সর্বশেষ সংবাদ-

নিজস্ব প্রতিনিধি “
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের চিহ্নিত প্রভাবশালী ভূমিদস্যু জাকির ও মান্নান মেম্বরের নেতৃত্বে সরকারি খাস জমিতে বসবাসকারী ৭টি অসহায় ভুমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বাড়ি ঘর ভাংচুর, লুটপাট এবং মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন কালিগঞ্জ উপজেলার ঘুষুড়ি গ্রামের শহর আলী গাজীর মেয়ে রোজিনা খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা অত্যান্ত অসহায় এবং ভূমিহীন পরিবার। কোন জমি জমা না থাকায় হাওড়ার নদীর তীরে ঝুপড়ি ঘর বেধে পিতা আমাদের নিয়ে বসবাস করতেন। তৎকালিন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এসিল্যান্ডসহ স্থানীয় ভূমিকর্মকর্তা ও গণম্যান্য ব্যক্তিবর্গ পাশ^বর্তী ঘুষুড়ি ব্রীজের পাশে নদীর জেগে ওঠা চরে আমাদের বসবাসের জন্য একখন্ড জমি প্রদান করেন।

সরকারের দেওয়া ওই জমিতে আমরা দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বসবাস করে আসছি। দুটি ছেলে সন্তান জন্মের পর স্বামী আমাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। সেই থেকে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অতিকষ্টে বেঁচে আছি। পরিশ্রম করে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পাশ^বর্তী পরম্পদলোভী ঈমান আলীর ছেলে জাকির হোসেন গং উক্ত সরকারি খাস জমি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করে নিজেরা জবর দখলের চক্রান্ত চালাতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সুযোগ বুঝে চাম্পাফুল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বর মান্নানের নির্দেশে ও জাকিরের নেতৃত্বে জহুর ঢালীর ছেলে রফিক, ছাকা গাজী, মোফাই, মোস্ত,আনিছুরসহ অন্যান্যরা আমাদের উক্ত জমি জোর পূর্বক দখলের হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে।

রোজিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ইটভাটায় কাজে জন্য পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগে গত ১৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মান্নান মেম্বরের নির্দেশে এবং জাকিরের নেতৃত্বে রফিক, ছাকা গাজী, মোফাই, মোস্ত ও আনিছুরসহ ২০/২৫ জন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এসময় বাধা দিতে গেলে তারা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে। আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা আমার মা জরিনা খাতুন, বোন ফতেমা খাতুন, ছেলে বাবু, রায়ছুল, ভাবী শরিফাসহ পরিবারের মহিলাদেরকেও মারপিট করে গুরুতর আহত করে তারা। এসময় তারা বাড়ির সব বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যায়। এছাড়া বাড়িতে থাকা নগদ টাকা,স্বর্ণালংকর, মোবাইলসহ মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে এবং আমাদের বাড়ি ঘর ভেঙে সেখানে ঘেরাবেড়া দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

তিনি আরো বলেন, জাকির হোসেন গংদের মারপিটে আমরা ৫/৬ জন মারাত্মক আহত হলেও চিকিৎসা নিতে আমাদের হাসপাতালেও যেতে দেয়নি তারা। এঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ নেয়নি। থানায় মামলা না নেওয়ায় আসামীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জাকির ও মান্নান গং প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছেন দেশে এখন কোন আইন নেই, বিধায় হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিলেও আমাদের কিছু হবে না। তাদের ভয়ে আমরা এখনো বাড়ি ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
তিনি ওই সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রুত যাতে বাড়িতে ফিরতে পারে যে ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় ১৮০ লিটার দুধ ভেজাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিনেরপোতা বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় মোটর সাইকেলে বহনের সময় ভেজাল মিশ্রিত দুধসহ দুই ব্যবসায়ীকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় পরীক্ষা করে দুধে ভেজাল মিশ্রিত থাকায় দুই ব্যবসায়ীকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদÐ প্রদান করা হয়।

দÐিত ব্যবসায়ীরা হলেন, দেবহাটা উপজেলার শংকর ঘোষের পুত্র সীমান্ত ঘোষ ও ইনু ঘোষের পুত্র মুকুন্দ ঘোষ।

ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ভেজাল দুধ জব্দ করা হয় এবং দুই ব্যবসায়ীকে জেল জরিমানা করা হয়েছে। পরে ভেজাল মিশ্রিত দুধ বিনষ্ট করে আদালত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমার বাংলাদেশ (এবি)পার্টির আয়োজনে রোববার বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, পার্টির সদর উপজেলা আহবায়ক ডা: জি এম সালাউদ্দিন সাকিল। প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা পার্টির আহবায়ক ভিপি আব্দুল কাদের।

এসময় প্রধান অতিথি বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে দেশের নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোন ভাবেই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি কমানো যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়বে। বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে সাধারণ মানুষ। মানুষ বাঁচাতে হলে অবিলম্বে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রন করতে হবে। এছাড়া সাতক্ষীরায় বাজার মনিটরিং জোরদার করার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহŸান জানান তিনি। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব মো: আলমগীর হোসাইন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : বৃদ্ধ পিতা ও সৎ মাকে কথা দিয়েছিলেন মিছিলে যাবেন না, কিন্তু বৈষম্য বিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাটিতে লুটিয়ে পড়া এক সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান সাতক্ষীরার মেধাবী ছাত্র আসিফ হাসান। ফেসবুক পোস্টে ছবি দেখে আসিফের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তার পরিবার।

দুই মাস ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও মা হারা সন্তানের অকাল মৃত্যুতে এখনও শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার। ছোট বেলা থেকে কোলে পিঠে মানুষ করা সৎ মা শিরীন সুলতানা এখনও মনে করেন তার সন্তান বেঁচে আছে। সে যে মারা গেছে এটা তিনি কোন ভাবেই যেন মানতে পারছেন না। এখনও বৃদ্ধ পিতা মাহমুদ আলম ও তার সৎ মা পথ চেয়ে বসে থাকেন তাদের সন্তান আবারো ফিরে আসবেন।

জানা যায়, সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে দেবহাটা উপজেলার আস্কারপুর গ্রামের মাহমুদ আলমের ৫ সন্তানের মধ্যে সবারই ছোট জমজ দুই সন্তান আসিফ হাসান ও রাকিব হাসান। তার বড় বোন মাকসুদা আক্তার মুন্নি, মেজ বোন মুন নাহার পারভীন ও ছোট বোন জেসমিন নাহার। বোনেরা সবাই বিবাহিতা। বিগত ১১ বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আসিফের মায়ের মৃত্যু হয়। ছোট বেলা থেকেই সৎ মায়ের সংসারে আদর যতেœ বেড়ে ওঠে আসিফসহ তার ভাই বোনেরা। কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা আহছানিয়া রেসিডেন্টসিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন আসিফ হাসান। এরপর ঢাকায় নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অনার্স কোর্সে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়টির উত্তরা ক্যাম্পাসে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত ছিল আসিফ হাসান। সর্বশেষ গত কোরবানির ঈদে আসিফ বাড়িতে এসেছিল। বৈষম্য বিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা শহর যখন উত্তাল হয়ে ওঠে তখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আসিফের পরিবার।
গত ১৮ জুলাই বেলা ১২ বাজার এক মিনিট আগে আসিফের সাথে তার মেঝ বোন ঢাকার খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মুন নাহার পারভীনের সাথে মোবাইল ফোনে কথোপকথন হয়। তার বোন তার কাছে শুনতে চায় ভাই তুমি কোথায় আছো ? অনেক গোলাগুলির শব্দ হচ্ছে। আসিফ তখন তার বোনকে বলেন, আপা আমি মিছিলের শেষের দিকে আছি আমার কোন অসুবিধা হবেনা। আমি নিরাপদে আছি। ফাঁকা গুলি ছুড়ছে আমাদেরকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য। বোন মুন নাহার এসময় তাকে বলেন, তুমি মিছিল ও আন্দোলন থেকে পিছন দিক থেকে চলে যাও। আর সেখানে না থাকার জন্য তিনি তার কাছে অনুরোধ করেন। এরই মধ্যে আসিফ তার বোনকে জানান, আপা তুমি পরে ফোন করো। আমাদের এক ভাই গুলি বিদ্ধ হয়েছে। সে পানি খেতে চাচ্ছে। তাকে পানি খাওয়াতে হবে। এই বলে আসিফ তার আশেপাশের সহযোদ্ধাদের ডাক দিয়ে গুলিবিদ্ধ বড় ভাইকে পানি খাওয়ানো ও তাকে সেখান থেকে সরানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং তার বোনের সঙ্গে এটাই তার শেষ কথা। এদিকে তার বোন তাকে মোবাইল ফোনে হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছেন। ১ মিটি ৩৪ সেকেন্ড আসিফ তার বোনের সাথে কথা বলেন বলে তার বোন জানান। এরপর তার বোন তাকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলিবিদ্ধ বড় ভাইকে বাঁচাতে যেয়ে এ সময় তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। গুলিবিদ্ধ আসিফ হাসানকে তার সহযোদ্ধারা পরে কুয়েত বাংলাদেশ সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে জানানো আসিফ মারা গেছেন। অশ্রæসিক্ত নয়নে তার মেজ বোন মুন নাহার আরো জানান, আসিফ মারা যাওয়ার ১২/১৪ আগেও তার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কয়েক দিন ছিলেন। এরপর তিনি ইউনিভার্সিটিতে চলে যান। তিনি জানান, সাটডাউনের মধ্যে গত ১৭ জুলাই বুধবারও তিনি তাকে বলেছিলেন তার বাসায় যাওয়ার জন্য। আসিফ তার বোনকে বলেন, গাড়ি ঘোড়া সব তো বন্ধ তাহলে কিভাবে যাবেন। তার বোন এসময় তার এলাকা থেকে তাকে আনার জন্য পরিচিত কোন বাইক পাঠানোর জন্য তাকে প্রস্তাব দেন এতে আসিফ সম্মতি দেননি। তিনি এ সময় আবেগ জড়িত কন্ঠে বলেন, মহান আল্লাহপাক ওখানে তার মৃত্যু লিখেছেন। এজন্য সে সেখানে মারা গেছে।

শহীদ আসিফ হাসানের সৎ মা শিরীন সুলতানা জানান, অনেক ছোট বেলা থেকেই আমি আসিফ ও রাকিবকে মানুষ করেছি। আমার মনেই হচ্ছেনা আমার আসিফ নেই। মনে হচ্ছে আমার আসিফ আবার আমার কাছে আসবে। তিনি এসময় অশ্রæসিক্ত নয়নে বলেন, আমার আসিফ বড় বড় ভেটকি মাছ, পার্শে মাছ, চিংড়ি মাছ ও গরুর গোশ খেতে ভালো বাসতো। বাড়ি আসলেই তার এসব খাওয়ার আবদার ছিলো। রান্নার পর এসব গরম গরম খেতে ভালো বাসতো। আমি অনেক সময় তাকে বলতাম বাবা ঠান্ডা হলে খাও। সে আমাকে বলতো মা গরম গরম ভালো লাগে। তিনি মেনেই নিতেই পারছেননা তার আসিফ আর নেই।

আসিফের ছোট ভাই সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রকিব হাসান জানান, ছোট বেলা থেকেই আমাদের দুই জমজ ভাইয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। যা করতাম দুই ভাই পরামর্শ করেই করতাম। কোটা আন্দোলন শুরু থেকেই তার সাথে আমার প্রতিদিনই কথা হতো। ১৬ জুলাই থেকে সে প্রথম আন্দোলনে যায়। এরপর ১৮ জুলাই সে আন্দোলনে যাওয়ার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার তার মৃত ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে ফোন করে আসিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। ওই দিন রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আসিফের মরদেহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরদিন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় তাকে শায়িত করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আমার ভাইয়ের সাথে আমার সব সময় কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে কথা হতো। আমিও কোটা আন্দোলন নিয়ে সাতক্ষীরায় অনেক মিছিল ও সমাবেশ করেছি। আন্দোলন সংগ্রামে আমার ভাই আমাকে সবসময় সাবধানে থাকার জন্য অনুরোধ করতো। মারা যাওয়ার আগের দিনও সে আমাকে বলে আমি একটু ভয়ে ভয়ে আছি, কারন বিভিন্ন মেসে মেসে অভিযান চলছে। কখন যে আমাকে ধরে ফেলে? ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি এসময় বলেন, কি বলবো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

আসিফের ছোট চাচা মামুন হোসেন জানান, তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো আস্কারপুর গ্রামে। শোকে স্তব্ধ আমাদের গোটা পরিবার। আসিফ আমার শুধু ভাইপো ছিলো না সে আমার বন্ধুর মতো ছিলো। গ্রামের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আসিফ ও আমি এক সাথে পরামর্শ করে কাজ করতাম। অনেক সামাজিক ছেলে ছিল সে।

শহীদ আসিফের বাবা মাহমুদ আলম জানান, আমি দুই থেকে তিন দিন পর পর আসিফকে ফোন করে ওর খোঁজ খবর নিতাম। আমি ওকে বাড়িতে চলে আসতে বলেছিলাম। ও বললো আব্বা আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা, আমি আন্দোলনে যাচ্ছিনা। কিন্তু বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে পরে কখন যে সে আন্দোলনে গেল তা আমি জানিনা। আমি ভাবতেই পারছিনা আমার আসিফ নেই। তার বড় ইচ্ছা ছিল ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে সে দেশের বাইরে যাবে। কিন্তু কি যে হয়ে গেলো তা আমি আর বলতে পারছিনা। বাকরুদ্ধ আসিফের বাবা এসময় বলেন, আমি আমার সন্তান হারানোর এই বিচার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ পাকই বিচার করবেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি ও জীবিকায়ন সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে। উপকূলীয় অঞ্চলে নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি উদ্যোগ গড়ে তুলতে লিডার্স এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগেবসত বাড়ির আঙিনায় অভিযোজিত এবং টেকসই সবজী চাষ শীর্ষক ৪ দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লিডার্সের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) রণজিৎ কুমার বর্মন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লিডার্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: শওকৎ হোসেন, টিম লিডার অসিত মণ্ডল, এবং রেখা খাতুন, টিম লিডার (ভারপ্রাপ্ত)। এছাড়াও লিডার্সের অন্যান্য কর্মকর্তারা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় নারীদের অভিযোজিত ও টেকসই সবজী চাষ, বীজ উৎপাদন এবং সংরক্ষণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ উপকূলীয় নারীদের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি প্রশমন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লিডার্সের এ উদ্যোগ জলবায়ু অভিযোজন প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে এটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মেহেদী হাসান আটুলিয়া (শ্যামনগর):
ঐতিহ্যবাহী নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষী কাদেরিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৩ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারীর বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।উক্ত অনুষ্ঠানটি ১৭ই নভেম্বর রবিবার, সকাল ০৯:৩০ ঘটিকার সময় অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে মাদরাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১০ নং আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু, নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এম আবু বক্কর সিদ্দিক, নওয়াবেঁকী গনমুখী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো: লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম আটুলিয়া ইউনিয়নের আমির প্রভাষক মাওলানা আব্দুল হামিদ, বিড়ালাক্ষী মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ একরামুল কবির, রাবেয়া খাতুন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রেজাউল করিম,অবসর গ্রহণকারী শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ যথাক্রমে,

সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (কৃষি) এস, এম, হুমায়ুন মাকসুদ হারুন, ইবতেদায়ী প্রধান মাওলানা আব্দুর রউফ,জুনিয়র শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, অফিস সহকারী মোস্তফা মিজানুর রহমান, অফিস স্টাফ মোঃ নুরুল আমিন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তৃতা প্রদান করেন আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম তামান্না রুহি। শিক্ষক মন্ডলীর মধ্য থেকে বক্তৃতা প্রদান করেন মাওলানা মঈন উদ্দিন আহমেদ। এ সময় বক্তারা বিদায়ী শিক্ষক-কর্মচারীগণের চাকুরী জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।পরে সকলের মঙ্গল কামনা করে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কে এম রেজাউল করিম দেবহাটা: দেবহাটায় সখিপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার ১৬ নভেম্বর বিকাল ৩টায় আয়োজনে শুরুতে একটি রেলি সখিপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস চত্বর থেকে শুরু হয়ে সখিপুর মোড়ে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সখিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান। সখিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল, যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাছুম বিল্লাহ, উপজেলা মৎস্যজীবি দলের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামরুজ্জামান কামরুল, যুগ্ম আহবায়ক আলতাফ হোসেন,

শ্রমিকদলের সভাপতি বিকাশ সরকার প্রমুখ। সমাবেশে বিএনপি ও তার সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শতশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় লোকায়ত জ্ঞানের অভিযোজন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) উপজেলার ঈশ^রীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট (হাসার চক) গ্রামে পদ্ম কৃষক উন্নয়ন সংগঠন, দিঘির পাড় কৃষক উন্নয়ন সংগঠন, হাসার চক কৃষক উন্নয়ন সংগঠন, সবুজ সংহতি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলায় জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও নানা সংকট মোকাবেলা করে নিজেদের জীবন জীবিকা রক্ষা ও ফসল উৎপাদনে মেহগনি, নিম, গাঁদা ফুল, তামাক ও হুইল পাউডার দিয়ে জৈব বালাইনাশক তৈরি ও ব্যবহার, ফেরেমোন ফাঁদ ব্যবহার, ভার্মি ও গর্ত কম্পোস্টের তৈরি জৈব সার ব্যবহার, স্থানীয় মাছ সংরক্ষণ, হাজল পদ্ধতিতে ডিম ফুটানো, অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণ, বীজ সংরক্ষণ, দুর্যোগকালীন শুকনা খাবার সংরক্ষণ, ক্যারেট পদ্ধতিতে ফসল চাষ, বস্তা পদ্ধতিতে ফসল চাষ, বালতি পদ্ধতিতে ফসল চাষ, নষ্ট মাটির ফিল্টারে সবজী চাষ, প্লাস্টিক পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে বোতলে সবজি চাষ, মাঁচা পদ্ধতিতে ফসল চাষ, মশাল, পরিবেশ বান্ধব চুলা, লবণ তৈরী, হামান দিস্তা, মেটে, খড়ের ঘর, মাছ ধরার আটল, ঝুড়ি পদ্ধতি শামুক, ঘুটের ছাই, মতিয়ার তামাক, গুল, গোচনা ডোল পদ্ধতি, ভিটা উঁচু করণ, ঢেকি, কাকতাড়–য়াসহ ১৬০ ধরনের লোকায়ত জ্ঞানের প্রয়োগ পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়।

এতে সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিযোজন চর্চা পদ্ধতি প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন নমিতা মন্ডল, দ্বিতীয় হন কনিকা মন্ডল ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নীলিমা মন্ডল।

মেলায় স্থানীয় প্রবীণ কৃষক-কৃষাণীরা নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের লোকায়ত জ্ঞান চর্চার নানা তথ্য তুলে ধরেন।

পরে সমাজ সেবক ও কৃষক সুকন্ঠ আউলিয়ার পরিচালনায় অভিযোজন মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সমাজ সেবক মিজানুর রহমান, হাসার চক পদ্ম কৃষক উন্নয়ন সংগঠনের সন্ধ্যা রানী মন্ডল, পশ্চিম জেলেখালী কৃষক সংগঠনের সভাপতি ভূধর চন্দ্র মন্ডল, শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল, জবা কৃষি নারী সংগঠনের সভাপতি লতা মন্ডল, যুব নারী উমা রানী মিস্ত্রি, হাসার চক কৃষক উন্নয়ন সংগঠনের হৃতিশ কুমার মন্ডল, বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, বরষা গাইন, বাবলু জোয়ারদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দিন দিন শ্যামনগর উপকূলে লবণাক্ততা বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে লোকায়ত জ্ঞানের গুরুত্ব খুবই বেশি। এসব লোকায়ত জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চর্চা হয়ে আসছে। আমাদের কৃষি জমি কমছে। ফসলে পোকার আক্রমণ বাড়ছে। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ও বেশি ফসল উৎপাদনের জন্য অতি মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু জৈব বালাইনাশক দিয়েও পোকা দমন করা যায়। যা স্থানীয় বা লোকায়ত জ্ঞান। এজন্য ফসল রক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে লোকায়ত জ্ঞান চর্চা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। #

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest