সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধন

ব্রাজিলে ফুটবল মাঠে দাঙ্গা-হাঙ্গামা যেন নিত্য ঘটনা। আর এসব দাঙ্গায় দর্শক-সমর্থক নিহত হওয়ার ঘটনাও নতুন নয়। আবারও তেমনই এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কলঙ্কিত হয়েছে সেলেসাওদের ফুটবল। নিহত হয়েছেন একজন সমর্থক।

শনিবার রিও ডি জেনেরিও ডার্বিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাস্কো ডা গামা এবং ফ্লেমেঙ্গো। অতীতে এই দুই দলের মারামারির ঘটনাকে মনে রেখে পর্যাপ্ত দাঙ্গা পুলিশও মজুদ রাখা হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই শুরু হয় যত বিপত্তি।

এদিন ফ্লেমেঙ্গোর কাছে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর নিজেদের মাঠে হার দেখেছে ভাস্কো ডা গামা। স্বভাবতই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে এই হার মানতে পারেনি স্বাগতিক সমর্থকরা। ফ্লেমেঙ্গো ফুটবলার ও সমর্থকদের দিকে বোতল এবং ইট ছোঁড়া শুরু করে তারা।

দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য উগ্র-সমর্থকদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস এবং গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয় পুলিশ। সেই গুলিতে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে আহতদের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

পুলিশের ছোঁড়া টিয়ার গ্যাসে আহত হয়েছেন ফুটবলাররাও। আগামী মৌসুম থেকে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখানো ভিনিসিয়াস জুনিয়রও আহত হয়েছেন এই ঘটনায়। টিয়ার গ্যাসের ঝাঁজে টিকতে না পেরে এক পর্যায়ে মাঠ ছেড়ে পালিয়েছেন ব্রাজিলের এই উদীয়মান ফুটবলার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পুরো ওয়ানডে সিরিজে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৬৭ রান করেছিলেন ক্যারিবীয় ওপেনার এভিন লুইস। আর সেই এভিন লুইস একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই ছাড়িয়ে গেলেন ওয়ানডে সিরিজের সংগ্রহকে। তার হার না মানা ৬২ বলে ১২৫ রানের ইনিংসে ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বলতে গেলে ভারতকে সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে পেলেই কেমন যেন খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসেন। ৬২ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১২টি ছয়! আর এই ইনিংস খেলে ক্যারিবীয়দের টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ স্কোরার এখন তিনি!

দীর্ঘ দিন পর ফেরা ওপেনার ক্রিস গেইল সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। নিজের ঘরের মাঠে মাত্র এক ছয় আর এক চারে বিদায় নেন ১৮ রানে। তার সঙ্গে ৩৬ রানে ক্রিজে থেকে জয় নিশ্চিত করেন মারলন স্যামুয়েলস। ক্যারিবীয়দের জয় আসে ১৮.৩ ওভারে।

এর আগে টস জিতে সফরকারী ভারতকেই ব্যাটিংয়ে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে খেলতে নেমে শুরুটাও দারুণ করেছিল ভারত। তাদের সেই শুরু দেখে চরম পরিণতির কথা হয়তো ভাবেননি কেউই! ৫.৩ ওভারেই ৬৪ ছাড়ায় কোহলিরা। যদিও এর পরেই কোহলিকে বিদায় করেন কেসরিক উইলিয়ামস। কোহলি বিদায় নেন ৩৯ রানে। এরপর ধাওয়ান ২৩ রানে ফেরেন রানআউট হয়ে। পরের ব্যাটসম্যান রিশাব পান্ত ৩৮ আর দিনেশ কার্তিক ৪৮ রান ছাড়া আর কেউই উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। ধোনি ফেরেন মাত্র ২ রানে। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান তোলে ভারত। ক্যারিবীয়দের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন জেরোম টেলর ও কেসরিক উইলিয়ামস।

ম্যাচসেরা হন ব্যাট হাতে ঝড় তোলা এভিন লুইস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় নিয়ে রবিবার সংসদ উত্তপ্ত  আলোচনা হয়েছে। রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ সরকার দলের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা আদালতের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সিনিয়র মন্ত্রীরাও আলোচনায় অংশ নেন। তারা বলেন, সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই রায় অনভিপ্রেত। মামলার শুনানিতে এমিকাস কিউরিদের বক্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন সংসদ সদস্য তাদের সুবিধাভোগী আখ্যা দিয়েছেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে একই ইস্যুতে পরবর্তী সময়ে আলোচনার কথা জানান।

সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর জাসদের সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন। সরকারের ৪জন মন্ত্রীসহ সরকারি দল, বিরোধী দলের ১০ জন সদস্য বিষয়টি নিয়ে দুই ঘণ্টা ২৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন। তবে, ব্যক্তি জীবনে আইন পেশায় যুক্ত কোনও সংসদ সদস্য এই ইস্যুতে সংসদের আলোচনায় অংশ নেননি। আলোচনার মাঝপথে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের পাঁচ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর চলতি বছরের ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১ জুন শেষ হয়। হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ৩ জুলাই আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ৭ মার্চ আপিল বিভাগ শুনানিতে সিনিয়র ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ  দেন আদালত। যাদের মধ্যে ১০ জন আদালতে অভিমত উপস্থাপন করেন। তাদের মধ্যে সিনিয়র আইনজীবী টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার  রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও এম আই ফারুকী ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেন। অন্য অ্যামিকাস কিউরি আজমালুল হোসেন কিউসি সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অন্য দু’জন মত উপস্থাপন করেননি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধান উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সংবিধান। সেই সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদকে আমরা পুনঃস্থাপন করেছিলাম। আদালতের রায় নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। আমার বক্তব্য সংসদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে। আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যামিকাস কিউরিরা অসত্য বলেছেন। ভুল তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, বাহাত্তরে ভারতকে অনুসরণ করে আমরা সংসদের হাতে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা দিয়েছিলাম। এখন ভারতে এটা নেই। তার মতো লোক এই ধরনের অসত্য কথা বলছেন।’ তিনি বলেন, ‘আরেক অ্যামিকাস কিউরি ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেছেন, এই ব্যবস্থা কোথাও নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদ্ধতি সংসদের হাতে রয়েছে। তিনি সাউথ আফ্রিকা, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সংবিধানেরও কথা উল্লেখ করে বলেন, একমাত্র ব্যতিক্রম পাকিস্তান। সেখানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আইয়ুব খান চালু করেছেন। এই আইয়ুব খানের পদ্ধতি আমাদের দেশের অ্যামিকাস কিউরিদের পছন্দ। জিয়াউর রহমান আইয়ুব খানকে অনুসরণ করে এই পদ্ধতি আমদানি করেছেন। এই দুই অ্যামিকাস কিউরিকে সুবিধাবাদী।’

বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সংবিধানের সঙ্গে কোথায় সাংঘর্ষিক, তা পরিষ্কার করা হয়নি। এর পেছনে উদ্দেশ্য সংসদকে তাদের ইচ্ছার অধীনে নিয়ে আসা। বিচারক নিজেরাই নিজেদের বিচার করবেন। এখানে তারা নিজেদের স্বার্থকে দেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু আদালত এই সংশোধনী বাতিল করে বললেন, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কোথায় সাংঘর্ষিক, সেটা বলেননি।’

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার গুরুতর অসদাচারণের কথাই বলতে হয়। কয়েকমাস আগে প্রধান বিচারপতির আদেশে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার দুর্নীতি দমন কমিশনে আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত না করার জন্য বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা তাদের দায়িত্ব পালনকালে অনেক কষ্ট করে মৃত্যুদণ্ডসহ অনেক বিচারের ব্যবস্থা করেছেন। রায় দিয়েছেন। তদন্ত যদি ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে করা হয়, সে বিচারের বিষয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’’  মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে বিচারপতি সিনহা ন্যায়বিচারের বাধা দেওয়ার অপরাধ করেছেন। যা দণ্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি সুপ্রিম কোর্টের নাম শুধু ব্যবহার করেননি, সুপ্রিম কোর্টের প্যাডও ব্যবহার করেছেন। যদিও এটা ছিল তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’

আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘৯৬ ধারা সংবিধানের মূলভিত্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিচারবিভাগই সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধ রায় দিয়েছেন।’ বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে বক্তব্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। আপনারা কি আপনাদের উত্তরসূরিদের মতো অশুভ শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে চান? সেই ইচ্ছা আর পূরণ হবে না। বাংলাদেশে সেই সুযোগ আর আসবে না। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার সংসদের কাছে জবাবদিহি করেন, অথচ বিচারকদের করা যাবে না? তাহলে কি তারা জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। এই ধরনের জাজমেন্ট দিয়ে আপনারা দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন।’

ড.  কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা সুবিধাবাদী। সংসদের সঙ্গে বিচার বিভাগের সংঘর্ষ বাধিয়ে তারা ফল পেতে চান।’ বিচার বিভাগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংসদের হাতে দায়িত্ব থাকবে। রায় নিয়ে আপানারা বসে থাকুন। সংসদ কার্যকর না করলে হবে না। আপনারা রায় দিতে থাকুন। সংসদ বিচার বিভাগের ন্যায্য বিচার করবে। বহু বিচারপতি এসেছেন, গেছেন।’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘সংসদ যদি সংবিধানের বাইরে যায়, সেটা দেখার দায়িত্ব বিচার বিভাগের রয়েছে। তারপরও তারা ভুল করতে পারেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি আমার আনুগত্য প্রকাশ করছি। বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমরা একমত। আবার বিচার বিভাগের দায়বদ্ধতা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটা নিয়েও আলোচনা করতে চাই। বাংলাদেশের বিচারকরা যখন রায় দেন, তখন সেটা ভুলও হতে পারে, অজ্ঞতাপ্রসূতও হতে পারে। কিন্তু এ জন্য আমরা কোনও ব্যবস্থা নেব না? শুধু ব্যক্তিগত অসদাচরণ করলেই তার বিরুদ্দে তদন্ত সাপেক্ষে সংসদ রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।’

জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘ড. কামাল কালো টাকা সাদা করেছিলেন। যিনি কালো টাকা সাদা করেন, তিনি কিভাবে অ্যামিকাস কিউরি হতে পারেন। আদালত তাকে কিভাবে ডাকেন? এই সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারলে বিচারকদের কেন পারবে না?’ তিনি বলেন, ‘এই আদালত পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছিলেন। পঞ্চম সংশোধনীতেই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।এই সংসদ নতুন কিছু করেনি। আমরা তো কোনও অপরাধ করিনি। আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে চাই না। তাদের রায়ের পর কথা থাকে না। কিন্তু এরপরও কথা আছে। কারণ এই সংসদ সার্বভৌম। জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘রিভিউয়ের মাধ্যমে ৯৬ ধারা বহাল রেখে বিচার বিভাগ সংসদের প্রতি সম্মান দেখাবে। জনগণের প্রতি সম্মান দেখাবে।’

জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘সারাজীবন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে নির্যাতিত হয়েছি। কিন্তু সম্প্রতি কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। ৯৬ ধারা সংবিধানের বেসিক স্ট্রাকচারকে কোথায় ধাক্কা দিয়েছে, সেটা বিচার বিভাগকে পরিষ্কার জবাব দিতে হবে। সংবিধানের রক্ষক সেটা ঠিক, মানছি। কিন্তু যেকোনও আইন বাতিল করতে তারা পারেন না। যেটা সংবিধানের বেসিক স্ট্রাকচারের পরিপন্থী, সেটাই বাতিল করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। আমরা বিচার বিভাগের বন্ধু। আশা করি বিষয়টি তারা যথাযথ গুরুত্ব দেবেন। এই রায় জনগণের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, তা ইতিহাসের কাছে ছেড়ে দিলাম।’

আলোচনায় আরও অংশ নেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ, স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজী ও বিএনএফ-এর আবুল কালাম আজাদ।

সংসদ সদস্যদের আলোচনার পরে স্পিকার শিরীন শারমিন বলেন, ‘আজকের আলোচনায়  বিষয় সম্পর্কে জাতীয় সংসদে পরবর্তী সময়ে আলোচনার সুযোগ দিতে সংসদ সদস্যরা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ষোড়শ সংশোধনী বিষয়ক যে রায় সুপ্রিমকোর্ট গত ৩ ‍জুলাই ২০১৭ ঘোষণা করেছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয় সম্পর্কিত। বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা বা জাতীয় সংসদ ও বিচার বিভাগ। এই তিনটি অঙ্গ স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করেন সংবিধান অনুসারে। এই তিনটি অঙ্গের দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে আইনের শাসন নিশ্চিত হয়, মানবাধিকার সমুন্নত থাকে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত হয় ও সুশাসন নিশ্চিত হয়। যা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে। পয়েন্ট অব অর্ডারে উত্থাপিত আলোচনায় সাংবিধানিক বিষয় সম্পর্কিত হওয়ায় জাতীয় সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদে আলোচনার সুযোগ থাকবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে লক্ষ্য করে থাকবেন, দু’ধরণের ডিম দেখতে পাওয়া যায়৷ একটা সাদা রঙের, আরেকটা বাদামি। এই বাদামি ডিম বাজারে ধীরে ধীরে সাদা ডিমের জায়গাকে ঢেকে দিচ্ছে। অনেকেই শুধুমাত্র রং অন্যরকম হওয়ার জন্য, বাদামি ডিমই কিনতে আগ্রহী হচ্ছে। কিন্তু জানেন কি? কোন রঙের ডিমই শরীরের পক্ষে ভালো?

সাধারণ মানুষদের মধ্যে এই বাদামি ডিম কেনার নতুন শখ দেখেই মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা শুরু করল, সেই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চিকিৎসকরা বলছেন, বাদামি ডিম এবং সাদা ডিমের পুষ্টিগত তেমন পার্থক্য নেই। বাদামি ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড একটু বেশি রয়েছে। তবে সেই একটু বেশির পরিমাণ এতই নগণ্য যে সেটা না ধরলেই চলে। ফলে আপনি নির্দ্বিধায় বলতে পারেন সাদা আর বাদামি ডিম দুটোই সমান পুষ্টিগুণ ধারণ করে।

রং আলাদা হওয়ার কারণ লুকিয়ে রয়েছে মুরগির জিনে। সাদা ডিমগুলো আসে সাদা পালকের মুরগি থেকে যাদের রং সাধারণত সাদা বা হালকা। আর বাদামি ডিম পাড়ে বাদামি পালকের মুরগি। মুরগির জিনগত পার্থক্যের কারণেই ডিমগুলোর রং পাল্টে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মত, ডিম কিনতে গেলে রং নয় গুণগত মান খেয়াল করুন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটে (আইএস) কিভাবে শিশুদের যুক্ত করা হয়, যুদ্ধ ও হত্যার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সে বিষয়ে সংগঠনটির প্রাক্তন এক শিশু জঙ্গি ন্যাটো সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করা ১৫ বছর বয়সী এ প্রাক্তন আইএস সদস্য শনিবার লাটভিয়ায় নিরাপত্তা বিষয়ক ন্যাটোর এক সম্মেলনে নানা অভিজ্ঞতার কথা বলে।

এসময় শিশুটি জানায়, ‘একটি গোপন ঘাঁটিতে মাত্র এক মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নেয় সে। সেখানে সিনিয়র যোদ্ধারা তরুণদের বর্বরোচিত কাজে যুক্ত করার জন্য নানা ধরণের কৌশল নির্ধারণে নিযুক্ত ছিল। ‘ সে আরো জানায়,’অস্ত্র নিয়ে অনেক ধরণের প্রশিক্ষণ দেয়া হত এখানে। প্রকৃত অস্ত্র হাতে নিতে গিয়ে কেউ যদি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায় তাহলে তারা তার হাত অস্ত্রের ব্যারেলে এমনভাবে চেপে ধরত আঙ্গুলগুলো ভেঙ্গে যেত। ‘

কিভাবে একটি শিশুকে হত্যাকান্ডের প্রশিক্ষণ দেয়া হত সে সম্পর্কে শিশুটি জানায়, ‘তারা একটি শিশুকে ট্রাকের মধ্যে তুলে নিয়েছিল এবং তাকে বলেছিল যে সে একজন কাফেরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে। তার হাতে একটি ছুরি দিয়ে তারা বন্দীর কাছে নিয়ে গেল। এভাবে হাত বাঁধা বন্দীকে শিরোচ্ছেদ করা হয়েছিল। এ সময় কয়েকজন উদ্বিগ্ন হয়ে হয়ে পড়লেও তারা নিরব থাকে তবে কাউকে যখন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সবাই খুশি প্রকাশ করে এবং ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দেয়। ‘

বন্দীদের ওপর আইএসের নির্যাতনের নানা ঘটনা বর্ণনা করতে যেয়ে সে আরো জানায়, ‘তারা খাঁচার মধ্যে ৫/৬ বন্দীকে ঢুকিয়ে ডুবে যাওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত পানিতে খাঁচাটি নামিয়ে আনা হত আবার তোলা হত। এভাবে তাদের ওপর নির্যাতন চলত। কেউ তাদেরকে চিনত না, জানতো না তারা কে। ‘

তবে জঙ্গিদের এসব নৃশংস কর্মকান্ড তাকে আইএসের বিরুদ্ধে নিয়ে যায়। সে জানায়, ‘আমি জানতাম যে, ছোট বড় এসব মানুষকে আসলে হত্যা করা হচ্ছে এবং তা অন্যায়। আমি আমার দেশকে হারিয়েছি, সব কিছু। ‘ এসময় সকল শিশুদের প্রতি সে আহবান করে, ‘আমি এই সংগঠনে যোগদান না করার জন্য বিশ্বের সব শিশুকে বলবো, এরা মুসলিম নয়, তারাই ধর্ম অবিশ্বাসী যারা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। তারা মুসলিম হতে ভান করে কিন্তু তারা শুধু আত্মঘাতী হামলা করার শিক্ষা দেয় এবং আপনাকে বলে যে আপনি জান্নাতে যাচ্ছেন – কিন্তু কিছুই তা সত্য নয়। ‘

সূত্র: দ্য এন আরব

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সম্প্রতি বাংলা ছবির অন্যতম সেরা জুটি হলো আবির চট্টোপাধ্যায় ও জয়া আহসান। বিসর্জনে তাঁদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছিল দর্শকদের। আবারও বড়পর্দায় ফিরতে চলেছে এই জুটি। ছবির নাম ‘আমি জয় চ্যাটার্জ্জী’। তবে এই ছবিতে যে তাঁদের রসায়ন ‘বিসর্জন’-এর থেকে একেবারেই আলাদা তা বোঝা গেল সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবির ট্রেলার দেখে।

‘হ্যালো কলকাতা’, ‘ডামাডোল’ ও ‘এইট্টি নাইন’-এর পর আবারও ফিরছেন পরিচালক মনোজ মিশিগান। এবার সাইকোলজিকাল থ্রিলারকেই ছবির বিষয় হিসাবে বেছে নিয়েছেন তিনি। ‘আমি জয় চ্যাটার্জ্জী’ আসলে ব্যবসায়ী জয় চ্যাটার্জ্জীর গল্প। নাম ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়কে। যিনি স্বভাবে খুবই উদ্ধত। শুধু উদ্ধতই নয়, জয় আসলে খুবই স্বার্থপর। নিজের ব্যবসার বাইরে, নিজের উন্নতির বাইরে আর কোনও কিছুকেই গুরুত্ব দেন না তিনি। তাঁর কাছে তিনি নিজেই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ। এরকম একজন আত্মমগ্ন, আত্মকেন্দ্রিক জয় পাত্তা দেন না কারোর আবেগ, অনুভূতির। কিন্তু একদিন হঠাৎই হারিয়ে যান তিনি। কেউ কি তাঁকে অপরহণ করল, নাকি এমনিই গা ঢাকা দিলেন জয়? সেই তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শতাফ ফিগার। অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়ার পরই জয় চ্যাটার্জ্জী অনুভব করেন যে, আসলে ‘আমি’ ব্যাপারটা খুবই অস্থায়ী, খুব সহজেই একটা মানুষ হারিয়ে যেতে পারে। এই টানাপোড়েন নিয়েই দানা বেঁধেছে ছবির চিত্রনাট্য।

শুটিং হয়েছে কলকাতা ও সিকিমে। ছবির ট্রেলার দেখেই বাড়ছে প্রত্যাশা। এর আগেও থ্রিলারে দেখা গিয়েছে আবিরকে। তবে সেইসব ছবির থেকে যে বেশ আলাদা ‘আমি জয় চ্যাটার্জ্জী’, তার আঁচ পাওয়া গেল ছবির ট্রেলার থেকেই। তবে এ তো শুধু ট্রেলার, বড়পর্দায় ছবির অপেক্ষায় দর্শকরা। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম. শাহীন গোলদার : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশ নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় সাড়ে ৭ কেজি ভারতীয় নূপুর ও ২০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সকল ঘটনায় ০৬ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানান, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১২ জন, কলারোয়া থানা ০২ জন, তালা থানা ০৭ জন, কালিগঞ্জ থানা ০৩ জন,শ্যামনগর থানা ০৫ জন, আশাশুনি থানা ০৫ জন, দেবহাটা থানা ০২ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

উত্তর লন্ডনের ক্যামডেন লক মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রোববার রাতে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে আগুনে এখনো কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর গার্ডিয়ানের।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। মার্কেটটির কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এক হাজরেরও বেশি দোকান রয়েছে ওই মার্কেটে।

দমকল বাহিনী লোকজনকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও জানা যায় না।

সামাজিক মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কেটের কাছের একটি গিটারের দোকান থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, রোববার মধ্যরাত ১২টা ১০ মিনিটে ক্যামডেন লক মার্কেট থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানিয়ে তাদের সাহায্য চাওয়া হয়। ইতোমধ্যেই সেখানে লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা উপস্থিত হন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে হতাহতের কোনো খবর এখনও পৌঁছায়নি। তারা পুরো পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছেন।

দমকলের এক কর্মী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সেখানে কেউ আহত হয়নি। দমকলের কর্মীরা এখনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে ২০০৮ সালে লন্ডনের জনপ্রিয় ক্যামডেন মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest