সর্বশেষ সংবাদ-
এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন

মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে মালয়েশিয়া

বিদেশের খবর: মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে মালয়েশিয়া। দেশটির মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করছে মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়ান সরকার।
বৃহস্পতিবার দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
হত্যা, অপহরণ, মাদকদ্রব্য পাচার, অস্ত্র দখলের কারণে মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ উপনিবেশিক আইন অনুযায়ী দেশটিতে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে গণ্য করা হয়।
দেশটির কমিউনিকেশন ও মাল্টিমিডিয়া মন্ত্রী গোবিন্দ সিং দিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। আশা করছি খুব দ্রুত সংশোধিত আইনটি পাস হবে।
দেশটির মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে দাবি জানিয়ে আসছে। এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগতও জানিয়েছেন তারা।
মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে এমন আইনজীবীদের সংগঠনের উপদেষ্টা এন সুরেন্দ্রান এমন সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, মৃত্যুদণ্ড রায় হলো বর্বর, ভয়াবহ নিষ্ঠুর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মোদিকে আম্বানির প্রধানমন্ত্রী বললেন রাহুল

বিদেশের খবর: ফরাসি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রাফায়েল কেনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে ভারতে। আর এই যুদ্ধবিমান ক্রয় কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে আগামী বছরে অনুষ্ঠিতব্য লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাফায়েল চুক্তিকেই প্রধান অস্ত্র বানাতে চাইছে ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস।
এদিকে, ক্রয় প্রক্রিয়া জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন দেশটির সুপ্রিমকোর্ট। সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের স্বীকারোক্তি। সেইসঙ্গে দেশটির সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট। মোক্ষম সব অস্ত্র হাতে নিয়েই বৃহস্পতিবার মোদির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ করেছে রাহুল গান্ধী।
এবার মোদিকে সরাসরিই ‘দুর্নীতিবাজ’ বলে অভিহিত করেছেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘মোদি অনিল আম্বানির প্রধানমন্ত্রী।’
সরকার রাফাল কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতেই ‘তাড়াতাড়ি’ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে ফ্রান্স পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার মোদির সমালোচনা করে রাহুল বলেন, মোদি ও তার সরকার গরিবদের অর্থ শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। খবর এনডিটিভির।
২০১৬ সালে করা রাফাল চুক্তিতে সরকার বড় অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ তোলে বিরোধী দলগুলো। এতে বলা হয়, দুই-দুইবার করে করা হয়েছে এই চুক্তি। সেটা ভারতের কোম্পানি রিলায়েন্সের মালিক আম্বানি গোষ্ঠীর স্বার্থেই। ধনকুবের ব্যবসায়ী অনিল আম্বানির ভুইফোঁড় সংস্থা রিলায়েন্স ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজকে কাজ পাইয়ে দিতে পুরনো চুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তি করা হয়।
সম্প্রতি ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ চুক্তির অনিয়ম স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভারতে বিমান তৈরির কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিল আম্বানির কোম্পানির নামই প্রস্তাব করে মোদির সরকার। আম্বানির সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভারত সরকার চাপও দিয়েছিল। এরপর থেকেই রাফাল নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে আসছেন রাহুল।
এর মধ্যে বুধবার সুপ্রিমকোর্ট রাফাল চুক্তির সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত যাবতীয় নথি তলব করেছেন। এ নিয়ে রাতেই টুইট করে মোদিকে নিশানা করেন রাহুল। বলেন, এটা এখন পরিষ্কার, রাফাল চুক্তি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীই।
কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এখন এটা পুরোপুরি পরিষ্কার যে, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্ত। আবারও বলছি, প্রধানমন্ত্রী একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। অথচ ক্ষমতায় আসার সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রচারের মূল সুরই ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই।’
জনগণকে উদ্দেশ্য করে রাহুল আরও বলেন, ‘তিনি (মোদি) আসলে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী নন। তিনি অনিল আম্বানির প্রধানমন্ত্রী।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দু’দফা বৈঠক বা‌তিল; জাতীয় ঐ‌ক্যে টানা‌পো‌ড়েন

দেশের খবর: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সরকারবিরোধী বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সাত দফা ও ১১ লক্ষ্যের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এই খসড়া জাতীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত করবেন। সে লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই দফা বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার এ বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতাই এভাবে বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণ।
সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যের শুরুতে যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক বিকল্পধারা বাংলাদেশের নানান শর্ত ও চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি খুব ভালোভাবে নেয়নি ঐক্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দল। সর্বশেষ বৈঠকেও জাতীয় নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দাবি উত্থাপন করেন বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। কিন্তু তার এই দাবির সঙ্গে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা দ্বিমত পোষণ করেন। তাদের বিরোধিতায় তখন বিষয়টি চাপা পড়লেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে বিকল্পধারা। আর এই জটিলতার কারণে দুই দফায় শীর্ষ নেতাদের বৈঠক স্থগিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে দেড়শ’ আসন দিয়ে অন্যান্য আসন যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে ভাগ করতে চান বিকল্পধারার নেতৃত্ব। তবে যুক্তফ্রন্টের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য এ মুহূর্তে আসন ভাগাভাগির চেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ঐক্য গড়ার বিষয়ে জোর দেয়। একইভাবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারাও আসন ভাগের চেয়ে দেশে সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিকে প্রাধান্য দিতে চান।

এদিকে, জাতীয় ঐক্যের রূপরেখা আর কর্মসূচি নির্ধারণে গতকাল দিনভর নানা নাটকীয়তায় নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন সংশ্নিষ্ট নেতারা। গণফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠকের বিষয়ে তাকেই কিছু জানায়নি লিয়াজোঁ কমিটি। এ কারণে বৈঠকটি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় স্থানান্তর হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানকার বৈঠকও বাতিল করেন নেতারা।

এ বিষয়ে জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব গতকাল রাতে কেবল বৈঠক স্থগিত হওয়ার কথা জানান। তবে জাতীয় ঐক্যের একাধিক সূত্র জানায়, বিকল্পধারার দাবি করা নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ বৈঠক বয়কট করায় তা আর হয়ে ওঠেনি। আ স ম রবের বাসায় ডাকা বৈঠকে বিকল্পধারাকে দাওয়াত দেওয়া না হলেও এই দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন জটিলতা এড়ানোর জন্য বৈঠকটিই বাতিল করা হয়।

জাতীয় ঐক্য গঠনে চলমান প্রক্রিয়ার শুরুতেই এই টানাপড়েনের বিষয়ে গণফোরামের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, বিষয়টি যুক্তফ্রন্টের সমস্যা। এই জোটের অন্য দল বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। তার মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুশাসনের দাবিতে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে চান। এ ক্ষেত্রে আগেই মন্ত্রী-এমপি নির্ধারণের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।

এ বিষয়ে যুক্তফ্রন্টের কোনো নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বিকল্পধারার আচরণে ক্ষুব্ধ হওয়ার কথা জানান।

সূত্র জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া একমত হলেও তারা এখন পর্যন্ত লক্ষ্য ঠিক করতে পারেনি। অভিন্ন দাবি-দাওয়া ঠিক হলেও যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা চান, আগে লক্ষ্য চূড়ান্ত করা, এরপর আন্দোলনে নামা। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গত ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট অভিন্নভাবে পাঁচ দফা দাবি ও নয় দফা লক্ষ্য উপস্থাপন করে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর সমাবেশ করে বিএনপি সাত দফা দাবি ও ১২ দফা লক্ষ্য উপস্থাপন করে। তিন পক্ষের দাবি-দাওয়া কাছাকাছি হওয়ায় সিদ্ধান্ত হয়- বৃহত্তর ঐক্যের ব্যানারে আন্দোলনে নামার আগে অভিন্ন দাবি ও লক্ষ্য চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্তের আলোকে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নয়জন নেতার সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যরা প্রথমে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের গুলশানের বাসায় এবং পরদিন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় বৈঠক করেন।

জানা গেছে, বিভিন্ন দাবি ও লক্ষ্যের একটি খসড়া নিয়ে গতকাল ড. কামাল হোসেনের বাসায় জাতীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠকটি ডাকা হয়, যা পরে আ স ম আবদুর রবের বাসায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির চাপে স্থগিত করতে হয়।

কাল ২০ দলীয় জোটের বৈঠক :সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসূচি নির্ধারণে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক আহ্বান করেছে বিএনপি। আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বড় ধর‌নের সংক‌টে বিএন‌পি

দেশের খবর: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির রাজনীতি ও দলের নেত্বত্বে কি কোনো প্রভাব পড়বে? এমনকি আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনের পথেও কি কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে? চৌদ্দ বছর পর বুধবার নৃশংস এ হামলার মামলার রায়ে দেশজুড়ে জনমনে, রাজনৈতিক অঙ্গন ও সুশীল সমাজে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় দলের শীর্ষ পদে তার থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ বলছেন, জাতীয় রাজনীতিতে এই রায় খুব একটা প্রভাব না ফেললেও বিএনপির রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। সংকটে পড়বে দলটি।
মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিরোধী দলের নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়। জনগণ এ রাজনীতি চায় না। রাজনৈতিক বিশ্নেষকদের কেউ কেউ বলছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দণ্ডিত হওয়ায় বিএনপি এখন নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। নির্বাচনী মাঠে দুই শীর্ষ নেতা নেতৃত্ব দিতে না পারলে নেতৃত্ব সংকটে পড়বে দলটি। আবার কোনো কোনো বিশ্নেষক বলছেন, তারেক রহমান ইতিমধ্যে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হয়েও দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কাজেই নতুন করে এ মামলার রায়েও বিএনপিতে তার নেতৃত্ব নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে না। অবশ্য একই সঙ্গে নেতৃত্বে থাকায় ‘নৈতিকতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একুশে আগস্টের খুনি হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত হন, সে দলের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ও অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীরা কীভাবে জাতীয় ঐক্য করেন? জনগণ এ ঐক্য কোনো দিনই গ্রহণ করবে না। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতারা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক রায়। এ রায় দলের রাজনীতি, নেতৃত্ব এবং জাতীয় ঐক্যে কোনো প্রভাবই পড়বে না। তবে নাম প্রকাশ না করে দলের অল্পসংখ্যক নেতা এ রায়ে দলে সুদূরপ্রসারী কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ রায়ে তারা হতাশ ও বিব্রত। এ কলঙ্কের বোঝা তাদের দীর্ঘদিন ধরেই বইতে হবে। যদিও প্রকাশ্যে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা বলছেন, তবে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এ বিষয়টি তারা যতই অস্বীকার করুক না কেন- জনগণকে এটি বোঝানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যতদিন উচ্চ আদালত থেকে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাসহ অন্য নেতারা নির্দোষ প্রমাণ না হবেন, ততদিনই বিএনপিকে এর দায় বহন করে যেতে হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতিতে অনেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের থাকার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। তবে আপাতত তারা এ রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলেই দাবি করে এর প্রতিবাদ জানানোর কৌশল নিয়েছেন। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তারা আশা করেন, উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই রায়ে বিএনপির রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশবাসী জানে, এই রায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম প্রথম চার্জশিটে ছিল না। পরে সরকারের নির্দেশে যুক্ত করা হয়েছে। এটা সরকারের ফরমায়েশি রায়। এ রায়ের মাধ্যমে সরকার আরেকটি নোংরা রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এটি বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্টের খুনি, মাস্টারমাইন্ড ও প্ল্যানার তারেক রহমান যাবজ্জীবন কারাদম্যোন, সেই খুনি দলের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী কোন নৈতিকতায় তথাকথিত জাতীয় ঐক্য করছেন? খুনিদের সঙ্গে করা জাতীয় ঐক্য জনগণ কোনোদিনই বিশ্বাস করবে না, সমর্থন এবং গ্রহণও করবে না।

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ঐক্যের অন্যতম উদ্যোক্তা গণফোরাম সভাপতি ও গণতদন্ত কমিশনের সাবেক প্রধান ড. কামাল হোসেন কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বুধবার যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রতিক্রিয়া দেবেন। গতকাল যোগাযোগ করলে তিনি আপাতত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঐক্যের আরেক উদ্যোক্তা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে এ রায় কোনো প্রভাব পড়বে কি-না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অবশ্য জাতীয় ঐক্যের অন্যতম উদ্যোক্তা ও জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন গতকাল বলেন, এটা খুব স্বাভাবিক, এ ধরনের একটি জঘন্য হিংসাত্মক কাজ রাজনীতিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে মামলার বিচারের রায় সম্পর্কে মতামত দেওয়ার এখনও সময় আসেনি। সর্বোচ্চ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও অনেক সময় লাগবে। কাজেই ওই পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জোট করার ব্যাপারে কোনো নৈতিকতার প্রশ্ন উঠবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত এ রায়ে ঐক্য গড়ার পথে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় প্রকাশ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটানো হয়। এই হামলা ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। ১৪ বছর আগের সেই লোমহর্ষক ঘটনার মামলার রায়ের প্রভাব কী হবে বাংলাদেশের রাজনীতি বা বিএনপির রাজনীতিতে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ড. দিলারা চৌধুরী বলছেন, রাজনীতিতে তার মতে এই রায়ে বাড়তি কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার মতে, তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এরই মধ্যে বিভিন্ন মামলায় দি দলের মধ্যে যে গভীর তিক্ততা তৈরি হয়েছে, সেটি কাটবে কি-না সন্দেহ আছে। হত্যাকাে র মধ্য দিয়ে একটা দল যদি আরেকটি রাজনৈতিক দলের মূল উৎপাটন করতে চায়- তার রাজনৈতিক দল তো সেটা ভুলে যাবে না।

বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সাজা হওয়ার পর অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ওই হামলার নৈতিক দায় কি বিএনপি এড়াতে পারে? ২০০৪ সালের বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলেই ঘটেছিল এ বর্বরোচিত হামলা। ঘটনায় ২৪ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নিহত এবং কয়েকশ’ আহত হন। তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে সাজানো হয়েছিল জজ মিয়া নাটক। ছয়বার পরিবর্তন হয়েছিল তদন্ত কর্মকর্তা। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার এমন নীলনকশা ইতিহাসে নজিরবিহীন বলা হয়েছে রায়ের পর্যবেক্ষণে। এর পরও এ দায় বিএনপি কীভাবে এড়াবে?

অবশ্য এ ঘটনার দায় বিএনপির ওপর বর্তায় না বলে দাবি করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে। তাকে জড়ানো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। তারেক রহমানের জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। তারপর ২০০৯ সালের পর কী হয়েছে- সেটা দেখতে হবে। আগে এফবিআই ও ইন্টারপোলের প্রতিবেদনে তার নাম আসেনি। এ ঘটনার বিচারের জন্য বিএনপি সরকার সব ধরনের চেষ্টা করেছে। সে সময় আওয়ামী লীগ সহযোগিতা করেনি।

অবশ্য বাংলাদেশে বড় কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে দায়িত্ব স্বীকার করে নেওয়ার সংস্কৃতি নেই বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা। তিনি বলেছেন, এ ঘটনার দায় বিএনপি এড়াতে পারে না। বিএনপি তখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতাসীন দল রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হলে পিছিয়ে থাকে। পিছিয়ে থাকলেও এক ধরনের ‘সহযোগিতা’ হয়। জনমনে বিশ্বাস তৈরি হওয়ার মতো কাজ দেখাতে হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ ৯ হাজার কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের (জুলাই-আগস্ট) প্রথম দুই মাসে ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৫ শতাংশ।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সর্বশেষ হাল নাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক আমানতের সুদের চেয়ে এখনও দ্বিগুণ মুনাফা মিলছে সঞ্চয়পত্রে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রবণতা ও বিনিয়োগে চলছে মন্দাভাব। তাই সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে নিট চার হাজার ২১ কোটি টাকার ঋণ এসেছে সঞ্চয়পত্র থেকে। এ সময়ে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ছয় হাজার ৭৩২ কোটি টাকা।
এরমধ্যে আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মূল ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৭১১ কোটি টাকা। সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় এক হাজার ৭১৫ কোটি টাকা।
এদিকে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় আট হাজার ২২৯ কোটি টাকা। ওই মাসে মূল ও মুনাফা পরিশোধে ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ফলে ওই মাসে সরকারের নিট ঋণ হয় হয়েছিল পাঁচ হাজার ৩৫ কোটি টাকা।
এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকে নিট বিক্রি বলা হয়। অর্থাৎ জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা দেয় সরকার। মেয়াদপূর্তির পরে বিনিয়োগকৃত অর্থও ফেরত দেয়া হয়। প্রতিমাসে বিক্রি হওয়া সঞ্চয় স্কিমগুলোর প্রাপ্ত বিনিয়োগের হিসাব থেকে আগে বিক্রি হওয়া স্কিমগুলোর মূল ও মুনাফা বাদ দিয়ে নিট ঋণ হিসাব করা হয়। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সুদহার
সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বর্তমানে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
এদিকে গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১২ মাসে মোট ৭৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে সরকার। এরমধ্যে মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৩২ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। মুনাফা পরিশোধ হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা শহরের ফুটপাত বেদখল!

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে ফুড অফিস পর্যন্ত দেড়শ’ গজ রাস্তার মধ্যে তিনটি গতিরোধক নির্মাণের পর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের বাসভবনের ফটকের সামনে রাস্তার ফুটপাত জুড়ে চলছে বালি ও নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা। ফলে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। শহরের কাছারিপাড়ার হাবিবুর রহমান, পোস্ট অফিস মোড়ের খোকা গাজীসহ কয়েকজন জানান, বিগত ছয় মাসের মধ্যেই পোস্ট অফিস মোড় থেকে ফুড অফিস পর্যন্ত সড়কের কোর্ট মসজিদে ঢোকার পথে, রেজিস্ট্রি অফিসের বাকে, জেলা ও দায়রা জজ সাহেবের বাসভবনের ফটকের সামনে নির্মিত হয়েছে তিনটি গতি নিরোধক। এ সব গতিরোধক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি নেওয়া হয়েছে কীনা তা তাদের জানা নেই। জজ সাহেবের বাসভবনের ফটকের প্রায় সামনেই ফুটপাত জুড়ে রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নাম কা ওয়াস্তে সভাপতি জোহর গাজী বালি বিক্রি করছেন। মোড়েই ছোট্টু ব্যানার্জীর স্মৃতিস্তম্ভের পাশে জোহর গাজীর ভাইয়ের চটপটি ও চপের স্টল। একইভাবে ফুড অফিস মোড় থেকে রেজিস্ট্রি অফিস দিকে যেতে রাস্তার দু’ধার জুৃড়ে ড্রেন বন্ধ করে জোহর গাজী বিক্রি করছেন ইট ও স্টোনচিপ। সঙ্গে রয়েছে মুরগি গুদাম ও বিক্রির সেন্টার। নামে রিক্সা ভ্যান চালক শ্রমিক নেতা হলেও মুরগি বিক্রির জন্য প্রতিদিন মাইকিং করে শহরবাসীকে অতিষ্ট করে তুলেছেন। বিগত থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেশ কয়েকজন মুরগি ব্যবসায়ির মাইকিং বন্ধ করলেও পারেননি জোহর আলীকে বশে আনতে। তবে পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় রাস্তার দু’ধারে আরো কয়েকটি দোকান গড়ে ওঠায় সেবগুলোও যানমাল রক্ষায় নিরাপদ নয় বলে জানা তারা। স্থানীয়রা জানান, ফুটপাত ব্যবহার না করতে পেরে রাস্তার উপর দিয়ে চলতে যেয়ে পথচারিরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়ছেন। তাছাড়া রাস্তার উপর ট্রাক রেখে মালামাল খালাস করার সময় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। জানতে চাইলে রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জোহর গাজী সাংবাদিকদের জানান, সারা শহরের ফুটপাত বেদখল হয়ে গেছে। সাংবাদিকরা সেটা দেখতে পায় না। যত কোপ তার উপর কেন। জনস্বার্থে তিনি কোন ক্ষতি করতে চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রিক্সা না চালালে কি ওই শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হওয়া যাবে না?

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মধ্য‌বিত্ত‌দের টান‌তে দে‌শের সকল প্রাইমা‌রি স্কুলের আধু‌নিকায়ন হ‌চ্ছে

অনলাইন ডেস্ক: দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মানসম্মত করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ স্কুলগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথমে ঢাকা মহানগরের ৩৪২টি সরকারি বিদ্যালয়কে নতুনভাবে সাজানো হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৬৪ হাজার বিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানো হবে।

সম্প্রতি সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সন্তান ভর্তি করতে আগ্রহ নেই অধিকাংশ অভিভাবকের। সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বিভিন্ন কেজি স্কুল এবং নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে চান তারা। এসব বিদ্যালয়ে পড়ালেখার মান খারাপ হওয়ায় তাদের আগ্রহ কম। কেবল নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এসব বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রাহী হচ্ছে না।

সব স্তরের শিক্ষার্থী টানতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, ভবন সংস্কার, প্রাচীর তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিদ্যালয়ের ভেতর-বাহিরে চাকচিক্য করে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ঢেলে সাজাতে সম্প্রতি একটি জরিপ করা হয়েছে। সেখানে ৩৭ শতাংশের বেশি স্কুলের ভবন ব্যবহারের অনুপযুক্ত বলে এ জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জরিপে দেখা গেছে, দেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে ৬৪ হাজার ১১২টি। ২০১৩ সালে নতুন জাতীয়করণ করা স্কুল রয়েছে ২৬ হাজার ১৯৩টি। ঢাকা মহানগর জুড়ে রয়েছে ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সারাদেশে মোট প্রাথমিক সরকারি স্কুলগুলোর ৩৭ শতাংশের বেশি স্কুলের ভবন ব্যবহারের অনুপযুক্ত। এসব স্কুলগুলো পাকা ও সেমি পাকা উল্লেখ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন দেখা গেছে, ২০১৩ সালের পূর্বের সরকারি প্রাথমিকের পাকা স্কুলগুলোর অবকাঠামো মাত্র ৪৭ শতাংশ ভালো পর্যায়ে রয়েছে। মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে ২৩ শতাংশ স্কুল। আর খারাপ পর্যায় রয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে ২৩ শতাংশ স্কুলের অবস্থা একেবারেই নাজুক, ব্যবহার অযোগ্য। সেমিপাকা স্কুলগুলোর মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ভবন ভালো মানের রয়েছে। প্রায় ১৮ শতাংশ স্কুলের অবকাঠামো মাঝামাঝি। খারাপ পর্যায়ে রয়েছে ২১ শতাংশ স্কুলের ভবনগুলোর অবস্থা। আর সেমিপাকা ৫৪ শতাংশ স্কুল একেবারেই অব্যবহারযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন জাতীয়করণ করা প্রাথমিক পাকা করা স্কুলগুলোর মধ্যে ৩২ শতাংশ স্কুলের ভবনগুলো ভালো পর্যায়ে রয়েছে। ২৫ শতাংশ স্কুল মোটামুটি ভালো পর্যায়ে রয়েছে। নতুন জাতীয়করণ করা পাকা স্কুলগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ একেবারেই ব্যবহারের অনুপযুক্ত।

এ পর্যায়ের সরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে আধাপাকা স্কুলের ২১ শতাংশ রুমগুলো খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। ৪২ শতাংশ স্কুল একেবারেই ব্যবহারের অনুপযুক্ত। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক সময় স্কুলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাঠদানও বন্ধ থাকে।

রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়াও পুরান ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১২টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৩০ জন করে। একটি রুমের মধ্যে চলছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। অথচ সেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন করে শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি বিদ্যালয়কে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হবে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকার সব বিদ্যালয় সংস্কার করা হবে।
পাশাপাশি ঢাকার এক রুমের মধ্যে পরিচালিত হওয়া ১২টি সরকারি বিদ্যালয়কে একটি বা দুটি স্থানে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে খেলার মাঠ, মানসম্মত ভবন তৈরি করে এসব বিদ্যালয়কে একত্রিত করার মধ্যে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রূপ দেয়া হবে। খালি স্থানে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তৈরি করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সব স্তরের মানুষের পড়ালেখার উপযোগী করে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে নতুনভাবে ভবন নির্মাণ, সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন করতে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং হিসেবে রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি স্কুলে নতুনভাবে সংস্কার কাজ করা হবে। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। চলতি মাসে এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হবে এ প্রকল্পের কার্যক্রম। এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শেষ হবে। ঢাকার কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
থানায় ‘জিডি’ করলেন মির্জা ফখরুল

দেশের খবর: রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফেসবুকে নিজ নামে ভুয়া আইডি থাকায় সেই আইডির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে তিনি এ জিডি করেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এই জিডি করা হয়। বিএনপির প্যাডে লেখা জিডির আবেদনে বলা হয়, ‘আমার নামে কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কে বা কারা চালু করেছে। আমি নিজে কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলিনি।’
এ প্রসঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। অথচ কে বা কারা তার নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest