সর্বশেষ সংবাদ-
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনসাতক্ষীরায় পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যুমানবকণ্ঠের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধির নিয়োগ পেলেন মুজাহিদুলদেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলাআদালতে মামলা করার ৭ মাস পর সাতক্ষীরার ফিংড়িতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগদেবহাটায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারসাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিতবাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চরিত্রহনন ও ইয়েলো জার্নালিজম নিয়ন্ত্রণও জরুরি: সাতক্ষীরায় আইনমন্ত্রীআইনমন্ত্রীর সাথে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃত্বের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পেঁপে পাতা

অনলাইন ডেস্ক: হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। তবে জ্বর হলেই যে ডেঙ্গু হবে তা কিন্তু নয়। তবে জ্বরের প্রকোপ আপনার কাছে বেশি মনে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
তবে আপনি চাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘরোয়া নিরাময়ের মাধ্যম করতে পারেন। আপনি জেনে খুশি হবেন যে, পেঁপের পাতা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাহায্য করে।
আসলে পেঁপে যেমন সুস্বাদু তেমনি গুণের একটি ফল। আমাদের শরীর-ত্বক সুস্থ সুন্দর রাখতে পেঁপের তুলনা হয় না। পেঁপে পাতারও রয়েছে অনেক গুণ। পেঁপের পাতা কীভাবে ডেঙ্গু সারাবে, তাইতো ভাবছেন?
পেঁপে পাতার রসে কাইমোপ্যাপিন ও প্যাপাইন রয়েছে৷ যা রক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে৷ ফলে ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বেড়ে যায়৷
পেঁপের পাতার রস পান করলে হজমশক্তি বাড়ে, শরীর দ্রুত প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে নেয়। এছাড়া সব ধরনের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে৷

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেভাবে খাবেন পেঁপে পাতা
পেঁপের পাতার রস করতে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে, পরিষ্কার পাটা বা হাম্বলদিস্তায় থেঁতো করে নিন। এবার রস ছেঁকে নিয়ে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
তৈরি হয়ে গেল পেঁপে পাতার জুস, ডেঙ্গু রোগীকে প্রতিদিন তিন বেলা তিন কাপ পরিমাণ পান করতে দিন।
জ্বর যদি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নতুন চুল গজাতে আদার প্যাক!

অনলাইন ডেস্ক: তরকারি রান্নার ক্ষেত্রে আদা ব্যবহার করা হয়। তবে আপনি জানেন কী? আদার প্যাক নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আদার রস মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। এর ফলে দ্রুত নতুন চুল গজায়।
আদার রসে আছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। মাথার ত্বকের খুশকি দূর করতে আদার রসের জুড়ি নেই।
নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এমন একটি আদার প্যাকের কথা জানিয়েছে বোল্ডস্কাই ওয়েবসাইটের জীবনধারা বিভাগে।

আসুন জেনে নেই নতুন চুল গজাতে কীভাবে ব্যবহার করবেন আদার প্যাক!

প্রথম ধাপ
প্রথমে বড় এক টুকরো আদা খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার একটি সুতির কাপড়ে আদার মিশ্রণ দিয়ে ভালো করে চিপে এর রস বের করে নিন।

দ্বিতীয় ধাপ
এর মধ্যে এক টেবিল চামচ অ্যাভোকাডোর তেল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। অ্যাভোকাডোর তেলে ভিটামিন বি, অ্যামিনো এসিড ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা চুল নরম ও মৃণ করতে সাহায্য করে।

তৃতীয় ধাপ
এবার এর মধ্যে আধকাপ নারকেলের দুধ মিশিয়ে নিন। নারকেলের লাউরিক এসিড চুলের রুক্ষতা দূর করে, মাথার তালু পরিষ্কার রাখে এবং চুলের আগা ফাটা দূর করে।

চতুর্থ ধাপ
এখন এর মধ্যে ১০ ফোঁটা লেবুর রস দিন। লেবুর রসের সাইট্রিক এসিড ও ভিটামিন সি মাথার খুশকি দূর করে এবং সংক্রমণের জীবাণু ধ্বংস করে।

পঞ্চম ধাপ
বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল ভালো করে আঁচড়ে জট ছাড়িয়ে নিন। এবার এই প্যাক চুল ও মাথার তালুতে লাগিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন।

ষষ্ঠ ধাপ
৪৫ মিনিট প্যাক লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এবার চুল ভালো করে মুছে বাতাসে শুকিয়ে নিন। টানা কয়েকবার এই প্যাক লাগালে অনেক দ্রুত নতুন চুল গজাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেনে নিন পেঁয়াজের যত গুণ

অনলাইন ডেস্ক: সভ্যতা মানেই পেঁয়াজের ব্যবহার। আদিম যুগ থেকেই মানুষ রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার শিখে এসেছে। প্রতিদিনের রান্নায় পেঁয়াজ না থাকলে যেন স্বাদই পাওয়া যায় না।
পেঁয়াজ গৃহিণীকে চোখে পানি এনে দিলেও বিভিন্ন ঔষধি গুণের কারণে রান্নায় এর ব্যবহার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আসুন জেনে নিই পেঁয়াজের নানা গুণের কথা-

১. পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ পেঁয়াজ পুস্টিবিদদের মতে, একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করাজাতীয় পদার্থ, শূন্য.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, শূন্য.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও শূন্য.৭ শতাংশ লোহা থাকে।

২. প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার, ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’তে সমৃদ্ধ পেঁয়াজ।
তাই খাবারে পেয়াজের ব্যবহার অনন্য। তাই কাঁচা পেঁয়াজ রোজ একটু হলেও খেতে বলেন পুষ্টিবিদরা।

৩. দেহের বিষ মুক্তকরণে পুষ্টি বিজ্ঞান বলে পেঁয়াজে রয়েছে কার্মিনেটিভ, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিকজাতীয় পদার্থ। এসব উপাদান শরীর থেকে বিষ দূর করে দেয়। এ কারণে শরীরে কোথাও সংক্রমণ ঘটে থাকলে কাঁচা পেঁয়াজ চিবিয়ে খেলেই চটজলদি উপকার পাওয়া যাবে।

৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পেঁয়াজ অত্যন্ত ভালো। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজ পেঁয়াজ খেতে পারেন।

৪. জ্বর-সর্দিতে ঠাণ্ডা লেগে গলাব্যথা, সর্দি-কাশি-জ্বর, অ্যালার্জি বা সামান্য ব্যথায় দারুণ কাজ করে পেঁয়াজ। সামান্য পেঁয়াজের রসের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খেলে রোগীর মুখে হাশি ফুটবেই।

৫. দেহের তাপমাত্রা কমাতে এখানেও পেঁয়াজ তার কারিশমা দেখায়। জ্বরে দেহের তাপমাত্রা বেশি থাকলে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ কপালে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। বিষয়টি হয়তো অনেকেরই অজানা।

৬. হজমশক্তি বাড়াতে হজমে সমস্যা রয়েছে? প্রতিদিনের খাবার তালিকায় একটু কাঁচা পেঁয়াজ রাখুন। কেননা পেঁয়াজ খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে দ্রুত খাবার হজম হয়।

৭. ত্বকের নানা সমস্যায় ত্বকের সমস্যায় পেঁয়াজের ব্যবহার জনপ্রিয়। পোকামাকড় কামড়ালে তাৎক্ষণিক পেয়াজ ডলে দিন কামড়ের স্থানে। মূহুর্তেই প্রশান্তি মিলবে।

৮. এছাড়াও রোদে পোড়া ট্যান, কিংবা ব্রণ সমস্যায় সেই সমস্ত জায়গায় একটু পেঁয়াজের রস লাগালে একটু কুটকুট করে ব্যথা অনুভূত হবে এরপর দ্রুত কাজ করবে তা।

৯. ক্যান্সার প্রতিরোধে মেডিকেল সাইন্স বলে কোলন ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে পেঁয়াজ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে পেঁয়াজের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কোষের ডিএনএ কে ক্ষতির থেকে বাঁচিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে যে পেঁয়াজের রস টেস্ট টিউবের টিউমার সেল কে ধ্বংস করে এবং ইদুরের শরীরের টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে।

১০. হার্ট সুস্থ রাখতে পেঁয়াজ রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না এবং রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। তাই পেঁয়াজ হৃৎপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অনেক কার্ডিওলোজিস্টই নিয়মিত পেঁয়াজ খেতে বলে দেন রোগীদেরকে। বিশেষ করে হার্ভাডের ডাক্তার ভিক্টর গুড়েউইচ তার রোগীদেরকে প্রতিদিন অন্তত একটি করে পেঁয়াজ খাওয়ার উপদেশ দেন।

১১. হাড় ভালো রাখতে হাড়ের কঠিন অসুখ অ্যাথেরসক্লেরোসিস এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করতে পেঁয়াজ অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা রাখে।

১২. যৌন ক্ষমতা বাড়াতে পেঁয়াজ যৌন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস করে পেঁয়াজের রস খেলে যৌন ক্ষমতা বাড়ে। এমনটাই জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফল খাওয়ার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?

অনলাইন ডেস্ক: ফল খাওয়ার আগে আমরা সাধারণত পানি দিয়ে ধুয়ে নেন। অনেক আবার তা কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। পানিতে ফল ভিজিয়ে রাখার এই অভ্যাসটি বেশ উপকারী।
তাই ফল খাওয়ার আগে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে খেলেই হবে না কিছুক্ষণ ভিঝিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে।

আসুন জেনে নেই ফল খাওয়ার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?

ময়লা দূর হয়
আপেল, আম, পেঁপেসহ যে কোনো ফল কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে এদের গায়ে লেগে থাকা ময়লা দূর হয়। তাই ফল খাওয়ার আগে অবশ্যই পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

ডায়ারিয়া ও ব্রণ
আয়ুর্বেদ মতে, ফল ভিজিয়ে রাখলে এর তাপ দূর হয়। তা খাওয়ার পর ডায়ারিয়া এবং ব্রণের মতো সমস্যাগুলো হয় না।

রাসায়নিক ব্যবহার
ফল চাষে অনেক ধরণের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। পোকামাকড় দূর করার জন্য কীটনাশক যত কমই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। কীটনাশকের কারণে মানুষের বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

অ্যালার্জি, মাথাব্যথা, চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া
ফল ধুয়ে না খেলে ফুসফুসের সমস্যা, অ্যালার্জি, মাথাব্যথা, চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া, বমি ভাব হতে পারে। তাই এসব ফল শুধু পানিতে ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়। সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারলে ভালো।

তরমুজ, আম, পেঁপে ও নাশপাতি
কিছু কিছু ফল খেলে সহজে পেটখারাপ হতে পারে, যেমন তরমুজ, আম, পেঁপে এবং নাশপাতি। এসব ফল কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে তা আর ক্ষতিকর থাকে না। শুধু তাই নয়, পাকা ফল পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা সহজে পচে না। তাই বাজার থেকে কিনে আনার পর পরই ফল কয়েক ঘণ্টা ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম

অনলাইন ডেস্ক: শরীরে ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল খুব নিঃশব্দে জায়গা করে নেয়। কখন যে এটি আপনার শরীরে স্থান করে নেবে, তা টেরই পাওয়া যাবে না। প্রধানত বিপাকের সমস্যা থেকে এটির উদ্ভব। শরীরচর্চার মাধ্যমে এটিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস হওয়ার কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সে এটি হতে পারে। সাধারণত অল্প বয়সে টাইপ-১ ডায়াবেটিস হয়। আর বেশি বয়সে টাইপ-২। খুব স্বাভাবিকভাবে টাইপ-১-এর তুলনায় টাইপ-২ ডায়াবেটিস কঠিন। ব্যায়ামটাও টাইপ-২-এর জন্য বেশিই করতে হবে।

ডায়াবেটিস আর কোলেস্টেরল দমিয়ে রাখতে করতে হবে যেসব ব্যায়াম—

টাইপ-১ ডায়াবেটিস হলে যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য সহজ ব্যায়াম হলো প্রথম সপ্তাহে এক মিনিট হাঁটা আর ৩০ সেকেন্ড জগিং। এ পদ্ধতিকে বলে বিরতিমূলক কার্ডিও। তৃতীয় সপ্তাহে অনুশীলনের পরিমাণ বাড়িয়ে এক মিনিট হাঁটা আর সমান সময় জগিং করতে হবে। ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রথম সপ্তাহের ঠিক উল্টো করতে হবে। ৩০ সেকেন্ড হাঁটা আর এক মিনিট জগিং। পর্যায়ক্রমে এটি বাড়িয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এভাবে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন অনুশীলন করতে হবে।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসে যারা ভুগছে, তারা কিছুদিন বিরতিমূলক কার্ডিও করে নিজেকে ব্যায়ামের জন্য শরীরকে তৈরি করে নিতে হবে। এভাবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ করার পর আসল ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কোনো কিছু দিয়ে ২০ মিটার দূরত্ব চিহ্নিত করতে হবে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত দৌড়ে যেতে হবে। আসার সময় হালকা জগিং করে ফিরতে পারলে ভালো, না হলে হেঁটে আগের জায়গায় চলে আসতে হবে। এভাবে টানা দুই মিনিট অনুশীলন করার পর তিন মিনিট বিশ্রামে থাকতে হবে। এভাবে দিনে ছয় থেকে আটবার করতে হবে। এক মাস এটি করার পর অনুশীলনটি আগের থেকে অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর তখনই দুই প্রান্তে দ্রুত দৌড়ে আসা-যাওয়া করতে হবে।

গবলেট স্কোয়াট
একটি ডাম্বেল দুই হাত আঁকড়ে বুকের কাছে ধরতে হবে। এবার ধীরে ধীরে স্কোয়াট করতে হবে। ধীরে ধীরে বসতে যেন হাঁটুতে ৯০ ডিগ্রি কোণ উৎপন্ন হয়। খেয়াল রাখতে হবে, বসা এবং ওঠার সময় যেন পিট টান টান থাকে। এভাবে ১২ থেকে ১৪ বার অনুশীলন করতে হবে।

হরাইজন্টাল পুল-আপ
এ জন্য একটি লোহার রড প্রয়োজন হবে। কাঁধের প্রস্থের তুলনায় দুই হাতের মধ্যে বেশি ফাঁকা রেখে দুই হাতে রডটি ধরতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রত্যেক জেলার একটি মাধ্যমিক স্কুলে চালু হচ্ছে ‘একীভূত শিক্ষা’

দেশের খবর: দেশের প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুদের জন্য চালু হচ্ছে ‘একীভূত শিক্ষা’ কার্যক্রম। প্রত্যেক জেলায় একটি করে বাছাই করা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই লেখাপড়া করবে প্রতিবন্ধী শিশুরা। প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে ক্লাস ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম।
এই কার্যক্রম (একীভূত শিক্ষা) চালু করতে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করছে সরকার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় উচ্চমাত্রার প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘বিশেষায়িত শিক্ষা’ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রয়েছে। দেশব্যাপী এ বিশেষায়িত শিক্ষার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া মৃদুমাত্রার প্রতিবন্ধী বা বিশেষায়িত শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জন করা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘একীভূত শিক্ষা’ চালু করা হচ্ছে। এর আগে দেশের আটটি মহানগরের আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘একীভূত শিক্ষা’ কার্যক্রম শুরুর পদক্ষেপ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এসব বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়।
আর মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘সমন্বিত শিক্ষা’র কোনও স্কুল চালু নেই। সমন্বিত শিক্ষার জন্য স্কুল চালু করতে হলে বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষক দরকার। অন্যদিকে সব ধরনের প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয় পর্যায়ে ‘সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা’ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা প্রস্তুত করেছে। এই নীতিমালার আওতায় সব ধরনের প্রতিবন্ধীদের জন্য সমন্বিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় লেখাপড়ার জন্য একটি করে বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা শিশুরা পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর ‘একীভূত’ শিক্ষার আওতায় লেখাপড়া করবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জানা গেছে, ‘একীভূত শিক্ষা’র আওতায় নিতে প্রতিটি জেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছে। গত ৪ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, একীভূত শিক্ষার জন্য বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কাছাকাছি একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, যেসব শিশুরা বিশেষাতি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে তারা ‘একীভূত শিক্ষা’র আওতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখাপড়া করবে। অনেক শিক্ষার্থী আগে থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয় বাছাইয়ের পর একীভূত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে চালু করা হলে আগে থেকে যারা লেখাপড়া করছে তাদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। বিদ্যালয়ের বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুদের লেখাপড়া করানো হবে। ইতোমধ্যে দেশের অনেক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য শিক্ষকদেরও এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, সারাদেশে অটিস্টিক শিশুদের জন্য রয়েছে ৬২টি স্কুল। এর মধ্যে সুইড বাংলাদেশ পরিচালত ৫০টি, কল্যাণী ইনক্লুসিভ স্কুলের সাতটি এবং সেনাবাহিনীর ‘প্রয়াস’ নামের একটি। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে রাজধানীসহ সারাদেশেই অটিস্টিক শিশুদের স্কুল গড়ে উঠেছে।
২০১১ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ অবৈতনিক একটি ‘স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে মিরপুর, লালবাগ, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এবং ছয়টি বিভাগীয় শহরসহ গাইবান্ধা জেলায় একটি অর্থাৎ মোট ১১টি স্কুল চালু করা হয়েছে। এসব স্কুলে মোট ১৪৪ জন অটিজম বৈশিষ্টের শিশু বিনামূল্যে লেখাপড়া করছে। এসব স্কুল পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে একটি করে অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। ওইসব কেন্দ্রে অটিজম শিশু ও ব্যক্তিদের কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়।
এছাড়া বর্তমানে ৬৪ জেলায় একটি করে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, সাতটি শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং পাঁচটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাংবাদিকদের গ্রেফতারে পুলিশের ক্ষমতা বেড়েছে: সম্পাদক পরিষদ

অনলাইন ডেস্ক: পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
পরিষদ জানায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শেষ মুহূর্তে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে সংবাদপত্রের কার্যালয় ও সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলোর দফতরে প্রবেশ করা, তল্লাশি চালানো, বন্ধ করে দেয়া, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক জব্দ করা, এমনকি পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা আরও বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক পরিষদের লিখিত বক্তব্য পড়েন শোনান ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান প্রমুখ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সংবাদ মাধ্যমের বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পরিপন্থী কালাকানুন আখ্যায়িত করে সম্পাদক পরিষদ জানায়, এটিকে আইনে পরিণত করায় আমরা যারপরনাই হতাশ, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। এটি মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্নিহিত চেতনার পরিপন্থী।

শ্যামল দত্ত বলেন, আমাদের মৌলিক আপত্তি, দফায় দফায় আলোচনা ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে দুইবার বৈঠক সত্ত্বেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস করা হয়েছে।

আইনটি নিয়ে পরিষদ জানায়, তিন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন, পরিমার্জনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করা হবে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, এসবের কিছুই করা হল না।

‘সম্পাদক পরিষদকে তিনজন মন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা মনের করি, এটি সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ।’

সম্পাদক পরিষদ আরও জানায়, শুরু থেকেই সম্পাদক পরিষদ এ আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল, যেগুলো স্বাধীন সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

শ্যামল দত্ত বলেন, আমরা কয়েকবার আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমাদের বক্তব্য সুবিবেচনা পাবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিল যখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সামনে পেশ করা হয়, তখন সম্পাদক পরিষদ, বিএফইউজে ও অ্যাটকোর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উভয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই আমরা উপস্থিত ছিলাম।
‘সেসব বৈঠকে আমাদের আপত্তির জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরি এবং আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করি।’

সম্পাদক পরিষদের এ সদস্য বলেন, আমাদের তৃতীয় একটি বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারত। কিন্তু সে বৈঠকটি কী কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি, তা আমাদের আজও অজানা।

‘এভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া বিলটি চূড়ান্ত করা হয় এবং আমাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও সম্মতি ছাড়াই সংসদে পেশ করা হয়। এর ফলাফল হিসেবে, বিলটি চূড়ান্ত করা হল এবং আমাদের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ ও সম্মতি ছাড়াই তা সংসদে উপস্থাপন করা হল।’

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলো, বিশেষত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা বিষয়ক ধারাগুলোতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছাড়াই আইনটি সংসদে পাস করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, আমরা আইনটি বাতিল চাইনি। কতগুলো বিশেষ ধারার আমূল পরিবর্তন চেয়েছি। এই পরিবর্তন সম্ভব। আমরা আশা করব, ওই ধারাগুলো সংশোধন করে আইনটি সংশোধন করা হবে।’

সম্পাদক পরিষদের দাবিগুলো হলো—

• সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।
• এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে।
• পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে; কিন্তু কোনো কম্পিউটারব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদপ্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।
• কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কমপিউটারব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।
• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটা বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না।
• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।
• এই সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। ওই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নেইমারদের ম্যাচ নিয়ে

খেলার খবর: ফিক্সিংয়ের কালো থাবা ফুটবলে ছিল অনেক আগে থেকেই। তবে ফিফাসহ ফুটবলের সংস্থাগুলোর কঠোর আইন ও নীতির কারণে অনেকটাই কমিয়ে আনা গেছে। তবুও থেমে নেই ফিক্সিং। এবার সেই ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠলো খোদ ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার ডি সিলভার জুনিয়রের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের খেলা একটি ম্যাচ নিয়ে। যেন-তেন কোনো ম্যাচে ছিল না সেটা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে। তবে অভিযোগটা উঠেছে, পিএসজির প্রতিপক্ষ রেড স্টার বেলগ্রেডের বিপক্ষে।

ইউরোপসহ পৃথিবীর নানা দেশেই জুয়া বৈধ। তবে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিসের পার্ক ডি প্রিন্সেসে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ অক্টোবর সার্বিয়ান ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রেডের মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি। ওই ম্যাচে সার্বিয়ানদের ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল নেইমার-কাভানিরা।
জুয়ার নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পিএসজি-রেড স্টারের ম্যাচ নিয়ে ৫০ লাখ ইউরোর লেন-দেন হয়েছিল। সেখানে শর্ত ছিল রেড স্টার বেলগ্রেডকে অন্তত ৫ কিংবা তার বেশি গোলে হারতে হবে।

পিএসজির ওই ম্যাচ নিয়ে জুয়ার অস্বাভাবিক লেন-দেন চোখে পড়ার পরই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এরপরই অবশ্য ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ ম্যাচটি নিয়ে তদন্তে নেমে পড়েছে। তার আগেই ইউরোপিয়ান ফুটবল কর্তৃপক্ষ উয়েফা সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ফ্রান্স ন্যাশনাল ফাইনান্সিয়াল প্রসিকিউটরস অফিসে (পিএনএফ)। কারণ, জুয়ার ওই লেনদেনই বলে দিচ্ছে, সম্ভবত ম্যাচের ফলাফলে তা প্রভাব ফেলেছে।

ফ্রান্সের এল’ইকুইপে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, ৫০ লাখ ইউরো লেনদেনের বিষয়ে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞসাবাদও করা হয়েছে। শুক্রবার পিএনএফ এপিকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে, তারা ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে। তবে এর চেয়ে বেশি কোনো তথ্য দিতে তারা অপারগতা প্রকাশ করে।

এল’ইকুইপে এটাও জানাচ্ছে যে, ৩ অক্টোবর ম্যাচের আগেরদিনই পিএনএফসে সম্ভাব্য ফিক্সিংয়ের বিষয়ে তথ্য জানিয়েছিল উয়েফা। অভিযোগ রয়েছে, ম্যাচের আগেরদিন বিকেল থেকে রাতের মধ্যে রেড স্টার বেলগ্রেডের কয়েকজন ফুটবলারের কথাবার্তা এবং আচরণ সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও বলা হচ্ছে, ওই রাতেই বেলগ্রেডের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল পিএসজির সিইও এবং চেয়ারম্যান নাসের আল খেলাইফির সঙ্গে। যদিও শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

শুক্রবার ফ্রান্স দৈনিক এল ইকুইপে পত্রিকার ওয়েবসাইটে ফিক্সিংয়ের এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর নেইমারের ক্লাব পিএসজি বাধ্য হয়েছে এ নিয়ে কথা বলতে। শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে পিএসজি বলেছে, ‘এটা খুব হতাশাজনক যে, পিএসজি জেনেখে, এল ইকুইপে ওয়েবসাইটে শুক্রবার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে লেখা হয়েছে পিএসজি-রেড স্টার বেলগ্রেড ম্যাচটিতে নাকি ফিক্সিং হয়েছিল। তবে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডটা পরিচালিত হয়েছে বেলগ্রেড থেকে। জুয়াড়িরা সেখান থেকেই জুয়া ধরেছে বলে জানা গেছে।’

পিএসজি জানাচ্ছে, তারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষাভাবে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনোই জড়িত নয়। শুধু তাই নয়, ন্যাশনাল ফাইনান্সিয়াল কোর্ট যদি এ নিয়ে কখনো কোনো কিছু জানতে চায় আমাদের কাছ থেকে তাহলে আমরা বিনা দ্বীধায় তাদেরকে যে কোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।

পিএসজি সেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সম্পর্কে বলেছে, ‘ক্লাব চায় এই অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। পিএসজি তাদের সুনামের কোনো ক্ষতি হয় কোনো কিছুর সঙ্গে বিন্দু পরিমাণ বরদাস্ত করবে না। সর্বশেষ এটাও আমরা বলতে চাই, ক্লাব যে কোনো সময় যে কারও বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ারও ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। যদি ক্লাবের বিরুদ্ধে কেউ কখনও বাজে মন্তব্য করে কিংবা দুর্নাম ছড়াতে চায়।’

রেড স্টার বেলগ্রেডের পক্ষ থেকেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এল ইকুইপে পত্রিকার পক্ষ থেকে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ড্রাগন জাযিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সম্পূর্ণ বিষয়টা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি এমন অভিযোগের কথা শুনলাম। সত্যিই আমি এ ধরনের কিছু শুনিনি। এটা কখনোই সম্ভব নয়। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

রেড স্টারের ডেপুটি মুখপাত্র নেবোজা তোদোরোভিক এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ নিয়ে মন্তব্য করার আসলে কোনো রাস্তাই খোলা নেই আমার সামনে।’ এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল সার্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র মিলান ভুকোভিকের সঙ্গে। কিন্তু ফিক্সিংয়ের বিষয়ে একটি বক্তব্যও নেয়া সম্ভব হয়নি তার কাছ থেকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest