সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

দুদকের মামলায় সাবেক ইউএনও’র ৮ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক: জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদকে ৮ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮৮ টাকার সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামুনুর রশীদ উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের দু’টি ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্থ করে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি মীর আহম্মেদ আলী সালাম ও দুদকের কোর্ট পরিদর্শক আশিকুর রহমান।
দুর্নীতি দমন আইনের ২০০৪ সালের আইনের ২৬ (২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। দুই ধারায় শাস্তি পৃথকভাবে চলবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।
২০০৮ সালের ৩ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন মামুনুর রশিদকে তার নিজের নামে ও পরিবারের নামে থাকা সম্পত্তির হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেয়। তিনি নিজের নামে ও পরিবারে নামে ৪১ লাখ ৫৭ হাার ৬১৩ টাকার সম্পত্তির হিসাব প্রদর্শন করেন। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়,সম্পদ বিবরণীতে তিনি ১১ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৭৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। এ ঘটনায় ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক হেলাল উদ্দিন শরীফ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশ হতে চাই: সৌদি যুবরাজ

অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরব বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশ হতে চায় বলে জানিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রিয়াদের রাজকীয় প্রসাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ দেশটির উপ প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার সময় উড়োজাহাজে এই বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্র সচিব।
শহীদুল হক বলেন, ‘অত্যন্ত উষ্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ’ পরিবেশে আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা ও মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
“মোহাম্মদ বৈঠকে বলেন যে, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে জানেন। বাংলাদেশে এখন অনেক কিছু ঘটছে। ক্রাউন প্রিন্স বলেন, ‘বাংলাদেশের এই উন্নয়নের অংশ হতে চাই’।”
সৌদি যুবরাজ বাংলাদেশে সৌদি প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর নির্দেশ দেন বলেও পররাষ্ট্র সচিব জানান।

যুবরাজ এসময় বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কোন খাতে বিনিয়োগ করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সৌদি আরব বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করছে, বাংলাদেশেও করবে।
প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে মোহাম্মদ বলেন, এই সহযোগিতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলতে থাকবে।
শহীদুল হক বলেন, “মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার কথা বলেছেন। এটা খুবই পরিস্কার।

“সৌদি আরবের বড় বিনিয়োগ হবে বলে আশা করি।”
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ তা গ্রহণ করেন বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।
প্রধানমন্ত্রী ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি না করে সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার।
এই প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বলেন, “আমরাও চাই সবাই মিলে শান্তিতে থাকুক।”
বৈঠকের প্রাণবন্ত পরিবেশের কথা তুলে ধরে শহীদুল হক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সাল থেকে ছয়বার সৌদি আরব সফরের কথা উল্লেখ করলে যুবরাজ বলেন, ‘তাহলে আপনি অর্ধেক সৌদি’।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, আইসিটি সচিব জুয়েনা আজিজ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব রৌনক জাহান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে রিয়াদের রাজপ্রাসাদে শেখ হাসিনার সঙ্গে বাদশাহ সালমানের বৈঠক হয়। পরে তারা মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন। সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে মঙ্গলবার সৌদি আরব পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার তিনি মক্কায় ওমরাহ পালন করবেন। সফর শেষে শুক্রবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অনশনরত ঢাবি শিক্ষার্থী হাসপাতালে, বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তিন দিন ধরে অনশন চালিয়ে আসা শিক্ষার্থী আকতার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে ‘ফাঁস হওয়া’ প্রশ্নে নেওয়া ওই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল এবং ফের পরীক্ষা নেওয়াসহ চার দফা দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কয়েকশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ায় কার্যালয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
তাদের চার দফা দাবি হল- ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিল, পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, বিগত বছরগুলোতে ‘জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে’ ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা।
সরকার সমর্থক ছাত্রলীগও প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ‘যাচাই বাছাই সাপেক্ষে’ পুনরায় পরীক্ষা নেওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া এখনও মেলেনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনরত আইন বিভাগের ছাত্র আকতারকে দেখতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক রহমত উল্লাহ ও ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন। আকতারের দাবিকে ‘স্বাগত জানিয়ে’ প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এরপর অন্যদের নিয়ে তিনি আকতারকে ডাবের পানি খেয়ে অনশন ভাঙার অনুরোধ করতে থাকনে। আকতার তাতে রাজি না হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যান৷ এক পর্যায়ে আকতার হাত পা ছোড়াছুড়ি আর চিৎকার শুরু করেন৷ তখন কয়েকজন মিলে ধরাধরি করে হাত থেকে স্যালাইনের ক্যানেলা খুলে তাকে রিকশায় তোলেন।
রিকশায় তোলার পরও আকতার চিৎকার করতে থাকেন। ওই অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। প্রক্টর এবং অন্য শিক্ষকরাও তার সঙ্গে যান।
এর আগে বেলা সোয়া ১টার দিকে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন এ বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান জানিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন। সেখানে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

১. যাচাই বাছাই সাপেক্ষে পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া অথবা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে স্পষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আসা।

২. ডিজিটাল জালিয়াতি বা প্রশ্নফাঁস বা যে কোন ধরনের অসদুপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

৩. স্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা অসদুপায়ের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

৪. আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত ভর্তি পরীক্ষার স্বার্থে শিক্ষাবিদ, সিনেট, সিন্ডিকেট, অংশীজন এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পলিসি ডিবেটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার করা।

গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরুর পৌনে এক ঘণ্টা আগে হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের ১৪টি ছবি এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে আসে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও গত মঙ্গলবার ফল প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায় ‘ঘ’ ইউনিটের প্রথম ১০০ জনের তালিকায় থাকা অন্তত ৭০ জন ভর্তিচ্ছু অন্য ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণই হতে পারেননি।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আকতার হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন। তার অবস্থার অবনতি হলে সেখানেই তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়।
সূর্যের তাপ থেকে আকতারকে বাঁচাতে সহপাঠীরা বৃহস্পতিবার সেখানে শামিয়ানা টানিয়ে দেন। তার শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করে ফলাফল বাতিলসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
এরপর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। কর্তৃপক্ষ তখন কার্যালয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কোটা আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কয়েকশ শিক্ষার্থী বেলা ১২টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আসে।
সেখান থেকে ‘প্রশ্নফাঁস প্রশ্নফাঁস, মেধাবীদের গলায় ফাঁস’ স্লোগান তুলে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশে মিলিত হন।
ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসনের ছাত্র বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “যদি আজকের মধ্যে এই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল না করা হয় তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব। কেন, কেন, কেন প্রতিটি নায্য দাবি নিয়ে ছাত্র সমাজকে মাঠে নামতে হয়? ধিক্কার জানাই আপনাদের এই নির্লজ্জতাকে। আমরা চাই, আপনাদের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হোক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান একটি কনফারেন্সে যোগ দিতে তুরষ্কে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খাশোগির এক হত্যাকারী গাড়িচাপায় নিহত

বিদেশের খবর: সাংবাদিক জামাল খাশোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে নিখোঁজের ঘটনায় সম্পৃক্ত এক ঘাতককে গাড়িচাপায় হত্যা করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে তুর্কি দৈনিক ইয়ানি শাফাক।

খাশোগিকে হত্যার জন্য সৌদি আরব থেকে ১৫ সদস্যের যে দলটি তুরস্কে গিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম সদস্য ছিলেন মাল আল সাদ আল বাসতানি। তিনি সৌদি বিমানবাহিনীর লেফট্যানেন্ট।

ইয়ানি শাফাকের খবরে বলা হয়েছে, সাজানো সড়ক দুর্ঘটনায় মাল আল সাদ আল বাসতানিকে হত্যার মাধ্যমে খাশোগি হত্যার তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।

এছাড়া ঘাতক টিমের অন্য ১৪ সদস্যের মুখ চিরতরে বন্ধ রাখতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পত্রিকাটি মন্তব্য করেছে।

পত্রিকাটি বলছে, গত ২ অক্টোবর বিশেষ বিমানে করে যে ১৫ জন ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে ইস্তাম্বুলে এসেছিলেন তাদের মধ্যে সাদ আল বাসতানিও ছিলেন।

বাসতানি সেদিন কনস্যুলেট ভবনে না গিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ইস্তাম্বুলের উইন্ডহাম গ্র্যান্ড হোটেলে অবস্থান করেন এবং হোটেল থেকে বের হয়েই তুরস্ক ত্যাগ করেন। ১৫ সদস্যের ঘাতক টিমে তার দায়িত্ব কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমাদের সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে পারবো না: জেমস

শিল্প ও সংস্কৃতির খবর: কনসার্টে অংশ নিতে এখন বরগুনায় অবস্থান করছেন জেমস। আইয়ুব বাচ্চু আর নেই—সেখানেই খবরটা পান তিনি। বন্ধ করে দেন অনুষ্ঠানের সাউন্ডচেক আর প্র্যাকটিস পর্ব। বিমর্ষ হয়ে পড়েন। ঘটে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ- জানান তার মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন।

স্বাভাবিক, কারণ বাংলাদেশে রক ইতিহাসের দ্বৈরথ বলা হয় আইয়ুব বাচ্চু-জেমসকে। প্রায় তিন দশক তারা দুজনে মিলে শাসন করেছেন দুই বাংলার রক কিংবা ব্যান্ড সংগীত। দুজনার শুরুটাও চট্টগ্রাম থেকেই। চার দশকে একসঙ্গে অসংখ্য শো আর অ্যালবাম করেছেন তারা।
বরগুনা থেকে মুঠোফোনে জেমস বলেন, ‘তিনি বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে আমাদের পরিচয়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর আমরা একে অপরের সুখে-দুঃখে মানে-অভিমানে কাটিয়েছি। একসঙ্গে প্রচুর শো করেছি, গান করেছি, দেশ-বিদেশে ঘুরেছি। উনি অকস্মাৎ এভাবে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন, খবরটা শুনে মানতে পারছি না। রক সংগীতে তার যে অবদান সেটা এই জাতি চিরদিন মনে রাখবে বলেই বিশ্বাস করি।’
একটু থেমে আর্দ্রকণ্ঠে জেমস বলেন, ‘উনি অত্যন্ত উদার মনের মানুষ ছিলেন। প্রচণ্ড রসাত্মবোধ ছিল তার মধ্যে। ওনার সাথে আমার যে সম্পর্কটা সেটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে আমরা একজন আরেকজনের পাশে ছিলাম। সম্পর্কের এই গভীরতার কথা কখনও বোঝাতে পারবো না। কেউ হয়তো জানবেও না আমাদের হৃদয়ে একে অপরের জন্য কতটা জায়গা।’
এ পর্যায়ে মাহফুজ আনাম জেমসের প্রতি জিজ্ঞাসা ছিল, মিডিয়ায় কিন্তু আপনাদের দুজনকে প্রতিযোগী হিসেবেই দেখে আসছে সবসময়। জবাবে জেমস বললেন, ‘মিডিয়া আমাদের সম্পর্কের বিচার কীভাবে করছে সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তবে আমি মনে করি আমাদের মধ্যে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল। এটা ভালো গান তৈরির প্রতিযোগিতা। এখানে ব্যক্তিগত কোনও জেলাসি ছিল না। আপনারা হয়তো অনেকেই দেখেছেন, আমাদের যখন যেখানে দেখা হয়েছে চারপাশ অগ্রাহ্য করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছি পরম ভালোবাসায়। আড্ডায় মেতেছি। এসব টান কিংবা হিডেন সম্পর্কের বিষয়গুলো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। করতেও চাই না।’
এরপর জেমস বললেন, ‘আমি এখন বরগুনা আছি। এটা আমার জন্য দুর্ভাগ্যজনক। ঢাকায় থাকলে ছুটে যেতে পারতাম। বরগুনা স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যায় একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গাইতে হচ্ছে। আমি খবরটি পেয়েই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের (আসাদুজ্জামান নূর) সঙ্গে কথা বলেছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজকের কনসার্টটি উনাকে (আইয়ুব বাচ্চু) ডেডিকেটেড করে করবো। কতটা প্রাণখুলে গাইতে পারবো জানি না।’আজ, ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাক করেন গিটার লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু। তড়িঘড়ি তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। এর প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এটাই দেশে প্রথম ডাবল অ্যালবাম। এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ ও ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২) এবং সর্বশেষ ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)।
১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ হলো তার প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। তার সাফল্যের শুরুটা হয় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’র (১৯৮৮) মাধ্যমে। ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। এর প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো। তার অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।
আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘চলো বদলে যাই’। এর কথা ও সুর তারই। শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকায় আরও রয়েছে ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’ ইত্যাদি।

রক ঘরানার গানের এই শিল্পী আধুনিক আর লোকগীতিতেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘লুটতরাজ’ ছবির ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’। এছাড়া ‘আম্মাজান’ ছবির শিরোনাম গানটিও পেয়েছে আকাশছুঁই জনপ্রিয়তা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নায়ক মান্নার অনুরোধেই সিনেমায় এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু

বিনোদনের খবর: ‘চলচ্চিত্রে আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে এসেছিলেন নায়ক মান্না। একরকম জোর করেই। মান্নার একান্ত আগ্রহেই বাচ্চুর মতো একটি চমৎকার কণ্ঠ আমাদের সিনেমায় এসেছে। অনেক অনুরোধের পর বাচ্চু প্লেব্যাক করতে রাজি হয়েছিলো। সে গেয়েছিলো এবং ইতিহাস করে দিয়ে গেল। তার বেশ কিছু গান চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেরা জনপ্রিয়তার তালিকার শীর্ষে বলে আমি মনে করি।’ আইয়ুব বাচ্চুর চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেয়ার গল্প শোনাতে গিয়ে এমনটাই জানালেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা কাজী হায়াত। আজ দুপুরে এই নির্মাতা এসব কথা বলেন।
আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর শোক ছুঁয়ে গেছে তাকেও। তিনি বলেন, ‘এভাবে চলে যাওয়ার মতো বয়স বাচ্চুর ছিলো না। আসলে মৃত্যু যে কোনো সিরিয়াল মানে না, বয়স মানে না এটাই সত্যি।’
বাচ্চুর সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন ‘লুটতরাজ’ সিনেমাটি বানাচ্ছি তখন একটা চমক খুঁজছিলাম। হঠাৎ মান্না বললো কাজী ভাই, আইয়ুব বাচ্চুর একটি গান ছবিতে থাকলে কেমন হয়। আমি বললাম খুবই ভালো হয়। তরুণদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় আইয়ুব বাচ্চু। কিন্তু সে কী সিনেমায় গাইবে? ব্যান্ডের তারকারা সচরাচর সিনেমায় গাইতে চান না। মান্না বললো, আগে কথা বলে দেখেন কী বলেন উনি।
পরে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সঙ্গে আমি আলাপ করলাম। তিনি শুনেই না করে দিলেন। বললেন বাচ্চু সিনেমায় গাইবে না কিছুতেই। আমি মান্নাকে জানিয়ে দিলাম যে হবে না। শুনে মান্না বললো, কাজী ভাই হবে। টেনশন কইরেন না আমি দেখতেছি ব্যাপারটা।’
‘আম্মাজান’খ্যাত এই নির্মাতা আরও বলেন, ‘কেমন করে কী করলো জানি না। দুদিন পর মান্না এসে বলে বাচ্চু ভাই রাজি। উনি ‘লুটতরাজ’ ছবিতে গাইবেন। আমি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে জানালাম বিষয়টা। শুনে বুলবুল পাত্তা দিলো না। হাসলো আর বললো আমি বিশ্বাস করি না বাচ্চু গাইবে। মান্না তখন নিজে টেলিফোন করে আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে কথা বলিয়ে দিলো। বাচ্চু নিজে জানালো যে ‘বুলবুল ভাই গান লেখেন আমার জন্য। গাইবো আমি।’ পরে মান্না জানিয়েছিলো, তার অনেক অনুরোধে রাজি হয়েছিলো বাচ্চু।’
এরপর আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর ও সংগীতে তৈরি হয় ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ গানটি। আইয়ুব বাচ্চুর গানের ধরন মাথায় রেখেই গানটি লিখেছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। তার সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন কনকচাঁপাও।
‘অবশেষে গানে কণ্ঠ দিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সেই গান রাতারাতি পৌঁছে গেল সারাদেশের মানুষের কাছে। হাটে ঘাঠে মাঠে ময়দানে বেজেছে ‘অনন্ত প্রেম’। কিন্তু কে জানতো তার সঙ্গে আমার আরও একটি ঐতিহাসিক গানের অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।’- বললেন কাজী হায়াত।
তিনি বলেন, ‘লুটতরাজ ছবিতে জনপ্রিয়তার পর বাচ্চুর সিনেমার গানের প্রতি ভালো লাগা জন্মায়। সে বুঝতে পেরেছিলো সিনেমার মাধ্যমে খুব সহজেই ‘মাস পিপল’র কাছে পৌঁছানো যায়। আমি আর মান্নার সঙ্গে ওর একটা জুটি গড়ে উঠেছিলো পরবর্তীতে। সে আমাদের তেজি, কষ্টসহ আরও কিছু ছবিতে গেয়েছিলো। কিন্তু ‘আম্মাজান’ ছবিতে ‘আম্মাজান’ গানটি গেয়ে নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছিলো সে। তার এই গান বাংলাদেশের বাইরেও ঝড় তুলেছিলো বাংলার ভাষার শ্রোতা ও সিনেমার দর্শকদের মনে। এই ছবির ‘স্বামী আর স্ত্রী বানাইছে কোন মিস্তিরি’ গানটিও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো।’
এরপর আরও অনেক সিনেমাতেই কণ্ঠ দিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। পেয়েছেন জনপ্রিয়তাও। তবে চলচ্চিত্রে আইয়ুব বাচ্চুর সাফল্যের নৈপথ্য নায়ক হিসেবে বাংলা সিনেমার ‘সুপারস্টার’ মান্নাকেই ভাবা হয়। তার অনুরোধ রাখতেই সিনেমায় প্লেব্যাক করতে এসেছিলেন বাচ্চু, আর গানে গানে এই আঙিনায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সৌদি কনস্যুলেটে জ্যান্ত জবাই করা হয় খাসোগিকে

বিদেশের খবর: ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই আটকে ফেলা হয় সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে। নির্যাতনের পর একটি টেবিলের ওপর নিয়ে তাকে জ্যান্ত জবাই করা হয়।

এরপর হাড় কাটা করাতে টুকরো টুকরো করা হয়। সাত মিনিটের মধ্যেই শেষ হয় খাসোগি হত্যাযজ্ঞ। মৃত্যু চিৎকার যেন কানে না আসে সেজন্য সচেতনভাবেই কানে হেডফোন লাগিয়ে নেয় হত্যাকারীরা।

খাসোগির জীবনের বর্বর এই শেষ মুহূর্তগুলোই রেকর্ড হয় তারই হাতঘড়ি অ্যাপল ওয়াচে। কয়েকদিন আগেই এই অডিও রেকর্ডিং হাতে পান তুর্কি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বেনামি কয়েকটি সূত্রের উল্লেখ করে বুধবার মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

হত্যার কয়েকদিন পর থেকেই হত্যার একটি অডিও রেকর্ড পাওয়ার দাবি করে আসছে তুর্কি গোয়েন্দারা। ওই অডিও রেকর্ডিং পুরোপুরি শুনেছে এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, ২ অক্টোবর কনস্যুলেটে ঢোকার পর সোজা কনসাল জেনারেলের অফিসে যান খাসোগি। সেখান থেকে তাকে টেনেহিঁচড়ে কনসাল জেনারেলের পড়ার ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।

কক্ষ থেকে আগেই বের হয়ে গিয়েছিলেন কনসাল জেনারেল। বের হওয়ার আগে জেনারেল ভয়ার্ত কণ্ঠে তাদের বলেন, যা করার বাইরে গিয়ে কর। তোমরা আমাকেও বিপদে ফেলছ। এ সময় ওপরে প্রচণ্ড চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন নিচতলায় থাকা এক ব্যক্তি।

কিছুক্ষণ পরই চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়। কারণ তাকে চেতনানাশক কোনো ইনজেকশন দেয়া হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে ১৫ জনের একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সালাহ মোহাম্মদ আল তুবাইগি। তিনি সৌদি আরবের জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগের সৌদি অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেনসিক প্যাথলজির সদস্য এবং সৌদি ফেলোশিপ অব ফরেনসিক প্যাথলজির প্রেসিডেন্ট।

ঘটনার দিন সকালেই একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আঙ্কারা পৌঁছায় দলটি। জিজ্ঞাসাবাদের কোনো উদ্দেশ্য বা চেষ্টাই হত্যাকারীদের ছিল না। হত্যার মিশন নিয়েই তারা এসেছিল।

সূত্রটি বলেছে, ‘খাসোগিকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো আলামত দেখা যায়নি।’ জবাই করার পর দেহ একটি টেবিলের ওপর রেখে কেটে টুকরো টুকরো করেন আল তুবাইগিই। তার হাতে ছিল কাটার একটা করাত। তখনও জীবিত ছিলেন খাসোগি। লাশ কাটা শুরুর আগেই কানে হেডফোন লাগিয়ে নেন তিনি। অন্যদেরকেও কানে হেডফোন লাগানোর নির্দেশ দেন।

আল তুবাইগির এই কথারও রেকর্ডিং রয়েছে। সেখানে আল তুবাইগিকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমি গান শুনছি আর কাজ করছি। তোমাদের এটা করা উচিত।’ তিন মিনিটের এই রেকর্ডিং তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর হাতে রয়েছে। এটা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরই কালো কয়েকটি ব্যাগ নিয়ে কনস্যুলেট থেকে বের হন পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগগুলোতেই খাসোগির টুকরো টুকরো মাংস।

দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ সৌদি আরব- ট্রাম্প। তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি অনেকেই বলছেন, সৌদি কনস্যুলেটেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে হাত রয়েছে সৌদি রাজপরিবারের।

তাদের দিকেই আঙুল তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতেও সেই তথ্য। পশ্চিমা দেশগুলোও এ বিষয়ে জবাব চেয়ে রিয়াদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে। এরপরও সৌদি রাজপরিবারের পক্ষেই সাফাই গাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহমুক্ত ও নির্দোষ (বেনিফিট অব ডাউট) সৌদি আরব।

মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, কী হয়েছে তা-ই প্রথমে বের করা উচিত আমাদের। আবার আমরা এভাবেও দেখতে পারি, তুমি দোষী যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্দোষ প্রমাণিত হও। আমি এটা পছন্দ করি না।’ সাক্ষাৎকারের আগে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, কনস্যুলেটের ভেতর কী হয়েছে সে বিষয়ে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান কিছু জানেন না বলে তাকে জানিয়েছেন।

খাসোগিকে সৌদি কনস্যুলেটেই হত্যা করা হয়েছে তুর্কি কর্মকর্তাদের এ বক্তব্যের মধ্যে তুরস্ক সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। খাসোগির সঙ্গে আসলে কি ঘটেছে তা জানতে মঙ্গলবার রিয়াদ সফরে যান তিনি।

সেখানে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। রিয়াদ সফর শেষ পম্পেও বলেন, খাসোগি নিখোঁজের সুষ্ঠু তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সৌদি।

এরপর বুধবার আঙ্কারায় যান তিনি। সেখানে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কি কথা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতেই পম্পেওর তুরস্ক সফর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পনের জনের একজন যুবরাজের দেহরক্ষী

খাসোগি হত্যাকাণ্ডে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা। তুর্কি সূত্রকে উল্লেখ করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের মধ্যে অন্তত চারজনের সঙ্গে যুবরাজের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে যুবরাজের দেহরক্ষী মাহের আবদুল আজিজ মুতরেবও রয়েছেন।

তুর্কি সূত্র জানিয়েছে, দলের নেতৃত্বে ছিলেন সালাহ মোহাম্মদ আল তুবাইগি। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান তিনি। দলের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ বিন সাদ আল জাহরানি।

সৌদির রাষ্ট্রীয় টিভিতে যুবরাজের পাশে তার ছবি দেখা গেছে। এ চারজনের পাসপোর্ট বিশ্লেষণ করে তাদের সৌদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা পাওয়া গেছে। তবে তুর্কি গোয়েন্দারা এ ১৫ জনকেই তদন্তের কেন্দ্রে রেখেছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মুতরেবসহ চার সন্দেহভাজনের সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদের নিরাপত্তাজনিত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট হত্যা বাহিনীর অন্তত ৯ জন সৌদি সিকিউরিটি সার্ভিস, সেনাবাহিনী কিংবা অন্য সরকারি মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত রয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে। চেহারা শনাক্তকরণ সফটওয়্যার, সৌদি সেলফোন নম্বরের ডাটাবেজ, সৌদি সরকারের ফাঁস হওয়া নথি, প্রত্যক্ষদর্শী ও মিডিয়ার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার কথা জানিয়েছে কর্মকর্তারা।

তুরস্ক থেকে পালিয়ে রিয়াদে গিয়ে বহিষ্কার সৌদি কনসাল জেনারেল : খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুরস্ক ছেড়ে পালিয়েছেন সৌদি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ আল-ওতাইবি।

বুধবার ওতাইবির বাসভবনে পুলিশের সম্ভাব্য তল্লাশির কয়েক ঘণ্টা আগেই রিয়াদের উদ্দেশে ইস্তাম্বুল ছাড়েন তিনি। কিন্তু রিয়াদ গিয়েই বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন। খাসোগির হত্যার দিন কনস্যুলেটেই ছিলেন ওতাইবি।

তার পড়ার ঘরেই জবাই করা হয় তাকে। খাসোগির অ্যাপল ওয়াচেও তার কণ্ঠ রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। সেখানে হত্যাকারী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলছেন, ‘এগুলো বাইরে গিয়ে কর। তোমরা আমাকে ঝামেলায় ফেলতে যাচ্ছ।’ এমন খবর শোনার পরই ইস্তাম্বুল ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার রিয়াদ পৌঁছার পরই বরখাস্ত করা হয় তাকে। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

তেল-অস্ত্রের স্বার্থেই সৌদির বিরুদ্ধে যাবে না যুক্তরাষ্ট্র

ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে সাংবাদিক জামাল খাসোগির গুম ও সম্ভাব্য হত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বেশ বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। বহু দেশই দাবি তুলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে বিবেচনার। কেউ কেউ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলছেন। তেল ও অস্ত্রের ফায়দা লুটতেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলো। সৌদির বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের না ঘাঁটানোর ৫ কারণ তুলে ধরেছে বিবিসি।

তেল মজুদকারী

বিশ্বে তেল মজুদের ১৮ শতাংশ সৌদি আরবে। বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশটি বিশ্বে বিপুল ক্ষমতা ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ সৌদির বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করলে দেশটি তাদের তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে।

ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল আরাবিয়া টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার তুর্কি আলদাখিল সোমবার এক সম্পাদকীয়তে লিখেছেন, ‘সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে সেটা এমন এক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, যা গোটা দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দেবে।’

অস্ত্র ব্যবসা

২০১৭ সালে অস্ত্র কেনায় অর্থ খরচকারী তৃতীয় দেশ সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার চুক্তি করে দেশটি। হোয়াইট হাউসের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এত বিশাল অংকের অস্ত্র কেনার চুক্তি আর কখনও হয়নি। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানিও বিরাট অংকের অস্ত্র ব্যবসা করছে সৌদির সঙ্গে।

নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ

পশ্চিমা দেশগুলোর আরেকটি যুক্তি হল, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠলে সৌদির পক্ষ নিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে।

আঞ্চলিক জোট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব খর্ব করতে সৌদি আরব বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। কয়েক দশক ধরেই সুন্নীপন্থী সৌদি ও শিয়া ইরানের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে মধ্যপ্রাচ্যে। প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরোধি পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে রিয়াদ। আর আসাদকে সাহায্য করছে রাশিয়া ও ইরান। ফলে সৌদির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিলে রিয়াদ রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে যেতে পারে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

সৌদির বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা হারাতে পারে বলেও হুশিয়ার করে দিয়েছেন আলদাখিল। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য দফতরের হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নির্ভর করছে এই বাণিজ্যের ওপর।

সৌদিকে বয়কটের হিড়িক :এদিকে সৌদিকে বয়কটের হিড়িক পড়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। সাংবাদিক খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আসন্ন অর্থনৈতিক সম্মেলন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান।

এ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ইন্টারনেটভিত্তিক বৃহত্তম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গুগল। আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে তিন দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন গুগল ক্লাউডের প্রধান নির্বাহী ডায়ান গ্রিন।

এর আগে উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারা খোশরুশাহী, ফোর্ড গাড়ি কোম্পানির চেয়ারম্যান আলফ্রেড ফোর্ড ও বহুজাতিক ব্যাংক জেপি মর্গানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমোনসহ বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ওই সম্মেলন বয়কট করে। সিএনএন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনবিসি, ব্লুমবার্গ, ফক্স নিউজও সৌদিকে বয়কট করেছে। এছাড়া সৌদি আরবে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আলোচনা স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সম্রাট রিচার্ড ব্রান্সন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচনী পরিবেশ দেখতে ইইউ প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে

দেশের খবর: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিবেশ দেখতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবেন বলে জানিয়েছেন ইইউয়ের রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরেংকে।
বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিবেশ দেখতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইইউয়ের দুইজন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবেন। তারা কয়েক সপ্তাহ এখানে অবস্থান করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য কোনো সহযোগিতার দরকার হলে তা করবে জন্য ইইউ।’
এর আগে সকাল সোয়া ১১ টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূতসহ মোট ৭ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিংকের নেতৃত্বে বৃটেন, জার্মানি, স্পেন, সুইডেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest