সর্বশেষ সংবাদ-
এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন

ডিম নিয়ে যত ভ্রান্ত ধারণা

অনলাইন ডেস্ক: ডিমকে বিশ্বে একটি উন্নতমানের ও সহজলভ্য আমিষ–জাতীয় খাদ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) স্থাপিত হয় ১৯৬৪ সালে। প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠনে ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রথম ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ পালনের আয়োজন করা হয়; যা পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার পালিত হয়ে আসছে। সে অনুযায়ী আজ বিশ্ব ডিম দিবস। তবে ডিম সম্পর্কে ইদানীং মানুষের কিছু ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে; যা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা জরুরি।

সাদা খোসা না বাদামি খোসার ডিম, কোনটি ভালো?
এ নিয়ে সাধারণ ভোক্তার মধ্যে দ্বিধা থাকে। ভোক্তা হিসেবে বেশির ভাগ মানুষের পছন্দ বাদামি খোসার ডিম। অনেকেই মনে করেন, বাদামি খোসার ডিমে পুষ্টিগুণ সাদা খোসার ডিমের চেয়ে বেশি। আবার এর সত্যতাও মেলে ডিমের বাজারে। এক শ বাদামি খোসার ডিমের মূল্য ৬০০ টাকা হলে, সাদা খোসা ডিমের বাজারমূল্য হবে ৫৭০ টাকা। সব সময় বাদামি খোসার ডিমের বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে সাদা খোসার ডিমের চেয়ে বেশি থাকে। তবে বাস্তব সত্য হলো, ডিমের খোসার রঙের সঙ্গে এর ভেতরের পুষ্টিগুণের কোনো সম্পর্ক নেই।

ডিমের কুসুম নিয়েও দুশ্চিন্তা
ডিমের কুসুম সাদা, ফ্যাকাসে হলুদ, হালকা হলুদ, স্বাভাবিক হলুদ থেকে গাঢ় হলুদ পর্যন্ত হতে পারে। এখন ভোক্তা হিসেবে প্রশ্ন জাগতে পারে, কোন রঙের কুসুমটি সবচেয়ে ভালো? অনেকেই মনে করেন, ডিমের কুসুম যদি হলুদ হয়, তাহলে পুষ্টিমাণ বেশি। আর যদি কুসুমের রং হালকা হলুদ বা সাদাটে হয়, তাহলে তার পুষ্টিগুণ কম। এ ধারণাগুলো একেবারেই অসত্য। কারণ, ডিমের কুসুমের রং যা–ই হোক না কেন, এর সঙ্গে পুষ্টিগুণের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ, ডিমের কুসুমের রং নির্ভর করে হাঁস-মুরগির খাদ্যের ভেতরে জ্যান্থোফিল নামক একধরনের পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির ওপর। হলুদ ভুট্টা, সবুজ শাক-সবজি, ঘাস, লাতা-পাতা, জলজ উদ্ভিদে ডাকউইড, অ্যাজোলা, স্পিরুলিনা ইত্যাদির ভেতরে জ্যান্থোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে। হাঁস-মুরগি এগুলো খেলে ডিমের কুসুম হলুদ হবে। নদী-নালা, খাল-বিল বা পুকুর ও ডোবায় চরে বেড়ানোর সময় পর্যাপ্ত জলজ উদ্ভিদ গ্রহণ করে, ফলে হাঁসের ডিমের কুসুম প্রায়ই গাঢ় হলুদ হয়।

দেশি না ফার্মের মুরগির ডিম বেশি পুষ্টিকর?
সকালে নাশতার টেবিলে ডিম ভাজি খেতে গেলে ভোক্তার মনে এ ধরনের প্রশ্ন জাগে। বিজ্ঞান এটাই বলে দেশি মুরগির ডিম ও ফার্মের মুরগির ডিমের মধ্যে পুষ্টিমাণের মৌলিক কোনো তফাত নেই। দেশি মুরগির ডিমের গড় ওজন প্রায় ৩৮ গ্রাম, আর ফার্মের মুরগির ডিমের গড় ওজন প্রায় ৬০ গ্রাম, অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের ওজন বিবেচনায় ফার্মের মুরগির ডিমের ওজন দেশি মুরগির ডিমের ওজনের প্রায় দ্বিগুণ বিধায় প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান দেশি মুরগির ডিমের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বিদ্যমান থাকে ফার্মের মুরগির ডিমে। খাবারে বৈচিত্র্য থাকায় দেশি মুরগির ডিম স্বাদ ও গন্ধে অসাধারণ হয়।

ডিমের কোলেস্টেরোল হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়?
স্বাস্থ্য সচেতন ভোক্তার মনে এ প্রশ্নটি আসা স্বাভাবিক। ডিমের কোলেস্টেরোল সত্যিই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায় কি না, এ নিয়ে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত গবেষকদের ধারণা ছিল ভিন্ন। আহারের পর ডিমের কোলেস্টেরোল যদি মানুষের রক্ত বা রক্তের সিরামের মধ্যে চলে আসে, তাহলে তা রক্ত বা সিরামের কোলেস্টেরোলের মাত্রা বাড়াবে এবং এর ফলস্বরূপ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়বে। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন যে ডিমের কোলেস্টেরোল মানুষের রক্তে আসে না অথবা এলেও এর পরিমাণ খুবই নগণ্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদনে ডিমের কোলেস্টেরোলের সঙ্গে হৃদ্‌রোগের কোনো সর্ম্পক নেই উল্লেখ করে প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সুতরাং মানুষের এ ধারণাটিও সঠিক নয়।

সম্প্রতি বাজারে আসা অরগানিক ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে
অনেকেই মনে করেন অরগানিক ডিম সাধারণ ডিমের তুলনায় পুষ্টিগুণে অধিকতর সমৃদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে অরগানিক ডিমসহ অন্যান্য অরগানিক কৃষিজাত পণ্য ভোক্তার কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অরগানিক ডিমসহ যেকোনো অরগানিক কৃষিপণ্য উৎপাদন–প্রক্রিয়ায় কতগুলো সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব রীতি মেনেই ডিম উৎপাদন করা হচ্ছে। মনে করা হয়, এসব অরগানিক ডিম ভোক্তার জন্য খুব নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, কোনোভাবেই এসব ডিম অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ নয়।

ওমেগা-৩ ডিম বা ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ ডিম
এই নামে বাজারে ইদানীং ডিম বিক্রি করা হচ্ছে। এ ডিমগুলোকে বিশেষ পুষ্টিসমৃদ্ধ ডিম বা ডিজাইনার ডিম নামে অভিহিত করা হয়। ওমেগা-৩ বা ভিটামিন ই ছাড়াও ডিজাইনার ডিম সেলেনিয়াম, আয়োডিন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে হারবাল ডিম উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। বিশেষ পুষ্টিসমৃদ্ধ ডিম বা ডিজাইনার ডিম, তা যে পুষ্টি উপাদানেরই হোক না কেন, উৎপাদনের কতগুলো সুনির্দিষ্ট পরিপ্রেক্ষিত থাকে। যেমন কোনো একসময় থাইল্যান্ডের এক অঞ্চলে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিলে সেখানে আয়োডিন ঘাটতিজনিত গলগ-রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন ওই সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের জন্য আয়োডিনযুক্ত ডিজাইনার ডিম তৈরি করা হয়। ধনীশ্রেণির মানুষ যাঁদের বয়স মোটামুটি পঞ্চশোর্ধ্ব, কায়িক পরিশ্রম কম করেন এবং ভোজ্যতেল বেশি খান, শুধু তাঁদের জন্য বাড়তি ওমেগা-৩ পুষ্টি পেতে এ ধরনের ডিম খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে। ধনী-গরিব সবারই যে বেশি মূল্যে এই ডিম কিনে খেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।

আসল ডিম ছিল না নকল ডিম?
নকল ডিম বলতে এখানে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ডিমকে বোঝানো হয়েছে; যা সাধারণ মানুষ প্লাস্টিক ডিম বলে জানে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রায়ই নকল বা কৃত্রিম ডিমের বিষয়ে খবর ছাপা হচ্ছে। বাংলাদেশের বাজারে এই কৃত্রিম ডিমের অস্তিত্ব রয়েছে বলে অনেকেই প্রচারও করছেন। অনেক বিক্রেতা ডিম কিনে রাখার সময় ডিমের কুসুম বা সাদা অংশের বর্ণ দেখে আসল কিংবা নকল ডিম চেনার অপচেষ্টা করেন।

তবে বাস্তব সত্য এটিই যে, বাংলাদেশে কোনো নকল ডিমের অস্তিত্ব নেই। তাহলে প্রশ্ন আসে কেন এই সন্দেহ বা উদ্বিগ্ন? বিষয়টি খুব সহজেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে ডিমের তিনটি অংশ—ডিমের খোসা, ভেতরের সাদা অংশ এবং হলুদ অংশ বা কুসুম। নানা কারণেই ডিমের ভেতরের সাদা অংশ বা কুসুমের দৃশ্যমান পরিবর্তন হতে পারে। যেমন ডিম যদি ১৫ দিন বা তার বেশি সময় রেখে দেওয়া হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সাদা অংশের দৃঢ়তা কমে হালকা পানির মতো তরল হতে পারে। অনেক সময় ডিপ ফ্রিজে ডিম রাখা হলে অথবা ফ্রিজের নরমাল অংশের তাপমাত্রা কোনো কারণে কমে শূন্য ডিগ্রির নিচে গেলে, ডিমের খোসা ফেটে ভেতরের সাদা অংশ আংশিক বাইরে চলে আসতে পারে। এরূপ অবস্থায় অনেকেই এটিকে নকল ডিম মনে করতে পারেন। কেন এমনটি ঘটে? ডিমের সাদা অংশ বা অ্যালবুমেনে ৮৮-৯০ শতাংশ থাকে পানি। ডিম যখন ডিপ ফ্রিজে রাখা হয় অ্যালবুমেন জমাট বেঁধে বরফের মতো কঠিন আকার ধারণ করে। আমরা জানি, কোনো তরল পদার্থ জমাট বাঁধলে তার আয়তন বেড়ে যায়। তাই অ্যালবুমেন জমে আয়তন বেড়ে যাওয়ায় ডিমের খোসা ফেটে ভেতরের অংশ আংশিকভাবে বাইরে চলে আসে, যা দেখে অনেক সময় ভোক্তা নকল ডিম বা কৃত্রিম ডিম মনে করতে পারেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১০ বছরের বড় মালাইকাকে বিয়ে করবেন অর্জুন?

বিনোদনের খবর: বয়সে ১০ বছরের বড় সালমান খানের ভাই আরবাজ খানের সাবেক স্ত্রীর প্রেমে মজেছেন বলিউড হিরো অর্জুন কাপুর।
ব্যাপারটি বলিমহলের গুঞ্জন ছিল এতোদিন। কিন্তু আরবাজ খানের সঙ্গে মালাইকার বিবাহবিচ্ছেদের পর বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে প্রকাশ, আরবাজ-জর্জিয়ার বিয়ের সানাই বাজার খবর প্রকাশ পাওয়ার পরই আবার মালাইকা ও অর্জুন কাপুরকে একসঙ্গে দেখা গেল । কয়েকদিন আগে আরবাজ খানের সঙ্গে জর্জিয়া নামে এক বিদেশিনীর বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার পরপরই এবার অর্জুনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে প্রকাশ্যে আনবেন বলে জানিয়েছেন মালাইকা অরোরা। বলিউড বাবল-এর খবর অনুযায়ী, অর্জুন কাপুর নাকি শিঘ্রই মালাইকার সঙ্গে তার সম্পর্ককে ‘অফিসিয়াল’ করছেন। তবে তা অবশ্যই রুপালী পর্দার কথা। অর্জুন-মালাইকা জুটিকে পর্দা মাতাতে দেখা যাবে বলে খবরে প্রকাশ। তবে অর্জুন কাপুরের সঙ্গে মালাইক অরোরা বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন কি না , সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে প্রথম থেকেই মালাইকার সঙ্গে অর্জুন কাপুরের বন্ধুত্ব ভালোভাবে নেয়নি সালমান খান ও তার পরিবার। এছাড়াও বাবা বনি কাপুর ছেলেকে কড়া হুশিয়াড়ি দিয়েছিলেন, অর্জুন যাতে মালাইকার সঙ্গ ত্যাগ করেন। সে কথা মেনে দুজন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ কিছুদিন বিচ্ছিন্ন রাখলেও এক ছাদের নিচে আরবাজ খানের সঙ্গে আর থাকা হয়নি মালাইকার।
সম্প্রতি ভারতীয় সনামধন্য ডিজাইনার কুণাল রাওয়াল-এর একটি শোতে তাদেরকে একসঙ্গে দেখা যায়। মুম্বাইয়ের জুহুর একটি রেস্তোরাঁতেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভারতীয় পাপারাজ্জিরা।
প্রসঙ্গত, ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’-এর প্রমোশনে ব্যস্ত রয়েছেন অর্জুন কাপুর। অন্যদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘পটাখা’ সিনেমায় একটি ‘আইটেম সঙ’ দিয়ে পর্দায় আবার গ্ল্যামার ছড়াচ্ছেন মালাইকা অরোরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঠান্ডা-সর্দি দূরে রাখার ৫ উপায়

অনলাইন ডেস্ক: আবহাওয়া বদলের বিষয়টি নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন। এর সঙ্গে ঠান্ডা ও সর্দির প্রকোপ বেড়ে যায়। ঠান্ডা লাগা ও সর্দি থেকে দূরে থাকতে আগে থেকেই সাবধান থাকতে হবে। অনেকের ধারণা, বেশিক্ষণ ঠান্ডায় থাকলে বা পানিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগে, সর্দি হয়। যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ ভাইরাস, তথাপি বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব এনজাইম আছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রায় কম কার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। শীতে বাতাসের তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে যায়, যা আমাদের শ্বাসনালির স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে ভাইরাসের আক্রমণকে সহজ করে। ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশির শুরুতে গলা ব্যথা করে, গলায় খুসখুস ভাব দেখা দেয়, নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি ঝরতে থাকে এবং হাঁচি আসে। ক্রমান্বয়ে মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। হালকা জ্বর ও শুকনা কাশিও হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
৫টি নিয়ম মানলে সর্দি-কাশি আপনার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারবে না। জেনে নিন উপায়গুলো:

প্রচুর ভিটামিন ডি
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ভিটামিন ডির অভাব হয়, তাদের সর্দি-কাশিতে কাবু করে বেশি। শরীরে ভিটামিন ডি থাকলে তা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। অনেক সময় শুধু খাবার থেকে যথেষ্ট ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত। এর বাইরে কিছুটা সময় সূর্যের আলোতে থাকা লাগতে পারে। সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে সপ্তাহে দুই দিন কেউ যদি অন্তত ৫ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যালোক গায়ে মাখে, তবে তা যথেষ্ট।

হাত পরিষ্কার রাখুন
আপনি অনেক সময় মুখে হাত দেন। ২০১৬ সালে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, একজন ব্যক্তি প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৬ বার মুখে হাত দেন। মুখে হাত দেওয়ার পাশাপাশি হাতে অনেক জিনিস ধরা হয়। এতে হাত থেকে মুখে সহজেই ভাইরাস যেতে পারে। সেখান থেকে মুখে বা শরীরে ভাইরাস যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তাই পরিষ্কার করে হাত ধোয়া গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান ব্যবহার করে নিয়মিত হাত ধুয়ে নেবেন। তাহলে ঠান্ডা লাগা কমবে।

ফোন পরিষ্কার রাখুন
এখন প্রায় সবার হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে। একবার চিন্তা করে দেখুন, আপনার ফোন কোথায় কোথায় রাখেন। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা এক গবেষণায় দেখা যায়, টয়লেট সিটের চেয়ে ১০ গুণ বেশি জীবাণু থাকে মোবাইল ফোনে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের পর্দায় থাকা এসব জীবাণু ত্বকের রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এসব জীবাণু থেকে সর্দি-কাশি হতে পারে। তাই মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

জিংক গ্রহণ করুন
শরীরে জিংকের ঘাটতি হলে ভাইরাসের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। তাই শরীরে জিংকের ঘাটতি হতে দেবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে জিংক ট্যাব খেতে পারেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ মো. শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, আমাদের শরীরে তিন শর বেশি এনজাইমের সঠিক পরিচালনের জন্য জিংক বা দস্তার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। প্রতিদিন আমাদের শরীরের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন হয়। গরু ও ভেড়ার মাংসে উচ্চমাত্রায় জিংক রয়েছে। সামুদ্রিক মাছ, গরু-খাসির কলিজা, আটা-ময়দার রুটি, দুগ্ধজাত খাদ্য, শিমজাতীয় উদ্ভিদ, মসুর ডাল, চীনাবাদাম, মাশরুম, সয়াবিন ও ঝিনুকে জিংক পাওয়া যায়।

দই খান
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দরকারি কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজন। ২০১৪ সালে ‘জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন ইন স্পোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, যেসব রাগবি খেলোয়াড় সম্পূরক খাবার হিসেবে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় কম সর্দি–কাশি ও পেটের সমস্যায় ভোগেন। এ ক্ষেত্রে দই দারুণ কার্যকর। প্রোবায়োটিকস গ্রহণকারীদের সর্দি-কাশি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না বলেই গবেষণায় দেখা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিপাকে সৌদি যুবরাজ

বিদেশের খবর: সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ ও যুবরাজের সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাশোগির অন্তর্ধানের ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন প্রিন্স সালমান।
জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে মোটামুটি নিশ্চিত করেছেন তুর্কি কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক টাইমসে দেয়া তথ্যে তুর্কি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনার অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে। সেখানে খাশোগিকে হত্যার বিস্তারিত প্রমাণ রয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় সোচ্চার হয়েছে সৌদি আরবের মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এক সিনেটর সৌদিকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্কও ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং খাশোগি কনস্যুলেট ছেড়েছেন তার প্রমাণ চেয়েছে।
দুই দিকের চাপে এখন বেকায়দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। খাশোগির গুমের পেছনে তাকেই মাস্টারমাইন্ড মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া খাসোগির প্রকৃত অবস্থা জানাতে ক্রমেই চাপ বাড়ছে সৌদি কর্তৃপক্ষের ওপর। আর সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, প্রবেশের অল্প সময় পরই কনস্যুলেট ভবন ছেড়ে গেছেন খাশোগি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগামী নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হতে পারে যেসব তারকারা

অনলাইন ডেস্ক: আর কিছু দিন পরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত বিভিন্ন দল। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই নির্বাচনী আমেজ। পিছিয়ে নেই শোবিজ ভুবনের তারকারাও। নিজ নিজ এলাকা থেকে নিজদের দলের জন্য প্রচারনা করে যাচ্ছে। অনেকেই আবার সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার দেখে নেয়া যাক আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন কোন তারকা অংশ নিতে যাচ্ছেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের মিয়া ভাই খ্যাত অভিনেতা ফারুক (আকবর হোসেন পাঠান)। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের একাংশের সভাপতি। তিনি গাজীপুর-৬ (কালীগঞ্জ-গাজীপুর মহানগর-সদর আংশিক) এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে জোড় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের প্রার্থীতা পাওয়ার জন্য অনেক আগে থেকে নির্বাচনী প্রচার করছেন।
এ বিষয়ে জনপ্রিয় নায়ক ফারুক বলেন,‘আমি নির্বাচন করতে চাচ্ছি। আমাকে যদি নেত্রী উপযুক্ত মনে করে মনোনয়ন দেন তবে আমি নির্বাচন করব। অথ্যাৎ নেত্রী নির্বাচন করার জন্য টিকিটটা দিয়ে দিলে তাহলে তো আর কোনও বাধা থাকল না। দেশের জনগণকে আমার পক্ষ থেকে এখনও অনেক কিছু দেয়ার বাকি আছে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশ ও দশের জন্য কাজ করব।’

এক সময়ের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা চিত্রনায়ক সোহেল রানা (মাসুদ পারভেজ)। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির সাথে সম্পৃক্ত আছেন। নির্বাচনের ইচ্ছা থাকলেও জনপ্রিয় এই নায়ক দলের প্রধানের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে নির্বাচনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেননি।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া নিয়ে চিত্রনায়ক সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্বাচনে প্রার্থী হব কিনা তা এখনও ভাবিনি। তবে দলের প্রেসিডেন্ট যদি চান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে তবেই আমি নির্বাচনের প্রার্থী হব। রোববার আমাদেরও একটা মিটিং হয়েছে যেখানে দল থেকে কে কোথায় নির্বাচন করবেন তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমি মনে করি আমার যেখানেই নির্বাচনের অংশগ্রহণ করতে বলবে সেখান থেকে করার ইচ্ছা আছে।’

ঢাকাইয়া সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হওয়া ও দলীয় বেশকিছু কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছেন। এরপর থেকে তার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার খবর চলচ্চিত্র অঙ্গণে প্রসারিত হয়। এ বিষয়ে চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, ‘নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া নিয়ে এখনও কিছুই বলতে পারছি না। তবে নেত্রী যদি মনোনয়ন দেন তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’

এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিল খান। অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় তিনি। তিনি তার এলাকায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারাণাও চালাচ্ছেন। তিনি বাগেরহাট-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
নির্বাচনের বিষয়ে শাকিল খান বলেন, ‘নেত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যেতে বলেছেন। আমি কোনও কারণে মনোনয়ন না পেলেও আওয়ামী লীগের পক্ষেই কাজ করে যাব।’

মনির খান, সঙ্গীতশিল্পী নিজের নির্বাচনী এলাকা ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বিএনপি থেকে নির্বাচনের জন্য নিজ এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে মনির খান বলেন, ‘আমি বিএনপি থেকে নির্বাচন করব। যদি দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তবে আমি নির্বাচনে বিজয়ী হব।’

দেশের জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার ও চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তিনি। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গান লেখার মাধ্যমে দেশের মানুষের পাশে ছিলাম এবং থাকব। আমি বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী। আমি দেশের মানুষের সাথে কাজ করে যেতে চাই।’

ফোক সম্রাজ্ঞীখ্যাত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ আওয়ামী লীগের ব্যানারে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি। এর আগেও তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি ছিলেন। আসছে নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তিনি।

সঙ্গীতশিল্পী বেবী নাজনীন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। বর্তমানে দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নীলফামারীর-৪ আসনের (সৈয়দপুর এবং কিশোরগঞ্জ) থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান।
এ বিষয়ে বেবী নাজনীন বলেন,‘নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যেতে চাই। দল থেকে যদি আমি সুযোগ পাই তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’

এছাড়াও তারকাদের মধ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে কন্ঠশিল্পী রুবেল, খালিদ, চিত্রনায়িকা শাবানা অংশগ্রহণ করার কথা জানা গেছে। এছাড়া বিএনপি থেকে, কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর, কনকচাপা, হেলাল খান ও রিজিয়া পারভীন মনোনয়ন চাইবেন বলেও জানা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ঘ’ ইউনিটের মূলপ্রশ্নের সঙ্গে মিলে গেছে ফাঁস হওয়া ৭২টি

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মোট ৭২টি প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। পরীক্ষা শুরুর ৪৩ মিনিট আগে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সোর্সের কাছ থেকে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা ফাঁস হওয়া ওই প্রশ্নপত্রের কপি পান।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক সাদেকা হালিম।
গোল দাগ দিয়ে চিহ্নিত প্রশ্নগুলোর ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে মিল রেয়েছে
শুক্রবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের অধীনে প্রথম বর্ষের (স্নাতক সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকদের কাছে আসা ফাঁস হওয়া ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখা যায়— বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে বাংলা অংশে ১৯টি, ইংরেজি অংশে ১৭টি, সাধারণ জ্ঞান অংশে ৩৬টিসহ (বাংলাদেশ বিষয়াবলীর ১৬টি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর ২০টি) মোট ৭২টি প্রশ্নের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে উত্তরসহ হাতে লেখা প্রশ্ন সাংবাদিকরা পান। পরে সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক সোহেল রানাকে প্রশ্নগুলোর ছবি দেখান। পরীক্ষা শেষে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বাইরের ৮১টি কেন্দ্রে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোনও নির্ভরশীল সূত্র থেকে প্রশ্নফাঁসের তথ্য নিশ্চিত হতে পারিনি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে জালিয়াতি বা প্রশ্নফাঁসের কোনও সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। ঘটনা সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বৃষ্টি রোববার পর্যন্ত থাকতে পারে

অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ বর্তমানে গভীর নিম্নচাপ আকারে ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গত সোমবার থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ও উপকূলীয় এলাকায় ভারি বর্ষণ হয়ে চলেছে।

আগামী রোববার পর্যন্ত এ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারপর তা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ সকাল ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় টেকনাফে দেশের সর্বোচ্চ ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
আবহাওয়া কার্যালয় জানায়, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বর্তমানে বায়ুচাপের তারতম্য রয়েছে। সাগরের ওই অংশসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার। এর প্রভাবে ওই সব এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কার্যালয়।
আগামী দু-একদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. আয়েশা খাতুন বলেন, ‘উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। তার পরে এখানে প্রেসার গ্রেডিয়েন্ট যেটা, সেটা খুব স্টিফ আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার যে পূর্বাভাস সেখানে আমরা বলেছি যে অনেক স্থানে বৃষ্টিপাত হবে, মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতও হতে পারে। এবং সেইসঙ্গে কিছু জায়গায় হয়তো অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে, বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলে।’
এদিকে নিম্নচাপের ফলে রাজধানী ঢাকার আবহাওয়াও মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও হালকা বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হলেও রোববারের পরে তা আর থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে আয়েশা খাতুন বলেন, ‘এই যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, এই বৃষ্টিপাতের যে অব্যাহত ধারা, সেটা আগামী রোববার, অর্থাৎ ১৪ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তারপর এটা আস্তে আস্তে… আবহাওয়া ভালো হয়ে যাবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সিলেটের একটি গ্রামে ২০০ প্রতিবন্ধী

দেশের খবর: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। এর মধ্যে শিশু প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বেশি। গর্ভকালীন মায়েদের অসচেতনতা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পুষ্টিহীনতার কারণে এ গ্রামে প্রতিবন্ধী লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
জানা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম আমতৈল। এখানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ মৎস্যজীবী। উপজেলা সদর থেকে আমতৈল গ্রামের দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। এ গ্রামে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত হাজার। লোকসংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি। চারপাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এ গ্রামের মানুষের রোগব্যাধি নিত্যসঙ্গী।

তামিম আহমদ, মাসুদ আহমদ, রেদওয়ান, তাহমিদ, সাহেল আহমদ, ছাবেরা, সাফিয়া, সুমানা প্রতিবন্ধী হয়েই জন্মগ্রহণ করে। তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এক বা একাধিক প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। এদের কেউ শারীরিক, কেউ মানসিক, কেউ বা বাক্প্রতিবন্ধী।

জানা গেছে, এ গ্রামে নেই কোনো স্যানিটেশন সুবিধা। দারিদ্র্যকবলিত ও ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তারা ঝাড়-ফুঁকে বিশ্বাসী। অসচেতনতা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অগোছালো বাড়িঘর নির্মাণের কারণে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। এখানে-সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করায় বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে প্রতিনিয়ত ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের বেলায় ঘটছে আরো মর্মান্তিক ঘটনা। গর্ভকালীন অসচেতনতা, অপুষ্টি, ঝাড়-ফুঁক করাসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণে প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম দিচ্ছেন মায়েরা।

এ এলাকায় খুব একটা গভীর নলকূপ নেই। তাই বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট রয়েছে। তা ছাড়া রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বাজারঘাটসহ প্রতিটি স্থান দুর্গন্ধ ও ময়লা-আবর্জনায় ভরা। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠায় শিশুদের ভবিষ্যৎ থাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে। এভাবে প্রতিটি পরিবারে প্রতিবন্ধী লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকলে আগামী ১০ বছরে এ এলাকায় প্রতিবন্ধী লোকের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।

রামপাশা ইউপি সদস্য আবুল খয়ের বলেন, ‘তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে আমতৈল গ্রাম। ইউনিয়ন পরিষদের জরিপ অনুযায়ী, এ গ্রামের দেড় শতাধিক শিশু প্রতিবন্ধী ও প্রায় ৫০ জন বয়স্ক প্রতিবন্ধী রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ৫০-৬০ জন শিশু-বয়স্ক প্রতিবন্ধী ভাতা পান।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এটি একটি ঘনবসতি গ্রাম। দরিদ্রতা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পুষ্টিহীনতার কারণে এ গ্রামের লোকজন নানা রোগে ভুগছে। এ গ্রামের বেশির ভাগ পরিবারেই প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। তাদের ভাতার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রহমান বলেন, ‘গর্ভকালীন মায়েদের অসচেতনতা ও অপুষ্টিজনিত কারণেই মূলত শিশুরা প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মাচ্ছে। তবে সময়মতো ডাক্তারের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করলে এ সমস্যা নিরসন হবে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল আল জুবায়ের বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তবে ওই গ্রামটি শিগগিরই পরিদর্শন করে বঞ্চিত প্রতিবন্ধী লোকজনের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest