সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা প্রেস ব্রিফিংচ্যানেল ওয়ান এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক জাকিরপ্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজের জমির শ্রীবৃদ্ধির জন্য দুই ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ!সুনামগঞ্জ ৪ উপজেলায় বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু, আহত ৭সাতক্ষীরা জেলা ধারাভাষ্যকার অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতাদেবহাটা থানার নতুন ওসি আব্দুল আলিমের দায়িত্ব গ্রহণবস্তুনিষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের কারনেই দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম সময় টিভিশ্যামনগরে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালাসাংবাদিক জিন্নাহর উপর হামলাকারী মামুনকে কারাগারে পাঠালো আদালত

111111মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : জাতীয় গণহত্যা দিবসে মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদদের স্মরণে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে ২৫ মার্চের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্বলন করে ছে।
২৫মার্চ রাত ১২টা ১মিনিটে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন সংসদ সদস্য বীর মক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা পৌর কাউন্সিলর জ্যোৎন্সা আরা, মহিলা আওয়ামীলীগের মাহফুজা রুবি, গুলশান আরা, রওশন আরা রুবি, শাকিলা ইসলাম জঁই, রুখসানা পারভীন, সুলেখা রাণী দাস, সোনিয়া পারভীন শাপলা প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

7fb647f30db97cc9bf53ee3b098ae744-58d659c0aa897শ্রীলঙ্কা সফরে স্বতঃস্ফূর্ত তামিম ইকবাল। টেস্টে হাফসেঞ্চুরির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশি ওপেনার।
২০১৩ সালের পর ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেলেন তামিম। ওইবার হাম্বানতোতায় ১১২ রান করেন তিনি। শনিবার এনিয়ে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি পেলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১২৭ বলে ১২ চারে শতক ছোঁন তামিম।
৪২.২ ওভারে ৩ উইকেটে ২৩১ রান করেছে বাংলাদেশ। তামিম ১০০ রানে অপরাজিত খেলছেন। অপর প্রান্তে ৪৬ রানে টিকে আছেন সাকিব।
এর আগে স্কয়ার দিয়ে আসেলা গুনারত্নেকে একটি বাউন্ডারি মারেন সাকিব, যে শটে মাত্র ৩৬.৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দুই’শ ছাড়িয়ে যায়। ওয়ানডেতে বেশ দ্রুত এক ইনিংস খেলল সফরকারীরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাব্বির রহমানের হাফসেঞ্চুরি ও তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে রানের গতি বাড়ায় সফরকারীরা।

টস জিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ নামে ব্যাটিংয়ে। প্রথম চার ওভারে বেশ নজর কেড়েছিলেন তামিম। উদ্বোধনীতে বড় জুটি গড়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। কিন্তু উপযুক্ত সঙ্গ দিতে পারেননি সৌম্য।

সৌম্য সরকার শনিবার নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ওপেনার তামিমের সঙ্গে মাত্র ২৯ রানের জুটি গড়তে পেরেছিলেন তিনি। দলের পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট হারালেও তামিম ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে দারুণ ছিল বাংলাদেশ।

সুরাঙ্গা লাকমলের বলটি ফ্লিক করেছিলেন সৌম্য, কিন্তু সেটা ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় দিনেশ চান্দিমালের গ্লাভসে। মাত্র ১৩ বলে ১০ রানে আউট হন তিনি। পরে সাব্বির ৯০ রানের জুটি গড়েন তামিমের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত আসেলা গুনারত্নের বলে উপুল থারাঙ্গার দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন সাব্বির, থামে ৫৬ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। তার দারুণ এ ইনিংসে ছিল ১০টি বাউন্ডারি।

মুশফিক বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। লাকশান সান্দাকানের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন তিনি। মাত্র ২ বলে থামে তার ১ রানের ইনিংস। এই ব্রেকথ্রু সামলে তামিম ৭৬ বলে ক্যারিয়ারের ৩৫তম হাফসেঞ্চুরি করেন।

এর আগে বাংলাদেশের ১২৩তম ক্রিকেটার হিসেবে এদিন ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের। গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছিল তার।

প্রথম ওয়ানডেতে তিনটি পরিবর্তন হয়েছে একাদশে। ইমরুল কায়েস, নুরুল হাসান সোহান ও তানভীর হায়দারকে রাখা হয়নি একাদশে। তানভীর অবশ্য লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে স্কোয়াডেই নেই। মুশফিকুর রহিম নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলে ইনজুরিতে পড়েছিলেন। তাতে করে সিরিজের দুটি ম্যাচ মিস হয়েছিল মুশফিকের। এবার ফিরলেন তিনি। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়াবেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। মুশফিক ফেরাতে বাদ পড়েছেন নুরুল হাসান। অন্য দিকে সৌম্য ফেরায় বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস।

অতীত পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বিপক্ষে হলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে অতিথিরা। ডাম্বুলাতে বাংলাদেশের কোনও সুখস্মৃতি না থাকলেও সমস্যা নেই। সর্বশেষ তিন ম্যাচের সবকটিই লঙ্কানরা হেরেছে ডাম্বুলাতে। যদিও শততম ম্যাচটি হেরে খানিকটা তেতে আছে লঙ্কান ক্রিকেটাররা। তাই শনিবার কে ভাগ্য বদলাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি মানসিক ভাবেও অনেকখানি এগিয়ে থেকে মাঠে নামার সুযোগ পাবে মাশরাফিরা। কেননা বাংলাদেশের বিপক্ষে কলম্বোতে শততম টেস্ট ম্যাচটি হেরে যাওয়ার পর এমনিতেই লঙ্কান সংবাদ মাধ্যম তাদের ক্রিকেটকে মৃত ঘোষণা করেছে! এর মধ্যে সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা ওয়ানডে সিরিজের পাঁচটি ম্যাচই বড় ব্যবধানে হেরেছে লঙ্কানরা। সবকিছু মিলিয়ে অনেক চাপ নিয়েই মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা।

যদিও ডাম্বুলাতে বাংলাদেশের হয়ে পরিসংখ্যান কথা বলছে না। কেননা তিনটি ম্যাচের সবগুলোতেই বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে লাল-সবুজদের। শুধু তাই নয়, তিন ম্যাচের দুটিতে ডাম্বুলা স্টেডিয়ামের রেকর্ডবুকে বেশ কয়েকটা রেকর্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

unnamedমাহফিজুল ইসলাম আককাজ : ২৫ মার্চ ২০১৭ গণহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস করে বসে থাকবো না। ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস করার লক্ষ্যে সরকার সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের দোসর আলবদর আল-শামসরা কিভাবে গণহত্যা চালিয়েছে সেই চিত্রও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। গণহত্যার চিত্র দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বিশ্বের সব কূটনীতিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমর্থন নিয়ে জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এন.এম মঈনুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ তওহিদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.এফ.এম এহতেশামূল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার মো. আবু বক্কর সিদ্দীক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সাতক্ষীরা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ জি.এম আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোদাচ্ছের আলী, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম আব্দুল্লাহ আল-মামুন, জেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলার আবু জাহেদ, জেলা তথ্য অফিসার শাহানওয়াজ করিম, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আবু জাফর মো. আসিফ ইকবাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম আনিছুর রহমান, জেলা স্কাউটস্ এর সম্পাদক এম. ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, জেলা শ্রমিকলীগ নেতা শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সচিব শেখ মোসফিকুর রহমান মিল্টনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদদের স্মরণে এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

4563458তোষিকে কাইফু : শনিবার সকাল ১০ টায় গণহত্যা দিবসে কালিগঞ্জে ডাকবাংলা মোড়ে স্থাপিত বধ্যভূমি স্মৃতি স্তম্ভ উদ্বোধন ও শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলহাজ্জ অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক।
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রীতে ঢাকায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক বর্বরোচিত হামলার সেই বিয়োগান্তক ঘটনার স্মরণে এবারই প্রথমবারের মত জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত হচ্ছে।২৫ মার্চের সেই দিন শেষে নেমেছিল সন্ধ্যা। গভীর হতে শুরু করেছিল রাত। তখনো কেউ জানে না- কী ভয়ঙ্কর, নৃশংস ও বিভীষিকাময় রাত আসছে বাঙালির জীবনে। ব্যস্ত শহর ঢাকা প্রস্তুতি নিচ্ছে ঘুমের। ঘরে ঘরে অনেকে তখন ঘুমিয়েও পড়েছে। রাত সাড়ে ১১টায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে জীপ,  ট্রাক বোঝাই করে নরঘাতক কাপুরুষ পাকিস্তানের সৈন্যরা ট্যাঙ্কসহ আধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে ছড়িয়ে পড়লো শহরজুড়ে। আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে গর্জে উঠলো আধুনিক রাইফেল, মেশিনগান ও মর্টার। মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পাক জল্লাদ বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। শুরু হলো বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞ আর ধ্বংসের উন্মত্ত তান্ডব। হকচকিত বাঙালি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঢলে পড়লো মৃত্যুর কোলে। মানুষের কান্না ও আর্তচিত্কারে ভারি হয়ে ওঠে শহরের আকাশ। মধ্যরাতে ঢাকা পরিণত হলো লাশের শহরে। ঢাকা শহরের রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে তারা বাঙালি নিধন শুরু করে। ঢাকাসহ দেশের অনেক স্থানে মাত্র এক রাতেই হানাদাররা নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল অর্ধ লক্ষাধিক বাঙালিকে। আর এর মানব ইতিহাসের পাতায় রচিত হলো কালিমালিপ্ত আরেকটি অধ্যায়। নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হলো বিশ্ববিবেক। শুধু নিষ্ঠুর ও বীভংস হত্যাকান্ডই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা গণমাধ্যমও সেদিন রেহাই পায়নি জল্লাদ ইয়াহিয়ার পরিকল্পনা থেকে।

কালিগঞ্জ অডিটরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের সভাপত্বিতে এবং সাংবদিক সুকুমার দাস বাচ্চুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওহেদুজ্জামান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুফি আলহাজ্ব শেখ আতাউর রহমান, কালিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ লস্কর জায়াদুল হক, জেলা পরিষদ সদস্য ও নলতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান সেলিম, কুশলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান সুমন।
এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শিমুল,আহম্মদ উল্ল্যাহ বাচ্চু, তরিকুল ইসলাম লাভলু, হাফিজুর রহমান, সাজেদুল হক সাজুসহ শিক্ষক-শিক্ষাথী ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পযায়ের নেতা-কমীবৃন্দ।
এর আগে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালিগঞ্জ বধ্যভূমিতে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলহাজ্জ অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি,কা লিগঞ্জ উপজেলা প্রশাশন, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব,কালিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডসহ বিভিন্ন সংগঠন।
পরে অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি দুপুর সাড়ে ১২ টায় কালিগঞ্জের চারটি ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে এক মতবিনিময় করেন। এসময় স্কুলের শিক্ষার মান ও সার্বিক বিষয়ে তিনি খোঁজ খবর নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নলতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

212123নিজস্ব প্রতিবেদক : আজাদী সংঘের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুলতানপুর আজাদী সংঘের কার্যালয়ে আজাদী সংঘের সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, সাংবাদিক অধ্য আনিছুর রহিম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আবু সায়ীদ প্রমূখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আজাদী সংঘের ও পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশি। এসময় উপস্থিত ছিলেন আজাদী সংঘের নব নির্বাচিত সহ সভাপতি সৈয়দ মহিউদ্দিন হাশেমী তপু, সম্পাদক মো, মাছুম বিল্লাহ, সহ সম্পাদক মো. শরিফুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক সুকেশ চক্রবর্তী, সমাজসেবা সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. শাহেদুজ্জামান, সাংস্কৃতি সম্পাদক গোবিন্দ সাহা, নির্বাহী সদস্য শেখ আনোয়ার হোসেন মিলন, সঞ্জীব কুমার পাল, মো. জিয়াউল হক প্রমূখ। উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ আজাদী সংঘের ২০১৭-২০১৮ সালের জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আজাদী সংঘের নব নির্বাচিত সহ সভাপতি সৈয়দ মহিউদ্দিন হাশেমী তপু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

90-1সিলেট দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানার ‘আতিয়া মহলে’ চলছে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভবনটির চারতলা থেকে ২০ বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শিশুসহ সাত নারীসহ ২০ জনকে উদ্ধার করে আনে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যরা।

এর আগে সাড়ে ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেনের নেতৃত্ব দেন। জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ অপরেশন ‘স্প্রিং রেইন’ নামে অভিযান শুরুর কথা বলা হলেও পরে সেনাবাহিনী এ নাম পরিবর্তন করে অপারেশন ‘টোয়ালাইট’ রেখেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দীর এ ব্যাপারে জানান, এই মুহূর্তে আতিয়া মহল সেনা কমান্ডোদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা অভিযান শুরু করেছেন। অভিযান শুরুর আগে সেখানে আনা হয় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের সাঁজোয়া যান ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স।

সকাল ৭টার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। পরে মাইকিং করে স্থানীয় অধিবাসী এবং উপস্থিত জনসাধারণকে অন্তত কিলোমিটার দূরে চলে যাওয়ার দিচ্ছে পুলিশ। সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদেরও এই দুরত্বে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

পুলিশের আহ্বানের পরও আত্মসমর্পণে সাড়া না দেওয়ায় সোয়াট টিমের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিট।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে আতিয়া মহল ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচতলা ওই ভবনের নীচতলার একটি ফ্ল্যাটে নারীসহ একাধিক ‘জঙ্গি’ রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ওই ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে নারী ও পুরুষ ‘জঙ্গি’ শুক্রবার দুপুরের পর দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাতে বলেছিল । তারা বলেছিল, ‘তোমরা (পুলিশ) শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে। দেরি কেন, দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাও।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

05a530edf4c215142cdd18804d60c088-58d5e4961b8c6তেতে থাকা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় রানগিরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দল ২২ গজের ময়দানী যুদ্ধে মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে চ্যানেল নাইন ও টেন থ্রি চ্যানেলে।

অতীত পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বিপক্ষে হলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে অতিথিরা। ডাম্বুলাতে বাংলাদেশের কোনও সুখস্মৃতি না থাকলেও সমস্যা নেই। সর্বশেষ তিন ম্যাচের সবকটিই লঙ্কানরা হেরেছে ডাম্বুলাতে। যদিও শততম ম্যাচটি হেরে খানিকটা তেতে আছে লঙ্কান ক্রিকেটাররা। তাই শনিবার কে ভাগ্য বদলাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি মানসিক ভাবেও অনেকখানি এগিয়ে থেকে মাঠে নামার সুযোগ পাবে মাশরাফিরা। কেননা বাংলাদেশের বিপক্ষে কলম্বোতে শততম টেস্ট ম্যাচটি হেরে যাওয়ার পর এমনিতেই লঙ্কান সংবাদ মাধ্যম তাদের ক্রিকেটকে মৃত ঘোষণা করেছে! এর মধ্যে সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা ওয়ানডে সিরিজের পাঁচটি ম্যাচই বড় ব্যবধানে হেরেছে লঙ্কানরা। সবকিছু মিলিয়ে অনেক চাপ নিয়েই মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা।

যদিও ডাম্বুলাতে বাংলাদেশের হয়ে পরিসংখ্যান কথা বলছে না। কেননা তিনটি ম্যাচের সবগুলোতেই বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে লাল-সবুজদের। শুধু তাই নয়, তিন ম্যাচের দুটিতে ডাম্বুলা স্টেডিয়ামের রেকর্ডবুকে বেশ কয়েকটা রেকর্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য আশার কথা- স্কোয়াডের ৬ জন খেলোয়াড়ের এই ভেন্যুতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১০ এশিয়া কাপে মাশরাফির নেতৃত্বে সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ, ইমরুল, তামিম খেলেছেন। ৭ বছর পর এদের অভিজ্ঞতা আরও বেড়েছে। সেই সঙ্গে দলে আছেন বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার।

এত কিছু যখন বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হয়ে আসছে। তখন ডাম্বুলার ইতিহাসটা এবারই পাল্টানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ। মাশরাফিও তাই মনে করছেন, ‘আমরা এখানে এশিয়া কাপ খেলেছিলাম। তখন বাজে ক্রিকেট খেলেছি। যদিও সবসময় আমরা সেরাটাই খেলতে চাই। এবার প্রথম থেকেই আমরা নিজেদের সেরাটা খেলার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশ চাইলে ২০১৩ সাল থেকেও প্রেরণা নিতে পারে। সেবার বর্তমান দলের চাইতে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ ড্র করেছিল। লঙ্কান এবারের দলটি গতবারের চেয়ে খানিকটা খর্বশক্তির। মাশরাফি অবশ্য শ্রীলঙ্কান ওয়ানডে দলকেই এগিয়ে রাখছেন। তার মতে, ‘শ্রীলঙ্কারে ওয়ানডে দলটা টেস্টের চেয়ে ভালো। দলটাতে এক ঝাঁক উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার রয়েছে। তাদের বিপক্ষে জিততে গেলে আমাদের তিন বিভাগে সেরা ক্রিকেট খেলা লাগবে।’

লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের একাদশটা কেমন হবে-বিষয়টি নিয়ে মধুর সমস্যায় রয়েছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর কলম্বো ছেড়েছিলেন মিরাজ। প্রায় ২৪ ঘণ্টা টানা জার্নি শেষে শুক্রবার একটি সেশন অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বিকল্প হিসেবেই মূলত মিরাজকে স্কোয়াডে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যদিও শুক্রবার সবার আগে নেটে গিয়েছেন মেহেদি হাসান।

মাশরাফি অবশ্য একাদশ নিয়ে কিছু বললেন না, ‘ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে একাদশ নির্বাচন করা হবে। তবে স্কোয়াডে মিরাজ এসে যোগ দেওয়াতে বৈচিত্র্য আছে স্কোয়াডে। আমরা সম্ভাব্য সেরা দলটা বেছে নেবো।’

কোনও কারণে মিরাজকে না খেলালে তার জায়গায় খেলবেন শুভাগত হোম। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে তিনজন পেসার নিয়ে খেললে সানজামুলকে বসে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে মুস্তাফিজ ও মাশরাফির সঙ্গে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা শুভাশিষ রায়ের। তবে দুই পেসার খেললে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে দেখা যাবে মাশরাফি ও মুস্তাফিজকে। তৃতীয় স্পিনার হিসেবে তখন দেখা যাবে সানজামুল ইসলামকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1490379304একের ওপর অপরের আধিপত্যবাদ কায়েমের জন্য মানুষের নিষ্ঠুরতার ইতিহাস বহু প্রাচীন। বিরুদ্ধমতের মানুষের প্রতি মানবতাবিরোধী পাশবিক আচরণটা মানুষের আদিমতম অভ্যাস। আধুনিক কালে ভয়াল সেই অভ্যাস রহিত তো হয়নি বরং তার ব্যাপ্তি বেড়েছে বহুমাত্রায় বহুগুণে। মানবীয় ক্ষমতা বা সক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী জেনেও মানুষ হাজার বছর ধরে নিজের অস্তিত্বকে পাকাপোক্ত করতে ভয়ানক যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হয়ে আসছে। মানুষ তার বেশির ভাগ জ্ঞান, উদ্ভাবন, শক্তি বা সম্পদ খরচ করে চলেছে তার প্রতিপক্ষকে হারাতে। প্রাগৈতিহাসিক পাথুরে যুদ্ধ থেকে হালের পরমাণু যুদ্ধের ধরন সবক্ষেত্রে একই : মানুষকে মেরে নিশ্চিহ্ন করে দাও। ঘটাও গণহত্যা আর শিশু বৃদ্ধা নির্বিশেষে নারীর সম্ভ্রম লুটে মায়ের জাতিকে দাও চরম অসম্মান। একাত্তরে ইতিহাসের নিরিখে ফেলে আসা সেইসব নিপীড়কের যথার্থ প্রতিভূ হয়ে ওঠেছিল পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী। একাত্তরে যাদের নোংরা রূপ দেখেছে সারাবিশ্ব।

আদিম গণহত্যা হতো অসচেতনভাবে। দাবি করা হয়, এসময়ের মানুষেরা খুব সচেতন। তারপরও একালে বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোন্ডের হাতে আফ্রিকান কঙ্গোর এক কোটি মানুষ নৃশংসভাবে প্রাণ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় হলোকাস্ট; পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ানক ও জঘন্যতম গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত। যেখানে একনায়ক এডলফ হিটলারে নেতৃত্বে সোভিয়েত যুদ্ধবন্দি, কমিউনিস্ট এবং ভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শীসহ প্রায় অর্ধকোটি ইহুদি প্রাণ হারান। ত্রিশের দশকে জাপানি সৈন্য কর্তৃক চীনা নানকিং ট্র্যাজেডি; যেখানে চারলাখ নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া আর্মেনীয়া, কম্বোডিয়ার খেমাররুজ, রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার গণহত্যা ইতিহাস স্বীকৃত।

সবকিছু ছাড়িয়ে বাঙালির কাছে স্মরণকালের সবচে বড় লোমহর্ষক ট্র্যাজেডি হলো একাত্তরের গণহত্যা। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন দমাতে যার শুরুটা হয়েছিল ২৫ মার্চ। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এই ২৫ মার্চ সরকারি সিদ্ধান্তে এবার থেকে গণহত্যা দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হচ্ছে।

একাত্তরের সেই ভয়াল কালরাতে বাঙালি জাতির ওপর নিষ্ঠুর, নির্মম ও নৃশংসতম গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বাংলাভূমিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বীভৎস অভিশাপ।  অকাতরে প্রাণ হারিয়েছিলেন বিভিন্ন পেশাজীবীসহ বিপুল সাধারণ বীরজনতা। দিনটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। বেদনাদায়ক সেই দিনটিকে বাঙালি মাত্রই মুষড়ে পড়া হৃদয় নিয়ে চোখের জলে স্মরণ করে থাকে।

স্বাধীনতা ঘোষণার প্রাক্কালে অসভ্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই হামলার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রারম্ভেই বিনষ্ট করা আর দেশের নেতৃস্থানীয় শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

সেই সময়কার মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চের রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সে রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরো তিন হাজার লোককে। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চলল মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করল ঘরবাড়ি, দোকানপাট লুট আর ধ্বংস তাদের নেশায় পরিণত হলো যেন। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শিয়ালের খাবারে পরিণত হলো। সরা বাংলাদেশ হয়ে উঠল শকুন তাড়িত শ্মশান ভূমি।’

অথচ ১৬ ডিসেম্বর নাকে খত দিয়ে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা সে হানাদার পাকিস্তান স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের ঘৃণ্যতম অপকর্মকে ঢেকে দিয়ে বিশ্বস্বীকৃত গণহত্যাকে অস্বীকার করবার প্রয়াস পাচ্ছে। তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা দূরে থাকুক উপরন্তু সম্প্রতি তাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জুনায়েদ আহমেদ নামের এক লেখক ‘ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ, মিথস এক্সপ্লোডেড’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। সে বই আবার বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছেও দেওয়া হয়েছে। বইটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, ৩০ লাখ শহীদ, লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমহানি, সবকিছুর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। একে পাকিস্তানি হানাদার কর্তৃক একাত্তরের গণহত্যাকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার সচেতন প্রয়াস বলেই ধারণা করা যায়।

একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো গ্রন্থ এখনো রচনা করতে পারেননি বাংলাদেশি কোনো গবেষক। যদিও গণহত্যার বিষয়টি যে ধ্রুবসত্য তা প্রমাণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক এবং প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক গ্যারি জে ব্যাস। ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড’ শিরোনামের বইটিতে লেখক হোয়াইট হাউজের নানা গোপন দলিল হাতড়ে বের করে এনেছেন আমেরিকা ও পাকিস্তানের যৌথ প্রযোজনায় মঞ্চস্থ গণহত্যার আসল ইতিহাস।

এই বইয়েই প্রথম কোনো পশ্চিমা গবেষক ১৯৭১-এ সংঘটিত বাংলাদেশের গণহত্যাকে ‘প্রমাণিত গণহত্যা’ হিসেবে বিশ্বের সামনে দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্যারি জে ব্যাস তাঁর বইয়ে স্পষ্টতই দাবি করছেন যে, ১৯৭১-এ বাংলাদেশে গণহত্যা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাদের চালানো সেই গণহত্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, আর গণহত্যাকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন নিক্সন-কিসিঞ্জার জুটি। বইটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতবার পাশাপাশি পশ্চিমা চিন্তাশীলদের মাঝে বাংলাদেশের একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে নতুন করে ভাবনা ও গবেষণার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে।

এমন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালনের জন্য জাতিসংঘেও প্রস্তাবনা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। গেল ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে গণহত্যা দিবস পালনের এই প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় এবং সচিবালয়ে ১৩ মার্চ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পালনের জন্য ২৫ মার্চকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত একটি দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় এখন থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হবে। একাত্তরে লাখো প্রাণ আর সম্ভ্রমের দামে পাওয়া বাংলাদেশের কারুণ্যের ইতিহাসকে মানুষের মনে চির জাগরুক রাখতে সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। পাকিস্তানকে স্বীকার করতেই হবে যে, তারা একাত্তরে বাংলাদেশে চরম নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা চালিয়েছে। নিজেদের দোষ না ঢেকে পাকিস্তানকে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতেই হবে।

আজ গণহত্যা দিবসে স্মরণ করি, ৩০ লাখ শহীদ ও জীবনের সর্বস্ব হারানো মা-বোনদের যাদের অমূল্য প্রাণ ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল সবুজ পতাকা; পেয়েছি বাংলা নামের দেশমাতৃকা। পাকিস্তানিদের মতো বর্বরতার সাক্ষী না হোক আর কোনো মানবজাতি। আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা দিবস পালনের মূল প্রতিপাদ্যই হোক- আর নয় গণহত্যা, মানুষের ভালোবাসায় সমুন্নত থাকুক বিশ্বমানুষের অধিকার।

লেখক : সংবাদকর্মী

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest