সর্বশেষ সংবাদ-
এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন

অবশেষে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবের বদলীর সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুর রহমানকে বদলী করার জন্য সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ২০তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও গতকাল রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহাসীন আলী ওই রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেন। এরআগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষর করেছিলেন গত ১৯ সেপ্টেম্বর।
বিভিন্ন কারণে আলোচিত সমালোচিত সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুর রহমান। সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাটলিপিকারকে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযানে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও সদস্যবৃন্দ স্বশরীরে প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনও করেন। কিন্তু এক যাদুবলে মাহাবুব অতীতের মতই পার পেয়ে যান। জেলা পরিষদের নির্বাচনের পূর্বেও প্রার্থী হিসেবে মো. নজরুল ইসলাম বিভিন্নস্থানে মাহাবুবকে অপসারণ করার অঙ্গীকারও করেছিলেন। কিন্তু সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মাহাবুব জেলা পরিষদে ছিলেন বহাল তবিয়তে।
এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বর্তমান নির্বাচিত পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বের ৫ বছরে জেলা পরিষদের কমপক্ষে সাড়ে ৩ কোটি টাকার কোন হিসাব নেই। বিষয়টি সম্প্রতি নজরে আসার পর তোলপাড় শুরু হয়। আর এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে দুর্নীতিবাজ চক্রটি তৎপর হয়ে উঠেছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ পরিষদের ২১তম সভার নোটিশে ৪নং আলোচ্য সূচি হিসেবে ‘২০১০-২০১১ হতে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর পর্যন্ত এডিপি’র বরাদ্দকৃত অর্থ রাজস্বখাতে ব্যয় এবং এডিপি’র বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব ঘাটতি সংক্রান্ত’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও মাহাবুবের পিতা স. ম আব্দুর রউফ এর নামে প্রতিষ্ঠিত কমপ্লেক্স জেলা পরিষদের টাকায় আর পরিচালিত হবে কি না সেটিও ৩নং আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচিত পরিষদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরপর থেকে পরিষদে ঘটে যাওয়া একটির পর একটি দুর্নীতি অনিয়ম বেরিয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে ছড়ি ঘুরিয়েছেন ‘টুয়েন্টি পার্সেন্ট’ নামে পরিচিত মাহবুব। জেলা পরিষদকে জনগণের সেবা কেন্দ্রে পরিণত করতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে জেলা পরিষদ থেকে কোন প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেয়া হলে বরাদ্দের ২০ শতাংশ উৎকোচ দিতে হতো মাহবুবকে। নজরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবাজরা এ ২০ শতাংশ উৎকোচ পাচ্ছে না। ঘুষ দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জেলা পরিষদকে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিলে গাত্রদাহ শুরু হয় দুর্নীতিবাজদের। তারা শুরু করে ষড়যন্ত্র। নানা কৌশলে জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে থাকে মাহবুব ও তার লোকজন। সূত্র জানায়, জেলা পরিষদের অর্থায়নে কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে মাহবুবুর রহমান শর্ত জুড়ে দিতেন। শর্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি হতে হবে তার পছন্দের নামে। তার পিতা স.ম আব্দুর রউফের নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং বরাদ্দ থেকে ২০ ভাগ টাকা তাকে দিতে হবে। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুললে বরাদ্দের টাকা বন্ধ রাখা হতো। অথবা বরাদ্দ বাতিল করা হতো। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেন নজরুল ইসলাম। জেলা পরিষদকে উন্নয়নের সূতিকাগার হিসেবে গড়ে তোলার দৃপ্ত শপথ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন দুর্বার গতিতে। ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত জেলা পরিষদ গড়তে তিনি বদ্ধপরিকর। জেলা পরিষদের অতীতের কলঙ্ক মোচন করে সাতক্ষীরাবাসির আশা-আকাক্সক্ষার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান হিবেবে গড়ে তুলতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন ঠাঁই এ পরিষদে নেই বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গ্রেনেড হামলার রায়ে জেলা ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয় থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোস্তাক আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ওহেদুজ্জামান টিটু, এড. সাইদুজ্জামান জিকো, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি শাওন, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহেদ পারভেজ ইমন সহ আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গ্রেনেড হামলার রায়ে পৌর যুবলীগের আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বাবুরসহ ১৯ জনের ফাঁসি এবং তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে আনন্দ মিছিল করেছে সাতক্ষীরা পৌর যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। বুধবার বেলা ১২টায় শহরের সংগ্রাম টাওয়ারের সামনে থেকে আন্দন মিছিল ও মটরসাইকেল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরেরর নিউ মার্কেট, নারকেলতলা মোড়, টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়। পৌর যুবলীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান তুহিনের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবলীগ নেতা ইলিয়াছ কবির, রবিউল ইসলাম ,ইউসুফ সুলতান মিলন ,হাসিব সরকার, মোশারফ হোসেন, বারিক, জি এম হাসান, মুজাহিদুর রহমান অন্ত ,মেহেদি হাসান, শরীফ, জাকির,ইব্রাহিম রাজা , মফিজুল, বাদল মিন্টু , রনি, রবি,মুজাহিদ আল আমিন প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গ্রেনেড হামলার রায়ে সদর উপজেলা যুবলীগের আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বাবুরসহ ১৯ জনের ফাঁসি এবং তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে আনন্দ মিছিল করেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় শহরের কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় টার্মিনালে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গণেশ চন্দ্র মন্ডল, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল হাসান, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ময়নুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইনজামামুল হক ইনজাসহ সদর উপজেলা যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যে কারণে ‘মৃত্যুদণ্ড’ ও ‘যাবজ্জীবন’

অনলাইন ডেস্ক: ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দুই মামলায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা রোডের বিশেষ আদালতের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন বুধবার দুপুরে এ আদেশ দেন।

দুই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, আবদুস সালাম পিন্টু, মাওলানা মো. তাজউদ্দীন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও হানিফ।

দুই মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

হত্যা মামলা
মৃত্যদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে রায়ে উল্লেখ করা হয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে নিহতগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলণ ষডযন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্তক্রমে মৃত্যুদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকরের আদেশ দেয়া হলো।

যাবজ্জীবন দণ্ডের ক্ষেত্রে রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিহতগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলণ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্তক্রমে যাবজ্জীবন কারদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো।

এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম ১৯ জনের বিরুদ্ধে মোকদ্দমার জখমপ্রাপ্ত ভিকটিমগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগ দণ্ডবিধির ৩০৭/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিন্ন পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখমের অভিযোগে দণ্ডবিধি ৩০৭/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন দণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় রায়ে।

বিস্ফোরক মামলা
১৯০৮ সালের বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের দোষীসাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড, এক লাখ টাকা জারিমান এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকরের আদেশ দেয়া হয়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে রায়ে বলা হয়, ১৯০৮ সালের বিস্ফোরদ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

এছাড়া ১৯০৮ সালের বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৪ ও ৬ ধারায় দোষীসাব্যস্ত সবাইকে (৩৮ জন) ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জনই পলাতক। আদালতে উপস্থিত ছিলেন ছয়জন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলাটি যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।

২০০৮ সালের ১১ জুন মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আখন্দ।
তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও জেএমবি সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়।

ফলে এ মামলায় এখন আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জন। এর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন ৩১ জন।

কারাগারে থাকা ৩১ আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আশরাফুল হুদা, পুলিশ কর্মকর্তা শহুদুল হক, খোদা বক্স চৌধুরী, বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, আব্দুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ, জঙ্গি সংগঠন হুজির সদস্য আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মহিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ড. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।

পলাতক ১৮ আসামি হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, হুজি সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন, খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দোলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহম্মদ বাবু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ডের জন্য আপিল করব: আইনমন্ত্রী

দেশের খবর: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তারেক রহমানসহ ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করা হবে।
বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, হামলার হোতা তারেকের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।
মামলার বিচার শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রায়ের কাগজপত্র পাওয়ার পরে আমরা চিন্তা-ভাবনা করব যে এই রায়ে তারেক রহমানকে এবং আরও দুজন- কায়কোবাদ এবং হারিছ চৌধুরীকে যে যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে সেটার জন্য আমরা উচ্চতর আদালতে গিয়ে তাদের ফাঁসির জন্য আমরা…এনহান্সমেন্ট বলে সেটা আইনে…এনহান্সমেন্টের জন্য আমরা আপিল করব।

তিনি বলেন, এই হামলার মূল নায়ক তারেক রহমান। তিনি আওয়ামী লীগকে ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সপাটে শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রের নায়ক ছিলেন। মূল হোতা তারেকের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল।
ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এই মামলার রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে তখন জজ মিয়া নাটকের ব্যাপারটি উদ্ঘাটিত হলে আবার তদন্ত করা হয়। সুষ্ঠ তদন্তের পর যারা যারা এ মামলায় ষড়যন্ত্রে হত্যার কাজে এবং আলামত গুম করার জন্য দায়ী তাদেরকে বিচারে সোপর্দ করা হয়।
পলাতক ১৮ আসামিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক চার্জশিটে (অভিযোগপত্র) বলা হয়েছে, তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ইন্ধনে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশসহ (হুজি) তিনটি জঙ্গি সংগঠন ওই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় ইতিহাসের ভয়াবহতম নৃশংস ও বর্বরোচিত ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়। হামলায় আহত হন কয়েকশ’ নেতাকর্মী। আর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি এ মামলায় সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। মোট ৪৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
আর আসামি পক্ষে ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলায় ১৪৪টি আলামত ও ৫৫টি বস্তু প্রদর্শন করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ মে এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়। আর গত বছরের ১২ জুন মামলায় ৩১ আসামির আত্মপক্ষ শুনানি শেষ হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা : ট্রাইব্যুনাল

অনলাইন ডেস্ক: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শাহেদ নূর উদ্দীন বলেছেন, রাজনীতি মানেই কি বিরোধীদলের উপর পৈশাচিক আক্রমণ। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা শুধু আক্রমণই ছিল না, এটি ছিল একটি দলকে নেতৃত্ব শূন্য করার ঘৃন্য অপচেষ্টা।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে রাজনীতে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব শূন্য করার প্রয়াস কেন, এটা কাম্য নয়। বুধবার দুপুরে গ্রেনেড হামলা মামলা রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক এ কথা সব বলেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেও গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতা নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কিন্ত এর পরও ষড়যন্ত্র থেমে না থেকে তা চলমান থাকে। তাৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলা ছিল বিরোধীদলকে নেতৃত্ব শূন্য করার অপচেষ্টা।
প্রসঙ্গত, ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ যাবজ্জীবন ও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখ্যান করছি: ফখরুল

দেশের খবর: বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিএনপি। এটিকে সরকারের ফরমায়েশি রায় উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যানও করেছে দলটি। মঙ্গলবার দুপুরে রায়ের পর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি মনে করে এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখ্যান করছি। সরকার তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করল। যেমনটি জিয়া অরফানেজ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ে করা হয়েছিল।

এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনী কর্মূসূচিও থাকবে বলেও জানান ফখরুল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কর্মসূচি তিনি ঘোষণা করেননি। পরবর্তীতে কর্মসূচির কথা জানিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান ফখরুল।

মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে ফখরুল বলেন, দেশবাসী জানে তৎকালীন (চারদলীয় জোট) সরকারই দোষীদের বিচারের জন্য মামলা দায়ের করেছে। এফবিআই ও ইন্টারপোলকে তদন্তে সম্পৃক্ত করেছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করছে। এসব তদন্তে এবং এক এগারোর সরকারের সময়ে তদন্তে তারেক রহমানকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। তখন (এক-এগারোতে) কারাগার থেকে জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা তারেক বা বিএনপির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেননি। ৬২ জন সাক্ষীর কেউ বিএনপি বা তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেনি।

ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় আসার পর বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা কাহ্হার আকন্দকে নিয়োগ দিয়ে এ মামলাকে রাজনৈতিক রূপ দেয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণা চালিয়েছেন। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মুফতি হান্নানকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম জড়িয়ে বক্তব্য নিয়ে এই মামলায় আসামি করে। পরবর্তীতে মুফতি হান্নান আদালতে বলেন, অত্যাচার করে তারেকের বিরুদ্ধে জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও মুফতি হান্নানের বক্তব্য প্রত্যাহার করার পর তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের আর কোনও ভিত্তি থাকে না।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বক্তব্য উদ্বৃত করে ফখরুল বলেন, যে দেশে প্রধান বিচারপতিই সুবিচার পায় না, সেখানে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া সুদূরপরাহত।
এই রায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, আমি দেশবাসীকে সজাগ হয়ে অনির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়াও ১১ জনকে বিভিন্ন দেয়া হয়েছে মেয়াদে সাজা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest