সর্বশেষ সংবাদ-
দৈ‌নিক পত্রদূ‌ত সম্পাদক স. ম আলাউদ্দী‌নের ৩১তম হত্যা দিব‌স উপলক্ষে আলোচনাসভাশ্যামনগরে মালঞ্চ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যুকালীগঞ্ঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী বিএনপি অফিসের সামনে থেকে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারসাতক্ষীরা জেলা পরিষদের লাইসেন্স পাইয়ে দিতে ঘুষ দাবির অভিযোগ : উচ্চমান সহকারী রাকেশের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্নসাতক্ষীরায় নাগরিক সংলাপ: ‘আমরা আর ডুবতে চাই না, এখনই সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিন’সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধনসাতক্ষীরা পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের টাকা প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তরসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভাশ্যামনগরে দুই সাংবাদিকে হত্যার হুমকি ও মিথ্যা মামলা প্রতিবাদে মানবন্ধনশ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় বাল্কহেড জব : দুইজনের কারাদণ্ড

এম বেলাল হোসাইন : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। নিহত হেলপার ছয়ঘোরিয়া এলাকার আবুল কালামের পুত্র হাসান আলী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগামী বাস কলারোয়া কলেজের সামনে পৌছানো মাত্রই গেটের মুখ থেকে হেলপার পড়ে যায়। এসময় তার উপর দিয়ে বাসে চলে যায় ঘটনাস্থলে হেলপার হাসান আলীর মৃত্যু হয়। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

১ জুলাই ২০১৭, শনিবার। ১৭ আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ১৮৩ তম (অধিবর্ষে ১৮৪ তম) দিন। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনাবলি
১৮৩৫ – উইলিয়াম অ্যাডাম কর্তৃক বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষাবিষয়ক রিপোর্ট (অ্যাডাম রিপোর্ট) পেশ।
১৮৪৭ – মার্কিন ডাক বিভাগের প্রথম ডাক টিকিট চালু।
১৮৬২ – কলকাতা হাইকোর্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
১৮৬২ – রাশিয়ার মস্কোতে রাষ্ট্রীয় গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৬৩ – আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ (গ্যাটিসবার্গ যুদ্ধ) শুরু।
১৮৬৭ – কানাডা ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৮৭৯ – অবিভক্ত ভারতে প্রথম পোস্টকার্ড চালু।
১৯২১ – কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯২১ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯২৯ – স্যার আবদুর রহিমকে সভাপতি, মওলানা আকরম খাঁকে সম্পাদক এবং শেরেবাংলা একে ফজলুল হককে সহ-সভাপতি করে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি গঠিত।
১৯৪৭ – ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা আইন পাস।
১৯৬০ – ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত সোমালিয়া ও ইতালি নিয়ন্ত্রিত সোমালিয়ার একীভূত হওয়ার মধ্য দিয়ে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৬২ – আফ্রিকার ছোট্ট দেশ বুরুন্ডি ও রুয়ান্ডা স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৯৬৬ – কানাডায় প্রথম রঙিন টেলিভিশন সম্প্রচারিত হয়।
১৯৬৭ – কানাডা প্রতিষ্ঠিত।
১৯৯৭ – বৃটেন চীনের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ জনপদ হংকংকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
২০০২ – নেদারল্যান্ডসের হ্যাগে বিশ্বের প্রথম স্থায়ী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের কার্যক্রম শুরু।

জন্ম
১৬৪৬ – গট্‌ফ্রিড লিবনিত্স, একজন জার্মান দার্শনিক এবং গণিতবিদ ছিলেন।
১৮৮২ – বিধান চন্দ্র রায়, বিখ্যাত চিকিৎসক, পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী।
১৯০২ – লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম।
১৯০৩ – আবুল ফজল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রাষ্ট্রপতির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
১৯০৭ – বিশিষ্ট রাজনীতিক, পার্লামেন্টারিয়ান আতাউর রহমান খানের জন্ম।
১৯৩০ – নোয়াম চমস্কির স্ত্রী ক্যারল চমস্কি জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৭ – বঙ্গবন্ধুর অন্যতম বিশেষ স্নেহভাজন ৪ খলিফার অন্যতম আবদুল কুদ্দুস মাখনের জন্ম।
১৯৬১ – কার্ল লুইস, মার্কিন ক্রীড়াবিদ।
১৯৬১ – প্রিন্সেস ডায়ানা, যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন যুবরাজ্ঞী।
১৯৭৬ – রুড ভ্যান নিস্টেল্‌রয়ি, ওলন্দাজ ফুটবলার।
১৯৩২ – এম এন আখতার – বাংলাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী।

মৃত্যু
১৯৬২ – বিধান চন্দ্র রায়, বিখ্যাত চিকিৎসক, পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী।
২০০৪ – মার্লোন ব্রান্ডো, অস্কার পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা।
২০০৪ – ইংরেজ লেখক পিটার বার্নেস।
২০০৪ – আমেরিকার প্রখ্যাত অভিনেতা মার্লোন ব্র্যান্ডো।

ছুটি ও অন্যান্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।
চিকিৎসক দিবস (ভারতীয়)

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এশিয়ার বৃহত্তম প্রসাধনসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াটসনস মালয়েশিয়া’র একটি বিজ্ঞাপনে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিজ্ঞাপনটি লিঙ্গ ও বর্ণবৈষম্যকে প্রকটভাবে তুলে ধরেছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন।

১৫ মিনিটের বেশি ওই ভিডিওতে মালয়েশিয়ার ‘দায়াং সেনাংদং’ নামের একটি লোককাহিনী দেখানো হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, এক রাজকুমারের মন জয় করার চেষ্টা করছেন কয়েকজন নারী। সবাই একে একে রাজকুমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। এর একপর্যায়ে আসে এক নারীর পালা।

ঘোমটায় মুখ ঢাকা ওই নারীর কণ্ঠস্বর শুনেই প্রেমে পড়ে যান রাজকুমার। পরে ঘোমটা সরালেই আঁতকে ওঠেন তিনি। কারণ ওই নারীর ত্বক কুচকুচে কালো। অভিশাপপ্রাপ্ত হয়েই তাঁর এই পরিণতি। এরপর ওই নারী মুখ ধুয়ে আসেন। এতে তাঁর চেহারা ফরসা হয়ে যায়। ভিডিওটির ১০ মিনিট আট সেকেন্ডে দেখা যায় এই দৃশ্য।

ভিডিওটি প্রকাশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওয়াটসনস বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে সিনডি গ্যালপ নামে ব্রিটেনের এক বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ সংবাদমাধ্যম মামব্রেলা এশিয়াকে বলেন, অচল ওই লোককাহিনী মঞ্চায়ন করে পুরোনো দিনের ধ্যান-ধারণাকে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, পুরুষদের জন্য নারীরা নিজেদের শরীরে পরিবর্তন আনছেন। এর মাধ্যমে লিঙ্গবৈষম্য ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া ত্বক কালো হলে কুৎসিত আর সাদা হলেই সুন্দর—বৈষম্যমূলক এই যুক্তি বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়েছে।

টুইটারে একজন মন্তব্য করেন, মালয়েশিয়াতে এ ধরনের বিজ্ঞাপন হতাশাজনক।

বিজ্ঞাপনটিকে লজ্জাজনক উল্লেখ করে আরেকজন বলেন, এর মাধ্যমে নারী ও কালোদের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : কবি, সাহিত্যিক ও সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক মুফতি আব্দুর রহিম কচি’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা -০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার এ মৃত্যুতে এমপি রবি বলেন, সাতক্ষীরাবাসী একজন কবি, সাহিত্যিক ও সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিককে হারিয়েছে। যে ক্ষতি সাতক্ষীরাবাসীর পুরণ হওয়ার নয়। তিনি একজন মানব দরদী ও জনহিতৈষী ব্যক্তি ছিলেন এবং জেলার মাটি ও মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন। সাতক্ষীরাবাসী একজন কবি, সাহিত্যিক ও সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। তার মৃত্যুতে জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শনিবার এর ৯৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তাই আজ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’। এ বছর এর প্রতিপাদ্য ‘উদ্ভাবন ও উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’। এবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হবে দিনটি। এ উপলক্ষে ঢাবি ক্যাম্পাসে থাকছে নানান কর্মসূচি।

সকাল সোয়া ১০টায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে জাতীয় পতাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন, পায়রা ওড়ানো, কেক কাটা এবং উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হবে। কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাবি’র পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেছেন তিনি।

শুভেচ্ছা বাণীতে উপাচার্য শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালে শতবর্ষে পদার্পণ করবে। সরকারের রূপকল্প-২০২১ মাথায় রেখে ঢাবি শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাই আমাদের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য হলো উদ্ভাবন ও উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা।’

শনিবার সকালে উপাচার্যের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন।

অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার আয়োজিত দুর্লভ পাণ্ডুলিপির প্রদর্শনী। এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন হল থেকে শোভাযাত্রাসহ প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে যাবেন টিএসসিতে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলে থাকছে দিনব্যাপী কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে হল, বিভাগ ও অন্যান্য অফিস খোলা থাকবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাশকতার মামলার আসামী হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারসহ ২জামায়াত কর্র্মীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার দুুপুরের দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হল ২জামায়াত কর্মী লাঙ্গলঝাড়া গ্রামের মৃত ইমান আলী সরদারের ছেলে ও লাঙ্গলঝাড়া বাজারে হোমিও প্যাথিক ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক (৫৭) এবং গোয়ালচাতর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুুর রশিদ (৫১)। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ জানান, গত বুধবার গভীর রাতে কেরালকাতা ইউনিয়নের সিংগা হাইস্কুলের পিছনে বসে আটকরা আগামী সংসদ নির্র্বাচনকে ঘিরে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতা পরিকল্পনা করার জন্য কয়েকজন জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মীদের নিয়ে গোপনে বৈঠক করছিল। এ সময় পুলিশ খবর পেয়ে ওই রাতেই সেখান থেকে জামায়াত-শিবিরের ৯ নেতা কর্মীকে আটক করেন। পরে এ ঘটনায় থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদি হয়ে নাশকতা পরিকল্পনা করার অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অঙ্গতদের আসামী করে একটি মামলা নং (৫০) ৬/১৭ দায়ের করেন। সেই মামলার আসামী হওয়ায় থানার এসআই পিন্টু লাল দাস শুক্রবার দুপুরে ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুুর রশিদকে এলাকা থেকে আটক করেন। বর্তমানে মামলাটি থানার এসআই পিন্টু লাল দাস তদন্ত করছে বলে জানা যায়। এদিকে বর্র্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে দীর্র্ঘদিন ধরে কাজ করেই চলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মুফতি আব্দুর রহিম কচি আর নেই। ভাবতেই পারি না সুস্থ অবস্থায় তাকে যেরকম দেখেছি সেই দেখাই যেন চির জাগরুক থাকুক। সাপ্তাহিক দখিনায়নের সম্পাদকÑ এই ছিল তার মূল পরিচয়। মুফতি আব্দুর রহিম কচি আর দখিনায়ন সমার্থক ছিল। সাপ্তাহিক দখিনায়নের ডিকা¬রেশন বের করা এবং পত্রিকাটি প্রকাশনা ও সম্পাদনার পুরো দ্বায়িত্বটি ছিলো মুফতি আব্দুর রহিম কচির জীবনের এক অসাধারণ সাধনার বিষয়। শুধুমাত্র একটি পত্রিকার ডিকা¬রেশন পাওয়ার জন্য এ রকম সাধ্য-সাধনার নজির দ্বিতীয়টি আর খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন।
তৎকালীন সাতক্ষীরা মহাকুমা থেকে সাপ্তাহিক দখিনায়নের ডিকা¬রেশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে খুলনার ডিসি অফিসে যোগাযোগ করতে মুফতি আব্দুর রহিম কচি দীর্ঘদিন সাইকেল চালিয়ে যাতায়ত করেছেন। সাইকেলই ছিল তার একমাত্র বাহন। সাপ্তাহিক দখিনায়ন প্রকাশের পর থেকে প্রত্রিকাটি সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার জগতে একটি বস্তুনিষ্ঠ, আর্দশবাদী ও সুস্থধারার পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে থাকে। সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মান উন্নয়নের জন্য দখিনায়নের উদ্যোগে কর্মশালারও আয়োজন করা হয়।
পত্রিকার সম্পাদক ছাড়াও মুফতি আব্দুর রহিম কচি এক জন উঁচুমানের আবৃত্তিকার ও অভিনয় শিল্পী ছিলেন। একজন বৃদ্ধের ভূমিকায় তার অনবদ্য অভিনয় ছিলো অতুলনীয়, অবিস্মরণীয়। অভিনয় ও নাট্য শিল্পীদের নিয়ে সংগঠনও গড়ে তুলেছিলেন। কচি ভাই হিসাবে সর্বজনের কাছে তার একটি বিশেষ গ্রহণ যোগ্যতা ছিল। অত্যন্ত বন্ধুবৎসল সদালাপী ছিলেন তিনি। মুহুর্তে অন্যকে আপন করে নিতে পারতেন। তবে তিনি তার দখিনায়ন সম্পাদকের প্রধান পরিচয়টি ধরে রাখতে পারেননি। একটি গরংংরহম ষরহশ ঘটে যায়। পত্রিকার কাজ ফেলে রেখে সুন্দরবন অঞ্চলে দিদারের ট্রলার নিয়ে যৌথভাবে চিংড়ি পোনা ধরার ব্যাবসাও করেছেন। এই ঝুঁকিপুর্ণ নৌপথে একমাত্র সঙ্গী ছিলেন তার ট্রলার চালক বিশ্বস্ত মনিদা। এছাড়াও তিনি চিংড়ি হ্যাচিরিতে হিসাবরক্ষকের চাকুরি করেছেন। এর আগে আলুর ব্যবসাও করেছেন। দখিণায়ন পত্রিকা প্রকাশনার প্রাথমিক পর্যায়ে পত্রিকা ও বইয়ের ব্যবসাও করার চেষ্টা করেছেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাতক্ষীরার কয়েকটি পত্রিকার সাথে গড়ে সাপ্তাহিক দখিণায়নকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ না দিয়ে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয় সরকার। তারপর সেটি আর পুনরুজ্জীবিত করার কার্যকর কোন চেষ্টা না করে সুলতানপুর বড় বাজারে পান-সিগারেট-স্টেশনারি দোকান দিয়ে পত্র-পত্রিকা ও সাংবাদিকতা জগতের মূল ¯্রােত থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাতে থাকেন সাপ্তাহিক দখিণায়নের সম্পাদক মুফতি আব্দুর রহিম কচি।
উচ্চ মাধ্যমিকের বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাননিÑ কিন্তু তিনি ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত গুণি মানুষ। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার বেশ কয়েক বছর আগে থেকে সম্পাদক মুফতি আব্দুর রহিম কচি লোকচক্ষুর অন্তরালে একপ্রকার হারিয়েই ছিলেন। বড় কষ্টে-কষ্টে জীবন ও মৃত্যুর প্রহর গুণে গুণে একদা সর্বজনের সুহৃদ কচি ভাই আজকে যেন একাকী ঝরা পাতার মত নিঃশব্দে ঝরে পড়লেন।
মুফতি আব্দুর রহিম কচির সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও স্বপ্নের পরম্পরা বজায় থাকুকÑ তার সহপাঠী ও হিতকাক্সক্ষী হিসাবে আন্তরিকভাবে এই আশা ও কামনা করি। একই সাথে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
আবু সালেক : মুফতি আব্দুর রহিম কচির সহপাঠী ও সম্পাদক, সাপ্তাহিক পূর্ণাশা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাম হাতের দুই আঙ্গুলের মাঝে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে সিগারেট। মাঝে মাঝে উঠছে দুই ঠোঁটে। আর ডান হাতের তিন আঙ্গুলের মাথায় কলম। সামনে নিউজ প্রিন্ট কাগজের প্যাড। কাছেই চায়ের কাপ ছেড়ে উড়ছে মিষ্টি ধোঁয়া। এক সাথেই চলছে তিনটি কাজ। মাঝে মাঝে সুখটান দিয়ে শেষের অংশ ফেলে দিয়ে আরেকটি সিগারেটে অগ্নিসংযোগ। চা ফুরালে ‘এই চা নিয়ে আয়। সিগারেট দে’।
হঠাৎ সব কিছু ছেড়ে একটু গল্প। একটু আয়েশ। একটু হাসি। ফের লেখায় মনোনিবেশ।
যারা সংবাদপত্রে কাজ করেন তারা এমন দৃশ্যের সাথে বহুল পরিচিত। তবে এখন এ দৃশ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। এখন সাংবাদিকরা ল্যাপটপ নিয়ে ক্লিক করে তাবত সংবাদ বের করে আনেন। আর না হয় ঠক ঠক করে ডিজিট টিপে টিপে আয়েশে সংবাদ বানিয়ে দেন। কিন্তু কচি ভাইদের মতো নিবেদিত সাংবাদিক এভাবেই বছরের পর বছর কাজ করে গেছেন। আর এভাবেই হয়ে উঠেছেন প্রাতঃস্মরণীয়। আজ এ প্রসঙ্গ এসেছে আমাদের কচি ভাই, মুফতি আবদুর রহিম কচির মৃত্যুর খবরের পর। শুক্রবার বিকাল তিনটায় বাসায় ফিরতেই দুঃসংবাদটি কানে এলো। ক’দিন ধরে ভাবছিলাম। তাকে দেখতে যাবো তার বাসায়। হয়ে ওঠেনি। আজ তার চিরপ্রস্থানে ছেদটা পড়েই গেলো। কচি ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হতো সাতক্ষীরার জাহান প্রিন্টিং প্রেসে। প্রয়াত নির্মলদা বসতেন সেখানে। কচি ভাই তার পত্রিকা দখিনায়নের ম্যাটার প্রস্তুত করে এনেছেন। চার পৃষ্ঠার দখিনায়ন। চারটি প্লেট হাতে নিয়ে রিকসায় আসতেন সুলতানপুর থেকে। এরপর ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দখিনায়ন প্রকাশ করে নিয়ে যেতেন। নিজ হাতে কোনো কোনো সময় তরতাজা কাগজ বিলিও করতেন। পাঠিয়ে দিতেন পোস্ট অফিস মোড়ে মেসার্স আরিফ খানের সংবাদপত্র পরিবেশকের দোকানে কিংবা বাস টার্মিনালে। এর আগে সীসার অক্ষর সাজিয়ে পত্রিকার ম্যাটার তৈরি করতেন সুলতানপুর বাজারের মধ্যে এক কোনায় একটি বাসায় বসে। ১৯৭৮ সালে তিনি যখন সাপ্তাহিক দখিনায়ন প্রকাশ করেন তখন সাতক্ষীরার আরেকটি সাপ্তাহিক ছিল, মোতালেব ভাইয়ের কাফেলা। এই কাফেলা পরবর্তীতে আবদুল মোতালেব দৈনিক কাফেলায় উন্নীত করেন। কিন্তু মুফতি আবদুর রহিম কচি তার দখিনায়নকে আর কোনোদিন দৈনিকে তুলতে পারেন নি। আর্থিক টানাপড়েনে পত্রিকাটির অকালমৃত্যু আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি কেবল। কথা ছিল এই মৃত্যুকে সবাই মিলে ঠেকানো হবে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। কচি ভাই নিজে ছিলেন দখিনায়নের সম্পাদক। নিজেই সাংবাদিক। আবার নিজেই কম্পোজিটর। এতে তিনি অপমান বোধ করেন নি। জেলার বিভিন্ন স্থানে তার প্রতিনিধি থাকলেও কাগজটির অনিয়মানুবর্তিতার কারণে তারাও ঢিল দিতেন। তবে দখিনায়নের পরিচয় দিতে অনেক সাংবাদিকই ভালবাসতেন, সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। সাতক্ষীরার বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি হয়েছে এই দখিনায়নে। কম কথা নয়। কচি ভাই জড়িত ছিলেন কবি পল্টু বাসার সম্পাদিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ঈক্ষণের সাথেও। তারা দুজনেই এক সাথে জাহান প্রেস থেকে পত্রিকা দুটি বের করতেন। তখন সংবাদপত্র সংখ্যায় ছিল কম। এজন্য দখিনায়নের প্রভাবও ছিল বেশ। কোনো রিপোর্ট ছাপা হলে তা নিয়ে বেশ ঝড় উঠতো। আমরাও উপভোগ করতাম। আশির দশকে সাতক্ষীরার বাজারে দখিনায়নের দাপট ছিল তুঙ্গে। সে সময় সওগাত সম্পাদক মো. নাসিরউদ্দিনের কাছ থেকে কবি পল্টু বাসারের নেওয়া সাহিত্যিক মো. ওয়াজেদ আলির ওপর একটি পুর্ণ পৃষ্ঠা সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল দখিনায়নে। সমসাময়িককালে কালিগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি লতিফুর রহমান বাবলুকে একদিন জেল ভোগ করতে হয়েছিল তৎকালিন নির্বাহী অফিসার হাতেম আলি খানকে ‘স্যার’ না বলে ভাই বলার কারণে। এই রিপোর্ট সাহসের সাথে প্রকাশ করেছিল সাপ্তাহিক দখিনায়ন। স্মৃতিতে হাতড়ালে এমন অনেক তথ্যই পাওয়া যাবে হয়তো। সাতক্ষীরার একটি দৈনিক দাঁড় করাতে যারা শ্রম দিয়েছিলেন তাদেরই একজন এই মুফতি আবদুর রহিম কচি। তিনি সকাল সন্ধ্যা কাজ করে পত্রিকাটিকে পাঠকের কাছে পাঠযোগ্য করে তুলেছিলেন। তিনি নিজে লিখেছেন। তিনি লিখিয়েছেন নবীনদের।
মুফতি আবদুর রহিম কচি কেবল একজন নিবেদিত সংবাদকর্মীই ছিলেন না। তিনি ছিলেন ভালো একজন আবৃত্তিকার, একজন অভিনেতাও। জন্ম দিয়েছিলেন সপ্তর্ষি থিয়েটারের, কবিতাকুঞ্জের ও সকাল নাট্যগোষ্ঠীর। নাটক লিখতেন। কবিতা লিখতেন। গান রচনা করতেন। এসব কারণে বারবার পুরস্কৃতও হয়েছেন তিনি। ভারত ও বাংলাদেশের কবি সম্মিলনে যোগ দিতেন তিনি। নিয়মিত কবিতার আড্ডায় সাহিত্যের মজলিশে বসতেন তিনি। কিছুদিন আগে কবি পল্টু বাসারের পৃষ্ঠপোষকতায় সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয় লিটল ম্যগাজিন অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুফতি আবদুর রহিম কচি। আমি আমার বক্তব্যে বলেছিলাম ‘দখিনায়নের পুনরুজ্জীবন দেখতে চাই’। কচি ভাই মৃদু হেসে সম্মতি দিয়েছিলেন। সেই কথা তিনি আর রাখেন নি। তার আগেই চলে গেলেন তিনি।
মুফতি আবদুর রহিম কচির নিত্য সঙ্গী ছিল দারিদ্র্য। পরিবারের ভরনপোষন ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া কিভাবে চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা তিনি কখনও দিতে পারেন নি। নিজের অসুখ বিসুখে ওষুধ কিনতে পারেন নি। শারীরিক সুস্থতার জন্য ভালো খাবারও জোটেনি তার। এর মধ্যে একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা কত যে কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। কাজকে সম্মান দিতেন তিনি। পরিশ্রমকে ভালবাসতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি মাছের খামারে কাজ করেছেন। পানের মসলা তৈরি করে বিক্রি করেছেন। বই বাঁধাইয়ের কাজ করে অর্থ উপার্জন করেছেন। বাড়িতে নিভৃতে বসে কাগজের ঠোঙ্গা বানিয়েছেন তিনি। তবু সংসারের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত ঘর্মাক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সততার মতো গুণ থেকে এতোটুক বিচ্যুত হন নি মুফতি আবদুর রহিম কচি।
একজন নির্লোভ নির্মোহ ব্যক্তি ছিলেন তিনি। আজীবন ছিলেন প্রচার বিমুখ। কখনও কোনো বিলাসিতা তাকে স্পর্শ করেনি। পায়ে হেঁটে জোর বেশি রিকশা ভ্যানে চড়ে পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। কিডনী জটিলতা, লিভার ফাংশানিংয়ে জটিলতা, দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পাওয়া, হৃদরোগ এসবই তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে ফেলেছিল। অক্টোপাসের এই প্যাচ থেকে তিনি আর বের হতে পারলেন না। বড়ই আফসোস।
আগেই বলেছি তিনি পত্রিকার সম্পাদক। তিনিই পত্রিকার সাংবাদিক । আবার তিনিই পত্রিকার কম্পোজিটর। আবার কখনও কখনও তিনি নিজেই বিলি বণ্টন করেছেন তার পত্রিকা। যেনো কোনো খেদ নেই, কোনো দুঃখ নেই, কোনো কষ্টও নেই। বরং এতে সম্মান বোধ করেছেন তিনি।
কচি ভাই, মুফতি আবদুর রহিম কচি হতে পারেন আমাদের সাংবাদিকদের জন্য এক অনুপ্রেরণা, এক পথপ্রদর্শক।
লেখক ডিস্ট্রিক্ট : করেসপন্ডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest