সর্বশেষ সংবাদ-
ঈদকে সামনে রেখে অপরূপ সাজে সেজেছে দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্টহত্যা, ধর্ষণ, জুয়া ও মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক ‘ক্রসফায়ার’: প্রধানমন্ত্রীকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আবেদনদুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালাশহরের কুখরালী থেকে সোহানা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারঈদ উল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শো, ও পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিংকালিগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তালায় গাঁজা সেবনের সময় আটক দিদার মোড়ল : ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডসাতক্ষীরায় পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অবহিতকরণসাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনদেবহাটায় ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বিধবা নারীর মাটির ঘর: মানবেতর জীবন

: আপনার জীবনের বড় ভুল কী?

: বিয়ে করা। এত অল্প বয়সে বিয়ে করা আমার উচিত হয়নি। আরেকটু ভেবেচিন্তে, জেনে বুঝে তবেই বিয়ে করা উচিত ছিল। সরকার সবার বিয়ের জন্য বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন বুঝি, এর একটা কারণ আছে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা, ভাবনা আর সব কিছুরই একটা পূর্ণতা আসে।

বললেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বিয়ে করা নাকি শাকিব খানকে বিয়ে করা—ভুল কোনটা? তবে এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি। বুধবার রাতে জাগো এফএমে সাক্ষাৎ​কার দেন তিনি।

হঠাৎ​ ছেলে আব্রামকে নিয়ে মিডিয়ার সামনে আসা এবং শাকিব খানকে নিজের স্বামী বলে ঘোষণা করা— এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল? সঞ্চালক তানভীর তারেকের এমন প্রশ্নের জবাবে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘শাকিব খানের মাথায় ছিল আরও কিছুদিন তার স্ত্রী আর ছেলেকে সবার কাছ থেকে আড়ালে রাখবে। কিন্তু আমি তা চা​ইনি। সেপ্টেম্বর মাসে আমার ছেলের বয়স ১ বছর হবে। দুই দিন আগে ঈদ হলো। সবাই আমাকে আমার ছেলের কথা জিজ্ঞাসা করছে। ঈদে ও কী করেছে, এসব নিয়ে লেখা হচ্ছে। এটা কিন্তু ওর জন্য দোয়া। এই দোয়া থেকে ওকে আমরা কেন বঞ্চিত করব।?’

সংসার নিয়ে অপু বলেন, ‘একটা সংসারের জন্য দুজন মানুষের মনের মিল থাকা দরকার।’ আরও বলেন, ‘সুখটা অচীন পাখী, তাকে ধরা যায় না।’

মধুচন্দ্রিমা (হানিমুন) নিয়ে অপু বললেন, ‘মধুচন্দ্রিমা সবার জীবনে আসে না। তাদের মধ্যে আমি একজন।’

শাকিব খান বারবার অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রী অপু একটা চক্রের সঙ্গে মিলে তার ক্ষতি করছে। এ ব্যাপারে অপু বলেন, ‘আমি মোটেও কোনো চক্রের সঙ্গে নেই। আমি কোনো চক্রান্ত করিনি। বরং আমাকে আর আমার ছেলেকে নিয়ে শাকিব চক্রান্ত করেছে।’

সেপ্টেম্বরে আব্রামের প্রথম জন্মদিন। এই দিনটা কীভাবে উদযাপন করবেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস দম্পতি? অপু বলেন, ‘আমার আসলে পরিকল্পনা করে কিছু হয় না। যা কিছু হয়েছে, হুট করেই হয়েছে। আর শাকিব নিজের কাজ নিয়ে যা ব্যস্ত। এখনই কিছু বলতে পারছি না।’

জানালেন, ঈদের দিন ​শাকিব ছবির কাছে লন্ডনে ছিলেন। কিন্তু ছেলে আব্রামকে সঙ্গে নিয়ে শাকিব খানের বাসায় যান অপু। নিজের শ্বশুর–শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের জন্য রান্না করা খাবার নিয়ে গেছেন। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বাসায় ছিলেন তিনি। এরপর ননদের বাসায় যান। ননদ আর তার বাচ্চাদের ঈদের উপহার দিয়েছেন। ননদের মেয়ে আব্রামের প্রায় সমবয়সী। ওরা খুব আনন্দ করেছে। একসঙ্গে খেলা করেছে। পুরো ব্যাপারটি উপভোগ করেছেন অপু।

আর স্বামী শাকিবের ব্যাপারে অপু বলেন, ‘ও এখনো সাংসারিক হতে পারেনি। ভয়াবহ ব্যস্ত! ও যেন নিজেকে ভুলে না যায়।’ আর সংসারের জন্য সবাইকে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। অপু বললেন, ‘আমিও স্যাক্রিফাইস করছি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ক্যালিফোর্নিয়ার তাপমাত্রা সেদিন ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দৌড়বিদ আলিসিয়া মনট্যানো পাঁচমাসের গর্ভবতী। খোঁপায় একটা লাল ফুল বেঁধে ওই অবস্থায়ই নেমে পড়েন ইউএস চ্যাম্পিয়নশিপে।

এতকিছু থাকতে খোঁপায় কেন ফুল। উত্তরটা দিয়েছেন আলিসিয়া নিজেই, ‘ফুল আমার কাছে শক্তির প্রতীক। এখানে ২০১৪ সালেও অংশ নিয়েছিলাম। তখন আমার গর্ভে ৮ মাসের সন্তান ছিল।’

আলিসিয়া প্রথম রাউন্ডের দৌড় শেষ করেন দুই মিনিট এবং ২১.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। ২০১৪ সালে এরচেয়ে ১১ সেকেন্ড কম সময় নিয়েছিলেন।

এই ঘটনাকে আলিসিয়া ‘ভালোর জন্য যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন, ‘ওই ফুল আমার কাছে নারী শক্তির চিহ্ন। আমি দেখাতে চেয়েছি একজন পেশাদার নারী অ্যাথলেটের জীবন কেমন হয়। ভালোর জন্য যুদ্ধটা তো এমনই হয়।’

বৃহস্পতিবার আলিসিয়ার সেই মেয়েও স্টেডিয়ামে ছিল। ২০১৪ সালে যাকে পেটে নিয়ে দৌড় শেষ করেছিলেন। ৩ বছরের ওই মেয়ে মায়ের জন্য ফিনিশিং লাইনে অপেক্ষা করছিল। তার টি-শার্টের বুকে লেখা ছিল, ‘মায়ের মতো শক্ত।’

এমন যুদ্ধ যে মা করতে পারে, তার মেয়ের শক্ত না হয়ে উপায় আছে?

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ৮৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার ও মাদক করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ০৬ জন, কলারোয়া থানা ০১ জন, তালা থানা ০৪ জন, কালিগঞ্জ থানা ০৩ জন, শ্যামনগর থানা ১৩ জন, আশাশুনি থানা ০৩ জন, দেবহাটা থানা ০১ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার মানুষের জীবনকে হুমকিতে ফেলেছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই পাড়া-মহল্লার দোকানে এ ওষুধ দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। সর্দি-কাশি বা সামান্য শারীরিক সমস্যা হলেই কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল কিনে খাওয়া এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া, শুরু করে শেষ না করা এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় না খাওয়া শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই এর অপপ্রয়োগ বন্ধে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধের দোকানগুলোতে এই ধরনের ওষুদ বিক্রি বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রায় চার মাস আগে ৮৩ বছর বয়সের মাহবুবুর রহমান (ছদ্মনাম) মারা যান পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ডায়াবেটিক, উচ্চরক্ত চাপ নিয়ে মাহবুবুর রহমান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি। আবার এক মাস আগে ৬৭ বছরের প্রকৌশলী মুকুল চন্দ্র দাস (ছদ্মনাম) বৃষ্টিতে ভেজার পর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তার ফুসফুসে ইনফেকশন এবং নিউমোনিয়া হয়েছে বলে ধরা পড়ে। প্রথমে বারডেম এবং পরে পান্থপথের একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। কিন্তু তার শরীরে কোনও ড্রাগ কাজ করছিল না, চিকিৎসকদের প্রাণান্ত চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন, ‘ইমিউনো কম্প্রোমাইজ বা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাওয়ার কারণেই তাকে বাঁচানো যায়নি। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াতে এবং অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে আর কাজ না করাতেই মৃত্যু হয়েছে দু’জনেরই।’

গবাদি পশু, মাছ এবং কৃষিক্ষেত্রেও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার আশঙ্কা হারে বেড়েছে। শতকরা ৫০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে কৃষি খাতে, কৃষিপণ্য এর যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে বাড়ছে কিডনি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এসব কারণে ২০১৫ সাল নাগাদ বিশ্বের এক কোটি মানুষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে মৃত্যুবরণ করবে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

অন্যদিকে, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের করা এক গবেষণা জরিপ থেকে জানা যায়, রাজধানীতে শতকরা ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অর্থ্যাৎ ঢাকায় মানুষের শরীরে যে রোগ জীবানুর সংক্রমণ ঘটে তার বিরুদ্ধে ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক কোনও কাজ করে না।

যেটা দরকার নেই, সেটাও ব্যবহার হচ্ছে, যখন দরকার নেই, তখনও ব্যবহার হচ্ছে। নিয়ম মেনেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা মনে করেন, দেশে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ‘এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মহাদুযোর্গের প্রতিধ্বনি হিসেবে শুনতে পাচ্ছি আমরা।’

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে বাংলাদেশে কত মানুষ মারা যায় এমন কোনও জরিপ বা গবেষণা না থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরে ২৩ হাজার আর বিশ্বে সাত লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। এ ধারা চলতে থাকলে বিশ্বজুড়ে বছরে এক কোটি মানুষ মারা যাবে ওষুধ না পেয়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী যৌনরোগ গণরিয়ার চিকিৎসায় কোনও ওষুধ কাজ করছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে গণরিয়ার আর কোনও চিকিৎসাই থাকবে না।
অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হওয়ার কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা।
তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স খুবই ভয়ের কথা। যখন তখন খাওয়ার প্রবণতা যদি আমরা রোধ করতে না পারি, তাহলে আমাদের সামনে ভয়ঙ্কর দিন অপেক্ষা করছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ফারুক বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আর নিয়ম না মেনে খেলে শরীরে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। রেজিস্ট্যান্স নানা কারণে হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবাণুকে মারার জন্য যে পরিমাণ প্রয়োজন তার চেয়ে কম সেবন, ঘন ঘন অথবা অধিক মাত্রায় সেবন এবং পুরো কোর্স সম্পন্ন না করা এবং নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা অন্যতম কারণ।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সব ধরনের হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধের ব্যবহার বেশি। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ম্যাক্রোলাইড, দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন ও পেনিসিলিন।
এছাড়া, এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ।
গবেষণায় আর দেখা যায়, অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে ভুল ব্যবহার বেশি। আর ভুল অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের কারণে হাসপাতালে বেশিদিন অবস্থান করতে হয়, শারীরিক জটিলতার মাত্রা বেশি হয় এবং এতে মৃত্যুর হারও তুলনামূলকভাবে বেশি।
প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, যথেচ্ছ ব্যবহারকে থামাতে যদি ব্যর্থ হই, তাহলে একটা সময়ে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ অকার্যকর হয়ে যাবে আর পৃথিবীতে রাজত্ব করবে জীবানুরা। তাই যতো দ্রুত সম্ভব এ অবস্থার রাশ টেনে ধরতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সিতেশ চন্দ্র বাছার অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সেকে বাংলাদেশের সিরিয়াস মেডিক্যাল ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কারবাপেনেম শ্রেণির একটি অ্যান্টিবায়োটিক আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র চিকিৎসারত রোগীদের দেওয়া হয়। যখন তাদের অন্য সবগুলোই কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু যদি কোনোভাবে কারবাপেনেম ওষুধটি রেজিস্ট্যান্ট হয়, তাহলে আইসিইউ রোগীরা ওষুধ না পেয়েই মারা যাবে। খুবই আশঙ্কার বিষয় কারবাপেনেমও রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাচ্ছে কোথাও কোথাও।’
অধ্যাপক ড. সিতেশ চন্দ্র বাছার আরও বলেন, ‘বাংলাদেশসহ এশিয়ার ১১টি দেশের অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যার কারণে অস্ত্রোপচার ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যবহত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ অবস্থাকে তুলনা করেছে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হবার আগের যুগের সঙ্গে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুর রহিম বলেন, ফ্রান্স, আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নতদেশগুলোতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোথাও অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হয় না। অথচ আমাদের দেশে ফার্মেসিতে গিয়ে যা চাওয়া হয়, তাই পাওয়া যায়।’
অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলগুলোতে হাতুড়ে চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে শহরের চেয়েও বেশি এগিয়ে আছে মন্তব্য করেন অধ্যাপক আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব অ্যান্টিবায়োটিক দিতে সাহস পাইনা, সেগুলোও তারা রোগীদের দিচ্ছেন।’
অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার কারণে রোগীদের চিকিৎসা করাতে পারছেন না এমন কোনও রোগী পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও সে পর্যায়ে যাইনি, তবে সতর্ক না হলে সে পর্যায়ে যেতে আমাদের সময় লাগবে না।’
উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রস্রাবের ইনফেকশন একটি কমন অসুখ, এ অসুখের জন্য যখন কালচার টেস্ট করা হয় সেখানে দেখতে পাই, অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করার মতো অস্থায় নেই। দু-একটা ওষুধ ছাড়া প্রায় ড্রাগই রেজিস্টেন্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে, নয়তো মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর জন্যও একসময় কোনও ড্রাগ থাকবে না।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এতদিন মেসির সামনে ছিলেন মুর্তিমান আতঙ্ক। পরপর দুটি কোপা আমেরিকা ফাইনালে মেসিদের কাঁদিয়েছেন তিনি। এবার একই অভিজ্ঞতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও দিলেন ক্লদিও ব্রাভো। চিলির গোলরক্ষক ব্রাভো একাই বলতে গেলে হারিয়ে দিয়েছেন রোনালদোর পর্তুগালকে। টাইব্রেকারে টানা তিনটি শট ফিরিয়ে দেন এবং শেষ মুহূর্তের নায়কে পরিণত হন তিনি।

ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের সেমিফাইনালে দু’দলের খেলাই ছিল গোলশূন্য ড্র। নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত ৩০ মিনিট নিষ্প্রাণ ফুটবলই খেলে গেছে চিলি এবং পর্তুগাল, দু’দলই। কেউ কারও জালে বল প্রবেশ করাতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত খেলা গড়াল ভাগ্য নির্ণায়ক টাইব্রেকারেই। এখানে এসেই নায়ক হয়ে গেলেন চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো। রোনালদোদের টানা তিনটি টাইব্রেকারের শট ফিরিয়ে দেন তিনি এবং পর্তুগালকে একাই হারিয়ে দেন। টাইব্রেকারে পর্তুগিজদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালে উঠে গেলো কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের যৌনপল্লীতে বাংলাদেশি নারীদের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। লোভনীয় চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি শিশু, কিশোরী এবং নারীদের ভারতে পাচারের পর সেখানকার বিভিন্ন যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
নারী ও শিশু পাচারের উদ্বেগজনক এ তথ্য তুলে ধরে ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত চিঠিতে বলেছেন, কোলকাতা, মুম্বাই, গোয়া, পুনে ইত্যাদি শহরে বাংলাদেশি নারীদের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজটি করছে।
সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর নারীরা বেশি সংখ্যায় পাচারের শিকার হয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুম্বাইতে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার সামিনা নাজ বলেন, ‘২০১৪ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আমরা ৩৫০ জনের বেশি বাংলাদেশি নারীকে দেশে ফেরত আসার জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছি। এছাড়া, এখনও অল্পসংখ্যক নারী আছেন, যাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আমরা এ ধরনের কোনও খবর পেলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়ে থাকি।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কূটনীতিক বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় দেখা যায়, অনেক নারী অন্তঃসত্ত্বা থাকেন, বা তারা বাচ্চার মা হয়ে যান। এক্ষেত্রে আমরা বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন যোগাড় করে লিখে দেই, এ বাচ্চার বাবা একজন ভারতীয় নাগরিক।’

তিনি বলেন, ‘এটি একটি মানবিক বিষয় এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সময়ে এ বিষয়টি আলোচিত হলে ভালো হয়।’

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত মার্চে পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতের বিএসএফ মানবপাচার নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করে এবং সেখানে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে ভারতের দুটি এনজিও সেদেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে বাংলাদেশি নারীদের ওপর তাদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে।’

সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী নারীরা পাচারের সময়ে ধরা পড়লে এটি স্বীকার করতে চান না ।’

গত ছয় মাসে শুধুমাত্র যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্তে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত অতিক্রমকালে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং এরমধ্যে এক-তৃতীয়াংশই নারী।
এদিকে রাষ্ট্রদূত মোয়াজ্জোম আলী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারতের যৌনপল্লীতে বাংলাদেশি নারীদের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে বা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর অবস্থা বাংলাদেশের মতো হলেও সেখানকার যৌনপল্লীগুলোতে তাদের নারীদের সংখ্যা বাংলাদেশি নারীদের তুলনায় কম। ভারতের সেসব রাজ্যে জনসচেতনতামূলক প্রচারণার কারণে এটি ঘটছে বলে তিনি মনে করেন।

রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মাধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হবার প্রত্যয় রাখছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে শিশু, কিশোরী ও নারীদের পাচার দেশের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বলে তিনি মনে করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দুই দিনের মাথায় আবারও ভূমধ্যসাগর থেকে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে প্রায় পাঁচ হাজার শরণার্থীকে উদ্ধার করে ইতালির নৌবাহিনী। পরে উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হন রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা। এ সময় অন্তত ২৪ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এর আগে রবিবার লিবিয়ার উপকূল থেকে ৭১২ শরণার্থীকে উদ্ধার করে আয়ারল্যান্ডের নৌবাহিনী।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর শহরতলী এলাকার উপকূলের কাছ থেকে এসব শরণার্থীকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, হতভাগ্য শরণার্থীদের লাশগুলো সোমবার থেকে উপকূলে ভেসে আসতে শুরু করে। কুকুরের পেটে গেছে কয়েকটি লাশের কিছু অংশ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছোট নৌকায় করে ভাগ্যবিড়ম্বিত ইউরোপমুখী এ শরণার্থীদের পরিবহন করা হচ্ছিল। একটি জার্মান সাহায্য সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার রাতে ভূমধ্যসাগরে ইতালীয় বাহিনীর নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে তিন শরণার্থীর মৃত্যু হয়।

ইতালীয় কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জানান, জরুরি সেবা সংস্থা, ইতালির নৌবাহিনী ও সাহায্য সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টায় এবং ব্যক্তিগত নৌকায় করে সোমবার প্রায় পাঁচ হাজার শরণার্থী লিবিয়ার উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এর আগে চলতি মাসের গোড়ার দিকে ভূমধ্যসাগরে ১২৬ জন শরণার্থীবাহী একটি নৌকাডুবি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হয়। জাতিসংঘ অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, নৌকাটির ইঞ্জিন চুরি হওয়ার কারণেই এটি সাগরে ডুবে যায়।

২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে তুরস্কের উপকূলে সন্ধান মেলে আয়লান নামের এক সিরীয় শিশুর মৃতদেহ। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে নিথর পড়ে থাকা শিশু আয়লান কুর্দির নাম শুনলে এখনও স্তব্ধ হয়ে যান অনেকে। ছোট নৌকায় থাকা আয়লান ও তার ভাই ভেসে যায় তুরস্কের সৈকতে। তাদের মা ভেসে যান দূরের অন্য এক সৈকতে। এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সপরিবারে সাগরে ভাসছেন হাজার হাজার আয়লান কুর্দি। এই শরণার্থীদের সলিল সমাধি যেন থামছেই না। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রাত ১১টার পর ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপসহ সব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ। জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন বলেন, এবারের অর্থবাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ টাকা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হবে। ইয়ং জেনারেশন সারারাত ধরে মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ভাইবার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। রাত ১১টার পর এগুলো বন্ধ করতে হবে। অনেক দেশেই এসব রাতে বন্ধ থাকে।
বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৭- ২০১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest