সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনির এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলাদ্রুত বিচার আইনের মামলায় জামায়াত নেতা আজহারুজ্জামান ‍মুকুল কারাগারেসাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা: আটক -০২তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ভূগর্ভ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের শীর্ষে আশাশুনিদীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষ : কাঁকড়া আহরণ অনুমতি পেলো বনজীবীরাসাতক্ষীরা কারাগারে হাজতির মৃত্যুনার্সিং ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মায়ের বকুনিতে ছাত্রীর আত্ম#হত্যাশ্যামনগরে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতা ও তার পরিবারকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বুধবার ২৮ ডিসেম্বর সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলা পরিষদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আর এই নির্বাচনে সাতক্ষীরায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক। সভাপতি দলীয় আ’লীগ মনোনিত আর সাধারন সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী। ফলে সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে এক ভিন্ন আমেজ। জনগণের ভোটে জিতে এই প্রথম বারের মত আবার নিজে ভোট দিয়ে অন্য কাউকে বিজীয় করতে উন্মুখ হয়ে আছেন ভোটাররা। তাই জনপ্রতিনিধি ভোটাররা কাকে ভোট দিবেন এবং কে পরবে বিজয়ের মালা তা দেখতে আর মাত্র কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই নেতার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও প্রচারে জেলা আ’লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছেন সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম। সভাপতি লড়ছেন আনারস প্রতিক নিয়ে আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লড়ছেন মটর সাইকেল প্রতিক নিয়ে।দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মনোনিত প্রার্থীকে উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তার দিকে বাকা চোখে দেখছেন জেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী পোড় খাওয়া নেতারা। অপরদিকে তৃণমুল নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন না করে কেন্দ্র মুনসুর আহমেদকে দলীয় প্রার্থী করায় যার পর নেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকেই। ফলে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে  কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বিগত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইকালে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে কিছু কিছু এলাকার চেয়ারম্যানদের কাছে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন মুনসুর আহমদ। নানাবিধ কারনে অনেক ভোটার জনপ্রতিনিধি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আর সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন দলীয় সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম। বি˜্রােহী প্রার্থী হওয়ায় মুনসুর আহম্মেদের উপর ক্ষুব্ধ চেয়ারম্যান-মেম্বররা নজরুল ইসলামের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন। সেকারণে স্বাভাবিক ভাবে বেকায়দায় আছেন দলীয় সভাপতি ও শেখ হাসিনা মনোনিত প্রার্থী মুনসুর আহমেদ।   এদিকে, সাধারন সম্পাদক নজরুল সমর্থক জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবীব অয়ন ও পৌর যুবলীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন অনু বলছেন আরেক কথা, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির কারণে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে চায়না জনগন। তৃণমূলের চাপে নজরুল ইসলামকে ভোটে দাড়াতে হয়েছে। জেলার অধিকাংশ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। সেকারনে নির্বাচনে তিনি অনেক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন। তারা আরো বলেন, যেখানে যাচ্ছি সেখানে দেখছি নজরুল ইসলামের জয়জয়াকার। নজরুল ইসলামের মত ব্যক্তিত্বকে জেলা পরিষদে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তিনি জিতলে দল তার ইমেজ ফিরে পাবে।জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, জেলা পরিষদের আওতায় যেসব উন্নয়নমূলক কাজ হয় তার স্বচ্ছতা না থাকলে উন্নয়ন কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়বে। তবে সাতক্ষীরার উন্নয়নে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমনানের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি সম্পূর্ন মুনসুর সাহেবের শেল্টারে চলেন। তার প্রশ্রয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন। যে কারনে মাহবুবুর রহমানের অবৈধ কর্মকান্ডে সাতক্ষীরায় আ’লীগ সরকারের ভাবমূর্তি দারুনভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। আগামি নির্বাচনে নজরুল ইসলাম জয়লাভ করলে তাকে অন্যত্র বদলী ও পূর্বের দূর্ণীতির সকল তদন্ত হবে বলে মনে করেন তিনি। এ নির্বাচনে ভোটারদের নিয়ন্ত্রণ করতে অবৈধ লেনদেন না হলে ও প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ থাকলে ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে নজরুল ইসলাম জয়ী হবেন বলে মনে করেন তিনি।পৌর যুবলীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন অনু বলেন, তাঁর (নজরুল ইসলাম) বিজয়ের সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে মুনসুর আহমেদ ও তার লোকজন বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা সাধারণ ভোটার-সমর্থকদের সমর্থন পেতে নানা প্রলোভন দেখাচ্ছেন। এমনকি তিনি  সাধারণ ভোটারদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তার পরও ভোটাররা নজরুল ইসলামের সাথে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।মুনসুনর আহমদে সমার্থক জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইদ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ ও দপ্তর সম্পাদক হারুন উর রশীদসহ বেশ কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তিনি দলের সিদ্ধান্ত মানেন না এজন্য আমরা তার বহিস্কার দাবী করছি। এদিকে, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ তার বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, গত ১৯ ডিসেম্বর শ্যামনগর উপজেলায় আমার নির্বাচনী প্রতিক আনারসের পোস্টার ও হ্যান্ডবিল ছিড়ে ফেলা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদে আনারস প্রতিকের প্রচারকার্য চালানোর সময় শ্যামনগরের ছাত্রলীগের কর্মী মোজায়দুল ইসলামকে মারধর করেন বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলামের নির্বাচনীকর্মী সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন ও সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবিব অয়ন ও শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ অজ্ঞাত নামা ৭/৮ জন। এসময় তারা আনারস প্রতিক সম্বলিত পোস্টার ছিড়ে ফেলে ও তার কাছে নির্বাচনী খরচের তিন হাজার টাকা ছিনতাই করে নেয়। তিনি এসব ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবি জানান।তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়নে বর্তমান সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এসব কারণে ভোটাররা আমাকেই নির্বাচিত করবেন। যারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালো বাসেন, নৌকা প্রতীক ভালো বাসেন তারা সবাই নির্বাচনে তার সাথে আছেন। যারা দলীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে ভোটের মাধ্যমে তাদের জবাব দেওয়া হবে।জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্রোহী চেয়াম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটাররা যাকে ভালো মনে করবেন তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন এটাই নিয়ম। মানুষ জেলা পরিষদের সেবা দেখেছে। ভোটাররা সবসময় ভালো কিছু আশা করে। ভোটারা আমার বিগত উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম দেখেছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার কারণে উচ্চ আদালত কর্তৃক তাকে (মুনসুর আহমেদ) ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। নির্বাচিত হলে আমি সাতক্ষীরা উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেব। সাতক্ষীরার প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা এইচএম কামরুল ইসলাম জানান, কৈখালি ও রমজাননগর ইউনিয়নে ভোট বন্ধ সংক্রন্ত হাইকের্টের আদেশ তারা পেয়েছেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে করণীয় জানতে তিনি ইতিমধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন।অপরদিকে, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোট শান্তিপূর্ণ করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে পাশাপাশি কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ভোটের মাঠে থাকবেন। আইন শৃংঙ্খলার ব্যাপারে আমরা কঠোর হবো। সে যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য ঃ বুধবার ২৮ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার ৭৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভাকে ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে বিভক্ত করে সীমান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৫টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার ৩টি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১০০ জন। চেয়ারম্যান পদে ২জন, পুরুষ সদস্য পদে ৭৯ জন এবং সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য পদে ১৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। সাতক্ষীরা জেলার ১০৫১ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮০৬ জন এবং নারী ভোটার ২৪৫ জন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পলাশপোল ও আলিপুর মৌজাধীন বাকালে অবস্থিত ৫ একর ৮০ শতক জমির উপর নব-নির্মিত ডিসি ইকো পার্কের মাটি ভরাট কাজ রোববার বিকালে পরিদর্শণ করলেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। সাতক্ষীরাবাসীকে কর্ম ব্যাস্ততার মাঝেও একটু বিনোদন দিতে জেলা প্রশাসনের অভাবনীয় উদ্যোগ এই ডিসি ইকো পার্ক। জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ডিসি ইকো পার্কটি তৈরী হলে সাতক্ষীরা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকের আনা গোনা বাড়বে। সেই সাথে জেলার আর্থিক উন্নয়নে ডিসি ইকো পার্ক দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখবে। পরিদর্শণকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর, দৈনিক যুগের বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আবু নাসের মো. আবু সাঈদ, সার্ভেয়ার তারেক রহমান প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় তৃণমূল পর্যায়ের অ-১৫ প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন ও প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার বিকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আয়োজনে এবং জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম আনিছুর রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রশিক্ষক মো. মাহবুব আলম পলো, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির খান বাপ্পী, ট্রেজারার শেখ মাসুদ আলী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য শাহ আলম শানু, স.ম সেলিম রেজা প্রমুখ। জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় তৃণমূল পর্যায়ের অ-১৫ প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই ও প্রশিক্ষণ কর্মসুচি ২০১৬ সম্পন্ন করে ৩৫ জনের মধ্যে ২০কে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

1482763558-abahaniblue-vs-baridharawhite-gসর্বশেষ শিরোপা তাঁদের ঘরে আসে ২০১১-১২  মৌসুমে। এরপর দীর্ঘ বিরতি। কোনো শিরোপা তো ছিলই না, রীতিমতো ধুঁকতে হয়েছিল ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে। তিন মৌসুম পর আবারও ঢাকা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছে নীল-আকাশি শিবির। আজ সোমবার উত্তর বারিধারা ক্রীড়া সংঘকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পঞ্চমবারের মতো এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা আবাহনী।

এর আগে ২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯  মৌসুমে  টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঢাকা আবাহনী।  বাংলাদেশের ফুটবল পেশাদার যুগে প্রবেশ করার পর তাদের এই সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। অবশ্য সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। কিন্তু ঢাকা আবাহনীই একমাত্র দল যারা এই লিগে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে।

এর আগে চট্টগ্রাম আবাহনী দিনের প্রথম ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। এর ফলে বন্দরনগরীর ক্লাবটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে আবাহনীর ৪৯ পয়েন্ট। দুই দলেরই আর একটি করে ম্যাচ বাকি। তাই ঢাকা আবাহনী পরের ম্যাচে হারলেও এবং চট্টগ্রাম আবাহনী পরের ম্যাচ জিতলেও ধানমণ্ডিপাড়ার দলটির শিরোপ জয়ের ক্ষেত্রে খুব একটা বাধা থাকবে না।

আজ আবাহনীর জয়ে প্রথম গোল করেন দলটির ইংলিশ ফরোয়ার্ড জোনাথন। ম্যাচের ২০ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জুয়েল। এরপর ৮৩  ও ৮৬ মিনিটে পরপর দুটি গোল করেন ইমন বাবু ও ফয়সাল মাহমুদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

full_242490734_1482761449বিএনপি ছাড়লেন পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-২ আসনের সাবেক এমপি এমএ হাসেম। সোমবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চিঠি দিয়ে দল ছাড়ার কথা জানান তিনি।

চিঠিতে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তের কথাও জানান পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান।

চিঠিতে রাজনীতি ছাড়ার কারণ উল্লেখ করে এমএ হাসেম বলেন, ”আমি নির্বাচনের আগেও দেশের জনগণ ও দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছিলাম। ৮ম জাতীয় সংসদের মেয়াদ কালের পরেও এখন পর্যন্ত জনগণের ও দেশের সেবায় জড়িত আছি, কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকান্ড আমার সারা জীবনের সামাজিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করেছে, তাই এখন থেকে আমি আর কোনো রাজনীতি করব না এবং কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সহিত নিজেকে সম্পৃক্ত রাখব না।”

২০০১ সালে নোয়াখালী-২ আসনের  (বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ি) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাসেম। দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় ছিলেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ec60caae2f571bc6a01c575c894c4d35-5822c86164f34আগামী ২৮ ডিসেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার শেষ হচ্ছে।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলায় স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ভোট দেবেন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা।

নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ জানান, প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া জেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শাহনেওয়াজ আরো জানান, অন্যান্য নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন পরিচালনা বিধির ৭৪(১) বিধি অনুযায়ী ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগে থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে উক্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা উহাতে বিজয়ী কিংবা পরাজিত প্রার্থী কেউ অংশ নিতে পারবেন না।

ভোটকেন্দ্রের আশপাশে গত রোববার মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে মোটরসাইকেলের ওপর। আগামী ২৭ ডিম্বেবর মধ্যরাতে বন্ধ হচ্ছে ৯ ধরনের যানবাহন। এগুলো হচ্ছে বেবি ট্যাক্সি/অটোরিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো।

এ ছাড়া এ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা না করা হলেও যেসব এলাকার যেসব প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবে ২০ জন করে পুলিশ, আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ব্যাটালিয়ন আনসার ও আনসার ভিডিপির সদস্য। কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে বিজিবি ও র‌্যাব। প্রতিটি উপজেলায় র‌্যাবের দুটি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে প্রতিটি কেন্দ্রে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২২, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৯ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৩৯ জেলায় ১২৪ জন, কাউন্সিলর পদে দুই হাজার ৯৮৬ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮০৬ জন।

জেলা পরিষদের ৬১ জেলায় ৬৩ হাজার ১৪৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৮ হাজার ৩৪৩ জন এবং মহিলা ভোটার ১৪ হাজার ৮০০ জন।

তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে বাকি ৬১ জেলায় এ ভোট হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় একজন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ভোট হবে।

সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদ আইনে প্রত্যক্ষ ভোটের বিধান নেই। জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটে জেলা পরিষদের নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

mmmআমির হোসেন খান চৌধুরী: রাত পোহালেই সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচন। আর নির্বাচনে দুর্নীতি অনিয়মের পাশাপাশি আ.লীগের প্রতি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি, আ.লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সম্মানর প্রতি মনে প্রাণে আনুগত্যের বিষয়টি জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে একটি মহল শেষ মুহুর্তে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলেও সন্দেহ করছেন জনপ্রিয় প্রার্থীদের কেউ কেউ। তবে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অর্থের চেয়ে সম্মানকে গুরুত্ব দেবেন।
নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আ.লীগ সভাপতি মুনসুর আহমেদ। আর তার বিপরীতে তৃণমূলের দাবির প্রেক্ষিতে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। দুর্নীতি-অনিয়ম, নেতা-কর্মীদের প্রতি আন্তরিক আচরণের পাশাপাশি উঠে এসেছে দলের সভানেত্রী প্রতি ভালোবাসার বিষয়টিও। গত কয়েকদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশে আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সাতক্ষীরার অনেকেই একটি ছবিকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোচনা করছেন। আর সেটি হলো- আলীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আব্দুর রউফের ব্যক্তিগত অফিসে বসা জেলা আ.লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদের একটি ছবি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে মুনসুর আহমেদ গভীর দুঃশ্চিন্তা নিয়ে আব্দুর রউফের সামনে বসে আছেন। সাধারণভাবে এ ছবি নিয়ে আলোচনার কোন কারণ না থাকলেও। একটি পুরনো ক্ষত থেকে আ.লীগ নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে নানা কমেন্ট করছেন। আর তা হলোÑ ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সাতক্ষীরায় এক প্রকাশ্য জনসভায় আ.লীগ নেতা-কর্মীদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আব্দুর রউফের দেয়া অশ্লীল এবং আপত্তিকর বক্তব্য, যা শেখ হাসিনা নিজেও অবগত আছেন। কারও সাথে কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতেই পারে কিন্তু রউফের অফিসে দলীয় জেলা সভাপতির জেলা পরিষদ নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তের গোপন বৈঠক তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। উল্লেথ্য, আব্দুর রউফ এ নির্বাচনে ভোটারও নন।
অন্যদিকে, বিগত পাঁচ বছর জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনকালে জেলা পরিষদের গাছ কেটে বিক্রি করে লুটপাট, বছরের পর বছর সামান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও দুর্নীতিবাজ মাহাবুবর রহমান কর্তৃক জেলা পরিষদকে প্রায় ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান-ইউপি সদস দের সাথে দুর্ব্যবহার করা। জলবায়ু ট্রাস্টের গৃহনির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতিÑ এ নিয়ে হাইকোর্টে  রিটকারিদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাড. সত্যরঞ্জন ম-লের বাড়িতে হামলা চালানো,  জেলা পরিষদের জায়গা ইজারা দেওয়ার দুর্নীতি, পুকুর, খেয়াঘাট, এডিবি’র অর্থায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে সিডিউল বিক্রিতে অনিয়মসহ মন্দির, মসজিদ, ঈদগাহ ও শ্মশান সংস্কারের টাকা বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
এসব বিষয় আগামিকালের নির্বাচনে জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

66666আব্দুল জলিল: ৩ বছর ৭ মাস ১২ দিন অনুপস্থিত থেকে ও সাতানি কুশখালি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক অসিকুর রহমান চাকরিতে বহাল  আছেন। তবে কিভাবে বহাল আছেন তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি মাদ্রাসা সুপার, সাবেক ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতিগণ।
পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, মাদ্রাসা সুপার সরকারি নিয়ম নীতির প্রতি তোয়াক্কা না করে তার ভাইকে আজও স্বপদে রেখে বেতন উত্তোলন করছেন। সম্প্রতি এব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য কুরবান আলি।
খোজখবর নিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালের জনুয়ারি মাসের ১ তারিখে সাতানি কুশখালি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক অসিকুর রহমান কাজ করার জন্য বৈধভাবে সৌদি আরব যান। তিনি সেখানে ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ করেন। তার অনুপস্থিতিতে চাকরি হতে অপসারণ সংক্রান্ত কাগজপত্র ২০০৮ সালের ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আপিল এ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অপসারণ প্রক্রিয়া সঠিক বিবেচিত হওয়ায় সর্ব সম্মিতিক্রমে চাকরি থেকে অপসারণের অনুমোদনের সুপারিস করা হয়। সাথে সাথে তার সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ের প্রাপ্য ভাতা পরিশোধসহ বরখাস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসার ড. মো: হাফিজুর রহমান মাদ্রাসা সুপার বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেন। যার ফলে ২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মাওলানা ওসিকুর রহমানকে স্থাযী ভাবে বরখাস্ত করা হয়।
মজার ব্যাপার হল মাদ্রাসা সুপার বরখাস্তের কোন কাগজপত্র মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠাননি। উল্টো নতুন করে রেজুলেশন তৈরি করে পুনরায় ২০১১ সালের ১৫ জানুয়ারি তাকে স্বপদে বহাল করেন। মাদ্রাসা সুপার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একের পর এক মন গড়া রেজুলেশন তৈরি করে চাচাত ভাই ওসিকুর রহমানের চাকরিতে বহাল রাখার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ওসিকুর রহমানকে কাগজ পত্র বৈধ করার জন্য সময় দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি চাকরিতে বহাল করার বৈধ কোন কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২ বছরের বেশি রকè শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলে তিনি স্থায়ীভাবে চাকরি হারাবেন। অথচ অসিকুর রহমান ৩ বছর ৭ মাস ১২ দিন কর্তৃক্ষের বিনা অনুমতিতে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়ার পরও কোন শক্তির বলে অসিকুর রহমান স্বপদে বহাল আছেন এবং সুপার কোন ক্ষমতা বলে বরখাস্তের কাগজপত্র বোর্ডে পাঠাননি এই বিষয়টি অভিভাবক, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।
শিক্ষক অসিকুর রহমান জানান, নিয়ম আছে সরকারি শিক্ষকরা ২ বছর আর বেসরকারি শিক্ষরা ৫ বছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতে পারেন। সে কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে স্বপদে বহাল রেখেছেন। তিনি যতদিন অনুপস্থিত ছিলেন ততদিন পর্যন্ত বেতন ভাতা গ্রহণ করেননি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য জাকির হোসেন ও কুরবান আলি জানান, শুনেছি মেডিকেল দেখিয়ে অসিকুর রহমানকে চাকরিতে বহাল করেছে। সুপার নিজে রেজুলেশন করে তাদের নিকট থেকে স্বাক্ষর করে নেন।
সাতানি কুশখালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার নজরুল ইসলাম জানান,  মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আবু রায়হান ও সদস্য কুরবান আলি ক্ষমতা প্রয়োগ করে অসিকুর রহমানকে মাদ্রাসায় স্বপদে বহাল রাখতে বাধ্য করেছিলেন। সে কারনে অসিকুর রহমান আজও চাকরিতে বহাল আছে। সাবেক সভাপতি তাকে কাগজপত্র বোর্ডে পাঠাতে দেননি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আবু রায়হান জানান,  আরপিটিশন বোর্ড অসিকুর রহমানকে সাসপেন্ড করার অডার দেয়। এসব কাগজপত্র গোপন করে রাখেন সুপার। তারা যখন জানতে পারেন তখন ব্যবস্থা নিতে চাইলে সুপার মিটিং না দিয়ে রেজুলেশন কাগজে সহি করে নেয়। এর পর তারা আর মিটিং করতে পারিনি। ক্ষমতা থেকে তারা সরে এসেছেন। তিনি বলেন নতুন কমিটি এর ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন দুনীতি গ্রস্থ সুপার নিজে যা ইচ্ছা তাই করে। তবে তিনি জানান সভাপতি থাকাকালীন সময় পর্যন্ত (এক বছর আগে) অসিকুর রহমান কোন বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম মোরশেদ জানান, তিনি মাত্র কয়েক মাস সভাপতি হয়েছেন। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পরও কিভাবে অসিকুর রহমান স্বপদে বহাল আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর জবাব দিতে পারবে সরকার ও সাবেক সভাপতি। কোন ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি কোন জবাব দেননি।
সাতক্ষীরা জেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সম্প্রতি তিনি একটি অভিযোগ পেয়েছেন। সরেজমিনে তদন্ত করবেন। তিনি আরো বলেন, আরবিট্রেশন বোর্ড যদি কাউকে বরখাস্ত করে এবং তিনি যদি কোর্টে কোন মামলা না করেন তবে তার যোগদান আইনসম্মত হয় না। তবে কমিটি যদি তাকে ছুটি দিয়ে থাকে এবং ছুটি নিয়ে তিনি যদি যান এবং ২ বছরের বেশি অবস্থান করেন তবে সেটি ব্রেক অব সার্ভিস হিসেবে গণ্য হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest