সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় শিশু শ্রমমুক্ত ও শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ামুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণাদেবহাটায় অপসিজন তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চাষীরাঅবশেষে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারি রাকেশ মেহেরপুরে বদলিভারতে চিকিৎসা নিতে যেয়ে কলকাতার হোটেলে মারা যাওয়া সাতক্ষীরার সাজুর দাফন সম্পন্নমৎস্য খাতের উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় জোর দিল ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিআমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন : সভাপতি প্রভাষক আরিফুলদেবহাটা থানায় নবাগত ওসি এইচএম শাহীন-এর যোগদানপ্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের তিনদিন পর নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ স্থগিতসাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ : কারণ দর্শানোর নোটিশআশাশুনিতে নবাগত ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ এর যোগদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শ্যামনগরে জামায়াতের গণমিছিল ও বিক্ষোভ

শ্যামনগর প্রতিনিধি : জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের রায়, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলা শাখা।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শ্যামনগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর মাইক্রো স্ট্যান্ডে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। আয়োজকদের দাবি, মিছিল ও সমাবেশে পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক আব্দুল জলিল ও মাওলানা আব্দুল মজিদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম বারী, মাওলানা মঈনুদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রেজাউল ইসলাম, অধ্যক্ষ সাইদি হাসান বুলবুল, মাওলানা আমিনুর রহমান, অধ্যাপক গাজী আব্দুল হামিদ এবং অধ্যাপক মহসিন আলম সহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমরা ও বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিলাম। তবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রক্তদান ও জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়েই ৫ আগস্টের বিপ্লব চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করে। এ বিপ্লব কোনো একক দলের নয়; এটি ছাত্র-জনতা ও দেশের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফল।”

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পরিবর্তন না এলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হতো না। আমরা দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাই এবং দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যমুক্ত দেখতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এই আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর দল তাঁকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও লুণ্ঠনকে সমর্থন করে না।”

বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “যারা উগ্রবাদ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তারা আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা মনে করবেন না। তবে আমরা সংঘাত চাই না; শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুলাই গণঅভ্যু্ত্থান দিবস উপলক্ষে সিলভার জুবিলি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনাসভা : পুরস্কার বিতরণী

জুলাই গণঅভ্যু্ত্থান দিবস উপলক্ষে সিলভার জুবিলি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনাসভা, রচনা, চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এম বেলাল হোসাইন।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রাবেয়া খাতুন, সানজিদা খাতুন, টুম্পা রানী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদা পারভীন,শরিফা লায়লাতুননেছা, শাহিনা সবনম, তয়ৈবাতুন নেছা, বাসনা মজুমদার,সুপর্ণা দাশ,সুদীপা বাছাড়।

বক্তারা বলেন ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের মুখে একটি সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আজকে একটি বিজয়ের দিন উদযাপন করা নয়; বরং এই দিনটি আমাদের সামনে রেখে গেছে এক বিরাট দায়বদ্ধতা। যে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নে ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার রক্ষা করাই হোক আমাদের আজকের প্রধান শপথ।

আলোচনাসভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়; এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি প্রায়ই একটি কথা বলি— ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদদেরও কখনো ভুলবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ হামলা, নিপীড়ন ও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরছাড়া ছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু শহীদ হন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হন।

তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়েও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছে। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা ও বর্বরতা সভ্য পৃথিবীতে বিরল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন ও অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের এই দুঃশাসনের তুলনা কেবল স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের শাসনের সঙ্গে করা যায়।

তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে যেমন তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস তুলে ধরবে, তেমনি বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের প্রকৃত চেহারাও উন্মোচন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্মৃতি জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাদুঘরটি শুধু ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হয়ে থাকবে না; বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্কও তুলে ধরবে। একই সঙ্গে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও সেখানে সংরক্ষিত থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি। তাদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এসব ইতিহাসও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে।

জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াললিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক এবং ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যারা ব্যক্তিগত স্মারক, দলিল, আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম জাদুঘরে দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না; বরং ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যতে বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাদুঘরের তথ্য বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায় উপস্থাপন করা হলে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার বিচার পর্যায়ক্রমে হবে। কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার নয়; আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই প্রতিটি অপরাধের বিচার জরুরি বলে সরকার মনে করে।

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজও সরকার শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের জনগণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কি না, সে বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক, জাদুঘর বিশেষজ্ঞ, শিল্পী, সংগ্রাহক, কারিগর, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না’— এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ : আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধূমঘাট শিলতলা বিল, মটারচক বিল ও সংলগ্ন খালে অভিযান চালিয়ে ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য অফিস। পরে জব্দকৃত জালগুলো ধূমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদ হাসানের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য অফিসের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মো: মুজিবুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও সুকুমার। অভিযানে সহযোগিতা করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য পুলিশ, গ্রীন কোয়ালিশন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা সহ বিভিন্ন সংগঠিত জনসংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গ্রামবাসী।

অভিযান চলাকালে ধূমঘাট শিলতলা বিল, মটারচক বিল ও আশপাশের খাল থেকে মোট ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে পরিবেশ ও দেশীয় মাছের প্রজনন সংরক্ষণের স্বার্থে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: তৌহিদ হাসান বলেন,চায়না দুয়ারি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহার করলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্যামনগরের সব এলাকায় এ ধরনের নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিতা রানী বলেন,আমাদের এলাকায় এই উদ্যোগটি খুবই প্রয়োজন ছিল। দেশীয় মাছের প্রজননের সময় এই জলদানব চায়না দুয়ারি জাল অপসারণ করায় আমরা অত্যন্ত খুশি। এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে খাল-বিলে দেশীয় মাছের সংখ্যা আবারও বাড়বে বলে আমরা আশা করি। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার জলাশয়ের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। উপজেলা মৎস্য অফিসের এ ধরনের অভিযান দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ইজিবাইকের নির্বিঘ্নে চলাচল ও চালকদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানীয় রুটে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক) নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করা এবং চালকদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দল (রেজি. নং-চ-২৪৫৩), সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিল শেষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, সভাপতি শেখ ফেরদৌস আলম বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আক্তারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইমন হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক অংশ নেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত কিছুদিন ধরে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহল ইজিবাইক চলাচলে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা চলন্ত ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে, চালকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে চালকদের নিয়মিত মানসিক হয়রানি, আর্থিক ক্ষতি এবং জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার চালকদের জন্য সরকারি নীতিমালার আলোকে লাইসেন্স ও নিবন্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়, যাতে তারা বৈধভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন এবং অযথা হয়রানির শিকার না হন।

এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সড়ক ও স্থানীয় রুটে ইজিবাইক চালকদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধভাবে চলাচলে বাধা প্রদান বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বিশেষভাবে সাতক্ষীরা-পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা-ঝাউডাঙ্গা-কলারোয়া, কদমতলা-আবাদেরহাট-বাঁশদহা, সাতক্ষীরা-ঘোনা, সাতক্ষীরা-ভোমরা, সাতক্ষীরা-বুধহাটা, সাতক্ষীরা-পারুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানীয় রুটে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অবৈধভাবে ইজিবাইক আটকিয়ে অর্থ আদায় কিংবা চালকদের হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ইজিবাইক চালকদের জীবিকা, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের দাবিসহ মোট পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি : উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে আলমগীর হোসেন ও শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রওশন আরা রুবি।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন সুলতানপুর গ্রামের মৃত ফজলুর কাদেরের স্ত্রী রওশন আরা রুবি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেবহাটা উপজেলার বালিথা ও বিল শিমুলবাড়িয়া মৌজার ‘ধাপার ঘের’-এ তাঁদের এসএ ও বিএস খতিয়ানভুক্ত মোট ৮ দশমিক ৩৩ একর পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর স্বামী ২০০২ সালে মৃত্যুবরণ করার পর অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে চাচা শ্বশুর আবুল কাশেমের উত্তরাধিকারীরা, যার মধ্যে ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত শরিফুল ইসলাম ও মামলাবাজ আলমগীর হোসেন রয়েছেন, জোরপূর্বক ওই সম্পত্তি দখল করে ভোগদখল শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে তাঁরা নিজস্ব সম্পত্তিতে পুনরায় দখল নেন এবং বর্তমানে বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। এরপর প্রতিপক্ষ একাধিক মামলা দায়ের করলেও পর্যায়ক্রমে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তিনি দাবি করেন, উচ্চ আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে এবং এ অবস্থায় নিম্ন আদালতও মামলার কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আদালতে সুবিধা করতে না পেরে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন দপ্তরে ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে তাঁদের সহযোগী মো: আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার চার্জশিট রয়েছে (মামলা নং- ৭, তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৫)। মামলার দিন আগামী ১২/৮/২০২৬। এছাড়া দেবহাটা থানায় শরিফুলদের অন্যতম সহযোগী আলমগীর, রনিসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে (মামলা নং-১৬/২৫)। মামলার দিন আগামী ০২/৯/২০২৬। এসব তথ্য গোপন রেখে একটি দলীয় পরিচয় ব্যভহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় মাননীয় পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন রওশন আরা রুবি।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে পৃথক ঘটনায় একই দিনে দুজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় এক কৃষক ও এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে পানিতে ডুবে এবং দুপুরে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধুমঘাট শীলতলা গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) সোমবার সকাল ১০টার দিকে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়রা পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন।

অপরদিকে, একই দিন দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ধুমঘাট মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বজ্রপাতের ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী পৃথক দুটি মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জমি দখলের অভিযোগ আ.লীগ নেত্রী রওশন আরা রুবির বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার দেবহাটায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক প্রবাসী।

সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুলতানপুর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শরিফুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন বলেন, দেবহাটা থানার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় তাদের ৮.১৫ একর পৈতৃক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তি রয়েছে (যার এসএ খতিয়ান নং- ৭৯, ৮০ এবং বিআরএস খতিয়ান নং- ৫৩০, ১৬৯, ১১০)। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুযোগে ২০১৮ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রওশন আরা রুবি, তার ছেলে জায়েদ বিন কাদের ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ওই জমি জবরদখল করে মৎস্য চাষ শুরু করে। ক্ষমতার দাপট ও ভয়ে এতদিন তারা মুখ খুলতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও জানান, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফেরেন। গত ৩ জুলাই ২০২৬ সকালে পৈতৃক জমিতে গেলে রওশন আরা রুবি, তার ছেলে জায়েদ বিন কাদের, মাহাফুজ সরদার, বনি আমিন ও আব্দুল আলিমসহ ১০-১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

পরবর্তীতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলে দেবহাটা থানাকে বিষয়টি মীমাংসার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত রুবি থানায় উপস্থিত না হয়ে উল্টো হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। এর পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং সাতক্ষীরা আদালতের জিপির উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে রুবি চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বৈঠক ত্যাগ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রওশন আরা রুবি একাধিক বিয়ের মাধ্যমে এবং দলীয় পদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদ দখল করে আসছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রুবির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ দখলদারিত্ব এখনো বজায় রয়েছে।

আইন- আদালত ও তোয়াক্কা না করা এই আওয়ামী লীগ নেত্রীর হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest