সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যুসৌদি আরবের সাথে মিল রেখে সাতক্ষীরার ২৫ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ উল আযহাসাতক্ষীরায় অসহায় দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঈদ সম্মানি বিতরনআশাশুনিতে ইউএনও’র বাজার মনিটরিং : মোবাইল কোর্টে ২ হাজার টাকা জরিমানাম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কর্তনের প্রতিবাদ করে পুত্রসহ চেয়ারম্যান চাঁদাবাজি মামলার আসামী: উপজেলা জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদDigital Fairness in the Age of Big TechSoftware de Trading para Inversores en Españaসাতক্ষীরার দেবহাটায় ২৩৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারতালায় সড়ক দুর্ঘটনায় দাদা-নাতীর মৃত্যুতিন শতাধিক ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কর্তনের প্রতিবাদ করে পুত্রসহ চেয়ারম্যান চাঁদাবাজি মামলার আসামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই ইসরায়েলি পুলিশ নিহতের ঘটনায় গত সপ্তাহে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ বন্ধ করা দেয়ার পর থেকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে।
এর ধারাবাহিকতায় রামাল্লাহর ওয়েস্ট ব্যাংক ও হালামিশ এলাকায় ইসরায়েলি বসতিতে শনিবার ছুরি নিয়ে চালানো হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত ও একজন আহত হয়েছে।
১৪ জুলাই পুলিশ হত্যার ঘটনায় পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হামলাকারী তিনজনকে প্রথমে ইসরায়েলি আরব বলা হলেও পরে নিশ্চিত করা হয় তারা ফিলিস্তিনি। ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট এবং মুসলিমদের কাছে হারাম আল শরিফ নামে পরিচিত ওই স্থানটিতে হামলার পর কাছে থাকা আল-আকসা মসজিদ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ।
এর দু’দিন পর মসজিদ খুলে দিলেও ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ নতুন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায়। জায়গায় বসানো হয় মেটাল ডিটেক্টর। দশ উল্লেখযোগ্য ফিলিস্তিনি নেতাসহ বেশ কয়েকজন বড় বড় ফিলিস্তিনি ব্যক্তিত্বকেও আটক করা হয়।
অন্যদিকে মুসলিমদের মসজিদ প্রাঙ্গণের গেটের বাইরে নামায আদায় করতে বলা হয়। এরপরও মসজিদের ঢুকতে চাইলে কড়া তল্লাশি পেরিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আরোপিত অতিরিক্ত নিরাপত্তা বিষয়ক নিয়মকানুনের প্রতিবাদে ১৪ তারিখে শুরু হয় বিক্ষোভ। ফিলিস্তিনি মুসলিমরা মেটাল ডিটেক্টর পেরিয়ে মসজিদে ঢুকে নামায পড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে সব মেটাল ডিটেক্টর তুলে নিতে হবে।
কিন্তু ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সি শিন বেত মেটাল ডিটেক্টরগুলো সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিলেও স্থানীয় পুলিশ বলছে, এখনই সেগুলো সরানো যাবে না।
যুগযুগ ধরে ইহুদি-মুসলিম সবাই জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে পবিত্র স্থান হিসেবে দেখে এসেছে। দু’পক্ষই একে নিজের বলে দাবি করে, আবার দু’দলেরই সেখানে অবাধ বিচরণ।
এতদিন ধরে চলে আসা নিয়মে আল-আকসার ওপর মুসলিমদের আধিপত্য ছিল বেশি। তারা সেখানে নিয়মিত নামায আদায় করতে পারতেন। অন্যদিকে ইহুদিরা সবসময় মসজিদ প্রাঙ্গণে যেতে পারলেও সেখানে প্রার্থনা করার সুযোগ ছিল না তাদের।
১৪ জুলাই ইসরায়েলি পুলিশের ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় ১৯৬৯ সালের পর প্রথম মসজিদে জুমা’র নামায বাতিল করে মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়। এবং দু’দিন পর মেটাল ডিটেক্টর বসিয়ে তারপর খুলে দেয়া হয় আবার।
এ ঘটনাকে পবিত্র স্থানটির ওপর ইসরায়েলের অনধিকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনিরা। তার ফল হিসেবেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভে নামে তারা।
তবে ইসরায়েল এ ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার ওই ইস্যুতে চলা বিক্ষোভ এবং ইসরায়েলি পুলিশ-ফিলিস্তিনি সংঘর্ষের শেষ সময়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। আল-জাজিরা জানায়, এ ঘটনায় হামলাকারীকে গুলি চালিয়ে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল পুলিশ।
বিক্ষোভের ফল হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল না করে শুক্রবারই নতুন আরেকটি নিয়ম আরোপ করা হয়েছে আল-আকসা এলাকায়। ইসরায়েল এক ঘোষণায় জানিয়েছে, পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশগুলোকে সামনে রেখে ৫০ বছরের কম বয়সী কোনো মুসলিম পুরুষ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে সব বয়সী নারীরা ঢুকতে পারবেন।
এ ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিদের চলমান প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এক ব্যক্তি ও পুলিশের চালানো গুলিতে দু’জন এবং পরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে আরেকজন – মোট তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে বিভিন্ন এলাকায় আহত হয় আরও দেড় শতাধিক।
ওই ঘটনার পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরায়েলের সঙ্গে তার দেশের সবরকম যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার টেলিভিশনে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েল আল-আকসা মসজিদ এলাকায় বসানো মেটাল ডিটেক্টরগুলো সরিয়ে নিয়ে আগের ভারসাম্যমূলক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আগ পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে সব ধরণের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।
আল-জাজিরার ইসরায়েল প্রতিনিধি হ্যারি ফসেট বলেন, এটি মাহমুদ আব্বাসের পক্ষ থেকে অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। কেননা, এই ঘোষণার অর্থ হলো ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পারস্পরিক নিরাপত্তা সমঝোতার অবসান। এবং এটাই বেশিরভাগ ফিলিস্তিনির কাঙ্ক্ষিত।

আন্তর্জাতিক মহলের উৎকণ্ঠা :
আল-আকসা ইস্যুতে চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহল উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও লেবানন ভূখণ্ডের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েল ও জর্ডানের প্রতি পরিস্থিতি শান্ত করে দ্বন্দ্ব নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশে যে কোনো রকম বাধাই অগ্রহণযোগ্য। ‘আল-কুদ্‌স (জেরুজালেম) এবং আল-হারাম আল-শরীফের (আল-আকসা মসজিদ এলাকা) মুসলিম বৈশিষ্ট্য ও পবিত্রতা রক্ষা পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্যই জরুরি,’ বলেন তিনি।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এক বিবৃতিতে মসজিদ বন্ধ করা ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার এবং হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে চলমান জটিলতা মিটিয়ে দ্রুত আগের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জর্ডানের পক্ষ থেকেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান আল-সাফাদি জানিয়েছেন, সঙ্কটের অবসান করে শান্তি পুনর্প্রতিষ্ঠার জন্য তার দেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : ছোট্ট এক শিশুর আঁকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহার করে আলোচনার কেন্দ্রে আসা গাজী তারিক সালমন জানিয়েছেন, যত বাধাই আসুক না কেন আজীবন সৎ থেকেই তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, বর্তমানে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ২৮ বিসিএস-এর এ কর্মকর্তা স্বপ্ন দেখেন দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর এক বাংলাদেশের।

গাজী তারেক সালমন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানের একটি আমন্ত্রণপত্র প্রকাশ করেন। ওই আমন্ত্রণপত্রের পেছনের পাতায় পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া একজন শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপানো হয়।

ওই ছবিতে বঙ্গবন্ধুকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে মানহানী করা হয়েছে এমন অভিযোগে গত ৭ জুন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সালমনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু।

গত বুধবার ওই মামলায় জামিন চাইতে গেলে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট্র আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন প্রথমে তাকে কারাগারে পাঠান। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তাকে আবার জামিন দেন।

পারিবারিকভাবে অয়ন নামে পরিচিত সালমনকে নিয়ে এসব ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। এরই মধ্যে মামলার বাদী সাজুকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

সরল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত এ কর্মকর্তার জন্ম সাতক্ষীরায়। পিতা আব্দুর রহমান শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক ছিলেন। তিনি এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। এখনও পরিবার নিয়ে বসবাস করেন নিজ বাড়ি সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায়। গ্রামের বাড়ি দেবহাটার কোমরপুর গ্রামে।

তারিক সালমনের ডাক নাম অয়ন। ১৯৯৯ সালে যশোর জিলা স্কুল হতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি, ২০০১ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ২য় বিভাগ নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন। ছোট থেকেই চাইতেন বড় হয়ে একজন সাংবাদিক হবেন। এ জন্য বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে আগ্রহী ছিলেন না কখনোই। তবে বাব-মায়ের ইচ্ছাতেই তার বিজ্ঞান বিভাগে পড়া। আর অনিচ্ছা নিয়ে পড়ার কারণে ফলাফলও হয় না আশানুরূপ।

এইচএসসিতে দ্বিতীয় বিভাগ পাওয়ায় পড়া হয়নি মেডিকেল কলেজ বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপরও ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যান একধাপ। ছাপার অক্ষরে নিজের নামটা দেখতে খুব ভালবাসতেন তিনি। ছোটবেলা থেকে লেখালেখি করতেন বিভিন্ন পত্রিকার শিশু সাহিত্য পাতায়। তবে বাবা-মায়ের একান্ত অনুগত হিসেবে সালমনের পিতা-মাতা কখনোই চাইতেন না ছেলে সাংবাদিকতার মতো একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যাক। তাই বাবা মায়ের ইচ্ছেতেই ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে।

বইপাগল এই সরকারী কর্মকর্তা গল্প, উপন্যাস ও কবিতার বই পড়তে পছন্দ করেন। আর তাই ইংরেজি সাহিত্যের গল্প ও চরিত্রগুলোর সাথে খুব সহজেই পরিচিত হতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স -মাস্টার্সের ফলাফলে ছিলেন প্রথম পাঁচজনের মধ্যে। বাবা মো. আবদুর রহমান ছিলেন সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক । বাবা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তার ইচ্ছেতেই মূলত সালমনের বিসিএস-এ অংশ নেয়া। তবে সারাজীবন একাডেমিক পড়াশোনা খুব একটা না করলেও বিসিএস পরীক্ষার সময় পড়াশোনা করেছেন বিস্তর। সময় বেঁধে সিলেবাস ধরে পড়াশোনা করতেন। এপিয়ার্ড (অবতীর্ন) সার্টিফিকেটে অংশ নেন ২৮ তম বিসিএসে। যদিও পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় খুব একটা খুশি হতে পারেনননি সেসময়। এরই মাঝে প্রকাশিত হয় পরীক্ষার ফলাফল। সেখানে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয় তাকে।

অবশ্য সেদিন ফলাফল দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অয়ন। প্রশাসন ক্যাডারে নিজের রোল নম্বরটি দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান।

২৯ তম বিসিএসেও লিখিত পরীক্ষায় সফল হন এ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে যোগ দেন পিএটিসিতে। সেখানে যেয়ে প্রথম দিন একেবারে হতভম্ব হয়ে যান। কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মাঝে হাসফাস লাগতে শুরু করে। ‘পান থেকে চুন খসলেই করা হয় শো কজ । তবে মাস দেড়েকের মধ্যেই মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে যাই। ভাল লাগতে শুরু করে সবকিছু। সেসময় সকালটা শুরু হতো ভোর ৫ টায়। সকালে উঠে শরীরচর্চা করা। বিকেলে বাধ্যতামূলক খেলাধূলা করা, সময়মতো নামায পড়া, খাওয়া-দাওয়া করা একময় সবকিছুই ভাল লাগতে শুরু করে। একপর্যায়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে ট্রেনিং শেষ হয়ে গেলেও সেখান থেকে আসতে ইচ্ছা করে না।’

প্রশিক্ষণ শেষে যোগ দেন বরিশাল বিভাগে সহকারি কমিশনার হিসেবে। এরপর পটুয়াখালীতে ছিলেন, এসিল্যান্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে। ২০১৬ সালের আগস্টে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন বরিশালে আগৈলঝড়ায়। ২০১৭ সালের ৪ ঠা জুন যোগ দেন বরগুনা জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে।

তিনি জানান, সরকারী দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে বিভিন্ন সময় মুখোমুখি হতে হয়েছে ঝুঁকির। প্রতি পদে নিতে হয়েছে চ্যালেঞ্জ। অন্যান্য সরকারী চাকুরির মতো চাকুরিটা ৯টা-৫টার নয়। আর তাই সদা সচেষ্ট থাকেন দায়িত্ব পালনে। ফোন আসা মাত্রই ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেক্ষেত্রে গভীর রাতেও ছুটে যান দায়িত্ব পালনে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে গ্রামের মধ্যে স্বল্প সংখ্যক ফোর্স নিয়েও মাইলের পর মাইল হেঁটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অনেক চ্যালেঞ্জের বিষয়। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে অনেকসময় পড়তে হয় চাপের মুখে। প্রভাবশালীরা সেসময় জোর খাটানোর চেষ্টা করে। সবকিছুই মোকাবিলা করে চলেছেন সাহসিকতার সঙ্গে।

চাকুরিতে যোগদানের আগে এ সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা ছিল না তার। এখানে এসে দেখতে পান মানুষের জন্য কাজ করার বিস্তর সুযোগ। বিষয়টা অনেক উপভোগ করেন এ কর্মকর্তা।

মেধাবী এ কর্মকর্তার প্রিয় কাজ বই পড়া। পড়তে পছন্দ করেন অনেক বেশি। আর তাই বিদেশ ট্যুরে গিয়ে অন্যান্য ব্যাচমেটরা যখন শপিং এ ব্যস্ত তখন তাকে খুঁজে পাওয়া যায় বইয়ের দোকানে।

দুটো জাতীয় পুরস্কারও রয়েছে তার ঝুলিতে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগীতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। রচনা প্রতিযোগীতাতেও থানা ও জেলা পর্যায়ের প্রথম পুরস্কারটি বরাদ্দ থাকতো তার জন্যই। লেখালেখিতে সিদ্ধহস্ত এ কর্মকর্তা কবিতা লিখতে পছন্দ করেন। ‘সহজ প্রেমের কবিতা’ নামে তার একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে বইমেলায়। পছন্দ করেন শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে। আর তাই সুযোগ পেলে হাতছাড়া করেন না কখনোই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম. শাহীন গোলদার : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ৯৭ বোতল ফেন্সিডিল,২০পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার ও এসব মালামাল করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায় ,সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৭ জন,কলারোয়া থানা ০৪ জন,তালা থানা ০৪ জন,কালিগঞ্জ থানা ০২ জন,শ্যামনগর থানা ০৪ জন, আশাশুনি থানা ০৩ জন,দেবহাটা থানা ০১ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সুস্থ থাকতে গেলে পুষ্টিকর খাবার যেমন খেতে হবে, তেমনি পর্যাপ্ত ঘুমও প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। অনিদ্রার জন্য দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ যেমন দায়ী, তেমন দায়ী কিছু খাবারও। অর্থাৎ এমন কিছু খাবার রয়েছে যা রাতে ঘুমানোর আগে খেলে ঘুম নষ্ট করে। জেনে নিন তেমনই কয়েকটি খাবারের কথা।

১। ক্যাফেইন সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। যার ফলে মস্তিষ্ক সজাগ থেকে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কফি খেলে তার প্রভাব দীর্ঘ সময় থাকে। ফলে ঘুম দেরীতে আসে।

২। নানা অনুষ্ঠানে বা পার্টিতে গেলে উপায় নেই। তবে চেষ্টা করবেন রাতে বেশি মশলাদার খাবার না খেতে। এগুলো পেটে গিয়ে অস্বস্তি তৈরি করে অনিদ্রা ডেকে আনে।

৩। রেড মিটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট ও প্রোটিন। যার ফলে হজম হতে প্রচুর সময় লাগে। ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। প্রয়োজনে দুপুরে খেয়ে নিন। যাতে হজমের জন্য অনেকটা সময় দিতে পারেন।

৪। বার্গার বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাবার হিসেবে সকলের প্রিয় হলেও ডিনারে এসব না খাওয়াই শ্রেয়। এতে থাকা বেশি মাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট হজম হতে প্রচুর সময় নেয় ও ঘুমের দফারফা করে দেয়।

৫। মন ভালো করতে চকোলেটের জুড়ি নেই। আরো অনেক গুণ রয়েছে চকোলেটের। তবে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে চকোলেট খেলে ঘুম ভালো হয় না।

৬। আইসক্রিম খেতে সকলেই ভালোবাসেন। এটি খাওয়ার কথা বললে কারো আর সময়ের খেয়াল থাকে না। তবে ডিনারের পরে আইসক্রিম খেলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণে চিনি ও ফ্যাট ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

৭। ফল খাওয়া সবসময়ই ভালো তবে ঘুমোতে যাওয়ার আগে নয়। ফলের মধ্যে থাকা শর্করা উপাদান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজের নাবালিকা মেয়েদের এক স্বঘোষিত গডম্যানের কাছে যৌনদাসী হিসেবে পাঠিয়েছেন এক বাবা-মা। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের পেনিন সেলভেনিয়ায়।

নাবালিকাদের জোর করে আটকে রাখা ও ধর্ষণের অভিযোগে গত বছরই ওই গডম্যানকে গ্রেফতার করা হয়। চলতি বছর আগস্টে তার সাজা ঘোষণা করা হবে।

আর অভিযুক্ত দম্পতি ড্যানিয়েল এবং স্যাভিলা স্টোলজফাসকে সাত বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বাকস কাউন্টি আদালত।

পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচ বছর আগে নিজেদের সম্পত্তি বাঁচাতে বিত্তশালী প্রতিবেশি লি কাপলানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন পেনসিলভানিয়ার ওই দম্পতি। এলাকায় কাপলান নিজেকে গডম্যান বলে পরিচিতি দিয়েছিলেন। আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাপলান তাদের কাছে এক অদ্ভূত শর্ত রাখেন। শর্তটি হল তাদের ছয় মেয়েকেই কাপলানের হাতে তুলে দিতে হবে।

এই শর্তে রাজি হয়ে প্রথমে নিজেদের বড় মেয়েকে ৫২ বছরের কাপলানকে ‘উপহার’ দেন ওই দম্পতি। মেয়েটির বয়স তখন তেরো। একে একে বাকি নয় মেয়েকেও পাঠিয়ে দেওয়া হয় কাপলানের ফিয়েসটার ভিলার বাড়িতে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নাবালিকাদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে ধর্ষণ করেছেন ওই গডম্যান।

ধরা পড়ার পর, পুলিশের কাছে ছয়জনকেই নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। এদের প্রত্যেককেই বেসমেন্টে আটকে রাখা হত। বেসমেন্ট থেকে ওই মেয়েদের উদ্ধার করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সামনে শ্রীলঙ্কার ভারত সিরিজ। তার আগে আচমকা দলটির বোলিং কোচের পদ ছেড়ে দিয়েছেন চম্পকা রামানায়েকে। ক্রিকবাজ জানাচ্ছে, বিসিবির হাই-পারফরম্যান্স ক্যাম্পের পরামর্শক হিসেবে যোগ দিতে নিজ দেশের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাইরে যারা আছেন, তাদের নিয়ে কাজ করবেন চম্পকা।

এই পরিস্থিতিতে চামিন্ডা ভাসকে অনুরোধ করে দায়িত্ব দিয়েছে ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা।

বিসিবির সঙ্গে আগেও কাজ করেছেন চম্পকা রামানায়েকে। ২০১৫ সালে যোগ দেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের সঙ্গে।

সম্প্রতি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট। বোর্ডের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে প্রধান কোচ গ্রাহাম ফোর্ড পদত্যাগ করেন। এবার গেলেন বোলিং কোচ।

ভাস শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল পেসার। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মালিঙ্গাদের সঙ্গে ছিলেন। এরপর স্বল্প মেয়াদে আয়ারল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের সামনে এক মঞ্চে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন তিনি। ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ভৌগলিকভাবে বাংলার সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের সীমান্ত। দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

 তিনি আরও বলেন, আপনাদের কারণে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। আর ফল ভোগ করছে বাংলা। আমরা কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চাই না। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চাই।

হিন্দুত্ব কখনও উগ্র হতে পারে না। উগ্ররা আসল হিন্দু নয়। নকল হিন্দুদের থেকে সাংবাদিকদের সাবধান থাকারও অাহ্বান করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি ছড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উস্কানিম‍ূলক প্রচারণা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ রুখে দাঁড়ান। দরকার হলে পুলিশের নজরে আনুন। তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেবে। আমরাও নজর রাখছি।

কোনোভাবেই বাংলায় সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেব না। আমি ফেসবুককে সম্মান করি, ফেকবুক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পাঁচ মাস বয়সী একটি বাছুরকে ঘিরে কম্বোডিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। শত শত লোকজন সেখানকার উত্তর-পূর্বাংশের প্রদেশ ক্রাতির এক গ্রামে বাছুরটিকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।

কারণ ৭৪ বছরের খজম হাং নামে এক নারী দাবি করে বসেন আছেন, তার স্বামী ওই বাছুর রূপে পুনরায় জন্ম নিয়েছেন। বছরখানেক আগে মারা যাওয়া টোল খাট যে ধরনের আচরণ করতেন, তার সঙ্গে ওই বাছুরের আচরণের নাকি মিল পেয়েছেন তিনি।

কম্বোডিয়ার ৯৫ শতাংশ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মৃত্যুর পর মানুষের পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন তারা। এই পুনর্জন্ম বিভিন্নভাবে হতে পারে। অল্পদিন পরে কিংবা দেরিতে আবার মানুষ কিংবা অন্য যে কোনো প্রাণীর রূপ নিয়ে ফিরে আসতে পারে। সেই হিসেবে সেখানকার অনেকেই ঘটনাটি বিশ্বাস করছেন।

খজম হাংয়ের দাবি, বাছুরটি অাসলেই তার স্বামী। বেঁচে থাকতে তার স্বামী যা যা করত, বাছুরটি সেই কাজগুলোই করছে। তবে বাছুরটির কী ধরনের কাজে স্বামীর কাজের সঙ্গে মিল পেয়েছেন সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

গত মার্চে জন্ম নেয়া বাছুরটিকে নিয়মিত গোসল করানো হচ্ছে, যত্ন সহকারে খাওয়ানো হচ্ছে, টোল খাটের ঘুমানোর বিছানায় বাছুরটিকে শুইয়ে দেয়া হচ্ছে।

এভাবেই যত্ন-আত্তি করে আমৃত্যু বাড়িতে রেখে দেয়ার কথাও বলেন খজম হাং। বাড়িতে এভাবে বাছুরের খাতির যত্ন অার স্বামী হিসেবে দাবি করার একটি ভিডিও ফেসবুকে দেখেছেন তরুণী থাচ ভিন।

তিনি বলেন, আমি ভাবতাম এভাবে বাড়ির ভিতর বাছুর পুষে রাখা অসম্ভব। সেই ধারণা থেকেই ওই বাড়িতে যাওয়া। সেখানে গিয়ে তো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখলাম।

সূত্র : রয়টার্স

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest