সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটনঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন: সাতক্ষীরার গাবুরায় লাখ টাকা জরিমানাতালায় জেলে-কৃষকের জীবন-জীবিকার কথা শুনলেন ড. হোসেন জিল্লুরদেবহাটায় ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সম্মাননা স্মারক বিতরণবৃষ্টি হলেই খানাখন্দে পানি, কুলিয়া-গাজীরহাট সড়কে চরম দুর্ভোগ : ধীরগতির কাজে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীসাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ ডিসিরবিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জেলা মৎস্যজীবী দলের মাছের পোনা অবমুক্তদেবহাটায় ৪০০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির জেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম নেওয়াজ দেশটির সুপ্রিম কোর্টের গঠিত যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। বুধবার তিনি ইসলামাবাদে জেআইটির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ছয় সদস্যের জিজ্ঞাসাবাদে মুখোমুখি হতে ফেডারেল জুডিশিয়াল একাডেমিতে পৌঁছেন।

এর আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের অফশোর সম্পত্তির তদন্তের জন্য একটি তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ দেয়। বুধবার সকালের দিকে পাক প্রধানমন্ত্রীর কন্যা মরিয়াম নেওয়াজ যখন ইসলামাবাদে পৌঁছান তখন জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সের বাইরে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ’র (পিএমএল-এন) শত শত কর্মী অবস্থান নেন।

তারা মরিয়াম নেওয়াজের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেন। এসময় পাক প্রধানমন্ত্রী কন্যা উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

এক্সপ্রেস নিউজ বলছে, গত ২৫ জুন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট মরিয়াম নেওয়াজের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। একই সঙ্গে ৫ জুলাই বুধবার সকাল ১১ টায় তাকে জুডিয়াল কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছেন, এই প্রথম যৌথ তদন্ত দলের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা মরিয়াম নেওয়াজ। এর আগে তার দুই ভাই হুসাইন ও হাসান নেওয়াজ যথাক্রমে ছয় ও তিনবার জেআইটির মুখোমুখি হন।

উল্লেখ্য, পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলে গত ২০ এপ্রিল জানিয়ে দেয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে যৌথ তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের ফলে ক্ষমতায় থাকতে নওয়াজের জন্য সব ধরনের বাধা কেটে যায়। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেয়। সেই সময় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ সুপ্রিম কোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, শীর্ষ আদালতের রায় ৩-২ এ বিভক্ত। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে চিঠিতে বলেছিলেন যে, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করা উচিত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজের ছেলে বড় হয়ে কি হবেন, এমন কোন কিছুই এখনো বলেননি বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ছেলের একটি ভিডিও আপলোড করেছেন এই ওপেনার। আর এরপর থেকেই গুঞ্জন উঠেছে তাহলে কি বাবার মতই ক্রিকেটার হচ্ছেন তামিম পুত্র!

ফেসবুকের ভিডিওতে দেখা যায়, `দুই হাতে দুই ব্যাট নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন তামিম পুত্র আরহাম।`

উল্লেখ্য, স্কুল জীবন থেকেই তামিম-আয়েশার মন দেয়া-নেয়া শুরু। আট বছরের লম্বা সময় ধরে চলেছে প্রেম পর্ব। ২০১৩ সালের ২২ জুন আনুষ্ঠানিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারকা এ জুটি। এরপর ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসেন তামিম-আয়েশা দম্পতির প্রথম সন্তান আরহাম খান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : শত ব্যস্ততার মাঝেও বিটিভির জেলা প্রতিনিধির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। জানালেন সমবেদনা আর সান্তনা। এ সময় তিনি মরহুম মলুদা খাতুনের পরিবারকে সান্তনা দেন। সাতক্ষীরায় বিটিভির জেলা প্রতিনিধির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর মাতা মলুদা খাতুনের শোকাহত পরিবারের খোঁজ নিতে এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাতে বুধবার সকালে পুরতন সাতক্ষীরাস্থ মরহুমের বাস-ভবনে যান সাংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। মলুদা খাতুন মঙ্গলবার রাতে বার্ধ্যক্য জনিত কারণে নিজস্ব বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি ৫ পুত্র সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের মরদেহ বুধবার বাদ জোহর দারুস সালাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাযা শেষে শহরের কামালনগর সরকারি গোরস্থানে দাফন করা হয়।
সাংসদ রবি বিটিভির জেলা প্রতিনিধির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর মাতা মলুদা খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এসময় জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, জেলা শ্রমিকলীগ নেতা শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু, জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এড. শাহনওয়াজ পারভীন মিলি, সৈয়দ নাজমুল হক বকুল ও জেলা তাঁতীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইব্রাহীম হোসেনসহ মরহুমের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তিনি শোকাহত পরিবারকে সান্তনা দেন ও সমবেদনা জানান। বেশ কিছু সময় পরিবারের সদস্যদের পাশে কাটিয়ে বাসায় ফেরেন এমপি রবি। আগামী শুক্রবার বাদ জুমআ নিজস্ব বাসভবনে মরহুমের বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

গাজী আল ইমরান : মঙ্গলবার বিকালে শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী গ্রামের আনারুল ইসলামের শিশু কন্যা(০৫)কে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মজিদ গাজীর বখাটে পুত্র জাহিদুল (২২) এর বিরুদ্ধে।
শিশুটির পিতা এ প্রতিবেদকের কাছে বলেন ‘আমার কন্যা খেলা করতে বাড়ির বাইরে খেলতে গেলে জাহিদুল আমার কন্যাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের করে। কিছুক্ষণ পরে আমার মেয়ের সাথে থাকা একই বয়সের একটি মেয়ে জাহিদুল কেন এরকম করছে জানতে চাইলে সে আমার মেয়েকে ছেড়ে দেয়। আমার শিশু কন্যা কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসার পর আমি তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছি। তিনি আরো বলেন আমার মেয়ে শারিরীকভাবে ভীষণ জখম হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি শ্যামনগর হাতপাতালে ভর্তি আছে।
তার পিতা আরও বলেন, “আমি জাহিদুলের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”
শ্যামনগর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটি শারীরিকভাবে জখম হয়েছে তবে মেডিকেল পরীক্ষার পরেই সবকিছুই বলা যাবে।
মামলার বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল মান্নান আলী জানান, “ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে একটি দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে আমরা শিশুটির পিতা বাদি হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশ নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় ১৬৯ পিচ ইয়াবা ও ২৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১১ জন, কলারোয়া থানা ০৩ জন, তালা থানা ০২ জন,কালিগঞ্জ থানা ০২ জন, শ্যামনগর থানা ০৭ জন, আশাশুনি থানা ০৪ জন, দেবহাটা থানা ০২ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অবাক হওয়ার মতো কথা হলেও, এই বিশ্বাস কিংবা কুসংস্কারটি কিন্তু এখনও বহু মানুষদের মধ্যে পাওয়া যায়৷ এবং এর জন্য ওঝারাই দায়ি, বলছেন ওয়াকিবহাল মহল৷

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় গত মাসে ১৮ বছর বয়সি শঙ্করী মাহাতোকে কুকুরে কামড়েছিল৷ কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে শঙ্করী যায় পাশের গ্রামের এক ওঝার কাছে৷

সে গ্রামের ৭০ বছর বয়সি ওঝা বুদ্ধেশ্বর সিং মেয়েটিকে জড়িবুটি মেশানো দই-চিঁড়ে খেতে দেন এবং বলেন যে, ঐ খেলেই তাঁর আর কুকুরের কামড় থেকে কোনো অসুখবিসুখ করবে না৷ খবর ডয়চে ভেলের।

শঙ্করী মাহাতোর বক্তব্য: ‘‘আমরা জানি, কুকুরে কামড়ালে মানুষের পেটে কুকুরের বাচ্চা হয়৷ তা থেকেই জলাতঙ্ক ঘটে আর মানুষ মরে যায়৷ ওঝা যে ওষুধ দিয়েছে, তার জন্যেই আমি বেঁচে গেছি৷”

শঙ্করীর মা মালতী মাহাতো জানান যে, তাঁকেও বছর আটেক আগে কুকুরে কামড়েছিল এবং তিনি বুদ্ধেশ্বর সিং-এর ওষুধ খেয়ে সেরে ওঠেন৷

ডাক্তারি শাস্ত্রে নিরক্ষর, সরল মানুষজনের এই অদ্ভুত বিশ্বাসটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাপি প্রেগন্যান্সি সিনড্রোম’ বা পিপিএস অর্থাৎ ‘পেটে কুকুরের বাচ্চা রোগ’৷

পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় ইত্যাদি রাজ্যে হাজার হাজার মানুষ এই আজগুবি রোগের কথা বিশ্বাস করেন৷

মনস্তত্ত্ববিদ কুমার কান্তি ঘোষ প্রায় দু’দশক ধরে পিপিএস নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ তিনি বলেন, আসলে এই কুসংস্কারের পিছনে রয়েছে গণ-হিস্টিরিয়া৷

মালদা সরকারি হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের প্রধান ড. ঘোষ বলেন, তাঁদের হাসপাতালে তাঁরা একাধিকবার পিপিএস-এর ঘটনা দেখেছেন৷ পেট পরীক্ষা করে কিছুই না পাওয়া যাবার পর রোগীদের মানসিক চিকিৎসার জন্য তাঁর বিভাগে পাঠাতে হয়েছে৷

ওঝা বুদ্ধেশ্বর সিং কোনোদিন স্কুল-পাঠশালার মুখ দেখেননি৷ তিনি বলেন, ‘‘কুকুরে কামড়ানোর হপ্তা দুয়েক বাদে পেটে কুকুরের বাচ্চা জন্ম নেয়৷ তারা নাকি পেটের মধ্যেই লাফালাফি, দৌড়োদৌড়ি করে – আর তাদের সঙ্গে রোগীও ছটফট করে৷ জল দেখলে রোগী তাতে ঐ কুকুরের বাচ্চাদের মুখ দেখে৷ তারপর নিজেই চারদিকে ছুটোছুটি করে পাগলা কুকুরের মতো ডাকতে ডাকতে মারা যায়৷”

কুকুরে কামড়ানোর সাত দিনের মধ্যে বুদ্ধেশ্বর সিংয়ের ওষুধ খেলে আর নাকি কুকুরের বাচ্চা জন্মাতে পারে না, আর জন্মালেও ওঝার ওষুধের গুণে সেসব বাচ্চা মারা যায়, রোগীও প্রাণে বেঁচে থাকে৷

এখন প্রশ্ন হলো, নিরক্ষরতা আর কুসংস্কারের কোনো ভালো ওষুধ ডাক্তারদের জানা আছে কিনা৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কেএম রেজাউল করিম: দেবহাটার ৫ নারীর কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। বর্তমানে তারা সমাজের অন্য মানুষের মত সুখে শান্তিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে বসবাস করছে। অধিক পরিশ্রম আর প্রচেষ্টা নিজেদের উন্নয়ন ঘটানোর কাহিনি জানিয়েছেন উপজেলার ৫ নারী।

কঠোর পরিশ্রমী সালমার ব্যবসায় সফলতা
উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী সালমা খাতুন। তিনি একজন পরিশ্রমী ব্যক্তি। কঠোর পরিশ্রমে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। সফলতার কথা জানিয়ে সালমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি শয্যাশয়ী। তার উপার্জন বন্ধ থাকায় পরিবার একেবারে অচল হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়ে আমি সংসারের হাল ধরার জন্য কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে আমার কাপড়ের ব্যবসার লভ্যংশদিয়ে সংসার পরিচালনা করছি। এমনকি আমাদের জমির উপর ৩টি পাকা ঘর নির্মান করেছি। যার মধ্যে ২টি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে আমার দোকান ও ভাড়া ঘর থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে অনেক ভাল জীবন যাপন করছি। আমার ২ সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সমাজে আমার গ্রহণ যোগ্যতা বেড়েছে।

বে-সরকারি চাকরিতে ভাগ্য ফিরেছে ঝরনার
উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামের তুষার রায়ের স্ত্রী ঝরনা রায়। তিনি এইচ,এস,সি পাশ। সফলতার কথা জানিয়ে ঝরনা রায় বলেন, আমার সংসারে ৬জন সদস্য। আমার স্বামী একজন দিনমুজুর। সে অন্যের জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চিংড়ি চাষ শুরু করে। কিন্তু ভাইরাসে সব মাছ মারা যায়। সে কারনে অঅমার স্বামী ঋনের চাপে হতাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তারপক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারনে আমি সংষারে দায়িত্ব গ্রহন করি। আমি বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাকের একটা ছোট চাকুরীতে যোগদান করি। সেই চাকুরীর উপর নির্ভর করে সংসার চালানো, স্বামীর ঋনের টাকা পরিশোধ, ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখা চালাতে থাকি। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুখে দিন কাটছে। আমার মেয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ছেলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ছে।

একজন রতœগর্ভ মা ফতেমা
দেবহাটার রতœগর্ভা মা ফতেমা। সে উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের আব্দুর রহিম মোড়লের স্ত্রী। সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার নিভৃতে পল্লীতে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন ফতেমা খাতুন। তিনি ছিলেন সমাজ সচেতন, শিক্ষানুরাগী এবং আতœপ্রত্যায়ী। নিজে নিরক্ষর হয়েও শিক্ষার প্রতি ছিলেন অদ্যম অনুরাগী। কোন প্রতিকুলতায় তাকে হার মানাতে পারেনি। তার ছিল ৭ ছেলে ২ মেয়ে। স্বামী ছিলেন অন্যর ঘেরের সামান্য বেতনের কর্মচারী। সে কারনে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করতেন ফতেমা। এই উৎস্য থেকে উৎপাদিত অর্থ দিয়ে ছেলে-মেয়েদের খাতা-কলম কিনে দিতেন। একই বই পর্যাক্রমে সবাই পড়ত। তার সন্তানেরা ৫ম, ৮ম, এসএসসি তে মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে উচ্চ শিক্ষায় সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে ৩জন বিসিএস পাশ করেছেন। ৭ ছেলেরা হল ফারুক হোসেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, কামরুল ইসলাম খুলনা মেট্রোপলিটনের সহকারী কমিশনার, ডাঃ শরিফুল ইসলাম (এফসিপিএস) কনসালটেন্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, আরিফুল ইসলাম চাপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র সরকারী সিনিয়র কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, খায়রুল ইসলাম পলিটেকনিক ইঞ্জিনিয়ার, রফিকুল এম কম পাশ মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক, তরিকুল ইসলাম দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। মেয়েরা হলেন আয়েশা খাতুন বিএ (অনার্স) পাশ এবং আফরোজা খাতুন এম এ পাশ। বর্তমানে তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে সুখী সমৃদ্ধিশালী জীবনযাপন করছেন।

তাহেরা এখন স্বাবলম্বী
উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা গ্রামের শেখ সুরাত আলীর স্ত্রী উম্মে তাহেরা(উষা) স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাহেরা জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য শারিরিক নির্যাতন করত। পিতা গরীব হওয়ায় যৌতুক দিতে না পারায় নির্যতনের মাত্রা বেড়ে যায়। দিনের পর দিন নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন তাহেরা। সে জন্য
স্বামী তাকে বৈধ তালাক দেয়। সে সময় পাশে দাঁড়ানোর মত কেউই ছিল না। নিরাপত্তার কারনে ২য় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েও কোন আশার আলো দেখা মেলেনি। বাধ্য হয়ে নিজের একান্ত প্রচেষ্টায় বাড়িতে হাঁস-মুরগী ও গাভী পালন করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। বর্তমান তাহেরার এক কন্যা সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স এবং অপরজন ১ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। পূর্বের তুলনায় সংসারে অনেক উন্নয়ন হয়েছে তার। বেড়েছে সমাজের গ্রহণ যোগ্যতাও।

সংগ্রাম করে চলছে খাদিজার জীবনযাত্রা
উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা পারভীন। সংগ্রাম করে চলছে যার জীবন সংগ্রাম। নিজের ভাগ্যর পরিবর্তন ঘটতাতে প্রথমে সার্স (এনজিও)তে জনসংগঠক হিসাবে দর্জি বিজ্ঞান স্কুলের ট্রেনার হিসাবে কাজ শুরু করে সে। তারপর প্রগতি সমবায় ঋনদান সমিতিতে মাঠ কর্মী হিসাবে কাজ করে খাদিজা। একই সাথে উত্তরণের সফল প্রকল্পের নিউট্রিশন পাটে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে ব্লাডপ্রেশার মাপাযন্ত্র, ডায়বেটিক্স পরীক্ষা মেশিন, ওজন মাপক যন্ত্র অছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়া কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্য সেবার উপর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest