সর্বশেষ সংবাদ-
সরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহআ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদএনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন – নিকোলাস বিশ্বাসএরশাদের ৯ বছরের শাসন আমলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল: সাবেক এমপি আশুসাতক্ষীরায় জামায়াতে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেনসাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভাকলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক- সম্পাদক ফারুকীসাতক্ষীরা সদরের ৫ নং শিবপুর ইউনিয়নে কৃষক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিতশ্যামনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ আলমের ব্যানার কেটে নষ্ট করার অভিযোগ

উপজেলা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের সমন্বয় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি :  প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, বৈষম্যহীন সেবা প্রদান এবং সামাজিক কলঙ্ক নিরসনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় উপজেলা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ম্যানগ্রোভ সভাঘরে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায়, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ক্রিশ্চিয়ান এইড-এর সহযোগিতায় পরিচালিত “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও প্রবেশগম্যতা জোরদারকরণ দিশা প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত।

সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মলি শিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার প্লাবনী সরকার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম, উন্নয়কর্মী মাধবচন্দ্র দত্ত।

বক্তব্য রাখেন, প্রতিবন্ধী কল্যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান, হেড এর প্রতিনিধি রেহেনা পারভীন, সিডোর প্রতিনিধি তৌহিদুজ্জামানসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে নিজেদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। সাতক্ষীরার দুটি স্কুলের প্রতিবন্ধী শিক্ষকের উদাহরন টেনে বক্তারা বলেন একটু সহযোগিতা পেলে তারাও সম্পদে পরিণত হতে পারবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে গাছ থেকে পড়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুঞ্জয় বাছাড় (২৯) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত্যুঞ্জয় পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের চিত্তরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে। পেশায় তিনি মৌসুমি ফল ক্রয়-বিক্রয়কারী।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে মৃত্যুঞ্জয় বাছাড়সহ তার এক সহযোগী বেল পাড়ার জন্য বুড়িগোয়ালিনী এলাকার একটি বাগানে যান। বেলা ১১টার দিকে গাছে ওঠার পর অসাবধানতাবশত তিনি পড়ে যান। পাশেই কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার শব্দ পেয়ে তাঁরা ছুটে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার সঙ্গে থাকা শ্রমিক শোকর আলী বলেন, সকালে আমরা দুইজন এই বাগানে আসি বেল পাড়তে। পরে মৃত্যুঞ্জয় একটি গাছে উঠে এবং আমি অন্য আরেকটি গাছে উঠে বেল পারতে থাকি। পড়ে যাওয়ার শব্দ ও তাঁর চিৎকার শুনে গাছ থেকে দ্রুত নেমে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি মৃত্যুঞ্জয় মাটিতে পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একজন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি মারা গেছেন।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে টাকা ছাড়া মেলে না ছাড়পত্র

গাজী হাবিব :
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ছাড়পত্র নিতে ২০০ টাকা এবং শিশুর হাতে লাগানো ক্যানুলা খুলে দিতে ৫০ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাড়পত্র আটকে রাখার পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন এক শিশুর মা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের সাড়ে তিন মাস বয়সী শিশু রিফাত শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। টানা সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।

রিফাতের মা অভিযোগ করে বলেন, মামুন নামে এক ব্যক্তি আমাদের কাছে ২০০ টাকা চান। আমরা টাকা দিতে চাইনি। কিন্তু টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। পরে ২০০ টাকা দেওয়ার পর ছাড়পত্র পাই।

এ ছাড়া শিশুটির হাতে লাগানো ক্যানুলা খুলে দেওয়ার জন্যও ৫০ টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের আচরণ খারাপ হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে শিশু ওয়ার্ডের বিল্লালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের কোনো বেতন নেই, তাই টাকা নেই। তখন জানতে চাওয়া হয় বেতন নেই তো হাসপাতালে আপনারা কেন থাকেন, তার স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মামুনের সঙ্গে কথা হলে তিনিও বলেন, টাকা ছাড়া ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। আমাদের কোনো বেতন নেই, তাই এটা আমরা নিই।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পরে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রোগীদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি মাঝেমধ্যে শোনা যায়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ তারা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর সুযোগ বা সাহস পান না, এমন কথাও স্থানীয়ভাবে শোনা যায়। ফলে শিশু ওয়ার্ডে এ ধরনের আরও কেউ ভুক্তভোগী হয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ থাকলেও অনেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে না জানানোর কারণে সব ঘটনা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের কাছ থেকে যারা টাকা নিচ্ছেন, তারা হাসপাতালের কর্মী কি না এবং কার অনুমতিতে সেখানে কাজ করছেন তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি : ২৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের দাবি

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা বাজারের রত্না জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দোকানের পেছনের দেয়াল ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ প্রায় ২৩ লাখ ৪ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক উত্তম কুমার সিংহ।

শনিবার সকালে দোকান খুলে চুরির বিষয়টি টের পান উত্তম কুমার সিংহ। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

দোকান মালিক উত্তম কুমার সিংহ জানান, সকালে দোকান খুলে ভেতরে গিয়ে তিনি পেছনের দেয়াল ভাঙা দেখতে পান। চোরেরা ওই দেয়াল দিয়ে দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিয়ে গেছে বলে তাঁর দাবি।

দোকান মালিকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ২১ ক্যারেটের ১২৪টি নাকফুল, যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা,১৫টি আংটি, যার মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা,৫০ ভরির বেশি রুপা, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া রুলি, হাতের বালা ও রুপার চেইনসহ আরও অলংকার, দেড় ভরি ওজনের একটি হার, এক জোড়া দুল, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৬ আনা ওজনের একটি আংটি, যার মূল্য প্রায় ৮৪ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৪ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক।

তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশও ঘটনাটি তদন্ত করছে।

তবে চুরি যাওয়া মালামালের পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বক্কার সিদ্দীক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে ১৫ পরিবার পেল ছাগল, ১৫ পরিবার পেল সেলাই মেশিন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ও গাবুরা ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তুলতে জীবিকা সহায়তা প্রদান করেছে রোকেয়া মাইনুল আল রাহমা ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই ইউনিয়নের মোট ৩০টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে জীবিকা সহায়তা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি পরিবারকে দুটি করে ছাগল এবং ১৫টি পরিবারকে একটি করে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে এককালীন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ছাগল পালন ও সেলাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাবে বলে আশা করছে ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোকেয়া মাইনুল আল রাহমা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুহুল আহমেদ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য শারাফাতুর রহমান।

ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, উপকূলীয় জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে বলে তারা আশা করছেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টেকসই বেড়িবাঁধ ও চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন, দুর্বল বেড়িবাঁধ ও বেহাল যোগাযোগব্যবস্থা। বছরের পর বছর ধরে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ও ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাউলখোলা গ্রামে এখনো একটি ইটের রাস্তাও নেই। গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান ভরসা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের ওপরের কাঁচা রাস্তা। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা সরু, ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে নদীভাঙন ও দুর্বল বেড়িবাঁধ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে দুর্যোগের সময় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জানমাল, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে এবং আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থায়ী ও দৃশ্যমান উন্নয়ন এখনো হয়নি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা ব্যক্তিগত ত্রাণ বা সাময়িক সহযোগিতা চাই না। আমরা চাই এমন একটি শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ, যা দুর্যোগের সময় আমাদের রক্ষা করবে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

আরেক বাসিন্দা বলেন, একটি গ্রামের মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা অন্যতম। অথচ আমাদের গ্রামে আজও একটি ইটের রাস্তা নেই। বর্ষার সময় চলাচল কতটা কষ্টকর, সেটা এখানে না এলে বোঝা কঠিন।

স্থানীয়দের দাবি, চাউলখোলার নদীভাঙন ও যোগাযোগব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধকে টেকসইভাবে নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসবেন।

চাউলখোলাবাসীর একটাই দাবি—সাময়িক সহায়তা নয়, নদীভাঙন থেকে স্থায়ী সুরক্ষা এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ ও রাস্তা চাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
২৪ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার হয়নি সাতক্ষীরার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র ইব্রাহিম

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর এলাকার শিশু ইব্রাহিম হোসেনের (১০)। স্বজনদের অব্যাহত খোঁজাখুঁজি সত্ত্বেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পুরো পরিবার।

ইব্রাহিম হোসেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর এলাকার আব্দুল মতিনের পুত্র। সে শহরের ইটাগাছা দারুল উলুম মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ইব্রাহিম নিজ বাড়ির সামনে সুলতানপুর দক্ষিণপাড়া বায়তুল্লাহ জামে মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দান এলাকা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজের সময় তার পরনে ছিল নীল (ব্লু) রঙের প্যান্ট ও গেঞ্জি।

ঘটনার পর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল স্থান ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। যার জিডি নম্বর- ১৭১৭, তারিখ: ২৫/০৯/২০২৬।

সন্ধান দিন:  কোনো সহৃদয় ব্যক্তি শিশু ইব্রাহিমের সন্ধান পেয়ে থাকলে বা কোনো তথ্য জানা থাকলে অনুগ্রহ করে নিম্নোক্ত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে: 01322-675174 অথবা 01939-528786

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙেছে ৫টি ঘর, চরম দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্তরা

আশাশুনি প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনিতে আকস্মিক টর্নেডো বা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচটি কাঁচা ঘর লন্ডভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে খোলা আকাশের নিচে মানবিক ও কষ্টকর দিন কাটাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

শনিবার ভোরে উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের উত্তর বাইনতলা গ্রামে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ডিসিআর জমিতে বসবাসকারী তিন ভাই—সাহেব আলী মোল্লা, দাউদ মোল্লা ও আইয়ুব আলী মোল্লার ৫টি ঘরের টিন ও অ্যাসবেস্টসের চাল উড়ে যায় এবং কাঠামোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। এতে ঘরগুলো সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, “ঘটনাটি শোনার পর প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসারকে (পিআইও) খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় পরিদর্শন সম্ভব হয়নি; তবে রোববার সরজমিনে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বড়দল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জামায়াত নেতা আব্দুল গফুর সানা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন, তাদের সমবেদনা জানান এবং নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest