা অব্যাহত রাখেন। নথিতে তিনি বলেন, এটা মনে হয়েছে যে, আমরা যা বলছি তার কোনো কিছুই শুনতে তারা প্রস্তুত নন। দীপু মনি বলেন, এক ফোনালাপে তাকে খুব, খুব জেদি হয়েছিল। এটা পরিষ্কার করা হয়েছিল যে, যদি আমরা বাধ্য না হই তাহলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।

দীপু মনির সঙ্গে প্রত্যেকবার সাক্ষাতের সময় ইউনূসের বিষয়টি তুলতেন হিলারি ক্লিনটন। এমনকি ২০১২ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও হিলারি একই দাবি জানান। দীপু মনি বলেন, আমরা বারবার ব্যাখ্যা করেছি যে, গ্রামীণ ব্যাংক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ছিল এবং এটি অবশ্যই তার নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে। আমাদের সংবিধানসহ অন্যান্য আইন-কানুন মানবে; কিন্তু এটি দৃশ্যত লঙ্ঘন করেছিল। তিনি বলেন, সবকিছু যেন বধির কোনো ব্যক্তির কানে পড়ছিল।

মনি বলেন, এটা স্পষ্ট ছিল যে, অবৈধ কাজ করলেও ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন। সজীব ওয়াজেদ জয় সে সময় বলেছিলেন, ‘১৭ বছর ধরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালে কখনও তার কোনও সমস্যা হয়নি। তবে ড. ইউনূসের ব্যাপারে তদন্তের ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত শুরুর হুমকি দেন।’

জয় ডেইলি কলারকে আরও বলেন, ‘তারা দফায় দফায় আমাকে বলেন, ইউনূসের অনেক প্রভাবশালী বন্ধু আছে। আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লিনটনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টিও গোপন কোনও ব্যাপার নয়।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন আটকাতে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে ইউনূসের যোগসাজশের বিষয়টি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে ইউনূসকে না সরাতে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চাপ আসার কথাও স্বীকার করেন।

২০১১ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির যড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি বাতিল করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার নিজ উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেই। ইতোমধ্যে সেতুটির প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টি ঘেঁষা ডেইলি কলারেরই এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্টপ্রার্থী হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় নিজ পদের প্রভাব খাটিয়ে ইউনূসকে এক কোটি ৩০ লাখ ডলারের তহবিল জুগিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ইউনূস এক লাখ থেকে তিন লাখ ডলার ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে দান করেছিলেন। ওই সময় ক্লিনটন ফাউন্ডেশন থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

২০১৫ সালে হিলারির ফাঁস হওয়া ই-মেইলেও ইউনূসের জন্য তদ্বিরের বিষয়টি প্রকাশ পায়। ইউনূসকে সরানোর কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাপ আসার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

একদিন কারাবাসের পর আজ বুধবার বিকেলে খুলনা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়ল।

এদিকে সাংবাদিক লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা নিয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশ সুপারকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. দিদার আহমেদ।

আবদুল লতিফ মোড়ল খুলনা শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি। সেই সঙ্গে তিনি dalitvoice24.com-এর প্রতিনিধি। আর তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী সুব্রত কুমার ফৌজদার যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন-এর ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।

সাংবাদিক ফৌজদার গত ৩১ জুলাই আবদুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। গভীর রাতে ডুমুরিয়া থানার পুলিশ লতিফের বাসায় গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। আজ বুধবার ১০ হাজার টাকা জামিননামায় পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত খুলনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুসরাত জাবিন তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি খুলনা কারাগারে থেকে মুক্তি পান। এই সময় তাঁর সহকর্মী, সন্তান ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর গলায় ফুলের মালা পরানো হয়।

বাদী সুব্রতর সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার বাদী সুব্রত কুমার ফৌজদারের সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার পাশাপাশি নিজেকে জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে দৈনিক জনকণ্ঠের খুলনা ব্যুরোপ্রধান অমল সাহা জানান, সুব্রত তাঁদের কোনো সাংবাদিক নন। ডুমুরিয়ায় তাঁদের কোনো প্রতিনিধি নেই। সুব্রতর ফেসবুক আইডিতে জনকণ্ঠের পরিচয় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এদিকে যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন কর্তৃপক্ষ আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আগ বাড়িয়ে ৫৭ ধারায় সুব্রত কুমার ফৌজদারের মামলা করার ঘটনায় বিব্রত। স্পন্দন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সিকদার খালিদ হোসেন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় বিব্রত হয়েছি। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি সুব্রত কুমার ফৌজদারের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগুতে চাই। তাঁকে প্রাথমিকভাবে শোকজ করব আমরা।’

কারণ হিসেবে সম্পাদক সিকদার খালিদ হোসেন বলেন, ‘দৈনিক স্পন্দনের নাম পদবি ব্যবহার করে পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কেন তিনি এই গর্হিত কাজ করলেন সে জন্য তাঁকে তিনদিনের মধ্যে জবাব চেয়ে শোকজ করা হবে।’

এ ব্যাপারে আজ বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সুব্রত কুমার ফৌজদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলেননি। পরে খুদেবার্তা দিয়ে কল করলেও তিনি কথা বলেননি।

ডুমুরিয়ার ওসি প্রত্যাহার
গত ৩০ জুলাই একটি অনলাইন গণমাধ্যম ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে দেওয়া ছাগল রাতে মৃত্যু’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে। খবরে প্রতিমন্ত্রীর একটি ছবি ছিল। খবরে বলা হয়েছিল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ২৯ জুলাই শনিবার সকালে ডুমুরিয়ায় দুঃস্থদের মাঝে ছাগল, হাঁস ও মুরগি বিতরণ করেন। তবে ওই দিন রাতেই একটি ছাগলের মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে, রোগাক্রান্ত ছাগল হওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে। এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ ছাগল, হাঁস ও মুরগি বিতরণ করে।

ওই খবরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দর বক্তব্য ছাপা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সুস্থ ও সবল ছাগল, হাঁস, মুরগি ক্রয় করতে।’ ছাগল মারা যাওয়ার ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ওই সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন সাংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়ল। আর শেয়ার করার সময় তিনি টাইমলাইনে লেখেন, ‘খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দায়িত্বহীনতা…’।

অথচ মামলার বাদী সুব্রত কুমার ফৌজদার বিষয়টি না বুঝে তাঁর বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা ঠুকে দেন। এজাহারে তিনি বলেন, আসামি ইচ্ছেকৃতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে দেওয়া ছাগল রাতে মৃত্যু’ শিরোনামের খবরে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ফাইল ছবি আসামির ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেছে। আসামি আবদুল লতিফ মোড়ল মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ফাইল ছবি সামাজিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদা হানি করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট/ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে সরবরাহ করেছে।’

মামলার বাদী সাংবাদিক সুব্রত কুমার ফৌজদার এজাহারের সঙ্গে ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে দেয়া ছাগল রাতে মৃত্যু’ শিরোনামে সংবাদের প্রিন্টকপি ও ফেসবুকে শেয়ার করা আসামির পোস্টের স্ক্রিনশটের কপি যুক্ত করেন।

এজাহারে থাকা সংবাদের প্রিন্টকপিতে দেখা যায়, সংবাদে প্রতিমন্ত্রীর একটি পুরোনো ছবি দেওয়া আছে। একই ছবি সাংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়লের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা পোস্টেও আছে। অর্থাৎ তিনি নিজে থেকে প্রতিমন্ত্রীর কোনো ছবি যুক্ত করেননি।

মামলার বাদী এজাহারে সংশ্লিষ্ট সংবাদ ও ফেসবুকে শেয়ার করা আসামির পোস্টের স্ক্রিনশটের কপি যুক্ত করলেও ডুমুরিয়া থানার পুলিশ তা যাচাই-বাছাই বা প্রাথমিক তদন্ত না করেই এজাহার গ্রহণ করে এবং গভীর রাতে বাসায় গিয়ে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে।

সাংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়লের মেয়ে মেহনাজ রেজা মিম্মা গতকাল বিবিসি বাংলাকে টেলিফোনে বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে আমার আব্বুকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ছিল, আমাদের ডুমুরিয়া থানার ওসি ছিল, আরো ২০ থেকে ৩০ জনের মতো মানুষ এসেছিল। দেয়াল টপকে তারা ঢোকে। তারা আমার রুমেও জোরে জোরে নক করে। আমি জানতে চাই ওনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। তখন আমাকে বাজেভাবে বলা হয়, কোথায় নিয়ে যাচ্ছি সেটা আপনার মায়ের কাছ থেকে জেনে নিয়েন।’

মেহনাজ রেজা মিম্মা আজ বুধবার খুলনার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বাবার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। তাঁর বাবার কোনো দোষ ছিল না। তিনি শুধু একটি নিউজ শেয়ার করেছিলেন।

মামলার বিষয়ে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস আজ প্রত্যাহারের আগে মুঠোফোনে জানান, ৩১ জুলাই মামলা করার দিন কয়েকজন সাংবাদিক দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বসে ছিলেন। সে কারণে মামলা নিতে হয়েছে। তবে ওপরের কোনো চাপ ছিল না।

ওসি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। তাই বাদী সুব্রত ফৌজদার যদি ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে আইনমতো বাদীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তারের সময় বাড়াবাড়ির বিষয়টি ওসি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে শুধু ফেসবুকে সংবাদ শেয়ার করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেপ্তার নিয়ে আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার নিজামউদ্দিন জানান, ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাসকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হবে। ডুমুরিয়ার ওসি হিসেবে পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল খালেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. দিদার আহমেদ বলেন, ‘আমি খুলনার পুলিশ সুপারকে বলেছি, ডুমুরিয়ার ওসি সুকুমার বিশ্বাসের কর্মকাণ্ড তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest