আসাদুজ্জামান : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাতক্ষীরায় দলীয় নেতা-কর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের রকমারী ব্যানার, পোস্টার ও প্যানা লাগিয়ে ভোটারদের মাঝে ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছেন।
তবে, অনেকের ব্যানারের ছবি ও লেখা নিয়ে আবার সমালোচনার ঝড়ও বইছে। এমনই এক জন সাতক্ষীরা-০১ আসনের (তালা-কলারোয়া) সম্ভাব্য প্রার্থী সরদার মুজিব। যিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা আ ’লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা কলারোয়ায় উপজেলার কাজীরহাট মেইন সড়কের উপর একটি তোরণ তৈরি করেছেন যেখানে তিনি তার ছবির নিচে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের একটি ছবি দিয়েছেন। সেটা তিনি আবার তার ফেসবুকেও শেয়ার করেছেন। আর তার এই শেয়ার করা ছবি নিয়ে রীতিমত তালা-কলারোয়াবাসীর মধ্যে আলোচনার ঝড় বইছে। আওয়ামী নেতা-কর্মীদের অনেকেই জাতির পিতার প্রতি অসম্মান ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপরাধে তার উপযুক্ত শাস্তিরও দাবি জনিয়েছেন।
কে এই সরদার মুজিব?
কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা গ্রামের মৃত লাল চাঁদ সরদারের ছেলে সরদার মুজিব ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি দাবি করেন, প্রমোশন পেয়ে প্রথমে ল্যান্স কর্পোরাল, এরপর কর্পোরাল ও সর্বশেষ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর ১৯৯৯ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার পর তিনি সৈনিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক হন। এরপর দপ্তর, সাংগঠনিক ও বর্তমানে তিনি নিজেকে সৈনিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি দাবি করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ছবির উপরে তার ছবি দিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সমস্ত জায়গায় এখন সমালোচনার পাত্র হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন জানান, “সরদার মুজিবের রাজনীতি করার মত কোন যোগ্যতাই নাই। তিনি একজন অল্প শিক্ষিত মানুষ। এসএসসি পাশ করার পর তিনি সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকরি নেন এবং সৈনিক পদেই তিনি বাধ্যতামূলক অবসরে যান।” তিনি আরো জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি অসম্মান ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করায় তার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
এ ব্যাপারে সরদার মুজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষটি এমন নয়। বঙ্গবন্ধুর ছবি আমার ছবির উপরেও দেয়া হয়েছে। তবে, আমার ছবির নিচের অংশে বাশ দেখা যাচ্ছিল তাই আমার লোকেরা বাশটি যাতে না দেখা যায় সেজন্য আমার ছবির নিচে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আরো একটি আলাদা ছবির ব্যানার লাগিয়েছিল। যেটা ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : মেয়াদ পূর্ণ হবার পরও গত চার বছর ধরে সাতক্ষীরার সান-লাইফ ইনসিওরেন্স গ্রাহকরা তাদের মূল টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত পাচ্ছেন না। টাকার জন্য তারা ঢাকা ও খুলনা অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাননি। গ্রাহকদের তোপের মুখে এরই মধ্যে জেলার সবগুলি অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারিরা।
এদিকে টাকা ফেরত না পেয়ে অনেকে শাখা ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কয়েকজন শাখা ম্যানেজার গ্রাহকদের হাতে মার খেয়েছেন। টাকার বদলে তাদের সম্পদ কেড়ে নিতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
তবে সানলাইফের খুলনা বিভাগীয় প্রধান বিশ্বজিত মন্ডল জানান, তিন চার মাসের মধ্যে তাদের টাকা পরিশোধ করা হবে’।
জেলার গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পাবার দাবিতে আজ সোমবার সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তারা বলেন অবিলম্বে প্রাপ্য টাকা পরিশোধ না করা হলে সাতক্ষীরার তিন হাজার গ্রাহক আন্দোলনে নামবে।
মানববন্ধনে তারা বলেন সানলাইফ ইনসিওরেন্সের ছয়টি প্রকল্পের একটি লোকমুখী বীমা। ২০০০ সালে গঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি মাসিক কিস্তির ভিত্তিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ বছর, ১২ বছর ও ১৫ বছর মেয়াদে টাকা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৩ সালে তাদের কিস্তির মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়। এরপর থেকে মুল টাকা ও লভ্যাংশের চার কোটি টাকা দাবি করে সাতক্ষীরার গ্রাহকরা সানলাইফের কেন্দ্রীয় অফিসে বই পাঠালেও আজ অবধি কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ করে তারা বলেন এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক মাজেজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের সাথে নানাভাবে টালবাহানা করা হয়। তিনি কাউকে সাক্ষাত দেন না। তারা সানলাইফের চেয়ারম্যান রুবিনা হামিদের সাথে যোগাযোগ করেও প্রাপ্য টাকার কোনো কিনারা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন ঢাকা অফিস থেকে এখন উল্টো টাকা চেয়ে বলা হয় ‘আপনারা মাসিক কালেকশনের টাকা জমা দিতে থাকুন’। গ্রাহকরা বলেন মেয়াদ পূর্ণ না হলেও তাদের অনেকেই কিস্তির টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। ঢাকা ও খুলনা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা টেলিফোনও রিসিভ করেন না। ফলে শত শত গ্রাহক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বীমার শাখা ম্যানেজাররা বলেন টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা এখন তাদের মারপিট করতে শুরু করছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা পৌরসভা, ফিংড়ি ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। কয়েকজন ম্যানেজার জানান, গ্রাহকরা তাদের বাড়িঘর লুটপাট করছেন। তাদের সম্পদ জোর করে কেড়ে নিচ্ছেন। রাস্তাঘাটে হেনস্থা করছেন। গ্রাহকদের ভয়ে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। এদিকে গ্রাহকদের তোপের মুখে সানলাইফের জেলাব্যাপী দুই শতাধিক গ্রামীন অফিস বন্ধ করে পালিয়ে গেছে কর্মকর্তারা। জেলা অফিসেও ঝুলছে তালা। গ্রাহকরা প্রতিদিন সাতক্ষীরা জেলা অফিসে এসে তাদের না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সানলাইফ ইনসিওরেন্সের খুলনা বিভাগীয় প্রধান বিশ্বজিত মন্ডল জানান, আমি মাত্র দুই মাস যোগদান করেছি। এর আগে দায়িত্বে থাকা খুলনা বিভাগীয় প্রধান ইদ্রিস আলির দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার অনিয়মের কারণে গ্রাহকরা টাকা পাচ্ছেন না। আগামি ৩/৪ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করা হবে।
মানববন্ধনে এ সময অংশ নেন শাখা ম্যানেজার আবদুস সাত্তার, আজিজা ইসলাম, মো. সালাহউদ্দিন, হাসিনা খাতুন, আকলিমা খাতুন, রেজাউল করিম, রহিমা খাতুন, নুরুল আমিনসহ শতাধিক গ্রাহক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঢাকাই চলচ্চিত্রের রাজকুমার সালমান শাহ। মৃত্যুর দুই দশক পেরিয়েও এতটুকু কমেনি তার জনপ্রিয়তা। এখনো তিনি নায়কদের প্রিয় নায়ক, দর্শকদের বিরাট এক আক্ষেপের নাম। বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের ব্যবসা সফল সেরা ১০ চলচ্চিত্রের দুই, তিন ও চার নম্বরে আছে সালমান শাহ অভিনীত সিনেমা।

ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। মৃত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু সালমান শাহের পরিবারের দাবি তাদের সন্তানকে খুন করা হয়েছে।

এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মামলাও হয়েছে। সালমান ভক্তরাও তাদের প্রিয় নায়ককে খুন করা হয়েছে দাবি করে আন্দোলন করে খুনিদের শনাক্ত করে তাদের শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কোনো কিনারা পাওয়া যায়নি আজ অবধি। এরইমাঝে বোমা ফাটালেন রাবেয়া সুলতানা রুবি নামের এক আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশি।

অনলাইনে একটি ভিডিও বার্তা ছেড়ে তিনি দাবি করেছেন, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে। সেই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারই স্বামী। চীনাদেরকে দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও।

এই তথ্য সম্বলিত ভিডিওটি ভিডিওটি এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে রাবেয়া সুলতানা রুবি সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে কাতর কণ্ঠে বলেন, ‘এই খুনের বিষয়ে আমি সব জানি। যেভাবেই হোক, আবার যেন মামলা তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। আমি যেমন করেই হোক আদালতে সাক্ষী দেবো।’

রুবি তার ভিডিওতে সালমানের মাকে উদ্দেশ্য করে বারবার বলেছেন, ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, তাকে খুন করা হইছে। প্লিজ কিছু একটা করেন, কিছু একটা করেন।’

রুবি বলেন, ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে। আমার হাসব্যান্ড এইটা করাইছে আমার ভাইরে দিয়ে। আমার হাসব্যান্ড করাইছে, এইটা সামিরার ফ্যামিলি করাইছে আমার হাজব্যান্ডরে দিয়ে, সবাইরে দিয়ে, সব চাইনিজ মানুষ ছিলো। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, শালমান শাহ খুন হইছে।’

নিজের নাম প্রকাশ করে ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি রুবি, এখানে ভেগে আসছি, আমি ভেগে আসছি, এই কেস যেন না শেষ হয়। আমি যেভাবে পারি, ঠিকমত যেন আমি সাক্ষী দিতে পারি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করেন।’

তাকেও খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে রুবি বলেন, ‘আমারেও খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, দয়া করে আমার জন্য দোয়া করেন। আমি ভালো নাই, আমি কী করবো আমি জানি না, এতটুক জানি যে সালমান শাহ ইমন আত্মহত্যা করে নাই। ইমনরে সামিরা, আমার হাজব্যান্ড ও সামিরার সমস্ত ফ্যামিলির সবাই মিলে খুন করছে। প্লিজ দয়া করে কিছু করেন।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এরা কী মানুষ, পুরা চাইনিজ কমিউনিটি আপনারা জানেন না। আমি পুরা ভেগে আসছি এখানে, কোনো রকমে। দয়া করে একটুখানি কারোরে জানান। কারোরে জানান যে, এটা আত্মহত্যা না, এটা খুন। খুন হইছে। আমার ছোট ভাই রুমিরে দিয়া খুন করানো হইছে। রুমিরেও খুন করা হইছে। আমি জানি না রুমির কবর কোথায় আছে। রুমির লাশ যদি কবর থেকে তুলে ঠিকমত আবার পোস্টমর্টেম করে, তাহলে দেখা যাবে যে ওরা গলা টিপে মাইরা ফেলছে।

রুবি আরও কয়েকজন এই খুনের সঙ্গে জড়িত আছেন দাবি করে বলেন, ‘এর মধ্যে আমার খালু মুন্তাজ হাসান আছে, আমার খালাত ভাই জুম্মান থাকতে পারে, আমার হাজব্যান্ড চ্যাং লিং চ্যাং, জন চ্যাং নামে বাংলাদেশে পরিচিত ছিলো। সাংহাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক ছিল ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডে। দয়া করে কাউরে জানান।’

‘আমি ভেগে আসছি আমার জানের ওপর মায়ার জন্য। আমি লাস্ট মানুষ যে কি না জানে যে, এটা খুন। আমি এটা প্রমাণ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

‘দয়া করে একটু সাহায্য করেন, একটু সাহায্য করেন। সাংঘাতিক অবস্থা, এরা আমারে বাসার মধ্যে খুন করার প্ল্যান করছিল। আশেপাশে সমস্ত, সুযোগ পায় নাই। আমার জামাইরে আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম যে, তুমি আমারে খুন করতে চাও, তাই না? ও বলেছে যে, খুন করলে তো তোরে আমি কবেই খুন করে ফেলতাম।’

‘এইটা তো আমি জানি। এখন আবার খুন করতে চায়, কারণ এখন আবার কেইস ওপেন হইছে। প্লিজ দয়া করে কিছু করেন, দয়া করে জানান।’

সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে ভিডিওতে বলা হয়, ‘ভাবি, আপনার ছেলেরে খুন করা হইছে। আমার যা করার আমি করব, আমি ভেগে আছি ভাবি, নাইলে আমারেও মেরে ফেলত এরা সবাই মিলে। লুসি, আমার হাসব্যান্ড জন, সবাই মিলে আমার বাচ্চাটা, আমার বাচ্চা রিকি আর আমার জানের ওপর অনেক জিনিস আছে ভাবি। দয়া করে কিছু করেন ভাবি, কিছু করেন, কিছু করেন। যেখানেই যান ইনভেস্টিগেশন করেন। এটা খুন ছিল, ইমন আত্মহত্যা করে নাই। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই ভাবি, সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই। আপনার ছেলে আত্মহত্যা করে নাই, আপনার ছেলেরে খুন করানো হইছে। আমার বাপরেও মনে হয় মাইরা ফেলছে ভাবি, আমি জানি না, আমার ভাইটারেও মাইরা ফেলছে মনে হয়।’

‘দয়া করেন, আল্লাহ, আপনি দয়া করেন, কিছু করেন। আসসালামো আলাইকুম আবার। আল্লাহ হাফেজ, বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ দেখা হবে’-বলে শেষ করেন রুবি।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে সালমান শাহের রূপালী মর্দায় যাত্রা শুরু। চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর প্রতিটিই দর্শকপ্রিয়তা পায়।

সালমান শাহ মৃত্যুর পেছনে তার মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই সালমান শাহের স্ত্রী সামিরাকে দায়ী করে আসছিলেন। তিন ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। এতে সামিরা ছাড়াও আসামি ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই। সেখানে একজন ছিলেন এই ভিডিও বার্তা প্রচারকারী রাবেয়া সুলতানা রুবির নামও রয়েছে। তিনি এই মামলার ৭ নম্বর আসামী।

সালমান শাহের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সামিরা পরে মুস্তাক ওয়াইজ নামে এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে সংসার করছেন থাইল্যান্ডে। তাদের সংসারে তিনটি সন্তানও রয়েছে। আর রুবি তার স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে অবস্থান করছিলেন।

বাংলা চলচ্চিত্রে তোলপাড় ফেলা নায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানান তার স্ত্রী সামিরা। কিন্তু সালমান শাহের পরিবার একে হত্যা বলে আসছিল।

তবে গত দুই দশকেও এই মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। পুলিশ দুই দফা ময়নাতদন্ত করে একে আত্মহত্যাই বলেছিল। কিন্তু নারাজি আবেদন করেছে সালমান শাহের পরিবার। মামলাটির বিচারবিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। এখন মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি মামলাটি আবার পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। এবং এই মুহূর্তে রাবেয়া সুলতানা রুবি নামের ওই নারীর দুই মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। যা এই খুন ও মামলাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এলো।

তবে এই ভিডিওটির বিষয়ে সালমান শাহের মায়ের মতামত জানতে যোগাযোগ করতে গিয়ে জানা গেল, নীলা চৌধুরী বর্তমানে লন্ডনে রয়েছে। সেখানে তার ছোট পুত্র সাহরাতের বাসায় আছেন তিনি। তবে এই ভিডিও প্রকাশের পর সালমানের আত্মীয়রা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।

ভিডিও বার্তাকারী রুবিকে রাজসাক্ষী করে আবারও সালমান খুনের মামলার তদন্ত পুনরায় খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে পিবিআই’র স্পেশাল পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, রুবি ছিলেন সালমান শাহ’র বিউটিশিয়ান। রুবির সঙ্গে আমরাও যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু তিনি দেশে নেই। এ কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি যে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন তা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : প্রাকৃতিক প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরায় মানবিক মূল্যবোধের সৃষ্টি, অবাধ আত্মবিকাশ, ভাব ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের নিশ্চয়তা বিধান, মুক্তচিন্তার চর্চা এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনাকে জনজীবনে ফলপ্রসূ করে তোলার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে স্বেচ্ছায় সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রাণসায়র সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের জন্য সাংস্কৃতিক কর্মী (অভিনয়, সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্যকলা প্রভৃতি) আহবান করা হচ্ছে।
আগ্রহী ব্যক্তিগণকে ডেইলি সাতক্ষীরা, রাধানগর সাতক্ষীরা (বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত) ঠিকানায় অথবা নিম্নোক্ত ফোন নম্বরে যোগাযোগ পূর্বক সদস্য ফরম সংগ্রহ করার জন্য আহবান করা যাচ্ছে।

আহবানে

(হাসান হাদী)                                                                               (রওনক বাসার)
আহবায়ক                                                                                   সদস্য সচিব
প্রাণসায়র সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র                                                     প্রাণসায়র সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র
সাতক্ষীরা।                                                                                       সাতক্ষীরা।
মোবা: ০১৭৩৫-৫০৫৬৩৯।                                                     মোবা: ০১৭৪৩-৭৯৯২৮৮

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কলারোয়া ডেস্ক : ‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’- শীর্ষক স্লোগানে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে কলারোয়া মডেল হাইস্কুলে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্র-ছাত্রীরা যেন মাদকাসক্ত না হয় সে বিষয়ে শিক্ষক-অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে ওই সভার আয়োজন করে কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কাজী আসাদুজ্জামান সাহাজাদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ, একাডেমিক সুপারভাইজার তাপস কুমার দাস, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান, পিটিএ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, সহকারী শিক্ষক রুহুল কুদ্দুস ও সিনিয়র শিক্ষক মোস্তফা বাকি বিল্লাহ শাহী।
এসময় শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে মাদকের বিরুদ্ধে শপথবাক্য পাঠ করান উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন। এসময় দুই জন প্রতিবন্দ্বি শিক্ষার্থীকে ৪হাজার ৫’শ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রেকর্ড পরিমাণ মূল্যে ইতিহাস গড়েই স্প্যানিশ ক্লাব পিএসজি’তে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার। মাঠে নামেননি এখনও। তবে এরইমধ্যে তার নামে জার্সি বাজারে ছেড়েছে পিএসজি। আর একদিনেই ১০ হাজার পিস জার্সি বিক্রি হয়েছে। যা থেকে ক্লাবটি আয় করেছে এক লাখ ইউরো। প্রতিটি জার্সি ১০০ ইউরো করে বিক্রি হচ্ছে।

বলা হচ্ছে, আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এভাবে যদি বিক্রি হয় তবে নেইমারকে কিনতে বার্সাকে যে ট্রান্সফার ফি দিতে হয়েছে তা উঠে আসবে পিএসজির।

রেকর্ড ট্রান্সফার ফি ২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে এসেছেন নেইমার। ১০ নম্বর জার্সি তাকে দেয়া হয়েছে। পিএসজির দুটি শপেই নেইমারের সব জার্সি বিক্রি হয়ে গেছে। ক্লাব ও জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাজারে আরও জার্সি আনার কথাও ভাবছেন।

উল্লেখ্য, ২৫ বছর বয়সী নেইমার বার্সেলোনা থেকে এবারের ট্রান্সফার উইন্ডোতে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড চুক্তিতে ৫ বছরের জন্য পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন। ১০ নম্বর জার্সি পড়েই পিএসজিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিদেশে নতুনভাবে সাতটি শহরে বাংলাদেশি মিশন স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে বিদেশে স্থাপিত ১৭টি বাংলাদেশি মিশন ভূতাপেক্ষভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন সাত মিশন হবে আফগানিস্তানের কাবুল, সুদানের খার্তুম, সিয়েরালিওনের ফ্রিটাউন, রোমানিয়ার বুখারেস্ট, ভারতের চেন্নাই, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও কানাডার টরেন্টোতে।

শফিউল আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে চালু হওয়া ১৭টি মিশন হলো এথেন্স, মিলান, মুম্বাই, ইস্তাম্বুল, লিসবন, কুনমিং, বৈরুত, মেক্সিকো সিটি, ব্রাসিলিয়া, পোর্ট লুইস, কোপেনহেগেন, ওয়ারশ, ভিয়েনা, আদ্দিসআবাবা, আবুজা, আলজিয়ার্স ও গৌহাটি।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে এসব মিশনে কাজ চলছে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী নিয়ম হলো, এই অফিসগুলো খোলার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ভুলক্রমে এই ১৭ কূটনৈতিক অফিস স্থাপনের অনুমোদন নেয়া হয়নি। এজন্য ১৭টির ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেয়া হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এর মধ্যে (ইতোমধ্যে চালু ও নতুনগুলো) কয়েকটি মিশন আগে থাকলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার চালু করা হলো।’

ব্রাসিলিয়া, ওয়ারশ, বুখারেস্ট, সিডনিতে বাংলাদেশি মিশন আগে ছিল বলেও জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি না সাকিব। দলও হেরেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিবের অলরাউন্ডার নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার দল জ্যামাইকা তালাওয়াস।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল রাতে মুখোমুখি হয় জ্যামাইকা ও বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস। টস জিতে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জ্যামাইকা। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৪ রান করে সাকিবরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৪২ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় ট্রাইডেন্টস। ফলে ১২ রানে জয় পায় জ্যামাইকা।

১৫৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে ৫১ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারান ট্রাইডেন্টস। এরপর ১০২ রানে পৌঁছাতেই ৬ উইকেট নেই। কাইরান পোলার্ডের ৬২ রানের ইনিংসটিও শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। কারণ ১৪২ রানেই আটকে যায় বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস।

জ্যামাইকার হয়ে ব্যাট করতে নেমে সাকিব ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৩২ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কা মেরে তিনি এই ইনিংসটি গড়েন। তবে জ্যামাইকার সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেছেন ম্যাকার্থি। তিনি করেছেন ৬০।

ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন সাকিব। বল হাতে ওয়াইন পার্নেলের উইকেটটি পেয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে একটি করে উইকেট পাওয়া অন্য বোলাররা হলেন সান্তকি, কেসরিক উইলিয়ামস এবং ইমাদ ওয়াসিম। তবে মোহাম্মদ সামি একাই ৪ উইকেট নিয়ে বার্বাডোসের ব্যাটিংয়ে বড় ধ্বস আনেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest