অনলাইন ডেস্ক: গোলাপি বলে দিন-রাতের টেস্টের ইতিহাসে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির মহাকীর্তি গড়লেন পাকিস্তানি ওপেনার আজহার আলী। দুবাই স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আজহার আলীর অপরািজত ৩০২ রানের সুবাধে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপট দেখাচ্ছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৫৭৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে পাকরা। পরে শেষ বিকেলে ৬৯ রান তুলতেই ক্যারিবীয়দের এক উইকেট তুলে নিয়েছে মিসবাহ’র দল।
শুধু আমিরাতের মাঠেই প্রথম তিন শতরান নয়, আজাহারের অসাধারণ ইনিংসটা যেন গোলাপি বলে টেস্ট ক্রিকেটকেই পুরোপুরি স্বীকৃতি দিয়ে দিল। গত নভেম্বরে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড টেস্ট ছিল প্রথম দিন-রাতের টেস্ট। প্রথম গোলাপি বলের টেস্টও। যা তিন দিনে শেষ হয়ে যায়। সর্বোচ্চ রান ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ২২৪। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল ওই ইনিংসেই পিটার নেভিলের ৬৬।
পুরো ম্যাচে বোলারদের যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া কোনওক্রমে জিতেছিল ৩ উইকেটে। হ্যাজলউডের ৬ উইকেটের পাল্টা হিসেবে ট্রেন্ট বোল্ট নিয়েছিলেন ৫ উইকটে।
ওই টেস্টের পর প্রশ্ন উঠেছিল গোলাপি বলে পাঁচ দিনের ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু গোলাপি বল নিয়ে যাবতীয় আশঙ্কাকে যেন অমূলক প্রমাণ করে দিলেন ৩১ বছরের আজহার। পাকিস্তানের যেমন এটা চারশোতম টেস্ট, তেমনই তাদের ওয়ানডে ক্যাপ্টেন আজহারের এটা ৫০তম টেস্ট। যে ম্যাচে তিনি সম্প্রতি প্রয়াত হানিফ মোহাম্মদ, এ দিন দুবাই গ্যালারিতে বসে থাকা ইনজামাম-উল-হক আর এই টেস্ট চোটের কারণে না খেলতে পারা ইউনিস খানের পরে চতুর্থ পাক ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন।
যখন ইনিংসের ১৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলে অফস্পিনার ব্ল্যাকউডকে কভার বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ২৯৮ থেকে ৩০২-তে পৌঁছান। সঙ্গে সঙ্গে ৫৭৯-৩ স্কোরে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন মিসবাহ। দু’মিনিট কম এগারো ঘণ্টা ব্যাট করে অপরাজিত আজহার ফেরেন দলের প্রথম ইনিংসের পুরোটা খেলে।
আজহার সাথে প্রথম ইনিংসে রান পেয়েছে পাকিস্তানের অন্য ব্যাটসম্যানরাও। ওপেনার সামি আসলাম ৯০, আসাদ শফিক ৬৭, অভিষিক্ত বাবর আজম ৬৯ ও অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক অপরাজিত ২৯ রান।
রান দ্বিতীয় দিনের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬৯-১। ব্যক্তিগত ১৫ রান করে ইয়াসির শাহ’র শিকারে পরিণত হয়েছেন লেনন জনসন। তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর টেস্টে সিরিজের শুরুতেও চরম চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

স্পোর্টস ডেস্ক: পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে আগামী ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। আর এ সফর দিয়েই আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের বিস্ময় বালক মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের ফেসবুক পেজে এমনটাই জানিয়েছেন দেশ সেরা এই বোলার।
ডেস্ক রিপোর্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরো দুজন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। যদিও এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মি. ট্রাম্প।
নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদ প্রভাতের কুয়াশায় ঢাকা প্রকৃতি। বাতাসে শীতের আগমনী ঘন্টা। সেই সাথে সাতক্ষীরা পৌর দীঘির পাড় জুড়ে গুড়পুকুর মেলা ময়ূরের মতো পেখম মেলেছে। জমজমাট হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরমেলা। শিশুর হাতে বেলুন বাঁশী, তরুনির হাতে চুড়ি, খোঁপায় রঙ্গীন ফুল। বৃদ্ধের কাঁধে গাছের কলম, গৃহিনীর কাঁখে মাটির কলস, কাঠের বাসন। লোকজ সংস্কৃতির বিরল নিদর্শন ইতিহাসখ্যাত গুড়পুকুর মেলার সেই পুরনো দিন হয়তো আর নেই। তবু নতুন করে যেনো প্রাণ পেয়েছে এ মেলা। এরই মধ্যে মেলার সময় সীমা বাড়ানো হয়েছে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। গুড়পুকরের মেলা থেকে কেউ ফেরে না খালি হাতে এমন দিনটি হারিয়ে যেতে যেতে আবার কিন্তু সমহিমায় ফিরে এসেছে। বোমা সন্ত্রাস আর ধর্মান্ধ শক্তির দাপটে হারিয়ে যাওয়া বাঙ্গালি সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক গুড়পুকুর মেলা জমে উঠেছে আবারও। মেলার অন্যতম আকর্ষন ইলিশ উঠেছিল দর্শনার্থীদের হাতে হাতে। মাঝে মাঝে হরদম বিকিকিনি হয়েছে নাগালের মধ্যে আসা ইলিশ। এবার এ মেলা নিয়ে এসেছে নাগরদোলা। দীঘির জলে ভাসছে ভ্রমন তরী। মেলাঙ্গণে ভয়াবহ বোমা হামলার কারণে টানা কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরায় ২০১১ সাল থেকে ফের শুরু হয় বাঙ্গালির চিরন্তন সংস্কৃতি তিনশ’ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক গুড়পুকরের মেলা। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা ও সর্পদেবী মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে শহরের পলাশপোলে গুড়পুকুর পাড়ে বটবৃক্ষতলে বসে গ্রামীণ লোক সংস্কৃতির এই মেলা। সেখান থেকে মেলাঙ্গন ছড়িয়ে পড়ে শহরের নানা স্থানে। গ্রামীণ পরিবারে প্রয়োজনীয় সকল উপচারে ঠাসা এই মেলায় মিলছে হাজার হাজার গাছের কলম আর বাঁশ বেত কাঠ লোহা মৃত্তিকার তৈরি নানা ব্যবহার্য জিনিসপত্র। চিত্ত বিনোদনের জন্য মেলায় বসে নানা আয়োজন। ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে মেলায় আসছে হাজার হাজার নারী পুরুষ। এবার মেলা বসেছে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ রাজ্জাক পার্ক জুড়ে। এবারও গুড়পুকুরের মেলা থেকে কেউ আর খালি হাতে ফিরছেন না। প্রতিদিনই লেগে থাকছে ভিড়। সকাল দুপুর সন্ধ্যা রাত বিবেচনা নয়। প্রাণের মেলায় মানুষ আসছে। নতুন কিছু হাতে নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। ২০০২ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর মেলা চলাকালে ষ্টেডিয়ামে আয়োজিত সার্কাস ও শহরের রকসি সিনেমা হলে ভয়াবহ বোমা হামলায় কেঁপে উঠেছিল গুড়পুকুরের মেলা। এতে তিন জনের প্রাণহানি ঘটে। পঙ্গুত্ব বরণ করে শতাধিক নারী পুরুষ। এরপর থেকে টানা কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর গত পাঁচ বছর যাবত মেলা ফের বসলেও সেই যৌবন হারিয়ে যায়। তবে এবার সেই মেলার বিস্তৃতি নজর কাড়ার মতো। আনন্দ বিনোদনে সময় কাটিযে দেওয়ার মতো উপচার এখন শহীদ রাজ্জাক পার্ক জুড়ে। এবারও ১৫ দিনের মেয়াদে সাতক্ষীরা শহর জুড়ে বসা গুড়পুকুর মেলার সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। মেলায় রয়েছে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলায় আসছেন সব বয়সের নারী পুরুষ শিশু। তারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেনাকাটা করছেন। বিনোদনের সব সুযোগগুলিও ব্যবহার করছেন তারা। ভিড়ে ঠাসা এ মেলায় দোকানপাট বসেছে অসংখ্য। তারা বলেন বেচাকেনা ভাল হচ্ছে। মেলায় কোনো সন্ত্রাস নেই, চাঁদাবাজি নেই। মেলায় নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘেœ বেচাকেনা করছেন তারা। আর প্রাণভরে লোকজ মেলা উপভোগ করছেন উৎসব প্রিয় বাঙালি। দীঘির জলে আনন্দ ভেলায় মেতে উঠেছেন শিশু কিশোর থেকে সব বয়সের মানুষ।