সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই উভয় পক্ষে ফের প্রচণ্ড সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)-এর বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি চারকিন বলেন, পূর্ব আলেপ্পোতে সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিদ্রোহীরা সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে পূর্ব আলেপ্পো ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা আসে।
আলেপ্পোর অধিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরুর কথা ছিল স্থানীয় সময় বুধবার ভোর ৫টা থেকে। কিন্তু তা শুরু হয়নি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হয় প্রচণ্ড গোলাগুলি। এসওএইচআর-এর মুখপাত্র রামি আবদুলরহমান বলেন, ‘ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ চলছে, প্রচণ্ড মাত্রায় বোমা হামলা চলছে। এতে মনে হচ্ছে যুদ্ধ বিরতির সব কিছুই ভেস্তে গেছে।’
এসওএইচআর জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেটস-এর মুখপাত্র ইব্রাহিম আবু-লেইথ জানিয়েছেন, নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
অস্ত্রবিরতি ঘোষণার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেকগুলো বাসও পৌঁছেছিল। কিন্তু বুধবার হঠাৎ করেই আবার সংঘর্ষ শুরু হয়।
সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি স্তেফান ডি মিস্তুরা জানিয়েছেন, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি।
মিস্তুরা আরও বলেন, এসব অঞ্চলে অন্তত দেড় হাজার বিদ্রোহী রয়েছেন। এদের ৩০ শতাংশই জঙ্গি সংগঠন ফাতেহ আল শাম (প্রাক্তন নুসরা ফ্রন্ট)-এর সঙ্গে জড়িত।
২০১২ সাল থেকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পূর্ব আলেপ্পো। সম্প্রতি সরকারি বাহিনী অঞ্চলটির অধিকাংশ জায়গা দখল করে নেওয়ায় বিদ্রোহীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

খুশকি দূর করতে কত কিছুই তো ব্যবহার করেছেন। এবার আদার রস ব্যবহার করে দেখুন। এতে জিঞ্জারোল উপাদান রয়েছে, যা শক্তিশালী অ্যন্টিঅক্সিডেন্টস হিসেবে কাজ করে। আর এর অ্যামিনো এসিড ও ফ্যাটি এসিড মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়, ত্বকে শুষ্ক হতে দেয় না এবং চুল পড়া রোধ করে। এ ছাড়া এর মাইক্রোবিয়াল উপাদান মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করে ও খুশকির জীবাণু ধ্বংস করে। অন্যদিকে আদার ভিটামিন ও মিনারেল চুল নরম ও মসৃণ করতে সাহায্য করে।
দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেড়েই চলেছে যুদ্ধবিগ্রহ ও সহিংসতা। যুদ্ধের বাজারে নিজেদের ভার বজিয়ে রাখতে পাল্লা দিয়ে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। প্রতিরক্ষা খাতে খরচে কোন কোন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে আইএইচএস জেন প্রকাশ করেছে বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেটের এক প্রতিবেদন।
‘ওরা আমাদের ধর্ষণ করত। যতক্ষণ না আমরা অজ্ঞান না হয়ে পড়তাম, ততক্ষণ পর্যন্ত চলত এসব কাজ।’ ইরাকের উত্তরাঞ্চলের দুই নারী লামিয়া আজি বাশার ও নাদিয়া মুরাদ এভাবেই নিজেদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক: টাকার অভাবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ মেয়েদের ফুটবলে ওয়াকওভার দিয়ে ফিরে এসেছেন সাতক্ষীরা দল। আর এ জন্য একে অপরকে দায়ী করেছেন সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল এ্যসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান ও টিম লিডার আকবর আলী। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল সাতক্ষীরা দলের। কিন্তু তার আগেই সেমিফাইনালে ওয়াকওভার দিয়ে ফিরে আসার বিষয়টি সাতক্ষীরার ক্রীড়ামোদীদের রীতিমত হতাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ঠরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের আনোয়ারা খাতুন একজন দিনমজুর। গত শুক্রবার তিনি পার্শ্ববর্তী এক ভূমি মালিকের জমিতে উচ্ছে তুলে দুপুর একটার দিকে বাড়িতে আসেন। বসতঘরের দরজা খুলে মেয়ে আফরোজাকে আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঝুলতে দেখেন। পরে আফরোজা মারা গেছে মর্মে নিশ্চিত হন আনোয়ারা। এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে সারা সোনাবাড়িয়াতে ঘুরপাক খাচ্ছে। আত্মহত্যা করলে স্বাভাবিক নিয়মে ঘরের ভিতরের দিক থেকে দরজা লাগানোর কথা। সেক্ষেত্রে ফেসবুকের ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ি সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মনিরুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ ইসমাইলসহ কয়েকজন মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের নামে ফেঁসে যেতে পারেন। সেকারণে চেয়ারম্যানের পেটুয়া বাহিনীর লোকজন আফরোজাকে কৌশলে হত্যার পর আত্মহত্যার প্রচার দিতে লাশের গলায় ওড়না বেঁধে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়াটা অসম্ভব নয়। আফরোজা মারা যাওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে আনোয়ারা খাতুনের বক্তব্য ও মৃতের ভাই ইব্রাহীম খলিলের এজাহারে উল্লেখ করা ‘মা কাজ থেকে ফিরে ঘরের দরজার ছিকল খুলে আফরোজাকে আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান’ এমন কথাগুলো এ মৃত্যুরধরণ নিয়ে সংশয়ের বাতাবরণ তৈরি করেছে। বুধবার সকালে সাতক্ষীরার সোনাবাড়িয়া গ্রামে গেলে মুদি ব্যবসায়ি সালাম, চা বিক্রেতা আব্দুস সোবহান, তরিকুল ইসলাম আনোয়ারুল ইসলাম ছাড়াও মানবাধিকার কর্মী সামছুর রহমান, আবু জাহিদসহ অনেকেই এ ধরণের মন্তব্য করেন। তারা জানান, যিনি গত ইউপি নির্বাচনে নিজের জয় নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তার পৃষ্টপোষকদের এলাকাছাড়া করেছিলেন, যিনি বিরোধীপক্ষের ইউপি সদস্য হিসেবে এ ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ারুল ইসলামকে তোয়াক্কাই করেন না সেই চেয়ারম্যান মনিরুলের পক্ষে তার বাহিনী দিয়ে একটি হত্যাকা- সংগঠিত করা, তার পর দরিদ্র নির্মাণ শ্রমিক বাদিকে লোক দিয়ে তুলে নিয়ে এফিডেফিডে সাক্ষর করিয়ে নিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তুলে জামিন পাওয়ার পথ সুগম করার চেষ্টা অসম্ভব কি? গত রোববার সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মনিরুল ইসলামের পক্ষে নোটারী পাবলিক এটিএম আলী আকবরের কাছে করা এফিডেফিড সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, এফিডেফিডে চেয়ারম্যান শালিস করেছেন এটা বলা হয়েছে। আবার এজাহারে পুলিশ জোর করে বা না পড়ে সাক্ষর করিয়ে নিয়েছে এমনটিও উল্লেখ নেই। অথচ চেয়ারম্যান নির্দোষ বলা হয়েছে। অর্থাৎ চেয়ারম্যানকে জামিনের সুবিধার পাশাপাশি তার হাত থেকে ও পুলিশের হাত থেকে বাদি ইব্রাহীম খলিলকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার বাদি ইব্রাহীম খলিল কলারোয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে চেয়ারম্যান মনিরুল নির্দোষ হলে তাকে অব্যহতি দেওয়া সম্পর্কিত যে আবেদন করেছেন তা জামিন শুনানিকালে আফরোজার মৃত্যুকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে। প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে চেয়ারম্যানের ভূমিকাকে। সেক্ষেত্রে জামিনের আগে আফরোজার মৃত্যুর মূল রহস্য উদঘাটনের বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানার সুযোগ পেতে পারে। এদিকে সাতক্ষীরার কলারোয়ার সোনাবাড়িয়ার কিশোরী আফরোজা খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে সচেতন নাগরিক ঐক্য কমিটি।
এস,এম,আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্ছু: কালিগঞ্জে পবিত্র মিলাদুন্নাবী (সঃ) জশনে জুলশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের স্বতঃফূর্ত অংশ গ্রহনে পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অতন্দ্র প্রহরীরা মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার নাজিমগঞ্জ বাজারে সমাবেত হয়। বণার্ঢ্য মুরারক র্যালিতে অংশ গ্রহনের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন সর্বস্তরের জনতা। এসময় ধীরে ধীরে ছাত্র-শিক্ষক, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধাসহ নানা পেশার নানা বয়সের মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে উপজেলা সদরের রাস্থাঘাট। আকাশে বাতাসে প্রতিধবনিত হয় সালাত ও নাতে রাসুল পরিবেশনার সুর লহরি। এসময় নবী করীম (সাঃ) এর শানে আশেকে রাসুলদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় সালাম সালাম নবী সালাম,বালঅগাল উলা-বি কামালিহি, আসসালাতু আসসামু আলাইকা ইয়া রসুলউল্লাহ, আসসালাতু আলান নাবী…এ রকম অগণিত নাত। এতে সৃষ্ঠি হয় অন্য রকম একটা আমেজ। কলেমা খচিত ও রাসুল (সঃ) এর শানে রচিত নানা কালজয়ী কবিতার শ্লোগানে অঙ্কিত দৃষ্টিনন্দন ফেস্টুন ও সুদৃশ্য প্লেকার্ড হাতে নিয়ে বণার্ঢ্য মুবারক র্যালিটি সু-শৃঙ্খলভাবে উপজেলা প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদের মাঠে জশনে জলুশের আহবায়ক উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি ও সাবেক মথুরেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহাবুবর রহমানের সভাপতিত্বে অধ্যাপক আয়ুব আলীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলহাজ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, থানা মসজিদের পেশ ইমাম মাওঃ আশরাফুল ইসলাম আজিজি, মাও রমিজ উদ্দিন, মাওঃ নাসিরুল্লাহ, মাওঃ কুতুব উদ্দিন, ওলামায়ে কেরাম এবং নামিগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি ফিরোজ কবির কাজল, সাধারণ সম্পাদক শেখ সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। এসময় বক্তরা বলেন ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী ও সৃষ্টি জগতের জন্য রহমতরূপে দুনিয়ায় আগমন করেছিলেন। পাপ পঙ্কিলতায় ঘেরা বিশ্বে তার আগমন ছিল সকল মানুষের জন্য মহা আনন্দের। তিনি সামাজিত, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় তথা সার্বিক দিক অধঃপতনের চরম সীমায় নিমজ্জিত সমাজকে খোদায়ী নির্দেশনার আলোকে সম্পর্ণরূপে বদলে দিয়েছিলেন। মারামারি, হানাহানিতে লিপ্ত মানব জাতিকে সোনার মানুষে পরিণত করেছিলেন। শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহাদ্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার মহান আদর্শে উজ্জীবিত করেছিলেন গোটা মাবন সমাজকে। জাতি,ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করে গেছেন। তার জীবনের প্রতিটি দিকই সকলের অনুস্বরনীয়। ব্যাক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে তিনি সারা দুনিয়ার জন্য শ্রেষ্ঠতম আদর্শ। আজ তাঁর আদর্শ এ সমাজে বড়ই প্রয়োজন।