সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভাকলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক- সম্পাদক ফারুকীসাতক্ষীরা সদরের ৫ নং শিবপুর ইউনিয়নে কৃষক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিতশ্যামনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ আলমের ব্যানার কেটে নষ্ট করার অভিযোগসাতক্ষীরা- খুলনা মহাসড়কের আঠারো মাইলে ঝরলো ৬ প্রাণতালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, নিন্দা সাংবাদিকদেরইছামতীতে নেই সেই মিলনমেলা : শান্তিতেই শেষ দেবহাটার বিজয়া দশমীদেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতি

একদিন কারাবাসের পর আজ বুধবার বিকেলে খুলনা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়ল।

এদিকে সাংবাদিক লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা নিয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশ সুপারকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. দিদার আহমেদ।

আবদুল লতিফ মোড়ল খুলনা শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি। সেই সঙ্গে তিনি dalitvoice24.com-এর প্রতিনিধি। আর তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী সুব্রত কুমার ফৌজদার যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন-এর ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।

সাংবাদিক ফৌজদার গত ৩১ জুলাই আবদুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। গভীর রাতে ডুমুরিয়া থানার পুলিশ লতিফের বাসায় গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। আজ বুধবার ১০ হাজার টাকা জামিননামায় পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত খুলনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুসরাত জাবিন তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি খুলনা কারাগারে থেকে মুক্তি পান। এই সময় তাঁর সহকর্মী, সন্তান ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর গলায় ফুলের মালা পরানো হয়।

বাদী সুব্রতর সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার বাদী সুব্রত কুমার ফৌজদারের সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার পাশাপাশি নিজেকে জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে দৈনিক জনকণ্ঠের খুলনা ব্যুরোপ্রধান অমল সাহা জানান, সুব্রত তাঁদের কোনো সাংবাদিক নন। ডুমুরিয়ায় তাঁদের কোনো প্রতিনিধি নেই। সুব্রতর ফেসবুক আইডিতে জনকণ্ঠের পরিচয় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এদিকে যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন কর্তৃপক্ষ আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আগ বাড়িয়ে ৫৭ ধারায় সুব্রত কুমার ফৌজদারের মামলা করার ঘটনায় বিব্রত। স্পন্দন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সিকদার খালিদ হোসেন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় বিব্রত হয়েছি। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি সুব্রত কুমার ফৌজদারের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগুতে চাই। তাঁকে প্রাথমিকভাবে শোকজ করব আমরা।’

কারণ হিসেবে সম্পাদক সিকদার খালিদ হোসেন বলেন, ‘দৈনিক স্পন্দনের নাম পদবি ব্যবহার করে পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কেন তিনি এই গর্হিত কাজ করলেন সে জন্য তাঁকে তিনদিনের মধ্যে জবাব চেয়ে শোকজ করা হবে।’

এ ব্যাপারে আজ বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সুব্রত কুমার ফৌজদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলেননি। পরে খুদেবার্তা দিয়ে কল করলেও তিনি কথা বলেননি।

ডুমুরিয়ার ওসি প্রত্যাহার
গত ৩০ জুলাই একটি অনলাইন গণমাধ্যম ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে দেওয়া ছাগল রাতে মৃত্যু’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে। খবরে প্রতিমন্ত্রীর একটি ছবি ছিল। খবরে বলা হয়েছিল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ২৯ জুলাই শনিবার সকালে ডুমুরিয়ায় দুঃস্থদের মাঝে ছাগল, হাঁস ও মুরগি বিতরণ করেন। তবে ওই দিন রাতেই একটি ছাগলের মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে, রোগাক্রান্ত ছাগল হওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে। এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ ছাগল, হাঁস ও মুরগি বিতরণ করে।

ওই খবরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দর বক্তব্য ছাপা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সুস্থ ও সবল ছাগল, হাঁস, মুরগি ক্রয় করতে।’ ছাগল মারা যাওয়ার ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ওই সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন সাংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়ল। আর শেয়ার করার সময় তিনি টাইমলাইনে লেখেন, ‘খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দায়িত্বহীনতা…’।

অথচ মামলার বাদী সুব্রত কুমার ফৌজদার বিষয়টি না বুঝে তাঁর বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা ঠুকে দেন। এজাহারে তিনি বলেন, আসামি ইচ্ছেকৃতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে দেওয়া ছাগল রাতে মৃত্যু’ শিরোনামের খবরে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ফাইল ছবি আসামির ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেছে। আসামি আবদুল লতিফ মোড়ল মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ফাইল ছবি সামাজিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদা হানি করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট/ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে সরবরাহ করেছে।’

মামলার বাদী সাংবাদিক সুব্রত কুমার ফৌজদার এজাহারের সঙ্গে ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে দেয়া ছাগল রাতে মৃত্যু’ শিরোনামে সংবাদের প্রিন্টকপি ও ফেসবুকে শেয়ার করা আসামির পোস্টের স্ক্রিনশটের কপি যুক্ত করেন।

এজাহারে থাকা সংবাদের প্রিন্টকপিতে দেখা যায়, সংবাদে প্রতিমন্ত্রীর একটি পুরোনো ছবি দেওয়া আছে। একই ছবি সাংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়লের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা পোস্টেও আছে। অর্থাৎ তিনি নিজে থেকে প্রতিমন্ত্রীর কোনো ছবি যুক্ত করেননি।

মামলার বাদী এজাহারে সংশ্লিষ্ট সংবাদ ও ফেসবুকে শেয়ার করা আসামির পোস্টের স্ক্রিনশটের কপি যুক্ত করলেও ডুমুরিয়া থানার পুলিশ তা যাচাই-বাছাই বা প্রাথমিক তদন্ত না করেই এজাহার গ্রহণ করে এবং গভীর রাতে বাসায় গিয়ে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে।

সাংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়লের মেয়ে মেহনাজ রেজা মিম্মা গতকাল বিবিসি বাংলাকে টেলিফোনে বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে আমার আব্বুকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ছিল, আমাদের ডুমুরিয়া থানার ওসি ছিল, আরো ২০ থেকে ৩০ জনের মতো মানুষ এসেছিল। দেয়াল টপকে তারা ঢোকে। তারা আমার রুমেও জোরে জোরে নক করে। আমি জানতে চাই ওনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। তখন আমাকে বাজেভাবে বলা হয়, কোথায় নিয়ে যাচ্ছি সেটা আপনার মায়ের কাছ থেকে জেনে নিয়েন।’

মেহনাজ রেজা মিম্মা আজ বুধবার খুলনার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বাবার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। তাঁর বাবার কোনো দোষ ছিল না। তিনি শুধু একটি নিউজ শেয়ার করেছিলেন।

মামলার বিষয়ে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস আজ প্রত্যাহারের আগে মুঠোফোনে জানান, ৩১ জুলাই মামলা করার দিন কয়েকজন সাংবাদিক দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বসে ছিলেন। সে কারণে মামলা নিতে হয়েছে। তবে ওপরের কোনো চাপ ছিল না।

ওসি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। তাই বাদী সুব্রত ফৌজদার যদি ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে আইনমতো বাদীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তারের সময় বাড়াবাড়ির বিষয়টি ওসি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে শুধু ফেসবুকে সংবাদ শেয়ার করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেপ্তার নিয়ে আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার নিজামউদ্দিন জানান, ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাসকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হবে। ডুমুরিয়ার ওসি হিসেবে পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল খালেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. দিদার আহমেদ বলেন, ‘আমি খুলনার পুলিশ সুপারকে বলেছি, ডুমুরিয়ার ওসি সুকুমার বিশ্বাসের কর্মকাণ্ড তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

জিন-ভূত তাড়ানোর নামে তরুণীদের সঙ্গে পর্নো ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে গ্রেফতার ‘ভণ্ডপীর’ আহসান হাবিব পিয়ারের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে তাকে আদালতে হাজির করে খিলগাঁও থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা।

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেফতার করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেসন্স বিভাগ থেকে জানানো হয়, আহসান হাবিব পিয়ার দাওরায়ে হাদিসে পড়াশোনা করেছেন। নিজেকে এএইচপি টিভির সাংবাদিক বলে পরিচয় দিতেন এবং নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ধর্মের কথা বলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

সম্প্রতি সে নিজেকে পীর দাবি করে জিন তাড়ানোর কথা বলে মেয়েদের নির্যাতন করত বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় মেয়েদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌন উত্তেজক কথা বলে এবং পরে এদের অনেককে নিজ বাসায় এনে ব্ল্যাকমেইল করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত।

এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, পীর দাবি করা ভণ্ড হুজুর মেয়েদের সঙ্গে যৌনকর্ম করার সময় ভিডিও করে তা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করত। পরে সুযোগ মতো ভিডিওর কথা বলে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা আদায় করত।

তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইনের ৫৭ ধারায় মামলা রুজু করার আগে পুলিশ সদর দপ্তরের আইন শাখার সঙ্গে আইনগত পরামর্শ নিতে হবে।

আজ বুধবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ওই নির্দেশ দেন। তাঁর স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় চারটি বিষয়ের দিকে লক্ষ রাখতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ‘আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনয়ন এবং নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিতকল্পে এ ধারায় (৫৭ ধারা) মামলা রুজুর পূর্বে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অনুসরণ করতে হবে।

ক. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০১৩-এর ৫৭ ধারায় সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্তে মামলা রুজুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

খ. অভিযোগ সম্পর্কে কোনোরূপ সন্দেহের উদ্রেক হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি এন্ট্রি করে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে যাচাই বাছাই করতে হবে।

গ. মামলা রুজুর আগে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আইন শাখার সঙ্গে আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

ঘ. কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

নিদের্শনার শুরুতে বলা হয়, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০১৩-এর ৫৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধ সংঘটন সংক্রান্তে মামলার রুজুর বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে। কতিপয় ক্ষেত্রে বিভিন্ন থানায় এ ধারায় রুজুকৃত মামলার ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না এ মর্মে অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে।’

সম্প্রতি এ ধারায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার আসামিদের মধ্যে সাংবাদিকদের সংখ্যাই বেশি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা শহরের রাজারবাগান এলাকায় এঘটনা ঘটে। ১৭ জুলাই দুপুরে এঘটনায় ৩ জন আটক হলেও ২ জন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
অপহৃতের পিতা আনন্দ কর্মকার জানান, তাদের বাড়ি শহরের রাজারবাগান এলাকায়। তার কন্যা সঞ্চিতা কর্মকার দোলা(১৪) সাতক্ষীরা নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। সঞ্চিতা প্রতিদিন পায়ে হেটে স্কুলে যাতায়াত করতো। এদিকে আমার কন্যার উপর কু’নজর পড়ে ধুলিহর গোবিন্দপুর এলাকার দেবেন দাসের ছেলে সবুজ দাসের। সবুজ তার কন্যার যাতায়াতের সময় তার পথ আটকিয়ে উত্যক্ত ও কু প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু তার কন্যা সবুজের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১৭ জুলাই স্কুল বের হওয়ার পর সবুজ কৌশলে সঞ্চিতাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে তার মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। মেয়ের সন্ধান পেতে তিনি ২৬ জুলাই গোবিন্দপুর এলাকার দেবেন দাসের ছেলে সবুজ দাস, মৃত পাগল দাসের ছেলে দেবেন দাস, দেবেন দাসের স্ত্রী কনিকা দাস ও মৃত বৈদ্যনাথের ছেলে সুফল দাসের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এঘটনায় পুলিশ সুফল দাস, কনিকা দাস ও দেবেন দাসকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। কিন্তু আদালতের মাধ্য সুফল দাস ও কনিকা দাস জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে ঘটনার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও সঞ্চিতার কোন সন্ধান পায়নি তার পরিবার। অথচ আসামিরা জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। এঘটনায় অবিলম্বে দোষীদের তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপহৃত কন্যার সন্ধান পেতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আনন্দ কর্মকার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

তোষিকে কাইফু/তরিকুল ইসলাম লাভলু : উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় চিরসবুজ-শ্যামলীর দেশ বাংলাদেশ। অর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। উন্নয়নে দেশ যে এগিয়ে চলেছে তা গ্রামের মানুষের অর্থ-সামাজিক অবস্থা দেখলে বুঝা যায়। আমাদের দেশ ইতিমধ্যে নি¤œ আয়ের দেশের গ্লানি ঘুচিয়ে নিয়ে মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার গতি শুরু হয়েছে। খানজিয়া বাজার উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হক।
বুধবার বিকাল ৪ টায় কালিগঞ্জ উপজেলায় খানজিয়া বাজারে এলজিইডি কর্তৃক খানজিয়া বাজার উন্নয়ন শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলহাজ্জ অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক এমপি।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মাঈন উদ্দীন হাসান, কালিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ লস্কর জায়াদুল হক, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য এস.এম আসাদুর রহমান সেলিম, যুবলীগের কালিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জিএম সাইফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের নলতা ইউনিয়ন সভাপতি ফিরোজ শাহরিয়ার, সাংবাদিক তোষিকে কাইফু, জাহিদ হাসান, আ’লীগ নেতা শমসের আলীসহ আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতা-নেতৃবৃন্দ।
এসময় ডা. রুহুল হক এমপি শোকের মাস আগস্টের তাৎপর্য ও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কর্মকা- জনগণের মাঝে তুলে ধরেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার আশাশুনির একটি মিষ্টির দোকান থেকে ঘুষের টাকা নেয়ার সময় কাস্টমসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে দিয়েছে। বুধবার বিকাল চার টার দিকে উপজেলা সদরের স্বপন মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ গ্রহনকালে তাকে আটক করা হয়। আটক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার নাম আহছান উল্লাহ (৪০)। তিনি শেরপুর জেলার চরশ্রীপুর গ্রামের মৃত এনায়েত উল্লাহ’র ছেলে এবং সাতক্ষীরা কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
আশাশুনি থানার এস.আই আব্দুর রাজ্জাক জানান, উপজেলা সদরের স্বপন মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ গ্রহনকালে স্থানীয় জনতা সাতক্ষীরা কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আহছান উল্লাহকে হাতে নাতে আটক করে। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি নিজেকে সাতক্ষীরা কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করেন। তবে, ওই রাজস্ব কর্মকর্তা এভাবে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন বলে জানা গেছে।
তিনি আরো জানান, উর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আটক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিজিবির (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ) উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলার নীলডুমুরস্থ ১৭ বিজিবি ব্যাটেলিয়ন সদর দফতরে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ১৭ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এনামুল আরিফ সুমন। উক্ত অনুষ্ঠানে এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-এর সকল জুনিয়র কর্মকর্তা, পদবীধারী ও তালিকাভূক্ত সদস্য এবং স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, উক্ত কর্মসূচী’র মাধ্যমে ১ হাজার ৭’শ টি গাছের চারা রোপণ ও ১ লাখ ৩৪ হাজার পিচ মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ব্যাটালিয়ন সদরসহ তার অধীনস্থ ১৬টি বিওপি ও ১ টি বিশেষ ক্যাম্পের সকল সদস্য জনপ্রতি দুটি করে ফলজ, বনজ, ভেষজ ও ঔষধী গাছের চারা রোপণ করবেন এবং স্থানীয় পুকুর ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পরিমান মৎস্যপোনা অবমুক্ত করবেন।
প্রধান অতিথি এ সময় বলেন, উক্ত বৃক্ষরোপণ অভিযান ও মৎস্যপোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন নীলডুমুর-এর আওতাধীন সমগ্র সীমান্ত ব্যপী বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য চাষের বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর এসএমএস পাঠিয়ে নারী নেতাদের হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন তারই দলের এক সাবেক নারী সাংসদ। রাগে ক্ষোভে দল থেকে পদত্যাগও করেছেন ওই নেত্রী।

আয়েশা গুলালাই নামের ওই আইনপ্রণেতা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের নৃতাত্ত্বিক অঞ্চলের প্রতিনিধি। বুধবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি অভিযোগ করেন, পিটিআই-এর সঙ্গে যুক্ত নারীদের সম্মান নিরাপদে নেই।

সংবাদ সম্মেলনে দল থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে আমার সততার মূল্য সবচেয়ে বেশি। নিজের সম্মান এবং মর্যাদার ব্যাপারে আমি কোনো আপোষ করতে রাজি নই।’

ওই সংবাদ সম্মেলনেই আয়েশা দলের নারী নেতাকর্মীদের কাছে ইমরান ‘অশ্লীল’ মেসেজ পাঠান বলে উল্লেখ করে বলেন, তার কাছেও এ ধরণের এসএমএস এসেছে। সাংবাদিকদের সেগুলো দেখাতে অস্বীকৃতি জানালেও তিনি বলেন, মেসেজগুলোর বক্তব্য এতটাই জঘন্য যে কারও পক্ষেই সেগুলো সহ্য করা সম্ভব না।

ক্ষুব্ধ আয়েশা গুলালাই বলেন, ইমরান খানের মানসিক সমস্যা রয়েছে। নিজের চেয়ে ভালো যে কাউকে তিনি ঈর্ষা করেন।

এছাড়াও আয়েশা খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পিটিআই সরকার এবং সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাতকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজ প্রদেশে ‘মাফিয়া বসের মতো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest