সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় ব্রজপাতে নারী আইনজীবীর মৃত্যুনূরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহমেদের সংবাদ সম্মেলনসুন্দরবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বনজীবী নিহত: বন বিভাগের কার্যালয়ে : হামলা: আহত- ৫মোটরসাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনসাতক্ষীরা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভূমিসেবা কেন্দ্রের জেলা—-জেলা প্রশাসকসাতক্ষীরায় অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ: স্বামী পলাতকহিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ৩০ মে রিইউনিয়নের লোগো উন্মোচনলীজ নিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল করতে না পেরে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মানববন্ধনের অভিযোগসাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিতঅপরাধীকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হবে, সে যে দলেরই হোক –সাতক্ষীরার নবাগত এসপি

dsc03840-copyমাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। যাতে জাতির নের্তৃত্বদানে পথভ্রষ্ট না হয়। প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায় থেকে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উদ্ধুর্দ্ধ করার গুরু দায়িত্বভার মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের কাঁধে। তাহলেই জাতি সঠিক পথে এগুবে এবং বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানবে ও জানাবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.এফ.এম এহতেশামূল হক, নবাগত অতিতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস.এম আব্দুল লতিফ, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম, জেল সুপার আবু জাহেদ প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সহযোগি অধ্যাপক আমান উল্লাহ আল-হাদী, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো.এহছানুল কাদির ও উপমা আহমেদ নাবিলা। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম আব্দুল্লাহ আল-মামুন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শেখ আবু জাফর মো. আসিফ ইকবাল, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা নবারুণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আমিনুর রহমান উল্লাস, সাতক্ষীরা নবারুণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজী, সাতক্ষীরা টি.এন.টি’র প্রকৌশলী শোকর আনা, রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারী শেখ নুরুল হকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.এফ.এম এহতেশামূল হক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

dsc03831-copyমাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বভার হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বিদায়ী অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. লিয়াকত পারভেজ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের নবাগত অধ্যক্ষ প্রফেসর বিশ্বাস সুদেব কুমারের হাতে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এস আফজাল হোসেন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক সহযোগি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, সহযোগি অধ্যাপক আমান উল্লাহ আল-হাদী, সহকারি অধ্যাপক ড. নাসরিন আক্তার, সহযোগি অধ্যাপক আবুল হাশেম, সহকারি অধ্যাপক আ.ন.ম গাউছুর রেজা, প্রভাষক মো. মফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক কাজী আসাদুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষক পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

las-uddhar-4আসাদুজ্জামান ঃ সাতক্ষীরার মাহমুদপুর এলাকা থেকে মধ্য বয়সী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত  লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম সবিতা রানী মন্ডল (৫০)। তিনি সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মৃত কালিপদ মন্ডলের স্ত্রী। সোমবার ভোরে এ ঘটনাটি ঘটে।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক রইস উদ্দিন জানান, স্থানীয়দের দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে মাহমুদপুর গ্রামের গৃহবধূ সবিতা রানীর বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে লাশের গায়ে কোন আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। প্রথমিকভাবে তিনি ধারনা করছেন আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে গলায় দড়ি দিয়ে গৃহবধূ সবিতা রানী আতœহত্যা করেছেন। তিনি আরো জানান, লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

suvas-picযুগান্তর ও এনটিভি’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি প্রবীণ সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী চিকিৎসা শেষে সুস্থবেশে বাড়ি
ফিরেছেন। খুলনার ফরটিস স্কটস হাসপাতালে দীর্ঘ আটদিন চিকিৎসা শেষে রোববার
সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন তিনি।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে সাতক্ষীরার একটি
বেসরকারি ক্লিনিকে ও পরে খুলনার ফরটিস স্কটস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরীকে। সেখানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের
তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলে তার।
এদিকে, বাড়ি ফেরার খবর পেয়েই একে একে সাংবাদিকবৃন্দ  ও অন্যান্য সহকর্মীরা
তাকে দেখতে ও অভিবাদন জানাতে তার বাড়িতে যান। এসময় সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ, ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, ডা. সঞ্জয়
সরকার, ডা. আব্দুল আল মামুন, ডা. কাজল কর্মকার, ফরটিস স্কটস হাসপাতালের
চিকিৎসকবৃন্দ ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সকলের দোয়া ও
আর্শিবাদ কামনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

rwaru7_19‘রাজনৈতিক দল হতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া’ সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরুপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’

রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

frqvnz_witeতার ওজন প্রায় ১০০ কেজিতে পৌঁছে যাচ্ছিল। ওজন কমানোর জন্য এমন কিছু নেই যে, তিনি চেষ্টা করেনি। ডায়েট থেকে শুরু করে ওজন কমানোর জন্য সকল প্রকার যোগব্যায়াম ও করেছেন তিনি। কথা বলছিলাম ভারতীয় এক নাগরিক সুপ্রিয়া পান্ডে কে নিয়ে। কিন্তু অবশেষে তিনি অনলাইন পোর্টালের সাহায্যে নিজের অতিরিক্ত ওজনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি ভারতীয় একটি অনলাইন পোর্টালে মেন্টর হিজেবে নিযুক্ত হন। এরপর তার ওজন কমানোর সম্পূর্ণ কাহিনী তিনি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়াকে জানান। সুপ্রিয়া পান্ডে তার সর্বোচ্চ ওজন দেখেছিলেন ৯৮ কেজি। সেখান থেকে ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে তিনি এখন অনেকটা ফিট।

তিনি বলেন, আমি যখন আমার ওজন ৯৮ কেজি দেখলাম, তখন থেকে ওজন কমানোর জন্য পাগল হয়ে যাই। আমি তখন ক্রাশ ডায়েট থেকে শুরু করে ওজন কমানোর সকল ব্যায়াম করা শুরু করে দিয়েছিলাম। হাঁটাহাঁটি করাও শুরু করি, কিন্তু এতে ২-১ কেজি ওজন কমে আসলেও কিছু দিন পর আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতাম।

তখন আমি মনেপ্রাণে প্রতিজ্ঞা করি, আমার ওজন ১০০ কেজিতে পৌঁছানোর আগে এমন কিছু তো অবশ্যই করতে হবে যেন আমার ওজন কমে আসে। এসময় আমার জীবনে এক টার্নিং পয়েন্ট আসে। এসময় আমার এক বন্ধু জানায়, ফেসবুকে স্কোয়াড নামের এক গ্রুপ আছে যা মানুষকে তার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সম্পর্কে ধারণা দেয়। মানুষের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য প্রতিদিনের ডায়েট এবং ব্যায়াম সম্পর্কে ধারণা দেয়। মেন্টর পঙ্কজ ধুপের সাথে পরিচয় হবার পর আমি জানতে পারি আসলে কীভাবে চলাচল করলে এবং কি ধরণের ডায়েট মানলে আমার ওজন কমে আসবে।

আমার জন্মদিনে আমি কেক কেটেছিলাম কিন্তু সেই কেক খাওয়ার কোন ইচ্ছে হয়নি আমার। কারণ আমি এখন জানি স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা কতটুকু ভাল। ওজন কমানোর জন্য আমাদের শারীরিক কসরতের চেয়ে মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকা বেশি জরুরী। আমার গত কয়েকমাসের ডায়েট চার্ট আপনাদের সাথে আলোচনা করি-

সকালের নাস্তা:
সকাল ৭টার দিকে দুই গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে পান করে নিতাম। তার কিছুক্ষণ পর হালকা হলুদ মিশিয়ে চা পান করা হত।
সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে একটি ডিম সেদ্ধ করে খাবার পর এক কাপ সবুজ চা পান।
সকাল ১১টায় বাদাম।

দুপুরের খাবার:
১২টা ৩০ মিনিটে লাল চালের ভাত, দই, মুরগীর গ্রিল এবং ব্রকলি, বাঁধাকপি বা পালং শাক।

সন্ধ্যার নাস্তা:
সবুজ চায়ের পাশাপাশি ডিম।

রাতের খাবার:
মাছ অথবা পনির এর সাথে সবুজ শাক-সবজি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

donald-trump-xi-jinpingযুক্তরাষ্ট্র আর নর্থ কোরিয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের হুমকিতে অনেকেই আশঙ্কা করছেন আরেকটি যুদ্ধের। প্রশ্ন উঠেছে: এবারের যুদ্ধেও কি নর্থ কোরিয়াকে সমর্থথ দেবে বিশ্বের দ্বিতীয় পরাক্রমশালী রাষ্ট্র চীন? নাকি চীন দুর্বল থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি? এমন প্রশ্নও রয়েছে অনেকের মনে।

অতীত ব্যাখ্যা করতে গেলে দেখা যায় নর্থ কোরিয়ার একমাত্র কূটনৈতিক মিত্রের নাম চীন। আর এই চীন অনেক অনেক বছর যাবত নর্থ কোরিয়াকে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এসেছে। বিভিন্ন যুদ্ধের ময়দানে চীনকেই সবার আগে পাশে পেয়েছে নর্থ কোরিয়া।

এর আগে ১৯৪৯ সালে নিজেদের গৃহযুদ্ধ শেষ করে চীন। এর পরই ১৯৫০-৫৩ সালের দিকে কোরিয়ার যুদ্ধে উত্তরকে সহযোগিতা প্রদান করে তারা। নতুন সেই কমিউনিস্ট রাষ্ট্র লাখ লাখ মানুষ হারায়।

শুরুতেই নর্থ ও সাউথ কোরিয়ার ঝামেলায় চীন হস্তক্ষেপ করতে চায়নি। কিন্তু যখন ডগলাস ম্যাকআর্থারের জাতিসংঘের সেনারা নর্থ কোরিয়াকে পরাজিত করে ফেলে এবং নর্থে পাল্টা আক্রমণ চালায় তখন সহযোগিতার হাত বাড়ায় চীন। ইউএন সেনারা এই আক্রমণের সময় চীন সীমান্তের দিকেই ছিল। কিন্তু হুট করেই চীন সাউথকে আক্রমণ করে তাদেরকে সেই সীমারেখার দিকে নিয়ে যায় যে সীমারেখা দুই ভাগে কোরিয়াকে  বিভক্ত করেছে।

১৯৫০-৫৩র যুদ্ধতেই প্রথম নর্থ কোরিয়ার প্রতি প্রথম সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি চীন, এর আগে ১৫৯০ দশকের দিকেও প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ১৫৯২ সালের দিকে জাপান কোরিয়ার বুসানে আক্রমণ করে বসে এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। সেই সময় চীন কোরিয়াকে রক্ষা করে আক্রমণকারীদের পেছনে সরায় এবং পিয়ংইয়ংকে মুক্ত করে। ১৫৯৩ সালে জাপানিজ সৈন্য তুলে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় এই যুদ্ধ।

১৫৯৭ সালে আবারো জাপানের আক্রমণের শিকার হয় কোরিয়া। সেই সময়ও চীনের সহযোগিতায় এই আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয় তারা। এরপরের প্রায় ৩০০ বছর যাবত কোরিয়া চীনের এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞভাব প্রকাশ করে। কোরিয়াই চীনের ‘অভিভাবকত্বধীন (ট্রিবিউটারি)’ প্রথম রাজ্য ছিলো। অন্যদিক থেকে মিত্র হিসেবে চীনই ছিলো কোরিয়ার প্রতি পশ্চিম ও জাপানীজ ঔপনিবেশিক আচরণের বিরোধী।

১৮৯৪ সালে জাপান আবারও কোরিয়াকে আক্রমণ করে বসে, এবার ১৮৯৪-৯৫ এর সিনো-জাপানিজ যুদ্ধের অংশ হিসেবে। এবারও চীনা সৈন্যরা পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষেই দাঁড়ায়। কিন্তু এবার তারা হেরে যায়। ১৯১০ সালে কোরিয়া তাদের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে। সেটা জাপানের উপনিবেশে চলে যায়। এরপর প্রায় ২৫ বছর সেনা শাসনে থাকে তারা যা ধীরে ধীরে আরো বিষাক্ত করে তোলে জাপান ও কোরিয়ার সম্পর্ক।

এসব অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ভালো যাচ্ছিল চীন ও নর্থ কোরিয়ার সম্পর্ক। ১৫৯৩, ১৮৯৪ এবং ১৯৫১ সালের এসব ঘটনা তুলে ধরে দুই দেশের সম্পর্কের কথা। যদিও এখন নর্থ কোরিয়া পুরোপুরি চীনের আশ্রিত রাজ্য নয়, কিন্তু নর্থ কোরিয়ার পুরো ইতিহাস চীনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ফলে চীনের প্রভাব থেকে তার আলাদা হয়ে পড়াটা অসম্ভব।

তবে এবার নর্থ কোরিয়ার মাথার উপর থেকে যেন সহযোগিতার হাত সরছে চীনের। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফ্লোরিডা সামিটের কয়েকদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, চীন যদি নর্থ কোরিয়াকে ঠিকঠাক না করে তাহলে আমরা করবো।

জবাবে এসব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে এসেছে চীন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপেও শি জিনপিং শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বলেন। কিন্তু ফ্লোরিডা সামিটের ঠিক পরেই সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে নিজের অঙ্গীকার থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।

বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই মনে করে মূল সমস্যাটা তৈরি করছে নর্থ কোরিয়া। পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্র উৎক্ষেপন, জাল বিদেশী মুদ্রা তৈরি করা, মাদক তৈরি করা এবং নিজের দেশের লোককে দেশের বাইরে মেরে ফেলার অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।

এসব কিছুর পরও চীনই একমাত্র নর্থ কোরিয়ার কূটনৈতিক মিত্র ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্কটাও অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান সময়ে। এমন এক সমস্যা সৃষ্টিকারী সঙ্গীর সঙ্গে কিভাবে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করবে চীন? যদিও শুরু থেকেই এই দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা যতটা বোঝা যায় তার থেকেও অনেক বেশি ছিল।

আর এখন ধীরে ধীরে নর্থ কোরিয়া চীনের অনেক বড় বোঝার কারণও হয়ে উঠছে। ফলে চীনও যে শেষ পর্যন্ত তার ধৈর্য হারাবে না তা বলা যাচ্ছে না। গত ফেব্রুয়ারিতেই চীন নর্থ কোরিয়া থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ করেছে।

এরই মধ্যে শোনা গেছে প্রায় ১৫০,০০০ সেনাকে কোরিয়ার কাছাকাছি নিজেদের বর্ডারে পাঠিয়েছে চীন। অবশ্য এটা বানোয়াট তথ্য হিসেবেই জবাব দিয়েছে বেইজিং। গত শুক্রবার আবার কোন ব্যাখ্যা না দিয়েই হুট করেই পিয়ংইয়ং ও বেইজিংয়ের মধ্যেকার ফ্লাইটও প্রত্যাহার করে চীন।

নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্কের ব্যাপারে আরেকটু বুঝে শুনে হয়তো চীন পা ফেলতে চাইবে কারণ, এখনও চীনে নর্থ কোরিয়ার কয়েক হাজার উদ্বাস্তু রয়েছে। কেউ কেউ কিমের অত্যাচারের জ্বালায় এসেছেন আবার কেউ এসেছেন কাজের খোঁজে। যদি আবার যুদ্ধ জড়িয়ে পড়ে নর্থ কোরিয়া তাহলে চীনে যে পরিমাণ কোরিয়ান ছুটে যাবে সেটা নিয়েও ভাবার বিষয় আছে চীনের।

নর্থ কোরিয়াকে আবারো বিশ্বের দিকে ফিরিয়ে আনতে এখন সবাই চীনের দিকেই তাকিয়ে আছে। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্রিল্যান্ড ক্রিস্টিয়া বলেন, কেবল চীনের সঙ্গেই একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে কোরিয়ান নেতা কিম-জং উনের। এর আগে শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকেও অনেকে দেখছেন খুবই ইতিবাচকভাবে। এসব ঘটনা দেখেই চীনও এই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এই সপ্তাহেও চীন সিরিয়া নিয়ে প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। এর আগে এই ব্যাপারে ভেটো দেয় রাশিয়াও। তার মানে রাশিয়ার সঙ্গে মোটামুটি একমত চীন। সেটাও কিছু পর্যবেক্ষককে অবাক করে দিয়েছে।

চীনের পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসের একটি সম্পাদকীয় থেকে জানা যায় তাদের বক্তব্য। সেখানে তারা বলছে, পিয়ংইয়ংকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক উচ্চাশাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে নর্থ কোরিয়ায় চীনের তেল পাঠানো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নর্থ কোরিয়ার প্রতি চীনের এই ধরনের হুমকি এই প্রথম। এর আগে প্রায় একদশক চীন তাদের মিত্র নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে চীনের তেলের চালানের ব্যাপারে কাউকে কোন বক্তব্যও দিতে দেয়নি।

এসবই নতুন করে ভাবাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

syria2সরকার ও বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী আটকেপড়া লোকজনদের সরিয়ে নেয়ার সময় শনিবার বাসের বহরে বোমা হামলা চালানো হয়। শিশুদের চিপস দিয়ে আকৃষ্ট করে এই হামলা চালানো হয়েছে সিরিয়ায়। শনিবারের এই বোমা হামলায় নিহত ১২৬ জনের ৬৮ জনই শিশু।  এ যেনো শিশু হত্যার এক ‘মহাউৎসব’।

সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় আলেপ্পা শহরে বাসের বহরে আঘাত হানে বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাসের বহর থামলে ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। কাতার ও ইরানের মধ্যস্থতায় দামেস্কের কাছের সরকার নিয়ন্ত্রিত ২টি ও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ২টি শহরে আটকে পড়া প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদে বের করে নেয়ার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

বিবিসির মধ্য প্রাচ্য প্রতিনিধি লিনা সিনজাব জানান, খাবার ভর্তি একটি গাড়ি সেখানে এসে শিশুদের মাঝে চিপস বিতরণ শুরু করে তাদের আকৃষ্ট করে এবং পরেই তা বিস্ফোরিত হয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া কিভাবে গাড়িটি সেখানে আসলো তা পরিষ্কার নয় বলেও জানান তিনি।

সাধারণ সিরিয়সহ শিশুদের জন্যও যে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে এমন বার্তা দিয়েছিলো ইউনিসেফ। চলতি বছরের মার্চে  সিরিয়ার শিশুদের জন্য ২০১৬ সালকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বছর বলে ঘোষণা করে ইউনিসেফ। সেই বছর ৬০৫ জন শিশু নিহত হয়। যা এর আগের বছরের (২০১৫) চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।

এছাড়াও রাজধানী দামাস্কাসেও বোমা বর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। কমপক্ষে তিনটি গোলা সেন্ট্রাল উমায়াদ স্কোয়ারে আঘাত হানে বলে জানায় রাষ্ট্র ও সরকার সমর্থক মিডিয়া। রাষ্ট্রীয় টিভি এর জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সিরিয়ান মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ গ্রুপ জানিয়েছে কমপক্ষে ১০৯ জন শনিবারের হামলায় নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাহায্য কর্মী ও বিদ্রোহী সেনারাও রয়েছে। সেই হামলায় আরও অনেকেই আহত হয়েছেন বলে জানায় গ্রুপটি।

তবে সেই হামলার দায় এখনও কেউ শিকার করেনি। তবে সরকার বিদ্রোহীদের দায়ী করে যে বক্তব্য দিচ্ছে তারও কোন প্রমাণ নেই। কারণ সেই হামলা বিদ্রোহীদের স্বার্থ রক্ষা করে না। বিদ্রোহীরাও তাদের সমর্থকদের অন্য শহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলো।

পরে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর থেকে আটকে পড়াদের সরিয়ে নেওয়ার সময় আর হামলার ঘটনা ঘটেনি।

গত বছরের ডিসেম্বরেও আটকে পড়াদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest