প্রথমার্ধের এই স্কোরলাইনের শেষ হয়েছে ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সুযোগ পেয়েছে অনেক, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি কেউই। সবচেয়ে ভালো সুযোগটা পেয়েছিলেন সম্ভবত সুয়ারেস। ম্যাচের শেষদিকে সোসিয়েদাদের গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। তিনি ব্যর্থ হলেও ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে সমস্যা হয়নি তার দল বার্সেলোনার। ঘাম ঝরানো এই জয় এলো টানা দুই ম্যাচ হারের পর। সবশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় হার নিয়ে ফিরতে হয়েছে বার্সেলোনাকে, তার আগে লিগ ম্যাচে মালাগার বিপক্ষে ফিরেছিল ২-০ গোলের হার নিয়ে। মেসি জাদুতে পাওয়া জয়ে আত্মবিশ্বাসটাও ফিরে পেয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। জুভেন্টাসের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগ ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আগে জয়টা খুব দরকার ছিল তাদের।
‘এল ক্লাসিকো’র জন্য তো বটেই। শনিবার আগের ম্যাচে রিয়াল জয় পাওয়ায় ৬ পয়েন্টে গিয়েছিল এগিয়ে। এখন বার্সেলোনা জেতায় পয়েন্ট ব্যবধান থাকল আগের মতোই ৩ পয়েন্টের, যদিও রিয়াল খেলেছে এক ম্যাচ কম। ৩২ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭২, আর ৩১ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৭৫। গোল ডটকম

মালাগার বিপক্ষে লিগের আগের ম্যাচে হার, গোল পাননি মেসি। জুভেন্টাসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে হার, গোল পাননি মেসি। দলের সেরা খেলোয়াড়ের গোলখরায় জিততে পারেনি বার্সেলোনাও। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড গোলে ফিরতেই জয়ে ফিরল কাতালানরা। মেসির জোড়া লক্ষ্যভেদে ঘরের মাঠে বার্সেলোনা ৩-২ গোলে হারিয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদকে।
মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৩৭তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৬-১৭ সাতক্ষীরা ভেন্যুর খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি’র) আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে খেলার উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান এ.এফ.এম এহতেশামূল হক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম আনিছুর রহমান প্রমুখ। সাতক্ষীরা ভেন্যুর উদ্বোধনী খেলায় পাবনা জেলা ক্রিকেট দল টসে জয়লাভ করে ব্যাটিংয়ের সির্দ্ধান্ত নেয় এবং রংপুর জেলা দলকে ফিল্ডিংয়ের আমন্ত্রন জানায়। এছাড়া সাতক্ষীরা ভেন্যুতে আরো খেলবে মানিকগঞ্জ ও ঝালকাটি জেলা দল। সাতক্ষীরায় ৩৭ তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৬-১৭ সাতক্ষীরা ভেন্যুর খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া অফিসার খালিদ জাহাঙ্গীর, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক ও ক্রিকেট সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের, ট্রেজারার শাহ-আলম সানু, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জসি, কাজী কামরুজ্জামান কাজী, ইকবল কবির খান বাপ্পি, ইদ্রিস বাবু, আ.ম আক্তারুজ্জামান মুকুল, মীর তাজুল ইসলাম রিপন, মো. আলতাপ হোসেন, হাবিবুর রহমান হবি, হাফিজুর রহমান খান বিটু ও খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্সসহ রংপুর ও পাবনা দলের ক্রিকেটার, কর্মকর্তা ও ক্রীড়ামোদী দর্শক। সোমবার সকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলায় মুখো-মুখি হবে মানিকগঞ্জ ও ঝালকাটি জেলা দল। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য তৈয়েব হাসান বাবু।
বারবার। যে জাতি নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে সুসজ্জিত সশস্ত্র সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে ছিনিয়ে আনতে পারে স্বাধীনতা, সে জাতিকে জুজুর ভয় দেখিয়ে দাবায়ে রাখা যায় না।
নিজস্ব প্রতিবেদক : কলারোয়ায় স্কুল শিক্ষকের বেত্রাঘাতে দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্র আহত হয়েছে। আহত অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর তাকে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত স্কুল ছাত্রের নাম আশিকুজ্জামান। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আহত স্কুল ছাত্রের খালা সাজেদা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করছেন। সাজেদা খাতুন জানান, জন্মের পর থেকে তার বোনের ছেলে আশিকুজ্জামানকে তিনি লালন পালন করে আসছেন। আশিকের মা সম্প্রতি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আশিকও অসুস্থ। সে চন্দনপুর মাধমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র। আশিক সকালে দেরিতে স্কুলে যায়। এসময় স্কুলের পিওন বজলুর রহমান তাকে শ্রেণি কক্ষে যেতে বাধা দেয়। এ নিয়ে দু’জনের কথা কাটাকাটি হলে পিওন বজলুর রহমান আশিককে ধরে নিয়ে প্রধান শিক্ষক আনছার আলীর কাছে নিয়ে যায়। পিওনের সাথে তর্কবিতর্ক করায় প্রধান শিক্ষক আশিককে বেতের লাঠি দিয়ে বেদমভাবে মারপিট করে। লাঠির আঘাতে যন্ত্রনাকাতর আশিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে তিনি (খালা) তাকে উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনছার আলী জানান, আশিকুজ্জামান প্রায় সময়ই স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের সাথে বেয়াদবি করে। তার বিরুদ্ধে ধুমপান করারও অভিযোগ রয়েছে। বয়োজেষ্ঠ্য পিওন বজলু রহমানের সাথে বেয়াদবি করায় আশিককে মারপিট করেছেন বলে তিনি স্বীকার করে আরো জানান, আশিক ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য আমার প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জ্ঞান হারানোর নাটক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে যাতে কেউ বেশীকিছু বাড়াবাড়ি করতে না পারে সেজন্য জরুরী ভাবে শিক্ষকদের নিয়ে স্টাফ মিটিং করা হয়েছে। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করে জানান, সরেজমিনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মোস্তফা কামাল : শ্যামনগর উপজেলায় ৯ নং বুড়িগোয়ালিনী ও ৬ নং রমজাননগর ইউনিয়নে দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ শুরু হবে আজ ১৬ এপ্রিল। অন্ধকারে আলোর লড়াই, কে হবে জনপ্রতিনিধি! ভোটাররা অন্ধকারে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সৎ যোগ্য নেতা খুঁজে নেবেন। জয়ের মাল্য কে পরবেন তা আর কয়েক ঘন্টা পরে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জানা যাবে। চেয়ারম্যান আকবর আলী জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোট ফলাফলে আমার ধানের শীষ প্রতীক ১৮ ভোটে জয়লাভ করে। ৪নং ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতিকে মোট ভোট পান ৫৮৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আল মামুন ঘোড়া প্রতিকে পান ১৩১১ ভোট। রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শীট প্রদান করার পর রেজাল্ট শীটে ফুট মেরে ২৪ ভোট কমিয়ে আল মামুনের রেজাল্ট শীটে ২৪ ভোট যোগ করে তাকে জয়ী করে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর রেজাল্ট শীট নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট করলে বিজ্ঞ আদালত ঐ ৪ নং কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেন। ধানের শীষ ও ঘোড়া প্রতিকের মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে। পূর্বের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যায় এই হিসাব মেলে। আজ সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ওই দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্র দুটি হলো- ৯ নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে ভামিয়া পোড়াকাটলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬ নং রমজাননগর ইউনিয়নে পূর্ব রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার কামাল উদ্দীন আহমেদ জানান, পূর্ব রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৬৬১। তন্মেধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৩৬৫ ও মহিলা ১ হাজার ২৯৬। অপরদিকে ভামিয়া পোড়াকাটলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৯৪। তন্মেধ্যে পুরুষ ৫৫৭ ও মহিলা ৫৩৭। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে ১ জন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবং ভ্রাম্যমান হিসেবে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। তিনি আরও বলেন, দুই কেন্দ্রে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনছার ও ভিডিপির সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলা হয়েছে। উল্লেখ্য বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের এ কেন্দ্রের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ডালিম কুমার ঘোরামী জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। অপর দিকে রমজাননগর ইউনিয়নের ওই কেন্দ্রে গোলযোগ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বাচন স্থগিত করে দেন। এদিকে ওই দুই কেন্দ্রে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ভোটাররা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে নির্বিঘেœ ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ভোটাররা। শ্যামনগরের সর্বস্তরের মানুষ এ দুটি নির্বাচন কেন্দ্রের দিকে অধির আগ্রহে তাকিয়ে আছে। শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে এমনিই আশা করছেন সকলেই।
শ্যামনগর ব্যুরো : পহেলা বৈশাখে সাতক্ষীরা ৪ আসনের এম.পি. জগলুল হায়দারের পক্ষ হতে প্রতিবন্ধী ও হত দরিদ্রদের মাঝে নগদ অর্থ, মুরগি, তরকারী ও চাউল বিতরন করেছেন। এম.পি. জগলুল হায়দারের ঐচ্ছিক তহবিল হতে নির্বাচনী এলাকার ২০টি ইউনিয়নের কয়েক শত প্রতিবন্ধীদের মাঝে ৫ লক্ষ টাকার অনুদান ঘোষণা করেন এবং পরে হত দরিদ্রদের মাঝে মুরগি, তরকারী ও চাউল বিতরণ করেন। টাকা সমাজের স্বচ্ছল ব্যক্তিরা উন্নত মানের খাবার খেয়ে নববর্ষ উদযাপন করে। কিন্তু আরও অনেক অস্বচ্ছল, গরীব, দুঃখী, অসহায় মানুষ আছে যারা বছরের বাকী সব দিনের মত সাধারণ খাবার খায় নববর্ষে। মনের তীব্র ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অসুবিধার কারণে তারা এই দিনটিকে আলাদা ভাবে উদযাপন করতে পারে না। তাদের কষ্ট অনুভব করে জনবন্ধু এস, এম জগলুল হায়দার এমপি পহেলা বৈশাখ নববর্ষের দিনে শ্যামনগরের নকিপুর বাজার থেকে কয়েকজন অতি গরীব, অসহায় মানুষকে মাংস ও চাউল ক্রয় করে দেন। পরে প্রেসকøাবে এসে উপজেলার কালমেঘা গ্রামের হত দরিদ্র আশরাফ গাজীর পুত্র জাহিদুল ইসলামের মায়ের হাতে ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য শিল্পী রানী মৃধা, শ্যামনগর প্রেসকøাবের সভাপতি জি, এম আকবর কবীর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুমনসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
আমির হোসেন খান চৌধুরী : সরকরিভাবে বন্দোবস্তকৃত চিংড়ি ঘের জবর দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করার উদ্যোগ নেওয়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ সময় ঘেরের বাসা ভাঙচুর করে ৫০ হাজার টাকার মাছ ও মাছ ধরার সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের যুগিপোতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, ধুলিহর ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামের মৃত তারক মিস্ত্রির ছেলে অশ্বিনী মিস্ত্রি(৬০), তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী মিস্ত্রী (৪০), নিরঞ্জন মিস্ত্রি (৪৮), তার স্ত্রী অনিমা রানী মিস্ত্রী (৩৫) ও ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিরঞ্জন মিস্ত্রি জানান, ১৯৮১ সালে তার বাবা তারক চন্দ্র মিস্ত্রী ধুলিহর মৌজার যুগিপোতা গ্রামের হাল ১৪৬২৮ দাগে ৮৯ শতক ও ১৪৮৫২ দাগে ২৭ শতক জমি বন্দোবস্ত নেন। ১৯৯২ সালে একই বয়ারবাতান গ্রামের সুদীপ সরকারের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য ভৈরব সরকার ওই জমি সুধান্য সরকারের মা ভদি সরকারের কাছ থেকে কোবালা দলিল মূলে কিনেছেন মৌখিকভাবে দাবি করে ওই জমি থেকে তারক মিস্ত্রীকে উচ্ছেদ করে। নিরঞ্জন মিস্ত্রী আরো জানান, গত বছরের ১৮ অক্টোবর সদর সহকারি ভূমি কমিশনারের অফিস থেকে ওই জমি তার বাবার নামে বন্দোবস্ত দলিল আছে উল্লেখ করে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কয়েকদিন পর ওই জমি তার নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য তাকে বাবার সময়কার বন্দোবস্ত বাবদ হাঁস মুরগি ও ছাগল বিক্রি করা ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। নিয়ম অনুযায়ি ১৪২৩ সালের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ওই জমির বন্দোবস্তের মেয়াদ ছিল। ১৪২৪ সালের বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য তিনি গত বৃহষ্পতিবার সদর সহকারি ভূমি কমিশানারের অফিসে আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে ১৬ এপ্রিল অফিসে আসতে বলেন। প্রত্যক্ষদর্শী যুগিপোতা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ, ছাদেকুর রহমান, সঞ্জয় মিস্ত্রী, ধুলিহর সানা পাড়ার বাকির হোসেনসহ কয়েকজন জানান, সাবেক ইউপি সদস্য ভৈরব সরকার তার ভাই শৈলেন্দ্র নাথের স্ত্রী সবিতা রানী হত্যা মামলার অন্যতম আসামী। দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘ ২৫ বছর তারক মিস্ত্রীর বন্দোবস্তকৃত জমি জবরদখলে রাখার পর পাঁচ মাস আগে হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি তিনি সহজে মেনে নিতে পারেননি। একপর্যায়ে গত ৩০ চৈত্র নিরঞ্জন মিস্ত্রীর বন্দোবস্তের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরপরই তিনি ওই জমি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা নেন। এজন্য তিনি সাবেক জাপা নেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সানা ওরফে বাবু সানার সঙ্গে পরামর্শ করে তারই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য বহু জায়গার জবরদখলে নেতৃত্বদানকারি সানাপাড়ার এরফান, ইসমাইল, তুল্লুক, সাইফুলদের শরনাপন্ন হন। একপর্যায়ে শনিবার সকাল ৯টার দিকে ওই সন্ত্রাসীসহ ভৈরব সরকার , তার ভাই শৈলেন সরকার, দিবস সরকার, নিরাপদ সরকার , গনেশ মিস্ত্রীসহ উপরোক্ত সন্ত্রাসীরা দা, শাবল, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ইত্যাদি নিয়ে নিরঞ্জন মিস্ত্রীর ওই মাছের ঘেরে হামলা চালায়। একইসাথে তারা ওই ঘেরে একটি বাসা বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু করে। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি তাতে বাঁধা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে খুব শীঘ্র সমস্যার সমাধান করে দেবেন বলে নিরঞ্জন মিস্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। এরপর ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা নিরঞ্জন মিস্ত্রীর চিংড়ি ঘেরের বাসা ভাঙচুর ও মাছ লুটপাট শুরু করলে নিরঞ্জন মিস্ত্রী, তার স্ত্রী অনিমা রানী মিস্ত্রী, অশ্বিনী কুমার মিস্ত্রী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী মিস্ত্রী বাধা দেন। এ সময় হামলাকারিরা ওই চারজনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ ঘটনাস্থলে এসে মোবাইল ফোনে এম্বুলেন্স আনার উদ্যোগ নিলে হামলভকারিার তাকে মারতে মারতে বেতনা নদীর বেড়িবাঁধের উপরে নিয়ে যায়। পরে আহত একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শনিবার বিকেলে হাসপাতালে গেলে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের হাতে তাকেসহ নিরঞ্জন মিস্ত্রী পরিবারের চারজন জখম হয়েছে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাসপাতাল চত্বরে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদের হাসপাতাল চত্বরে চেয়ারম্যানের হাতাহাতি হয়। হামলার বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেয়ারম্যানের পরামশে কাল্পনিক জখম সৃষ্টি কর্রে ভৈরব সরকারের স্ত্রী কামনা সরকার ও শৈলেন সরকারের স্ত্রী সবিতা সরকারকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে আব্দুল হামিদসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন।