সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনসাতক্ষীরায় মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল খাতে জ্ঞান বিনিময়-কৌশলগত সহযোগিতার সেমিনারসাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীলতায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালাশ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে দৌড়ে অংশ নিল ২ শতাধিক মানুষসাতক্ষীরায় হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’র উদ্বোধনসাতক্ষীরায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা প্রেস ব্রিফিংচ্যানেল ওয়ান এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক জাকিরপ্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজের জমির শ্রীবৃদ্ধির জন্য দুই ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ!সুনামগঞ্জ ৪ উপজেলায় বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু, আহত ৭

সরকারকে বিব্রত করতেই কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয়েছিল। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘সরকারকে বিব্রত করতেই আমাকে চোখ বেঁধে অপহরণ করা হয়েছিল। কে বা কারা অপহরণ করেছিল, আমি তাদের চিনি না।’
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টায় ১৯ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ থাকা ফরহাদ মজহারকে আদালতে নেয়া হয়। এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়া যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের খাস কামরায় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। একই আদালতে ‘নিজ জিম্মায়’ যাওয়ার আবেদনের ওপরও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে বিচারক মো. আহসান হাবিব ফরহাদ মজহারকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি নিজ জিম্মায় যেতে চান? ‘হ্যাঁ’ বোধক সম্মতি জানালে আদালত ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে বলেন, সোমবার ভোরে আমি ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হই। পথিমধ্যে কে বা কারা আমাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এ সময় তারা আমার চোখ বেঁধে ফেলে। আমি তাদের কাউকে চিনতে পারিনি। তারা কতজন ছিল তাও সঠিক জানি না। অপহরণের পর তারা আমার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেনি। আমি নিজেই মুক্তি পাওয়ার জন্য তাদের টাকার অফার করি। এরপর টাকার জন্য বাসায় ফোন করি। তবে তারা আমার কাছ থেকে টাকা না নিয়েই ছেড়ে দেয়।
ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় সোমবার রাতে স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪। এর আগে তিনি জিডি করেছিলেন। জিডি নং- ১০১।
ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার এবং পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের পর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার আমাদের জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধরে চোখ বেঁধে একটি সাদা মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়।’
তিনি স্বেচ্ছায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, না কি ফোন করে তাকে বাসার বাইরে আনা হয়েছিল- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি (ফরহাদ মজহার) আমাদের জানিয়েছেন, ওষুধ কেনার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হন। তাকে কেউ ফোন করেননি। বাসা থেকে বের হওয়ার পরই তাকে জোর করে অপহরণ করা হয়।’
স্ত্রীর দায়ের করা ‘অপহরণ’ মামলা প্রসঙ্গে আব্দুল বাতেন বলেন, অপহরণ মামলার বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
ডিবির এ কর্মকর্তা আরও জানান, নিখোঁজের পর উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত- পুরো বিষয়টি জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এ কারণে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নেয়া হচ্ছে।
সোমবার রাতে যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে নেয়া হয় আদাবর থানায়। সেখান থেকে তেজগাঁওয়ের ডিসি কার্যালয়ে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করতে পরে তাকে নেয়া হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে।
সোমবার ফরহাদ মজহার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আদাবর থানায় এ সংক্রান্ত একটি অপহরণ মামলা হয়েছে বলে ডিসি বিপ্লব জানালেও পরিবার দাবি, তারা এখনও কোনো মামলা দায়ের করেননি। শুধু লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সোমবার ভোরে শ্যামলীর রিং রোড ১ নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রীকে মোবাইলে ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়বার ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে মোবাইল ট্রাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাংলাদেশের সুন্দরবন ‘ন্যাচারাল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বা বিশ্ব এতিহ্যের মার্যাদা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনকে মর্যাদার তালিকায় রাখতে সরকার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটিকে কোনোক্রমেই যাতে বিশ্ব এতিহ্যের মর্যাদা থেকে বাদ দেয়া না হয় সে জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের কাউন্সিলের সভায়।

মঙ্গলবার থেকে এই সভা ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে শুরু হয়েছে। সভা শেষ হবে আগামী ১২ জুলাই। এই সভায় সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য থেকে বাদ দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ১৩ সদদ্যের একটি প্রতিনিধি দল এখন পোল্যাল্ডে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের ৪০টি পরিবেশবাদী সংগঠন সুন্দরবনকে বিশ্বের ঐতিহ্যির মর্যাদা থেকে বাদ দেয়ার জন্য খোলা চিঠি দিয়েছে ইউনেস্কোর ওয়াল্ড হেরিটেজ সেন্টারের কাছে। তারা চিঠিটি আমলে নিয়েছে। এটি ওই বৈঠকের আলোচনার সূচিতে রয়েছে।

চিঠিতে তারা বলেছে, সুন্দরবনের পাশে বাংলাদেশ সরকার ও ভারত মিলে রামপালে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। যেটি করলে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এছাড়া বনের ভেতর দিয়ে কয়লা ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এগুলোর কারণেও সুন্দরবনের ক্ষতি হচ্ছে। বনের ভেতরের বিভিন্ন নদীতে মাঝে মধ্যেই তেল, কয়লা ও সারবাহী ট্যাঙ্কার ডুবে বনের জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এগুলোর পেছনে সরকারের নিবর ভূমিকা রয়েছে। যে কারণে তারা সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

কাউন্সিলের ৪১তম বার্ষিক সভার প্রস্তুতি বৈঠক শুরু হয়েছে ২ জুলাই থেকে। ৩ জুলাই তা শেষ হয়েছে। আজ (৪ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে মূল বৈঠক। এ সভায় সুন্দরবন নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে যাতে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত না হয় সে জন্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন। বৈঠকে সুন্দরবন নিয়ে কোনো নেতিবাচক আলোচনা হতে থাকলে তারা এর বিপরীতে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরবে।

এর আগে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কাউন্সিলের ৩৯ ও ৪০তম বার্ষিক সভায় রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

সূত্রে জানা গেছে, গেল বছর রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ উল্লেখ করে কাউন্সিল। এই প্রকল্প বাতিল করে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সরকারের প্রতি লিখিত আহ্বান জানায় ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার। এরপর সরকারের তরফ থেকে জবাব পাঠানো হয়। পরে ইউনেস্কোর একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে যায়। ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পাঁচ মাস পর সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠায় সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বা ইআইএ করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে। কিন্তু ওই ইআইএ আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। তাতে সঠিক চিত্র উঠে আসেনি। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সেখানকার ইকো সিস্টেমের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইউনেস্কোর এমন মনোভাবের কারণে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কাউন্সিলের ৪১তম বার্ষিক সভাটি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কাউন্সিলে অংশ নিতে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রদিনিধি দল।

বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল ও বন-সংলগ্ন এলাকায়  দূষণকারী শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে এ আশঙ্কা করছে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র ।

জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো সরকারকে ২০১৪ সালের ১১ জুলাই চিঠি দিয়ে বলেছিল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় এই বনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হলে বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান হারাবে সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে সুন্দরবন নাম লেখাবে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায়।

এছাড়া সুন্দরবন রক্ষায় কী উদ্যোগ নেয়া হবে তা উল্লেখ করে ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন চাইলেও কোনো উত্তর পায়নি ইউনেসকো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : বহমান নদীকে মৃত দেখিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের কুলতলিতে কাকশিয়ালি নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে দেবেন না স্থানীয় জনগণ। তারা বলেন একশ্রেণির সুবিধাভোগী মানুষের স্বার্থে এ সাঁকো তৈরি হলে তা নদীকে যেমন অচল করে তুলবে তেমনি নদীর দুই প্রান্তের মানুষের একমাত্র ব্যবসা চিংড়ি ঘের মার খাবে। মঙ্গলবার সকালে কালিগঞ্জের কুলতলি খেয়াঘাটে আহুত এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, তার ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত গোবিন্দকাটি, ঘোজা, টোনা, বাঁশদহ ও বেড়াখালি গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কাকশিয়ালী নদী। খরস্রোতা এ নদীর গোবিন্দকাটি বড়িবাঁধের পাশে রয়েছে কুলতলী খেয়াঘাট। এ খেয়াঘাটটি জেলা পরিষদের কাছ থেকে বাংলা ১৪২৪ সালের পহেলা বৈশাখ হতে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি শেখ আব্দুল মান্নান। এ খেয়াঘাটের উত্তর-পূর্ব পাশে উজিরপূর ত্রিমোহিনী নামকস্থানে একটি স্যাঁকো নির্মাণ করে আশাশুনি, কালিগঞ্জ সদর ও সাতক্ষীরার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য এলাকাবাসি দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলো। অথচ সেখানে স্যাঁকো নির্মাণ না করে গত ২০ জুন কাকশিয়ালী নদীকে মজা (মৃতপ্রায়) দেখিয়ে কুলতলী খেয়াঘাটে ইজারাগ্রহীতা শেখ আব্দুল মান্নানকে জনস্বার্থ বিরোধী ৩০ হাজার টাকার বাঁশের স্যাঁকো তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এএনএম মঈনুল ইসলাম। অনুমোদনপত্রে বাঁশের স্যাঁকো নির্মাণে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তার লোকজন বিরোধিতা করেছেন বলে উলে¬খ রয়েছে। এরপরও গত রোববার থেকে কুলতলী খেয়াঘাটে বাঁশের স্যাঁকো তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় সঁকো তৈরি হলে চিংড়ির জন্য প্রয়োজনীয় লোনা পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। পুরো মৎস্য চাষই মার খাবে। এছাড়া সচল নদী হয়ে পড়বে অচল ও প্রবাহহীন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর এক পত্রে বলা হয়, কুলতলি খেয়াঘাটটি চলতি বছরের পয়লা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত সাতক্ষীরার রসুলপুরের আবদুল মান্নানের নামে একসনা ইজারা দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন করে তিনি আবেদন করে বলেছেন যে নদী মজে যাওয়ার কারণে খেয়া পারাপার বিঘিœত হচ্ছে। ফলে সেখানে খেয়া তুলে দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলে জানসাধারণ উপকৃত হবেন। এজন্য ওই নদীতে একই ব্যক্তিকে সাঁকো তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আনম ময়নুল ইসলাম তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
তবে স্থানীয়রা বলেন, কাকশিয়ালি নদী সচল। নিয়মিত জোয়ারভাটা খেলে এ নদীতে। বাঁশের সাাঁকো দিয়ে নদীর গতিপথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। যে কোনো মূল্যে আমরা তা প্রতিহত করবো বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক বিভাস সরকার, শিবপদ সরকার, পশুপতি সরকার, মাখন লাল সরকার, তারালি ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, দিলীপ সরকার, গৌর চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ। তারা বলেন জনগনের চোখে ধুলো দিয়ে প্রবহমান নদীকে মৃত দেখিয়ে এই সাঁকো তৈরি হচ্ছে। তবে সাঁকো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন তিনি কোনো সাঁকো তৈরি করছেন না। সাঁকো তৈরি করছেন এলাকার শ্রীদাম বিশ্বাস ও রবিউল ইসলাম। জানতে চাইলে শ্রীদাম বিশ্বাস বলেন আমি দৈনিক ৩২০ টাকার পারিশ্রমিকে কাজ করি মাত্র। নদীর বাঁশের সাঁকো তৈরি করছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নান। কাগজপত্র সবই তার নামে। তিনি বলেন সাঁকো নির্মান কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। এ আবেদন দিয়েছেন সাঁকো নির্মাতা আবদুল মান্নান। কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন খান জানান, তিনি জেলা পরিষদ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার পর শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন জানান, বিষয়টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আশাশুনি ব্যুরো: পুরাতন কমিটিতে নাশকতা কর্মকা-ে দুই আসামি মোশারফ ঢালি ও আবুল কালাম সহ সকল সদস্যকে বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠণের দাবিতে আশাশুনির বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মানববন্ধন পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্র-ছাত্রীরা, অভিভাবক, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামীলীগ, যুবলীগসহ শতশত এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হাকিম মোড়লের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, আনুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন। বিশেষ অতিথি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোক্তার আলী মোড়ল, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ রশিদুল আলম, আব্দুস সামাদ সানা, হাকিম গাজী। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য জিয়ারুল ইসলাম, শওকত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আনন্দ কুমার দাশ, আলমগীর হোসেন, শাহবুদ্দীন প্রমুখ। এসময় প্রধান অতিথি বলেন, বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন মুক্তিযোদ্ধা চেতনায় পরিচালনা হয়ে আসছিল। কিন্তু ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারির পর এলাকায় যারা রাস্তায় বেরিগেট, অগ্নিসংযোগ সহ নাশকতা মূলককর্মকা- চালিয়ে ছিল তারা সে সময় স্বাধীনতা বিরোধীর পক্ষে একটি কমিটি দাঁড় করায়। এই কমিটির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জজকোটে ১৯/১৪ নং মামলা হলেও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ভূয়া কমিটি দেখিয়ে বিদ্যালয়টি ধ্বংস করতে চায়। আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধ ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এক সাথে প্রতিহত করব।
বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এম আব্দুল্যাহ জানান, আমার স্বাক্ষর জাল করে যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে নাশকতার দুই আসামির নাম রেখে একটি নতুন কমিটি জমা দেন সাবেক প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হলে আমিসহ অভিভাবক সদস্য মোক্তার হোসেন, মোক্তার সরদার, শিক্ষক প্রতিনিধি শান্তি রঞ্জন ও বিকাশ চন্দ্র মন্ডল পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি। পুণরায় এডক কমিটির মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য যথাযত কর্র্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জের মৌতলা ইউনিয়নে ভিজিএফ’র গম বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং রশিদ বিহীন হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আদায়ের ঘটনায় ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন ৬৫ জন ভুক্তভোগী দুঃস্থ ব্যক্তি। সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে প্রদত্ত গম মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে গত শনিবার সকাল থেকে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ শুরু হয়। শুরু থেকেই নির্দ্ধারিত ১৩ কেজি’র স্থলে ১১ থেকে ১২ কেজি গম বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। গম বিতরণকালে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অজ্ঞাত কারণে সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। আবার গম প্রদানের আগে কিছু কার্ডধারী ব্যক্তির নিকট থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ৫০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হয়। কিছু ব্যক্তিকে পিছনের তারিখ দেখিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ প্রদান করা হলেও অনেকের নিকট থেকে টাকা আদায় করে রশিদ দেয়া হয়নি। দ:স্থ অসহায় ব্যক্তিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের গম ওজনে কম দিয়ে আত্মসাত এবং রশিদ বিহীন হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দরিদ্র ব্যক্তিবর্গ।
এব্যাপারে জানার জন্য মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর মুঠোফোনে (০১৭১১২৫১১১১) একাধিক বার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কালিগঞ্জ ব্যুরো : কালিগঞ্জÑশ্যামনগর (আংশিক) সাতক্ষীরা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীতাবাদী দল (বিএনপি) শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ দলীয় মনোয়নের প্রত্যাশায় কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। মঙ্গলবার দুপুরে নলতার খানবাহাদুর আহছানউল্লার মাজার জিয়ারত শেষে মাজার শরীফের খাদেম মৌলভী আনছার উদ্দিনের সাথে মতবিনিময়কালে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে দোয়া প্রার্থনা করেন। এসয়ম তার সফর সঙ্গী ছিলেন শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক খান আব্দুস সবুর, উপজেলা ছাত্র দলের দপ্তর সম্পাদক গাজি জহিরুল ইসলাম, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি‘র সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মোহাম্মাদ আলী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ লুৎফার রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু, ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান মনি ও যুবনেতা মনিরুল ইসলাম মনি প্রমুখ। সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে মৌতলা ও শ্যামনগর বিএনপির নেতা কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা মতবিনিময় করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় বিটিভির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর মাতা মলুদা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা -০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। শোক বার্তার তিনি বলেন, “মঙ্গলবার রাতে বার্ধ্যক্য জনিত কারণে তিনি নিজস্ব বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠক জীবদ্দশায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক হিসাবে সমাজ পরিবর্তনের ও দূর্ণীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিপ্লবী আদর্শের বীর সৈনিক রুপে স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ ও জীবনাচরণে সকলকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করবে। ৭১’র অকুতোভয় বীর সেনানী মোড়ল আব্দুস সালাম জন্ম গ্রহন করেন ১৯৪৮ খ্রিঃ ১লা এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামে। তার পিতার নাম হাজী আবুল কাশেম মোড়ল, মাতা আশাফুন্নেছা বেগম। ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোট বেলায় তাঁর বাবা মা ও গ্রামবাসী আদর করে তাকে ডাকতো বাচা। লেখাপড়ার হাতে খড়ি কৃষ্ণকাটি প্রাইমারী স্কুলে। এর পরবর্তীতে ভর্তি হন কপিলমুণি সহচরী বিদ্যামন্দিরে। এই স্কুলে লেখাপড়ার সময় ১৯৬২ সালে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের আন্দোলন ও ধর্মঘট পালনের মধ্যে দিয়েই মূলতঃ রাজনীতিতে হাতে খড়ি মোড়ল আব্দুস সালাম মোড়লের। তিনি ১৯৬৪ সালে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাবার আন্দোলন, স্কুলের নির্বাচিত মণিটর এবং ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ঐ স্কুল থেকে ২য় বিভাগে মেট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন। উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে ভর্তি হন বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দৌলতপুর ব্রজলাল (বি,এল কলেজ) মহাবিদ্যালয়ে এবং ১৯৬৬ সালে দৌলতপুর কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে এখান থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বাগেরহাটে আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র (পি,সি কলেজ) মহাবিদ্যালয়ে ¯œাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন। সে সময়ে দেশে রাজনীতি তুঙ্গে, তিনিও সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত পর পর দু’বার বাগেরহাট মহাকুমায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী সরকার বিরোধী গণআন্দোলনে ক্যাম্পাস থেকে গ্রেফতার হন এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারী সরকার আন্দোলন মুখে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। ঐ একই বছর তৎকালীণ পাকিস্তানের মন্ত্রী খান এ সবুর তার রাজনৈতিক সফরে তালায় এসে পরবর্তীতে কৃষ্ণকাটি হাইস্কুল পরিদর্শনে যান। এই সময় সবুর খানের আগমনের প্রতিবাদে পাড়া থেকে ছেড়া জুতা সংগ্রহ করে কৃষ্ণকাটি রাস্তায় রাস্তায় জুতার মালা টাঙ্গিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
তিনি ১৯৭০ খ্রিঃ ৭ই ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগের জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য নিরুপনে ছাত্রলীগ আহুত কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের ঢাকা বলাকা ভবনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় যোগ দেন। সভায় স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তৎকালীণ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক স্বপন কুমার চৌধুরীর প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক নির্দেশনা পথ বেছে নেন। ১৯৭০ খ্রিঃ ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসকে বাংলাদেশ দিবস হিসাবে পালনের কর্মসূচীতে তৎকালীণ পাইকগাছা, আশাশুনি, বড়দল, রাড়–লী, কপিলমুণি, খুলনা ও সাতক্ষীরার ব্যাপক এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করেন তিনি। কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নির্দেশনায় ২৬ শে মার্চ আশাশুনির খড়িহাটির জনসভা বাতিল করে সাতক্ষীরা সদরে পৌঁছে ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান, কামরুল, আজিবর, ময়না, জজভাই, মাসুদা, কামরুজ্জামান, এনামূল, দেলোয়ার হোসেন দুলু, মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি, দুই খসরু, কাজল, হাবলু, গোলাম, সুভাষ সরকার, সাইদুর রহমানসহ সাতক্ষীরার ছাত্রনেতাদের প্রয়োজনীয় কাজের প্রস্তুতিকে নির্দেশনা প্রদান করেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ১৯৭১ সালের ২৯ শে মার্চ সাতক্ষীরার তৎকালীণ এসডিও খালেক মাসুদের অফিসের সামনে হাজির হয়ে মোড়ল আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা নামিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং একই সাথে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। গণ পরিষদের সদস্য এম, এ গফুর এবং সুবেদার আয়ুব আলীসহ সাতক্ষীরা জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহায়তায় পাঞ্জাবী খালেদ মাহমুদকে গ্রেফতার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মোড়ল আব্দুস সালাম। দেশ মাতৃকার শৃঙ্খল ভাঙ্গার দুর্বার শপথে বলীয়ান মোড়ল মোড়ল আব্দুস সালামের চেতনায় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সৃষ্ট মশাল দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। স্বাধীন দেশের কর্মযোগ্য পরিচালনায় অর্থের প্রয়োজনে সাতক্ষীরা শহরের পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের অর্থ ও সম্পদ সংগ্রহ করার পরিকল্পনায় ৮ই এপ্রিল সফল অভিযানে অংশগ্রহন করেন তিনি। সংগৃহীত হয় নগদ মোট এক কোটি বিরাশি লক্ষ টাকা যাহা ছিল নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতার শুভ সূচনা। ১৯৭০ খ্রিঃ নির্বাচনের ব্যাপক গণ সংযোগ এবং সাংগঠনিক কাজের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন যোদ্ধা হিসেবে ভারতের দেরাদুন ক্যাম্প থেকে স্বশস্ত্র যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৭১ খ্রিঃ ১৫ই আগষ্ট বৃহত্তর খুলনা জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান শেখ কামরুজ্জামান টুকুর নেতৃত্বে ১৬জন প্রশিক্ষিত এবং ১৯ জন সহযোগীসহ মোট ৩৭ জনের একটি দল নিয়ে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে সাতক্ষীরা জেলার তালা মাগুরায় অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার ঘাটি গড়ে তোলেন মোড়ল আব্দুস সালাম। এরপর শুরু করেন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ট্রেনিং প্রদানের কাজ এবং পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর শত্রু ঘাঁটি আক্রমনের পরিকল্পনা। প্রস্তুতি পূর্বে প্রাথমিক আক্রমন পরিচালনায় পাইকগাছা, বড়দল, হাড়িয়ায় সফলতা অর্জিত হয়। এরপর পাটকেলঘাটা, কপিলমুণি রাজাকার ঘাঁটির বিরুদ্ধে কোন্টি আগে পরিচালিত হবে সেই প্রশ্নে মোড়ল আব্দুস সালাম সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর কথা মত কপিলমুণি রাজাকার ঘাঁটি আক্রমণ ও সফলতা অর্জিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার এই যুদ্ধ সম্পর্কে মোড়ল আব্দুস সালাম লিখেছেন তার জীবনে কপিলমুণি যুদ্ধই শেষ যুদ্ধ। কপিলমুণি রাজাকার ঘাঁটির তালিকা মতে ১,৬০১ জন মানুষকে হত্যা করে। কপিলমুণি যুদ্ধে বিজয় অর্জিত হবার গর্বজনিত গণ আদালতের রায়ে বন্দী ১৫৫ জন রাজাকারের মধ্যে ১৫১ জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। কপিলমুণি যুদ্ধের পর পর্যায়ক্রমে খুলনা ও ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জনে মোড়ল আব্দুস সালাম একজন নিবেদিত প্রাণ সংগঠক ও নেতার দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে নৌপথ ও সামুদ্রিক গেরিলা যুদ্ধে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট অঞ্চলের যে সকল কমান্ডার ও নৌ-কমান্ডার সহযোগিতা করেন স,ম, বাবর আলী, শেখ কামরুজ্জামান টুকু, মুজিব বাহিনীর প্রধান, বৃহত্তর খুলনা। মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী ইনু, প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ, গাজী মোঃ রফিক, মোড়ল আব্দুস সালাম, স,ম, আলাউদ্দীন, ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান, নৌ-কমান্ডো বজলুর রহমান, সমশের আলী, শফিক আহম্মেদ, ডঃ মাহফুজুর রহমান, মেজর সামছুল আরেফিন, সাইদুর রহমান কুটু ভাই, নুরুল ইসলাম মানিক, কে,এম মুজিবর রহমান, যিজির আলী বিবি, শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চুসহ হাজারও মুক্তিযোদ্ধা।
দেশ স্বাধীনের পর তিনি পূর্বতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিসি কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রী লাভ করেন এবং পুনরায় ১৯৭২ সালে বৃহত্তর খুলনা জেলার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। দেশের রাজনৈতিক টানা পোড়নের এক পর্যায় ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাসদ (জেএসডি) গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ১৯৭৪ সালে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুরসহ কয়েকটি জেলার গণবাহিনী প্রধান ও সিওসি এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি কয়েকবার কারাবরণ করেন।
প্রগতিশীল প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন সক্রিয়। তাঁর দলের মতাদর্শগত সংগ্রাম পরিচালনায় বাঁধাগ্রস্থ হয়ে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হন এবং বাসদ গঠন করে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে সংস্কারপন্থি জাসদের সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ মেয়াদে জাসদের খুলনা জেলার সভাপতি ও পরবর্তীতে আমৃত্যু জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মোড়ল আব্দুস সালাম তাঁর বর্নাঢ্য রাজনীর পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সালে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোস্পানীর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী ছিলেন। এছাড়াও বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন উত্তরণ পরিচালিত কেন্দ্রীয় পানি ও ভূমি কমিটি পরিচালনায় দক্ষ ভূমিকা পালন করেন। দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যায় সুপেয় পানির নিশ্চয়তা এবং এতদঅঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলনে কেন্দ্রীয় পানি কমিটির অন্যতম পুরোধা। এছাড়াও খুলনা সাতক্ষীরা অঞ্চলে খাস জমিতে ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রাম এবং ভূমিহীন নারী পুরুষদের মাঝে খাসজমি বিতরণের নেতৃত্ব দেন। তিনি উত্তরণ পরিচালিত তালা উপজেলা ভূমি কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন। তালা উপজেলার খাসজমি চিহ্নিতকরণ, ভূমিহীন বাছাই ও তালিকা প্রণয়ন ছিল তাঁর চিন্তার ফসল।
সামাজিক জীবনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুস সালাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থেকে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি কানাইদিয়া রথখোলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু স্মৃতি সংসদের আজীবন সদস্য, কপিলমুণি পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, কপিলমুণি আঞ্চলিক বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সভাপতি, কপিলমুণি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
ব্যক্তি জীবনে মোড়ল আব্দুস সালাম এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নির্লোভ, খাঁটি বাঙালী এবং আদর্শ দেশপ্রেমিক, সদালাপী, বিনয়ী, যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞান মনোস্ক। তিনি কখনও সুযোগ সন্ধানী ছিলেন না। মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িকতাই ছিল তার ধর্ম। সকলের কাছে প্রিয় এই মানুষটি আমাদের মাঝে নেই। তিনি গত ৫ জুলাই ২০১১ খ্রিঃ মঙ্গলবার না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আমরা এ বীর সেনানীর অকাল প্রয়াণে শোকাহত, মর্মাহত। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করি।
এই মহান দেশপ্রেমিকের মৃত্যুর পরে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ;
মোড়ল আব্দুস সালাম গণ গ্রন্থাগার, বেসরকারীভাবে পরিচালিত, উত্তরণ এর ব্যবস্থাপনায়, তালা, সাতক্ষীরা।
বিপ্লবী আব্দুস সালাম স্মৃতি পরিষদ, কপিলমূণি, পাইকগাছা, খুলনা।
আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশন, তালা, সাতক্ষীরা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুস সালাম বৃত্তি ও কল্যাণ ট্রাষ্ট, কপিলমুণি, পাইকগাছা, খুলনা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুস সালাম স্মৃতি মিনার পরিষদ, কৃষ্ণকাটি, তালা, সাতক্ষীরা।
কপিলমুণি বালিকা বিদ্যালয় একটি ভবন সালাম চত্ত্বর নামে নামকরণ করা হয়।
তালা ব্রীজ ভায়া কপিলমুণি খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি সালাম সড়ক নামে নামকরণ করা হয় এবং তালা ৬ নং মডেল ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষিত তালা উপজেলার শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশপ্রেমিক মোড়ল আব্দুস সালামকে মরণোত্তর স্মারক প্রদান করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest