সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসাতক্ষীরায় মাদক এবং মাদক বিক্রির অবৈধ টাকাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারতালায় বাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা

আজ আন্তর্জা‌তিক গণতন্ত্র দিবস; বিশ্বজু‌ড়ে ধুঁক‌ছে গণতন্ত্র

অনলাইন ডেস্ক: বিগত শতাব্দীগুলোতে নিজ দেশে গণতন্ত্র চর্চার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রসারে উৎসাহিত করে এসেছে আমেরিকানরা। বিদেশে গণতন্ত্র প্রসারে তাদের সেই চেষ্টা এখনো আছে। কিন্তু তাদের নিজ দেশের গণতন্ত্রই এখন হুমকিতে পড়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সপ্তাহে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্প আজ যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি। কেবল বারাক ওবামার মুখেই নয়, ট্রাম্পের সমালোচনা এখন বিশ্বজুড়ে। সুশৃঙ্খল বিশ্বব্যবস্থা এবং বিশ্ব নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত তিনি মুহূর্তেই ছুড়ে ফেলছেন। গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সংবাদ মাধ্যমকেও তিনি প্রকাশ্য শত্রু বানিয়ে ফেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দেড় শ বছরের বেশি পুরনো ম্যাগাজিন দি আটলান্টিক তার অক্টোবর সংস্করণ সাজিয়েছে দেশটির সংকটাপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে। ‘দি আমেরিকান ক্রাইসিস’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে সাময়িকীটি লিখেছে, ‘গণমাধ্যমের ওপর আঘাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মধ্যে গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কি তার চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে?’
গণতন্ত্র ও এর মূল্যবোধ সংকটে পড়েছে সারা বিশ্বেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ শনিবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, ‘গণতন্ত্র চাপে পড়েছে। গণতন্ত্রই পরিবর্তনশীল বিশ্বের জন্য সমাধান।’ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে বলেছেন, ‘বিগত শতাব্দীগুলোর যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন গণতন্ত্র অপেক্ষাকৃত বেশি চাপের মধ্যে আছে। এ কারণে এই আন্তর্জাতিক দিবসে আমাদের উচিত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার সম্ভাব্য উপায় এবং যে পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জগুলো গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে সেগুলোর সমাধান খোঁজা।’
জাতিসংঘ মহাসচিব গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য মোকাবেলার তাগিদ দিয়েছেন। বিশেষ করে, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গণতন্ত্রকে আরো উদ্ভাবনী ও ইতিবাচকভাবে ক্রিয়াশীল করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে, আসুন, আমরা গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করি।’
জাতিসংঘ বলছে, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ৭০তম বার্ষিকীর এই বছরে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরার সুযোগ এনে দিয়েছে। গণতন্ত্রের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হলো মানবাধিকার। টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডায়ও ষোড়শ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য হিসেবে গণতন্ত্রকে রাখা হয়েছে। সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাজ এবং কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সংযোগের কথা বলা হয়েছে।
সারাবিশ্বে গত বছরের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ বছরের শুরুর দিকে ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) যে বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বিশ্বের মাত্র ১৯টি দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে। ‘ত্রুটিপূণর্’ গণতন্ত্র আছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশে। ৩৯টি দেশে ‘হাইব্রিড’ গণতন্ত্র এবং ৫২টি দেশে কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনব্যবস্থা আছে। ইআইইউ তার প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে গণতান্ত্রিক মান আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে।
ইআইইউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের অবস্থান ১০ ধাপ পিছিয়ে ৭৩-এ নেমেছে। যুক্তরাজ্য, কানাডায় ‘পূর্ণ’ গণতন্ত্র আর যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে ‘ত্রুটিপূণর্’ বলেছে ইআইইউ। ভারতও আছে ‘ত্রুটিপূণর্’ গণতন্ত্রের তালিকায়।
ইআইইউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশ গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ পিছিয়েছে। ১৬৫টি দেশ ও দুটি ভূখণ্ড নিয়ে গড়া তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯২তম। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ছিল ৮৪তম স্থানে।
ইআইইউ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ‘হাইব্রিড’ নামে অভিহিত করেছে। ‘হাইব্রিড’ বলতে এমন ব্যবস্থা বোঝায় যেখানে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনব্যবস্থা প্রায়ই ব্যাহত হয়। এ ছাড়া বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ, দুর্নীতি, আইনের শাসন ও নাগরিক সমাজব্যবস্থা দুর্বল।
গণতন্ত্রবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার বিচারে বাংলাদেশ আংশিক স্বাধীন। স্কোর ১০০ নম্বর হলে যেখানে পুরোপুরি স্বাধীনতা আছে বোঝায় সেখানে বাংলাদেশের স্কোর ৪০।
এদিকে গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা কমছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্মার্ট এনআই‌ডি‌তে ভু‌লের ছাড়াছ‌ড়ি!

দেশের খবর: ‘এই ঘোড়ার ডিমের কার্ড আমার কোনো কাজে আসবে না।’ ক্ষোভ ঝেড়ে এই কথাটি যিনি বলেন তাঁর নাম আলম হোসেন। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নূরনগর কলোনির বাসিন্দা। কলোনির ভোটাররা কয়েক দিন আগেই স্মার্ট কার্ড পেয়েছে এবং অনেকের কার্ডেই ধরা পড়ছে অদ্ভূতুড়ে ভুল। আলম হোসেনের কার্ডে বাবা রবিউল ইসলামের নামের আগে এসেছে ‘মোছা.’। মায়ের নাম বরকতী খাতুনের নামের আগে লেখা আছে ‘মো.’। তিনি রেগেমেগে বলেন, ‘বাবা-মায়ের নাম আবেদনপত্রে লেখার সময় কোনো সন্তান এমন ভুল করতে পারে?’ একই ক্ষোভ কলোনির রশিদারও, ‘স্মার্ট কার্ড পাব, এই খুশিতে সকাল থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কার্ড নিয়ে বাড়ি এসে দেখার পর নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছিল। আমার স্বামী মো. রেজাউল হক আমার চেয়ে ১০ বছরের বড়। কিন্তু কার্ডে এসেছে আমার স্বামী আমার চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট। তাঁর জন্ম তারিখ ৮ এপ্রিল ১৯৮৩, আমার ১ জানুয়ারি ১৯৭৮।’

সম্প্রতি দেশের যেসব জেলায়ই স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে সেখানেই দেখা যাচ্ছে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি। চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর জেলার বহু মানুষ তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছে, বলেছে ভুলের কারণে সমূহ বিপদের আশঙ্কার কথাও। এর মধ্যে এলাকা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়েছে মৌলভীবাজার সদর ও কুলাউড়ার ভোটাররা। সদরের দুই লাখ ২২ হাজার ৮৫২টি স্মার্ট কার্ডের সব কটিতেই জেলার নাম ভুল এসেছে। জন্মস্থানে (ইংরেজিতে) Moulvibazar-এর স্থলে Maulvibazar লেখা হয়েছে। প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারবাসী লেখাপড়ার জন্য তাদের সন্তানদের বিদেশ পাঠাতে কিংবা নিজেরা বিদেশ যাওয়ার সময় বিপাকে পড়বে। জামালপুর পৌরসভার পিটিআই কেন্দ্রে পাওয়া গেছে জন্মস্থান ‘পাকিস্তান’ লেখা তিনটি স্মার্ট কার্ড। নির্বাচন কর্মকর্তারা কার্ডগুলো তাঁদের তত্ত্বাবধানে রেখে দিয়েছেন। এ নিয়ে বাইরে অতটা জানাজানি না হলেও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ স্মার্ট কার্ড বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জন্মস্থান ‘পাকিস্তান’ লেখা স্মার্ট কার্ড তিনটি নিয়ে বেশ বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন।

সেই সঙ্গে দুঃসংবাদ হচ্ছে, প্রায় আট কোটি ১১ লাখ নাগরিকের এনআইডি কার্ডের (জাতীয় পরিচয়পত্র) মূল তথ্য ফরমের সন্ধান এখন পাওয়া যাচ্ছে না। এসব নাগরিক ২০০৭-২০০৮ সালে নিজেদের ছবিসহ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনী অফিসে এসব ফরম সংরক্ষিত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে উইপোকা ও ইঁদুর ফরম নষ্ট করে ফেলেছে। কোথাও পানিতে নষ্ট বা নাশকতার আগুনে পুড়ে গেছে। এ কারণে ভুল নাগরিকদের, না নির্বাচন কমিশনের তা যাচাই করার উপায় নেই।

ভুলে ভরা ওই সব এনআইডি সংশোধন করতে গেলে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীদের জানাচ্ছেন, ওই সময় তাদের পূরণ করা ২ নম্বর ফরম (এনআইডির জন্য বিশেষ ফরম) পাওয়া যাচ্ছে না। এই আট কোটি নাগরিক ছবিসহ ভোটার তালিকা করার উদ্যোগের প্রথম ধাপে তথ্য দিয়েছিল। ফরম নষ্ট হওয়ার দায়টি যদিও নাগরিকদের নয়, তবে তথ্য সংশোধন করতে হলে তাদের আড়াই শ টাকার মতো ফি দিতে হবে। তবে ২০০৮ সালের পরে যারা ভোটার হয়েছে তাদের এনআইডির ভুল সংশোধন প্রথমবারের মতো নিখরচাতেই করার সুযোগ রয়েছে।

কয়েক দিন আগে এনআইডির প্রধান কার্যালয়ে সবুজবাগ থানার পূর্ব বাসাবো এলাকার সাহানা হোসেনের এনআইডির তথ্য সংশোধনের জন্য গেলে সংশ্লিষ্টরা জানান, সাহানা হোসেন ভোটার হয়েছেন ২০০৮ সালে। এ কারণে তাঁর ২ নম্বর ফরম পাওয়া সম্ভব না। তাঁকে টাকা দিয়েই তথ্য সংশোধন করতে হবে। সাহানা হোসেনের নামের বাংলা বানান ঠিকই রয়েছে। কিন্তু ইংরেজি বানান লেখা হয়েছে সানা হোসেন। সাহানা হোসেনের মেয়ে সামিমা সাবাবী অর্পি ভোটার হয়েছেন ২০১০ সালে। তাঁর জন্ম তারিখ ২৪ নভেম্বর। কিন্তু কার্ডে ছাপা হয়েছে ১৪ নভেম্বর। নামের ইংরেজি বানানেও ভুল। এনআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সামিমা সাবাবী অর্পির সার্ভার থেকে ২ নম্বর ফরম বের করে দেখেন সেখানে কোনো ভুল নেই। ভুল হয়েছে ডাটা এন্ট্রির সময়। ওই কর্মকর্তারা জানান অর্পির কার্ডের ভুল সংশোধন নিখরচাতেই করা যাবে। এ রকম সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন অনেকেই সেখানে ভিড় করছে।

এনআইডি উইংয়ের কারিগরি কর্মকর্তাদের কাছে জানা যায়, দেশে এখন ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখের মতো। এর মধ্যে দুই কোটির কিছু বেশি ভোটারের ওই বিশেষ তথ্য ফরম থাকলেও বাকিদের ফরম সার্ভারে নেই। ২০০৮ সালের ওই সব ফরম সংগ্রহ করে পিডিএফ আকারে সার্ভারে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সব ফরম না পাওয়ার কারণে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

অবশ্য এ তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয় বলে দাবি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের। যোগাযোগ করা হলে গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ২ নম্বর ফরম পাওয়া যাচ্ছে না—এ তথ্য পুরোপুরি ঠিক নয়। যাঁরা এসব বলছেন তাঁরা ভুল বলছেন। ওই সময়ে ভোটার হওয়াদের ২ নম্বর ফরম না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য জানালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

ভুলের কারণে বিপদে: মো. জাহাঙ্গীর আলম। মেহেরপুর পৌরসভার দীঘিরপাড়া এলাকার মো. জাহান আলীর ছেলে। তিনি ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন। ছুটিতে দেশে এসে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করার পর তিনি দেখেন, যেখানে পাসপোর্ট ও জন্মসনদে তাঁর জন্ম তারিখ রয়েছে ০১-০১-১৯৮৩, স্মার্ট আইডি কার্ডে এসেছে ০৯-০১-১৯৮২। কোথায় স্বজনদের সময় দেবেন! দেশে থাকতেই জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য তিনি ধরনা দিচ্ছেন নির্বাচন অফিসে। সংশোধন না হলে পাসপোর্ট নবায়নই আটকে যাবে।

এ বছরই এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোছা. সামসুন্নাহার। বাবা মেহেরপুর সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের মো. মইনদ্দীন। স্মার্ট কার্ডে নামের ইংরেজি বানানে একটি বর্ণ বেশি আসায় ভয়ে আছেন তিনি। কারণ উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে সেই বিড়ম্বনাটি বাধা হয়ে যেতে পারে। বানান সংশোধনের জন্য তিনিও গেছেন উপজেলা নির্বাচন অফিসে।

জামালপুর পৌরসভার মো. শহীদুল্লাহর ছেলে রোকনুজ্জামান বললেন, ‘আমার বাবার স্মার্ট কার্ডে তাঁর নামের ইংরেজি বানান ভুল আসছে। আমার বাবা হজে যাবেন। পাসপোর্ট করতে গেলে তো স্মার্ট কার্ডের নামের বানানের সঙ্গে মিলবে না। তখন তো সমস্যা হবে। স্মার্ট কার্ড বিতরণকারী কর্মীদের দেখালাম। তাঁরা বললেন যে পরে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।’

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নূরনগর কলোনির রফিকুল ইসলাম একজন ছাত্র। প্রথমবারের মতো আইডি কার্ড কোথায় তাঁকে উল্লসিত করবে, উল্টো তিনি ব্যথিত ও দুঃখভারাক্রান্ত। কারণ স্মার্ট কার্ডে ভুল করে জন্ম তারিখ ২২ নভেম্বর ১৯৯৬-এর পরিবর্তে লেখা হয়েছে ২৬ নভেম্বর ১৯৯৬।

মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয় বিদ্যালয়ের সামনে ভুল স্মার্ট কার্ড হাতে হতাশ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন আনছার আলী। তিনি বলেন, জন্মসনদের সঙ্গে আমার স্মার্ট কার্ডের কোনো মিল নেই। এখন এই ভুলের মাসুল নাকি আমাকে গুনতে হবে ২৫৩ টাকা। কেন, ভুল কি আমি করেছি?’ তবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, ফরম থেকে তথ্য টাইপ করতে গিয়ে কিছু ভুল হয়েছে। তবে তা খুবই সামান্য। অনেকে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণেও ভুল হয়ে গেছে। ভুল সংশোধনের জন্য নিয়মানুযায়ী ২৩০ ও ভ্যাট ২৩ টাকা মোট ২৫৩ টাকা জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। তবে পুরুষের নামের আগে মোছা. এবং নারীর নামের আগে মো. লেখা সংশোধনের জন্য কোনো টাকা জমা দিতে হবে না।

মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের কিছু ভুল হয়ে থাকতে পারে। তবে বেশির ভাগ ভুল লক্ষ করা গেছে বিশেষ বিশেষ সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে জন্ম সনদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার, বিশেষ করে এসএসসি সনদ অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো নাম ভুল বা জন্ম তারিখ ভুল হলে এবং সে ক্ষেত্রে এসএসসি সনদ ও জন্ম সনদের সঙ্গে মিল না থাকলে সংশোধন করার সুযোগ থাকছে না।

জামালপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘সংশোধনী স্মার্ট কার্ডসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশনা আসবে। পরবর্তী সময়ে আমরা সেই অনুসারে স্মার্ট কার্ড সংশোধনের সময় নির্ধারণ করে ঘোষণা দিয়ে জানানো হবে।’ তিনি জানান, স্মার্ট কার্ডের ভুল সংশোধনের জন্য কেউ আবেদন করলে সংশোধন করা যাবে যেকোনো সময়। এ ক্ষেত্রে সার্ভারে ভোটার তথ্য সংশোধন করে তাকে একটা অস্থায়ী লেমিনেটেড করা কার্ড দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সেগুলোর তালিকা ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। সেখান থেকে স্মার্ট কার্ড হয়ে এলে তা বিতরণ করা হবে।

মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমরা সদরের সব কার্ডে জেলার নামের ইংরেজি বানানে ভুল দেখে ওপর মহলে যোগাযোগ করছি। এই ভুলে আঞ্চলিক কার্যালয়ের কোনো দায় নেই। কুলাউড়া উপজেলার কার্ডও তৈরি হয়ে গেছে বলে ভুল বানান এসেছে।’

এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, দেশের নাগরিকদের জন্য এই এনআইডি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা একটি বিশাল কাজ। এতে কিছুটা ভুল হতেই পারে। নির্বাচন কমিশন থেকে অনেকবার এই ভুল সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুযোগ থাকার পরও কেউ কেউ সংশোধন করে নেয়নি।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা ও এনআইডি প্রস্তুত হওয়ার পর অনলাইনে তা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থা ঢাকার আংশিক এলাকায় শুরু করার পরপরই নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট এনআইডি কার্ড প্রস্তুতের আগে ভুল তথ্য সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও নির্বাচন কমিশন থেকে বলে আসা হচ্ছিল। এরপর ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে সংশোধন সেবা চালু করে। তাতেও তেমন সাড়া মেলেনি। এরপর ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সংশোধনে ফি নেওয়া শুরু হয়।
জানা যায়, এরই মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলা ও গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভুল সংশোধনের জন্য আড়াই হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। কারণ চাকরির আবেদনপত্র, সুযোগ-সুবিধা থেকে শুরু করে ব্যাংক, বীমা—এমনকি ব্যাবসায়িক কাজেও মানুষকে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে ত্রুটিযুক্ত কার্ড নিয়ে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকার‌বি‌রোধীরা সংগ‌ঠিত হ‌চ্ছে; আ‌লো দেখ‌ছে বিএন‌পি

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে বিএনপিসহ সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও এসব দলের মধ্যে সবাই এখনই নির্বাচনী জোট গড়ে তুলতে যাচ্ছে না। তবে ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন আদায়ের প্রশ্নে দলগুলোর পক্ষ থেকে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে সাদৃশ্য ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে।
কর্মসূচির এ সাদৃশ্যকে ঐকমত্য হিসেবে গণ্য করে বিএনপি মনে করছে, এই ‘ঐকমত্যই’ একসময়ে রাজপথে সরব আন্দোলনে রূপ নেবে। ফলে রাজপথের সবচেয়ে বড় এই দলটির মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে নতুন করে আবার ব্যাপক হারে মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে।
বিএনপি আরো মনে করে, নির্বাচন প্রশ্নে বর্তমান সরকারের ‘নেতিবাচক উদ্দেশ্য’ও তারা বহির্বিশ্বে ঠিকমতো প্রচার করতে পেরেছে। সে কারণে বিএনপির প্রতিনিধিদলকে ডেকে দেশের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি জেনেছে জাতিসংঘও। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সময় সকালে (বাংলাদেশ সময় রাতে) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসব তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সরকার চাপের মুখে পড়বে বলে মনে করে বিএনপি ও এর মিত্ররা।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের নেতিবাচক অবস্থানের কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো একসুরে কথা বলছে। এখন সবার কমন দাবি হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক মহলও এ দেশের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’ তাঁর মতে, এটি বিএনপির আশাবাদের কারণ হতে পারে। তবে তাদের দাঁড়াতে হবে নিজের শক্তির ওপর ভর করে।
বিএনপিসহ যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত তিনটি দল (বিকল্পধারা, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য), জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া (গণফোরামসহ দু-একটি দল) এবং আটটি দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঘোষিত কর্মসূচি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোটা দাগে তাদের সবার মূল দাবিগুলো প্রায় একই এবং তা বিএনপির দাবির কাছাকাছি।
সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি যেসব দাবি তুলছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সরকারের পদত্যাগ তথা সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইভিএম বাতিল। প্রায় এই একই রকম পাঁচটি দাবি ও ৯ দফা লক্ষ্য নিয়ে আজ শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যৌথ ঘোষণা দেবে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির ১৫ দফা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে সাম্প্রতিককালে সিপিবি-বাসদ ও গণসংহতি আন্দোলনসহ বামপন্থী আটটি দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের কর্মসূচিও প্রায় একই রকম। নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তি বন্ধ করাসহ আরো কিছু দাবি বামপন্থী দলগুলোর কর্মসূচিতে থাকলেও নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি ও ‘উদারপন্থী’ (যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া) দলগুলোর উত্থাপিত দাবির সঙ্গে কোনো অমিল নেই। তবে বিএনপির ১৫ দফায় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অন্য দলগুলোর কর্মসূচিতে তা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার বিষয়ে ‘উদারপন্থী’ দলগুলোর কর্মসূচির সঙ্গে মিল রয়েছে বিএনপির ১৫ দফার।
রাজনৈতিক সংকট উত্তোরণে গত বৃহস্পতিবার গণসংহতি আন্দোলন যে নতুন জাতীয় সনদ ও অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে তাতেও এসব দাবির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে রেখে ঐকমত্যের সরকার হবে না। এ ছাড়া আগামী তিনটি নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধাপরাধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলার কথাও বলা হয়েছে গণসংহতির প্রস্তাবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন এবং সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি মুহাম্মদ রেজাউল করীম। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সংকট উত্তোরণ করা না গেলে বিশ্বের অনেক সংঘাতপূর্ণ দেশের মতো বাংলাদেশেও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবাই এক জায়গায় আসার চেষ্টা করছি, দেখা যাক কী হয়!’ তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ের প্রশ্নে বিভিন্ন দলের ঘোষিত কর্মসূচিতে অনেক মিল রয়েছে। কিন্তু এটি বৃহত্তর ঐক্যের জায়গায় নিয়ে যাবে কি না তা পরিস্থিতি বলে দেবে।
এ প্রসঙ্গে যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে ঐক্য হওয়ায় আমরা আশাবাদী হয়ে উঠেছি। আশা করছি এই ঐক্যই বৃহত্তর ঐক্যের সিঁড়ি তৈরি করবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়টি পরের আলোচনা। কিন্তু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায়ের আন্দোলনে সবাইকে দরকার। আর বিষয়টি সবাই উপলব্ধি করেছেন বলেও মনে হয়।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির মতে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এ মুহূর্তে দেশের বেশির ভাগ দল ও মানুষের দাবি বলেই জনমত সংগঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ দাবির কথা ২০১৪ সাল থেকে আমরা বলে আসছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী জোট একটি ইস্যু, কিন্তু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দাবিদাওয়া ভিন্ন ইস্যু। আমরা এখন সকলে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আন্দোলন করছি। ফলে সব দলের ভাষা তো এক হবেই।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আসলে সরকারের বিরুদ্ধে নয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের ইস্যুতে সবাই যে যার অবস্থান থেকে মাঠে নেমেছে। এতে মনে হচ্ছে সবাই সংগঠিত হচ্ছে।’ তাঁর মতে, বিএনপির সঙ্গে ঐকমত্য বড় কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, এখন যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে সেটি কেউ মানতে রাজি নয়। নির্বাচন প্রশ্নে তাই কতগুলো কমন ইস্যু সামনে এসেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘জান্নাত’ সাতক্ষীরায় ধর্মীয় রাজনী‌তির শিকার হওয়ায় বি‌স্মিত নায়ক সাইমন

বিনোদনের খবর: একজন মুসলিম হিসেবে সবার আগে আমার ধর্ম, একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সবার আগে আমার রাষ্ট্র। ছোটবেলা থেকে যারা আমাকে কাছ থেকে চেনে জানে তারা অন্তত জানে, আমার নিজস্ব ধর্মীয় অনুভূতি কতটা প্রকট। সিনেমায় অভিনয় করি বলেও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে কখনওই পিছপা হইনি, হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
আমি বিশ্বাস করি, ধর্ম হল মনে, ধর্মীয় কর্তব্য পালনে। লোক দেখানো কোনো কিছুতে নয়। আর নাগরিক হিসেবে নাগরিকের দায়বদ্ধতা থেকে দেশের জন্য নাগরিক কর্তব্য পালন করা আমার দায়িত্ব, আমার অধিকার। সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতটুকু পেরেছি বা পারছি জানিনা, তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ‘জান্নাত’ সিনেমাতেও চুক্তিবদ্ধ হই, অভিনয় করি।
জান্নাত সিনেমাতে আমার জানামতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার মতো কিছুই করা হয়নি। কারণ আমি মানি মুসলিম হিসেবে আমার ইসলাম ধর্মই শ্রেষ্ঠ। আঘাত লাগার মতো সেরকম কিছু হলে সবার আগে আমার অনুভূতিকেই নাড়া দিতো। যাক, ঈদের দিন থেকে ‘জান্নাত’ সাফল্যের চতুর্থ সপ্তাহে এসেও দেশের কোথাও কোনো মানুষ ‘জান্নাত’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার কথাও কেউ বলেনি। সেখানে আজকে সাতক্ষীরায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার অজুহাতে প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় ‘অনুভূতি রক্ষার মশালধারী কর্তাব্যক্তিরা’।
অথচ সেন্সরবোর্ড বিনা কর্তনে ছাড়পত্র দিয়েছিল ‘জান্নাত’ কে। যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার মতো কিছু থাকতো তাহলে নিশ্চয়ই সেন্সরবোর্ড ছাড়পত্র না দিয়ে আটকে দিতো। আজ কষ্ট হচ্ছে এই ভেবে যে, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রবল অনুভূতি ও দায়বদ্ধতা থাকার পরও আমার, আমাদের জান্নাত কিনা অবশেষে ধর্মীয় রাজনীতির শিকার হল। যাক, আল্লাহ্‌ একমাত্র মালিক, তিনিই সবকিছু ভালো জানেন। শুধু একটু বলবো-আল্লাহ্‌ যেন উনাদের প্রকৃত ধর্মজ্ঞানে হেদায়েত দান করেন। আমিন…..।
(অভিনেতার ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যে দে‌শে ৭০ হাজার শতবর্ষী মানুষ আ‌ছে

অনলাইন ডেস্ক: সেঞ্চুরি শব্দটা বললেই একটা দারুণ কিছু বলে মনে হয়। কখনো ক্রীড়াক্ষেত্রে, কখনও সম্মানের ক্ষেত্রে সেঞ্চুরির মানই আলাদা। আর যখন কোনও মানুষ শতবর্ষে পৌঁছান তাকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে পৌঁছায়।
তবে আমার বা আপনার পরিচিত সার্কেলে কটাই বা মানুষ আছে যারা সেঞ্চুরি পেরিয়েছেন।
জাপানে কতজন শতবর্ষ পার করা মানুষ আছেন জানেন? এই মাসে সেই সংখ্যা পৌঁছাল ৬৯,৭৮৫ তে। যা একটি রেকর্ড। এই সেঞ্চুরি করা মানুষদের মধ্যে ৮৮.১ শতাংশ নারী। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতির জন্য এই ঘটনা সম্ভব হয়েছে।
গত দু’দশকের চেয়ে ২০১৪ জন বেড়েছে এক বছরে। যা সাতগুণ বেড়ে গেছে এক ধাক্কায়। এই জনসংখ্যায় ৬১, ৪৫৪ জন নারী কিন্তু পুরুষ মাত্র ৮,৩৩১। এরমধ্যে রয়েছেন জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুহিরো নাকাসোনে। তিনি মে মাসে ১০০ বছর হয়েছেন।
১৯৭১ থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই ট্রেন্ড চলছেই। জাপান সরকার আশা করছে এই ধারা জারি থাকবে।
আগামী পাঁচ বছরে এই সংখ্যা বেড়ে এক লাখ হবে এবং ১২ বছরে সেটা হবে এক লাখ ৭০ হাজার।
ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চ এই তথ্য জানিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিলিস্তিনির ৩ কিশোরকে গুলি করে হত্যা

বিদেশের খবর: গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনির ৩ শিশু-কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করার সময় দখলদার সেনাদের হাতে শহীদ হয় ওই তিন ফিলিস্তিনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার জাবালিয়া শহরে ১২ বছর বয়সী শিশু শাদি আব্দুল আজিজ মাহমুদ আব্দুলাল শহীদ হয়েছে। তার মাথায় গুলি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা আরও জানিয়েছেন, আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে বিক্ষোভ করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন ২১ বছর বয়সী মোহাম্মাদ শাকুরা। এছাড়া রাফায় শহীদ হয়েছেন ২১ বছর বয়সী হানি রামজি আফানা। এছাড়া বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকটি শিশুও রয়েছে।
গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূমি ফিরে পেতে নতুনকরে আন্দোলন গড়ে তুলেছে। প্রতি শুক্রবার বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে যায়। ৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভের সময় শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৯ হাজার ফিলিস্তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিশুর বুদ্ধি বিকাশে সহায়ক খাবার

স্বাস্থ্য কণিকা: পৃথিবীতে সন্তানকে নিয়ে যারা সব চেয়ে বেশি চিন্তা করেন, তারা হলেন বাবা-মা। বাবা-মার এ চিন্তা লেগে থাকে কীভাবে তার শিশুর মেধা ও বিকাশ বৃদ্ধি হবে। শিশুর কিছু নিয়মিত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার দৈহিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে থাকে। তবে এটাও ঠিক, সব খাবারে একই পুষ্টিগুণ থাকে না, এমন কিছু খাবার আছে যার মধ্যে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ বিদ্যমান।
যা শিশুর মস্তিষ্ক সক্রিয় ও সতেজ রাখে। মস্তিষ্ক সক্রিয় এবং সতেজ থাকলে শিশুর মেধা ও বুদ্ধি বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। যেহেতু শিশুদের বেড়ে ওঠায় কিছু খাবার অনেক বেশি ভূমিকা রাখে; সেহেতু আমাদের মনে রাখতে হবে সেই খাবারগুলো শিশুদের যাতে বেশি করে দেয়া যায়।
এ বিষয়ও দেখতে হবে যে ছোট বাচ্চাদের পাকস্থলি ছোট থাকে তাই তাদের পেট অল্পতেই ভরে যায়। এক্ষেত্রে আপনাকে চেষ্টা করতে হবে অল্প পরিমাণ খাদ্য দিয়ে কীভাবে বেশি করে পুষ্টি দিতে পারেন। পনির প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি দুধজাতীয় খাবার। এতে আছে প্রচুর আমিষ এবং ক্যালসিয়াম, যা সুস্থ হাড় ও দাঁতের জন্য আবশ্যক।
একই সঙ্গে পনির মুখের ভেতর যে অ্যাসিড দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী, সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। সুতরাং এ খাবার শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্ক মানবদেহের অন্যান্য অংশের বিকাশ ও সঠিক পরিচালনা অনেকাংশেই নির্ভর করে। শিশুকালেই এ অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির উপযুক্ত বিকাশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জেনে নেই মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে সন্তানকে কোন খাবারগুলো খেতে দেয়া বেশি দরকার।

মায়ের দুধ: শিশুকে অন্তত ছয় মাস বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। কারণ মায়ের দুধ পান করলে শিশুর বুদ্ধিমত্তা বাড়ে। ব্রাজিলের একদল গবেষক সাড়ে ৩ হাজার শিশুর ওপর দীর্ঘদিন নজর রাখার পর এ সিদ্ধান্তে আসেন।

শাকসবজি: কিছু কিছু শাকসবজিও রয়েছে যেগুলো শিশুর মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। পাতাকপি ও পালংশাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন কে এবং বিটা ক্যারোটিন। যা শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। পুষ্টিগুণে গুণান্বিত টমেটো। এটি মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রতিদিন শিশুকে সালাদে নানাভাবে টমেটো খাওয়াতে চেষ্টা করুন।

ডিম: ডিম খাওয়া নিয়ে প্রায় শিশুদেরই অনীহা থাকে। অনীহা থাকলেও শিশুকে প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাওয়াতে চেষ্টা করুন। গবেষণায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খায় তাদের স্মৃতিশক্তি অন্যদের তুলনায় অন্তত ৭০ ভাগ বেশি ভালো থাকে। ডিমে রয়েছে প্রচুর আয়রন। যা লোহিত কণিকা তৈরি করে রক্তের উপাদানে সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ হয়। যা চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।

সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সামুদ্রিক মাছ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। মস্তিষ্কে থাকা ফ্যাটি এসিডের ৪০ ভাগ হচ্ছে ডিএইচএ, যা সামুদ্রিক ও মাছের তেলে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হিসেবে। এ ধরনের যৌগিক উপাদান অন্য খাবারে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই শিশুর বয়স এবং দেহের গঠন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন খাওয়াতে চেষ্টা করুন।

কলা: কলা এমন একটি ফল, যাতে আছে প্রচুর পরিমাণে বলকারক কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। সকালে নাস্তার কিছু সময় পর হালকা স্ন্যাক হিসেবে একটি কলা খেলে আপনার বাচ্চাটি সকালজুড়েই তার শক্তি ধরে রাখতে পারবে। ফলে যে কোনো কাজে তার মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতাও বাড়বে। তাই টুকিটাকি স্ন্যাক হিসেবে সন্তানের ব্যাগে চিপস বা বিস্কিটের প্যাকেটের বদলে একটি কলা দিয়ে দিন।

শুকনো ফল: যেসব ফল শুকিয়ে রাখা যায় সেগুলোতে থাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। এগুলো হল ব্যাপক শক্তির উৎস। তাই শিশুদের শুকনো ফল খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। তাহলে শিশুর মেধা বিকাশে অনেক প্রসারতা লাভ করবে। মায়েদের উচিত চকলেট খেতে না দিয়ে শুকনা ফল দেয়ার অভ্যাস করানো। এতে শিশুর দাঁতও ভালো থাকবে।

পনির: ফ্যাট কম, ফাইবার বেশি এ ধরনের খাদ্য গ্রহণের গাইডলাইন বড়দের জন্য, ছোটদের জন্য নয়। শিশুদের বর্ধিষ্ণু দেহের জন্য দরকার তুলনামূলক বেশি ফ্যাট ও কম শর্করা। এতে তারা দেহে বেশি শক্তি পায় এবং বিভিন্ন কাজ অনেক ভালোভাবে করতে পারে।

বাদাম: শিশুকে প্রতিদিনই কয়েকটি করে বাদাম খেতে দিন। কারণ বাদামে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’ যা মস্তিষ্কের সমন্বয় সাধনের ক্ষমতা বাড়ায়। কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম, চীনাবাদামসহ যে কোনো ধরনের বাদামই শিশুর মানসিক বৃদ্ধিতে সহায়ক।

কালোজাম: কালোজামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা ক্ষতির হাত থেকে হার্ট ও মস্তিষ্ককে বাঁচায়। একই সঙ্গে হার্টে রক্ত সঞ্চালনও বাড়িয়ে দেয় এ ফলটি। তাই শিশুর প্রতিদিন ১-২টা করে কালোজাম খেতে দিতে চেষ্টা করবেন।

লাল আপেল: আপেলের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। এছাড়া এতে রয়েছে এমন উপাদান যা মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করার পাশাপাশি হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়। আপেল অনেক শিশু খেতে ভালোবাসে, তাই শিশুকে আপেল খেতে দেবেন বেশি করে।

কুমড়ার বীজ: কুমড়া যেমন উপকারী তেমনই এর বীজে রয়েছে নানা খনিজ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করে তোলে। সুতরাং কুমড়ার বীজ না ফেলে দিয়ে শিশুকে ভেজে দিতে চেষ্টা করবেন।

মধু: স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উপকারিতায় কোনো খাবার সম্ভবত মধুকে টেক্কা দিতে পারবে না। সব রোগের নিরাময় করতে মধু প্রয়োজন হয়। এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি। হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্যও মধু একই রকম প্রয়োজনীয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এশিয়া কাপের সময়সূচি

এশিয়া কাপের সময়সূচি

কর্তৃক daily satkhira

খেলার খবর: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপের পর্দা উঠবে শনিবার। উদ্বোধনী ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ছয় দেশকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে হবে এবারের আয়োজন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ২০১৬ সালে এশিয়া সেরার আসর হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই আসর এবার ফিরছে ওয়ানডে ফরম্যাটে। এই টুর্নামেন্টে দেখা যাবে ব্যাট-বলের দুর্দান্ত সব যুদ্ধ। ফেবারিটদের তালিকায় সবার উপরে আছে ভারত আর পাকিস্তানের নাম। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেমন উন্নতি করেছে, তাতে টাইগারদেরও শিরোপার দাবিদার বলছেন অনেকেই।
দুই বছর পর হতে চলা এবারের আসরের ছয় দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ভারত এবং পাকিস্তান আছে একই গ্রুপে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে হংকং। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’তে আছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তান।
ইউএইর’ দুটি কেন্দ্র আবুধাবি ও দুবাইয়ে হবে ম্যাচগুলো। দুটি গ্রুপ থেকে দুটি করে চারটি দল সুপার ফোরে উঠবে, দুটি দল বিদায় নেবে। সুপার ফোরে চারটি দল একে অপরের সঙ্গে খেলবে।

এশিয়া কাপের সময়সূচি

গ্রুপ পর্ব
১৫ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (দুবাই)
১৬ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তান বনাম হংকং (দুবাই)
১৭ সেপ্টেম্বর – শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)
১৮ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম হংকং (দুবাই)
১৯ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম পাকিস্তান (দুবাই)
২০ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)

সুপার ফোর
২১ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ এ বিজয়ী বনাম গ্রুপ বি রানার আপ (দুবাই)
২১ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ বি বিজয়ী বনাম গ্রুপ এ রানার আপ (আবুধাবি)
২৩ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ এ বিজয়ী বনাম গ্রুপ এ রানার আপ (দুবাই)
২৩ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ বি বিজয়ী বনাম গ্রুপ বি রানার আপ (আবুধাবি)
২৫ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ এ বিজয়ী বনাম গ্রুপ বি বিজয়ী (দুবাই)
২৬ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ এ রানার আপ বনাম গ্রুপ বি রানার আপ (আবুধাবি)

ফাইনাল
২৮ সেপ্টেম্বর – ফাইনাল (দুবাই)

(সব কটি ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু) ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest