সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তিপ্রদান ও পুরস্কার বিতরণীসাতক্ষীরায় কলেজের অধ্যক্ষকে পিটিয়ে বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের পর উল্টো বিভিন্ন অনলাইনে অপপ্রচারLes jeux de casino incontournables à essayer absolument sur GTBetদেবহাটায় কমিউনিটি শিশুদের জন্মদিন উদযাপনআশাশুনিতে ৮শ লিটার পেট্রোল জব্দ: ১০হাজার টাকা জরিমানাLes critères qui font de Boomerang Casino un choix incontournableসাংবাদিক জিন্নাহ’র ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের বিবৃতিদেবহাটা উপজেলাকে শিশু শ্রমমুক্ত করতে সুশীলনের অবহিতকরন সভা সাতক্ষীরায় এনটিভির সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম: জমির মালিককে আটকে রেখে নির্যাতনসাতক্ষীরায় বেশী দামে তেল বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা: দুই মাসের জেল

মিয়ানমারের বিচার ছাড়া শান্তি আসবে না; গণহত্যার প্রতিবেদন জাতিসংঘে

বিদেশের খবর: রাখাইন রাজ্যকে রোহিঙ্গাশূন্য করতে রোহিঙ্গা পুরুষদের হত্যা আর নারীদের ধর্ষণসহ যৌন নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমার বাহিনী। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ সত্যানুসন্ধানী দল গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে মিয়ানমার বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধবিষয়ক ৪৪৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ও সুপারিশ উত্থাপনকালে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনটিতে মিয়ানমার বাহিনীর অপরাধ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অন্তত ৫১ বার ‘গণহত্যা’, ৬৯ বার ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ এবং ২৫ বার ‘যুদ্ধাপরাধ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। সত্যানুসন্ধানী দল এর আগে গত ২৭ আগস্ট ২০ পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
মানবাধিকার পরিষদের গতকালের অধিবেশনে সত্যানুসন্ধানী দলের নেতা মারজুকি দারুসমান রাখাইনের তুলাতলি গ্রামে গণহত্যার তথ্য তুলে ধরে পুরুষদের নির্বিচারে হত্যা, নারীদের গণধর্ষণ, শিশুদের পানিতে বা আগুনে ছুড়ে হত্যার কথা জানান। তিনি বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি মিয়ানমারে বেসামরিক সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত হামলা।
মারজুকি দারুসমান বলেন, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ‘তাতমাদো’ ধর্ষণকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ৮০ শতাংশ রোহিঙ্গা নারী দলগত ধর্ষণের (গ্যাং রেপড) শিকার হয়েছে। ৪০ শতাংশ রোহিঙ্গা নারী দলগত গণধর্ষণের শিকার (মাস গ্যাং রেপড) শিকার। এটি পরিকল্পিত নয়, এমনটি বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ এখনো এমন ঘটনা ঘটছে দেশটির কাচিন ও শানে। রাখাইনে কম করে হলেও ১০ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাতমাদো দেশটিতে বিচারের ঊর্ধ্বে। যে পর্যন্ত তাতমাদোর বিচার না হবে সে পর্যন্ত শান্তি অর্জিত হবে না।

মারজুকি দারুসমানের সঙ্গে সত্যানুসন্ধানী দলের অন্য দুই সদস্য রাধিকা কুমারাস্বামী ও ক্রিস্টফার সিডোটিও মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ সামরিক অভিযান সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ ছয় কর্মকর্তার বিচার এবং তদন্ত কাঠামোর সুপারিশ করেন। সত্যানুসন্ধানী দলের সদস্যরা তাঁদের প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রশ্নেরও জবাব দেন। মানবাধিকার পরিষদের বেশির ভাগ সদস্যই তাঁদের সুপারিশের প্রতি সমর্থন জানান।

মারজুকি দারুসমান বলেন, গত বছর আগস্ট মাসে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চল আক্ষরিক অর্থেই অগ্নিশিখায় পরিণত হয়েছিল। ধ্বংস করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের ৩৭ হাজার বাড়িঘর। তিনি বলেন, ‘দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে বলতেই হচ্ছে, পরিস্থিতি যে এতটা ভয়াবহ তা আমরা শুরুতে ভাবিনি। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুস্পষ্ট আলামত থাকার মতো উপসংহারে আমাদের পৌঁছাতে হয়েছে।’

মারজুকি দারুসমান সত্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে উত্থাপিত তথ্যগুলোর সত্যতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁদের পাওয়া তথ্যগুলো অপরাধীদের নয়, বরং অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষেই কথা বলে। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো স্থান নেই। তাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারের চাপিয়ে দেওয়া বঞ্চনার মধ্যে চলতে হয়। তিনি বলেন, ২০১২ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য প্রচারণার মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হয়। ২০১৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী অপপ্রচারে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে।

মারজুকি দারুসমান বলেন, রোহিঙ্গাদের ‘বিদেশি’, ‘বেঙ্গলি’, ‘কালা’—এসব নামে ডাকা হয়। ধর্মীয় স্কুল, মিলিটারি একাডেমিতে এগুলো পড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এগুলো প্রচার করা হয়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর গত বছর বিধিনিষেধ আরো বেড়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্টে অভিযান শুরুর আগে প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করা হয়। তিনি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অন্যান্য অধিকারসহ আন্তর্জাতিক নজরদারির ব্যবস্থা রেখে মিয়ানমারে ফেরানোর ওপর জোর দেন।জাতিসংঘ সত্যানুসন্ধানী দলের নেতা বলেন, ‘জেনোসাইডের’ (গণহত্যা) সব শর্তই মিয়ানমার পূরণ করেছে। মিয়ানমারের সেনাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল—সেনাপ্রধানসহ এমন ছয় কর্মকর্তাকে তাঁরা চিহ্নিত করেছেন। তাদের বিচার করতেই হবে।

সত্যানুসন্ধানী দল জাতিসংঘের জন্য পাঁচটি সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো ১. মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের হোতাদের জন্য বিচারিক কাঠামো সৃষ্টি, ২. অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও কেস ফাইল তৈরি, ৩. মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে আরো সহায়তা প্রদান, ৪. মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য তহবিল গঠন এবং ৫. সত্যানুসন্ধানী দলের মেয়াদ বৃদ্ধি।

মিয়ানমারের প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে সত্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনকে ‘একপেশে’ অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় সত্যানুসন্ধানী দলের সদস্য রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, তাঁর দল কোনো একক উেসর ওপর নির্ভর করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেনি। তাঁরা তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেছেন। রোহিঙ্গাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করেছেন।

তাতমাদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন কিছু নয় উল্লেখ করে রাধিকা কুমারাস্বামী মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির এক বক্তৃতার প্রসঙ্গ টানেন। বর্তমানে মিয়ানমার বাহিনীর পক্ষে সাফাই গাওয়া সু চি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার আগে ২০১১ সালে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, তাঁর দেশ মিয়ানমারে যারা শান্তি চায় তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তাই তাতমাদোর ধর্ষণের স্বীকারোক্তি সু চির বক্তব্যেই আছে। সত্যানুসন্ধানী দলের অন্য সদস্য ডমিনিক সিডোটি বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়নের জন্য মিয়ানমারের জবাবদিহি অপরিহার্য, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।

মিয়ানমার থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ওপর বিচারিক এখতিয়ার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিডোটি বলেন, সেটিও মিয়ানমার সংকট সমাধানে যথেষ্ট নয়। কারণ এটি শুধু রাখাইন থেকে বহিষ্কার ইস্যুটিই দেখবে। তাই মিয়ানমারের ভেতর রাখাইনসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধগুলোর বিচারের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

মিয়ানমারের প্রতিনিধি গতকাল মানবাধিকার পরিষদে অভিযোগ করেছেন, সত্যানুসন্ধানী দল মিয়ানমারে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডমিনিক সিডোটি বলেন, সত্যানুসন্ধানী দল নয়, বরং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীই ৭০ বছর মিয়ানমারে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এখন সময় এসেছে মিয়ানমারের রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে সামরিক বাহিনীকে বের করে দেওয়ার। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দায়মুক্তিতে শান্তি আসবে না। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের ওপর ভিত্তি করে মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।

সত্যানুসন্ধানী দল তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার বাহিনীর নির্মূল অভিযানে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ৩৯২টি গ্রাম পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। অভিযান শুরুর পর থেকে এ বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত সাত লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এখন রাখাইনে সহিংসতা ও নিপীড়ন চলছে। এ কারণে প্রতি মাসে গড়ে এক হাজার ৭৩৩ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। সু চির সরকার জাতিসংঘ সত্যানুসন্ধানী দলকে মিয়ানমারে ঢুকতে দেয়নি। ওই দলটি পরে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে গিয়ে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া লোকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সত্যানুসন্ধানী দল তাদের প্রতিবেদনে রাখাইনে ৯টি হত্যাযজ্ঞের তথ্য যাচাই করেছে এবং বিশদভাবে তুলে ধরেছে। তারা ৫৪টি সহিংস ‘নির্মূল অভিযানের’ তথ্য যাচাই করেছে। রোহিঙ্গাদের ‘নির্মূল অভিযানের’ নেতৃত্বে ছিল মিয়ানমার বাহিনীর ৩৩ ও ৯৯তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন। তাদের সঙ্গে প্রায়ই অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী ও বেসামরিক সহযোগীরাও অংশ নিয়েছে।

সত্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যকে মর্মান্তিক ও ভয়ংকর বলে অভিহিত করেছে বেশির ভাগ দেশ। মানবাধিকার পরিষদে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও এর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বলেছেন, সত্যানুসন্ধানী দলের সুপারিশগুলো তাঁরা এই অধিবেশনেই প্রস্তাব আনবেন। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং বেশির ভাগ দেশ মিয়ানমারের বিচার, তদন্ত কাঠামো সৃষ্টির পক্ষে মত দিয়েছে। তবে চীন, রাশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় কয়েকটি দেশ মানবাধিকার পরিষদকে স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর এবং মিয়ানমারকে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে। মিয়ানমার ছাড়া সবাই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। একমাত্র মিয়ানমার বলেছে, প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ অমর নায়ক সালমান শাহর ৪৭তম জন্মদিন

বিনোদনের খবর: আজ ঢাকাই সিনেমার রাজকুমার নায়ক সালমান শাহর ৪৭তম জন্মদিন। তিনি বেঁচে থাকলে আজকের এই দিনটির প্রথম প্রহরের রঙ হতো অন্যরকম। ভক্তরা কেক আর ফুলের তোড়া নিয়ে ভিড় জমাতেন তার বাড়ির সামনে। নিরাপত্তা দিতে ছুটে আসতে হতো হয়তো আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে। কত রাত অবধি ভক্তরা দাঁড়িয়ে থাকতো, সেটার অঙ্ক করে উত্তর দেওয়া যে কঠিন। কারণ তিনি সালমান শাহ।
তিনি নেই, তাই বলে কী জন্মদিন পালন থেমে থাকবে? না, আজো উৎসবে মেতে উঠবে সালমান শাহ ভক্তরা। অকাল প্রয়াত নায়ক বাংলা সিনেমার রাজকুমার সালমান শাহর আজ জন্মদিন। এ উপলক্ষে নাগরিক টিভি বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বিকেল ৩টায় প্রচার হবে সালমান শাহ অভিনীত সুপারহিট সিনেমা মায়ের অধিকার। সন্ধ্যা ৬টার প্রচার হবে সালমান শাহ অভিনীত গান নিয়ে চিত্রালী। রাত ১১টায় সালমানের জন্মদিন উপলক্ষে প্রচার হবে বিশেষ নাগরিক ক্যাফে। অনুষ্ঠানে শিল্পী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আগুন ও সিথি সাহা।
এ অনুষ্ঠানে আগুন ও সিথি দু’জনই সালমান শাহর চলচ্চিত্রে অভিনীত একাধিক গান পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ চমক হিসেবে থাকছেন মিশা সওদাগর। নাগরিক স্টুডিও থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত এ অনুষ্ঠানে মিশা সওদাগর সালমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন।
সালমান শাহর অভিনীত প্রথম সিনেমা কেয়ামত থেকে কেয়ামত-এর জনপ্রিয় গানগুলোর গায়ক ছিলেন আগুন। নাগরিক টিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান বাবু বলেন, ‘সালমান শাহর জন্মদিনে নাগরিক দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিতেই এমন আয়োজন করছে। আশা করছি দর্শকদের অনুষ্ঠানগুলো ভালো লাগবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল হংকং

খেলার খবর: স্রেফ অভিজ্ঞতা নেই বলে এই অবস্থায় গিয়েও ম্যাচ হেরে গেছে হংকং। পেশাদার কোনো দল হলে নিশ্চিত, পরাজয় লেখা হতো ভারতেরই ললাটে। শুধুমাত্র অনভিজ্ঞ দল হওয়ার কারণেই, ওপেনিংয়ে ৩৪.১ ওভারে ১৭৪ রানের জুটি গড়ার পরও ভারতের কাছে হংকংকে হারতে হলো ২৬ রানের ব্যবধানে। ভারতের করা ২৮৬ রানের জবাব দিতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান করে হংকং।
এত কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে কখনও ভাবতে পারনি ক্রিকেটের মোড়ল ভারত। হংকংয়ের মতো পুঁচকে একটি দেশের কোনো ব্যাটসম্যানকে ৩৪ ওভার পর্যন্ত আউট করতে পারেনি ভারতীয় বোলাররা। হংকংও ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে রান তুলে ফেলেছিল ১৭৪।
ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে এ নিয়ে তিনবার ৩৩ ওভারের মধ্যে প্রতিপক্ষের ওপেনারদের উইকেট নিতে পারেনি বোলাররা। আগের দু’বার ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয়বার যোগ হলো হংকং।
হংকংয়ের দুই ওপেনার নিজাকাত খান এবং অংশমান রাথকে মনে হচ্ছিল যেন ভারতীয় বোলারদের সামনে বিশাল এক হিমালয় পর্বত। তাদেরকে নড়ানো যায় না, টলানো যায় না। ভুবনেশ্বর কুমার, খলিল আহমেদ, শার্দুল ঠাকুর, ইয়ুযবেন্দ্র চাহাল, কুলদ্বীপ যাদব এবং কেদার যাদব- এই ছয় বোলার একের পর এক চেষ্টা করেও পারেননি হংকংয়ের দুই ওপেনারের মধ্যে ফাটল ধরাতে।
অবশেষে এই জুটিতে ফাটল ধরাতে সক্ষম হলেন কুলদ্বীপ যাদব। অফ স্ট্যাম্পে ফেলানো বলকে অফ ড্রাইভ করতে গিয়ে অংশুমান রাথ ক্যাচ তুলে দেন কভারে দাঁড়ানো রোহিত শর্মার হাতে। শেষ পর্যন্ত পতন ঘটলো প্রথম উইকেটের। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো ভারতীয় সমর্থকরাও। ৯৭ বলে ৭৩ রান করে আউট হন হংকং অধিনায়ক। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা মারেন ১টি।
অপর ওপেনার নিজাকাত খান সেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৮ রানের আফসোসে পুড়তে হলো তাকে। ৯২ রানের মাথায় অভিষিক্ত খলিল আহমেদের বলে লেগ বিফোর হয়ে ফিরে যান সাজঘরর। বল মোকাবেলা করেন ১১৫টি।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে হংকংয়ের। ২২ রান করেন এহসান খান। ১৭ রান করেন কিঞ্চিত শাহ এবং ১৮ রান করেন বাবর হায়াত। ১২ রানে অপরাজিত থাকেন তানভির আফজাল। ভারতের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন খলিল আহমেদ এবং ইয়ুযবেন্দ্র চাহাল। ২ উইকেট নেন কুলদ্বীপ যাদব।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগামী ১০ অক্টোবর ২১ অগাস্ট মামলার রায়

দেশের খবর: ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ ৪৯ আসামির সাজা হবে কি না- সেই সিদ্ধান্ত জানা যাবে ১০ অক্টোবর।

হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা আলোচিত দুই মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মঙ্গলবার ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন রায়ের এই দিন ঠিক করে দেন।

আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, এনএসআইর সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জনকে যুক্তিতর্কের শুনানির শেষ দিনে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ এজলাসে হাজির করা হয়।

শুনানি শেষে রায়ের দিন ঠিক করে দিয়ে সাবেক তিন আইজিপি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউকসহ জামিনে থাকা আট আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার কাজ চলে।১৪ বছর আগে বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেওয়া ওই ঘটনার বিচার শুরুর আট বছর একমাস পর মামলা দুটি রায়ের পর্যায়ে এল। দণ্ডবিধি এবং বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের এ দুই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে মৃত্যুদণ্ড।

রাষ্ট্রপক্ষ বলে আসছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলকে নেতৃত্বশূন্য করতেই এই হামলা হয়েছিল এবং তাতে প্রত্যক্ষ মদদ ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতাদের।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের অভিযোগ, অধিকতর তদন্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেককে মামলাটিতে জড়ানো হয়েছে।

শেষ দিনের শুনানিতে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান যুক্তি উপস্থাপন বরেন। পরে সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী সৈয়দ রেজাউর রহমান।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রেজাক খান এবং রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলী মোশাররফ হোসেন কাজলও এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এসএম শাজাহান ভারতীয় পুরানের সীতা হরণ পর্ব থেকে উদ্ধৃত করে সেই রূপকের আশ্রয়ে বলেন, প্রসিকিউশনের হাতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে ওই ঘটনায় এ আসামিরাই জড়িত ছিল। এর ভিত্তিতে তিনি আসামিদের খালাস দেওয়ার আর্জি জানান।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সাক্ষীদের বক্তব্যেই উঠে এসেছে। এর ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান আদালতের কাছে।

রায়ের তারিখ ঠিক করে দেওয়ার আগে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন দুই পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা দুই পক্ষের সবাই বলেছেন। আমি একা একজন তা শুনেছি। এ দীর্ঘসময়ে এই এজলাসের সবকিছুই আমার আপন হয়ে গিয়েছিল। মামলার বিচারেও আমি কোনো ফাঁক রাখিনি।”

মামলার বিচারে সহযোগিতা করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী, উপস্থিত সাংবাদিক, আদালতকর্মী , আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান বিচারক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে বিচারক উদ্ধৃত করেন- ‘দণ্ডিতের সাথে. দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমানে আঘাতে. সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার’।
এরপর বলেন, “রায়ের দিন এলেই বোঝা যাবে, রায় কী হবে।”

মামলা বৃত্তান্ত:

হামলার পরদিন মতিঝিল থানার তৎকালীন এসআই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। থানা পুলিশ, ডিবির হাত ঘুরে সিআইডি এই মামলার তদন্তভার পায়।

ঘটনার চার বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ১১ জুন হত্যার অভিযোগ এবং বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি অভিযোগপত্র দেন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির।

জঙ্গি দল হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে সেখানে আসামি করা হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারও শুরু হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে।

সিআইডির বিশেষ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩ জুলাই আসামির তালিকায় আরও ৩০ জনকে যোগ করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন। সেখানে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ চার দলীয় জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের নাম আসে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে অধিকতর তদন্তে উঠে আসে। জানা যায়, হামলার বিষয়ে নোয়াখালীর জজ মিয়ার ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দেওয়ার বিষয়টি ছিল নাটক।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ সম্পূরক অভিযোগপত্রের আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। নতুন করে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার শুনানিতে বলা হয়, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি) সেদিন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালায়। আর তার পেছনে ছিল তখনকার চারদলীয় জোট সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ‘ইন্ধন’।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক শুনানিতে বলেন, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এ মামলায় মূল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ঘটনার পরিকল্পনাকারীদেরও ওই অভিযোগপত্রে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

“দেশ তখন পরিচালিত হচ্ছিল হাওয়া ভবন থেকে। হাওয়া ভবনের নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান। তিনি যেভাবে চালাতেন, সেভাবে কাজ হত। তারেক রহমান পাওয়ারে থাকায় ওই কুটিল চক্র তার কাছে যায়। আর ওসব ব্যক্তির (জঙ্গি) সঙ্গে তারেক রহমানের সুসম্পর্ক থাকায় তারা সম্মিলিতভাবে ক্ষমতার থাকার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সুবিধা দিয়ে ওই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।”

রাষ্ট্রপক্ষের ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে মোট ২২৫ জন এ মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন ২০ জন। মোট ১২০ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলা দুটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তার সৈয়দ রেজাউর রহমান আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা- আইনের বিধান অনুযায়ী আসামিদেরকে যেন সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক আনিত অভিযোগ ২২৫ জন সাক্ষীর মাধ্যমে সম্মানিত আদালতে সন্দেহের ঊর্ধ্বে থেকে আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি।”

‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ তারেকসহ অন্যদের নাম এ মামলার অধিকতর তদন্তে যোগ করার যে অভিযোগ আসামিপক্ষ করে আসছে- তা অস্বীকার করেন রেজাউর রহমান।

তিনি বলেন, “আসামি পক্ষের ওই বক্তব্য আমরা শুরু থেকেই বিরোধিতা করে এসেছি। দুটি মামলায় একজন আসামিও নেই যাদেরকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আসামি পক্ষের এই বক্তব্য অসার, যুক্তিহীন।”

আসামি যারা:

এ মামলায় মোট ৫২ জনের বিচার শুরু করেছিল আদালত। অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় ২১ অগাস্টের মামলায় মোট ৪৯ জনের রায় ঘোষণা করবে আদালত।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া তিনজনের মধ্যে সাবেক জোট সরকাররের মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

এছাড়া অন্য মামলায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ‘প্রশাসনিকভাবে ওই হামলার পরিকল্পনা’ এবং আসামিদের ‘পালাতে সহযোগিতা’ করেন।

মুদ্রা পাচারের এক মামলায় সাত বছর এবং জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজার রায় মাথায় নিয়ে তারেক রহমান দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন গত দশ বছর ধরে। তিনিসহ ২১ অগাস্ট মামলার ১৮ আসামি এখনও পলাতক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন- বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক এটিএম আমিন আহমদ, সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান।

এছাড়া জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গির আলম বদর, ইকবাল, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে আটক হয়েছেন বলে মনে করা হয়।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ছাড়া কারাবন্দি আসামিরা হলেন- এনএসআইর সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, আবদুর রহিম, শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, শেখ আবদুস সালাম, আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউছুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর ওরফে আবু হুমাইয়া ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিব উল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সায়ীদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গির আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামীম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামীম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।

এছাড়া খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক আইজিপি খোদাবক্স, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ ও ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ এতদিন জামিনে থাকলেও মঙ্গলবার তা বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

এদের মধ্যে রুহুল আমিন, মুন্সি আতিক এবং আব্দুর রশীদ জোট সরকার আমলে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অঙ্কুশের ২৩ নম্বর প্রেমিকা ঐন্দ্রিলা

বিনোদনের খবর: টালিউডের দুই তারকা অঙ্কুশ হাজরা ও ঐন্দ্রিলা সেন। নায়ক অঙ্কুশের সঙ্গে ছোট পর্দার দুষ্টু খ্যাত তারকা ঐন্দ্রিলা সেনের প্রেমের খবর সবার জানা। সম্প্রতি কলকাতার এক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তাদের প্রেম নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন ঐন্দ্রিলা। তাদের প্রেম নিয়ে অনেক অজানা কথায় উঠে এসেছে এখানে।
ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘অঙ্কুশ আমার প্রথম বয়ফ্রেন্ড। তবে ওর হিসাবটা আলাদা। ওর মায়ের কাছ থেকে জেনেছি, আমি অঙ্কুশের ২৩ নম্বর গার্লফ্রেন্ড।’ঐন্দ্রিলার চেয়ে অঙ্কুশ ছয় বছরের বড়। তাই সবসময় অঙ্কুশের কাছ থেকে তিনি পরামর্শ নেন বলেও জানান তিনি।
ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘অঙ্কুশ আমার ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় না। কোনো ব্যাপারে সংশয় থাকলে ওকে ফোন করে জেনে নিই কী করা উচিৎ হবে। ও আমাকে ভালো-মন্দ বলে দেয়। আর সিদ্ধান্তটা আমার ওপর ছেড়ে দেয়।’
অঙ্কুশ ও ঐন্দ্রিলার সম্পর্কের মধ্যে কোনো নেতিবাচক দিক নেই বলেও মনে করেন ঐন্দ্রিলা। তার ভাষ্য, প্রথম দিন থেকেই আমরা খুব ওপেন। নেগেটিভ তাদেরই আসে যারা লোক দেখানো বন্ধু বলে একে অপরকে। কিন্তু আমরা তেমন না। আমাদের পারসোনাল আর প্রফেশনাল লাইফ আলাদা। আমরা ঘুরছি, মজা করছি, এগুলো লুকিয়ে রাখার কি কোনো মানে আছে!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

 

জাহাঙ্গীর আলম (লিটন), কলারোয়া প্রতিনিধিঃ কলারোয়ায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা সম্মেলনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার বিকেলে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ ময়নুল হাসান, পৌর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক অধ্যাপক শেখ জাভিদ হাসান, ওয়ার্কার্স পার্টির অধ্যাপক আবুল খায়ের, সন্তোষ কুমার পাল, শেখ জুলফিারুজ্জামান জিল্লু, প্রদীপ কুমার পাল, আবু হায়াত বাবু, তৌহিদুর রহমান সাগর, মেহেদী হাসান পারভেজ, শাহনুর রহমান, ডা: পীযুষ কুমার, পূর্ণেন্দ্র কুমার ঘোষ, জালাল খাঁ, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক এমএ সাজেদ, আসাদুজ্জামান আসাদ ও আকবর আলি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর, রোববার বিকেল ৩ টায় কলারোয়া পাইলট হাইস্কুল চত্বরে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা সম্মেলন সফল করতে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফকে আহবায়ক, সন্তোষ কুমার পালকে যুগ্ম আহবায়ক ও অধ্যাপক আবুল খায়েরকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয় বলে পৌর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক অধ্যাপক শেখ জাভিদ হাসান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এফডিসিতে চলছে বিশ্বসুন্দরী বাছাইয়ের লড়াই

বিনোদনের খবর: আবারো শুরু হয়েছে বিশ্বসুন্দরী অন্বেষণের আয়োজন। এতে এবারো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৮’। গেল ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে কার্যক্রম।
অন্তর শোবিজের আয়োজনে এফডিসিতে মনোরম সেট তৈরি করে চলছে সুন্দরী বাছাই পর্ব। এরইমধ্যে হাজারো প্রতিযোগী থেকে সেরা ১৬ জনকে বাছাই করা হয়েছে। সেখান থেকেই খুঁজে নেয়া হবে সেরা সুন্দরীকে।
এবারে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, মডেল ও অভিনেত্রী তারিন, মডেল ও অভিনেতা খালেদ সুজন, মডেল ইমি, ব্যরিস্টার ফারাবী। অডিশন রাউন্ড থেকে পুরো প্রতিযোগিতায় তারাই বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। তবে গ্র্যান্ড ফিনালেতে আইকন বিচারকরা যোগ দেবেন।
এই আয়োজন থেকে উঠে আসা বিজয়ীকে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পাঠানো হবে মিস ওয়ার্ল্ডের চূড়ান্ত পর্বে। তিনি ৭ ডিসেম্বর চীনে মূল পর্বে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় যাওয়ার আগে প্রায় তিন মাসব্যাপী নির্বাচিত প্রতিযোগীকে গ্রুমিং করানো হবে বলে জানায় অন্তর শো বিজ।
অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘এখন নির্বাচনী সময়। তাই আমাদের আয়োজন করতে একটু দেরি হয়ে গেল। তবে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় নাম পাঠাতে হয়। তাই আমরা এবারের আয়োজন ১৬ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে চাই।’
এবারের অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন ডিজে সনিকা। খুব শিগগিরই এটিএন বাংলায় এর প্রচার শুরু হবে।
গত বছর মিস ওয়ার্ল্ড-এ বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন জেসিয়া ইসলাম। মূল আসরে সেরা ৪০ পর্যন্ত পৌঁছান তিনি। সেই আসরে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট মাথায় তোলেন ভারতের হরিয়ানার মেয়ে মানুষী চিল্লার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বড় স্কোরের পথে ভারত

বড় স্কোরের পথে ভারত

কর্তৃক daily satkhira

খেলার খবর: হংকংয়ের বিপক্ষে বড় স্কোর গড়ার দিকে এগুচ্ছে ভারত। দলটি ৩৮ ওভারের খেলা শেষে দুই উইকেট হারিয়ে করেছে ২১৬ রান।
মঙ্গলবার বিকেলে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর অধিনায়ক রোহিত শর্মা আউট হয়ে যান (২৩)। পরে শিখর ধাওয়ান ও আম্বাতি রাইডু দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন। এই দুজন ২০ ওভারের মধ্যে শত রান পূর্ণ করতে সক্ষম হন।
দলীয় ১৬১ রানে রাইডু আউট হন। মাঠ ছাড়ার আগে তিনি করেন ৬০ রান। অপরদিকে সেঞ্চুরি করে এখনও ব্যাটিং করে যাচ্ছেন ধাওয়ান।
ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের কাছে নাকানি-চুবানি খেয়েছিল হংকং। সেই দিক মাথায় রেখে মঙ্গলবার টস জিতে শুরুতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় দলটি। রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিয়ে বেশ লড়াকু মনোভাবেরই পরিচয় দিচ্ছিল দলটির বোলাররা। তবে বল গড়াতে থাকলে পরিস্থিতি ক্রমেই ভারতের নিয়ন্ত্রণে যায়।
আজকের ম্যাচে হেরে গেলে হংকংয়ের বিদায় হয়ে যাবে। শেষ চারে চলে যাবে ভারত ও পাকিস্তান। এই গ্রুপে উপমহাদেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ হবে আগামীকাল বুধবার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest