সর্বশেষ সংবাদ-
এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন

অনুমোদন পাচ্ছে আরও ২০ প্রকল্প

দেশের খবর: আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে উন্নয়ন প্রকল্প পাশের হিড়িক পড়েছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প। দু’দিন পরই আজ বৃহস্পতিবার একনেক উঠছে আরও ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প।
এর মধ্যে ভৌত অবকাঠামো বিভা এবং কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্পই বেশি। সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়নের প্রকল্প রয়েছে ৬টি, যেগুলো ভোটার তুষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া আরও ৩০-৪০টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গত ৫ বছরে দু’দিনের ব্যবধানে একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
পরিকল্পনামন্ত্রী বুধবার বলেন, নির্বাচনের সময় সাধারণত বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেন না। এ সময় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তাছাড়া আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে এমন পথ তৈরি করতে চাই, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ওই পথেই হাঁটতে পারেন। পরিবেশ তৈরি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উন্নয়নের গতি থামানো যাবে না। নির্বাচন চলবে, আবার উন্নয়নও হবে। কোনোটির জন্য কোনোটি স্থগিত করা ঠিক নয়। উন্নয়ন অব্যাহত রাখতেই ঘন ঘন একনেক বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নির্বাচনের দিন ছুটিও ঘোষণা করা হয় না। সবাই ভোট দিয়ে অফিসে চলে যান। সেখানে তো কোনো সমস্যা হয় না।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই প্রকল্প অনুমোদন এবং সংশোধন করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মন্ত্রণালয়গুলো।
ফলে প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণের চাপে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের। বিশেষ করে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এবং এলজিইডির প্রকল্প দেখভালকারী কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বেশি।

গত চারটি একনেক বৈঠক পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব বৈঠকে নতুন ও সংশোধিত মিলে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৬৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, একনেকে আজ যেসব প্রকল্প উপস্থাপন হচ্ছে তার মধ্যে ১৭টি রয়েছে তালিকায়, বাকি তিনটি সরাসরি টেবিলে যাবে।

তালিকায় থাকা প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস নির্মাণ, রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস/ট্রাক টার্মিনাল তৈরি, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, বৈরাগীরপুল (বরিশাল) টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের নিমিত্তে নন্দিগ্রাম-তালোড়া-দুঁপচাচিয়া-জিয়ানগর-আক্কেলপুর জেলা মহাসড়ক এবং নন্দিগ্রাম-কালীগঞ্জ-রানীনগর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চত্বরে একটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন- চট্টগ্রাম জোন (দ্বিতীয় পর্যায়), মোল্লাহাটে ১০০ মেগাওয়াট সোলার পিভি পাওয়ার প্লান্ট তৈরি, যশোর অঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, খুলনা-বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধিত), পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন, বৃহত্তর ঢাকা জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর-পীরগাছা-পীরগঞ্জ ও রংপুর সদর উপজেলায় যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী পুনঃখনন, উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং দ্য প্রজেক্ট ফর দ্য ইমপ্রুভমেন্ট অব রেসকিউ ক্যাপাসিটিস ইন দ্য কোস্টাল অ্যান্ড ইনল্যান্ড ওয়াটারস।

সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া ২০ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩২ হাজার ৫২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর আগে গত ২ অক্টোবর ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক, যেগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং ৬১ জেলায় ব্রিজ নির্মাণ সংক্রান্ত একটি বড় প্রকল্পসহ মোট ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
গত ১১ সেপ্টেম্বর এমপিদের সুপারিশে মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নসহ ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক, যেগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, ভৌত অবকাঠামো এবং কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্পগুলোতে রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ বেশি।
এক্ষেত্রে রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে প্রকল্প অনুমোদনের কথা বলে তাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে পারেন। তাই এই দুই বিভাগেই চাপ বেশি। তবে ঠিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা না হলে সঠিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার না হয়ে বরং অপচয় হতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইতালিকে রুখে দিল ইউক্রেন

খেলার খবর: নিজেদের মাঠে ইতালির জয় খরা আরও দীর্ঘ হয়েছে। ইউক্রেনের বিপক্ষে অধিকাংশ সময় চাপ ধরে রেখে প্রথমে এগিয়ে গেলেও জিততে পারেনি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
জেনোয়ায় বুধবার রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।

অধিকাংশ সময় বল দখলে রাখার পাশাপাশি প্রথমার্ধে আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের। এ সময়ে মোট ১০টি শট নেয় তারা, যার পাঁচটিই ছিল লক্ষ্যে; কিন্তু সাফল্য মেলেনি।
দারুণ নৈপুণ্যে ইউক্রেনের পোস্ট আগলে রাখেন আন্দ্রি পিয়াতভ। ২৩তম মিনিটে তিনি ফেদেরিকো বের্নারদেস্কির শট এক হাত দিয়ে কোনোমতো ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠান। ৩৭তম মিনিটে ফিওরেন্তিনার ফরোয়ার্ড ফেদেরিকো চিয়েজার জোরালো শট আবারও কর্নারের বিনিময়ে ফেরান শাখতার দোনেৎস্কের এই গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে জাল আর অক্ষত রাখতে পারেননি পিয়াতভ। ৫৫তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ইউভেন্তুস ফরোয়ার্ড বের্নারদেস্কির নেওয়া শটে বল ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষকের হাতে লেগে জালে জড়ায়।
খেলার ধারার বিপরীতে ৬২তম মিনিটে সমতায় ফেরে ইউক্রেন। রোমানের একটি শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান জানলুইজি দোন্নারুম্মা। ওই কর্নার থেকেই ভলিতে জাল খুঁজে নেন রুসলান মালিনভস্কি।
৭০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যেতে পারতেন মালিনভস্কি। কিন্তু তার দারুণ ফ্রি-কিকে বল দোন্নারুমার আঙুল ছুঁয়ে লাগে ক্রসবারে। ফিরতি বলে কাছ থেকে তারাস স্তেপানেনকোর হেড ঠেকিয়ে ইতালিকে সমতায় রাখেন এসি মিলানের গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা।
এই নিয়ে ঘরের মাঠে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়শূন্য থাকার রেকর্ড স্পর্শ করল ইতালি। এর আগে ১৯২৩ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো জয় ছিল না তাদের।
রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব উতড়াতে না পারা ইতালি শেষ ১২ ম্যাচের মাত্র দুটিতে জিতেছে। জয় দুটি তারা পেয়েছে আলবেনিয়া ও সৌদি আরবের বিপক্ষে। দলকে কক্ষপথে ফেরাতে তাই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে কোচ রবের্তো মানচিনিকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতিসংঘের জলবায়ু রিপোর্ট নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ

অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘের জলবায়ু রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি রিপোর্টটি বিবেচনার চিন্তা করবেন বলে জানিয়েছেন। জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এখনই কোনো পদক্ষেপ না নিলে আগামী দুই দশক পর বিশ্বকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। খবর সিএনএনের
জাতিসংঘে রিপোর্টে বলেছে, বিশ্বের তাপমাত্রা যদি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে তাহলে বিশ্ব ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। এই সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের বলেন, রিপোর্টটি আমাকে দেওয়া হয়েছে। আমি দেখতে চাই কে এটা করেছে। আপনারা জানেন কোন গ্রুপ এই রিপোর্ট তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, এই রিপোর্ট কল্পনাপ্রসূত এবং এটা খুব ভালো নয়। তবে আমি ভালোভাবেই রিপোর্টটি দেখব। গত বছর প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি কার্বন নিঃসরণ কমানোর দাবি অগ্রাহ্য করেন। তিনি বরং জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা

দেশের খবর: বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বর্বোরচিত এবং জঘন্যতম ঘটনা ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা। বতমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কখনো নিজ বাসভবনে, কখনো জনসভায় আবার কখনো তার গাড়ির বহরে হামলা করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেছেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি প্রতিবারই হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, প্রথম হামলার শিকার হন ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি। সেদিন চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আট দলীয় জোটের মিছিলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য পুলিশ ও বিডিআর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় সাত জন, আহত হয়েছিল ৫৪ জন। এরপর ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট রাতে ফ্রিডম পার্টির একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা চালায়। ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকায় ফিরে বেলা আড়াইটায় গ্রিন রোডের কাছে ধানমন্ডি স্কুলে উপ-নির্বাচনের ভোট প্রদানের পর গ্রিন রোডে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ভোটের পরিস্থিতি দেখতে যান। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াহিদের নেতৃত্বে বিএনপি কর্মীরা গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ও নাটোর রেল স্টেশনে প্রবেশের মুখে তাকে বহনকারী রেল গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। ১৯৯৫ সলের ৭ ডিসেম্বর ঢাকায় শেখ রাসেল স্কোয়ারের নিকট সমাবেশে ভাষণ দানরত অবস্থায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপর গুলিবর্ষণ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর আকস্মাত্ একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হলে ২০ জন আহত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্রকন্যাসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার ই-মেইল করে ইন্টার এশিয়া টিভি মালিক শোয়েব চৌধুরী। ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ও হ্যালিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রেখেছিল। ঘটনাস্থলের কাছে শেখ লুত্ফুর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠের এক সভায় প্রধানন্ত্রীর বক্তব্য রাখার কথা ছিল। ২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জঙ্গিরা সেখানে বোমা পুঁতে রাখে যা গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে।

২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট গিয়েছিলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে জনসভা স্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। ২০০২ সালের ৪ মার্চ যুবদল ক্যাডার খালিদ বিন হেদায়েত নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীরা সাতক্ষীরার কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালায়। ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান। সেখান থেকে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার ওপর বিএনপি ও যুবদলের যাত্রীবাহী বাস দিয়ে বেরিকেড দিয়ে তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-বিএনপির ঘাতক চক্র।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই অন্যায়ভাবে বিনা ওয়ারেন্টে সেনাবাহিনী সমর্থিত ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করেছিল। তাকে রাখা হয়েছিল জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব-জেলে। সেসময় শেখ হাসিনার খাবারে ক্রমাগত বিষ দিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। স্লো পয়জনিং এর কারণে সেখানে আটক থাকাকালে শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

২০১১ সালে শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সাথে বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে এবং সেজন্য আগাম পেমেন্টও প্রদান করা হয়। সেসময় সেই আততায়ীদের টিম গাড়ি করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছিল যা পরে ব্যর্থ হয়ে যায়। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা প্রকাশ করে। ২০১৪ সালের শেষে দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুত্থান পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার জঙ্গি শাহানুর আলম ওরফে ডাক্তার। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সময়ে কাওরান বাজারে তার গাড়িবহরে বোমা হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গি গোষ্ঠী। তখন কাওরান বাজার এলাকায় কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উত্তর দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি

অনলাইন ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে বাংলাদেশের নৌ চলাচল ও ভারতের দক্ষিণগামী বেশকিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ রয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা।
সর্বশেষ আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলঘ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ আরও ঘণীভূত হয়ে হ্যারিক্যানের তীব্রতা সম্পন্ন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। সমুদ্র বন্দরসমুহকে চার নম্বর স্থানীয় হঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, এটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণিভূত হয়ে উত্তর/উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারী সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাহরাইনে ভবনধসে নিহত ৪ জনই বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক: বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বহুতল ভবনধসে নিহত চারজনই বাংলাদেশি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার সকালে এক টুইট বার্তায় জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরও একজন।
নিহতরা হলেন- চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পরানপুর গ্রামের আবদুল হান্নান, হাজীগঞ্জ উপজেলার জাকির, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জয়নাল। নিহত অপরজনের নাম আলো মিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে তার ঠিকানা জানা যায়নি।
তিনতলা ওই ভবনটিতে অর্ধশত বাংলাদেশি শ্রমিক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মানামার আল মির্জা সড়কের পাশে নেস্ট সুপার মার্কেট-সংলগ্ন তিনতলা বিশিষ্ট ওই ভবনধসের ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তথ্যে জানানো হয়েছে, দুইতলায় একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে ভবনটি ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে।
দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল কে এম মমিনুর রহমান, শ্রমসচিব শেখ তাওহীদুল ইসলাম, জনকল্যাণ প্রতিনিধি তাজউদ্দিন, দূতাবাসের কর্মকর্তা আশরাফ আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রংপুরের হয়ে বিপিএল মাতাতে আসছেন ডি ভিলিয়ার্স

খেলার খবর: ক্রিস গেইল আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। গত বছর বিপিএলে এই দুই বিশ্বসেরা মারকুটে ব্যাটসম্যানকে উপহার দিয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডোর্স। এবার আরও একজন বিশ্বের অন্যতম সেরা মারকাটারি ব্যাটসম্যানকে নিয়ে আসছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তিনি আর কেউ নন, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবং আইপিএলে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে খেলা এবি ডি ভিলিয়ার্স। যাকে ক্রিস গেইলের চেয়েও ভয়ংকর ব্যাটসম্যান হিসেবে গণ্য করা হয়।
আজ সকাল সকাল বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা জেনে গিয়েছিলেন, রংপুর রাইডার্সে নাম লিখেছেন ইংল্যান্ডের দুর্ধর্ষ ওপেনার আলেক্স হেলস। একের পর এক ছক্কা মারতে যিনি ওস্তাদ। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলে থাকেন তিনি। যে কারণে রংপুরের কোট টম মুডির সঙ্গে হেলসের বোঝাপড়াটাও বেশ। টম মুডি যে আবার সানরাইজার্সেরও কোচ!
এবার বিপিএল জমিয়ে তোলার জন্য এবি ডি ভিলিয়ার্সের মত ভয়ংকর এবং মারকুটে ব্যাটসম্যানকে নিয়ে আসছে রংপুর রাইডার্স। আইপিএলে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে বেশ কয়েকবছর একসঙ্গে খেলেছেন গেইল এবং ডি ভিলিয়ার্স। গত বছরই তারা বিচ্ছিন্ন হন, গেইলকে ব্যাঙ্গালুরু ধরে না রাখার কারণে। শেষ পর্যন্ত গেইল খেলেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে।
হেলসের সঙ্গেই নাকি ডি ভিলিয়ার্সের চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে। তবে, রংপুর রাইডার্স গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচে পাবে না প্রোটিয়া এই ব্যাটসম্যানকে। কারণ, ওই সময় তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে খেলবেন। এরপর গ্রুপ পর্বের বাকি ৯টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ডি ভিলিয়ার্সের। রংপুর যদি কোয়ালিফাইং রাউন্ড কিংবা ফাইনালে ওঠে, তাহলে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত বাকি ম্যাচগুলোও খেলবেন ডি ভিলিয়ার্স।
ডি ভিলিয়ার্স যুক্ত হলেন রংপুরের ধরে রাখা চার খেলোয়াড় ক্রিস গেইল, মাশরাফি বিন মর্তুজা, নাজমুল ইসলাম অপু এবং মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে। এছাড়া রংপুরের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তো আলেক্স হেলসও। উল্লেখ্য, বিপিএলে এই প্রথমবারের মতো খেলতে আসছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর রাইডার্সের মিডিয়া ম্যানেজার আশানুর রমজান রনি। তবে ডি ভিলিয়ার্সকে আনতে গিয়ে রংপুরকে কিন্তু ছেড়ে দিতে হয়েছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। কারণ, বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী আগের আসরের দল থেকে ৪ জনকে ধরে রাখা যাবে। তা করতে গিয়ে ম্যাককালামকে ছেড়ে দিতে হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। যদিও, প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে আবারও ম্যাককালামকে নেয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নাগরিক টিভিতে দুই বাংলার তারকাদের লড়াই

বিনোদনের খবর: নাচ শুরু হয়েছে। হঠাৎ করেই ঢাকার টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ সাফা কবির নাচ বন্ধ করে দিলেন। বললেন, ‘প্রপসটা আজই পেয়েছি, তাই বিট মিস হয়ে গেছে। আবার শুরু করতে চাই।’ বিচারকরা অনুমতি দিলেন না। সাফা একসময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দুচোখ বেয়ে পানি ঝরেছে তার। লড়াইয়ে এমনি করেই তিনি অংশ নিয়েছেন। বিচারকরা কি তাকে আবার সুযোগ দিয়েছিলেন?
অন্যদিকে অনুষ্ঠানের থিম ছিল মা। মাকে নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করতে গিয়ে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘অগ্নিজল’ এর কলাবতি চরিত্রের নায়িকা সোহিনী স্যানাল আবেগকে ধরে রাখতে পারলেন না। অঝোরে কাঁদলেন এবং কাঁদালেন। বললেন, ‘আমার মা খুবই অসুস্থ। তাকে বাড়ি রেখে এসেছি। জানি না, বাড়ি ফেরার পর কলিং বেলটা বাজালে মা দরজাটা খুলবে কি না? মা ছাড়া আমার কেউ নেই।’ সোহিনী কেঁদেই চলেছেন। সান্ত্বনা দেবে কে? সোহিনীর মা কি বেঁচে ছিলেন?
ওপরের ঘটনাগুলো কোনো গল্প নয়। নাচের লড়াইয়ের রিয়েলিটি শো ‘বাজলো ঝুমুর তারা নূপুর’- এর শুটিং স্পটে ঘটে যাওয়া অনেকগুলোর ঘটনার দুটি ঘটনা মাত্র। এমনি আরো চমকানো গল্প দেখা যাবে দুই বাংলার তারকাদের নাচের লড়াইয়ের এ অনুষ্ঠানে।
অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল এই অনুষ্ঠানটির কথা। ঘটা করে তৈরি হয়েছে অনুষ্ঠানটি। দুই বাংলার দর্শক তো বটেই, তারকারাও ছিলেন এর প্রচারের অপেক্ষায়। অবশেষে সেই অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে! আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নাগরিক টিভিতে শুরু হচ্ছে দুই বাংলার তারকাদের নাচের লড়াই ‘বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর’।
নাচের এই প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানটি সপ্তাহের প্রতি সোম, মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় প্রচার হবে।
বাংলাদেশ এবং কলকাতার টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে ও উভয় বাংলার সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারা দুই বাংলার টেলিভিশন দর্শকদের মাঝে তুলে ধরার জন্যই ‘বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর’। দুই দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে নাচের এমন ধরনের অনুষ্ঠান এর আগে হয়নি। নাগরিক টিভিই প্রথম দুই দেশের শিল্পীদের নিয়ে কোনো নাচের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নিল। যার পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। পাওয়ার্ড বাই সোহানা ইলেকট্রনিক্স। এই আয়োজনে সহযোগিতায় আছে মমতাজ হারবাল লিমিটেড।

‘বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর’-এর মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে অংশগ্রহণ করেছেন ছয়জন করে মোট ১২ জন তারকা।
বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছেন টিভি অভিনেত্রী ইশানা, ভাবনা, জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, স্পর্শিয়া, অমৃতা এবং সাফা কবির। আর কলকাতা থেকে রিমঝিম, সোহিনী, এনা সাহা, লাভলী, তিথি ও প্রীতি।
এই রিয়েলিটি শোয়ে আরও প্রতিযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ থেকে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, টিভি অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা এবং জাকিয়া বারী মম। আর কলকাতা থেকে অংশ নিয়েছেন জি বাংলার রাশি সিরিয়ালের রাশি চরিত্রের অভিনেত্রী গীতশ্রী, চিত্রনায়কা পায়েল এবং ছোট ঋতুপর্ণা।
প্রতিটি পর্বে প্রধান বিচারক হিসেবে আছেন বাংলাদেশের ইলিয়াস কাঞ্চন এবং কলকাতার এক সময়ের সাড়া জাগানো নায়িকা ও বর্তমান ভারতীয় লোকসভার সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়।
বিভিন্ন পর্বে বাংলাদেশ থেকে অতিথি বিচারক হিসেবে যুক্ত থাকবেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, চিত্রনায়ক ফেরদৗস, সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর, অভিনেতা তৌকীর আহমেদ এবং সজল। অপরদিকে কলকাতা থেকে সংগীতশিল্পী জোজো, অনিন্ধ, শ্রীলেখা মিত্র এবং নৃত্যবিশারদ তনুশ্রী শংকর।
অতিথিরা বিচারকার্যের পাশাপাশি তারকাদের সঙ্গে পারফরমেন্সেও অংশ নিয়েছেন। ‘বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর’-এর প্রতিটি পর্ব যৌথভাবে উপস্থাপনা করেছেন কলকাতার সৌরভ এবং বাংলাদেশের মাসুমা রহমান নাবিলা। মোট ৭২টি এপিসোডে এই অনুষ্ঠান ধারণ করা হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে নাগরিক টিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে অনুষ্ঠানটি নিয়ে নানা রকম গবেষণা ও যোগাযোগের কাজ করা হয়েছে। তারকা শিল্পীদের প্রতিযোগি হিসেবে পাওয়াটা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জের একটি কাজ। আর দুই বাংলার তারকাদের লড়াইতে অংশ নেয়ার মাধ্যম ছিল নাচ। যা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ ছিল। কেননা, প্রত্যেক শিল্পীকেই এই নাচের জন্য দীর্ঘসময় ধরে নাচের মহড়ায় অংশ নিতে হয়েছে। কোনো কোনো দিন শিল্পীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করেছেন। কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমেই শিল্পীরা তাদের নৈপুণ্য বিচারকদের কাছে তুলে ধরেছেন। কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে, কেউ কেউ নাচ ভুলে গেছেন, তারা আবার সুযোগ চেয়েছেন, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান হওয়ার কারণে দ্বিতীয়বার আর কাউকে এই সুযোগ দেয়া হয়নি।’
তিনি জানান, এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রকমের নাচের প্রদর্শন রয়েছে। ভরতনাট্যম, মনিপুর, ছৌ, কথ্থক থেকে শুরু করে হিপহপ, মর্ডান সব ধরনের নাচ প্রদর্শন করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest