সর্বশেষ সংবাদ-
দুটি মামলায় দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর কারাগারেকাঁধে কফির ফ্লাস্ক, চোখে স্বপ্ন—রূপসী ম্যানগ্রোভে আকাশের জীবনসংগ্রামশ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটনঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন: সাতক্ষীরার গাবুরায় লাখ টাকা জরিমানা

সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ‘বিমান ভূপাতিত করার একটি বড়সড় পরিকল্পনা নস্যাৎ’ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল জানিয়েছেন, ‘সন্ত্রাসীরা একটি বিমান ভূপাতিত করার ষড়যন্ত্র করছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

সিডনির বেশ কিছু এলাকায় বড় ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরিকল্পনাটি নস্যাৎ করে দেওয়া হয় বলে জানান টার্নবুল। আকাশপথে যাঁরা ভ্রমণ করছেন, তাঁদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আস্থার সঙ্গে নিজ নিজ কাজ অব্যাহত রাখা উচিত।’

তবে সন্ত্রারীরা কখন, কোথায়, কীভাবে বিমান ভূপাতিত করার পরিকল্পনা করেছিল—সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি দেশটির পক্ষ থেকে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কমিশনার অ্যান্ড্রো কলভিন বলেন, যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে ইসলামী চরমপন্থার যোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসীরা ‘ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ বা আইইডি ব্যবহার করে বিমান বিস্ফোরিত করার পরিকল্পনা করছিল, এমন তথ্য ছিল।

অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম এবিসি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সিডনির সারি হিলস, লাকেম্বা, ওয়াইলি পার্ক ও পাঞ্চবৌল এলাকায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ ও অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অভিযান চালায়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে সিডনি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। পরে দেশজুড়ে তা বিস্তৃত করা হয়েছে।

এদিকে সিডনির একজন নারী দাবি করেছেন, পুলিশ যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে তাঁর স্বামী ও ছেলে রয়েছেন। তারা কোনো চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত নায়ক অনন্ত জলিল। সিনেমায় ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ২০১০ সালে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর থেকে চলচ্চিত্র নিয়মিত ছিলেন। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তার সর্বশেষ ছবি ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ মুক্তি পায়। এরপর ব্যবসা ও পরিবার নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। চলতি বছরে এসে চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে ফের আলোচনায় আসেন তিনি।

চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েই সৌদি আরবে ওমরাহ করতে যান অনন্ত জলিল। গতকাল শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনন্ত লিখেন, ‘বন্ধুগণ, আমি আজ সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে আসছি ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরবরে। আপনাদের/তোমাদের সাথে কিছু ইন্টারেস্টিং ব্যাপারে আলোচনা করতে। সবার উপস্থিতি একান্তভাবে কাম্য। আমার সাথে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকবে। দেখা হবে সবার সাথে।’

অনন্ত জলিলকে নিয়ে এমনিতেই মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। তারপর আবার ‘ইন্টারেস্টিং’ ব্যাপার। তাই অনেকেই জড়ো হয়েছিলেন রবীন্দ্র সরোবরে। জানা যায়, গতকাল শনিবার ধানমণ্ডির একটি মসজিদে ইসলামের বাণী ছড়াতে তাবলিগ জামাতে যোগ দেন অনন্ত। সেখান থেকে দাওয়াতি এক টিম নিয়ে হাজির হন রবীন্দ্র সরোবরে। সেখানে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষকে অনন্ত জলিল জানান, তিনি জানান ধর্মের কথা শোনাতেই এসেছেন। এদিন ভিন্ন বেশে হাজির হন অনন্ত। তার পরনে ছিল জুব্বা আর মাথায় পাগড়ি। সবার উদ্দেশ্যে অনন্ত জলিল বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামের প্রতিটি নিয়ম কানুনই মানুষের শান্তির জন্য। তাই আসুন আমরা ইসলামের পথে চলি। ইসলামের বিধিবিধানগুলো মেনে চলি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

‘এল ক্ল্যাসিকো’ মানেই নাটকীয় সব মুহূর্ত-রোমাঞ্চ। সেটা যে আসরেই হোক না কেন। এমনকি প্রীতি ম্যাচেও নিজেদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ভুলে যায়নি স্পেনের অন্যতম সেরা দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচেও রিয়াল-বার্সার তারকারা উপহার দিয়েছেন জমজমাট এক ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত যে ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে বার্সেলোনার। লিওনেল মেসি-নেইমারদের দারুণ নৈপুণ্যে কাতালানরা ম্যাচটা জিতেছে ৩-২ গোলে।

লা লিগায় প্রতি মৌসুমে দুবার মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। এ ম্যাচ দুটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে পুরো ফুটবলবিশ্ব। এবার সেই দুটি ম্যাচ তো আছেই, সেই সঙ্গে স্প্যানিশ সুপার কাপেও দুবার মুখোমুখি হবে স্পেনের সেরা দুই ক্লাব। তার আগে একটি প্রীতি ম্যাচও খেলে ফেললেন রিয়াল-বার্সার তারকারা। মিয়ামিতে সেই ম্যাচ দেখে অবশ্য কারো বোঝার উপায় নেই যে এটা ছিল প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানোর গৌরব অর্জনের জন্য বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত সে লড়াইয়ে জয় হয়েছে মেসি-নেইমারের বার্সেলোনার।

ম্যাচ শুরুর পরপরই রিয়ালের জালে দুবার বল জড়িয়েছিল বার্সা। ৩ মিনিটের মাথায় ম্যাচের প্রথম গোলটি করেছিলেন মেসি। সাত মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়েছিলেন ইভান রাকিতিচ। শুরুতেই দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়লেও রিয়ালও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দারুণভাবে। ১৪ মিনিটের মাথায় একটি গোল শোধ করেছিলেন মাত্তেও কোভাচিচ। ৩৬ মিনিটে খেলায় সমতা ফেরান মার্কো অ্যাসেনসিও। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য রিয়ালকে আর কোনো সুযোগ দেয়নি বার্সা। ৫০ মিনিটে দলের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন জেরার্ড পিকে।

আগামী ১৩ আগস্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা আবার মুখোমুখি হবে মৌসুমের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে। ১৬ আগস্ট স্প্যানিশ সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে আরো একবার লড়াই করবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অভিনয়য়ের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এবিপি আনন্দের সেরা বাঙালি ২০১৭ পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী জয়া আহসান। জয়ার হাতে এই পুরস্কার হাতে তুলে দেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

এর আগে এই পুরস্কার পেয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, সব্যসাচী চক্রবর্তী, পাওলি দাম, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রাহুল বোস, দেবশঙ্কর হালদারের মতো ব্যক্তিত্বরা। এবিপি আনন্দের মতে অসাধারণ অভিনয় দক্ষতায় দুই বাংলার হৃদয় জয় করে নিয়েছেন জয়া।

এদিকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৭ সালের সেরা বাঙালি খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা।

এছাড়াও নাট্যকলা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন বিভাস চক্রবর্তী, সঙ্গীতে কৌশিকী চক্রবর্তী, শিল্পকলায় চিত্রশিল্পী রামানন্দ বন্দোপাধ্যায়, বাণিজ্যে এই পুরস্কার পেয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি বিস্কফার্মের কর্ণধার কে.ডি.পাল, সাহিত্যে সেরা বাঙালির পুরস্কার পেয়েছেন কবি জয় গোস্বামী, বিনোদনে এই পুরস্কার পেয়েছেন প্রখ্যাত জাদুকর জুনিয়র পি.সি.সরকার।

লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক বিমানবাহিনীর প্রধান অরূপ রাহা। তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে ভারতের সাবেক স্থলসেনা প্রধান শঙ্কর রায় চৌধুরী। আর ২০১৭ সালের ‘সেরার সেরা বাঙালি’ পুরস্কার পেয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন কবি শঙ্খ ঘোষ। এর আগে এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি, মমতা ব্যানার্জি, সৌরভ গাঙ্গুলী, ফ্যাসন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

উল্লেখ্য, অভিনয়, সঙ্গীত, শিল্পকলা, ক্রীড়া, সাহিত্য, বিনোদন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বাঙালি কীর্তিমানদের এদিন পুরস্কৃত করেছে কলকাতা ভিত্তিক গণমাধ্যম এবিপি আনন্দ। এবার নিয়ে ১৩ বার এই পুরস্কার দিয়ে আসছে এই সংস্থাটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে অপরাধী ঘোষণা করেছে মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ আদালত। এখন আদালতের নির্দেশে তাঁর সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

সন্ত্রাসে মদদ ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে এই আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার ভারতের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

এনআইএ জানিয়েছে, সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ আদালত জাকির নায়েককে অপরাধী ঘোষণা করেছেন। সে কারণেই তাঁর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৮৩ ধারার আওয়তায় তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

জাকির নায়েকের ধর্মীয় বক্তব্য শুনে বাংলাদেশের অনেকেই জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে- এমন অভিযোগ ওঠার পর এনআইএ সন্ত্রাসে মদদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এর পরই ২০১৬ সালের ১ জুলাই জাকির নায়েক ভারত ত্যাগ করেন। নায়েক অবশ্য ওই বছরের জানুয়ারিতেই ১০ বছরের জন্য তাঁর পাসপোর্ট নবায়ন করেছিলেন।

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের দেওয়া তথ্য মতে, জাকির নায়েক এরই মধ্যে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

এনআইএ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। আর এই মামলার একদিন পরই ভারত সরকার জাকির নায়েকের প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে (আইআরএফ) বেআইনি ঘোষণা করে।

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বক্তব্যের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার রুপি বিদেশে পাচার করার অভিযোগ তোলা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতে উৎপাদিত কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সেদেশেরই প্রধান হিসাবপরীক্ষকের দপ্তর।

সংসদে পেশ করা কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণের জন্য দেশেই তৈরী ওই মিসাইলগুলো পরীক্ষার সময়ে ৩০% ব্যর্থ হয়েছে।

চীনের মোকাবিলা করার জন্য ছয়টি বিমানঘাঁটিতে এই মিসাইলগুলি মোতায়েন করার কথা ছিল।

হিসাবপরীক্ষক ক্ষেপণাস্ত্রগুলির নাম উল্লেখ না করলেও সেগুলি ‘আকাশ’ মিসাইল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পেশ করা প্রতিবেদনটিতে কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ওই সব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ২০টিকে পরীক্ষা করেছে বিমানবাহিনী। তার মধ্যে ছয়টি হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, অথবা আদৌ আকাশে ওড়ে নি। অর্থাৎ ৩০% মিসাইলই ব্যর্থ হয়েছে।

প্রধান হিসাবপরীক্ষকের দপ্তরের ওই প্রতিবেদন উল্লেখ করে সংবাদসংস্থা পি টি আই জানিয়েছে, সরকারী সংস্থা ভারত ইলেক্ট্রনিক্সের তৈরী ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির ব্যর্থতার যদি এই হার হয়, তাহলে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে এক বড় ফাঁক রয়ে যাবে।

চীনকে মোকাবিলা করার জন্য ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ছ’টি বিমানঘাঁটিতে রাখার কথা ছিল। তবে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় মিসাইলগুলি এখনও ঘাঁটিতে রাখা যায় নি।

হিসাবপরীক্ষকের প্রশ্নের জবাবে বিমানবাহিনী জানিয়েছিল, যে ছ’টি মিসাইল ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলির পরিবর্তে নতুন মিসাইল বানিয়ে দিচ্ছে প্রস্তুতকারী সংস্থা। কিন্তু কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের প্রতিবেদন উল্লেখ করে পি টি আই জানিয়েছে যে শুধু ব্যর্থ হওয়া মিসাইলগুলি বদল করলেই হবে না, সরকারের উচিত সেগুলির গুনগত মান যাচাইয়ের ওপরে আরও জোর দিতে হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশে মাটির নিচে পানির স্তর ক্রমশই আরো নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। সরকারি হিসেব মতেই সারা দেশের নানা যায়গায় পানির স্তর ৪ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত কমে গেছে।
এ কারণে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে এর বদলে সরকারি কর্মকর্তারা এখন মাটির উপরিভাগের পানি অর্থাৎ পুকুর বা নদী নালার পানির ব্যবহার বাড়াতে জোর দেবার কথা বলছেন।
কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৪৪ শতাংশ মানুষ খাওয়ার জন্যে নিরাপদ পানি পায় না । এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে চলছে পানি বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। পুকুর আর নদী নালার পানিকে কর্তৃপক্ষ কতোটা খাওয়ার যোগ্য করে তুলতে পারবে সরকার?
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পানি সরবরাহ) বেগম নাসরিন আক্তার বলছেন, “জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম একটা কারণ। এই যে আমাদের ইকলজিকাল ইমব্যালান্স যেটা হচ্ছে, আমাদের পুরো স্ট্র্যাটেজিটাই বদলাতে হচ্ছে”
তিনি বলছেন, “ঢাকার জন্য আশপাশে তিনটি নদী থেকে ইতিমধ্যেই পানি শোধন করা হচ্ছে। আর সারা দেশের জন্য যে পুকুরগুলো শুকিয়ে গেছে বা যেগুলোর পানি নষ্ট হয়ে গেছে সেরকম পুকুর পুনরায় খনন কিভাবে পরিশোধন করে ব্যবহার করা যায় সেই চেষ্টা করছি আমরা। এরকম সাড়ে তিন হাজার পুকুরকে আমরা পুন খনন কার্যক্রমের মধ্যে নিয়ে এসেছি”।
সরকারি হিসেবে দেশের একশ ভাগ মানুষই পানি পাচ্ছে। কিন্তু নিরাপদ পানির প্রশ্ন উঠলে দেখা যাচ্ছে ৮৭ শতাংশ মানুষ উৎসে নিরাপদ পানি পায়। তবে সেটি মানুষের ব্যবহারের পর্যায়ে যেতে যেতে অনেক ক্ষেত্রেই আর নিরাপদ থাকছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ চলতি মাসেই নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের মোটে ৫৬ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগ পাচ্ছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রাক্টিকাল অ্যাকশনের বাংলাদেশ প্রধান হাসিন জাহান বলছেন, মাটির ওপরের পানি ব্যবহার করতে গেলে দূষণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে।

তিনি বলছেন, “দূষণের দুটো প্রধান উৎস। একটা হচ্ছে মানবসৃষ্ট বর্জ্য, বাসা বাড়ির টয়লেট। এসব বাসাবাড়িতে তৈরি মল-মূত্রের সঠিক ব্যবস্থাপনা হয়না। তাই তা পানিতে মিশে যায়। এটা একটা বড় অন্তরায়। আর একটা দূষণের সূত্র হচ্ছে বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য। সুতরাং আমাদের এই ধরনের দূষণ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে”।

কিন্তু বাংলাদেশে মানুষের ব্যক্তিগত আচরণের কারণেও অনেক সময় নিরাপদ পানিও তার মান হারায়। কি ধরনের পাত্রে এবং কিভাবে তা সংরক্ষণ করা হলো, কিভাবে তা বহন করা হলো আর নিজের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা কতটা রয়েছে সেটিও অনেক বড় ব্যাপার। শুধু হাতের ময়লা বা একটি অপরিচ্ছন্ন পাত্রও পানিকে বিশুদ্ধ করে তোলে।

পরিবেশ বিষয়ক প্রকৌশলী স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ বলছেন, “সমস্যা যেটা হলো আমাদের মাটির ওপরের পানি হাইলি কন্টামিনেটেড। আমাদের যেসব প্ল্যান্টে পানি ট্রিটমেন্ট করা হয় তাতে ব্যাক্টেরিয়া কিছুটা থেকেই যায়। যার জন্য ডিজইনফেকশন বলে একটা ব্যবস্থা আছে যা দিয়ে আমরা মাইক্রোঅর্গানিজমগুলোকে মেরে ফেলতে পারি। ভবিষ্যতে এর একটা ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে”

কিন্তু সেটি সারা দেশে কোটি কোটি মানুষের জন্য করা কতটা সম্ভব হবে? এছাড়া বাংলাদেশের জন্য আরো চ্যালেঞ্জ হলো দুই কোটির বেশি মানুষ ইতিমধ্যেই আর্সেনিক যুক্ত পানি খাচ্ছে। আর উপকূলীয় এলাকায় পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা। এতসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলারই এখন চেষ্টা চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিনোদন ডেস্ক : দেশের সুপরিচিত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করেন। তবে নাটকে অভিনয় শুরু তারও আগে। পাকিস্তান রেডিওতে প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন তার মা। মায়ের হাত ধরে যেতে যেতে ৫/৬ বছর বয়সে বেতারে নাটক করেন।
১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করতেন যদিও সেটি কেউ মনে রাখেনি, বলেন সুবর্ণা। সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, “আমার সবকিছুই প্রায় একসাথে হয়েছে। টেলিভিশনে নাটক, ঢাকা থিয়েটারে সেলিম আল দ্বীনের নাটক ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুনে অভিনয় আর তার বছরখানেকের মধ্যে ঘুড্ডি চলচ্চিত্রে কাজ।”
তার প্রথম সিনেমা ঘুড্ডি। সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকির ঘুড্ডি চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গে সূবর্ণা বলেন, “কিছুদিন আগে সিনেমাটি দেখলাম। খুব ভালো প্রিন্ট আছে। আমার মনে হলো, ঘুড্ডি যদি জাকি ভাই সাহস করে এখন একবার সিনেপ্লেক্সে রিলিজ করেন আমার মনে হয় লোকজন কিন্তু দেখবে। ছবিটি বোধহয় সময়ের আগে নির্মিত একটি ছবি, অ্যাহেড অব ইটস টাইম। এখন এটি দেখলে দর্শকরা আনন্দ পাবে। সেই পুরনো ঢাকাকে দেখা যাবে।”
কেন ছেড়ে দিলেন মঞ্চ? একটানা ২৫ বছর তিনি কাজ করেছেন মঞ্চে। ঢাকা থিয়েটারে সুবর্ণা মুস্তাফার অভিনীত অনেক চরিত্র এখনো অনেকের মনে দাগ কেটে আছে। সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ঢাকা থিয়েটারে যারা কাজ করছেন তারা আমার ছোটবেলার বন্ধু। আমার মেন্টরিং এখানে। আমি থিয়েটার করা শিখেছি নাসিরউদ্দীন ইউসুফের হাত ধরে। কিন্তুএকটা সময় কাজ করতে করতে মনে হচ্ছিল আমার আরেকটু অ্যাডভেঞ্চারাস হওয়া দরকার। আর আমরা একধরনের নাটক করছিলাম – ন্যারেটিভ, সঙ্গীত-নির্ভর। সেলিম আল দ্বীন লিখছিলেন। আমার তো গানের গলা সেইরকম, মানে গান গাইলে ভূমিকম্প হয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে মনে হলো আর না করি।”
সুবর্ণা বলেন, “অনেক সময় অনেক প্রিয় জিনিস, প্রিয় মানুষের স্মৃতি সুন্দর রাখার জন্য বা সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য দূরে সরে যাওয়া ভালো।”
অনেকে বলেন, অভিমান করে সুবর্ণা মুস্তাফা মঞ্চ ছেড়ে দিয়েছেন। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন “সেসময় অনেক প্রতিষ্ঠিতরা এসেছেন, তারা তখনও গ্রুপের সদস্য। তারা বলেছেন নতুন দল গড়ার কথা। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকেছি। কারণ আমি ঢাকা থিয়েটারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। যারা কাজ করছেন আমার সাথে তাদের সবার আজ পর্যন্ত দারুণ সম্পর্ক।” মানুষ দুইয়ে দুইয়ে চার দেখতে চায়। কিন্তু সবসময় দুইয়ে দুইয়ে চার হয়না, বলেন তিনি।
কোন মাধ্যম আনন্দ দেয় বেশি? আমার আসলে অভিনয় করেই ভালো লাগে, মাধ্যম যেটাই হোক অভিনয় করেই ভালো লাগে, বলেন সুবর্ণা। “ আনন্দ দিয়েছে সবচে বেশি টেলিভিশন। টেলিভিশনে আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ার। ৩/৪ ক্যামেরার সামনে কাজ করেছি। আর কাজ শিখেছি মঞ্চে – চরিত্র কিভাবে নির্মাণ করতে হয়। তবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ হলো বেতারে। আর একজন অভিনেতার আল্টিমেট লক্ষ্য হলো সিনেমা-দ্য বিগ স্ক্রিন।”
মঞ্চ-টিভির মত চলচ্চিত্রে ততটা দাপুটে অভিনেত্রী নন – এমন সমালোচনা প্রসঙ্গে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, যারা বলে তারা মূর্খ। কারণ আমি যে কয়টি বাণিজ্যিক সিনেমা করেছি ৯৫ শতাংশ সুপার-ডুপার হিট। তবে সিনেমায় কাজ করা অনেক কঠিন। এত কষ্ট করতে হয়, আমি আমার বাবা গোলাম মুস্তাফাকে দেখেছি, পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন হুমায়ূণ ফরীদিকে দেখেছি। লম্বা সময় দিতে হয়। কিন্ত আমার নিজের জন্য সময় দরকার।”
সুবর্ণা বলেন, “আমি শর্টকার্টে কোনও কাজ করতে পারিনা। যেটা করবো শতভাগ দিয়ে করবো।” চলচ্চিত্রে শতভাগ দিয়ে কাজ করাটা খুব কঠিন। যারা করেছেন তারা নমস্য, যোগ করেন তিনি।
বিয়ে বিচ্ছেদ ও নতুন সম্পর্ক : সুবর্ণা মুস্তাফার অভিনয়ের শুরুর দিনগুলোতে তাকে ঘিরে সমসমায়িক অভিনেতাদের নিয়ে রোমান্টিক সম্পর্কের গুঞ্জনের খবর বেরুতো পত্রিকার পাতায়। দর্শকদের মধ্যেও বিশেষ করে তাকে আর আফজাল হোসেনকে ঘিরে প্রেমের অনেক গল্প শোনা যেত। রাইসুল ইসলাম আসাদকে ঘিরেও ছিল এমন গুঞ্জন।
সুবর্ণা বলেন “আমি সবসময়ই এটা এনজয় করেছি। তখনও করেছি, এখনও। আমাকে, আফজাল এবং ফরিদী – তিনজনকে ত্রি-রতœ বলা হতো। আফজাল এবং আমার বন্ধুত্ব তো ছিলই। কেন বলবো যে ছিলনা? ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই আমরা একসাথে কাজ করেছি। শুধু টিভিতে আমাদের দেখা হতো, তা না। আমাদের ঢাকা থিয়েটারেও দেখা হতো”।
কিন্তু সেটা কি রোমান্টিক পরিণতির দিকে যাচ্ছিল? এ প্রশ্নের পরিস্কার কোনও জবাব মেলেনি। সুবর্ণা বলেন, “জানি না। আমাদের বয়স তখন ছিল খুবই কম। কাজ করতে গিয়ে প্রেম করতে হবে, এটা কি একটা ব্যাপার? আফজালের সাথে, নূর ভাইর সাথে আমার জনপ্রিয় অনেক নাটক আছে। ফরিদীর সাথে অনেক ভালো কাজ আছে। আফজালের সাথে বন্ধুত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সব বন্ধুত্বই ‘অত:পর তাহারা সুখে শান্তিতে ঘর-সংসার করিতে লাগিল’ তা নাও হতে পারে”।
তবে দর্শকরা যে সুবর্ণা-আফজাল জুটিকে অন্যভাবে দেখতো সেটা তিনিও অনুভব করেছেন। সেটা উপভোগও করতেন। সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, “দর্শক আমাদের একসাথে দেখতে পছন্দ করছে। দর্শক একটা রসায়ন পেয়েছে আমাদের জুটিকে ঘিরে। সিনেমায় যেমন উত্তম-সূচিত্রা, রাজ্জাক-কবরীকে ঘিরে দর্শক এমন ভেবেছে, তেমনি টেলিভিশনে তারা আমাদেরকে এভাবে দেখেছে”।
সুবর্ণা-আফজাল সম্পর্ক বিয়ের পরিণতিতে পৌছায় কিনাএ নিয়ে যখন জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই তেমনই সময় অনেকটা হঠাৎ করেই হুমায়ূন ফরিদী ও সুবর্ণা মুস্তাফা বিয়ে করেন। এরপর দীর্ঘ ২২ বছর তারা সংসার করেন। ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদের খবর সূবর্ণা মুস্তাফা নিজেই মিডিয়াকে জানান। এর পরপরই আলোচনা শুরু হয় তার দ্বিতীয় বিয়ের খবরে।
তবে সুবর্ণা মুস্তাফা মনে করেন, ভক্ত এবং দর্শকরা তার বিচ্ছেদ এবং নতুন বিয়ে নিয়ে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। দেখিয়েছে মিডিয়ায় তার কাছের লোকজনই। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিয়ের বিচ্ছেদ এবং পরে বয়সে ছোট, সিনেমা নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদকে বিয়ে প্রসঙ্গে নিজের সাথে কতটা বোঝাপড়া করতে হয়েছিল সেসময়? এমন প্রশ্নে এই অভিনেত্রী সোজাসাপ্টা জানান, “কোনও বোঝাপড়া করতে হয়নি। কারণ যখন সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আর ফরিদী একসাথে থাকবো না, থাকিনি। যখন সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আর সৌদ বিয়ে করবো, করেছি। এত দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ার বয়স তো অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। আমার ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই ব্যক্তিগত রাখতে পছন্দ করি।” একান্ত ব্যক্তি জীবন নিয়ে অন্যের আগ্রহকে তিনি গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তাই বলেন, “হুমায়ূন ফরিদী আর আমি যখন বিয়ে করেছি তখন তো দর্শকদের অনুরোধে করিনি। তাহলে বিচ্ছেদের সময় দর্শকদের অনুমতি নিতে হবে বা কাউকে স্যরি বলতে হবে কেন?”
আবার দশর্কদের কৌতুহলকেও তিনি সম্মান দেখিয়ে বলেন, “তবে হ্যাঁ একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে আমি জানি একধরনের কৌতুহল দর্শকদের থাকবেই। তাই চেষ্টা করেছি সম্পর্কগুলো সম্পর্কে ওপেন থাকতে”। “আমি নিজেই বিচ্ছেদ এবং দ্বিতীয় বিয়ের খবর মিডিয়াকে জানিয়েছি কারণ আমি তো প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে কিছু করছি না। আর দ্বিতীয় বিয়ে যে পৃথিবীতে এই প্রথম ঘটলো তা নয়, আর কণের চেয়ে বরের বয়স কম এটাও প্রথম ঘটনা নয়”।
ব্যক্তি জীবন নিয়ে সামাজিকভাবে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সেটা তার কথাতেও উঠে এসেছে। তবে সেসব তার কাছে গুরুত্বপুর্ণ মনে হয়নি। সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, “আমি এসব পাত্তা-টাত্তা দেইনা। আর হুমায়ূন ফরিদীর ডিভোর্সের পর আমাদের বিয়ে হয়েছিল। তখন যদি বিয়ের দু’বছর পর আমাদের বিচ্ছেদ হতো সেটা একটা কথা হতো। ২২ বছর একটি লম্বা সময়। ২২ বছর কোনও ফাজলামি না। ২২ বছর তো অনেকের আয়ুও হয়না। সুতরাং এটা নিয়ে আর কথা বলার কিছু আছে বলে মনে হয় না। তবে যেকোনো বিচ্ছেদই দু:খের অবশ্যই”। শেষপর্যন্ত হুমায়ুণ ফরিদীর সাথে তার দীর্ঘদিনের বিয়েটি টিকলো না কেন সে প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত। তবে তিনি বলেন, “পারস্পরিক সম্মান, বন্ধুত্ব বিয়েতে খুব জরুরি। ভালোবাসা কিন্তু থাকে। কিন্তু বন্ধুত্ব আর সম্মানের জায়গাটুকু যদি নড়বড়ে হয়ে যায় তখনই ওই বিয়ের আর কোনও মানে হয়না।” হুমায়ুন ফরিদী যেহেতু বেঁচে নেই তাই তার সম্পর্কে পাবলিক ফোরামে খুব বেশি কিছু বলতে চাননি সুবর্ণা মুস্তাফা।
শুধু বলেন, “এখন হুমায়ূন ফরিদীর কাজ নিয়ে কথা বলতে চাই, ব্যক্তি ফরিদী সম্পর্কে আমি খুব অল্পই বলবো যতটুকু বলতে চাই। কারণ তিনি তো নেই তার স্বপক্ষ সমর্থন করতে বা দ্বিমত প্রকাশ করতে। তাই তাকে নিয়ে কথা বলাটা অশোভন। তার সাথে ২২ বছর ছিলাম একসাথে। আর থাকার মত পরিস্থিতি ছিলনা, তাই ছিলাম না।”
তবে যে বিষয়টি আমাকে ভাবায়, “হুমায়ূন ফরিদীর মত এত বড় মাপের একজন অভিনেতা কেন মারা যাবে এত অল্প বয়সে?
ভবিষ্যত পরিকল্পনা : সুবর্ণা মুস্তাফা অভিনীত এবং তার স্বামী নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদের নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র সেন্সর থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। গ্রাম বাংলার জীবন-প্রকৃতি নিয়ে প্রেম-নির্ভর বাণিজিক্য এই সিনেমাটি দর্শকদের হলে টেনে আনতে পারবে এমনটাই তিনি বিশ্বাস করেন। ভবিষ্যতে তার নিজের চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান। জীবনের এত চড়াই-উতড়াই নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানান। অভিনয়ের বাইরে তিনি নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ থেকে এখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে এফএম রেডিওতে কাজ বেশ উপভোগ করছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest