ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজধানীর আজিমপুরে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সন্দেহভাজন এক ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছে সন্দেহভাজন তিন নারী জঙ্গিকে। জঙ্গিদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যার পর বিডিআর ২ নম্বর গেইট এলাকায় আজিমপুর রোডের ২০৯/৫ নম্বর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্তি উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওই বাসা থেকে দুটি শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ তিন নারী ‘জঙ্গিকে’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদেরও সেখানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন মাহতাব, জহিরুদ্দিন, রামচন্দ্র বিশ্বাস, লাভলু ও শাজাহান আলী। নিহত ‘জঙ্গির’ নাম জানা যায়নি। আহত এক নারীর নাম শারমিন বলে জানা গেছে। বাকি দুই নারীর নাম জানা যায়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিতে ওই বাসায় যায়। তখন সেখান থেকে পুলিশের ওপর গুলি ছোড়া হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। এরপর পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকার ৩৩ নম্বর সড়কের একটি ছয়তলা ভবনে পুলিশের অভিযানে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জঙ্গি জাহিদুল ওরফে মুরাদ, যাকে ‘নব্য জেমএমবির’ শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীর ‘ডান হাত’ বলছে পুলিশ। এর আগে গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানকালে তামিম চৌধুরীসহ চার ‘জঙ্গি’ মারা যান। গত ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানকালে পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন ৯ জঙ্গি মারা যায়।
গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন। পরদিন সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। দুই অভিযানেই পুলিশসহ বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে। গত ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় পুলিশের তল্লাশি পয়েন্টে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ সময় তাদের ছোঁড়া হাতবোমার বিস্ফোরণে নিহত হন দুই পুলিশ সদস্য। এ সময় দু’পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত হয় এক জঙ্গি। গোলাগুলিতে প্রাণ হারান এক গৃহবধূও।

মীর খায়রুল আলম: দেবহাটায় গরিব অসহায় মানুষের চাউল আত্মসাত করায় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিআরডিপির চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে প্রধান অসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। দৈনিক আজকের সাতক্ষীরায় একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে শনিবার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাত অত:পর বিক্রয় করার অপরাধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। গত মঙ্গলবার দেবহাটার ৪নং নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফ’র ৫৫ বস্তা চাউল আত্মসাত করে বিক্রয়কারী ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা জনসম্মূখে একাধিক চ্যালেঞ্জ করে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ করলে শুক্রবার বেরিয়ে আসে ভিজিএফে’র চাউলের রহস্য। জনসাধারণের উপস্থিতিতে উদ্ধার ১৪ বস্তা চাউল জব্দ করে দেবহাটা থানা নিয়ে আসে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিষটিতে জড়িত থাকা ৩ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসার জন্য থানায় নিয়ে আসল রহস্য উৎঘটন শেষে শনিবার দুপুর ১টায় উক্ত চাউল ক্রেতাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। সরকারি সম্পত্তি আত্মসাত ও বিক্রয় করার ঘটনায় ও চাউল ক্রেতাদের জবানবন্দীর ভিত্তিতে চাল চোর চাঁদপুর গ্রামের মৃত দারবক সরদারের পুত্র উপজেলা বিআরডিপি’র চেয়ারম্যান ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে প্রধান অসামি করে,রামনাথপুর গ্রামের বশির সরদারের পুত্র ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সরদারকে ২য় আসামি, বেজরআটি গ্রামের কামাল উদ্দীন গাজীর পুত্র ৫নং ওয়ার্ডের আসমোতুল্ল আসমানকে ৩ নং আসামি, হাদিপুর গ্রামের ৫৫ বস্তা চাল ক্রেতা আজগর আলীকে ৪নং আসামি এবং একই গ্রামের অপর চাউল ক্রেতা ফজলু ও ভ্যানচালক মাসুমকে ৫,৬ নং আসামি করে ৪০৯/১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৪, ১০/০৯/১৬। এঘটনার পর থেকে অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে বাইরে আত্মগোপন করে আছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এবিষয়ে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আতœসাতকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। অপরাধীদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সাধারন মানুষ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তনয়া শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার বাদী, মহান মুক্তিযুদ্ধের গেরিরা কমান্ডার, ৬৯’র সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কলারোয়া আহবায়ক মোসলেম উদ্দীন গত ১২/০৮/১৬ তারিখে হার্ট এ্যাটাক জনিত কারণে অসুস্থ্য। বর্তমানে তিনি কলারোয়ার নিজ বাড়িতে বিছানা শয্যায়। তার শারিরীক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ‘বেশি কথা না বলা’। তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ প্যারালাইসডে ভুগছেন। শনিবার তার শারিরীক অবস্থার খোঁজ খবর নিতে সাতক্ষীরা জেলা ও পৌর কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ তার শয্যাপাশে যান। নেতৃবৃন্দকে পাশে পেয়ে গেরিলা কমান্ডার মো. মোসলেম উদ্দীন আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। এসময় তিনি খুব সংক্ষেপে তুলে ধরেন তার মনের কথা। শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার বাদী মো. মোসলেম উদ্দীন বলেন, “অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, মামলাটি আমার পৈত্রিক। মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন লড়ব। আমি মারা গেলে হয়তো মামলাটি আর থাকবে না। আমাকে কোটি টাকার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু আমি লোভ মোহের উর্ধ্বে থেকে মামলাটি লড়ে যাচ্ছি। আমি মামলাটির রায় দেখে যেনো মরতে পারি এমন ইচ্ছা পোষন করেন গেরিলা কমান্ডার সাবেক ছাত্রনেতা মো. মোসলেম উদ্দীন। তিনি মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে কলা- কুশলীদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এমএ মামুন: ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। আর এই ঈদে ধনী-গরিব সবাই মিলে মিশে ঈদ উদযাপন করে থাকে। যেখানে ছোট ছোট শিশুদের থাকে নানা রকমের বায়না। ঈদের খুশি তাদের যেন আর ধরে না। যার কারেন ঈদের একমাস আগে থেকেই শিশুদের নতুন জামা-কাপর তৈরির জন্য অর্ডার দিতে হয়। সেই ঈদকে সামনে রেখে যেখানে সেলাই মেশিনের শব্দে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল দেবহাটার দর্জি পল্লী। যেখানে দর্জি পল্লীর কারিগরদের দম ফেলার সময় থাকে না। আর মাত্র কয়েক দিন পর কুরবানীর ঈদ। তাই দর্জি পাড়ায় নতুন করে অর্ডার নেওয়ার সুযোগ থাকার কথা না। সেখান এবার অন্য চিত্র লক্ষ করা গেছে। বাজারে নিত্য নতুন গার্মেন্টস সামগ্রি সরবরাহ করায় কদর বেড়েছে রেডিমেট তৈরি পোশাক গুলোর। ভারত-বাংলাদেশের টিভির বিভিন্ন চ্যানেলের সিরিয়ালের পোশাক দেখে মন কেড়েছে দর্শকদের। আবার সে সকল পন্য বাজারে চাহিদা মুলক ভাবে কম দামে বিক্রয় করা হচ্ছে। চাহিদা মতো নতুন পোশাক পেয়ে খুশি ক্রেতারাও। এদিকে দর্জি পাড়ায় বাড়ানো হয়েছে পোশাক তৈরির মজুরি- এ নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তুষ্টি থাকলেও দু’এক জন পছন্দ মতো পোশাক বানাতে ছুটে যাচ্ছেন দর্জি পল্লীতে। টেইলার্স মালিকরা বলছেন, এক সময় পছন্দের পোশাকের জন্য রেডিমেড থ্রি-পিস ও থানকাপড় কিনে ক্রেতারা পাড়ি জমাতো দর্জি পাড়ায়। ক্রেতাদের পছন্দ মতো পোশাক বানাতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দোকান খোলা রেখে কাজ করেছি। ঈদুল ফিতরে শবে বরাতের আগে থেকে পোশাক কারিগরদের ছুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সরেজমিন দেখা গেছে, দেবহাটার ঈদগাহ বাজারস্থ সুরভী টেইলার্স, গাজী টেইলার্স, মাফরাফি টেইলার্স, মায়ের দোয়া টেইলার্সসহ বিভিন্ন টেইলার্সের কারিগরদের দু’একটি কাজ থাকলেও জমজমাট নেই বললেও চলে। তবে পাড়া-মহল্লার টেইলার্সে সামান্য ফিড় লক্ষ করা গেছে। সেখানে মহিলাদের থ্রিপিস ও ব্লাউজ বেশি তৈরি হতে দেখা গেছে। মায়ের দোয়া টেইলার্সের আবুল বাশার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে তাদের যে ব্যস্ততা থাকার কথা সে রকম খুব একটা লক্ষ করা যাচ্ছে না। রমযানের ঈদে শবে বরাতের আগে থেকে ক্রেতারা ঈদের পোশাকের অর্ডার দিয়েছিলেন। ২৫ রমজানের পর আর অর্ডার নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরই টেইলার্স মালিকরা নতুন কারিগর নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এ বছরও রমজানের ঈদে তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু কোরবানীর ঈদে কারিগর নিয়োগ তো দুরের কথা নিজেদেরই বসে থাকতে হচ্ছে। কারিগরদের মজুরি, দোকান ভাড়া, সুতা ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্ডারের মজুরি বাড়ানো হয়েছে। এজন্য ছেলেদের প্যান্ট-শার্টের অর্ডার গুলো খুব একটা লক্ষ করা যাচ্ছে না। দু’এক জন প্যান্ট-শার্ট নিচ্ছে তবে রেডিমেট তৈরি জিন্স,শাট, শর্ট পাঞ্জাবী কিনতে দেখা যাচ্ছে মার্কেট গুলোতে। এছাড়া কাপড়ের দোকানে যেয়ে দেখা যায়, বিশেষ করে সিল্ক জর্জেট, কাতান, লেলিন, বেনারসি কাপড়গুলো গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ক্রয় করছে। তবে অধিকাংশ দর্জিদের ধারনা রমজানের ঈদে মানুষের চাহিদা একটু বাড়তি থাকে এজন্য সকল দিক দিয়ে বাজার জমজমাট থাকে। কিন্তু কোরবানীর ঈদ রমজানের ঈদের প্রায় কাছাকাছি থাকায় কেনাকাটার চাহিদা কম। তবে বিশেষ করে কোরবানীর পশু ক্রয়ে ব্যস্ত থাকায় মধ্যবিত্তদের কেনাকাটার চাহিদা একটু কম।

