সর্বশেষ সংবাদ-
ঈদকে সামনে রেখে অপরূপ সাজে সেজেছে দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্টহত্যা, ধর্ষণ, জুয়া ও মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক ‘ক্রসফায়ার’: প্রধানমন্ত্রীকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আবেদনদুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালাশহরের কুখরালী থেকে সোহানা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারঈদ উল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শো, ও পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিংকালিগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তালায় গাঁজা সেবনের সময় আটক দিদার মোড়ল : ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডসাতক্ষীরায় পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অবহিতকরণসাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনদেবহাটায় ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বিধবা নারীর মাটির ঘর: মানবেতর জীবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বর্তমান ১৮ জন নারী জাতীয় নেতার মধ্যে অন্যতম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত এক গ্রন্থে এর উল্লেখ করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

‘নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক এ গ্রন্থের প্রচ্ছদে অপর ছয়জন বিশ্বনেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার ছবি মুদ্রিত হয়েছে। গ্রন্থটির লেখক হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও’ব্রেইন।

ওয়াশিংটন ডিসির ওমেন্স ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ক্লাবে (ডব্লিউএনডিসি) বিদেশি কূটনীতিক, নারীনেত্রী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়।

ও’ব্রেইন বাংলাদেশকে অধিকতর স্থিতিশীল ও অধিকতর গণতান্ত্রিক এবং অপেক্ষাকৃত কম হিংসাত্মক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রয়াসের প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক শেখ হাসিনার এই উক্তি উদ্ধৃত করেন, ‘বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই আমি গর্বিত হব।’

গ্রন্থে প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক পটভূমির উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। লেখক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ওই সময়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন (শেখ রেহেনা) দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।

ও’ব্রেইন ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগকে পরিচালনার নেতৃত্বের পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি নির্বাচনী কারচুপি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সে সময় তাঁকে দমন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং আশির দশকে তিনি গৃহবন্দি হন।

লেখক এরশাদের শাসনামলের উল্লেখ করে বলেন, সরকারের নির্যাতন সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এতই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ছিলেন যে তাঁর চাপে ১৯৯০ সালে একজন সামরিক জান্তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

লেখক বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার ১৯৯৭ সালে যুগান্তকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ ও ক্ষুদ্রঋণ সম্মেলনে সভাপতিকে সহায়তা ও নারী কল্যাণ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন।

রিচার্ড তাঁর গ্রন্থে শান্তি ও গণতন্ত্রের বিকাশে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উল্লেখ করে বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) মাদার তেরেসা পদক ও গান্ধী পদক অর্জন করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পেছন থেকে বাসরি লালকে দেখলে শিশু বলেই ভুল হবে। তাঁর উচ্চতা মাত্র দুই ফুট পাঁচ ইঞ্চি। অবাক করা বিষয় হলো, ছোট এই মানুষটি এরই মধ্যে ছুঁয়ে ফেলেছেন ৫০। বয়স আর উচ্চতার অমিলের কারণে এরই মধ্যে বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের এই বাসিন্দা।

ছোটবেলা থেকেই উচ্চতার কারণে হাসি-ঠাট্টা করা হতো বাসরিকে। তবে গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেই দিন বদলে গেছে। পরিবার তাঁকে ‘হিরো’ (নায়ক) নামে ডাকছে।

বাসরির বড় ভাই গোপী লালের (৫৫) উচ্চতা আবার সাধারণ আর ১০ জন মানুষের মতোই। নিজ সহোদরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসে। এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। মানুষ বাসরিকে ভালোবাসে দেখে আমাদের গর্ব হয়।’

নিজের আকৃতি নিয়ে মনোঃকষ্ট নেই বাসরির। তিনি বলেন, ‘উচ্চতা আমার জন্য কোনো সমস্যা নয়। আর ১০ জনের মতোই আমি কাজ করি, বেঁচে থাকি ও ঘুমাই। সাধারণ একজনের মতোই আমি খেতে পারি।’

জন্মের সময় বাসরির আকৃতি স্বাভাবিক ছিল। পাঁচ বছর বয়সে থেমে যায় তাঁর শারীরিক বৃদ্ধি। দারিদ্র্যের কারণে সে সময় বাসরিকে চিকিৎসাও করাতে পারেনি তাঁর পরিবার।

এ বিষয়ে বাসরির ভাই গোপী বলেন, ‘তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ ছিল না। আমরা খুব গরিব ছিলাম। আমি নিজে একজন দিনমজুর। কী-ই বা করতে পারতাম তাঁর জন্য?’

ভাই গোপী ও তাঁর স্ত্রী সত্যের বাসায় থাকছেন বাসরি। একটি কারখানায় কাজ করেন তিনি।

‘তিনি শুধু ভালো থাকতে চান, ভালো মানুষের সঙ্গে থাকতে চান, আর চান একটু ভালো-মদ’, বলেন গোপীর স্ত্রী সত্য।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

‘বাংলাদেশের জন্য সিনেমা বানিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরে বাংলাদেশের কাছ থেকে ফিতরা হিসেবে কিছু হল পেয়েছি।’ দেশের সেরা জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে ব্যয়বহুল ছবি ‘রাজনীতি’ নির্মাণ করে, প্রদর্শনের জন্য আশানুরূপ সিনেমা হল না পেয়ে এমন মন্তব্য করেন পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস। ঢাকায় শুধু যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার ছাড়া আর কোনো হল পায়নি ছবিটি। ঢাকায় শাকিব-অপু অভিনীত ছবির চাহিদা থাকায় বাড়তি চাপ পড়ছে ব্লকবাস্টার সিনেমা হলের ওপর। তাই শুক্রবার থেকে আরো একটি শো বাড়িয়ে দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে দুই হলে চারটি করে শো চলবে। এর আগে দিনে তিনটি করে শো চালানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্লকবাস্টারের কর্মচারী সুমন আকন্দ।

সুমন বলেন, ‘ঈদের দিন থেকেই ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ বেশি ছিল। প্রতিদিনই একদিন আগে সব টিকেট শেষ হয়ে যেত। অনেক দর্শক টিকেট না পেয়ে মন খারাপ করছে। যে কারণে হল কর্তৃপক্ষ আজ থেকে আরো একটি শো বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করি, এতে করে দর্শক আরো স্বচ্ছন্দে ছবিটি দেখতে পারবেন।’
ছবির পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস বলেন, “আমি ব্লকবাস্টার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। ঢাকায় কোনো হল না পেয়ে আমার অনেক মন খারাপ হয়েছিল। সারা দেশে সিনেমা হল পেয়েছি মাত্র ৪০টি। এবার কিছুটা শান্তি পেলাম। আমি বাংলাদেশের একটি ছবি বানিয়েছি, যেটা বিশ্বমানের। বাংলাদেশের টেকনিশিয়ান, শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস ছিল, ছবিটি যদি ঢাকার আরো কিছু সিনেমা হলে মুক্তি পেত, তাহলে বোঝা যেত কোন সিনেমায় দর্শক আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবুও শান্তি ‘রাজনীতি’ ছবির জন্য বাড়তি শো চালাতে হচ্ছে।”

বুলবুল আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের চলচ্চিত্র আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে। যাঁরা সব সময় বলেন, আমাদের দেশে ভালো ছবি সম্ভব নয়, তাঁরা আমার ছবিটি দেখুন এবং প্লিজ আমাকে বলুন, কোন কারণে আমাদের ছবিটি পিছিয়ে। আপনার একটি মন্তব্য আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের জন্য উপকার হতে পারে। ছবি না দেখে শুধু মন্তব্য দেশের জন্য ভালো কিছু হবে না।’

‘রাজনীতি’ ছবিতে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস ছাড়াও অভিনয় করছেন আনিসুর রহমান মিলন, আলীরাজ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়শ্রী কর জয়া প্রমুখ। ছবিটির গান করছেন ফুয়াদ ও অদিত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার শ্যামনগরের একটি মৎস্য ঘের থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামের একটি মৎস্য ঘের থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর।
স্থানীয়রা জানান, সকালে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামের নিরঞ্জন মিস্ত্রির মৎস্য ঘেরে স্থানীয় এলাকাবাসী অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে, তার লাশ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিদুৎ স্পৃষ্টে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের আর,আর কাদাকাটি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম ময়না খাতুন (২৮)। তিনি ওই গ্রামের আফাজ উদ্দীনের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, ময়না খাতুনের স্বামী আফাজ উদ্দীন গতকাল (বৃহস্পবিার) সাতক্ষীরার ওয়ালটন শো রুম থেকে একটি ফিরিজ কিনে নিয়ে যান। ওই ফিরিজটি আজ শুক্রবার সকালে বিদ্যুতের লাইন লাগানো অবস্থায় ভিজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন গৃহবধূ ময়না খাতুন। এ সময় হটাৎ অসাবধান বশতঃ বিদ্যুতের তারে ওই ভিজা কাপড় লাগলে ঘটনা স্থলেই বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম শাহিন এ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অহনা। এখানে তার ছদ্ম নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। পড়াশোনায় অত্যন্ত ভালো ছিলেন কিন্তু এখন সেসব বাদ দিয়েছেন। বছর খানেক হল তিনি মাদক গ্রহণ করছেন। প্রথমে সিগারেট দিয়ে শুরু আর এখন ইয়াবা।
অহনা বলছিলেন “বাসায় বাবা মায়ের সাথে সমস্যা। সিগারেট খাওয়া শুরু করলাম। একদিন বন্ধুরা বললো ইয়াবা নে। আমি ভাবলাম দুই-একটা খাবো তারপর ছেড়ে দেবো কিন্তু আমার অবস্থা এমন হলো আর ছাড়তে পারলাম না।”
অহনা মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ হিসেবে দাবি করছিলেন বাবা-মায়ের সাথে কলহ এবং তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সময় তিনি পাচ্ছিলেন না। একটা পর্যায়ে বন্ধুবান্ধবের সাথে কৌতুহলবশত তিনি মাদক নেন।
বাংলাদেশের মাদক বিরোধী সংস্থা মানস বলছে দেশে প্রায় ৭০ লাখ মাদকাসক্ত ব্যক্তির ১৬ শতাংশই নারী। ঢাকায় আহছানিয়া মিশনে মেয়েদের জন্য একটি আলাদা মাদক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে।
সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ইকবাল মাসুদ বলছিলেন স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার একটা প্রধান কারণ পরিবার বা বাবা-মায়ের সাথে ভাল সম্পর্ক না থাকা বা বাবা-মায়ের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশামত সময় না পাওয়া।
মাদক বিরোধী সংস্থা মানস বলছে পাঁচ বছর আগে নারীদের মধ্যে মাদক নেয়ার প্রবণতা ছিল ৫ শতাংশ।
তবে পুরুষদেরকে যতটা সহজে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব বা নিরাময় কেন্দ্রে আনা যায়, মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টা বেশ জটিল। ঢাকা আহছানিয়া মিশন বলছে নারীদের মধ্যে ৮৪ শতাংশকে পরিবারের সদস্যদের চাপে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
এখন মেয়েরা মূলত কী ধরণের শারীরিক সমস্যায় শিকার হচ্ছে । বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক ড.অরূপ রতন চৌধুরী বলছিলেন যেহেতু মেয়েদের সন্তান জন্ম দানের বিষয় রয়েছে তাই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে একজন মাদকাসক্ত নারী ও তার শিশু।
মি. চৌধুরী বলছিলেন “মেয়েদের পরিবার অত্যন্ত গোপনীয়তা মেইনটেইন করতে চায় যার ফলে চিকিৎসাটা সময় মত হয় না। যখন নিয়ে আসে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।”
আমার আরো একজনের সাথে কথা হলো যিনি এক বিবাহিত এক সন্তানের মা। তিনিও মাদকাসক্ত। কারণ হিসেবে তার অভিযোগ স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়াতে, হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি এক পর্যায়ে মাদক গ্রহণ করতে শুরু করেন।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদ বলছেন দাম্পত্য কলহের কারণে অনেক গৃহিণী মাদকাসক্ত হচ্ছেন।
মি. চৌধুরী বলছিলেন “একটা মেয়ে বিয়ের সময় হয়তবা গোপন করে কিন্তু পরে ঠিকই প্রকাশ পায়। এবং সে সন্তান নেয়ার সময় চরম ঝুঁকিতে পরে। হয় অ্যাবরশন হয়ে যায় না হলে বিকলাঙ্গ সন্তান হয়।”
বাংলাদেশের শুধু ঢাকা শহরে নয় দেশর বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকাসক্ত নারীরা মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আসছেন।
১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে পনের শতাংশ নারী নানা ধরণের মাদকে আসক্ত বলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। আর এদের ৪৩ শতাংশ নারী সেবন করছেন ইয়াবা।
গবেষকরা বলছেন দিন দিন এই নির্দিষ্ট মাদকটির সহজপ্রাপ্যতার কারণেই এর দিকে ঝুঁকে পড়ছে মেয়েরা।

সূত্র বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ন্যাশনাল ডেস্ক : সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে সারাবিশ্ব থেকে টাকা জমা রাখার পরিমাণ কমলেও বাংলাদেশ থেকে টাকা রাখার পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৬ সালে এসব ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে টাকা জমা রাখা হয়েছে ৬৬ কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার পাঁচশ ৬৬ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের তুলনায় এর পরিমাণ ১৯ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এসএনবির ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা রাখার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। ২০১৫ সালে এসব ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে টাকা জমা করা হয়েছিল প্রায় ৫৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় চার হাজার সাতশ ১৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে টাকা জমার পরিমাণ বেড়েছে ১১শ ৪৯ কোটি টাকা। এছাড়া, ২০০৯ সালের পর থেকে ২০১০ সাল ও ২০১৪ সাল ছাড়া বাকি প্রতিটি বছরেই এসব ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে টাকা জমা রাখার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালে এসে এসব ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে রাখা টাকার পরিমাণ ২০০৯ সালের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
সার্বিকভাবে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে সবচেয়ে বেশি টাকা জমা হয়েছে যুক্তরাজ্য থেকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান, দ্বিতীয় স্থানে ভারত, তৃতীয় স্থানেই রয়েছে বাংলাদেশ। তবে গত এক বছরে ভারত থেকে টাকা জমার পরিমাণ কমে প্রায় অর্ধেক হয়েছে। আর সার্বিকভাবে সারাবিশ্ব থেকে ২০১৬ সালে টাকা জমা হয়েছে আগের বছরের তুলনায় ৩.৪ শতাংশ কম।
ধারণা করা হয়, সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা রাখার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোকেই অগ্রাধিকারভিত্তিতে বেছে নেন আমানতকারীরা। কারণ গ্রাহকদের তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এসব ব্যাংক অর্থ গোপন করার জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা সাংবাদিকদের জানান, সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনটি কিসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক অবগত নয়। তবে মানি লন্ডারিং রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের টাকা জমা রাখার প্রসঙ্গে বলেন, ‘এসব ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের ধরণ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই।’ তবে অনেকেই এসব ব্যাংকে তাদের মূল্যবান সম্পদ জমা রাখেন এবং টাকা সাধারণত বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে একের পর এক মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সেদেশের নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেমেছিলেন।
একটি বেসরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে ২০১৫ থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩টি এধরণের ঘটনা হয়েছে, যেখানে মুসলমান কোনও ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মারধর করা হয়েছে।
গত তিনমাসে এধরণের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬জন মুসলমানের। এধরণের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধেই দিল্লিসহ ভারতের নানা জায়গাতেই সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দিয়ে ‘নট ইন মাই নেম’ নাম দিয়ে প্রতিবাদে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে কলকাতাতেও।
দক্ষিণ কলকাতার একটি খোলামেলা বিপনি বিতান চত্বরে কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়েছিলেন শুধুমাত্র একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা ফেসবুক পোস্ট দেখে। ‘নট ইন মাই নেম’ হ্যাশ ট্যাগও চালু হয়েছে মুসলমানদের চিহ্নিত করে গণপিটুনির ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে।
কলকাতায় যাঁরা এই প্রতিবাদ সমাবেশের উদ্যোগটা নিয়েছিলেন, তাঁদেরই অন্যতম অঞ্চিতা ঘটক বলছিলেন, “চতুর্দিকে যেসব ঘটনা হচ্ছে, তাতে সত্যিই আমরা বিচলিত। আমাদের মনে হচ্ছে দেশে হিন্দুত্বের একটা আগ্রাসন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে খুবই উগ্র জাতীয়তাবাদও তৈরি করা হচ্ছে, যার সঙ্গে আবার হিন্দু ধর্মকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।”
কলেজ শিক্ষক সম্রাট সেনগুপ্ত বলছিলেন কেন তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মুসলমানদের চিহ্নিত করে গণপিটুনি দিয়ে আহত – এমনকি মেরে ফেলার ঘটনাও খুব বেশী ঘটতে শুরু করেছে।
“একটা শ্রেণীর মানুষের হাতে একরকম ক্ষমতায়ন হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রচন্ড শক্তিশালী মুসলিম বিদ্বেষ আগে থেকেই ছিল। কেন্দ্রে যে দল এখন ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের বলে বলীয়ান হয়ে ওই শ্রেণীর মানুষ নিজেদের বিদ্বেষটাকে উগরে দিতে শুরু করেছে,” বলছিলেন মি. সেনগুপ্ত।
সমাবেশে প্রগতিশীল লেখক-বুদ্ধিজীবি, কবি, গায়ক, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেই হাজির ছিলেন কলকাতার বেশ কিছু মুসলমান যুবক। তাদেরই একজন মুহম্মদ রাফে সিদ্দিকির কাছে জানতে চেয়েছিলাম সম্প্রতি মুসলমানদের পিটিয়ে মারার যেসব ঘটনা হচ্ছে ভারতে, তাতে তাঁরা কতটা আতঙ্কিত।
মি. সিদ্দিকির কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে অন্তত আমাদের সেই ভয়টা নেই। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশে আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে যা খবর পাই, তাতে ওরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। গোরক্ষার নাম করে হোক বা অন্য যে কোনও নামেই, কেন্দ্রীয় সরকারের তো দায়িত্ব এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার। এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না, এটা আনএক্সেপ্টেবল।”
ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে গতকাল যে নাগরিক প্রতিবাদ হয়েছে, কলকাতার সমাবেশের খবরও সামাজিক মাধ্যম দিয়েই ছড়িয়েছিল প্রথমে। আইনজীবি অধিরাজ রায় ফেসবুকের একটি পোস্ট দেখেই প্রতিবাদে যোগ দিতে এসেছিলেন।
তিনি বলছিলেন, “এরকম একটা নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক জমায়েতের খুব দরকার ছিল, যেখানে কোনও রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ব্যানার ছাড়া সমাজের নানা মানুষ এক জায়গায় জড়ো হবেন, একটাই দাবী নিয়ে, একটাই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে। সেদিক থেকে এটা নিঃসন্দেহে একটা ভাল উদ্যোগ।”
ঘটনাচক্রে, প্রতিবাদ সমাবেশগুলি কোনও রাজনৈতিক অথবা অরাজনৈতিক সংগঠন আয়োজন করে নি। কোথাও কোনও সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যানার পোস্টারও ছিল না – একটাই কথা প্রতিবাদে সামিল সকলের বুকে ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল – নট ইন মাই নেম – যেরকমটা যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদ সভাগুলিতে বলা হত একটা সময়ে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest