সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেনসাতক্ষীরা সদরে ইউনিটি গ্রুপের ‘বিজনেস অপরচুনিটি’ সম্মেলন অনুষ্ঠিতসাংবাদিক সুজন ওসুজয়ের মায়ের ইন্তেকাল:প্রেসক্লাবের শোক

ওষুধ ছাড়াই মাইগ্রেন দূর করার উপায়

অনলাইন ডেস্ক: মাইগ্রেন এমনই এক যন্ত্রণার নাম যার কষ্ট শুধু ভুক্তভূগীরাই জানেন। মাথার অস্বাভাবিক যন্ত্রণা, বমি ও হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া সাধারণত মাইগ্রেনের উপসর্গ। অনেকের আবার এই ব্যথার প্রকোপে জ্বরও এসে যায়। খিদে কমে যাওয়া, যন্ত্রণা থেকে অবসাদ সবই হানা দিতে পারে এই ব্যথা থেকে।
ওষুধ না খেয়ে কিছু উপায় অবলম্বন করলেও এই ব্যথা থেকে দূরে থাকা যায়। মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হলেও হাতের কাছে ওষুধ না থাকলে এই সব উপায়ে আরাম মিলবে সহজেই।
মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটা ভিজে তোয়ালে মিনিট দশেকের জন্য ফ্রিজে রাখুন। তারপর ওই ঠান্ডা তোয়ালে মাথায় ও চোখের উপর রেখে দিন। ধীরে ধীরে কমবে মাইগ্রেনের ব্যথা।
চন্দনকাঠের সঙ্গে পানি মেশান। চন্দন খুব ঠান্ডা। এই মিশ্রণের প্রলেপ লাগান কপালে। তারপর ঘরের আলো নিভিয়ে বিশ্রাম নিন। সহজেই কমবে ব্যথা।
অল্প ব্যথা হলে অন্ধকার ঘরে ঘুমনোর চেষ্টা করুন। আলোর প্রভাবে এই ব্যথা বাড়ে।
মাইগ্রেন থাকলে সারা বছরই খুব বেশি ফোন ঘাঁটা, টিভি দেখা বা চোখের উপর চাপ পড়ে এমন কাজ করবেন না।
কম্পিউটারের সামনে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার অভ্যাস থাকলে মাঝে মাঝেই উঠুন। চোখে পানি দিন। এমন চশমা ব্যবহার করুন যাতে চোখের উপর চাপ না পড়ে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পেটের মেদ কমাবে আমলকীর জুস

অনলাইন ডেস্ক: বেশিরভাগ মানুষের দেহের গড়নের চেয়ে এখন পেটে বেশি মেদ দেখা যায়। এই সমস্যার মূল কারণ আমাদের জীবনযাপনের ধরন। কর্মব্যস্ত জীবনে সময়ের অভাবে ব্যায়াম করতে না পারা কিংবা অসচেতনতার কারণে পেটে মেদ জমে যায়।

তবে এমন কিছু জুস আছে যেটি পেটে জমে থাকা অতিরিক্ত মেদ দূর করতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে আমলকীর জুস।

আমলকীর জুস
আমলকী মেটাবলিজম বাড়ায় এবং হজমে সহায়তা করে। ওজন দ্রুত কমানোর জন্য মেটাবোলিজম বাড়ানো জরুরি। এই জুসের সঙ্গে যোগ করতে পারেন কিছুটা মধু। এতে সারাদিন আপনার শরীর তরতাজা থাকবে। নিয়মিত এই জুসগুলো পান করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ করুন এবং ব্যায়াম করুন।

আসুন জেনে নেই কীভাবে তৈরি করবেন আমলকীর জুস।

উপকরণ
আমলকী চারটি, গোলমরিচের গুঁড়া সামান্য, মধু এক চা চামচ, বরফ কুচি পাঁচ চা চামচ এবং পানি দুই কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে আমলকী থেঁতলে নিয়ে এর সঙ্গে গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এতে দুই কাপ পানি দিয়ে এক মিনিট ব্লেন্ড করুন। এর পর একটি গ্লাসে ঢেলে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। ইফতারের সময় ফ্রিজ থেকে বের করে এর ওপর বরফ কুচি ছড়িয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করুন ভিন্ন স্বাদের আমলকীর জুস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঘূর্ণিঝড় হতে পারে এ মাসে

অনলাইন ডেস্ক: চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিতে আবহাওয়া অধিদফতরের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এই পূর্বাভাস দিয়েছে।
সোমবার আবহাওয়া অধিদফতরে কমিটির নিয়মিত বৈঠক হয়। অধিদফতরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আহমেদ এতে সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষজ্ঞ কমিটি অক্টোবরের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরের প্রথমার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ (বর্ষা) বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে।
অক্টোবরে দেশের সব নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে দু-একটি নদীর পানি সামান্য বাড়লেও সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে বলেও পূর্বাভাস প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। গত মাসে সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহীতে ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময়ে ঢাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার ছাড়া দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফেসবুকে ভাইরাল ‘H2O’ আসলে কী?

অনলাইন ডেস্ক: রসায়নের রসবোধের রসিকতায় এখন রসালো সামাজিক মাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুকে বাংলাদেশি নেটিজেনদের এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘H2O’।
ঘটনার মঞ্চ রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হল। যেখানে রোববার এবারের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফাইনাল আয়োজিত হয়েছে। ৩০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এবারের প্রতিযোগিতায় সেরা সুন্দরীর মুকুট পরলেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।
রোববার ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় এক প্রতিযোগীকে প্রশ্ন করা হলো: H2O মানে কী?
উত্তরে প্রতিযোগী অনেকটা সময় কাচুমাচু করে বললেন: ধানমণ্ডিতে একটা রেস্টুরেন্ট আছে এই নামে…।
এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে চলছে ট্রল। একজন লিখেছেন, জীবন মানে জি -বাংলা হতে পারলে রেস্টুরেন্ট এর নাম H2O হতে পারবে না কেন?
কেউ লিখেছেন, দোকানদারকে H2O হিট করে একটা চা দিতে বললাম, সে পাত্তাই দিল না। এই দোকানদারের জন্য তোমরা এখন কী Wish করবা বন্ধুরা?
H2O আসলে পানির রাসায়নিক নাম (chemical formula)। পানিতে মূল দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে। এ জন্য সংক্ষেপে এর রাসায়নিক নাম দেয়া হয়েছে H2O।
সাধারণত মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি খুবই পরিচিত। বিজ্ঞানের পড়েননি কিন্তু যারা চাকরির জন্য পড়াশোনা করেন তাদের কাছে এটি একেবারেই সাধারণ বিষয়।
কিন্তু মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আসরে যারা প্রতিযোগিতা করছেন তারা এমন সাধারণ বিষয় না জানায় নেটিজেনদের সমালোচনায় পড়েছেন।
তবে H2O পানির রাসায়নিক নাম হলেও এই নামে বিশ্বে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের ব্যান্ড দল রয়েছে এ নামে। H2O নামে প্রায় ১০টি মুভি তৈরি হয়েছে।https://l.facebook.com/l.php?u=https%3A%2F%2Fwww.youtube.com%2Fwatch%3Ftime_continue%3D33%26v%3DLrP4HkZe7AI&h=AT0zAueAmeRcCi4ONJe7tjnk7AvwpN1HoBddjGos1IP_fE-4-dvaTJsRzv3mFxLODLRPdzbjcPk4ih99bSkJGgYu96FgjzfzVNjUmJ1EU4_mPpLPctjQkTNKkNtuUl4HqP9q

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যশোরে ৯ মাসে ৭২ খুন, উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক: বছরের প্রথম ৯ মাসে যশোরে ৭২ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ জনই নিহত হয়েছেন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বা ‘গোলাগুলির সময়’ গুলিবিদ্ধ হয়ে। এই সময়ে রাজনৈতিক কোন্দলে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে বিএনপির একজন কর্মী রয়েছেন। বাকিরা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, তরুণ লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। এ ছাড়া এই ৯ মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন চারজন।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। এ পর্যন্ত র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাগুলো দুই দল মাদক ব্যবসায়ী কিংবা দুই দল ডাকাতের মধ্যে ঘটেছে বলে বিভিন্ন সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কথিত এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার বাইরেও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকটি গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। বছরের প্রথম সপ্তাহেই ৬ জানুয়ারি ঝিকরগাছায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত বাবু ওরফে পালসার বাবু। নিহত বাবু এলাকায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরদিন ৭ জানুয়ারি মনিরামপুর উপজেলার স্মরণপুর ইটভাটার কাছ থেকে রাজু সর্দার নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের চোখ, মুখসহ শরীরের চারটি স্থানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন ছিল। ২০ জানুয়ারি যশোর সদর ও ঝিকরগাছা থেকে চারটি গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দুই স্থানেই দুই দল করে ডাকাত নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে লিপ্ত হলে এ চারজন নিহত হন। নিহতদের পরিচয় সে সময় পাওয়া যায়নি। এর এক দিন পর যশোর-নড়াইল সড়কের ভাঙ্গুড়া পুরনো ব্রিজের নিচ থেকে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি কেশবপুর উপজেলার সফরাবাদ এলাকার একটি কচুখেত থেকে পুলিশ মামুন মোড়ল নামে এক ট্রাক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে। লাশের মাথা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ৯ এপ্রিল যশোর সদরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন আলামিন বাবু নামের এক যুবক। নিহত এই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। ৯ মে মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ হানুয়ার মাঠ থেকে মুক্তার আলী নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই দল ডাকাতের মধ্যে গুলিবিনিময়ের সময় এই নিহতের ঘটনা ঘটে বলে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। নিহত মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা ছিল বলেও পুলিশ দাবি করে। ১৯ মে অভয়নগরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবুল কালাম, হাবিবুর রহমান ও মিলন কাঁসারি নামে তিনজন নিহত হন। পরদিন ২০ মে সদর উপজেলার সুজলপুর থেকে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই দল ডাকাতের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় এ যুবক নিহন হন বলে পুলিশ দাবি করে। এর এক দিন পর ২১ মে সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা, মণ্ডলগাতি ও তরফ নওয়াপাড়া থেকে তিনজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় এ তিনজন নিহত হন। ২৯ মে যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ দুজনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ ছিল। মাদক কারবারিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় এ দুজন নিহত হন বলে পুলিশ দাবি করেছিল। পরদিন ৩০ মে বেনাপোলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও দুই ব্যক্তি মারা যান। এর এক দিন পর বাঘারপাড়ার ভাটারআমতলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আরও এক ব্যক্তি। এই তিনজনই মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে পুলিশ দাবি করে। ১৫ জুন শার্শায় মোন্তাজ আলী নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়। ১৮ জুন অভয়নগরের প্রেমবাগ এলাকা থেকে উদ্ধার হয় শহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ। এরা দুজনও দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলির সময় নিহত হন বলে পুলিশ দাবি করে। ২৪ জুন মনিরামপুর উপজেলার ছাতিয়ানতলা থেকে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় এই দুই যুবক নিহত হন। ৪ জুলাই চৌগাছায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে কথিত গোলাগুলিতে নিহত হন বেনাপোলের শহিদ নামে এক ব্যক্তি। ৬ জুলাই যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় আকাশ নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ দাবি করে, দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলির সময় আকাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। ১১ জুলাই মনিরামপুর থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ডাকাতদের মধ্যে গোলাগুলির সময় তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানায়। ১৩ জুলাই চৌগাছায় রতন হোসেন নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে। ২৩ জুলাই সদর উপজেলার বারিনগর মথুরাপুর এলাকার রেললাইনের ওপর থেকে দুই ব্যক্তির ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৪ জুলাই যশোর-মনিরামপুর সড়কের কানাইতলা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৮ আগস্ট যশোর-নড়াইল সড়কের সীতারামপুর ব্রিজের কাছ থেকে বাঘারপাড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে নড়াইল থানার পুলিশ। ১৬ সেপ্টেম্বর শার্শা ও কেশবপুরের আলাদা দুটি স্থান থেকে আজিজুল হক ও ফারুক হোসেন নামে আপন দুই ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের বাড়ি শার্শায়। এ দুই ভাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর যশোর শহরের বাবলাতলা হ্যাচারি এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’র সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শহিদুল ইসলাম তপন নামের এক ব্যক্তি। এদিকে রাজনৈতিক কোন্দলে গত ৯ মাসে পাঁচজন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। ২৭ আগস্ট যশোর শহরের শংকরপুরে মশিয়ার রহমান নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ১৪ মে প্রতিপক্ষের বোমা হামলায় নিহত হন জেলা তরুণ লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। ২৩ জুন যশোর শহরের ঘোপ এলাকায় যুবলীগের আঞ্চলিক অফিসে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। তাদের হামলায় আরাফাত মুনাফ লিটন নামে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়। ২৬ মার্চ ছাত্রলীগের যশোর সরকারি সিটি কলেজ শাখার যুগ্ম-সম্পাদক রাকিব হাসান দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ৩ জানুয়ারি ঝিকরগাছায় আব্বাস আলী নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী প্রতিপক্ষের বোমা হামলায় নিহত হন। নিহত আব্বাস আলী ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের ভাই। এ ছাড়া গত ৯ মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে চারজন নিহত হয়েছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর বাঘারপাড়ায় গরুচোর সন্দেহে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ১৭ জুলাই সদর উপজেলার বসুন্দিয়ায় ইরাদত খান নামে এক ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। নিহত ইরাদত খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। ১৭ মে বাঘারপাড়ায় ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন আরেক ব্যক্তি। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। ২৯ মে যশোরে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ছাড়া ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের দিকে যশোর শহরের কাজীপাড়া এলাকায় সোহাগ নামে এক ঠিকাদারকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৩০ আগস্ট শহরের সিটি কলেজ মসজিদের পাশ থেকে এক তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ১১ আগস্ট সদর উপজেলার নূরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় শহরের একতা হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় দাহিনুর রহমানের লাশ। ৮ আগস্ট বাঘারপাড়ায় তফসির মোল্লা নামে এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ২ আগস্ট মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া মাঠ থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় আবদুল লতিফ নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয়। ২৭ জুলাই শহরের মুড়লী মেহগনি বাগান থেকে সোহেল রানা নামে এক ট্রাকচালকের মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৩ জুন বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরায় মহিদুল ইসলাম নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও চোখ খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০ জুন ভোরে ঢাকা থেকে যশোর ফিরে বাড়ি যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন চন্দন কুমার ঘোষ নামের এক যুবক। ১৩ জুন যশোরে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারা যান রমজানুল ইসলাম নামের এক মোহরার। ১১ মে বাঘারপাড়া থেকে আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক মাদ্রাসা কর্মচারীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৪ এপ্রিল যশোর শহরের রেলগেট এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মারা যান ইজিবাইক চালক রুবেল। ১৩ এপ্রিল অভয়নগরের নওয়াপাড়া রেললাইনের পাশ থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ১২ এপ্রিল শার্শা থেকে উদ্ধার হয় কদর আলী গাজী নামে এক ঘের ব্যবসায়ীর লাশ। ২৬ মার্চ শহরের জামরুলতলা এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন লিটন হোসেন নামে এক যুবক। ২৯ জানুয়ারি শহরের রেলগেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রানা হোসেন নামের আরও এক যুবক নিহত হন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় করলা

স্বাস্থ্য কণিকা: করলা এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি। এলার্জি প্রতিরোধে এর রস দারুণ উপকারি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উত্তম। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। করলায় যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে বহু গুণ। এবার জেনে নিন, করলার আরো পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা-

ব্রকলি থেকেও দ্বিগুণ পরিমানে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে এতে। দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন উপকারী। করলায় প্রচুর পরিমানে আয়রণ রয়েছে। আয়রণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করলায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরি। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন।
করলায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরি।

ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে। ফাইবার সমৃদ্ধ করলা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমায়। করলায় রয়েছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম।

অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে। ডায়বেটিসের পেশেন্টের ডায়েটে করলা রাখুন। করলায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি, যা ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস ও করলা সিদ্ধ খেতে পারেন। নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম এর সমস্যায় করলা উপকারি। ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে। স্কিন ডিজিজ ও ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।

করলা পাতার রসের উপকারিতা
করলা পাতার রস খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্টেমিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে। অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজড হলে, সে সমস্যায় করলা পাতার রস দারুন কাজে দেয়। ব্লাড ডিজঅর্ডার সমস্যায় লেবুর রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মির্জা ফখরুলসহ ৫৫ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ডে ৭ জন

রাজনীতির খবর: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির প্রায় সব সিনিয়র নেতাসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। এরমধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সোমবার (০১ অক্টোবর) আদালতে সোপর্দ করে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহার ও হাতিরঝিল থানা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। হাতিরঝিল থানার এসআই শরিফ বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে দেখা য়ায়, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ২ নম্বর আসামি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ৩ নম্বর ড. মঈন খান, ৪ নম্বর নজরুল ইসলাম খান, ৫ নম্বর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ৬ নম্বর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ; ৭ নম্বর আমান উল্লাহ আমান, ৮ নম্বর রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, ৯ নম্বর রুহুল কবির রিজভী ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪৫ জন নেতাকে আসামি করা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- রাজধানীর মগবাজার রেলগেট এলাকায় রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন, পুলিশকে আক্রমণ করেছেন, যানবাহন ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করেছেন। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বাঁশের লাঠি, পেট্রোল বোমা, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ, কাচের টুকরা ও ইটের টুকরা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন- বাড্ডার ৪১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সামছুল হক (৪০), একই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন (৪০), গুলশান ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ বিন সোলায়মান (৪৪), গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার শফিউদ্দিন (৪৩), ময়মনসিংহের ভালুকা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন (৫৩), কুমিল্লা জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া (৪৮) ও কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব খন্দকার (৩৫)।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো. ফজলুল করিম বিএনপির রবিবারের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সাতজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সুন্দরী প্রতিযোগিতার রাজনৈতিক অর্থনীতি- ফাহমিদুল হক
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যায়, টিভি চ্যানেলগুলো ব্রাউজ করতে করতে, চ্যানেল আইতে একটা লাইভ প্রোগ্রামে নজর দিতেই দেখলাম, এক সুন্দরী প্রতিযোগিতা সেটা। একজন নারী-এ্যাঙ্কর দর্শকদেরও রায় নিচ্ছেন, কে হবেন সেরা সুন্দরী। বিরাট দর্শকসমাগম, দর্শকদের খানিক মতামত নিয়ে অবশেষে একজনকে সেরা সুন্দরী ঘোষণা করা হলো, বিজয়-মুকুট পরিয়ে দেয়া হলো।
এখন তো ট্যালেন্ট হান্ট আর বিউটি কনটেস্টের ছড়াছড়ি — সুপারস্টার, ফটোজেনিক — এরকম নানা নামে বিউটি কনটেস্ট চলছে। এসব আয়োজনে থাকে কোনো একটা মিডিয়া হাউস, সঙ্গে থাকে একটা কর্পোরেট ব্র্যান্ড, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে থাকে একটা মার্কেটিং কোম্পানি। যেমন সবচেয়ে আলোচিত ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় যুক্ত থাকে ইউনিলিভার, চ্যানেল আই ও এশিয়াটিক মার্কেটিং লি.। ইহা কোন প্রতিযোগিতা, এরকম আগ্রহ থেকে একটু মনোনিবেশ করলাম। নির্বাচিত সেই সুন্দরী হলেন সেরা ‘আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’। সুন্দরীর টাইটেল বেশ কৌতূহলোদ্দীপক, তিনি প্রিয়দর্শিনী কিন্তু আদিবাসী! যাহোক এসব প্রতিযোগিতায় যেহেতু আগ্রহ ও আকর্ষণ কম থাকে আমার, তাই অন্য কোনো চ্যানেলে লাফ দিলাম। লাফিয়ে লাফিয়ে ক্লান্ত হয়ে, অবসাদগ্রস্ত হয়ে টেলিভিশন বন্ধও করলাম।
তবে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় আমার আগ্রহ কম থাকলেও, এর পেছনের রাজনীতিকে বুঝতে অনাগ্রহ নেই আমার। তাই টেলিভিশন বন্ধ করার পরও সেদিন রাতে ঘুমাবার এবং পরদিন মাঝে মাঝেই মনে এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল যে, আদিবাসীদের মধ্য থেকেও সেরা সুন্দরী নির্বাচনের প্রয়োজন কেন পড়ে? পরদিন সকালে প্রথম আলোর প্রতিবেদনের শিরোনাম দেখলাম: ‘আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের নাচে-গানে মুখরিত সৈকত’। সেই প্রতিবেদনে অবশ্য ‘আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’ সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া গেলনা। জানা গেল, সেটা ছিল মূলত আদিবাসী মেলা। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন ছিল দ্বিতীবারের মতো। ২০০৯ সালে প্রথম আদিবাসী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধিরা ঐ মেলায় অংশ নেয় এবং ‘নাচে-গানে সৈকত মুখরিত’ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, চ্যানেল আইয়ের শীর্ষ দুই কর্তা ব্যক্তি, স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা
বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘এক্সোটিক ডেস্টিনেশন’ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আদিবাসীদের এই সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশকে সাদা চোখে সদর্থক দৃষ্টিতে দেখার বিস্তর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দু’টি বিষয় আমাকে আরও ভাবিয়ে তোলে, ইস্যুর গভীরে নামতে উস্কে দেয় — প্রথমত, ঐ প্রশ্নটি মনে ঘুরপাক খায় যে কেন আদিবাসীদের মধ্য থেকেও সুন্দরী বাছতে হয় এবং দ্বিতীয়ত, দুই কলামের আদিবাসী মেলার সংবাদের পাশেই প্রথম আলোতে প্রকাশিত আরেকটি এক-কলাম সংবাদ: ‘মন্ত্রণালয়ের গোপন চিঠি: উপজাতিদের আদিবাসী হিসেবে অভিহিত করার অপতৎপরতা চলছে’। কী আছে ঐ এক-কলামের সংবাদে? সেখানে বলা হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব ও তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসককে দেওয়া গোপন চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘উপজাতীয় কতিপয় নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, পাহাড়ে বসবাসরত শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ এমনকি সাংবাদিকেরাও ইদানীং উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে উপজাতি না বলে আদিবাসী হিসেবে অভিহিত করছেন। বিভিন্ন এনজিও, বিদেশি সংবাদমাধ্যম, জাতিসংঘের আড়ালে থাকা খ্রিস্টান রাষ্ট্রসমূহ ঐ ব্যক্তিবর্গের সহাযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে’ (প্রথম আলো, ১৩ ফেব্র“য়ারি, ২০১০, পৃ ২১)।
আদিবাসী মেলার সংবাদের একেবারে পাশ ঘেঁষে প্রকাশিত এই সংবাদ দগদগে বৈপরীত্য নিয়ে আমাদের চোখে ধরা দেয়। এই ‘গোপন সংবাদ’ আমাদের অবহিত করছে সরকার ও আমলাতন্ত্র আদিবাসীদের কী দৃষ্টিতে দেখে। সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার ও তার আমলাতন্ত্র সংখ্যালঘুদের সাধারণ নাগরিকের স্বীকৃতি দিতে কীরকম সংরক্ষণবাদী তা স্পষ্ট হয় এই সংবাদে। ১৯৯৭ সালের চুক্তির ন্যূনতম বাস্তবায়ন এত বছরেও কেন হচ্ছে না, তারও একটা ব্যাখ্যা এই মানসিকতার প্রকাশের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু সংখ্যালঘুদের অধিকারের ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকারের অবস্থান তেমন হেরফের হয়না। কিন্তু সেই সরকারেরই একটি প্রতিষ্ঠান পর্যটন করপোরেশন যখন আদিবাসী মেলায় যুক্ত হয়, তখন এটাও স্পষ্ট হয় যে এটা কোনো আদিবাসী-দরদী অনুষ্ঠান নয়, বরং আদিবাসীদের জাতিবৈচিত্র্য, তাদের নৃত্য-গীত, তাদের জীবন-যাপন-সংস্কৃতি এখানে ‘এক্সোটিক কমোডিটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশি-বিদেশি সম্ভাব্য-পর্যটকদের কাছে। চ্যানেল আইয়ের পৌরহিত্যে ‘আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’ বাছাবাছিও, সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক যে অভিযোগ — নারীকে পণ্যকরণ — তার সঙ্গে বাড়তি মাত্রায় হাজির হচ্ছে। একে বলা যায় আদিবাসী নারীর পণ্যকরণ হিসেবে। দ্বিস্তরের এই পণ্যকরণ প্রক্রিয়ায় চ্যানেল আই ও পর্যটন কর্পোরেশন উভয়কেই দায়ী করতে হয়। তবে প্রথম স্তরের পণ্যকরণ প্রক্রিয়া, সুন্দরী-প্রতিযোগিতা নিয়ে আরেকটু বিশদ বাগ্বিস্তার ঘটাতে চাই।
১৯২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক সিটির হোটেলসমূহের কর্তৃপক্ষরা হোটেলগুলোতে ভ্রমণকারীদের আরও অধিক সময় আটকে রাখার মার্কেটিং উপায় হিসেবে মেয়েদের সুইমস্যুটনির্ভর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এটাই সুন্দরী প্রতিযোগিতার আদি নিদর্শন। এরপরে নারীর সৌন্দর্য ও শরীরনির্ভর প্রতিযোগিতার বুম হয়। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা হতে থাকে। এরপর একে একে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রথম সুন্দরী প্রতিযোগিতা শুরু হয় মিস ওয়ার্ল্ড (১৯৫১ সালে), মিস ইউনিভার্স (১৯৫২ সালে), মিস ইন্টারন্যাশনাল (১৯৬০ সালে) নামে। এইসব বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য জাতীয় প্রতিযোগী নির্বাচনের জন্য আবার জাতীয় পর্যায়ে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা হয়, ভারতে যেমন আছে ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’। তবে মিস ওয়ার্ল্ড বা মিস ইউনিভার্সের জাতীয় প্রতিনিধি নির্বাচনই তো মূল কথা নয়, পণ্যের প্রসার-প্রচারের জন্য কর্পোরেশনগুলোর প্রতিনিয়ত দরকার হয় সুন্দর দেহের নতুন নতুন নারীমুখ, এজন্য নিয়মিতভাবে এইসব প্রতিযোগিতার আয়োজন চলে। একই নারী(দেহ) র‌্যাম্প, সিনেমা, সিরিয়ালে যুক্ত হয়ে তারকা-ইমেজ বলবৎ রাখে এবং পণ্যের মডেলিং-এ নারীর বিক্রিমূল্য অটুট রাখে। তাই ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’ ছাড়াও আমরা দেখি ‘সানন্দা তিলোত্তমা’ প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে যেমন রয়েছে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতা। আগেই বলেছি যে এইসব প্রতিযোগিতায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকে একটি মিডিয়া হাউস। ফেমিনা হলো ভারতের অন্যতম বৃহৎ টাইমস অব ইন্ডিয়ার অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান।
এইসব সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকরা ‘নারীকে বস্তুকরণ’-এর অভিযোগ এড়াতে অন্তঃত দু’টি বিষয় সামনে এনে অভিযোগের ঘায়ে মলম দিতে চায় — প্রথমত, এটি নারীর ক্ষমতায়ন ঘটায়; দ্বিতীয়ত, এখানে দৈহিক সৌন্দর্যই মূলকথা নয়, তার বুদ্ধিমত্তা বা ট্যালেন্টই তাকে জিতিয়ে দেয়। এই আলোচনায় ফিরে আসা যাবে, তার আগে আমি সুন্দরী প্রতিযোগিতার পেছনের যে রাজনৈতিক-অর্থনীতি, সেদিকে আলোকপাত করতে চাই।
ভারতীয় নারীরা একসময় বিশ্বসুন্দরীর খেতাব পাওয়া শুরু করেন এবং পেতেই থাকেন। এযেন সুন্দরী হবার জোয়ার, ভারতীয় নারীরা হঠাৎ করে যেন সুন্দরী হয়ে গেছেন। ১৯৯৪ সালে সুস্মিতা সেন মিস ইউনিভার্স হন এবং ঐশ্বরিয়া রাই মিস ওয়ার্ল্ড হন। এরপর ডায়ানা হেইডেন মিস ওয়ার্ল্ড হন ১৯৯৭ সালে। যুক্তা মুখী মিস ওয়ার্ল্ড হন ১৯৯৯ সালে। ২০০০ সালে মিস ইউনিভার্স হন লারা দত্ত এবং মিস ওয়ার্ল্ড হন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ১৯৯৪ সালের আগে একমাত্র ভারতীয় বিশ্বসুন্দরীকে (রিটা ফারিয়া) দেখা যায় বহু পূর্বে ১৯৬৬ সালে। ১৯৬৬-১৯৯৪ সময়কালে, ২৮ বছরে কোনো ভারতীয় বিশ্বসুন্দরী পয়দা হননি, কিন্তু ১৯৯৪-২০০০ সময়কালে, ৬ বছরে আমরা পাচ্ছি ৬ জন বিশ্বসুন্দরীকে। আবার ২০০০ সালের পর থেকে ৯ বছরে আর একজনও বিশ্বসুন্দরীর খেতাব পেলনা ভারত থেকে।
নব্বই দশকে ভারতে বিশ্বসুন্দরীদের এই সমাগমের পেছনের রাজনৈতিক-অর্থনীতি হলো, নরসীমা রাওয়ের সরকার থেকেই একসময়ের-সোভিয়েত-ঘেঁষা ভারত অর্থনৈতিক উদারীকরণের সিদ্ধান্ত নেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে যে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া তাতে বহু-ভোক্তার দেশ ভারত একটা বিরাট বাজার হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই বাজারে মাল বেচতে প্রয়োজন একগুচ্ছ সুন্দরী, যারা পণ্যের বহিরঙ্গের পণ্য হিসেবে বিকোবেন। সেই সুন্দরীকে হতে হবে অবশ্যই স্থানীয় — থিঙ্ক গ্লোবালি, এ্যাক্ট লোকালি — এই সমীকরণে। আর এক ভারতীয় বিশ্বসুন্দরী দিয়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল বাজারে প্রবেশ সম্ভব। সুস্মিতা-ঐশ্বরিয়া-প্রিয়াঙ্কা তো কেবল ভারতীয় আইকন নন, তারা দক্ষিণ এশীয় আইকন হয়ে ওঠেন বিশ্বসুন্দরী খেতাব পাবার সঙ্গে সঙ্গে।
আরেকটি মজার রাজনীতি হয়েছে মুসলিম দুনিয়া নিয়ে। অপেক্ষাকৃত সংরক্ষণবাদী হিসেবে পরিচিত মুসলিম দেশগুলো থেকে বিশ্বসুন্দরী দেখা যায়না। তবে ২০০১ সালে টুইন-টাওয়ারে হামলার পরে যখন পশ্চিমা বিশ্বের কাছে মুসলিম-আইডেন্টি একটা রেসিস্ট্যান্স বা বিরোধী-পক্ষ হিসেবে হাজির হয়, তার ঠিক পরের বছরেই আমরা দেখতে পাচ্ছি মুসলিম দেশগুলো থেকে বিশ্বসুন্দরী খেতাব দেয়া হয়েছে। ২০০২ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হন তুরস্ক থেকে এবং মিস ইন্টান্যাশনাল হন লেবানন থেকে। ব্যাপারটা কাকতালীয় ভাবলে ভুল হবে। বরং শত্র“পক্ষীয় কনজারভেটিভ মুসলিম দেশগুলোর সংস্কারে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট খোলাপোশাকের একজন স্বদেশী বিশ্বসুন্দরী। আবার সেই সুন্দরীর মাধ্যমেই পণ্য ও ভোক্তাসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ নিরবে মুসলমানদের সংরক্ষণবাদকে নষ্ট করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচক, লাতিন আমেরিকার নেতা, সমাজতন্ত্রী হুগো শভেজের দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে বেশ কিছু বিশ্বসুন্দরী নির্বাচনের পেছনেও রয়েছে প্রায় একই রকম রাজনীতি। ২০০৮ ও ২০০৯ সালের মিস ইউনিভার্স, ২০০৩ ও ২০০৬-এর মিস ইন্টারন্যাশনাল নির্বাচিত হয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধি। ২০০৩ সালে চীন থেকে মিস ওয়ার্ল্ড একই রাজনীতির আওতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই বলা যায় ‘সৌন্দর্য ও ট্যালেণ্টের সমন্বয়’-এর আপ্তবাক্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর নয়। বরং বিশ্বায়নকালে মুক্তবাজার অর্থনীতির দূত হিসেবে এইসব সুন্দরীদের নির্বাচন করা হয়, এবং মোটামুটি হিসেব কষে সুন্দরীদের মুকুট ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়া হয়। এমনকি বর্ণবাদী এই প্রতিযোগিতা শ্বেতাঙ্গ বা বাদামি-ফর্সা সুন্দরীদের অবশ্যম্ভাবী বর্ণ হিসেবে একটা মানদণ্ড ঠিক করে দেবার পরও মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রম ঘটানো হয়, ‘কালোদের-জন্য-একজন-এ্যাম্বাসেডর’ খোঁজার স্বার্থে। এই বিবেচনাতেই ২০০১ সালে নাইজেরিয়া থেকে একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে দেয়া হয় মিস ওয়ার্ল্ড-এর খেতাব।
একই বিবেচনায় আমাদের দেশে আয়োজন করা হয়েছে ‘আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’ প্রতিযোগিতা, যে-প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কথা আমি এই রচনার শুরুতেই বলেছি। অর্থাৎ আদিবাসীদের মধ্য থেকেও একজন সুন্দরী বেছে নেয়া, যাকে দিয়ে পণ্যের প্রমোশন করা যাবে এবং আদিবাসীদের কাছে পণ্যের বার্তা নিয়ে সহজে পৌঁছা যাবে। কেবল বর্ণ নয়, সব বয়সের প্রতিনিধিও খোঁজার দৃষ্টান্ত রয়েছে। একবার আমাদের দেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল চল্লিশোর্ধ নারীদের প্রতিযোগিতা। স্মৃতি প্রতারক না হলে, সেই প্রতিযোগিতার নাম ছিল ‘প্যান্টিন ইউ গট দ্যা লুক’। এই হলো ভোক্তা-সংস্কৃতির নমুনা। তুমি মুসলিম হলেও মডেলিং করো, না হয় পোশাকটা একটু লম্বাই রাখো। তুমি একটু বয়েসী হলেও সেজেগুজে প্রতিযোগিতায় নামো। তুমি আদিবাসী হলেও র‌্যাম্পে আসো।
এবার আসা যাক নারীর ক্ষমতায়ন ও সুন্দরী একইসঙ্গে ট্যালেন্টও — এই ধারণার আলোচনায়। নৃবিজ্ঞানী সুসান রাঙ্কল (রাঙ্কল, ২০০৪) গবেষণা করেছেন মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতার পূর্বে নির্বাচিত ২৬ জন প্রতিযোগীর জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ-প্রক্রিয়া নিয়ে। তিনি লক্ষ করেছেন নির্বাচিত ২৬ জনকে যেভাবে ঘষেমেজে সম্ভাব্য মিস ইন্ডিয়া বা মিস ওয়ার্ল্ড-ইউনিভার্স হিসেবে তৈরি করা হয়, তাতে প্রতিযোগীর অবদান সামান্যই। তার ভাষায়, ‘‘মিস ওয়ার্ল্ড হয়ে-ওঠার প্রক্রিয়াটাতে তিনি নিজে অবদান রাখেন সামান্যই। বরং, ‘এক্সপার্ট’রাই হচ্ছেন আসল লোক যারা মোট কাজের বেশিরভাগটা সম্পাদন করেন। খোদাই করে করে তারা তাকে একজন মিস ওয়ার্ল্ড যেমন হওয়া উচিত সেরকম আদর্শ-বস্তুতে রূপান্তর করে ফেলেন’’ (রাঙ্কল, ২০০৪: ১৪২)। এই পুরো ‘গ্র“মিং’-প্রক্রিয়া দেখে সুসান রাঙ্কলের ধারণা হয়েছে, ‘শরীর এমন একটা যন্ত্র যার বিভিন্ন পার্টস মেরামত করা যায়’ (রাঙ্কল, ২০০৪: ১৩৯)। এই মেরামতিতে ডায়েট, ভাষাভঙ্গী, ত্বক, ফ্যাশন ইত্যাদি নানা বিষয়ের এক্সপার্ট যুক্ত হন। দেখা যাচ্ছে প্রতিযোগীর সৌন্দর্য ও ট্যালেন্ট উভয়ই নির্মিত হচ্ছে অন্যের দ্বারা। আর তার ট্যালেন্টের বহর উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন রাঙ্কল। একজন প্রতিযোগী সবচেয়ে পছন্দের নারী হিসেবে হিলারি ক্লিনটনের নাম বলেছিলেন — ‘কারণ তিনি হচ্ছেন প্রেম, ক্ষমতা আর দৃঢ়তার আদর্শ, যদিও তাঁর ছিল একটা দুর্যোগপূর্ণ ব্যক্তিগত জীবন’ (দেখুন রাঙ্কল, ২০০৪: ১৫০)। স্বামীর প্রকাশিত অনৈতিক সম্পর্কের পরও যিনি তার প্রেম ও দৃঢ়তা দিয়ে বিয়ে-রাজনৈতিক ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখেন তিনিই সুন্দরীর আদর্শ হবেন, এতে অবশ্য আশ্চর্য হবার কিছু নেই।
তথ্যসূত্র:
সুসান রাঙ্কল (২০০৪), ‘সৌন্দর্য উৎপাদন’, সেলিম রেজা নিউটন অনূদিত, চন্দ্রাবতী, সুস্মিতা চক্রবর্তী সম্পা., রাজশাহী, ২০০৬।
২০১০ সালে লিখিত (লেখকের ‘অসম্মতি উৎপাদন’ [২০১১] গ্রন্থে প্রকাশিত)
লেখক: চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম বিষয়ক লেখক, গবেষক এবং ছোটগল্পকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা যোগাযোগ-এর সম্পাদক তিনি।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest