নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা জজ আদালত থেকে এ নোটিশ প্রদান করা হয়। আদালতের নোটিশে নির্বাচন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১৬ থেকে ১৮ নম্বর বিবাদীদের নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেখ হাসান উদ্দীন বাদী হয়ে সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জহুরুল হকসহ ১৬ থেকে ১৮ নম্বর বিবাদীকে প্রতিপক্ষ করা হয়েছে। মামলাটি ১৯৫/২৬ নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, সমিতির নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গাড়ির ব্লু-বুকে মালিকের নাম না থাকলেও তাকে ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বাদীপক্ষের দাবি, এ ধরনের বিধান সমিতির গঠনতন্ত্রের ২৪ ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ছাড়া দুটি বর্তমান কার্যকরী কমিটি বিলুপ্ত না করে তাদের ক্ষমতায় রেখেই নতুন নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
আদালতের নোটিশে বলা হয়েছে, বিবাদীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বয়ং অথবা রীতিমতো আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত হয়ে আবেদনটির বিরুদ্ধে কারণ দর্শাতে হবে। অন্যথায় মামলাটি একতরফাভাবে শুনানি ও বিচার হতে পারে।
আশাশুনি প্রতিনিধি :
আশাশুনিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের বাজার তদারকিমূলক অভিযানে দুই মুদি দোকানে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীর ও জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য ক্যাব জিএম ইমতিয়াক জামিল।
অভিযান পরিচালনাকালে গোয়ালডাঙ্গা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী দে ব্রাদার্স এর মালিক সুভাষদে কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭ ধারায় ১ হাজার টাকা জরিমান ও শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এর মালিক গোপাল মজুমদারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৩ ধারায় ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌর শহরের প্রতি চারজন বাসিন্দার একজনই জলবায়ু উদ্বাস্তু ও নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততায় ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসন সংকট নিরসন এবং জলবায়ু দুর্যোগ থেকে তাদের সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি তুলে ধরেছেন নাগরিক নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) আয়োজিত ‘সাতক্ষীরার নিম্ন আয়ের ভূমিহীন বস্তিবাসীর আবাসন সংকট সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে এসব দাবি জানানো হয়।
গ্রীন কোয়ালিশন সাতক্ষীরার সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে সংলাপে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান।
ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিঃস্ব হওয়া মানুষেরা জীবিকার তাগিদে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। বর্তমানে শহরের প্রায় দুই লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ নিম্ন আয়ের পথবাসী, ঝুপড়িবাসী ও বস্তিবাসী। অর্থাৎ শহরের প্রতি ৪ জনে ১ জন মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, গৃহস্থালি ও নির্মাণশিল্পে যুক্ত থেকে শহরকে সচল রাখলেও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় তারা সবসময় উপেক্ষিত। উপরন্তু, ২০২৪ সালে সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়ক প্রশস্তকরণের অজুহাতে ইটাগাছা বস্তির ১০৪টি পরিবারকে কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংলাপে নাগরিক নেতারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে বাস করায় বস্তিবাসী বিভিন্ন জটিল ব্যাধিতে ভোগেন এবং তাদের উপার্জনের প্রায় ৩০ শতাংশ টাকাই চিকিৎসাবাবদ খরচ হয়ে যায়। সাংবিধানিক অধিকার ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নগর দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন জরুরি।
সংলাপে বক্তব্য রাখেন, নাগরিক নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি, পবিত্র মোহন দাশ, কিশোরী মোহন সরকার, মাধব চন্দ্র দত্ত, এম কামরুজ্জামান,মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, গোলাম সরোয়ার, আলী নুর খান বাবুল, সিদ্দিকুর রহমান, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম, সাংস্কৃতিক কর্মী দিলরুবা রুবি, উন্নয়ন কর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা, গ্রীন কোয়ালিশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম বিপ্লব হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. হোসেন আলী ও হৃদয় মন্ডল এবং সমকালের জেলা প্রতিনিধি কিশোর কুমার। এছাড়াও বস্তিবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রাজার বাগান ঋষিপাড়ার কুমারেশ সরকার, ইটাগাছা বস্তির জোবেদা খাতুন, মাজেদা খাতুন প্রমুখ।
সংলাপ থেকে বস্তিবাসীর সুরক্ষা ও অধিকার আদায়ে উচ্ছেদকৃত ১০৪টি পরিবারসহ দরিদ্র বস্তিবাসীর নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিতকরণ, শহরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূরীকরণের উদ্যােগ গ্রহণ, বস্তিতে সরকারি ভর্তুকিতে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা নিশ্চিতকরণ, বস্তিবাসীর ছেলে-মেয়েদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনা, বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া যেকোনো ধরনের উচ্ছেদ বন্ধ রাখা, বস্তির দরিদ্র শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সারাবছর ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যসামগ্রী প্রাপ্তির সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও দরিদ্রবান্ধব নগর গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। #
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পেশাজীবী গাড়িচালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা শহরের অদূরে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল পেশাজীবী গাড়িচালকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিয়াউর রহমান। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রশিক্ষক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জমির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) মোঃ আরজু হোসেন, মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক এবং উচ্চমান সহকারী মোঃ নাসির উদ্দিন।
প্রধান প্রশিক্ষক মোঃ জিয়াউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়িচালকদের সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে এবং এটি দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।”
মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। কর্মশালায় বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবী চালকগণ অংশ গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে অনেকেই কর্মশালা শেষে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং মতামত শেয়ার করেন।
এই কর্মশালার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ভূমিকা এবং তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। বিআরটিএ আশা করছে যে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা দেশের সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভবিষ্যতে আরো এ ধরনের কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলীয় উপজেলার শ্যামনগরে পিকেএসএফ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কছে আবেদন করেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
ইতিমধ্যে ইউপি ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সমন্বয়ে স্থানীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
জানা যায় সম্প্রতি কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠান । চিঠিতে বলা হয়, ইউনিয়নে পিকেএসএফের অর্থায়নে পরিচালিত একটি আর এইচ এল প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অভিযোগে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয় ছাড়াই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস)’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যে বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য অবগত বা সম্পৃক্ত না। প্রকল্প থেকে ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস)’ কার্যক্রম পরিচালনার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কৈখালী ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৪,৫ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড তুলনামূলক দরিদ্র ও প্রকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকিপূর্ণ। এ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে উল্লেখিত ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে ইউএনডিপি(UNDP) নামক একটি এনজিওর অন্য একটি মেঘা প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। যে কারনে অন্যান্য ঝুকিপূর্ণ ও দরিদ্র্য জনগোষ্ঠী যে ওয়ার্ড গুলোতে বেশি সেই এলাকাতে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা ‘সাস’ এর এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব অনেক বেশি।
চেয়ারম্যানের অভিযোগ, আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা থেকে জানানো হয়েছিলো আর এইচ এল প্রকল্পটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে এনজিও পরিচালনা করবেন। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা ধরনের অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। সে কারনে তিনি স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ১৭মে ২০২৬ তারিখে।
এদিকে এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চেয়ারম্যানের পক্ষে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. সিরাজুল ইসলাম ‘সাস’ এর সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। নোটিশে অভিযোগ করা হয় পিকেএসএফের অর্থায়নে ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস)’ পরিচালিত প্রকল্পটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয় না করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নোটিশে প্রকল্পের কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গুলোর সাথে যদি কোনো এলাকার স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের সমন্বয় না থাকে তাহলে সে এলাকার তুলনা মুলক গরীব অসহায় মানুষের বড় একটা অংশ সুবিধা বঞ্চিত হয়। কারণ সে এলাকার গরীব অসহায় দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক, ব্যাবসায়ী, চাকুরিজীবী সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের তথ্য থাকে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বরদের কাছে। সে কারণে সকল এনজিও সহ সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বরদের সাথে সমন্বয় অতি জরুরী।
GCF, RHL, প্রকল্প সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) শ্যামনগর শাখার প্রকল্প সমন্বয়কারী মুন্সী মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন জানান, আমরা এখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যে নীতিমালা বা গাইড লাইনের ভিত্তিতে কোন ব্যক্তি স্বার্থ বা জনপ্রতিনিধি কারো সুপারিশ রাখা সম্ভব হয় না। পিকেএসএফ যেভাবে গাইডলাইন বা নীতিমালা দিয়ে কাজ করে থাকি।সেই ভিত্তিতে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট আমাদের এখানে কোন অনিয়ম দুর্নীতির সুযোগ নেই আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাদের সাথে লিয়াজু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
স.ম ওসমান গনী সোহাগ:
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থানীয় অভিযোজন কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টায় মুন্সিগঞ্জে লিডার্স-এর নলেজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টারে সারাদিনব্যাপী এই কর্মশালাটি শুরু হয়। লিডার্স-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অধিবাসীরা অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা “প্রমোটিং এন্টিসিপেটরি এ্যাকশনস টু এ্যাড্রেস ক্লাইমেট এন্ড এনভায়রনমেন্ট রিস্ক ফর কমিউনিটি ট্রান্সফরমেশন” (প্রোঅ্যাক্ট) প্রকল্পের অধীনে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরতে সামাজিক মানচিত্র তৈরি করেন। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ও ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, স্থানীয় সমস্যা, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও এর কারণ নির্ধারণ এবং এসব দ্বন্দ্ব ও ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থানীয়ভাবে কার্যকর সমাধান ও অভিযোজন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ অভিযোজন পরিকল্পনায় স্থানীয় জ্ঞান, সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের এলাকার বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধানগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন।
কর্মশালায় লিডার্স এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবিএম জাকারিয়া’র সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন লিডার্স-এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন প্রোঅ্যাক্ট প্রকল্পের কনসালটেন্ট মুহাম্মদ আব্দুর রহমান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন লিডার্স এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল বাকী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গাজী আব্দুর রউফ, ইউপি সদস্য গাজী আবিদ হাসান, নারী ইউপি সদস্য মাছুরা পারভীন, উমা রানী মল্লিকসহ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পানি, অবকাঠামো ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর যে বহুমাত্রিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বাস্তবভিত্তিক অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের অভিজ্ঞতাকে পরিকল্পনার মূল ভিত্তি করা গেলে ভবিষ্যৎ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশাশুনি থানার…
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে দেওয়া হতে পারে…
অনলাইন ডেস্ক : পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোতেকোশি নদীতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯-এ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন…