সর্বশেষ সংবাদ-
নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছাদেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চোরাই গরুসহ আটক ১, থানায় মামলাআশাশুনিতে বিএনপির সাবেক আহবায়কের নেতৃত্বে সরকারি ইজারাকৃত জলমহল অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনউন্নয়ন প্রচেষ্টার উদ্যোগে কলারোয়ায় খামারিদের জলবায়ু বিপন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণতালার নুরু বিশ^াস ও যুব জামায়াতের নেতা ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে অন্যের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগজেলা পরিষদের প্রশাসক কে সারসা বাহারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শুভেচ্ছাসাতক্ষীরায় জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিললেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ সাতক্ষীরায় : শোকের ছায়াসাতক্ষীরায় সীমানা পিলার উদ্ধার আটক -৪সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দোকান ঘর দখলের অভিযোগ 

দুই রণবীরের গোপন কথা ফাঁস করবেন দীপিকা ও আলিয়া

অনলাইন ডেস্ক: পছন্দের বলিউড তারকারা তাদের একে অপরের নানান রকম গোপন খবর ফাঁস করেন। আর সেসব ছড়িয়ে যায় বিদ্যুৎ বেগে। এসব কথা মাথায় রেখেই ‘কফি উইথ করণ’- শো শুরু করেছিলেন করণ জোহর। সে শো হিট হয়। আর সেকথা মাথায় রেখেই ‘কফি উইথ করণ’-এর সিজন-৬ শুরু হতে যাচ্ছে। করণের এই শোয়ের প্রথম দিনের অতিথি হবেন বলিউডের দুই প্রথম সারির অভিনত্রী। আলিয়া ভাট ও দীপিকা পাড়ুকোন। একজন রণবীর কাপুরের বর্তমান, অন্যজন প্রাক্তন।

যিনি রণবীর কাপুরের প্রাক্তন তিনিই আবার রণবীর সিংয়ের বর্তমান। মনে করা হচ্ছে দুই রণবীরের গোপন খবরের পর্দা ফাঁস করতেই আসছেন তাদের প্রেমিকারা। আর শোয়ে দীপিকা ও আলিয়া যখন থাকছেন তখন দুই রণবীরের সম্পর্কে নানান গোপন কথার পর্দা যে ফাঁস হওয়ায় স্বাভাবিক।

গত বছর এই শোয়ে হাজির হয়েছিলেন রণবীর কাপুর ও রণবীর সিং জুটি। বলিউডের দুই রণবীরের হাসি ঠাট্টা ও গল্প-গুজবে জমে উঠেছিল চ্যাট শো। এবার দেখা যাক দীপিকা ও আলিয়া একে অপরের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন।

বিশেষ করে যখন রণবীর কাপুরের সঙ্গে দীপিকা ও আলিয়া দুজনেরই বিশেষ একটা সম্পর্ক রয়েছে। দীপিকা হলে রণবীর কাপুরের প্রাক্তন প্রেমিকা। বিভিন্ন কারণে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলেও বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। আর আলিয়া হলেন রণবীর কাপুরের বর্তমান। অন্যদিকে দীপিকা আবার বর্তমানে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে প্রেম করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠলে করণীয়

স্বাস্থ্য কণিকা: কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা একটি পরিচিত চোখের সমস্যা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনো বয়সের মানুষ এই রোগটিতে আক্রান্ত হতে পারেন। সারা বছর আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও গরমে চোখ উঠার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। সংক্রামক হওয়ায় পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

আমাদের চোখের সাদা অংশটুকু একটা পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে- যার নাম কনজাংটিভা। এই কনজাংটিভায় যখন বিভিন্ন কারণে সংক্রমণ হয় তখন সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো লালচে হয়ে উঠে এবং চোখ লাল দেখায়। এছাড়া চোখ দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি, হলদেটে নিঃসরণ কিংবা আলোক সংবেদনশীলতা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে এই কনজাংটিভাইটিস হতে পারে।

যেমন: ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাল ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ ইত্যাদি। কনজাংটিভাইটিস একটি অস্বস্তিকর সমস্যা। এই সময় চোখে কন্টাক্ট লেন্স বা কোনো ধরনের কসমেটিকস ব্যবহার করা উচিত নয়। তাছাড়া আলোক সংবেদনশীলতার জন্য সানগ্লাস পড়া আরামদায়ক। তবে এটি খুব সংক্রামক হওয়ায় চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৩০

বিদেশের খবর: ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার একটু আগে সুলাওয়েসি দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপর সমুদ্র উপকূলীয় ওই শহরটিতে সুনামিও আঘাত হেনেছে। সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু, ডোঙ্গালা ও অন্যান্য কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় ৫ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র সুতপো পারু নাগরোহো জানান, ভূমিকম্পে ৩০ জন মারা গেছে। অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পে অনেক ভবন ধসে গেছে বলে খবর এসেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল বায়ার্ন মিউনিখ

খেলার খবর: বুন্দেসলিগায় এ মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল বায়ার্ন মিউনিখ। শুক্রবার রাতে হার্থা বার্লিনের ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে নিকো কোভাচের শিষ্যরা।
ম্যাচের ২৩তম মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে হার্থা বার্লিনকে এগিয়ে দেন ভেদাদ ইবিসেভিচ। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ডি-বক্সের মাঝামাঝি থেকে ডান পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার ওন্দ্রেই দুদা।
ছয় ম্যাচ থেকে চার জয় ও এক ড্র’তে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে বায়ার্ন। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে হার্থা বার্লিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিজেই রোগ নির্ণয় করুন

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের অভ্যাস হচ্ছে শরীর খুব খারাপ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া। মাঝে মাঝে শরীর হয়ত একটু খারাপ লাগে, একটু বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে ‍যায়। এই লক্ষণগুলো যে হতে পারে বড় কোনো রোগের পূর্বাভাস এটা চিন্তাও করি না।

সচেতনভাবে উপসর্গগুলো লক্ষ্য করলে নিজেরাই কিছু রোগ সনাক্ত করতে পারি। যেমন:

হৃদরোগ
হৃদরোগের উপসর্গগুলো হলো, বুকে ব্যথা, নাড়ির গতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, শ্বাস-প্রশ্বাসে অস্বাভাবিকতা শরীরের কিছু কিছু জায়গায় নীল হয়ে যাওয়া, চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস
রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া হচ্ছে ডায়াবেটিস। বারবার পানির পিপাসা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, শরীর দুর্বল লাগা, ওজন কমে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং সকালের প্রথম প্রস্রাব একটি স্বচ্ছ পাত্রে রেখে রোদে দিলে যদি ৪ ঘণ্টার মধ্যে তলানিতে (প্রায় ৭০ ভাগ) জমে, তবে বুঝতে হবে এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণ।

জন্ডিস
জন্ডিসের উপসর্গ হচ্ছে শরীর ও চোখ ফ্যাকাসে হলুদ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রঙ হলুদ হয়ে যাওয়া, শরীর খুব ক্লান্ত লাগা, খাবারে অরুচি।

গ্যাস্ট্রিক
গলা ও বুক জ্বালাপোড়া, টক টক ঢেঁকুর ওঠা, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা গ্যাস্ট্রিকের উপসর্গ। সাধারণত সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া, ভেজালযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিক হয়।

উপসর্গগুলো লক্ষ্য করুন, যদি নিয়মিত এর যেকোনোটি হতে থাকে, অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থাকুন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কমছে ডিসি হওয়ার বয়স; হচ্ছে কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং নীতিমালা

দেশের খবর: মাঠ প্রশাসনের শীর্ষপদ জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগের বয়সসীমা কমানো হচ্ছে। এ পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার বয়স হতে হবে ৪৫ বছরের কম। বর্তমানে ডিসি পদে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স ৫০ বছর নির্ধারণ করা আছে। ডিসি হতে হলে মাঠ প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে কমপক্ষে ৫ বছর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে ২ বছর ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। উল্লিখিত বিধান রেখে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার এবং সরকারের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং (কর্মজীবন পরিকল্পনা) নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নীতিমালাটি সম্প্রতি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠানো হলে তা আরও পর্যালোচনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনের নেতৃত্বে করা কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটি এটি চূড়ান্ত করার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। জানতে চাইলে সোহরাব হোসাইন বুধবার বলেন, আমরা একটি বৈঠক করেছি নীতিমালাটি নিয়ে। তবে আরও কয়েকটি বৈঠক করার পর এটি চূড়ান্ত করা হবে।

নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে- একজন ডিসি এক জেলায় তিন বছর এবং একাধিক জেলায় ৪ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। বর্তমানে তিন বছরের বেশি কেউ ডিসি হিসেবে থাকার নিয়ম নেই। সরকারের উপসচিবদের মধ্য থেকেই ডিসি পদে নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি যুগ্ম-সচিবদের মধ্য থেকে বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ করা হবে। তাদের সর্বোচ্চ বয়স হবে ৫২ বছর এবং এক বিভাগে দুই বছরের বেশি কেউ বিভাগীয় কমিশনার থাকতে পারবেন না। তবে একাধিক বিভাগে তিন বছর থাকতে পারবেন। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবদের মধ্য থেকে বিভাগীয় কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। আর অতিরিক্ত সচিবদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হবে এবং তিন বছরের বেশি এক মন্ত্রণালয়ের কাজ করতে পারবেন না। তবে সরকার চাইলে এই মেয়াদ কমবেশি করতে পারবে। সরকার উপযুক্ত কর্মকর্তাদের সচিব পদে নিয়োগ দেবেন। সেই ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, চাকরির অভিজ্ঞতা, বিশেষ বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। কমপক্ষে তিন বছর সচিব পদে চাকরি করা কর্মকর্তাকে সিনিয়র সচিব পদে পদায়ন করা হবে। মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব পদে পদায়নের ক্ষেত্রে তিন বছর সচিব পদে চাকরির অভিজ্ঞতার সঙ্গে মাঠ প্রশাসনে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এছাড়া কোনো সিনিয়র সহকারী সচিব বা উপসচিব চাকরিজীবনের ২০ বছরেও যদি পরবর্তী ধাপে পদোন্নতি না পান, তাহলে বাকি কর্মজীবনে তার আর পদোন্নতি হবে না। ওই কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার আবেদন করলে সরকার তাকে পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ উপসচিব বা যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে অবসরে পাঠাবে। তবে অবসরে যাওয়ার এই আবেদন করতে হবে চাকরিজীবনের ২০ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। নীতিমালাটি অনুমোদন পেলে চাকরির ৬ বছর পূর্তিতে ইউএনও পদে পদায়ন করা হবে। ইউএনও পদে যোগদানের আগে দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যারা লিয়েনে থাকার কারণে এসি ল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, তাদের ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এর ধারাবাহিকতায় সাত বছর চাকরি পূর্তিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে পদায়ন করা হবে। পদায়নের আগে দুই সপ্তাহের ভূমি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং প্রশিক্ষণের ফল পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হবে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে চাকরিকাল, কর্মমূল্যায়ন প্রতিবেদন, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের প্রাপ্ত নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শৃঙ্খলা প্রতিবেদন ও সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) মূল্যায়ন বিবেচনা করে নির্দিষ্ট নম্বর বণ্টনের বিধান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপসচিব পদে পদোন্নতিতে সিনিয়র সহকারী সচিব বা সমমর্যাদার পদে পাঁচ বছরের সন্তোষজনক চাকরির জন্য ১০ নম্বর, যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিতে উপসচিব পদে তিন বছর চাকরির জন্য ১০ নম্বর এবং অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিতে যুগ্ম সচিব পদে দুই বছরের চাকরির জন্য ১০ নম্বর। এছাড়া তিনটি পদের ক্ষেত্রেই কর্মমূল্যায়ন প্রতিবেদনে ৫০ নম্বর, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ১০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ১০ নম্বর, শৃঙ্খলা প্রতিবেদনে ১০ নম্বর ও এসএসবির মূল্যায়নের জন্য ১০ নম্বর থাকবে।

কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের বিষয়ে নীতিমালায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে সরকারি চাকরির অংশ করা হচ্ছে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ওরিয়েন্টেশন কোর্স। তবে এখনই তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে এর জন্য কোনো পয়েন্ট রাখা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, একসময় বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হবে। কারণ সব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরই মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। এছাড়া নবীন কর্মকর্তাদের যোগদানের পরপরই দেড় বছরের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে আইন ও প্রশাসন বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার কাজের বিষয়ে ধারণা লাভ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ধারণা পাওয়ার জন্য সার্ভে অ্যান্ড সেটলমেন্ট কোর্স করতে হবে। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে যারা ভালো ফল করবেন, তাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিদেশে পাঠানো হবে। এছাড়া সম্ভব হলে বিএমএ ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে- সহকারী কমিশনার পদে ওইসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হবে, যারা সাফল্যের সঙ্গে ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করবেন। চাকরির পাঁচ বছর পূর্তিতে সিনিয়র স্কেল পাবেন। সেক্ষেত্রে সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের কার্যাবলি সংক্রান্ত একটি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অ্যাডভান্স কোর্স অন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সিনিয়র স্টাফ কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য পলিসি প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোর্স (পিপিএমসি) বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া অন্যান্য প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে হবে। বৈদেশিক উচ্চতর ডিগ্রি এবং শিক্ষাজীবনের সব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী বা বিভাগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পদায়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ান-জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে কার্যকর কিছুই করছে না মিয়ানমার। চুক্তি করেও চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না তারা। যেহেতু রোহিঙ্গা সমস্যার উদ্ভব হয়েছে মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও হতে হবে ওই দেশে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ তথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের যে চুক্তি হয়েছে তা অবিলম্বে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বোপরি দেশটির ওপর চাপ আরও বাড়াতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

এর আগে বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বৈঠক হয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন মহাসচিব। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদান করেছে। সাধ্যমতো তাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং শিশুদের যত্নের ব্যবস্থা করেছি আমরা। কিন্তু বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠীর ভার বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় প্রথম থেকেই আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মিয়ানমার মৌখিকভাবে সব সময়ই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক নিপীড়িত ও রোহিঙ্গার মতো নিজ গৃহ থেকে বিতাড়িত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আমার হৃদয়কে ব্যথিত করে। এ জাতীয় ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও টেকসই সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে বিবরণ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাতে আমরা হতভম্ব। একজন মানুষ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশাকে আমরা যেমন অগ্রাহ্য করতে পারি না, তেমনি পারি না নিশ্চুপ থাকতে। আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচার ও অবিচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যতদিন নিজ দেশে ফেরত যেতে না পারবেন, ততদিন সাময়িকভাবে তারা যাতে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রেখে আমরা নতুন আবাসন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা যারা সহানুভূতি দেখিয়েছেন এবং সাহায্য ও সহযোগিতা করে চলেছেন তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার সপক্ষে তার অবস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতিসংঘ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তার দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘মেকিং দ্য ইউনাইটেড নেশন্স রিলেভেন্ট টু অল পিপল : গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যান্ড শেয়ারড রেসপনসিবিলিটিজ ফর পিসফুল, ইক্যুইটেবল অ্যান্ড সাসটেইনেবল সোসাইটিজ’- উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য আমাকে অতীতের কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতির পাতায় নিয়ে গেছে।

তিনি এ সময় ব্যক্তিগত স্মৃতি রোমন্থনে ৪৪ বছর আগে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার বাবা এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় প্রদত্ত ভাষণটি স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন আজও অব্যাহত রয়েছে যা আমাদের মর্মাহত করে। এ সমস্যার আশু নিষ্পত্তি প্রয়োজন। ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে আমরা ওআইসির মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে তিনটি মৌলিক উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তা হল- শান্তি, মানবতা ও উন্নয়ন। তাই মানব সমাজের কল্যাণে আমাদের মানবতার পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে সেবা প্রদান এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মানবতা ও সৌহার্দই আমাদের টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে ৫৪টি মিশনে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১০ জন শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বিশেষ অবদান রেখেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৪৫ জন শান্তিরক্ষী জীবনদান করেছেন। বর্তমানে ১০টি মিশনে ১৪৪ জন নারীসহ বাংলাদেশের মোট ৭ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী নিযুক্ত রয়েছেন।’

বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদসহ সব সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা পরিচালিত হতে দেব না। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আমাদের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট রয়েছি। বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের বিবেচনায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরে ছিল শতকরা ৭ দশমিক ৮৬ ভাগ। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের শতকরা ৪১ দশমিক ৫ ভাগ থেকে শতকরা ২১ দশমিক ৪ ভাগে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে হতদরিদ্রের হার ২৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের জন্য সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং এ বিষয়ক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৬ বাস্তবায়নে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ স্যানিটেশন এবং ৮৮ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছেন।’

দারিদ্র্য বিমোচনে পদক্ষেপ, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৬৫ লাখ বয়স্ক নারী-পুরুষ, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা বিভিন্ন সামাজিক সূচকে প্রভূত অগ্রগতি অর্জন করেছি। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লাখে ১৭০ এবং পাঁচ বছর বয়সের নিচে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।’

২০১০ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ১৯৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের মাতৃভাষার বই দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ১ কোটি ৪০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মায়েদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত হয়েছে। শিক্ষার হার গত সাড়ে ৯ বছরে ৪৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক হল নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ। নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা নিশ্চিত করেছি। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়ে ও ছেলে শিক্ষার্থীর অনুপাত ৫৩:৪৭। ২০০৯ সালের শুরুতে যা ছিল ৩৫:৬৫।’

বাংলাদেশের কৃষি, সেবা ও শিল্প খাতে প্রায় ২ কোটি নারী কর্মরত রয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সর্ববৃহৎ উৎস তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪৫ লাখ কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী।’ তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ৩৩ শতাংশ আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদই সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতা নারী। বর্তমান সংসদে ৭২ জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।’

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বাধিক ঝুঁকির সম্মুখীন পৃথিবীর প্রথম দশটি দেশের একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে আমরা আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের এক শতাংশ ব্যয় করছি এবং জলবায়ু সহায়ক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করছি। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য-সুন্দরবন সংরক্ষণে ৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।’

তিনি বলেন, অটিজম ও জন্মগত স্নায়ুরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে আমরা মহাকাশ প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করেছি। বস্তুত এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন।

বাংলাদেশের সরকারের প্রতি জাতিসংঘের প্রতি পূর্ণ সংহতি : বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি জাতিসংঘের পূর্ণ সংহতি এবং পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।’ জাতিসংঘ সদর দফতরে মহাসচিবের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গুতেরেস আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।’

একাধিকবার বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অনেক দেশ এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা গুতেরেস বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) অনেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের জন্য রোল মডেল হতে পারেন।’

মিয়ানমার সরকারের যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের যথাযথ পুনর্বাসন শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ইস্যুতে নেতৃত্ব দেয়া অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেন। পরে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মৌরার জাতিসংঘ সদর দফতরে দ্বিপক্ষীয় সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দ ইস্পিনোসা গ্রাসেসও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে ৩টি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি ত্বরান্বিত করা নিয়ে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় তিনি বলেন, বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহিংসতাসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং জীবন ও জীবিকার সব ক্ষেত্রে নারীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে। এই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উপস্থিত ছিলেন। লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিল অব উইমেন লিডার্সের সভাপতি দালিয়া গ্রাইবোস্কাইত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়নে নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যে নারীর ক্ষমতায়নের ফলে অর্থনীতিতে এর উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লিঙ্গ সমতার প্রভাব শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিফলিত হয়, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় এবং প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইরাকি মডেলকে গুলি করে হত্যা

বিদেশের খবর: ইরাকি মডেল তারা ফারেজকে বাগদাদে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যাম্প সারাহ’য় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন এই সাবেক মিস বাগদাদ। ইরাকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ইন্ডিপেন্ডেট’র।

ইরাকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদ মান ইরাকি টেলিভিশনে জানান, ফারেজ একটি গাড়ির ভেতর অবস্থানকালে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে।

জানা যায়, ২২ বছর বয়সী খ্রিস্টান ধর্মালম্বী ফারেজের বাবা ইরাকি এবং মা লেবানিজ। তিনি এরবিলে বসবাস করলেও মাঝে মাঝে রাজধানীতে আসতেন। সাহসী পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টের কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest