সর্বশেষ সংবাদ-
জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ: থানায় জিডিসাংবাদিক আলিমের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোকসাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম আর নেইস্মার্ট মেডিকেল সেন্টারে ডাঃ শিহাবের তত্ত্বাবধানে শুরু হলো অত্যাধুনিক লিভারের পরীক্ষা ফাইব্রোস্ক্যানসাতক্ষীরায় পাঁচ দিনে ৭২ ডেঙ্গু রোগী, সচেতনতায় বাড়ি বাড়ি স্বেচ্ছাসেবকবিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় মাছের পোনা অবমুক্তসাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্তে পুশ-ইনের অপচেষ্টা বিএসএফের : প্রতিহত করল বিজিবিসাতক্ষীরায় অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল পৌরসভাসাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে ২৫টি মুভেবল স্কিপ বিন ও ৪টি বর্জ্য সংগ্রহ ভ্যান হস্তান্তরদেবহাটায় ইছামতীর পাড়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

নির্বাচনের সময় বিদেশ থাকতে দুই শতাধিক কর্মকর্তা ছুটি চান

অনলাইন ডেস্ক: আগামী নির্বাচনের সময় দেশের বাইরে থাকতে চান সরকারের অন্তত দুই শতাধিক কর্মকর্তা। ওই সময়টায় ছুটি চেয়ে ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন এসব কর্মকর্তা। কিন্তু সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এ মুহূর্তে দেশের বাইরে কোনো মন্ত্রণালয়ের খুব জরুরি কোনো কাজ না থাকলে কাউকে ছুটি দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান খুব কঠোর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি মাসেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই মাসের শেষ দিকেই ছোট আকারে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে অথবা জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই নির্বাচনের আগ মুহূর্তেই সরকারের উপ-সচিব, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব এমনকি সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা মিলিয়ে দুই শতাধিক আমলা ছুটির আবেদন করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। এই সময়টায় তারা থাকতে চান দেশের বাইরে। নির্বাচনের পর জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে তারা দেশে ফিরতে চান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এসব আমলা নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তারা অসুস্থতা এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের অজুহাত দেখিয়ে বিদেশে যেতে চেয়ে ছুটির আবেদন করেছেন। তাদের বেশিরভাগই আবেদন করেছেন লম্বা সময়ের জন্য ছুটি চেয়ে। একটি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা একটি টিমের নেতৃত্ব দিয়ে সম্প্রতি এক সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে গেছেন। তিনি জানান, একটি দেশ তাদের কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ারের জন্য তাকে এবং তার টিমকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য টিম নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার ছুটি মঞ্জুর করতে তাকে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অন্তত দুই শতাধিক কর্মকর্তা নানা অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। এ কারণে তাকে এবং টিমকে ছুটি দেওয়া হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত আমন্ত্রণকারী দেশের সহযোগিতায় তারা যেতে পেরেছেন। সরকারের একজন সচিব জানান, অসুস্থতাসহ নানা অজুহাতে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য বহু সংখ্যক কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলে জানতে পেরেছেন। তবে এসব ছুটি কোনোভাবেই মঞ্জুর করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান খুবই কঠোর।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১০ বছরের শাসনামলে সরকারের আমলারা সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। বেতন ভাতা বাড়ানো থেকে শুরু করে পদ না থাকার পরও দফায় দফায় পদোন্নতি, বাড়ি-গাড়ির জন্য ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ নানা রকম সুবিধা নিয়েছেন। পদ না থাকলেও উপ-সচিব থেকে যুগ্ম-সচিব, যুগ্ম-সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব এবং অতিরিক্ত সচিব থেকে সচিব এবং সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হয়েছেন বহু আমলা। অথচ এখন নির্বাচনের আগমুহূর্তে সুবিধাভোগী এসব কর্মকর্তার অনেকেই ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করেছেন। সরকারের একজন মন্ত্রীর একান্ত সচিব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগেও এরকম অনেক কর্মকর্তা দেশের বাইরে থাকার জন্য ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ও তাদের ছুটি দেওয়া হয়নি। এবারও সুবিধাবাদী কর্মকর্তারা ছুটির আবেদন করেছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। সরকারের কাছ থেকে সব সুবিধা নিয়ে নির্বাচনের আগে ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে জানতে গত রাতে একাধিকবার জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমড়ার পুষ্টিগুণ

আমড়ার পুষ্টিগুণ

কর্তৃক daily satkhira

অনলাইন ডেস্ক: অন্যান্য ফলের মধ্যে সুস্বাদু একটি হলো আমড়া। বাংলাদেশে পুষ্টিকর এই ফলটির দু’টি প্রজাতির চাষ হয়। দেশি আমড়া ও বিলাতি আমড়া। বিলাতি আমড়া দেশি আমড়ার মতো টক নয়। এটি খেতে টক-মিষ্টি স্বাদের। এতে শাঁস বেশি, আকারেও বড়। বিলাতি আমড়া কাঁচা খাওয়া হয়। বিলাতি ও দেশি দই’ধরনের আমড়া থেকেই সুস্বাদু আচার, চাটনি এবং জেলি তৈরি করা যায়। তরকারি হিসেবে রান্না করেও আমড়া খাওয়া যায়। মুখে রুচি বৃদ্ধিসহ অসংখ্য গুণাগুণ রয়েছে আমড়া। গোল্ডেন আপেলখ্যাত আমড়ার বৈজ্ঞানিক নাম Stondia Dulcis। এটি Anacardiaceae পরিবারভুক্ত। আমড়ায় জলীয় অংশ ৮৩.২, খনিজ ০.৬, লৌহ ০.৩৯, আঁশ ০.১, চর্বি ০.১, আমিষ ১.১, শর্করা ১৫, ক্যালসিয়াম ০.৫৫ শতাংশ।

পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমড়ায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম আর আঁঁশ আছে, যেগুলো শরীরের জন্য খুব দরকারি। হজমেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তেল ও চর্বিযুক্ত খাদ্য খাওয়ার পর আমড়া খেয়ে নিতে পারেন; হজমে সহায়ক হবে। আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় এটি খেলে স্কার্ভি রোগ এড়ানো যায়। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধেও লড়তে পারে আমড়া। অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে দেয়।

সর্দি-কাশি-জ্বরের উপশমেও আমড়া অত্যন্ত উপকারী। শিশুর দৈহিক গঠনে ক্যালসিয়াম খুব দরকারি। ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস এই আমড়া। শিশুদের এই ফল খেতে উৎসাহিত করতে পারেন। এছাড়া এটি রক্তস্বল্পতাও দূর করে। কিছু ভেষজ গুণ আছে আমড়ায়। এটি পিত্তনাশক ও কফনাশক। আমড়া খেলে মুখে রুচি ফেরে, ক্ষুধা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

আমড়ায় থাকা ভিটামিন সি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। খাদ্যে থাকা ভিটামিন এ এবং ই এটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে। দাঁতের মাড়ি শক্ত করে, দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত, পুঁজ, রক্তরস বের হওয়া প্রতিরোধ করে আমড়া। এর ভেতরের অংশের চেয়ে বাইরের খোসাতে রয়েছে বেশি ভিটামিন সি আর ফাইবার বা আঁশ, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। আর আঁশজাতীয় খাবার পাকস্থলী (স্টমাক), ক্ষুদ্রান্ত, গাছহদন্ত্রের (পেটের ভেতরের অংশবিশেষ) জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির বৈঠক চলতি মাসে

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্ধারণ ও সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে ১৫ অক্টোবর কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন নির্বাচন ভবনে সকাল ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে চলতি মাসের শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করবেন নির্বাচন কশিমনাররা। এজন্য ইসি ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে সময় চেয়ে রাষ্ট্রাপতির কাছে চিঠি দিয়েছে।
ইসি কর্মকর্তরা জানান, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একারণে আগামী ১৫ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বসছে কমিশন।
ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্তি সচিব মোখলেছুর রহমান বলেন, সংসদ নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি আমরা আগামী বৈঠকে কমিশনকে অবহিত করব। নির্বাচনী সরঞ্জাম ক্রয় বিষয়ে জানানো হবে। এছাড়া ব্যালট মূদ্রণের জন্য কাগজ ক্রয়সহ বিজি প্রেসের সঙ্গে আলোচনা ও প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করা হবে। তবে কোন দিন সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তা বলতে রাজি হয়নি তিনি।
গত ৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আগামী ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এবার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। এজন্য সরকারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরের দিন প্রধান র্নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, অর্থমন্ত্রী ভোটের তারিখ বলে কাজটা ঠিক করেন নি। তবে গত কয়েক মাস ধরেই সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা বলে আসছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় গত ৬ অক্টোবর নির্বাচনী সফরে সুনামগঞ্জে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে- এটা আমরা বলিনি। উনারা উনাদের হিসাব মতো বলেছেন।
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে আসন ভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রস্তুতি করে সব অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত করা হয়েছে ভোট কেন্দ্র। এবার মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজার ১৯৯টি। ভোট কক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে।
ইসির ক্রয় ও মূদ্রণ শাখা সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ৩৪ লাখ ৪০ হাজার স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ৬ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ স্ট্যাম্প প্যাড, ১৭ হাজার ৪২০ কিলোগ্রাম লাল গালা, ৫ লাখ ৭৮ হাজার অফিসিয়াল সিল, ১১ লাখ ৫৬ হাজার মার্কিং সিল, ৮৭ হাজার ১০০ ব্রাশ সিল, ৬ লাখ ৬৫ হাজার অমোচনীয় কালীর কলম কেনা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার রিম কাগজ কেনার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ ভয়াল গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

দেশের খবর: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দুই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ (বুধবার)। ১৪ বছর এক মাস ২০ দিন পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকায় ১ নম্বর অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করেন।
ভয়াবহ সেই গ্রেনেড হামলার অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

ভয়াল সেই দিন
সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে ২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরুর ঘোষণা দেন। শেখ হাসিনা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড।
সেদিনের সেই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী।

মতিঝিল থানায় মামলা
ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলাটি যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন
২০০৪ সালের ২২ অগাস্ট বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে চেয়ারম্যান করে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে সরকার। মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় ২ অক্টোবর কমিশন সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে ইঙ্গিত করে যে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পেছনে একটি শক্তিশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত ছিল।
অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছিল ভাড়া করা দুর্বৃত্তদের মাধ্যমে। এসব লোক প্রধানত একটি সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডারদের মধ্য থেকে নেয়া হয়, যাদের সমাবেশে ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়ার মতো ভালো জ্ঞান ছিল।
যদিও ওই প্রতিবেদনে বিদেশি শক্তি বলতে কোনো দেশের নাম বলা হয়নি।

জজ মিয়ার নাটক
২০০৫ সালের ৯ জুন গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগের একটি চায়ের দোকান থেকে জজ মিয়াকে আটক করে সেনবাগ থানা পুলিশ। ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তের এক আলোচিত অধ্যায় হলো জজ মিয়া নাটক।

গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। এরপর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। জবানবন্দিতে জজ মিয়া বলেন, তিনি আগে কখনও গ্রেনেড দেখেননি; গ্রেনেড ও বোমার মধ্যে পার্থক্যও তিনি জানেন না। পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড় ভাইদের নির্দেশে তিনি অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন। সেই বড় ভাইরা হচ্ছেন- সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, জয়, মোল্লা মাসুদ, মুকুল প্রমুখ।

২০০৬ সালের আগস্টে এই নাটকের পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন। জজ মিয়াকে গ্রেফতারের পর থেকে সিআইডি তার পরিবারকে মাসে মাসে ভরণপোষণের টাকা দিয়ে আসছে। জজ মিয়াকে এই মামলায় রাজসাক্ষী করতে সিআইডির প্রস্তাবের কথাও ফাঁস করে দেন জোবাদা খাতুন।
এরপর নানা ঘটনাপ্রবাহের পর ২০০৮ সালে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি।
পরে আদালত এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। ২০০৯ সালে মুক্তি পান জজ মিয়া।

২০০৮ সালে প্রথম অভিযোগপত্র
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আখন্দ।

২০১১ সালে সম্পূরক অভিযোগপত্র
গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ।
এর আগের চার্জশিটে ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। নতুনভাবে অভিযুক্তদের মধ্যে স্থান পান বিএনপি নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ উল্লেখযোগ্য।
এতে জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও জেএমবি সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। ফলে এ মামলায় এখন আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে। এর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন ৩১ জন।

মামলার বিচার শুরু
২০১২ সালের ২৮ মার্চ গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫২ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার অনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
মামলায় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমানসহ ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচারকার্য শুরু হয়৷ আদালত ৬১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। মামলার সাক্ষ্য শেষ হয়েছে ২০১৭ সালের ৩০ মে। সাফাই সাক্ষী ১২ অক্টোবর শেষ হয়েছে।

বিচারের দীর্ঘসূত্রতার পেছনে দায়ী কারা?
মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে পরস্পরকে দায়ী করেছেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত শেষ করতে সময় লেগেছে অনেক দিন। অপরদিকে মামলার সাক্ষীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ করতে কিছুটা সময় লেগেছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বারবার সময়ের আবেদন কারণে বিচারকার্য শেষ করতে সময় লেগেছে। এছাড়া যুক্তি উপস্থানে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অনেক সময় নিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, মামলার সাক্ষী বেশি হওয়ায় তাদের জেরা করতে সময় লেগেছে। এছাড়া মামলার যুক্তি উপস্থাপনে সময় লেগেছে অনেক। তাই মামলাটির বিচার শেষ করতে সময় লেগেছে।

বিচারপ্রক্রিয়া শেষ ১৮ সেপ্টেম্বর
গত ১৮ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। এদিন জামিনে থাকা আট আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩১ আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।

রায় নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা যা বলছেন
‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপির কেউ জড়িত ছিল না’- এমন দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মামলায় জড়িয়েছে। আমি হলফ করে বলতে পারি, তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর- তারা কেউ ২১ আগস্ট হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কারণ, যে কোনো হত্যাকাণ্ডের একটা মোটিভ থাকে। এই হামলায় বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী) কে হয়েছে? আওয়ামী লীগ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটাকে ইস্যু করে বিএনপিকে ধ্বংস করছে, বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে।’

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ন্যায় বিচার চাই। আমি নিজেও তো এই হামলায় আহত হয়েছি। আমাদের নেত্রীর (শেখ হাসিনা) একটা কানের শ্রবণশক্তি চলে গেছে। আইভি রহমানসহ ২৪ জনের প্রাণের প্রদীপ চিরদিনের মতো নিভে গেছে। কাজেই এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলাদেশে হবে না- তা কখনও হতে পারে না।’
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় একজন ভিকটিম ও মামলার সাক্ষী হিসেবে ওই মামলার সঙ্গে যুক্ত আমি। মামলার আসামি তারেক রহমান, বাবরসহ প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি জানাচ্ছি।’

আইনজীবীদের প্রত্যাশা
রাষ্ট্রপক্ষ সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছেন। অপরদিকে আসামিপক্ষ খালাসের দাবি করছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।’
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। রায়ে আসামিরা খালাস পাবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় উদ্ধার হওয়া ৩’শ বিঘা খাস সম্পত্তি দেখভালকারীদের হয়রানির অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ভূমিদস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া সদরের রইচপুরে বিলা আবাদানির ৩’শ বিঘা সম্পত্তির স্থানীয় দেখভালকারী পৌর কাউন্সিলরসহ কয়েকজনকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন । ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন ভাবে আইন শৃঙ্খ্যলা বাহিনীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছর ধরে পলাশপোল মৌজায়, বিল আবাদানি জে এল নং- ৯৪, ডি এস খতিয়ান ১৯৯৪, দাগ নং- ৪২৩১ জমির পরিমাণ ৫২ শতক, ৪২৩৮ দাগে ৭৪ এ কর ৩৪ শতক, ১২৮০ দাগে ১১৮ একর ৪ শতক ৩টি দাগে ১৯২ একর ৯০ শতক সম্পত্তি। উক্ত সম্পত্তি ইটাগাছা এলাকার মৃত. মাদার মন্ডলের ছেলে মৃত ইমান আলি মন্ডল ৪১ একর ৩৭ শতক, রইচপুর এলাকার মৃত. আতিয়ার রহমানের ছেলে রুহুল কুদ্দুস ১২ একর ৩৭ শতক, মাহাজান সরদার গং ১৪ একর ৩৫ শতক, মফিজউদ্দীন গং ২ একর ৬৬ শতক আসমেত খা গং ৮ একর ৬৮ শতক, মহম্মাদ গং ২ একর, আবু তাহের গং ১ একর ৩১ শতক, আলহাজ্ব নুরুল আমিন হাজী গং ১২ একর ২ শতক জমি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে ভোগদখল করে আসছিলো।
ভূমিদস্যুরা স্বাধীনতার পর থেকে সরকারি জমি দখলে নিয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে সরকারকে বঞ্চিত করছিলো এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে পৌর ৭নং ওয়ার্ডস্থ রইচপুর সাতক্ষীরা মৌজা এলাকা থেকে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে সরকারি জমি উদ্ধার করেন সীমানা নির্ধারণ করে দেন।
এসময় ১নং খাস খতিয়ানের ৩’শ বিঘা জমি মাপ যোগ করে লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড উত্তোলন করা হয়। উদ্ধারকৃত সম্পত্তি রক্ষাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার হয় ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর আলম কালু, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ফারহা দিবা খান সাথী ও আওয়ামীলীগ রুহুল কুদ্দুসসহ স্থানীয় কয়েকজনদের।
সে অনুযায়ী ওই উদ্ধারকৃত সম্পত্তি তারা দেখভাল করে যাচ্ছেন। অথচ ইটাগাছা এলাকার মৃত ইমান আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান সুমন,সুলতানপুর এলাকার জুয়েল, নাশকতা মামলার আসামী বিএনপি রইচপুরের মশারফ মাষ্টারের ছেলে কামরুজ্জামান পলাশ, একই এলাকার মহাজন সরদারের ছেলে আলহাজ্ব নূরুল আমিন, দ্বীন মোহাম্মেদ’র ছেলে বিএনপি নেতা মোস্তাক আহম্মেদ, বাগবাটি এলাকার ভদুবাগের ছেলে ভীমবাগ, রইচপুরের আবু সালেকের ছেলে মোহনসহ কয়েকজন প্রায় রাতে ওই স্থানে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করছেন এবং উক্ত সম্পত্তির মাছধরে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এঘটনায় তারা চরমনিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এব্যাপারে পৌর কাউন্সিলর ও ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু জানান, ভূমিদস্যুদের কবল থেকে উদ্ধারকৃত ৩’শ বিঘা সরকারি জমি আমার এলাকায় হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসাবে সাবেক জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে মৌখিক দায়িত্ব অর্পন করে সরকারি সম্পত্তি দেখভালের জন্য। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আমি ও আমার লোকজন দায়িত্বের সাথে সরকারি সম্পত্তি দেখভাল করে আসছি। কিন্তু যারা এই সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখলে রেখেছিলো তারা নিত্য দিন আমার ও আমার লোকজনদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যাচার করছে। ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এমনকি বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করে আমাদের নাজেহাল করে দিচ্ছে। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা খ্রীষ্টিয়ান ফেলোশীপ কমিটি গঠন

 

সাতক্ষীরা সদরের খ্রীষ্টিয়ান সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা খ্রীষ্টিয়ান ফেলোশীপ কমিটি(এসসিএফসি) গঠন করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার ঝুটিতলায় এ,জি,চার্চে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নেতৃবৃন্দরা হলেন, উপদেষ্টা রেভাঃ ফাদারা লরেন্স ভ্যালোতী, সভাপতি পাষ্টর রবীন্দ্র নাথ মন্ডল, সহ-সভাপতি ক্যাঃ ডমিনিক মন্ডল, সম্পাদক পাষ্টর নেলসন দাস, সহ-সম্পাদক পাষ্টর রনজিত বিশ^াস, কোষাধ্যক্ষ রেভাঃ থিয়ফিল গাজী, প্রচার সম্পাদক রেভাঃ জয়দেব দাস, সদস্য পাষ্টর পবিত্র সরকার, পাষ্টর জীবন বিশ^াস, পাষ্টর সুরঞ্জন দাস। কমিটিতে সহযোগী চার্চ প্রতিষ্ঠান হিসাবে রয়েছে, বাটকেখালী ক্যাথলিক চার্চ, বাবুলিয়া শালোম চার্চ, বাবুলিয়া বিবিসি এফ চার্চ, ঝুটিতলায় এজি চার্চ, ধুলিহরের চার্চ অব নাজেরিন, সাতক্ষীরা ফেইথ বাইবেল চার্চ, গোপীনাথপুরের টালিথাকুমী চার্চ, মাছখোলা ব্রেড অব লাইফ চার্চ ও তাদের সকল শাখা চার্চ।
খ্রীষ্টি ভ্রাত্বত্ববোধ বৃদ্ধি, অসহায় নির্যাতিত খ্রীষ্টানদের পাশে দাড়ানো, আন্ত:মান্ডলিক কবরস্থান স্থাপন ও আধ্যাতিক উন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উক্ত কমিটি কাজ করবে বলে জানান নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মমতাময়ী মা —-বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষ

 

আবারও বহিছে আনন্দ মনে
মমতাময়ী মা এসেছে ভূবনে
সেজেছে প্রকৃতি আপন রূপে
রবি’র কর ঝলমলিয়ে।

বাহ্যিক উন্নতি শিক্ষা প্রযুক্তি
আকাশ চুম্বি সাফল্য মোদের
সমাজ রাষ্ট্র বিশ্ব বিবেক
অষুরদের গ্রাসে হচ্ছে নিঃশেষ।

আমরা বড্ড বেশি আত্মকেন্দ্রীক
ভুলতে বসেছি নিঃস্বার্থপরতার দর্শন
বিত্ত বৈভব ইন্দ্রিয় সুখের
তীব্র আকাক্সক্ষায় পর্যবসিত আজ।

হে মমতাময়ী মা
তোমার শুভ আগমনীতে
উদিত হোক নবপ্রাণের
নব উচ্ছ্বাসে মেতে উঠি
নিঃস্বার্থপরতার জয়গানে।।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বাল্য বিবাহ নিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : “বাল্য বিবাহকে না বলি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বাল্য বিবাহ নিরোধ দিবস-২০১৮ উপলক্ষ্যে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার আয়োজনে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। জিডিএফ সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তারাময়ী মুখার্জী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক মেহেরুন নেছা মহুয়া, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদিকা জোৎস্না দত্ত, শুভ সিবিও সভানেত্রী শামীমা পারভীন ডেইজি, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা অগ্রগতির নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সবুর বিশ্বাস, চুপড়িয়া মহিলা সংস্থার সভানেত্রী মরিয়ম মান্নান, স্বদেশের প্রোগ্রাম অফিসার আজহারুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, অপ্রাপ্ত বয়সে নারীদের বাল্য বিবাহ দিলে তাদের সন্তান জন্ম দিলে তারা অপুস্টিতে ভোগে। এছাড়াও অপ্রাপ্ত বয়সে নারীদের সন্তান প্রসবে মৃত্যুর ঝুকি থাকে। বক্তারা আরো বলেন, এক শ্রেনীর আইনজীবী ও কাজীর যোগ সাজসে এ সময় বাল্য বিবাহ নিরোধে সবাইকে এক যোগে কাজ করার আহবান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest