সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালাসাংবাদিক জিন্নাহর উপর হামলাকারী মামুনকে কারাগারে পাঠালো আদালতসাতক্ষীরায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার চেক বিতরণসাতক্ষীরায় জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে ব্যবসায়ীর জেল জরিমানালবণাক্ততা দূরীকরণ ও লবণ পানি অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে আটুলিয়ায় গণতান্ত্রিক সংলাপসাতক্ষীরায় পহেলা বৈশাখে মর্নিং সান প্রি-ক্যাডেট স্কুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনদেবহাটার ১০ ফুটের খাল কাটার উদ্বোধনসাতক্ষীরায় মাটি বহনকারী ট্রলির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যুErfahrungen und Bewertungen von Spielern über das Casino Spinnandoইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউলের জীবন যুদ্ধ

full_1724523560_1474617722ডেস্ক রিপোর্ট: মালয়েশিয়ায় জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার বাংলাদেশির সঙ্গে রাজধানীর গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজানে হামলায় জড়িত একজনের যোগসূত্র আছে। গুলশান হামলায় জড়িতের সঙ্গে ওই বাংলাদেশির সাক্ষাৎ হয়।
সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে ওই বাংলাদেশির নাম উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক খালিদ আবু বাকের এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশি সন্দেহভাজনকে গত ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি ছিলেন বুকিত বিনতাং এলাকার ৩৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি আন্দালিব আহমেদের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীর সম্পর্ক ছিল।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস আরো জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতেন। তিনি বাংলাদেশে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন বলে ধারণা করছে মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী।
চলতি বছরের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে।
ওই রাতে উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। ওই হামলার পর পাঁচ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করা হয়, যাদের একজন আন্দালিব আহমেদ।
২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আন্দালিব আহমেদ। পরে তিনি ইস্তাম্বুল চলে যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1474573446চৌদ্দ ঘণ্টা আকাশে উড়ে আমাদের প্লেনটা শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে পৌঁছায়। টানা চৌদ্দ ঘণ্টা প্লেনের ঘুপচি একটা সিটে বসে থাকা সহজ কথা নয়। সময় কাটানোর নানারকম ব্যবস্থা, তারপরও সময় কাটতে চায় না। অনেকক্ষণ পর ঘড়ি দেখি, মনে হয় নিশ্চয়ই এর মাঝে ঘণ্টাখানেক কেটে গেছে; কিন্তু অবাক হয়ে দেখি পনেরো মিনিটও পার হয়নি।
এয়ারপোর্টে নামার পর ইমিগ্রেশনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়—প্রত্যেকবারই নতুন নতুন নিয়মকানুন থাকে। এবারেও নতুন নিয়ম, যাত্রীদের নিজেদের পাসপোর্ট নিজেদের স্ক্যান করে নিতে হবে। কিভাবে করতে হবে, তা খুব পরিষ্কার করে লেখা আছে, সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করি, কিন্তু আমাদের পাসপোর্ট আর স্ক্যান হয় না। দেখতে দেখতে বিশাল হলঘর প্রায় খালি হয়ে গেছে, শুধু আমি আর আমার স্ত্রী পাসপোর্ট নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করছি। কিছুতেই যখন পাসপোর্ট স্ক্যান করতে পারি না, তখন শেষ পর্যন্ত লাজ-লজ্জা ভুলে, কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা একজন পুলিশ অফিসারের কাছে গিয়ে মিন মিন করে বললাম, ‘আমার পাসপোর্ট কিছুতেই স্ক্যান হচ্ছে না…।’
আমার কথা শেষ করার আগেই পুলিশ অফিসার আঙুল দিয়ে আমাকে দেখিয়ে বলল, ‘আপনি জাফর ইকবাল না?’ পুলিশ অফিসার বাঙালি। শুধু যে বাঙালি তা নয়, আমাকে চেনে। দেশের এয়ারপোর্টে এটা অনেকবার ঘটেছে, কিন্তু নিউ ইয়র্কের এয়ারপোর্টেও এটা ঘটবে, কল্পনা করিনি। বলাবাহুল্য, এরপর আমার পাসপোর্ট মুহূর্তে স্ক্যান হয়ে গেল (কী কারণ জানা নেই, আমার পাসপোর্টে পুরনো পাসপোর্ট লাগানো থাকে, সে কারণে সাইজ মোটা এবং স্ক্যান করার জন্য যন্ত্রের মাঝে ঢোকানো যায় না। এ রকম অবস্থায় কী করতে হবে, বাংলাদেশের বাঙালি পুলিশ অফিসার সেটা আমাদের শিখিয়ে দিল।) বিদেশের মাটিতে নামার পর নানারকম আশঙ্কায় সবসময় আমার বুক ধুক ধুক করতে থাকে—এবারে মুহূর্তের মাঝে সব দুশ্চিন্তা, সব আশঙ্কা দূর হয়ে গেল। মনে হলো, এই শহরটি বুঝি অপরিচিত, নির্বান্ধব, স্বার্থপর, নিঃসঙ্গ একটি শহর নয়—এই শহরে আমার দেশের মানুষ আছে, দেশের বাইরে তারা দেশ তৈরি করে রাখে।
আমার ধারণা যে ভুল নয়, সেটি কয়েক ঘণ্টার মাঝে আমি আবার তার প্রমাণ পেয়ে গেলাম। যারা খোঁজখবর রাখে তারা সবাই জানে সারা পৃথিবীতেই এখন উবের কিংবা লিফট নামে নতুন সার্ভিস শুরু হয়েছে। স্মার্ট ফোনে তার ‘অ্যাপস’ ডাউনলোড করে নিলেই সেটা ব্যবহার করে গাড়িকে ডাকা যায়, ভাড়া নিয়ে দরদাম করতে হয় না, ক্রেডিট কার্ড থেকে সঠিক ভাড়া কেটে নেয়, তাই কোনও টাকা-পয়সার লেনদেন করতে হয় না। স্মার্ট ফোনের ম্যাপে গাড়িটা কোনদিকে আসছে সেটা দেখা যায়, গাড়িটির নম্বর কত, ড্রাইভার কে, তার নাম কী, টেলিফোন নম্বর কত—সেটাও টেলিফোনের স্ক্রিনে উঠে আসে। নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মাঝে আমাদের এক জায়গায় যেতে হবে বলে আমার মেয়ে এরকম একটা গাড়িকে ডেকে পাঠিয়েছে। সেটাতে ওঠার আগেই টের পেলাম গাড়ির ড্রাইভার বাংলাদেশের তরুণ। আমাকে দেখে তার সে কি আনন্দ, গাড়ি চালাতে চালাতে তার কত রকম কথা। গাড়ি থেকে নামার পর সে আমার মেয়েকে বলল—তার কোম্পানিকে সে জানিয়ে দেবে যেন আমাদের কাছ থেকে কোনও ভাড়া কেটে নেওয়া না হয়। আমি অনেক কষ্ট করে তাকে থামালাম।
আমি দুই সপ্তাহের মতো নিউ ইয়র্ক শহরে ছিলাম। যখনই ঘর থেকে বের হয়েছি দেশের মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কখনও ফল বিক্রেতা, কখনও রেস্টুরেন্টের কর্মচারী, কখনও ট্রাফিক পুলিশ, কখনও মিউজিয়ামের গার্ড কখনও সাবওয়ের সহযাত্রী। পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে এসে দেশের মানুষ এবং তাদের মমতাটুকু হৃদয়টাকে অন্যভাবে পরিপূর্ণ করে তোলে।

২.
আমেরিকা দেশটি হচ্ছে গাড়ির দেশ, এই দেশে গাড়িটি চালিয়ে শুধুমাত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্যে তৈরি হয়নি। আমেরিকায় গাড়ি হচ্ছে সেই দেশের কালচারের একটা অংশ। মাঝখানে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে তেল-বান্ধব ছোট গাড়ির প্রচলন হতে শুরু করেছিল, কিন্তু এখন পেট্রোলের দাম কমেছে বলে বিশাল বিশাল বিলাসী গাড়িও আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। খাঁটি আমেরিকানদের সম্ভবত নিউ ইয়র্ক শহরে গাড়ি চালাতে সমস্যা হয় না। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টাকে রীতিমতো দুঃস্বপ্ন মনে হয়। তবে যারা নিউ ইয়র্ক শহরে থাকে তারা অবশ্যই গাড়ি ব্যবহার না করেই দিন কাটাতে পারে, কারণ পুরো শহরের মাটির নিচে মেট্রো ট্রেন মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে আছে। আমি যে দুই সপ্তাহ নিউ ইয়র্ক শহরে ছিলাম, এই মেট্রো ট্রেনেই চলাফেরা করেছি।

নিউ ইয়র্ক শহরের নতুন প্রজন্ম অবশ্যই চলাফেরার জন্য নতুন আরেকটি সমাধান খুঁজে পেয়েছে। সেটি হচ্ছে বাইসাইকেল। আমি যখন প্রথম জানতে পারলাম আমার মেয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে, আমি তখন জানতে চাইলাম সাইকেলটি সে কোথায় রেখেছে। রাস্তার পাশে কোনও একটা ল্যাম্পপোস্টে সাইকেলটি বেঁধে রেখে এলে কিছুক্ষণের মাঝেই সাইকেলের ফ্রেম ছাড়া বাকি সবকিছু হাওয়া হয়ে যায়। (আমার ধারণা এই ব্যাপারে নিউ ইয়র্কের মানুষের দক্ষতা আমাদের দেশের মানুষ থেকে বেশি।) আমার মেয়ে বলল, সে নিউ ইয়র্ক শহরে এসে কোনও বাই-সাইকেল কিনেনি, যখনই দরকার হয় একটা ভাড়া নিয়ে নেয়। বিষয়টা আমার কাছে যথেষ্ট বিদঘুটে মনে হলো, সাইকেল ভাড়া নিলেও ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সেটাকে কোথাও না কোথাও নিজের হেফাজতে রাখতে হয়। পুরো সাইকেল ভাড়া নিয়ে শুধু তার কঙ্কালটা ফেরত দেওয়া হলে সাইকেল ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা দু’দিনে লাটে উঠে যাবে।

আমার মেয়ের কাছ থেকে বাই-সাইকেল ভাড়া দেওয়া-নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটির বর্ণনা শুনে আমি চমত্কৃত হলাম। সিটি বাইক নাম দিয়ে নিউ ইয়র্ক শহরের অসংখ্য জায়গায় সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। যার যখন দরকার হয় এক স্ট্যান্ড থেকে ভাড়া নেয়, গন্তব্যে পৌঁছানোর পর অন্য স্ট্যান্ডে জমা দিয়ে দেয়। কোথাও কোনও মানুষ নেই, পুরো ব্যাপারটা ইলেক্ট্রনিক। কে কোথা থেকে ভাড়া নিয়েছে কোথায় ফেরত দিয়েছে সবকিছু ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে হিসেব রাখা হচ্ছে এবং ক্রেডিট কার্ড থেকে ভাড়ার টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। পুরো শহরে অল্প কয়েকটা জায়গায় সিটি-বাইকের স্ট্যান্ড থাকলে এই প্রক্রিয়াটা মোটেও কাজ করতো না কিন্তু যেহেতু শহরের প্রায় কোণায় কোণায় সিটি বাইক স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে কাজেই এখন কাউকেই বাইসাইকেলটা কোথা থেকে ভাড়া নিয়ে কোথায় ফেরত দেবে সেটা নিয়ে ভাবনা করতে হবে না। কাছাকাছি কোথায় সিটি বাইক স্ট্যান্ড আছে সেটা জানার জন্যে দরকার শুধু একটা স্মার্ট ফোন!

নিউ ইয়র্ক শহরের একটা সুন্দর দৃশ্য হচ্ছে এই সিটি বাইক। তাদের জন্য আলাদাভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, ডিজাইনটিও চমত্কার! একজন মানুষ চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্যে স্যুট পরেও এই সাইকেল চালিয়ে যেতে পারবে।

নিউ ইয়র্ক শহরের কত বড় বড় বিষয় থাকার পরও আমি ইচ্ছে করে সিটি বাইক নিয়ে আমার উচ্ছ্বাসটুকু প্রকাশ করেছি। আমার মনে হয় আমাদের ঢাকা শহরেও কোনও একজন উদ্যোক্তা এই ধরনের একটা উদ্যোগ নিলে সেটি শহরের মানুষের জন্যে অনেক বড় একটা আশীর্বাদ হতে পারত। (আমাদের দেশের জন্যে হুবহু এই মডেলটি হয়তো কাজ করবে না, একটু অন্য রকমভাবে শুরু করতে হবে। যেমন আমাদের এটিএম মেশিন—সারা পৃথিবীতেই এটিএম মেশিনকে কারও পাহারা দিতে হয় না, আমাদের দেশে সেখানে সার্বক্ষণিকভাবে কাউকে না কাউকে পাহারা দিতে হয়।)

৩.
এটি আমেরিকায় নির্বাচনি বছর। আমেরিকার ইতিহাসের যে কোনও নির্বাচন থেকে এটি অন্যরকম, কারণ এবারে ডোনাল্ড ট্রাম্প নামে একজন ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট পদের জন্য, আমেরিকার প্রধান দুই দলের একটি, রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন করছে। আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগে আমি যখন আমেরিকাতে ছিলাম তখন থেকে এই মানুষটিকে চিনি। তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিল স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন, স্থূল রুচির বাকসর্বস্ব একজন ব্যবসায়ী। প্রথম যখন আমি শুনতে পেয়েছিলাম যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপালিকান পার্টি থেকে নমিনেশন পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন পুরো বিষয়টাকে একটা উত্কট রসিকতা হিসেবে ধরে নিয়ে আমি উড়িয়ে দিয়েছিলাম। এখন যখন নির্বাচন প্রায় চলে এসেছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্যি সত্যি একজন প্রার্থী, তখন পুরো ব্যাপারটা রসিকতার পর্যায়ে না থেকে বিভীষিকার পর্যায়ে চলে এসেছে। আমেরিকায় সংখ্যালঘু মানুষের প্রতি বিদ্বেষ কিংবা সাম্প্রদায়িকতা, আতঙ্ক এবং ঘৃণা—এগুলোর অস্তিত্ব থাকলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে কখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকশনে জিতে গেলে অন্ধকার জগতের এই সব গ্লানি হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় নীতিমালার মাঝে চলে আসবে!

আমি যতদিন ছিলাম তার মাঝে একদিনও একটি মানুষকে পাইনি যে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে ইতিবাচক কোনও কথা বলেছে। সত্যি কথা বলতে কী, একজন অধ্যাপককে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা জিজ্ঞেস করার পর তাকে আমি আক্ষরিক অর্থে শিউরে উঠতে দেখেছি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানারকম প্রচারণা চলছে। সবচেয়ে মজার প্রচারণাটা শুনেছি একজন গৃহহীন ভিক্ষুকের কাছ থেকে। সে পথের মোড়ে একটা কাগজ নিয়ে বসে থাকে। কাগজে লেখা ‘আমাকে যদি এক ডলার না দাও তাহলে আমি কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে দেব!’
আমি যতদূর জানি এই হুমকি কাজে দিয়েছে! প্রচুর মানুষ এই ভিক্ষুককে এক ডলার করে দিয়ে যাচ্ছে।

৪.
একদিন বিকেলে আমার ছেলে আমাদের জানালো সে একটি বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিতে যাচ্ছে। আমার ধারণা ছিল বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এই ব্যাপারগুলোর বুঝি শুধু আমাদের দেশের জন্যে একচেটিয়া, আমেরিকাতেও যে বিক্ষোভ মিছিল হতে পারে সেটা অনুমান করিনি। আমি জানতে চাইলাম, কিসের বিক্ষোভ মিছিল? উত্তরে সে আমাকে যে কাহিনিটি শোনালো সেটি অবিশ্বাস্য! তার একজন সহকর্মী (ঘটনাক্রমে এই সহকর্মীর সঙ্গে আমারও পরিচয় হয়েছে) লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাট ব্রুকলিন নামে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছে। আমেরিকাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পদ মোটামুটি সোনার হরিণ, সেখানে যোগ দিতে পারা কঠিন, কাজেই এ রকম একটি পদে যোগ দেওয়ার পরই একজন তাদের জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করতে পারে। লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন বেতন স্কেল তৈরি করেছে, শিক্ষকদের সেটা পছন্দ হয়নি, তাই তারা সেটা গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট কলমের এক খোঁচায় চারশ’শিক্ষককে বরখাস্ত করে দিল!

মুহূর্তের মাঝে একজন নয় দুইজন নয়, চারশ’ শিক্ষক বেকার সবাই একেবারে পথে বসে গেছে। যেহেতু আমেরিকার একাডেমিক জগতে অসংখ্য মানুষ চাকরির খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভালো চাকরি না পেয়ে ছোটখাটো কাজ করে সময় কাটাচ্ছে, তাই এই চারশ’ শিক্ষকের বদলে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া খুব যে অসম্ভব ব্যাপার তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার জন্যে সে রকম শিক্ষকদের নেওয়া শুরু হয়েছে, অনেকেই খণ্ডকালীন নিয়োগ পেয়ে কাজও করতে শুরু করেছে।

বলা বাহুল্য, চাকরি হারানো চারশ’ শিক্ষক, তাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এই অবিশ্বাস্য ঘটনার প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে। যে জন্য বিক্ষোভ মিছিল এবং আমার ছেলেও সেই বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিতে যাচ্ছে। আমার সময় থাকলে আমিও যোগ দিতাম।

শেষ খবর অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত বরখাস্ত করে দেওয়া চারশ’ শিক্ষককে আবার ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ( আমাদের দেশে আমরা বলি ভাইস চ্যান্সেলর) যে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাকে প্রচুর গালমন্দ শুনতে হয়েছে, সাধারণ শিক্ষক এবং ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিলে তাকে একটা ‘ধাড়ী ইঁদুর’ বলে ডাকছে। আমি যতদূর জানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট এখনও তার নিজের পদে বহাল আছে। হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্টকে শুধু ছেলে এবং মেয়ের মেধার তুলনা করতে গিয়ে একটি বেফাঁস কথা বলার জন্যে চাকরি হারাতে হয়েছিল। আমার ধারণা লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির এই ধাড়ী ইঁদুরও সেখানে খুব বেশিদিন থাকতে পারবে না। আমরা আমাদের ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলরকে নিয়ে মাথা চাপড়াই—মনে হচ্ছে সমস্যাটি দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক!

৫.
শিক্ষক হওয়ার প্রধান আনন্দ হচ্ছে সারা পৃথিবীতে তার ছাত্র-ছাত্রীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, কাজেই নিউইয়র্ক যাওয়ার পর এই ছাত্র-ছাত্রীরা যে আমাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, সেটি এমন কিছু অবাক ব্যাপার নয়। সে কারণে একদিন বিকেলে তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্যে আমাদের ‘জ্যাকসন হাইট’ নামে একটা জায়গায় যেতে হলো। (যারা জ্যাকসন হাইটের নাম শোনেননি তাদের বলা যায়, এটি হচ্ছে নিউ ইয়র্কের মিনি বাংলাদেশ!) জ্যাকসন হাইট জায়গাটি আমি যেখানে আছি সেখান থেকে অনেক দূর, কিন্তু মেট্রো ট্রেনে খুব সহজেই যাওয়া যায়। আমি সেভাবেই যাব বলে ঠিক করে রেখেছিলাম। আমার ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবল আপত্তি এবং তারা গাড়ি না করে আমাদের নেবে না—এর মাঝে নিশ্চয়ই যথাযথ সম্মান দেখানোর ব্যাপার আছে, যেটা আমি জানি না। কাজেই যে দূরত্বটা অল্প সময়ে অতিক্রম করতে পারতাম, গাড়ি করে ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে অনেক সময় নিয়ে অতিক্রম করতে হলো!

যাই হোক, ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে গল্প-গুজব করে, খেয়ে দেয়ে, ছবি তুলে চমত্কার একটি সন্ধ্যা কাটিয়ে আমরা ফিরে আসতে প্রস্তুত হয়েছি। আমরা আবার ছাত্র-ছাত্রীকে বলছি আমাদের মেট্রো ট্রেনে তুলে দিতে, তারা আবার রাজি হলো না, গাড়ি করে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরিয়ে দেবে। যখন মাঝামাঝি এসেছি তখন হঠাৎ করে আমার ছেলে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো ‘তোমরা কোথায়?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন, কী হয়েছে?’ আমার ছেলে বলল, ‘ম্যানহাটানের মাঝখানে বোমা ফেটেছে, খবরদার ঐ পথে ফিরে আসার চেষ্টা করো না।’

শুনে আমি হাসব না কাঁদব, বুঝতে পারলাম না। দেশে জঙ্গি এবং তাদের উত্পাতের খবর পড়তে পড়তে আমাদের সবার জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম নিউইয়র্ক এসে অন্তত দুটি সপ্তাহ জঙ্গিদের উত্পাতের খবর পড়তে হবে না। কিন্তু আমাদের কপাল, এখানেও সেই একই জঙ্গি, একই উৎপাত।

ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের কথা না শুনে মেট্রো ট্রেনে তুলে না দেওয়ার কারণে আমরা খুব বাঁচা বেঁচে গিয়েছিলাম। কারণ বোম ফাটার সঙ্গে সঙ্গে মেট্রো রেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ অন্য কোনোভাবে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে ট্যাক্সি বা ক্যাবও পাওয়া যাচ্ছিল না। কাজেই আমাদের হয়তো পুরো পথটুকু পায়ে হেঁটে ফিরে আসতে হতো। আমাদের ছাত্ররা তাদের গাড়িতে করে নিরাপদে একেবারে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের দরজায় পৌঁছে দিয়ে গেল! আমার ছেলের অবশ্যি এত সৌভাগ্য হয়নি, পায়ে হেঁটে এবং একজন দয়ালু ক্যাব ড্রাইভারের সহযোগিতায় অনেক কষ্টে গভীর রাতে বাসায় ফিরে আসতে পেরেছিল।

যখনই আমাদের দেশে একটা জঙ্গি হামলা হয়, বাংলাদেশ সরকার তখন ঘোষণা দেয়—এটি স্থানীয় ঘটনা, আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এখানেও তাই হলো, নিউইয়র্কের মেয়র ঘোষণা দিলেন—এটি স্থানীয় ঘটনা, আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। বোঝাই যাচ্ছে, পৃথিবীটা খুবই ছোট!
লেখক: কথাসাহিত্যিক, শিক্ষক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1474615972ডেস্ক রিপোর্ট: কাশ্মীরের উরি সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের ১৮ সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে উপমহাদেশের প্রতিবেশী দুই দেশ। এরই মধ্যে ভারতে অবস্থিত পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারত ছাড়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)।
এমএনএস ছত্রপত সেনা আমেয় কোপকার বলেছেন, ‘ভারত ছাড়ার জন্য আমরা পাকিস্তানের অভিনেতা ও শিল্পীদের ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছি। এর মধ্যে না গেলে এমএনএস তাঁদের জোর করে বের করে দেবে।’
গত রোববার কাশ্মীরের উরিতে ভারতের সেনাঘাঁটিতে চালানো জঙ্গি হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে ভারত। সেখানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঙ্গে পাকিস্তানের সংযোগ আছে বলে দাবি করা হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং মোদি হামলার পরপরই বলেছিলেন, এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকের ‘ওয়ার রুমে’ সামরিক বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন মোদি। পাকিস্তানের রাস্তায়ও সম্প্রতি দেখা গেছে যুদ্ধবিমানের মহড়া। দুই দেশের মধ্যে চলমান এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই পাকিস্তানের শিল্পীদের ভারত ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছে এমএনএস।
মুম্বাইভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য এর আগেও অনেকবার হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানের শিল্পীদের। শিবসেনার হুমকির মুখে মুম্বাইয়ে গান গাইতে পারেননি বিখ্যাত গজলশিল্পী গুলাম আলী। এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল শিবসেনা। পরে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

full_622804863_1474615396ডেস্ক রিপোর্ট: কোরবানির ঈদে নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে আরও এক দিন বেশি ছুটি কাটানোয় আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার সরকারি চাকুরেদের অফিস করতে হবে।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর রোববার ছুটি ঘোষণা করার পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ সেপ্টেম্বরকে কর্মদিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে গত ১১ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করে তার বদলে ২৪ সেপ্টেম্বর কর্মদিবস হিসেবে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
১১ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করে ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর এবারের কোরবানির ঈদের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করে সরকার। ফলে টানা ছয় দিন ঈদের অবকাশ পান সরকারি চাকুরেরা।
১১ সেপ্টেম্বর ছুটি ঘোষণা করে সরকারি আদেশে বলা হয়েছিল, যে সকল অফিসের সময়সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে অথবা যে সকল অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে এ ছুটি ঘোষণা করবে।
ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান গত ১১ সেপ্টেম্বর ছুটি ঘোষণা করেনি, তাদের জন্য এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।
বৃহস্পতিবার এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়। সূত্র: বাসস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

full_2040037049_1474613528ডেস্ক রিপোর্ট: : সকালে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রন জানায় বিসিবি একাদশ। শুরু থেকেই অধিনায়কের ফিল্ডিং নেয়া  ঠিক হয়েছে প্রমাণ করেছে বোলাররা। বোলারদের চমৎকার বোলিংয়ে শুরুতেই চাপের মুখে পড়েছে আফগানরা। তাদের রানের গতিও বোলারদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। মিডল অর্ডারে নামা হাসমাতুল্লাহ শাহেদির ৬৯ এ ভর করে ৪৯.২ ওভার শেষে সব উইকেটে হারিয়ে আফগানদের সংগ্রহ ২৩৩ রান।
প্রথম ৩০ রানে কোন উইকেট নিতে পারেনি বিসিবি একাদশের বোলাররা। কিন্তু তারপরেই বাংলাদেশের ডান হাতি তিন পেসার তিন উইকেট তুলে নেন ১৭ রানের মধ্যে। অষ্টম ওভারে আবু হায়দার তুলে নেন নওরোজ মঙ্গলকে (১০)। উইকেটের পেছনে ক্যাচ নিয়েছেন লিটন দাস। আফগানরা পরের ওভারেই হারায় মোহাম্মদ শাহজাদকে (১৭)। তাকে বোল্ড করে দেন আলাউদ্দিন বাবু। কিছুক্ষণের বিরতির পর বদলী বোলার শুভাশিস রায় শিকার করেন রহমত শাহকে (৮)। অধিনায়ক আসগার স্তানিকজাই ও হাশমাতুল্লা শহিদি এরপর হাল ধরেন।
এরপরের ব্যাটসম্যানরা কেউ সুবিধা করতে পারেনি। একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০ এর ঘর পার করেছেন হাসমাতুল্লাহ শাহেদি(৬৯) ।  ৩০ এর ঘর পার করেছেন তিনজন- আসগার স্তানিকজাই(৩১), রাশিদ খান(৩০), মিরওয়াইজ আশরাফ(৩২)।
বাংলাদেশের হয়ে আবদুল্লাহ বাবু ও মিরাজ ৩টি করে উইকেট নিয়েছে। ২টি করে উইকেই নিয়েছে আবু হায়দার ও শুভাশিষ রয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1474606673ডেস্ক রিপোর্ট: মুন্সীগঞ্জ শহরের কাছে বাগবাড়ী এলাকায় গ্রাম্য সালিশে ২৫টি করে বেত্রাঘাতে আহত হয়েছে ২৩ শিক্ষার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষার্থীদের নাম জানা যায়নি। তাদের মধ্যে ২১ জনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নৌ-ভ্রমণে গিয়ে স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল বাগবাড়ী মসজিদ প্রাঙ্গণে গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশি বৈঠকে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা নৌ-ভ্রমণে যাওয়া অপর ২৩ শিক্ষার্থীকে ২৫টি করে বেত্রাঘাত ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর নৌ-ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হয় বাগবাড়ী এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত। তিন দিন পর জেলার সিরাজদীখান উপজেলার দোসরপাড়া এলাকার ইছামতী নদীতে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাম্য সালিশ বসে।

পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য এবং চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন বলে পরিচিত টিটু ও আরিফ শিক্ষার্থীদের ২৫টি করে বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষার্থীদের পরে  মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান ও পঞ্চসার ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, পঞ্চায়েত কমিটি শিক্ষার্থীদের বিচার করে। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জয় পোদ্দার বলেন, তিনি ২১ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন, যাদের সবাই বাগবাড়ী এলাকার কিশোর। তাদের সবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাঠি দিয়ে আঘাত করা হতে পারে। আহত কিশোরদের কারো অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

5263আসাদুজ্জামান: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় ট্রাক ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছেন। দুমড়ে মুচড়ে গেছে অ্যাম্বুলেন্সটি। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার পুড়াকাঠরা রনজিত মিস্ত্রি (৫৫) ও পলাশ মন্ডল (৩৮)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্যামনগরের পুড়াকাঠরা গ্রাামের সুভাষ চন্দ্র (৫৮) খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান। তার স্বজনেরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে (ঢাকা মেট্রো-০২-৩৪৯৯) মরদেহ নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা খুলনাগামী একটি ট্রাক অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কের পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লেগে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।  আহত হয় দুজন। আহতদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল ইসলাম  বলেন, দুর্ঘটনায় কবলিত অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধার করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বল্লীতে হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে চাউল বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন বল্লী ইউপি চেয়ারম্যান মো. বজলুর রহমান

বল্লীতে হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে চাউল বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন বল্লী ইউপি চেয়ারম্যান মো. বজলুর রহমান

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ: “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদেশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুযায়ী হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে চাউল বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাজারে আওয়ামীলীগ নেতা মো. শাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন বল্লী ইউপি চেয়ারম্যান মো. বজলুর রহমান। খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক হতদরিদ্রদের জন্য স্বল্প মূল্যে খাদ্য সষ্য বিতরণ, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় বল্লী বাজারে ডিলার মো. রাশিদুল ইসলামের মাধ্যমে বল্লী ইউনিয়নের ৪শ’ ৬৩ জন হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে স্বল্প মূল্যে খাদ্য শষ্য বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকবার আলী, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবতাবুজ্জামান লাল্টু, ইউপি সদস্য মো. শামছুর রহমান, রফিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest