সর্বশেষ সংবাদ-
সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম আর নেইস্মার্ট মেডিকেল সেন্টারে ডাঃ শিহাবের তত্ত্বাবধানে শুরু হলো অত্যাধুনিক লিভারের পরীক্ষা ফাইব্রোস্ক্যানসাতক্ষীরায় পাঁচ দিনে ৭২ ডেঙ্গু রোগী, সচেতনতায় বাড়ি বাড়ি স্বেচ্ছাসেবকবিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় মাছের পোনা অবমুক্তসাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্তে পুশ-ইনের অপচেষ্টা বিএসএফের : প্রতিহত করল বিজিবিসাতক্ষীরায় অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল পৌরসভাসাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে ২৫টি মুভেবল স্কিপ বিন ও ৪টি বর্জ্য সংগ্রহ ভ্যান হস্তান্তরদেবহাটায় ইছামতীর পাড়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধনশরৎ এলো — নাসির খলিলআশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্তসহ গ্রেফতার ৪

জুভেন্টাসের জয়ে রোনালদোর গোল

খেলার খবর: জুভেন্টাসের জয়যাত্রা চলছেই। এই মৌসুমের টানা দশম ম্যাচ তারা জিতল শনিবার। উদিনেসের বিপক্ষে ২-০ গোলের এই জয়ে লক্ষ্যভেদ করেছেন মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়িয়ে পড়া ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
সিরি এ’র ৮ ম্যাচের সবগুলো জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে টানা অষ্টম শিরোপার মিশনে নামা জুভেন্টাস। তাদের অন্য দুটি জয় চ্যাম্পিয়নস লিগে ভ্যালেন্সিয়া ও ইয়ং বয়েসের বিপক্ষে।
রোনালদোর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের একটি ধর্ষণ মামলা নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পর্তুগাল দল থেকে তার বাদ পড়ার পর উদিনেসের বিপক্ষে তার খেলা নিয়েও সংশয় ছিল। কিন্তু ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি জানান, সব বিতর্ক ছাপিয়ে প্রস্তুত ‘সিআরসেভেন’।
মাঠের বাইরের বিতর্ক যে খুব বেশি পাত্তা দেন না রোনালদো, তার প্রমাণ দিয়েছেন দলের দ্বিতীয় গোল করে।
৩৩ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন রোদ্রিগো বেন্তানকার। জুভেন্টাসের জার্সিতে মৌসুমের প্রথম গোল করেন তিনি। ৪ মিনিট পর রোনালদো দেখা পান জালের। মারিও মানজুকিচ বল পায়ে রাখতে না পেরে বাড়িয়ে দেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডকে। নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
প্রথমার্ধেই একটি গোল শোধ করতে পারতো উদিনেসে। কিন্তু আন্তোয়ান বারাকের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট পোস্টে আঘাত করে। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকদের একটি চেষ্টা গোললাইনের সামনে থেকে ফিরিয়ে দেন এমরে কান।
রোনালদো ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৬ মিনিট আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করতে পারতেন। কিন্তু সিমোনে স্কুফেট তার পা দিয়ে প্রতিহত করেন ৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ফরোয়ার্ডকে। আর কোনও গোল চ্যাম্পিয়নরা করতে না পারলেও মৌসুমের শতভাগ সফলতা অটুট রাখে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই লাখ বাল্যবিয়ে!

বিদেশের খবর: মারিয়ার বয়স তখন ১৬। আর ম্যানিংয়ের ২৫। মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক নয়। বর-বউয়ের মধ্যে ১০ বছরের দূরত্ব। তা সত্ত্বেও মা মিশেল এক রকম জোর করেই বিয়ে দেন।
প্রথম বছরেই জন্ম নেয় প্রথম সন্তান। পড়াশোনা-চাকরি শিকেয় উঠে তার। পরিবারের দায়িত্ব পালনে হিমশিম খায় সে। মারিয়ার মতোই আরেক হতভাগী অ্যাঞ্জেল। বয়সে মারিয়ার চেয়েও ছোট।
সবেমাত্র ১৩ কোঠায় পা। বাবা-মা তাকেও বিয়ে দিয়েছে জোর করে। তার থেকে দ্বিগুণ বয়সী ছেলের সঙ্গে। ওই বয়সে সংসার শুরুর অনুভূতি অ্যাঞ্জেলের কাছে ছিল কৃতদাসীর মতো। তার কথায়, ‘আমার নিজেকে দাসী মনে হতো।
কোনো কিছুইতো আমার ইচ্ছা অনুযায়ী হতো না। উঠতে-বসতে ধমক। মাথায় সবসময় স্বামীর মন জুগিয়ে চলার চিন্তা। সামান্য একটু ভুল হলেই লঙ্কাকাণ্ড।’ এশিয়ার কোনো অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের চিত্র নয় এটা।
বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নারী সমাজের দুই অন্ধকার জীবনের গল্প। অন্যান্য অঞ্চলে যখন বাল্যবিয়ের সংখ্যা ক্রমেই কমছে, তখন এ দেশটিতে তলে তলে এর ব্যাপক চল লক্ষ্য করা যায়।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, আফ্রিকার বহু দেশ যেমন জিম্বাবুয়ে, মালাবি এবং এল সালভেদরে সম্প্রতি বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ হয়েছে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যেই এখনও এটা বৈধ। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্যে বাল্যবিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমাও নির্ধারণ করা নেই।
দেশটিতে গত ১০ বছরে আড়াই লাখ বাল্যবিয়ে হয়েছে। বাল্যবিয়ের শিকার এসব মেয়ের মধ্যে ১০-১১ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের জন্য সর্বনিম্ন বয়স ১৮ নির্ধারিত হলেও প্রতিটি রাজ্যে এ বিষয়ে কিছু কিছু ছাড় রয়েছে।
যেমন- বাবা-মায়ের সম্মতি বা গর্ভাবস্থাজনিত কারণে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমতি দেয় দেশটি। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে দেশটিতে ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে অন্তত ২ লাখ ৪৮ হাজার বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী দল ছাড়তে পারেন। সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা এমনটাই মনে করছেন। আর এই সুযোগ কাজে লাগানোর কথাও ভাবছেন তাঁরা। সে ক্ষেত্রে দলছুট বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হবে। তাঁদের ১৪ দলভুক্ত বিভিন্ন ছোট দলে পুনর্বাসন এবং নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে ভূমিকা রাখবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এর আগে বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে চান তাঁরা। সরকার ও আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানতে পেরেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার প্রশ্নে দলে দুটি ধারা রয়েছে। তবে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষের ধারাটি বর্তমানে শক্তিশালী। এ অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত পুরনো মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার। বিএনপি আন্দোলনে গেলে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ধরপাকড় করারও পরিকল্পনা আছে সরকারের।

সরকারের একজন নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁদে ফেলার সব ধরনের চেষ্টা তাঁদের অব্যাহত আছে। বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিক সেটাই চান তাঁরা। আর এ জন্য যা যা করা দরকার সে ধরনের রাজনৈতিক খেলা চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত বিএনপির কোন ধারাটি জয়ী হয় সেদিকেই নজর থাকবে ক্ষমতাসীন মহলের।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিএনপি ভাঙার ফল নিয়ে সন্তুষ্ট নন ক্ষমতাসীনরা। তাই বিএনপি ভাঙার চেষ্টার চেয়ে দলটিকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করার দিকেই মনোযোগী আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। সেই অনুযায়ী দলটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকে বিভিন্ন ছোট দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

১৪ দলের শরিক একটি রাজনৈতিক দলের নেতা জানান, বিএনপির কয়েকজন নেতা তাঁর দলে যোগ দিয়ে নির্বাচন করবেন, তাঁকে এমন কথা বলা হয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দলের পক্ষ থেকে। তবে বিএনপির কোন কোন নেতা ওই দলে যোগ দেবেন, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। ১৪ দলের শরিক দলটির ওই নেতা আরো জানান, বিএনপি সংসদ নির্বাচনে না এলেই দলটির নেতারা তাঁর দলে যোগ দিয়ে এমপি পদে প্রার্থী হবেন। আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।
আওয়ামী লীগের সূত্রটি অবশ্য বিএনপির কোন কোন নেতার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হচ্ছে, তা জানায়নি। তবে এই দলে জাতীয়ভাবে পরিচিত মুখ ছাড়াও জেলা পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন বলে ওই সূত্রের দাবি। সূত্র মতে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন এমন এক নেতাও এ দলে আছেন। ওই নেতা বিএনপি সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা এরই মধ্যে ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ সাত দফা দাবিতে এখন সোচ্চার বিএনপি। দলটি এসব দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তফসিল ঘোষণার পর আরো কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
গতকাল শনিবার পুরান ঢাকায় এক সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলন নয়, বিএনপি আগামী নির্বাচন নিয়ে সন্ত্রাস ও নাশকতার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে দেশে কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক: ভরা প্রজনন মৌসুম সামনে রেখে আজ রবিবার থেকে ইলিশ অভয়াশ্রম ও বিচরণক্ষেত্রগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রজননক্ষেত্রে সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে এর বাইরের অন্যান্য পুকুর-বিল বা হাওর-বাঁওড় ও জলাশয় মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ ২২ দিন ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখতে জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিরতণ করবে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা না মানলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযুক্তকে কারাদণ্ড কিংবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। দেশের সব মাছঘাট, আড়ত, হাটবাজার, চেইনশপসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় এই ২২ দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ অভিযানও চালানো হবে।

জানা যায়, আশ্বিন মাসের বড় পূর্ণিমার আগের চার দিন, পূর্ণিমার দিন ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ এসে নদীতে ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। বেশি ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যে নির্বিঘ্নে যাতে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে সে জন্যই এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এদিকে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ লিফলেট, পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেসহ সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, বরফকলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্য কোথাও থেকে বরফ আসতে না দেওয়া, নদীসংলগ্ন খাল থকে নৌকা বের হতে না দেওয়া, মাছঘাটসংলগ্ন বাজারের নৌকা ও ট্রলারের জ্বালানি তেলের দোকান বন্ধ রাখা, নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরের মাছঘাটগুলো বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে।

বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জে উপজেলা মৎস্য বিভাগ এবং প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকায় মাইকিং করে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা চলার সময় ইলিশ মাছ না ধরতে ভোলার চরফ্যাশনে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে ঝালকাঠির জেলেরাও গুটিয়ে নিচ্ছে জাল ও নৌকা। মানিকগঞ্জের শিবালয়ে আরিচা শৌখিন মৎস্য শিকারি সমিতির আয়োজনে গতকাল শনিবার সকালে ২২ দিন পদ্মা-যমুনা নদীতে ইলিশ মাছ না ধরার বিষয়ে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এদিকে এ সময়ে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় অনেক জেলে ক্ষোভ জানিয়েছে। জেলে নাসির উদ্দিন তাঁর দীর্ঘ মাছ ধরার অভিজ্ঞতা থেকে জানান, এখনো ইলিশের পেটে পরিপূর্ণ ডিম আসেনি। তাই কী করে সরকার এই সময় মাছ ধরা বন্ধ করল। তিনি জানান, মা ইলিশ রক্ষা হোক—এমনটা জেলেরাও চায়। তবে সিদ্ধান্তটা আরো বাস্তবসম্মত হলে জেলেসহ মৎস্যজীবীদের জন্য ভালো হতো। ভোলার চরফ্যাশন থেকে ইলিশের চালান নিয়ে আসা আলমাস মিয়া বলেন, ‘সাগর উপকূলে আমাদের মাছ ধরা বন্ধ করা হলেও ভারতীয় জেলেরা বসে থাকবে না। তারা আমাদের সীমানায় ঢুকে দেদার ইলিশ ধরবে।’

এ ব্যাপারে ইলিশ গবেষক ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিনের গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে আশ্বিনের এই সময় মা ইলিশ রক্ষায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ এই মাসের ভরা পূর্ণিমা এবং অমাবস্যায় মা ইলিশ সাগর ছেড়ে মিঠা পানিতে ডিম ছাড়বে। এতে জেলেদের সাময়িক ক্ষতি হলেও মাছ না ধরার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে খেপেছে বলিউড

বিনোদনের খবর: যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে বলিউড। অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে ২০০৮ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলিউড তারকারা। নানাভাবে তনুশ্রীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন অভিনয়শিল্পী আর কলাকুশলীরা। এমনকি কেউ কেউ নিজের গোপন হয়রানির ঘটনাও প্রকাশ করে সমবেদনা জানিয়েছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক তনুশ্রী দত্ত প্রসঙ্গে তারকাদের মন্তব্য ও বক্তব্যগুলো।

স্বপ্না পাব্বিস্বপ্না পাব্বির সঙ্গে প্রায়ই ঘটত এসব
ওয়েব সিরিজের অভিনেত্রী স্বপ্না পাব্বি। তনুশ্রীর দত্তের পর যৌন হয়রানি প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনিও। গত বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট লিখে নিজের যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন। লিখেছেন, ‘আমাকেও তনুশ্রীর মতো বহুবার ওই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই চুপ করিয়ে দেওয়া হতো। উল্টো আমার বক্তব্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় অনেক নারী সহকর্মী ছিল, যারা আমার পাশে এসে দাঁড়ায়নি৷’
স্বপ্না আরও লিখেছেন, ‘একটা গানের শুটিংয়ের সময় আমাকে বিকিনি পরতে বলা হয়। আমার তাতে আপত্তি ছিল না, তবে অস্বস্তি বোধ করছিলাম। সেটা তাঁদের জানাতেই দেখি আমাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছে। প্রযোজক নিজেই আপত্তিকর সব মন্তব্য করছিল, আর অন্যরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে সেসব শুনছিল।’

কাজল মনে করেন এসবই বাস্তবতা
নিজের নতুন ছবি ‘হেলিকপ্টার এলা’র প্রচারণার সময় কাজল বলেছেন, যৌন হয়রানি বাস্তবতা। নিজের সে রকম অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি এসব শুনেছেন গুজবের আদলে। কাজল বলেছেন, ‘এ রকম ঘটনা কখনো ঘটতে দেখিনি, কেবল শুনেছি। সেটাও গুজবের মতো করে। এসব জানবেনই বা কীভাবে? কেউ কি এসে বলবে যে কেবলই ‘সেটা’ করে এলাম! জানি না ঘটনা কতটা সত্য, কিন্তু নিজের সামনে এসব হতে দেখলে আমি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতাম। মনে হয় না আমার সামনে আর কখনো ঘটবে।’
কাজল মনে করেন এ ধরনের ঘটনা কেবল চলচ্চিত্র অঙ্গনেই নয়, সবখানেই ঘটে। তনুশ্রী দত্তের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তিনি যে অভিযোগটি করেছেন, সেটি বাস্তবতা। সর্বত্র এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সময় হয়ে গেছে।’ কাজল মনে করেন ভারতেও মিটু আন্দোলন শুরু করা দরকার। সঙ্গে কেউ থাকুক বা না থাকুক, নিজেকেই জেগে উঠতে হবে, নিজের জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সবাই যখন আপনাকে দেখবে, তাঁরাও জেগে উঠবে।

তনুশ্রীর প্রশংসায় বরুণ ধাওয়ান
তনুশ্রী দত্তের পাশে দাঁড়িয়েছেন আশা ভোসলে, ফারহান আখতার, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, সোনম কাপুর, টুইঙ্কল খান্না, পরিণীতি চোপড়া, রিচা চাড্ডা, স্বরা ভাস্কর, রাভিনা টেন্ডনসহ প্রমুখ তারকা। তাঁদের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বরুণ ধাওয়ানের নাম। মুম্বাই শহরের একটি অনুষ্ঠানে তিনি তনুশ্রীর সাহসের প্রশংসা করেছেন। অভিযোগের বিস্তারিত তিনি জানতেন না, তবে যেটুকু শুনেছেন, তাতে তনুশ্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, নারী-পুরুষ-শিশু বলিউডে সবার কাজের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘তনুশ্রীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে এটা জানার পর যে, তিনি অন্তত জনসমক্ষে বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।’

ঘটনা সত্য, বলেছেন ছবির সহকারী পরিচালক শাইনি শেঠি
১০ বছর আগের সেই ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির সহকারী পরিচালক শাইনি শেঠি নিশ্চিত করেছেন, ঘটনা সত্য। একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি তনুশ্রী দত্তের ঘটনা সত্য বলে স্বীকার করেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে যা কিছু ঘটছে, এসবকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার পর অস্বস্তি বোধ করেছিলেন তনুশ্রী, সেটা আমি টের পেয়েছিলাম। একজন মেয়ে হিসেবে আমার সেটা বোঝারই কথা। সেটা আমার প্রথম ছবি ছিল, আমি ছিলাম সহকারী পরিচালক। ফলে ওই সময় আমার কিছু করার ছিল না। তনুশ্রী যা করেছেন, সেটার জন্য আজ আমি গর্বিত।

ভারতে এ আন্দোলন সফল হবে না: তনুশ্রী
তনুশ্রী মনে করছেন, ভারতে এই আন্দোলন সফল হবে না। পরিচিতি আছে বলে তার বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু নিয়মিত ও সর্বত্র ঘটতে থাকা এসব ঘটনা থেকে দেশকে সোচ্চার হতে হবে। প্রতিবাদ করেও যে খুব একটা লাভ হয়েছে, তা নয়। বলিউডের একাংশ তার পাশে আছে বটে, কিন্তু তাতে কী?
প্রতিবাদ করে পার পাননি তনুশ্রী। গত বৃহস্পতিবার আইনি নোটিশ পেয়েছেন তনুশ্রী দত্ত। অভিনেতা নানা পাটেকার ও পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর আইনজীবীরা এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। একে ‘ভারতে যৌন হেনস্তা, অপমান ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার পুরস্কার’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন এই অভিনেত্রী। এমনকি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ইতিমধ্যে তাঁকে হুমকি-ধমকিও দিতে শুরু করেছে। এসব কারণে রীতিমতো নির্বাসনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে খুব একটা লাভবান হননি বলে মনে করছেন তিনি।

দক্ষিণী নায়ককে থাপ্পড় মেরেছিলেন রাধিকা
পুরুষশাসিত চলচ্চিত্র অঙ্গনে মেয়েদের উপহাস করলেও কিছুই করার থাকে না। কিন্তু চুপ থাকতে পারেননি রাধিকা আপ্তে। মুম্বাই মিররের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দক্ষিণী এক তারকা অভিনেতাকে থাপ্পড় মেরে প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘শুটিং সেটে প্রথম দিন যাওয়ার পরই লোকটা আমার পায়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছিল। জীবনেও যার সঙ্গে দেখা হয়নি, তার থেকে এ রকম আচরণ সহ্য করা যায় না। দিয়েছি কশে এক থাপ্পড়।’

মেয়েদের সম্মান করুন: শাহরুখ
বলিউডে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন শাহরুখ খান। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এমনটি হতে দেওয়া উচিত নয়। নারীর অনুভূতিকে আমাদের সম্মান জানাতে হবে। তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করলে সেসবের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। আপনার চোখের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখলে রুখে দিন।’
শাহরুখ বলেন, নারীদের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের ওপরে। আমি বলতে লজ্জা পাই না যে, নারী যখন মা, স্ত্রী, বোন, বান্ধবী তখন তারা আমার কাছে সম্মানের। যেভাবেই তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ হোক, সেটা ভয়াবহ।’

ছেলেদের সঙ্গেও হচ্ছে: সানি লিওন
সানি লিওন বলেছেন, অনেক তরুণ মেয়ে আসছে অভিনয়ে। তাঁদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করা হচ্ছে। শুধু নারী কেন, পুরুষদের সঙ্গেও এসব করা হয়। তাদের সবার পাশেই আমাদের দাঁড়াতে হবে। সোচ্চার হয়ে বলতে হবে, এসব ঠিক নয়। প্রতিবাদ না করলে এই পরিস্থিতি বদলাবে না।
‘তেরা ইনতেজার’ ছবিতে সানির সহশিল্পী আরবাজ খান বলেছেন, এ ধরনের ঘটনার কথা আমিও জানি। প্রত্যেকেরই নিজের মতো করে এসব মোকাবিলা করতে হবে। ব্যক্তিজীবন বা কর্মক্ষেত্র যেখানেই ঘটুক, যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।

নেহা বললেন: গলা ছাড়ুন
নেহা ধুপিয়া আহ্বান জানালেন, যার সঙ্গেই ঘটুক। কথা বলুন। আজ আপনার সঙ্গে ঘটেছে? কাল আরেকজনের সঙ্গে ঘটবে। সুতরাং চুপ থাকবেন না।
২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির আইটেম গানের সময় শুটিং সেটে ঘটে এক অস্বস্তিকর ঘটনা। তনুশ্রীর গায়ে আপত্তিকরভাবে হাত রেখেছিলেন নানা পাটেকার। সে সময়ে অভিযোগ করে সুবিধা করতে পারেননি তনুশ্রী দত্ত। হলিউডে মিটু আন্দোলন শুরুর পর নতুন করে ১০ বছর পর সেই ঘটনাকে সামনে টেনে এনেছেন তিনি। এতে বলিউডের একটি পক্ষ তাঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছে, পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অন্যদিকে আর একটি পক্ষ সমর্থন দিচ্ছে নানা পাটেকারকে। দীপিকা পাড়ুকোন, রণবীর সিং, বিবেক ওবেরয়, অর্জুন কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, বিদ্যা বালান, সারা ভাস্বর, কঙ্কণা সেন শর্মা, কঙ্গনা রনৌত, কালকি কোচিন যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ বিশ্বের সবচেয়ে জটিল নির্বাচনের দেশে ভোট

অনলাইন ডেস্ক: আপনার দেশের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন কে? এ প্রশ্নের উত্তর চট করে দিয়ে ফেলবেন। কিন্তু আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, বসনিয়ার নেতৃত্বে কে? প্রশ্নটি নিমেষে মাথায় চক্কর দেওয়ার মতো ধাঁধা হয়ে যেতে পারে। গুগলে খুঁজে এর উত্তর পাবেন বটে, তবে হ্যাপা কম যাবে না।
জাতিগত বিভক্তি, রাজনৈতিক বিভেদ, জটিল প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্ষমতাকে ঘিরে পৃথক সরকারব্যবস্থার লড়াই—এমন সব জটিল হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে নেতা নির্বাচনের জন্য বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় আজ রোববার ভোট শুরু হচ্ছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ইতিহাসের দেশটি বসনিয়া নামেই বেশি পরিচিত। বলা হয়ে থাকে, বসনিয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জটিল নির্বাচনের দেশ।
বসনিয়া যুদ্ধের পর ইউরোপের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের দেশটিতে এটি অষ্টম সাধারণ নির্বাচন। কেন্দ্র, দুই স্বতন্ত্র সরকার, ক্যানটন ও ডিস্ট্রিক্ট অব ব্রিচকোতে এই নির্বাচন হবে। কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট (তিনজন), কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট, দুই অংশের অ্যাসেম্বলি, ব্রিচকো ও সার্ব স্বতন্ত্র অংশ রিপাবলিকা স্রেপ্সকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন মনোনীত ৫৩টি দল, ৩৬টি জোট ও ৩৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দেশের বেশির ভাগ মানুষই ভোটার। ভোট দেবেন ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৩৩ জন ভোটার। তিন সদস্যের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্সি পর্ষদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে বসনীয় আসনের জন্য ছয়জন, ক্রোয়েট আসনের জন্য পাঁচজন এবং সার্বীয় আসনের জন্য চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই নির্বাচনের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ লাখ ইউরো (৪০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বেশি)।
১৯৯৫ সালে ডেটন শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে দেশটিতে সাড়ে তিন বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটে। যে যুদ্ধে লাখো লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।
সমালোচকদের দৃষ্টিতে নড়বড়ে চুক্তিটির মাধ্যমে দেশটিকে দুটো আধা স্বতন্ত্র শাসনে বিভক্ত করা হয়েছে, যা একটি দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যুক্ত। এই সরকার বিভক্তিগুলোকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বসনিয়াকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

একাধিক প্রেসিডেন্টের দেশ
বলকান উপদ্বীপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ত্রিভুজ আকৃতির। বসনিয়া অঞ্চলটি উত্তরে পাহাড় ও গভীর বনবেষ্টিত। বিশাল এলাকাজুড়ে অমসৃণ ও সমতল কৃষিভূমির হার্জেগোভিনা অঞ্চলটি দক্ষিণে। এর সংকীর্ণ উপকূল। দেশটির আয়তন ৫১ হাজার ১২৯ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা ৩৫ লাখ ২৬৩৬ জন। রাজধানীর সারায়েভো। দেশটির মুদ্রার নাম মার্কা।

অন্য দেশের মতো বসনিয়ায় একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন না। বসনীয়, সার্ব ও ক্রোয়েট—এই তিন জাতির সমন্বিত প্রেসিডেন্সি পর্ষদ রয়েছে সেখানে। প্রেসিডেন্সি পর্ষদের নেতৃত্বে বা চেয়ারম্যান পদে আট মাস পরপর পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আসে।

প্রেসিডেন্সি পর্ষদে এখন রয়েছেন এসডিএ দলের বাকির ইজেৎবেগোচ (বসনীয়), পিডিপি দলের ম্লাদেন ইভানিচ (সার্ব) ও এইচডিজেড বিহ দলের দ্রাগন চোভিচ (ক্রোয়েট)। ১৭ মার্চ থেকে এ পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বাকির ইজেৎবেগোচ। এর বাইরে রিপাবলিকা স্রেপ্সকার জন্য পৃথক প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। এই অংশের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম মিলোরাদ দোদিক।
দেশটিতে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় ১৯৯৬ সালে। সরকারের মেয়াদ চার বছর।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় দুটি স্বতন্ত্র পক্ষ রয়েছে। একটি দ্য ফেডারেশন অব বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, যেটিতে মুসলিম বসনিয়াক ও ক্রোয়েটদের আধিপত্য বেশি। অপরটি হচ্ছে সার্বদের পরিচালিত রিপাবলিকা স্রেপ্সকা। দেশটির পার্লামেন্ট দুই কক্ষবিশিষ্ট। দ্য হাউস অব পিপলস এবং দ্য হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ। হাউস অব পিপলসে ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। এর দুই–তৃতীয়াংশ ফেডারেশন অব বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার এবং এক-তৃতীয়াংশ স্রেপ্সকার। অর্থাৎ বসনিয়াক (বসনিয়ার মুসলিম), ক্রোয়েট ও সার্বদের পাঁচজন করে সদস্য রয়েছেন এতে। হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে রয়েছেন ৪২ জন সদস্য। এর দুই-তৃতীয়াংশ ফেডারেশন থেকে এবং এক-তৃতীয়াংশ স্রেপ্সকা থেকে ভোটারদের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। এর বাইরে দুই অংশের আলাদা প্রেসিডেন্ট, সরকার, সংসদ, পুলিশ ও পৃথক কর্তৃপক্ষ রয়েছে।

সব মিলিয়ে দেশটিতে চারজন প্রেসিডেন্ট, পাঁচটি পার্লামেন্টারি হাউস এবং ১০টি ক্যানটন অ্যাসেম্বলি (শাসনতান্ত্রিক বিভাগ) রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য ভোটাররা তিন সদস্যের প্রেসিডেন্সি পর্ষদ ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত করে। ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে কথিত দুই স্বতন্ত্র পক্ষের এই সরকার গঠন হয়।

সার্বদের পরিচালিত রিপাবলিকা স্রেপ্সকার (আরএস) ভোটাররা তাদের একজন প্রেসিডেন্ট ও দুজন ভাইস প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি এমপিদের নির্বাচিত করে। এই অংশের রাজধানীর নাম বানজা লুকা।

আর মুসলিম-ক্রোয়েট ফেডারেশন তাদের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের জন্য দুজন প্রেসিডেন্ট ও দুজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে। মুসলিম-ক্রোয়েট ফেডারেশনের ১০টি ক্যানটনের জন্যও ভোটাররা ভোট দিয়ে থাকে।প্রেসিডেন্সি পর্ষদের তিন সদস্য দ্রাগন চোভিচ (ক্রোয়েট), ম্লাদেন ইভানিচ (সার্ব) ও বাকির ইজেৎবেগোচ (বসনিয়াক)। ছবি: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্রেসিডেন্সি কার্যালয়প্রেসিডেন্সি পর্ষদের তিন সদস্য দ্রাগন চোভিচ (ক্রোয়েট), ম্লাদেন ইভানিচ (সার্ব) ও বাকির ইজেৎবেগোচ (বসনিয়াক)। ছবি: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্রেসিডেন্সি কার্যালয়এত জটিল হিসাব–নিকাশের পর যে–কারও মাথায় একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে তাহলে বসনিয়ার নেতৃত্ব কে দেন? এর উত্তরও এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়। জাতীয় বা কেন্দ্রীয় সরকার সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাজস্ববিষয়ক নীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনীতির বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এর চেয়ে দুটি স্বতন্ত্র অংশই তুলনামূলক বেশি কেন্দ্রীভূত। তাদের আলাদা পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে।

দুই স্বতন্ত্র অংশের বিভেদ দেশটির শাসনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় বারবার। বসনিয়াক বা মুসলিমরা চায় কেন্দ্র শক্তিশালী হোক। অন্যদিকে, সার্বরা কোনো অবস্থায় স্বতন্ত্র শাসন সমর্পণ করতে রাজি নয়।

আর ক্রোয়েটদের মধ্যে বিভক্তি আরও বেশি। তাঁদের অনেকে আশা করেন, ক্রোয়েটদেরও স্বতন্ত্র শাসন তৈরি হবে।

মেদবহুল আমলাতন্ত্র দেশটিকে আরও অকার্যকর করে তুলছে। দেশটিতে ১৮০ জন মন্ত্রী আছেন। অর্থাৎ ২০ হাজার লোকের জন্য মন্ত্রী একজন। দেশটির আয়তনের সঙ্গে যদি জার্মানির তুলনা করা যায়, তাহলে এ সংখ্যা অনুসারে জার্মানির মন্ত্রী থাকা উচিত চার হাজার। দেশটিতে সরকারি কর্মচারী রয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুসারে, দেশটির রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ চলে যায় সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডেটন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বসনিয়ায় রক্তগঙ্গা বন্ধ হয়েছে ঠিকই, তবে দেশটির একেবারে হাত পা বেঁধে ফেলা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে বসনিয়ার। সে ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, নানা সরকারের দেশটিকে ‘একটি কণ্ঠে কথা বলতে পারার’ উপায় খুঁজে বের করতে হবে। যদিও বিষয়টি প্রায় দুঃসাধ্য।

স্বতন্ত্র সরকার রিপাবলিকা স্রেপ্সকার প্রেসিডেন্ট মিলোরাদ দোদিক বরাবরই বসনিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে আসছেন। যুদ্ধ–পরবর্তী বসনিয়া তাঁর মতে একটি ‘ব্যর্থ ধারণা’।

১৯৯৫ সাল থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল একজন শীর্ষ প্রতিনিধির মাধ্যমে ডেটন শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি দেখছে। এখন এই দায়িত্বে রয়েছেন অস্ট্রিয়ার ভ্যালেনটিন ইঞ্জকো। বসনিয়ায় আইন পাস ও রদ করার ক্ষমতা রয়েছে এই প্রতিনিধির। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটিতে প্রতিনিধির মাধ্যমে জাতিসংঘের নজরদারির বিষয়টি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ২০০৭ সালে এই পদ বিলুপ্ত করার কথা ছিল। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সংস্কার কর্মকাণ্ডের ব্যর্থতার কারণে পদটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বসনিয়ার অতীত ইতিহাস থেকে বোঝা যায়, সেখানে শান্তি বজায় রাখা কঠিন ব্যাপার।২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি দেশটির স্বতন্ত্র সরকার রিপাবলিকা স্রেপ্সকার বিশেষ পুলিশ বাহিনীর প্যারেড।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বারবার রক্তাক্ত হয়েছে
প্রাচীনকালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে বলা হতো ইলিরিকাম। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে এই অঞ্চল রোমানরা জয় করে নিজেদের প্রদেশ ডালমেশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে। চতুর্থ ও পঞ্চম খ্রিষ্টাব্দে বেজেনটাইন সাম্রাজ্য ওই অঞ্চল দাবি করলে জার্মানির গোথেরা রোমান সাম্রাজ্যকে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই অংশ দখল করে। ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত সেটি তাদের দখলে ছিল। পূর্ব ইউরোপের জাতি স্লাবরা সপ্তম শতাব্দীতে ওই অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বসনিয়া হাঙ্গেরির কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় এবং এর পরের ২৬০ বছরের মধ্যে এটি স্বাধীন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

বলকানে অটোমান সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের ফলে ওই অঞ্চলে ভিন্ন সংস্কৃতি, রাজনীতি ও ধর্মীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠে। ১৩৮৯ সালে কসোভোতে আলোচিত সেই যুদ্ধে তুর্কিরা সার্বদের পরাজিত করে। তারা ১৪৬৩ সালে বসনিয়া জয় করে। আনুমানিক সাড়ে চার শ বছর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় অটোমান সাম্রাজ্যের শাসন ছিল। ওই সময় অনেক খ্রিষ্টান স্লাব মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে। বসনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় ধীরে ধীরে প্রভাবশালী হতে থাকে এবং তুর্কি প্রভুদের পক্ষে তারা দেশ শাসন করতে থাকে। অটোমান সাম্রাজ্যে সংকুচিত হতে থাকলে উনিশ শতকে বলকানের অন্য মুসলিমরা বসনিয়ায় চলে যেতে থাকে। একই সময়ে বসনিয়ায় ইহুদি জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৪৯২ সালে স্পেন থেকে বিতাড়িত হয়ে অনেক ইহুদি সারায়েভোতে আশ্রয় নিয়েছিল। ওই শতকে সব ধর্মবিশ্বাসের মানুষকে বরণ করে নেয় বসনিয়া। ধর্মনিরপেক্ষ সমাজব্যবস্থা, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিয়ে ওই সময় খুব অস্বাভাবিক ছিল না।

১৮৭৬ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো তাদের মিত্র স্লাবদের নিয়ে রাশিয়ার সহায়তায় যুদ্ধ করে। ১৮৭৮ সালে বার্লিন কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত মেনে রুশ-তুর্কি যুদ্ধের (১৮৭৭-১৭৮) অবসান হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুসারে অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি ওই স্থান দখলে নেয় এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা শাসন শুরু করে। রাশিয়া যেন বলকান শাসন করতে না পারে, সে নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য ইউরোপের সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯০৮ সালের ৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ওই প্রদেশ অটোমান সাম্রাজ্যেরই অংশ হিসেবে থেকে গেলেও তা অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার দাবিদার সার্বিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেয়। এই প্রেক্ষাপটে ১৯১৪ সালের ২৮ জুন সারায়েভোতে অস্ট্রিয়ার আর্চ ডিউক ফ্রানজ ফার্দিনান্দকে সার্বিয়ার ছাত্র গ্যাভরিলো প্রিনসিপ হত্যা করে। এই ঘটনা থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯১৮ সালের ২৬ অক্টোবর সার্ব, ক্রোয়েট ও স্লোভেনদের নিয়ে সার্বিয়ায় নতুন রাজ্য গঠিত হয়। এতে যুক্ত করা হয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে। ১৯২৯ সালে এই রাজ্যের নামকরণ হয় যুগোস্লাভিয়া।

১৯৪১ সালে জার্মানি যুগোস্লাভিয়ায় হামলা চালালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা নাৎসি–নিয়ন্ত্রিত ক্রোয়েশিয়ার অংশ হয়ে যায়। জার্মান ও ইতালীয়দের দখলে থাকার সময় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বাসিন্দারা ক্রোয়েশিয়ার ফ্যাসিবাদী বাহিনী উসতাচির বিরুদ্ধে তুমুল গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, যুগোস্লাভিয়ার কমিউনিস্ট নেতা মার্শাল টিটো অধীনে একক রাষ্ট্র হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা আরও ছয়টি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত হয়। জোড়াতালি দেওয়া জাতির মধ্যে জাতিগত শত্রুতা নিয়ন্ত্রণে রাখে তাঁর কর্তৃপক্ষ। টিটো ১৯৮০ সালে মারা যান। কঠিন আবরণ খসে যাওয়ায় এবং ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক অসন্তোষের মুখে যুগোস্লাভিয়া ভাঙতে শুরু করে।

স্বাধীন হলেও নতুন যুদ্ধ শুরু
১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বীকৃতি চাওয়া হয়। ১৯৯২ সালের মার্চে এক গণভোটে বসনিয়ার ভোটাররা স্বাধীনতা বেছে নেয়। প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজেৎবেগোচ এটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। বসনিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে মুসলিম ৪৪ শতাংশ, সার্ব ৩১ শতাংশ ও ক্রোয়েট ১৭ শতাংশ। এই তিন জাতির প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারব্যবস্থা গড়ে ওঠে সেখানে। তবে স্বাধীন হয়েও সেখানে শান্তি ফিরে আসেনি, শুরু হয় জাতিগত যুদ্ধ।

স্বাধীনতার এই ঘোষণা বসনীয়-সার্ব রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। সার্বীয় সরকারের প্রধান স্লোবদান মিলসোভিচের সহায়তায় বসনীয়-সার্ব বাহিনী এবং যুগোস্লাভ পিপল’স আর্মি রাষ্ট্রটির সার্বীয় অংশ নিজেদের দখলে নিতে রিপাবলিক অব বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় হামলা চালায়। এরপর খুব দ্রুত বসনিয়াজুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়। বসনিয়ার বিভিন্ন অংশের (বিশেষ করে পূর্ব বসনিয়ার) জাতিগত জনগোষ্ঠী এই যুদ্ধে অংশ নেয়।

ক্রোয়েশীয় ও সার্বীয় প্রেসিডেন্ট দুজন নিজেদের মধ্যে বসনিয়াকে ভাগ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সার্বীয় যুগোস্লাভ সেনাদের সহায়তায় সার্বীয় সংখ্যালঘুরা নিজেদের অঞ্চলগুলোকে ভাগ করার চেষ্টা করে। বিশেষ করে সারায়েভো দখলদারিত্বে নেমে জাতিগত নিধন শুরু করে। মুসলিমদের গণহত্যা শুরু করে। ক্রোয়েটরাও নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি শুরু করে। ১৯৯২ সালের আগস্টের শেষে বিদ্রোহী বসনীয় সার্বরা বসনিয়ার ৬০ শতাংশ দখল করে নেয়। উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) এতে হস্তক্ষেপ করার পর যুদ্ধের তীব্রতা কমে আসে। ১৯৯৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বসনিয়ায় সার্বদের লক্ষ্য করে বোমা ফেলে ন্যাটো বাহিনী। সার্ব জাতিসংঘের নিরাপদ এলাকা তুজলা, জেপা ও স্রেব্রেনিৎসায় ঢুকে পড়ে মুসলিম নিধন শুরু করে। বলা হয়, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে আড়াই লাখ লোকের মৃত্যু হয়।
যুদ্ধ বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯৯৫ সালের ২১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটনে ‘দ্য জেনারেল ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট ফর পিস ইন বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা’ প্রণীত হয়। এটি ‘ডেটন চুক্তি’ বা ‘ডেটন শান্তি চুক্তি’ নামেও পরিচিত। ১৯৯৫ সালে ১৪ ডিসেম্বর প্যারিসে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ, ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রেনজো তুজমান এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজেৎবেগোচ।

১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিন সদস্যের প্রেসিডেন্সি পর্ষদে বসনিয়াক বা বসনীয় মুসলিম ইজেৎবেগোচ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে সব জাতির প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সরকার জাতিগত সমস্যা সমাধান বা সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য কমই দেখাতে পেরেছে। সেখানে শান্তি রক্ষায় ন্যাটো বাহিনী অকার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
তবে জটিল প্রশাসনিক কাঠামো আর তীব্র জাতিগত বিভেদের দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা থাকলেও সেখানের শীর্ষ ব্যক্তিদের বসনিয়া যুদ্ধ ও স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার দায়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে শীর্ষ ব্যক্তিদের বিচার
বসনিয়ার যুদ্ধ চলাকালে সার্ব বাহিনী ছোট শহর স্রেব্রেনিৎসার প্রায় আট হাজার মুসলিম পুরুষ ও ছেলে শিশুদের হত্যা করে। তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের হেফাজতে ছিল। এর বাইরে বসনিয়া যুদ্ধের জন্য মুসলিম নেতাদেরও অভিযুক্ত হয়ে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নেদারল্যান্ডসের হেগে শহরে এই যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করে। দ্রাজেন এরদেমোভিচ নামের একজন ক্রোয়েট সার্বদের পক্ষে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় অংশ নেওয়ার দায়ে পাঁচ বছরের সাজা পান। ওটাই ছিল প্রথম রায়। এরপর ২০০১ সালে বসনিয়ার সার্ব জেনারেল রাদিমলাভ ক্রস্টিচকে স্রেবেনিৎসা গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। ১৯৫১ সালে জাতিসংঘের গণহত্যার বিচারবিষয়ক চুক্তি হওয়ার পর ইউরোপের কোনো দেশের জন্য সেটি ছিল প্রথম বড় ধরনের রায়। রায়ে তাঁকে ৪৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই বছর সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলাএই বিচারের রায় ঘোষণার আগেই ২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ডেটন চুক্তি অনুসারে বসনিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক প্রশাসক প্যাডি অ্যাশডাউনের ক্রমাগত চাপের মুখে স্রেবেনিৎসা গণহত্যার দায় ২০০৪ সালের জুনে সার্ব নেতারা স্বীকার করেন। বসনিয়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও আদালত তা বাতিল করেন। তবে বিচারক রোজালিন হিঙ্গিস গণহত্যা প্রতিরোধ করতে না পারায় সার্ব নেতাদের ভর্ৎসনা করেন।

২০০১ সালে তিনজন মুসলিম জ্যেষ্ঠ জেনারেলও বসনিয়া যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সার্বের রাজনৈতিক দল এসডিএস যুদ্ধের সময়ের তাদের নেতা রাদোভান কারাদিচ সহ সন্দেহভাজন সব যুদ্ধাপরাধীকে বহিষ্কারে ভোট দেয়। ২০০৭ সালে শীর্ষ পলাতক জ্রাভকো তলিমির ও ২০০৮ সালে রাদোভান কারাদিচ গ্রেপ্তার হন। ২০১২ সালে তলিমিরকে যাবজ্জীবন ও ২০১৬ সালে কারাদিচকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ যুদ্ধাপরাধের দায়ে সার্ব সাবেক সেনাপ্রধান রাতকো ম্লাদিচকে ২০১১ সালে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধাপরাধীর একজন বলা হয়ে থাকে। স্রেবেনিৎসা গণহত্যার দায়ে তাঁর বিচার শুরু হয়। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, বিবিসি, এএফপি, বলকান ইনসাইট

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশংসায় ভাসালেন সৌদি প্রিন্স

বিদেশের খবর: যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ‘দুই সপ্তাহও’ চলতে পারবে না- ট্রাম্পের এমন সতর্কবার্তার কয়েকদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্প প্রশাসন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লুমবার্গকে বিন সালমান জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি আমি। মধ্যপ্রাচ্যে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অর্জন অনেক। খবর আল জাজিরা।
৩৩ বছর বয়সী এই প্রিন্স আরো বলেন, মিত্রদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। এটা মেনে নিতে হয়। তার ভাষায়- যেকোনও বন্ধু ভালো এবং খারাপ দুই ধরনের কথাই বলবে। আপনার সম্পর্কে ভালো কথা বলছে এমন শতভাগ বন্ধু পাবেন না আপনি। এমনকি পরিবারেও এটা হয় না।
এর আগে বুধবার মিসিসিপি ক্যাম্পেইন র‍্যালিতে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা তুলে নিলে সৌদি আরব ‘দুই সপ্তাহও’ টিকবে না। আমরা তাদেরকে সুরক্ষা দেই। আপনারা তাদের সম্পদশালী বলবেন? আমি কিং সালমানকে পছন্দ করি। তাকে বলেছিও- আমরা তোমাদের সুরক্ষা দিচ্ছি। আমাদের ছাড়া তোমরা দুই সপ্তাহও থাকতে পারবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যান ইউ’র নাটকীয় জয়

খেলার খবর: সময়টা আদৌও ভালো যাচ্ছে না ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এরমধ্যে গতরাতে নিউক্যাসলের বিপক্ষেও ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিলেন হোসে মরিনহোর শিষ্যরা। তবে শেষতক নাটকীয় এক জয় পেয়েই মাঠ ছেড়ে দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল শোধ করার পাশাপাশি জয়ের জন্য বাড়তি একটি গোল করেছে ম্যান ইউ।
শনিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ৩-২ গোলের জয় পেয়েছে ইউনাইটেড। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চার ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল দলটি।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো কোনাকুনি শটে নিউক্যাসলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কেনেদি। আর দশম মিনিটে সতীর্থের ক্রস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জাপানের ফরোয়ার্ড ইয়োশিনোরি মুতো।
ইউনাইটেড বিরতির পর গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭০তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ম্যান ইউ। বা পায়ের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে লক্ষ্যভেদ করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার হুয়ান মাতা। ৭৬তম মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড অঁতনি মার্সিয়াল দলকে সমতায় ফেরান। আর ৯০তম মিনিটে ডান দিক থেকে মার্সিয়ালের ক্রসে হেডে জয়সূচক গোলটি করেন মার্কাস র্যাশফোর্ডের বদলি নামা চিলির ফরোয়ার্ড আলেক্সিস সানচেস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest