সর্বশেষ সংবাদ-
৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভাতালা থেকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পাইকগাছায় উদ্ধারসাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সভাসাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময়৯০ দশক ছাত্রদল প্লাটফর্ম এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান চেয়ারম্যান আলিমেরএসএসসি ২০০০ সালের ব্যাচের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরায় সিলভার জুবিলি “মেঘা মিটআপ-২০২৫” অনুষ্ঠিততালার সুভাষিনী গ্রামে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটসাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতির ১১ সদস্য বিশিষ্ট্য আহবায়ক কমিটি গঠন

কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা-চোরাচালান ও মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলায় মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় ও চোরাচালান কমিটির সভা বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, থানা অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জি এম আব্দুল হাকিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রনজু, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা জেসিয়া জামান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, সমবায় কর্মকর্তা মুজিবর রহমান শেখ, নির্বাচন কর্মকর্তা হাওলাদার হায়দার আলী, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারন সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীন, তারালী চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, কুশলিয়া চেয়ারম্যান শেখ মেহেদী হাসান সুমন, চাম্পাফুল চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হহক গাইন, রতনপুর চেয়ারম্যান আশরাফুল হোসেন খোকন, মথুরেশপুর চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব ওয়াজেদ আলী, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিন্দ্র নাথ বাছাড় প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইভিএমের বিরোধিতা করে বৈঠক বর্জন করলেন ইসি কমিশনার

দেশের খবর: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে আরপিও সংশোধনের বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশনের সভা বর্জন করেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। একইসঙ্গে তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। এ বিষয়ে মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলতে রাজি হননি।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভা শুরু হয়। বৈঠক শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বেরিয়ে যান মাহবুব তালুকদার। বর্তমানে তিনি তার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। এ ছাড়া অপর তিন নির্বাচন কমিশনার সভায় উপস্থিত রয়েছেন।

সভা শেষে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ ছাড়া বিকেল ৩টায় নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদারের ব্রিফ করার কথা রয়েছে। এর আগে গত ২৬ আগস্ট আরপিও সংশোধন বিষয়ে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন সিইসি কেএম নূরুল হুদার সরকারি সফরে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কারণে বৈঠকটি শেষ না করে মুলতবি করা হয়। ৩০ আগস্ট নতুন বৈঠকের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

কমিশন সভায় আইনের এই সংশোধন অনুমোদন পেলে আইন মন্ত্রণালায়ের ভোটিংয়ের পর তা মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এরপর পাসপোর্ট ও বিআরটিএ-টিআইবির

দেশের খবর: দেশের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) খানা জরিপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জরিপটি প্রকাশ করে টিআইবি।

খানা জরিপের তথ্য অনুসারে দেশের বিদ্যমান সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এর পরেই রয়েছে পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ।

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে খানা জরিপের তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশজুড়ে একটি খানা জরিপ পরিচালনা করে টিআইবি। এতে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ভিত্তিতে জনগণের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

“যেখানে ২০১৭ সালে সার্বিকভাবে ৬৬.৫ শতাংশ মানুষ সেবাখাতগুলোতে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২.৫ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, পাসপোর্ট অফিস ৬৭.৩ শতাংশ এবং বিআরটিএ-তে ৬৫.৪ শতাংশ দুর্নীতি হয়েছে।”

এছাড়া টিআইবির জরিপে বলা হয়, দেশের ৮৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ঘুষ না দিলে কোনো সেবা খাতে সেবা মেলে না। ২০১৭ সালে এ জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রাক্কলিত ঘুষের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিশুদের জন্য অ্যানার্জি ড্রিংক মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

স্বাস্থ্য বটিকা: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়েসী শিশুদের কাছে অ্যানার্জি ড্রিংক বিক্রি নিষিদ্ধ হতে পারে। শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর-এমন উদ্বেগের মধ্যেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

শিশুদের কাছে অ্যানার্জি ড্রিংক বিক্রি অবৈধ ঘোষণার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার এ জন্য একটি গণ-আলোচনার (পাবলিক কনসালটেশন) সূচনা করেছে। কোন বয়স থেকে এটি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত সে বিষয়ে মতামতও চাওয়া হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে। এ বিষয়ে দুটি বিকল্পও দেওয়া হয়েছে। একটি হলো ১৬ বছর, অন্যটি ১৮।

স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলস নিজেরাই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পারে।

এত উদ্বেগের কারণ কি?

গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যের শিশু বা তরুণরাই বেশি এনার্জি ড্রিংক পান করে থাকে। এসব পানীয়তে উচ্চ মাত্রার সুগার ও ক্যাফেইন থাকে যার মাত্রা প্রায়শই দেখা যায় কোমল পানীয়তে থাকা এ ধরনের উপাদানের চেয়ে বেশি।

ফলে এ পানীয় বেশি মাত্রায় পান করলে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরির ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ এ থেকে স্থূলতা, দাঁতের ক্ষয় রোগ, মাথাব্যথা ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শিক্ষক সংগঠনের জরিপ থেকে দেখা যায়, যেসব শিশু বেশি অ্যানার্জি ড্রিংক পান করে শ্রেণিকক্ষে তাদের আচরণ তুলনামূলক খারাপ। এসব কারণেই প্রতি লিটারে ১৫০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন আছে এমন পানীয়র ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হতে পারে।

অনেক দোকান ইতিমধ্যে নিজেরাই ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে এ ধরনের পানীয় বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শিশুরা চাইলে খুচরা বিক্রেতা ও ভেন্ডিং মেশিন থেকে কিনতে পারে।

দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ব্রাইন বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন কিছু থেকে শিশুদের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।’

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে শিশুদের স্থূলতাকে দেশের একটি বড় স্বাস্থ্যবিষয়ক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে তাদের জীবন শুরুর জন্য আমরা কী করতে পারি সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমি সবাইকে তাদের মত দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছি।’

কি থাকে অ্যানার্জি ড্রিংকে?

আগেই বলা হয়েছে এতে উচ্চ মাত্রার সুগার ও ক্যাফেইন থাকে যার পরিমাণ হয় ২৫০ মিলি ক্যানে অন্তত ৮০ মিলিগ্রাম। অথচ ৩৩০ মিলির একটি কোকাকোলা ক্যানে এর পরিমাণ থাকে ৩২ মিলিগ্রাম।

কিছু ছোট ‘এনার্জি শট’-এ ৬০ মিলি বোতলে ১৬০মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। অথচ বেশী মাত্রার ক্যাফেইন উদ্বেগ ও আতঙ্কিত হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটি রক্তচাপও বাড়িয়ে দেয়।

গর্ভবতী কিংবা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান এমন নারীদের দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন না সেবন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সুগার কতটা ক্ষতি করতে পারে?

অতিরিক্ত সুগারের কারণে স্থূলতা, দাঁতের সমস্যা ছাড়াও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করে।

জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান নির্বাহী ডানকান সেলবি বলেন, ‘শিশুদের স্থূলতা মোকাবেলায় এ ধরনের পানীয় বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ হবে দারুণ শক্তিশালী পদক্ষেপ।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আফগান টি-টোয়েন্টি লিগে খেলবেন তামিম

খেলার খবর: টেস্ট সদস্যপদ লাভের পাশাপাশি আফগানিস্তান এখন আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য দেশ। ফলে ক্রিকেট নিয়ে আরো জোরদার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। এবার নিজেদের আরও একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে তারা। শাপাগিজার চেয়েও বড় পরিসরে শুরু হবে এই লিগটি। আর তাতে গেইল, ম্যাককালামদের সঙ্গে থাকবেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল।
বুধবার জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লিগের লোগো উন্মোচিত হয়েছে। এই লিগে ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, শহিদ আফ্রিদিরা খেলবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। থাকছেন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবালও। আফগানিস্তানের পাঁচটি অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে পাঁচটি দল।
প্রথম আসর শুরু হবে আগামী ৫ অক্টোবর। ২৩ ম্যাচের আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ অক্টোবর। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে। টুর্নামেন্টের প্লেয়ারস ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।
টুর্নামেন্টের অন্যতম বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্নাইজার স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী আশিষ শেঠি বলেন, ‘টি২০ ফরম্যাটের বেশ কিছু জনপ্রিয় নাম ইতিমধ্যেই আমাদের লিগে নাম লিখিয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন ক্রিস গেইল, শহিদ আফ্রিদি, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, তামিম ইকবাল, থিসারা পেরেরা, ইমরান তাহিররা। এ ছাড়া আমাদের ক্রিকেটাররাতো খেলবেনই। আমরা এই লিগকে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটা প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্রীলেখার অর্ধ-নগ্ন ছবি ভাইরাল; সমালোচনার ঝড়

বিনোদনের খবর: শ্রীলেখা মিত্র। ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন। ৪৩ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। ছোট পর্দা থেকে শুরু করে বড় পর্দা সবর্ত্র তার গ্লামার উপস্থিতি। টালিগঞ্জের প্রাণভোমরা শ্রীলেখা মিত্রের সঙ্গে বিতর্ক শব্দটাও যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ কন্যা হিসেবে নাম লেখালেন তিনি। আর এতেই ঘটলো যতো বিপত্তি।
স্তন্যদান সপ্তাহ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় ম্যাগাজিনটি। প্রচ্ছদে দেখা গেছে, একটি শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছেন শ্রীলেখা। আর এই ছবিটি প্রকাশের পরেই বিতর্কের শিকার হন কলকাতার নায়িকা।
‘স্তন্যদান’ নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেও অনেকে এখনো ব্যাপারটিকে সহজভাবে নিতে পারছেন না। সংসদে নিজের সন্তানকে স্তন্যপান করিয়ে নজির গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এক নারী সিনেট সদস্য। লারিসা ওয়াটারস নামের ওই সিনেট সদস্য বামপন্থী গ্রিনস পার্টির একজন সদস্য। দেশটিতে তিনিই প্রথম সংসদে বসে সন্তানকে স্তন্যদান করে ইতিহাস গড়েন।
এ ছাড়া কিছুদিন আগেই এই কাজটি করেছিলেন মালায়ালাম অভিনেত্রী-মডেল তথা লেখিকা গিলু জোসেফ। মালায়ালাম পাক্ষিক ‘গৃহলক্ষ্মী’র প্রচ্ছদে তার স্তন্যদানের ছবি দেখা গিয়েছিল। ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় চারদিকে। এবার একই কাজ করে হইচই ফেললেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সম্প্রতি একটি ম্যাগাজিনের জন্য তিনি ফটোশুট করেন, যেখানে এক শিশুকে স্তন্যদান করতে দেখা গিয়েছে তাকে। সেই ছবিটি প্রকাশ পেয়েছে। ‘স্তন্যদান’ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতেই এমন কাজে অগ্রসর হন শ্রীলেখা৷ এদিকে এই ছবিটি সামনে আসার পর প্রশংসা পান তিনি। তবে সমালোচনার ঝড়ও কম হয়নি। কটাক্ষের সুরে তারা অভিনেত্রীকে আক্রমণ করেছেন তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীরা। তাদের দাবি, প্রচারণা পেতেই এমন ছবি তুলেছেন শ্রীলেখা৷
এ সম্পর্কে শ্রীলেখা বলেন, ‘স্তন্যদানের পক্ষপাতী আমি। আর আমার সন্তান জন্মানোর অনেক আগে থেকেই এ নিয়ে আমি পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছিলাম। সমাজ অনেক এগিয়ে এসেছে। দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারা বদলাচ্ছে। সেই কারণেই এই ছবি তুলতে আগ্রহ দেখিয়েছি।’
শ্রীলেখা আরও বলেন, ‘আমি অনুচিত কাজ করিনি। আমি মনে করি, ভালো কাজ হয়েছে। আর আমি কারও মতামত জানতে চেয়ে কাজ করি না। মনে হয়েছে কাজটা ভালো, তাই করেছি। যারা নোংরা ভাবনা নিয়ে বসে আছে, তারা নোংরা ভাববেই। তাতে সমাজ থমকে থাকবে না। আমি মনে করেছি এটার মাধ্যমে একটা ভালো বার্তা পৌঁছনো যাবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মা হলেন জর্ডান ফেরত কিশোরী, বাবা হয়নি কেউ

অনলাইন ডেস্ক: স্বপ্নের জর্ডানে গিয়ে সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের কিশোরী মৌসুমীর (ছদ্মনাম)। বাবার কোনও জমি নাই। তাই তার স্বপ্ন ছিল নানির বসতভিটায় একটি থাকার ভালো ঘর তুলবে। বাবা-মা, ছোট ভাই ও বোনের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যের পরিবর্তন তো দূরের কথা, নিজের জীবনই আজ বিপন্ন। যারা তার জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে তাদের বিচার তো হয়নি বরং তাদের সঙ্গে করতে হয়েছে আপোস। এখন তার পরিবারও সমাজচ্যুত (একঘরে)।
জানা গেছে, সংসারের অভাব দূর করতে ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর মৌসুমীকে জর্ডানে পাঠায় তার পরিবার। স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাকে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির দেশটিতে পাঠানো হয়। ১৫ বছরের এ কিশোরীর বয়স ২৫ বছর বানিয়ে পাসপোর্ট করে দেয় স্থানীয় এক আদম ব্যবসায়ী। এছাড়া জর্ডানে যাওয়ার আগে মেডিকেল রিপোর্টে অবিবাহিত মৌসুমীকে দেখানো হয় বিবাহিত। কথা ছিল বাসা-বাড়িতে কাজ দেওয়ার। কিন্তু প্রতি রাতেই তাকে সইতে হয়েছে নির্মম নির্যাতন। বাধ্য করা হতো শারীরিক সম্পর্কে।
একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে মৌসুমী। কাজের সন্ধানে বিদেশ গিয়ে যৌন হয়রানির শিকার এ কিশোরী দেশে ফেরার পর সমাজে নিগৃহীত হচ্ছে। গত পাঁচদিন আগে তার কোলজুড়ে এসেছে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। এরপর সমাজপতিরা তার পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রেখেছে। এ অবস্থায় মহাবিপাকে পড়েছে পরিবারটি।
মৌসুমীর বাবা রিকশাচালক। তার বাবা-মা মেয়ের এই পরিণতির জন্য স্থানীয় জয়মন্টপ ইউনিয়নের ভাকুম গ্রামের আবুল কাশেম ও জর্ডানে থাকা একই উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চর চামটা গ্রামের নিহাজ উদ্দিনের মেয়ে সোনিয়াকে দায়ী করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন। যার মাধ্যমে জর্ডানে গিয়েছিল মৌসুমী সেই আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মামলা করলেও সেই মামলা আপোস করতে বাধ্য হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
গত রবিবার কথা হয় জর্ডান ফেরত মৌসুমী ও তার বাবা-মার সঙ্গে। মৌসুমী জানান জর্ডানে অবস্থানকালে এক বছর ৫ মাসের সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা। বাসা-বাড়ির কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে কোনও কাজই করতে দেওয়া হয়নি। প্রতি রাতে তাকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হতো। যখন জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো মৌসুমী তখনও তার বয়স ১৫ বছর হয়নি। অথচ তার বয়স ২৫ বছর বানিয়ে পাসপোর্ট করে দেয় আবুল কাশেম। এছাড়া জর্ডানে যাওয়ার আগে মেডিকেল রিপোর্টে অবিবাহিত এ কিশোরীকে বিবাহিত দেখানো হয়।
আদম ব্যবসায়ী আবুল কাশেম মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে জর্ডানে পাঠানোর চুক্তি করে। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ওই টাকা ঋণ করে জর্ডানে পাঠানো হয় মৌসুমীকে। কথা ছিল বাসা-বাড়িতে কাজ দেওয়া হবে তাকে।
ভুক্তভোগী এ কিশোরীর অভিযোগ, ‘জর্ডানে থাকা সোনিয়া একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তার মতো আরও ২০ থেকে ৩০ জন নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক ‘দেহ ব্যবসা’ চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি প্রভাবশালী। কারণ প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি জর্ডানে রয়েছেন।’
অভিযোগ রয়েছে, জর্ডানে পৌঁছানোর পর মৌসুমীকে তার পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তার বাবা-মা স্থানীয় দালাল কাশেমের কাছে খোঁজ নিতে গেলে বলা হয়েছে, জর্ডান থেকে মৌসুমী পালিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আদম ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মেয়ের সন্ধান চেয়ে মামলাও করেন মৌসুমীর বাবা। কয়েক মাস হাজতে থাকেন আবুল কাশেম। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় ও কাশেমের পরিবারের আকুতির মুখে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কথা ছিল ২০ হাজার টাকা মৌসুমীর পরিবারকে দেওয়া হবে। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়ার পর প্রতিশ্রুতির একটি টাকাও তাদের দেওয়া হয়নি।
মৌসুমী ও তার মার অভিযোগ, ‘যারা মামলাটি প্রত্যাহার করতে মধ্যস্থতা করেছেন তাদের পকেটে চলে গেছে এ টাকা।’
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম দিকে মৌসুমীর বাবা ও মা জানতে পারেন, তার মেয়ে সিংগাইর উপজেলার চান্দহুর ইউনিয়নের চর চামটা গ্রামে নিহাজ উদ্দিনের মেয়ে সোনিয়ার কাছে জর্ডানে আছেন। সোনিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হন তার মা-বাবা।
এদিকে জর্ডানে যাওয়ার পর তার ওপর নির্যাতনে কথা জানাতে গিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘প্রতি রাতে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করা হতো। এতে রাজি না হলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। গরম খুন্তি দিয়ে পিঠে ছ্যাঁকা দিয়েছে। পায়ে শিকল দিয়ে ঘরে আটকে রাখা হতো। প্রথমে যে বাসায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে প্রথম রাত থেকে তার ওপর যৌন হয়রানি শুরু হয়। বাসার মালিক কয়েক মাস তার কাছে রাখার পর তাকে বিক্রি করে দেয় সোনিয়া নামে এক বাংলাদেশির কাছে। তার বাড়িও সিংগাইর উপজেলায়। সোনিয়া তাকে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। জর্ডানের দাম্মাম শহরের যে বাড়িতে নিয়ে যায় সেখানে তাকে ভিনদেশি একজনের সঙ্গে জোরপূর্বকভাবে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছে। দেশে ফিরে আসার দুই মাস আগেও প্রতিটি রাতে তাকে ভিনদেশিদের যৌন নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে।’
ভুক্তভোগী মৌসুমী বলেন, ‘সোনিয়ার ভাড়া বাসাটি একটি মিনি পতিতালয়। তার মতো আরও ২০ থেকে ৩০ জন বাংলাদেশিকে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করানো হয় সেখানে।’
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, মৌসুমী যখন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তখন সোনিয়া তাকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। প্রায় দুই মাস জেল খাটার পর গত ১৮ এপ্রিল জর্ডান সরকারের সহায়তায় দেশে ফিরে আসেন তিনি।
তিনি জানান, জর্ডান সরকার তার পাসপোর্টে লিখে দিয়েছে ‘সে কখনও আর জর্ডানে প্রবেশ করতে পারবে না।’
মৌসুমীর অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করানো হলেও তাকে শুধু তিন বেলা ভাত দেওয়া হতো। এছাড়া একটি টাকাও দেওয়া হতো না। টাকা চাইলে উল্টো মারধর করা হতো।’
তার আকুতি, ‘তার মতো আরও ৩০ জন নারীকে সোনিয়ার খপ্পর থেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। নয়তো তার মতো কলঙ্কিত হয়ে দেশে ফিরতে হবে তাদের। পরিবারের বোঝা হয়ে বাকি সময় কাটাতে হবে।’
ভুক্তভোগী মৌসুমী ও তার পরিবার জর্ডানে থাকা সোনিয়া আক্তারের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন। সেই সঙ্গে যে কন্যা সন্তানটি বাবার পরিচয় ছাড়াই ভূমিষ্ঠ হলো তার ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
মৌসুমীর মা বলেন, ‘বড় আশা করে মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। এখন মেয়ের সন্তান কার পরিচয়ে বড় হবে তা নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা। নিজেদের সংসারই চলছে না, তার ওপর মেয়ের কন্যা সন্তান হয়েছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার সিংগাইর হাসপাতালে সিদ্দিক নামের একজনকে (অজ্ঞাত) মৌসুমীর স্বামীর পরিচয় দেওয়া হয়েছে। এটা অন্যায় জেনেও ডাক্তারদের চাপে ওই ভুয়া নামটি ব্যবহার করা হয়েছে।
মৌসুমীর বাবা বলেন, ‘অবিবাহিত মেয়ে বিদেশ থেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফিরেছে। এলাকার মানুষজনের নানা কানাঘুষায় তারা বাড়ির বাইরে বের হতে লজ্জা পাচ্ছেন। এমন অবস্থার মধ্যে গ্রামের সমাজপতিরা পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দিয়েছে। এখন মরার উপর খাড়ার ঘা। সমাজের মাতব্বর আলেক উদ্দিন কোরবানি ঈদের আগে তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সমাজ থেকে তাকে একঘরে করা হয়েছে। তাকে ওই সমাজের কোনও লোক সহযোগিতা করবে না।’
এ বিষয়ে স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, ‘অনেক নারী শ্রমিককে তিনি বিদেশে পাঠিয়েছেন। মৌসুমীর মতো এমন ঘটনা কারও সঙ্গে হয়নি।’
এজন্য তিনি স্থানীয় আয়েশা নামের এক নারীকে দায়ী করে জানান, আমি তাকে ম্যানপাওয়ার করিয়ে দিয়েছি মাত্র। জর্ডানে যাওয়ার ব্যাপারে আয়েশা সবকিছু করে দিয়েছে। এই নিয়ে মৌসুমীর বাবা মামলা করেছিল। তাকে বিদেশ থেকে আনার পর স্থানীয়ভাবে বসে মামলাটি আপোস করা হয়েছে।
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। এ ব্যাপারে ওই মেয়েটির পরিবার যদি আইনগত সহায়তা চান সেক্ষেত্রে তিনি আইনগত সহায়তা করবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সৌদির পার্কে এক মাস ধরে পড়ে আছেন অন্ধ বাংলাদেশি

বিদেশের খবর: ঢাকা কেরানীগঞ্জের ফজলুল হক, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে ৭ বছর আগে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। মেধা আর দক্ষতা দিয়ে সেখানে খুব অল্প সময়ে নিজেই রঙের কাজ ধরে মানুষ দিয়ে কাজ করানো শুরু করেন। ধীরে ধীরে ভালো একটি অবস্থানে চলে যান তিনি।
সবকিছু ঠিকঠাক চললেও দিনদিন তার ছেলে অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে, এমন খবর প্রবাসী এই বাবার কানে আসে। তখন ছেলেকে নিয়ে বাবা চিন্তা করবেন এমনটাই স্বাভাবিক, অনেক চেষ্টা করেও ছেলেকে তার মনের মতোন গড়ে তুলতে পারেননি। পারেননি লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতোন মানুষ করতে। একপর্যায়ে ছেলেকে কোনো এক কারণে জেলেও যেতে হয়। আর এসব কিছু সহ্য করতে না পেরে ছেলেকে পাঠিয়ে দেন বাহরাইন।
সেখানে গিয়েও বেশিদিন থাকতে পারেনি তার ছেলে। পাশাপাশি তার স্ত্রীর কাছে পাঠানো টাকা-পয়সারও কোনো প্রকার হিসাব পাচ্ছিলেন না তিনি। তার সাজানো সংসারটা যেন অগোছালো হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। স্ত্রী ও ছেলের এমন চলাফেরা দিন দিন বেড়ে যাওয়াতে বেশ ভেঙে পড়েন ফজলুল। একবার স্ট্রোক করেন তিনি। ছেলেকে নিয়ে আসেন সৌদিতে নিজের কাছে। তারপরও যেন কোনোভাবে সুখ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। কারণ পরিবারের উপার্জনের মাধ্যম তিনি হলেও পরিচালনা ছিল তার স্ত্রীর হাতে। আর সে পরিচালনায় বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ পেয়ে দিনদিন অসুস্থ হয়ে যান ফজলুল।
একপর্যায়ে তার চোখের আলো নিভে যায়, ডাক্তারের কাছে গেলে মানসিক চাপের কথা উঠে আসে, আর সেটিই হলো। মানসিক চাপ থেকে মানসিক রোগী হয়ে গেলেন এক সময়ে লাখ লাখ সৌদি রিয়াল কামানো এই মানুষটি। আর এভাবে যতই তার অবস্থার অবনতি হয় ততো তার কাছ থেকে দূরে সরে যান কাছের মানুষরা।
কিন্তু বিদেশে এভাবে কী করে থাকবেন একা একজন মানুষ? কে করবেন তার সেবা? কারণ সবারই নিজ নিজ কাজ থাকে এ দেশে। যেখানে আপন লোকেরা পাশে নেই, সেখানে পর কী করে আপন হবে।
কোনো পথ আর উপাই না পেয়ে ফজলুল হক আশ্রয় নেন রিয়াদের ইশারা ডিরেক্টরের পার্শ্ববর্তী একটি পার্কে। কী রোদ, কী বৃষ্টি, নিয়মিত ধুলাবালি গরম সবকিছুকে সঙ্গী করে এক মাস ধরে পড়ে আছেন পার্কে। একমাত্র ছেলে, যাকে সৌদি আরব এনেছিলেন, সে ছেলেও কোনোপ্রকার খোঁজ নিচ্ছেন না বাবার। ছেলের মান-সম্মানে বাধে, কারণ তার বাবা মানসিক রোগী, আর সে কাজ করে নাম করা ব্র্যান্ড পিজ্জা হাটে।
কাছের মানুষরা চলে গেলেও দূরের বন্ধু, যাদের সঙ্গে বিদেশে আসার পর পরিচয় এবং এলাকার কিছু পরিচিত মুখ এখন ফজলুলের এমন অবস্থার কথা শুনে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাকে নিয়ে দূতাবাসে যান। কাগজপত্র সব ঠিকঠাক করে কফিলের (মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকের মালিককে কফিল বলে) সঙ্গে যে সমস্যা ছিল তার সমাধান করেছেন। দেশে পাঠিয়ে দেবেন এমন মুহূর্তে জানতে পারেন ফজলুলের নামে গাড়ির একটি মামলা রয়েছে, তিনি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর যখন স্মরণশক্তি কমে আসে, তখন তার কাছে থাকা ভাড়া গাড়ির জমা বাকি থাকাতে এ মামলা হয়।
আর সে মামলার সমাধান করে দেশে যেতে তার আরও কিছুদিন লাগবে। মামলা সমাধানের জন্যও প্রায় ৩ লাখ টাকার প্রয়োজন এবং সে টাকারও ব্যবস্থা করছেন বর্তমানে যারা ফজলুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা।
ফজলুল কেঁদে কেঁদে বলেন, দেশে যেয়ে তার অসুস্থ মাকে দেখবেন। এর বাইরে কারোর প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest