সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনসাতক্ষীরায় মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল খাতে জ্ঞান বিনিময়-কৌশলগত সহযোগিতার সেমিনারসাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীলতায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালাশ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে দৌড়ে অংশ নিল ২ শতাধিক মানুষসাতক্ষীরায় হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’র উদ্বোধনসাতক্ষীরায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা প্রেস ব্রিফিংচ্যানেল ওয়ান এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক জাকিরপ্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজের জমির শ্রীবৃদ্ধির জন্য দুই ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ!সুনামগঞ্জ ৪ উপজেলায় বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু, আহত ৭

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : শত ব্যস্ততার মাঝেও বিটিভির জেলা প্রতিনিধির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। জানালেন সমবেদনা আর সান্তনা। এ সময় তিনি মরহুম মলুদা খাতুনের পরিবারকে সান্তনা দেন। সাতক্ষীরায় বিটিভির জেলা প্রতিনিধির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর মাতা মলুদা খাতুনের শোকাহত পরিবারের খোঁজ নিতে এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাতে বুধবার সকালে পুরতন সাতক্ষীরাস্থ মরহুমের বাস-ভবনে যান সাংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। মলুদা খাতুন মঙ্গলবার রাতে বার্ধ্যক্য জনিত কারণে নিজস্ব বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি ৫ পুত্র সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের মরদেহ বুধবার বাদ জোহর দারুস সালাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাযা শেষে শহরের কামালনগর সরকারি গোরস্থানে দাফন করা হয়।
সাংসদ রবি বিটিভির জেলা প্রতিনিধির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর মাতা মলুদা খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এসময় জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, জেলা শ্রমিকলীগ নেতা শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু, জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এড. শাহনওয়াজ পারভীন মিলি, সৈয়দ নাজমুল হক বকুল ও জেলা তাঁতীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইব্রাহীম হোসেনসহ মরহুমের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তিনি শোকাহত পরিবারকে সান্তনা দেন ও সমবেদনা জানান। বেশ কিছু সময় পরিবারের সদস্যদের পাশে কাটিয়ে বাসায় ফেরেন এমপি রবি। আগামী শুক্রবার বাদ জুমআ নিজস্ব বাসভবনে মরহুমের বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

গাজী আল ইমরান : মঙ্গলবার বিকালে শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী গ্রামের আনারুল ইসলামের শিশু কন্যা(০৫)কে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মজিদ গাজীর বখাটে পুত্র জাহিদুল (২২) এর বিরুদ্ধে।
শিশুটির পিতা এ প্রতিবেদকের কাছে বলেন ‘আমার কন্যা খেলা করতে বাড়ির বাইরে খেলতে গেলে জাহিদুল আমার কন্যাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের করে। কিছুক্ষণ পরে আমার মেয়ের সাথে থাকা একই বয়সের একটি মেয়ে জাহিদুল কেন এরকম করছে জানতে চাইলে সে আমার মেয়েকে ছেড়ে দেয়। আমার শিশু কন্যা কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসার পর আমি তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছি। তিনি আরো বলেন আমার মেয়ে শারিরীকভাবে ভীষণ জখম হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি শ্যামনগর হাতপাতালে ভর্তি আছে।
তার পিতা আরও বলেন, “আমি জাহিদুলের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”
শ্যামনগর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটি শারীরিকভাবে জখম হয়েছে তবে মেডিকেল পরীক্ষার পরেই সবকিছুই বলা যাবে।
মামলার বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল মান্নান আলী জানান, “ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে একটি দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে আমরা শিশুটির পিতা বাদি হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশ নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় ১৬৯ পিচ ইয়াবা ও ২৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১১ জন, কলারোয়া থানা ০৩ জন, তালা থানা ০২ জন,কালিগঞ্জ থানা ০২ জন, শ্যামনগর থানা ০৭ জন, আশাশুনি থানা ০৪ জন, দেবহাটা থানা ০২ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অবাক হওয়ার মতো কথা হলেও, এই বিশ্বাস কিংবা কুসংস্কারটি কিন্তু এখনও বহু মানুষদের মধ্যে পাওয়া যায়৷ এবং এর জন্য ওঝারাই দায়ি, বলছেন ওয়াকিবহাল মহল৷

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় গত মাসে ১৮ বছর বয়সি শঙ্করী মাহাতোকে কুকুরে কামড়েছিল৷ কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে শঙ্করী যায় পাশের গ্রামের এক ওঝার কাছে৷

সে গ্রামের ৭০ বছর বয়সি ওঝা বুদ্ধেশ্বর সিং মেয়েটিকে জড়িবুটি মেশানো দই-চিঁড়ে খেতে দেন এবং বলেন যে, ঐ খেলেই তাঁর আর কুকুরের কামড় থেকে কোনো অসুখবিসুখ করবে না৷ খবর ডয়চে ভেলের।

শঙ্করী মাহাতোর বক্তব্য: ‘‘আমরা জানি, কুকুরে কামড়ালে মানুষের পেটে কুকুরের বাচ্চা হয়৷ তা থেকেই জলাতঙ্ক ঘটে আর মানুষ মরে যায়৷ ওঝা যে ওষুধ দিয়েছে, তার জন্যেই আমি বেঁচে গেছি৷”

শঙ্করীর মা মালতী মাহাতো জানান যে, তাঁকেও বছর আটেক আগে কুকুরে কামড়েছিল এবং তিনি বুদ্ধেশ্বর সিং-এর ওষুধ খেয়ে সেরে ওঠেন৷

ডাক্তারি শাস্ত্রে নিরক্ষর, সরল মানুষজনের এই অদ্ভুত বিশ্বাসটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাপি প্রেগন্যান্সি সিনড্রোম’ বা পিপিএস অর্থাৎ ‘পেটে কুকুরের বাচ্চা রোগ’৷

পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় ইত্যাদি রাজ্যে হাজার হাজার মানুষ এই আজগুবি রোগের কথা বিশ্বাস করেন৷

মনস্তত্ত্ববিদ কুমার কান্তি ঘোষ প্রায় দু’দশক ধরে পিপিএস নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ তিনি বলেন, আসলে এই কুসংস্কারের পিছনে রয়েছে গণ-হিস্টিরিয়া৷

মালদা সরকারি হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের প্রধান ড. ঘোষ বলেন, তাঁদের হাসপাতালে তাঁরা একাধিকবার পিপিএস-এর ঘটনা দেখেছেন৷ পেট পরীক্ষা করে কিছুই না পাওয়া যাবার পর রোগীদের মানসিক চিকিৎসার জন্য তাঁর বিভাগে পাঠাতে হয়েছে৷

ওঝা বুদ্ধেশ্বর সিং কোনোদিন স্কুল-পাঠশালার মুখ দেখেননি৷ তিনি বলেন, ‘‘কুকুরে কামড়ানোর হপ্তা দুয়েক বাদে পেটে কুকুরের বাচ্চা জন্ম নেয়৷ তারা নাকি পেটের মধ্যেই লাফালাফি, দৌড়োদৌড়ি করে – আর তাদের সঙ্গে রোগীও ছটফট করে৷ জল দেখলে রোগী তাতে ঐ কুকুরের বাচ্চাদের মুখ দেখে৷ তারপর নিজেই চারদিকে ছুটোছুটি করে পাগলা কুকুরের মতো ডাকতে ডাকতে মারা যায়৷”

কুকুরে কামড়ানোর সাত দিনের মধ্যে বুদ্ধেশ্বর সিংয়ের ওষুধ খেলে আর নাকি কুকুরের বাচ্চা জন্মাতে পারে না, আর জন্মালেও ওঝার ওষুধের গুণে সেসব বাচ্চা মারা যায়, রোগীও প্রাণে বেঁচে থাকে৷

এখন প্রশ্ন হলো, নিরক্ষরতা আর কুসংস্কারের কোনো ভালো ওষুধ ডাক্তারদের জানা আছে কিনা৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কেএম রেজাউল করিম: দেবহাটার ৫ নারীর কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। বর্তমানে তারা সমাজের অন্য মানুষের মত সুখে শান্তিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে বসবাস করছে। অধিক পরিশ্রম আর প্রচেষ্টা নিজেদের উন্নয়ন ঘটানোর কাহিনি জানিয়েছেন উপজেলার ৫ নারী।

কঠোর পরিশ্রমী সালমার ব্যবসায় সফলতা
উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী সালমা খাতুন। তিনি একজন পরিশ্রমী ব্যক্তি। কঠোর পরিশ্রমে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। সফলতার কথা জানিয়ে সালমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি শয্যাশয়ী। তার উপার্জন বন্ধ থাকায় পরিবার একেবারে অচল হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়ে আমি সংসারের হাল ধরার জন্য কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে আমার কাপড়ের ব্যবসার লভ্যংশদিয়ে সংসার পরিচালনা করছি। এমনকি আমাদের জমির উপর ৩টি পাকা ঘর নির্মান করেছি। যার মধ্যে ২টি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে আমার দোকান ও ভাড়া ঘর থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে অনেক ভাল জীবন যাপন করছি। আমার ২ সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সমাজে আমার গ্রহণ যোগ্যতা বেড়েছে।

বে-সরকারি চাকরিতে ভাগ্য ফিরেছে ঝরনার
উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামের তুষার রায়ের স্ত্রী ঝরনা রায়। তিনি এইচ,এস,সি পাশ। সফলতার কথা জানিয়ে ঝরনা রায় বলেন, আমার সংসারে ৬জন সদস্য। আমার স্বামী একজন দিনমুজুর। সে অন্যের জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চিংড়ি চাষ শুরু করে। কিন্তু ভাইরাসে সব মাছ মারা যায়। সে কারনে অঅমার স্বামী ঋনের চাপে হতাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তারপক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারনে আমি সংষারে দায়িত্ব গ্রহন করি। আমি বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাকের একটা ছোট চাকুরীতে যোগদান করি। সেই চাকুরীর উপর নির্ভর করে সংসার চালানো, স্বামীর ঋনের টাকা পরিশোধ, ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখা চালাতে থাকি। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুখে দিন কাটছে। আমার মেয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ছেলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ছে।

একজন রতœগর্ভ মা ফতেমা
দেবহাটার রতœগর্ভা মা ফতেমা। সে উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের আব্দুর রহিম মোড়লের স্ত্রী। সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার নিভৃতে পল্লীতে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন ফতেমা খাতুন। তিনি ছিলেন সমাজ সচেতন, শিক্ষানুরাগী এবং আতœপ্রত্যায়ী। নিজে নিরক্ষর হয়েও শিক্ষার প্রতি ছিলেন অদ্যম অনুরাগী। কোন প্রতিকুলতায় তাকে হার মানাতে পারেনি। তার ছিল ৭ ছেলে ২ মেয়ে। স্বামী ছিলেন অন্যর ঘেরের সামান্য বেতনের কর্মচারী। সে কারনে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করতেন ফতেমা। এই উৎস্য থেকে উৎপাদিত অর্থ দিয়ে ছেলে-মেয়েদের খাতা-কলম কিনে দিতেন। একই বই পর্যাক্রমে সবাই পড়ত। তার সন্তানেরা ৫ম, ৮ম, এসএসসি তে মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে উচ্চ শিক্ষায় সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে ৩জন বিসিএস পাশ করেছেন। ৭ ছেলেরা হল ফারুক হোসেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, কামরুল ইসলাম খুলনা মেট্রোপলিটনের সহকারী কমিশনার, ডাঃ শরিফুল ইসলাম (এফসিপিএস) কনসালটেন্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, আরিফুল ইসলাম চাপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র সরকারী সিনিয়র কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, খায়রুল ইসলাম পলিটেকনিক ইঞ্জিনিয়ার, রফিকুল এম কম পাশ মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক, তরিকুল ইসলাম দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। মেয়েরা হলেন আয়েশা খাতুন বিএ (অনার্স) পাশ এবং আফরোজা খাতুন এম এ পাশ। বর্তমানে তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে সুখী সমৃদ্ধিশালী জীবনযাপন করছেন।

তাহেরা এখন স্বাবলম্বী
উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা গ্রামের শেখ সুরাত আলীর স্ত্রী উম্মে তাহেরা(উষা) স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাহেরা জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য শারিরিক নির্যাতন করত। পিতা গরীব হওয়ায় যৌতুক দিতে না পারায় নির্যতনের মাত্রা বেড়ে যায়। দিনের পর দিন নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন তাহেরা। সে জন্য
স্বামী তাকে বৈধ তালাক দেয়। সে সময় পাশে দাঁড়ানোর মত কেউই ছিল না। নিরাপত্তার কারনে ২য় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েও কোন আশার আলো দেখা মেলেনি। বাধ্য হয়ে নিজের একান্ত প্রচেষ্টায় বাড়িতে হাঁস-মুরগী ও গাভী পালন করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। বর্তমান তাহেরার এক কন্যা সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স এবং অপরজন ১ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। পূর্বের তুলনায় সংসারে অনেক উন্নয়ন হয়েছে তার। বেড়েছে সমাজের গ্রহণ যোগ্যতাও।

সংগ্রাম করে চলছে খাদিজার জীবনযাত্রা
উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা পারভীন। সংগ্রাম করে চলছে যার জীবন সংগ্রাম। নিজের ভাগ্যর পরিবর্তন ঘটতাতে প্রথমে সার্স (এনজিও)তে জনসংগঠক হিসাবে দর্জি বিজ্ঞান স্কুলের ট্রেনার হিসাবে কাজ শুরু করে সে। তারপর প্রগতি সমবায় ঋনদান সমিতিতে মাঠ কর্মী হিসাবে কাজ করে খাদিজা। একই সাথে উত্তরণের সফল প্রকল্পের নিউট্রিশন পাটে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে ব্লাডপ্রেশার মাপাযন্ত্র, ডায়বেটিক্স পরীক্ষা মেশিন, ওজন মাপক যন্ত্র অছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়া কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্য সেবার উপর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ধর্ষণের কোন দেশকাল নেই। সুযোগ পেলেই ধর্ষকেরা শিশু, কিশোরী কিংবা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার মায়ের কোলের এক শিশুকে ধর্ষণ করে বেধড়ক লাটিপেটা খেয়েছেন এক ধর্ষক।

ধর্ষণের শিকার সেই শিশুটিকে কোলে করেই তার মা এবং গ্রামের অন্যান্য নারীরা ধর্ষককে বেঁধে ইচ্ছামতো লাঠিপেটা করেছেন। পরে আধমরা অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতে এবং এটির ভিডিওক্লিপ লাইভলিকে প্রচারিত হয়েছে। ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত দৈনিক `সংবাদ প্রতিদিন`। ঘটনার ভিডিও দিয়ে নিউজটি করা হলেও ঘটনার স্থল এবং কবে ঘটনাটি ঘটেছে, উল্লেখ করা হয়নি। তবে এলাকাটিকে পাহাড়ি এলাকা বলে মনে হয়েছে।

ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, ধর্ষক বাঁধা অবস্থায় মাঠে পড়ে রয়েছেন। আর তাকে ঘিরে রেখেছেন গ্রামের নারীরা। একজন একজন করে এগিয়ে আসছেন আর ধর্ষককে লাঠিপেটা করছেন। শেষমেশ আধমরা অবস্থায় স্থানীয় পুলিশ ধর্ষককে উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেই ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন-

https://www.youtube.com/watch?v=WdnC5DZOx1U

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঢালকানগর এলাকায় একটি টিনসেট বাসায় গ্যাস পাইপ লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের সাতজন দগ্ধ হয়েছে। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। আজ ৫ জুলাই ভোর সোয়া ৪টার দিকে ঢালকানগর ৫৭/বি নম্বর টিনসেট বাসায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন, আলেয়া বেগম (৬৫), শাহীদা বেগম (৪৫), শাহনাজ (৩৫), আলী আকবর (৫০), শরিফা (১৩), শরিফুল ইসলাম (৩৫) ও শুভ (৮)। দগ্ধ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

প্রতিবেশী জনি জানান, ভোরে ওই টিনসেট বাসায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলো। দুই রুমের ওই বাসার মধ্য দিয়ে গ্যাসের পাইপ লাইন লাগানো ছিল। গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণে তারা সবাই দগ্ধ হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। ঘটনার পরপরই তাদেরকে উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে এসেছি।

বার্ণ ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, বিস্ফোরণে তাদের শরীর যথাক্রমে ৩৩, ২৫, ৯, ২৫, ২, ৪৫ ও ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তারা সবাই চিকিৎসাধীন আছে বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিশ্বের যেসব দেশে বাল্যবিয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।
তাই বলা যেতে পারে, দেশে বাল্যবিয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিজের বিয়ে ভাঙতে হাত কেটে ফেলার কথা এর আগে শোনা যায়নি।
তবে এমনই একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন বিথী আক্তার। আর ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে।
ওই গ্রামেরই একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিথী আক্তার, বয়স ১৫ বছর।
পড়াশোনা করতে আগ্রহী বিথীর অমতেই তার পরিবার এক বাস ড্রাইভারের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে।
অল্প বয়সে বিয়ে করা ঠিক নয়, এই বিষয়টি তিনি বাবা-মাকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে অনেকটা নিরুপায় হয়েই বিথী সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করার।
“বয়স কম, ক্লাস নাইনে পড়ি । জোর করে বিয়ে দিতে চাইছিল ড্রাইভারের সঙ্গে”- উপজেলার সবচেয়ে বড় কর্মকর্তাকে ফোন করার কারণ ব্যাখ্যা করে বলছিলেন বিথী আক্তার।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসারউদ্দিন জানান হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে তার কাছে বিথী নামের ওই কিশোরীটি ফোন করে।
“মেয়েটা আস্তে আস্তে বলছিল আপনি কি বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পারবেন? আমি তখন বললাম পারবোনা কেন। মেয়েটি জানায় যে তারই বিয়ে ভাঙতে হবে। পরদিন বৃহস্পতিবারেই বিয়ে”। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ জুন মাসের ২৯ তারিখে বিথীর গ্রামে যান উপজেলার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদেরকে সহযোগিতা করতে হাজির হন এলাকার কিছু মানুষ।
এরা সবাই বিথীদের বাড়িতে গিয়ে দেখেন যে সেখানে পারিবারিকভাবে বিয়ের সব প্রস্তুতি চলছে।
কিন্তু বিথীর বাবা বেল্লালকে যখন বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে বলা হয়, তখন তিনি এক নাটকীয় মুহুর্ত তৈরি করেন বলে জানান আবু নাসারউদ্দিন।

বিয়ে নিয়ে নাটকীয়তা :
“আমরা যাওয়ার কিছু পর পুলিশও আসলো। তাদের অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলাম। অনেক পরে আসলো মেয়ের বাবা বেল্লাল। মেয়েকে বয়সের আগেই বিয়ে দিচ্ছেন কেন, এটা জানতে চেয়ে মেয়েটিকে ডেকে আনতে বললে তিনি এমন এক মেয়েকে এনে বসালেন, যাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছিল বয়স একটু বেশি” – বলছিলেন নাসারউদ্দিন।
বিথী ওই কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ক্লাস নাইনে পড়েন। কিন্তু যে মেয়েকে তার বাবা কর্মকর্তাদের সামনে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি মেট্রিক পাশ করেছেন এমনটা জানার পর সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের।
এরপর প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায় নিজের মেয়ের পরিবর্তে অন্য আরেকজনকে বসিয়ে দিয়েছেন বিথীর বাবা।
আবু নাসারউদ্দিন বলছিলেন “আমি যখন বললাম আপনি মেয়ের পরিবর্তে নিজের বোনকে বসিয়ে দিয়েছেন, এটা কি ঠিক হলো? এমন সময় ফিক করে হেসে দেন বেল্লাল। অনেক পরে বিথীকে সবার সামনে নিয়ে আসেন তার বাবা”।
“এই মেয়েকে দেখলে আপনার অনেক খারাপ লাগবে যে এমন বাচ্চা মেয়েটাকে এক ড্রাইভারের সাথে বিয়ে দেয়ার চিন্তা করেছে তার পরিবার”- বলেন তিনি।
মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে, বিয়ের বয়স হয়নি, ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেয়া ঠিক নয় – এসব কথা বলে অনেক বুঝানো হয় বিথীর পরিবারকে।
“মেয়ের বাবা বলেন যে বিয়ে উপলক্ষে অনেক খরচ হয়ে গেছে, গরীব মানুষ। তখন বলি যে পরে যখন মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হবে বিয়ের সব খরচ আমি দেখবো, তবু এই বিয়েটা বন্ধ করেন”-বলেন নাসারউদ্দিন।
তিনি জানান, বিথীর বাবার কাছ থেকে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে যে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের দিবেন না।
টেলিফোনে ছেলের বাড়িকে নিষেধ করে, পড়ালেখার সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন কর্মকর্তারা।

তাহলে কেন বিথীকে নিজের হাত কাটতে হলো?
বিথীকে জোর করে তার পরিবার বিয়ে দেবে না, এই আশ্বাস পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পুলিশের দল যখন বিথীদের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তার পরিবার আবারো তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিথী কান্নাকাটি করার পরও তার মা জোর করে তার বিয়ে দিতে চাইছিলেন।
এমনকি বিথীকে মারধোরও করে তার মা – প্রতিবেশী ও উপজেলার তথ্য কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন।
যদিও বিথীর কথায়, “মা হালকা দুই-একটা থাপ্পর মারছে”।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিথীর ফোলা চোখের পাশে তিনি আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।
বিয়ে নিয়ে মা-মেয়ের বাকবিতন্ডার মধ্যে এক পর্যায়ে উঠানে থাকা বটি মেয়ের দিকে ছুঁড়ে মারে তার মা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে নাসারউদ্দিন বলেন, ওই সময় বিথী বটিটি নিয়ে বলে যে “আমিই নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি, বলে বাম হাতে কোপ মারে”।
বিবিসির সাথে আলাপকালে একধরনের জড়তা নিয়েই বিথী বলছিলেন “মা বকাঝকা দিছে। কিছু করতে পারছিলাম না। তাই নিজের হাত নিজেই কাটছি। রাগের মাথায় কাজটা করছি”।
বটি দিয়ে কোপ দেয়ার কারণে হাতের তিনটি রগ কেটেছে বিথীর। তবে হাতের ব্যান্ডেজ নিয়েই তিনি এখন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার বিথী নিজের হাত কাটলেও খবরটা তিনি পেয়েছেন রোববার, অর্থাৎ ২রা জুলাই।
“বিথী স্কুলে গেছে কি-না তা জানতে শনিবার ওর স্কুলে ফোন দেই। হেডমাস্টার জানায় যে ঘরে আত্মীয়স্বজন আছে তাদের বিদায় দিলো, এজন্য সে আসেনি। এরপর রোববার ফোন দিয়ে যখন জানলাম যে আসেনি, তখন সন্দেহ জাগে মেয়েকে বিয়ে দিল কি-না”।
এরপর আবার বিথীদের বাড়ি গিয়ে ও তথ্য কর্মকর্তার সাহায্যে পুরো ঘটনা জানতে পারেন তিনি।
এবারে নিজের হাত কেটে বাল্যবিয়ে রুখলো বিথী। কিন্তু আবারো যদি পরিবার তাকে চাপ দেয় তাহলে সে কী করবে?
“আর এমন করতে পারবে না বাবা-মা। বিয়ে দিতে চাইলে স্যারের কাছে শুনেই সেটা করবো”-বলেন বিথী।
ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছার কথাও জানালেন বিথী আক্তার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest