সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ডাঃ মোখলেছুর রহমান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু সায়ীদ, দেবহাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, পৌর যুবলীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন অনু, খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, চাম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক লায়লা পারভীন সেজুতি, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আফিস শাহবাজ খান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক, আধুনিক সাতক্ষীরার উন্নয়নের অন্যতম রূপকার, সাতক্ষীরা-০৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, সাবেক সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য প্রফেসর ডা. আ ফ ম রুহুল হক এর বিরুদ্ধে কতিপয় নামপরিচয়হীন ব্যক্তি মিথ্যা, বানোয়াট, কুরূচিপূর্ণ মিথ্যাচার করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সন্নিকটে একটি বিচ্ছিন্ন মানববন্ধন করেছে। কথিত মানববন্ধনে জনা বিশেক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে মাত্র ২/১ জন পরিচিত মুখের বাইরে অধিকাংশেরই কোন নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এমনকি মানববন্ধনে যে লিখিত বক্তব্য সরবরাহ করা হয়েছিল সেখানেও কারও কোন নাম-পরিচয় বা স্বাক্ষর নেই।
আমরা মনে করি, ডা. রুহুল হক এমপির জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাণি¦ত হয়ে কোন মনোনয়ন প্রত্যাশী চক্র তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কুৎসা রটনার চেষ্টা চালাচ্ছে। আপনাদের কারও অজানা নয় যে, ডা. আ ফ ম রুহুল হক একজন বিশ্ববরেণ্য চিকিৎসক। তিনি ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ(স্বাচিপ)’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়পন জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ২০০৮ সাল থেকে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা থেকে একমাত্র তিনিই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটিরও সভাপতি। তিনি ৫ বছর সফলতার সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের এমডিজিসহ বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেতে সাহায্য করেছেন। বর্তমানে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও সভাপতি। সম্প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মনোনীত করেছেন। ডা. আ ফ ম রুহুল হকের হাত ধরে সাতক্ষীরাতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সাতক্ষীরায় অসংখ্য উন্নয়নমূলক কর্মকা- সম্পন্ন করেছেন এবং করছেন। আমরা মনে করি, ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি সাতক্ষীরার সম্পদ। সাতক্ষীরার উন্নয়নে এবং সাতক্ষীরাকে জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপনে তিনি তার চিকিৎসক জীবনে এবং রাজনৈতিক জীবনে উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমরা মনে করি, যারা ডা. তাকে নিয়ে কুৎসা রটনা করছেন তারা সাতক্ষীরার শক্র, সাতক্ষীরার উন্নয়নের শক্র। সাতক্ষীরার উন্নয়নের জন্য যাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেই ডা. রুহুল হক এমপিকে অসম্মানিত করা বা তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের চেষ্টা সাতক্ষীরাবাসী মেনে নেবে না। তিনি আরো বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা প্রেসক্লাবের সন্নিকটে যে কথিত মানববন্ধনটি হয়েছিল তার কোন ছবি কোন সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। সেই মানববন্ধনের কিছু ছবি আমাদের হাতে রয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, হাতেগোনা কিছু যুবক ডা. আ ফ ম রুহুল হক সম্পর্কে কুরূচিকর বক্তব্য সম্বলিত একটি ব্যানার ও কিছু প্লাকার্ড ধরে আছে। ছবি তোলার সময় প্রতিবারই অধিকাংশ যুবক প্লাকার্ড দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে। এতে বোঝা যায়, এটি কোন স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচি ছিল না। এটি কোন বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে বা প্রযোজনায় মঞ্চস্থ করা হয়েছে। এধরনের কূট কৌশল অসুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দেশের প্রচীনতম এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন। এখানে বহু নেতা আছেন, কর্মী আছেন, বিশিষ্ট জনেরা আছেন। বহু নেতা আসবেন, যাবেন। দলে মনোনয়ন ও নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতা থাকবে। এখানে নেতৃত্ব দিতে হলে বা বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে হলে রাজনীতির মাঠে বিচরণ করতে হবে, দলের নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে হবে, তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে হবে। দলের প্রতিষ্ঠিত প্রবীণ নেতাদের চরিত্র হননের অপচেষ্টাকারীরা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শুভাকাক্সক্ষী নন। তারা বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশকে অমান্য করে আওয়ামীলীগের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তা আমরা বরদাস্ত করব না।
এদিকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা শহীদ আলাউদ্দিন চত্বরে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, উপজেলা আওয়ামীলীগসহ সকল অঙ্গ সহযোগী সংঠগনের নেতৃত্বে সমন্বয়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আজকে কয়েকটি পত্রিকায় ডা: রুহুল হকের মনোনয়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছি মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তা আদৌ সত্য নয়। আমার মানববন্ধন করেছি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে। এছাড়া ওই মানববন্ধনটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল সাংবাদিক লাঞ্চিতের গুজব ছড়িয়ে দু একটি অন লাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করেছে। আসলে সেখানে এধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। ওই ষড়যন্ত্রকারীরা কিছু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে এধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে। আমরা সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপির বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘৃণ্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হচ্ছে চীনে

অনলাইন ডেস্ক: আগামী ২০১৯ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরটি যাত্রা শুরু করবে চীনে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেইজিং ডেক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে ওই স্থাপনার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে এখান থেকে বছরে ৬ লাখ ২০ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে।
এর মাধ্যমে সেবা পাবেন অন্তত ১০ কোটি মানুষ। ২০১৪ সালে ওই বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী বছরের মাঝামাঝি এই বিমানবন্দর পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হবে।
এর আগে চীনের তৈরি এ যাবত কালের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী বিমান সি ৯১৯ আকাশে উড়েছিল। সি৯১৯ বিমানটির দৈর্ঘ্য ৩৮.৯ মিটার আর প্রস্থ ৩৩.৬ মিটার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সফরের পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল উত্তেজনা

দেশের খবর: নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সমর্থনে আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি র‌্যালির পাশাপাশি ‘যেখানে হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচির সমর্থনে বিএনপির মানববন্ধন, আলোচনা সভা ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জাতিসংঘে ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসবেন শেখ হাসিনা। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘে ভাষণ প্রদানের পর লন্ডন হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন। ৫ দিনের এই সফরের সময়ে ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়ই ‘প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা’ সমাবেশে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। এটি অনুষ্ঠিত হবে মিডটাউন ম্যানহাটানে হোটেল হিল্টনের বলরুমে। এই সমাবেশের বাইরেও বিক্ষোভ ও কাল পতাকা দেখাবে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের লোকজন। এজন্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ। এর আগে জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে হাজারো নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, শ্রমিক লীগ। একইসময়ে শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি, যুবদল, জাসাস। এসব সংগঠনের পক্ষে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন এ সংবাদদাতাকে জানান, বিনা চ্যালেঞ্জে কিছুই করতে দেয়া হবে না শেখ হাসিনাকে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবো।

জাতিসংঘে শেখ হাসিনার ভাষণের সময়ে বাইরে আওয়ামী লীগ করবে শান্তি সমাবেশ, অপরদিকে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশের। বিএনপির কর্মসূচির জন্যেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক শাহীন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আগেই এয়ারপোর্ট, জাতিসংঘসহ সর্বত্র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সংগ্রহ করেছেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, প্রতিবাদের নামে জামায়াত-শিবিরের প্ররোচনায় বিএনপি যদি কোন অসভ্য-অগণতান্ত্রিক আচরণের চেষ্টা করে তাহলে তার সমুচিত জবাব দেয়া হবে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আগের মতো এবারও শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে।

পক্ষ ও বিপক্ষের কর্মসূচির সমর্থনে ১৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগ আর যুবলীগের ব্যানারে দুটি র‌্যালি এবং বিএনপির ৩ গ্রুপের ৩টি র‌্যালি হয়েছে কাছাকাছি দূরত্বে। সকলেই পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান আর বক্তব্য দিলেও তা শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়নি। নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির র‌্যালি চলাকালে তা থেকে ৪/৫ গজের মধ্যেই প্রদীপ রঞ্জন করের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিলেন কিন্তু কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। বিএনপির কর্মসূচি শেষ হলেই প্রদীপ কর ও আব্দুর রহিম বাদশা’র নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের র‌্যালি শুরু হয় ডাইভার্সিটি প্লাজায়।

স্টেট বিএনপির এ র‌্যালিতে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগানের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া বিএনপি কখনো সে নির্বাচনে যাবে না বলে মন্তব্য করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম ভূইয়া, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জসীমউদ্দিন, সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সেক্রেটারি সাইদুর রহমান, মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, শ্রমিক দলনেতা রফিকুল মাওলা প্রমুখ।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রায় বক্তব্য দেন ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, আব্দুর রহিম বাদশা, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, কাজী কয়েস, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, কায়কোবাদ খান, হিন্দাল কাদির বাপ্পা, শাহীন আজমল, মুক্তিযোদ্ধা আর আমিন, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রায় একইসময়ে শেখ হাসিনাকে কাল পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতি সভা হয় নিকটস্থ কাবাব কিং পার্টি হলে। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা পারভেজ সাজ্জাদ।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ বশির, প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ডা. মজিবর রহমান মজুমদার, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, আনোয়ার হোসেন এবং ফিরোজ আহমেদ, মহিলা সম্পাদিকা সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি রাফেল তালুকদার, বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম মজনু, বাসিত রহমান, শাহাদৎ হোসেন রাজু, হেলালউদ্দিন, এমলাক হোসেন ফয়সল, কাজী আমিনুল ইসলাম, যুবদল নেতা জাকির হোসেন চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরকার নির্বাচিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিকল্প নেই। এ দাবির সমর্থনে বিশ্বজনমত গড়তেই জাতিসংঘের সামনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে হবে।

বিএনপির অপর অংশের আরেকটি প্রস্তুতি সভা হয় ইত্যাদি পার্টি হলে। ডা. মজিবর রহমান, সৈয়দ এম রেজা, মোহাম্মদ বশীর প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ৮৯ শতাংশই ফেল

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটের ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় ৮৯ দশমিক ২ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল প্রকাশ করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ‘গ’ ইউনিটের এ ভর্তি পরীক্ষা হয়।
পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট admission.eis.du.ac.bd জানা যাবে। এ ছাড়া DU GA লিখে রোল নম্বর লিখে ১৬৩২১ নম্বরে send করে ফিরতি SMS এ ভর্তিচ্ছুরা তার ফলাফল জানতে পারবেন।
ফলাফলে দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ২৫ হাজার ৯৫৮ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এরমধ্যে পাস করেন ২ হাজার ৮৫০ জন । ‘গ’ ইউনিটের অধীনে আসন রয়েছে ১ হাজার ২৫০টি।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে পছন্দ তালিকা পূরণ করতে পারবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রসুন দিয়ে চ্যাপা শুঁটকি ভুনা

অনলাইন ডেস্ক: শুঁটকি অনেকেরই প্রিয় খাবার। গরম ভাতের সঙ্গে শুঁটকি ভুনা হলে আর কিছু দরকার পড়ে না। চলুন আজ জেনে নেই রসুন দিয়ে চ্যাপা শুঁটকি ভুনার রেসিপি-

উপকরণ: রসুন বাটা আধা কাপ, চ্যাপা শুঁটকি ৫০ গ্রাম, মরিচ বাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, লবণ স্বাদমতো, ফিস সস ১ চা চামচ, তেল এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ, কাঁচামরিচ ৫টি।

প্রণালি: শুঁটকি ভালো করে ধুয়ে বেটে নিন। কড়াইতে তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ কুচি ভাজা হলে রসুন, মরিচ, শুঁটকি ও লবণ দিয়ে ভুনতে থাকুন। ভুনা হয়ে এলে কাঁচামরিচ চিরে দিন। ফিশ সস দিন। কড়াই থেকে আলগা হয়ে তেল চকচকে হলে নামিয়ে নিন। পরিবেশন করুন ভাত, রুটি কিংবা চিতই পিঠার সঙ্গে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ শ্রীলংকার বাঁচা-মরার লড়াই

খেলার খবর: শ্রীলংকার এশিয়া কাপ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের কাছে ১৩৭ রানের শোচনীয় হারের মধ্যদিয়ে। এমনিতে শ্রীলংকার সাম্প্রতিক ওডিআই পারফরম্যান্স সুখপ্রদ নয়।
গত ১৮ মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তারা যত ওডিআই খেলেছে তার অর্ধেক ম্যাচে হার হয়েছে তাদের সঙ্গী। আর ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে ওয়ানডে সিরিজ।
আজ আফগানিস্তান কি পারবে অঘটন ঘটাতে? শ্রীলংকাকে হারাতে? প্রশ্নটা তর্কযোগ্য। তবে রশিদ খানের মতো লেগ-স্পিনার যাদের সম্পদ, সেই আফগানদের স্পিন-ঐশ্বর্য আরও ঋদ্ধ হয়েছে মুজিব-উর-রাহমান ও মোহাম্মদ নবীর মতো খেলোয়াড়ের দরুন।
জীবন-মরণ ম্যাচে না জিতে উপায় নেই শ্রীলংকার। এমন ম্যাচে অফ-স্পিনার আকিলা দনানজয়াকে পাওয়াটা চন্ডিকা হাথুরুসিংয়ের জন্য স্বস্তির বিষয়। তার প্রথম সন্তানের আগমনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। এ বছর সব ফরম্যাটে আকিলাই শ্রীলংকার খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিক। লাসিথ মালিঙ্গার প্রত্যাবর্তনে লংকানদের শক্তি বেড়েছে। আফগানিস্তানের তুলনায় তাই অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসরা শক্তিতে এগিয়ে। তাই বলে আফগানদের হালকাভাবে নেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
এবারের এশিয়া কাপের তৃতীয় ম্যাচের ভেন্যু আবুধাবি। দুবাইয়ের মতো সেখানেও প্রচণ্ড গরম। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর। রাতে শিশির পড়ে। পরে ফিল্ডিং করা দলের বোলারদের গ্রিপ ঠিক রাখা কষ্টকর। শ্রীলংকার জন্য প্রেরণা হতে পারে এই ফরম্যাটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা দুটি ম্যাচেই পাওয়া জয়। এরমধ্যে দ্বিতীয় জয়টি চার উইকেটে। ২০১৫ বিশ্বকাপে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মোহাম্মদ আশরাফুল ‘এ’ দলে জায়গা পেলেন

খেলার খবর: আশরাফুল বাংলাদেশ ‘এ’ দলে জায়গা পেয়েছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের বিপক্ষে ‘এ’ দলের হয়ে চারদিনের ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করবেন ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
২০১৬ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরলেও, বন্ধ ছিল জাতীয় দল ও বিপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টের দরজা। অবশেষে গত ১৩ আগস্ট, সেই দরজাও খুলেছে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি শেষে আশরাফুল জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।

জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটার, ‘এ’ দলে থাকা ক্রিকেটার ও এইচপি টিমে থাকা সদস্যের সমন্বয়ে দুইটি দল গঠন করা হবে। এইচপি দলের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটারদের তালিকায় রয়েছেন- তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মার্শাল আইয়ুব, আল আমিন, নুরুল হাসান সোহান, মোহাম্মদ আশরাফুলরা।

আশরাফুলের জন্য নির্বাচকদের নজরে আসার বড় সুযোগ হবে এই চারদিনের টেস্ট ম্যাচ। সোমবার খুলনায় পৌঁছানোর কথা স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের। আর বৃহস্পতিবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই চারদিনের ম্যাচ।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন আশরাফুল। আপিলের পর সেই সাজা কমে দাঁড়ায় পাঁচ বছর। দুই বছর আগে বিপিএল ছাড়া অন্যান্য ঘরোয়া আসরে খেলার ছাড়পত্র পান তিনি। অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্রথম মৌসুমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি আশরাফুল।

তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজের সর্বশেষ মৌসুমে দারুণ কিছুই করে দেখিয়েছেন আশরাফুল। হাঁকিয়েছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি। পাশাপাশি লিস্ট এ ক্রিকেটে বেশ ধারাবাহিকও ছিলেন তিনি। গত দুই মৌসুমে ২৩টি পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ৪৭.৬৩। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সে ধারাবাহিকতা ছিল না আশরাফুলের ব্যাটে। গত দুই মৌসুমে ১৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ২১.৮৫।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়ন; বিপুল মূলধন ঘাটতির শঙ্কায় সোনালী ব্যাংক

দেশের খবর: ২০২০ সালের জানুয়ারির মধ্যে ব্যাসেল-৩ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। তখন ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে সাড়ে ১২ শতাংশ। এ পরিমাণ মূলধন সংরক্ষণ করতে হলে বিপুল পরিমাণ মূলধন ঘাটতির সম্মুখীন হবে সোনালী ব্যাংক। তাই মূলধন ঘাটতি এড়াতে সরকারের কাছে ৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি চায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটি। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত সেবাসহ সরকারের অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে যৌক্তিক হারে সেবার মাশুল (ফি) নির্ধারণ করতে চায় ব্যাংকটি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে একটি চিঠিতে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নে মূলধন ঘাতটি পুরনে ব্যাংক গ্যারান্টিসহ বেশ কিছু পলিসিগত সুবিধা চেয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং এ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকিসহ যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সোনালী ব্যাংক ২০১৭ সালে সত্যিকার অর্থেই ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে এ ব্যাংক দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ২য় সর্বোচ্চ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা (১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা) এবং সর্বোচ্চ নিট মুনাফা তথা ৭০৯ কোটি টাকা অর্জন করেছে। গত ২০০৭ সালে সোনালী ব্যাংক করপোরেটাইজকালীন একুমুলেটেড লস ৬ হাজার ৫৭৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা ইনটেনজিবল অ্যাসেট (গুডউইল) এ স্থানান্তর করে ১০ বছরের মুনাফার বিপরীতে সমন্বয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর এ ব্যাংক এক দশমাংশ অর্থাৎ ৬৫৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা করে বিগত ১০ বছরে গুডউইল বাবদ ৬ হাজার ৫৭৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা সম্পূর্ণ সমন্বয় করা হয়েছে। তাছাড়া ২০১৫ সাল থেকে বাস্তবায়নাধীন ব্যাসেল-৩ এর কঠোর নিয়ামানুবর্তিতার কারণে ব্যাংক ক্রমাগত মূলধন ঘাটতির সম্মখীন হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকি এবং শাখা পর্যায়ে গৃহীত কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ব্যাংকটি ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পরিচালনা মুনাফার পরিমাণ (সাময়িক) ৯১২ কোটি টাকা অর্জন করে। যেখানে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল মাত্র ৩১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মুনাফা বৃদ্ধির হার ১৮৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতেও মুনাফা বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে ব্যাসেল-৩ নীতিমালার কারণে নিট মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নেয়া হলে ২০১৯ সালে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হিসাবে এ ব্যাংক বিপুল পরিমাণ মূলধন ঘাটতির সম্মুখীন হবে।

সোনালী ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়, এ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকার যদি নগদ অর্থের পরিবর্তে ৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দেয় তাহলে কোনো নগদ লেনদেন ছাড়াই শুধু ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যুর মাধ্যমে এ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ সম্ভব হবে। তাই সোনালী ব্যাংকের বিরাজমান মূলধন ঘাটতি পূরণে ৬ হাজার কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি ইস্যুর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংককে নিজস্ব মুনাফার কথা বিবেচনার বাইরে রেখে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সবসময় কাজ করতে হয়। যা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গিপূর্ণ নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে পরিমিত (স্ট্যান্ডার্ড) কমিশন হচ্ছে দশমিক ৪০ শতাংশ। সে হিসাবে সোনালী ব্যাংক সরকারের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে ৯৪ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার ঋণপত্রের ক্ষেত্রে মেয়াদকালীন প্রাপ্য কমিশনের পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অথচ সরকার এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংককে থোক বরাদ্দ হিসেবে দুই দফায় ২০ কোটি দেয়ার প্রস্তাব করেছে।

ফলে ব্যাংক স্টান্ডার্ড রেট বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার কমিশন থেকে বঞ্চিত হয়েছে সোনালী ব্যাংক। পরবর্তীতে সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড হারে কমিশন প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়।

সোনালী ব্যাংক সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের সুবিধাভোগীকে বিনামূল্যে ৩৭টি সেবা এবং নামমাত্র মূল্যে সরকারি কর্মচারীদের ১৪টি সেবা দিয়ে থাকে। এসব সেবার ক্ষেত্রে ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ ব্যয়ভার বহন করতে হয়। সরকারের পক্ষে আর্মি পেনশন, সিভিল পেনশন, সঞ্চয়পত্র ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ডসমূহ সোনালী ব্যাংক তার নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে সেবা দিয়ে থাকে। সেবামূল পরিশোধের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুনঃভরণ দাবির নিরীক্ষাসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে পুনঃভরণ পেতে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। ফলে এ সব খাতে ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অনুপার্জিত অবস্থায় বিনিয়োজিত থাকে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এবং সরকারি সিদ্বান্তে অনেক অলাভজনক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিপিসি, বিজেএমসি, বিএডিসি ইত্যাদির সংস্থার সঙ্কটে ১৪ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেয়া হলেও পরে সরকারি সিদ্ধান্তে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ২০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদে বন্ড নেয়ার মাধ্যমে ঋণ সমন্বয় করা হয়। ফলে এ সব ক্ষেত্রে ব্যাংকের বছরে এক হাজার ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়

তাই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত সেবাসহ সরকারের অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে যৌক্তিক হারে সেবার মাশুল (ফি) নির্ধারণ করার আবেদন জানান ব্যাংকটির সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওবায়েদ উল্লঅহ আল মাসুদ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী খেলাপির বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর এ হার বেশি।

তিনি বলেন, প্রতিবছরই বাজেট থেকে এ মূলধন যোগান দেয়। অর্থাৎ অনিয়ম-দুর্নীতি ফলে ঘাটতি হওয়া এ মূলধন পূরণে হচ্ছে জনগণের করের টাকায়। মূলধন সরবরাহের সরকারি উদ্যোগের কোনো যুক্তিযুক্ত নেই। এ উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার সামিল।

ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়ে সাবেক এ গভর্নর বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারকে নগদ টাকা দিতে না হলেও পুরো টাকার দায়ভার কিন্তু সরকারকেই নেতে হবে। তাই বিষয়টি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তবে সরকারি কাজে ফি নির্ধারণে বিষয়ে সরকার ভেবে দেখতে পারেন বলেও মত দেন তিনি।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে বলেন, সোনালী ব্যাংকের চিঠিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest