সর্বশেষ সংবাদ-
দুটি মামলায় দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর কারাগারেকাঁধে কফির ফ্লাস্ক, চোখে স্বপ্ন—রূপসী ম্যানগ্রোভে আকাশের জীবনসংগ্রামশ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটনঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন: সাতক্ষীরার গাবুরায় লাখ টাকা জরিমানা

মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল বায়ার্ন মিউনিখ

খেলার খবর: বুন্দেসলিগায় এ মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল বায়ার্ন মিউনিখ। শুক্রবার রাতে হার্থা বার্লিনের ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে নিকো কোভাচের শিষ্যরা।
ম্যাচের ২৩তম মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে হার্থা বার্লিনকে এগিয়ে দেন ভেদাদ ইবিসেভিচ। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ডি-বক্সের মাঝামাঝি থেকে ডান পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার ওন্দ্রেই দুদা।
ছয় ম্যাচ থেকে চার জয় ও এক ড্র’তে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে বায়ার্ন। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে হার্থা বার্লিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিজেই রোগ নির্ণয় করুন

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের অভ্যাস হচ্ছে শরীর খুব খারাপ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া। মাঝে মাঝে শরীর হয়ত একটু খারাপ লাগে, একটু বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে ‍যায়। এই লক্ষণগুলো যে হতে পারে বড় কোনো রোগের পূর্বাভাস এটা চিন্তাও করি না।

সচেতনভাবে উপসর্গগুলো লক্ষ্য করলে নিজেরাই কিছু রোগ সনাক্ত করতে পারি। যেমন:

হৃদরোগ
হৃদরোগের উপসর্গগুলো হলো, বুকে ব্যথা, নাড়ির গতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, শ্বাস-প্রশ্বাসে অস্বাভাবিকতা শরীরের কিছু কিছু জায়গায় নীল হয়ে যাওয়া, চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস
রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া হচ্ছে ডায়াবেটিস। বারবার পানির পিপাসা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, শরীর দুর্বল লাগা, ওজন কমে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং সকালের প্রথম প্রস্রাব একটি স্বচ্ছ পাত্রে রেখে রোদে দিলে যদি ৪ ঘণ্টার মধ্যে তলানিতে (প্রায় ৭০ ভাগ) জমে, তবে বুঝতে হবে এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণ।

জন্ডিস
জন্ডিসের উপসর্গ হচ্ছে শরীর ও চোখ ফ্যাকাসে হলুদ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রঙ হলুদ হয়ে যাওয়া, শরীর খুব ক্লান্ত লাগা, খাবারে অরুচি।

গ্যাস্ট্রিক
গলা ও বুক জ্বালাপোড়া, টক টক ঢেঁকুর ওঠা, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা গ্যাস্ট্রিকের উপসর্গ। সাধারণত সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া, ভেজালযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিক হয়।

উপসর্গগুলো লক্ষ্য করুন, যদি নিয়মিত এর যেকোনোটি হতে থাকে, অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থাকুন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কমছে ডিসি হওয়ার বয়স; হচ্ছে কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং নীতিমালা

দেশের খবর: মাঠ প্রশাসনের শীর্ষপদ জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগের বয়সসীমা কমানো হচ্ছে। এ পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার বয়স হতে হবে ৪৫ বছরের কম। বর্তমানে ডিসি পদে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স ৫০ বছর নির্ধারণ করা আছে। ডিসি হতে হলে মাঠ প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে কমপক্ষে ৫ বছর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে ২ বছর ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। উল্লিখিত বিধান রেখে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার এবং সরকারের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং (কর্মজীবন পরিকল্পনা) নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নীতিমালাটি সম্প্রতি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠানো হলে তা আরও পর্যালোচনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনের নেতৃত্বে করা কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটি এটি চূড়ান্ত করার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। জানতে চাইলে সোহরাব হোসাইন বুধবার বলেন, আমরা একটি বৈঠক করেছি নীতিমালাটি নিয়ে। তবে আরও কয়েকটি বৈঠক করার পর এটি চূড়ান্ত করা হবে।

নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে- একজন ডিসি এক জেলায় তিন বছর এবং একাধিক জেলায় ৪ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। বর্তমানে তিন বছরের বেশি কেউ ডিসি হিসেবে থাকার নিয়ম নেই। সরকারের উপসচিবদের মধ্য থেকেই ডিসি পদে নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি যুগ্ম-সচিবদের মধ্য থেকে বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ করা হবে। তাদের সর্বোচ্চ বয়স হবে ৫২ বছর এবং এক বিভাগে দুই বছরের বেশি কেউ বিভাগীয় কমিশনার থাকতে পারবেন না। তবে একাধিক বিভাগে তিন বছর থাকতে পারবেন। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবদের মধ্য থেকে বিভাগীয় কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। আর অতিরিক্ত সচিবদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হবে এবং তিন বছরের বেশি এক মন্ত্রণালয়ের কাজ করতে পারবেন না। তবে সরকার চাইলে এই মেয়াদ কমবেশি করতে পারবে। সরকার উপযুক্ত কর্মকর্তাদের সচিব পদে নিয়োগ দেবেন। সেই ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, চাকরির অভিজ্ঞতা, বিশেষ বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। কমপক্ষে তিন বছর সচিব পদে চাকরি করা কর্মকর্তাকে সিনিয়র সচিব পদে পদায়ন করা হবে। মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব পদে পদায়নের ক্ষেত্রে তিন বছর সচিব পদে চাকরির অভিজ্ঞতার সঙ্গে মাঠ প্রশাসনে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এছাড়া কোনো সিনিয়র সহকারী সচিব বা উপসচিব চাকরিজীবনের ২০ বছরেও যদি পরবর্তী ধাপে পদোন্নতি না পান, তাহলে বাকি কর্মজীবনে তার আর পদোন্নতি হবে না। ওই কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার আবেদন করলে সরকার তাকে পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ উপসচিব বা যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে অবসরে পাঠাবে। তবে অবসরে যাওয়ার এই আবেদন করতে হবে চাকরিজীবনের ২০ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। নীতিমালাটি অনুমোদন পেলে চাকরির ৬ বছর পূর্তিতে ইউএনও পদে পদায়ন করা হবে। ইউএনও পদে যোগদানের আগে দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যারা লিয়েনে থাকার কারণে এসি ল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, তাদের ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এর ধারাবাহিকতায় সাত বছর চাকরি পূর্তিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে পদায়ন করা হবে। পদায়নের আগে দুই সপ্তাহের ভূমি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং প্রশিক্ষণের ফল পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হবে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে চাকরিকাল, কর্মমূল্যায়ন প্রতিবেদন, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের প্রাপ্ত নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শৃঙ্খলা প্রতিবেদন ও সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) মূল্যায়ন বিবেচনা করে নির্দিষ্ট নম্বর বণ্টনের বিধান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপসচিব পদে পদোন্নতিতে সিনিয়র সহকারী সচিব বা সমমর্যাদার পদে পাঁচ বছরের সন্তোষজনক চাকরির জন্য ১০ নম্বর, যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিতে উপসচিব পদে তিন বছর চাকরির জন্য ১০ নম্বর এবং অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিতে যুগ্ম সচিব পদে দুই বছরের চাকরির জন্য ১০ নম্বর। এছাড়া তিনটি পদের ক্ষেত্রেই কর্মমূল্যায়ন প্রতিবেদনে ৫০ নম্বর, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ১০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ১০ নম্বর, শৃঙ্খলা প্রতিবেদনে ১০ নম্বর ও এসএসবির মূল্যায়নের জন্য ১০ নম্বর থাকবে।

কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের বিষয়ে নীতিমালায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে সরকারি চাকরির অংশ করা হচ্ছে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ওরিয়েন্টেশন কোর্স। তবে এখনই তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে এর জন্য কোনো পয়েন্ট রাখা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, একসময় বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হবে। কারণ সব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরই মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। এছাড়া নবীন কর্মকর্তাদের যোগদানের পরপরই দেড় বছরের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে আইন ও প্রশাসন বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার কাজের বিষয়ে ধারণা লাভ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ধারণা পাওয়ার জন্য সার্ভে অ্যান্ড সেটলমেন্ট কোর্স করতে হবে। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে যারা ভালো ফল করবেন, তাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিদেশে পাঠানো হবে। এছাড়া সম্ভব হলে বিএমএ ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে- সহকারী কমিশনার পদে ওইসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হবে, যারা সাফল্যের সঙ্গে ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করবেন। চাকরির পাঁচ বছর পূর্তিতে সিনিয়র স্কেল পাবেন। সেক্ষেত্রে সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের কার্যাবলি সংক্রান্ত একটি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অ্যাডভান্স কোর্স অন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সিনিয়র স্টাফ কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য পলিসি প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোর্স (পিপিএমসি) বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া অন্যান্য প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে হবে। বৈদেশিক উচ্চতর ডিগ্রি এবং শিক্ষাজীবনের সব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী বা বিভাগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পদায়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ান-জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে কার্যকর কিছুই করছে না মিয়ানমার। চুক্তি করেও চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না তারা। যেহেতু রোহিঙ্গা সমস্যার উদ্ভব হয়েছে মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও হতে হবে ওই দেশে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ তথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের যে চুক্তি হয়েছে তা অবিলম্বে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বোপরি দেশটির ওপর চাপ আরও বাড়াতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

এর আগে বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বৈঠক হয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন মহাসচিব। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদান করেছে। সাধ্যমতো তাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং শিশুদের যত্নের ব্যবস্থা করেছি আমরা। কিন্তু বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠীর ভার বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় প্রথম থেকেই আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মিয়ানমার মৌখিকভাবে সব সময়ই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক নিপীড়িত ও রোহিঙ্গার মতো নিজ গৃহ থেকে বিতাড়িত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আমার হৃদয়কে ব্যথিত করে। এ জাতীয় ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও টেকসই সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে বিবরণ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাতে আমরা হতভম্ব। একজন মানুষ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশাকে আমরা যেমন অগ্রাহ্য করতে পারি না, তেমনি পারি না নিশ্চুপ থাকতে। আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচার ও অবিচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যতদিন নিজ দেশে ফেরত যেতে না পারবেন, ততদিন সাময়িকভাবে তারা যাতে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রেখে আমরা নতুন আবাসন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা যারা সহানুভূতি দেখিয়েছেন এবং সাহায্য ও সহযোগিতা করে চলেছেন তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার সপক্ষে তার অবস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতিসংঘ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তার দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘মেকিং দ্য ইউনাইটেড নেশন্স রিলেভেন্ট টু অল পিপল : গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যান্ড শেয়ারড রেসপনসিবিলিটিজ ফর পিসফুল, ইক্যুইটেবল অ্যান্ড সাসটেইনেবল সোসাইটিজ’- উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য আমাকে অতীতের কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতির পাতায় নিয়ে গেছে।

তিনি এ সময় ব্যক্তিগত স্মৃতি রোমন্থনে ৪৪ বছর আগে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার বাবা এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় প্রদত্ত ভাষণটি স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন আজও অব্যাহত রয়েছে যা আমাদের মর্মাহত করে। এ সমস্যার আশু নিষ্পত্তি প্রয়োজন। ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে আমরা ওআইসির মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে তিনটি মৌলিক উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তা হল- শান্তি, মানবতা ও উন্নয়ন। তাই মানব সমাজের কল্যাণে আমাদের মানবতার পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে সেবা প্রদান এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মানবতা ও সৌহার্দই আমাদের টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে ৫৪টি মিশনে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১০ জন শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বিশেষ অবদান রেখেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৪৫ জন শান্তিরক্ষী জীবনদান করেছেন। বর্তমানে ১০টি মিশনে ১৪৪ জন নারীসহ বাংলাদেশের মোট ৭ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী নিযুক্ত রয়েছেন।’

বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদসহ সব সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা পরিচালিত হতে দেব না। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আমাদের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট রয়েছি। বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের বিবেচনায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরে ছিল শতকরা ৭ দশমিক ৮৬ ভাগ। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের শতকরা ৪১ দশমিক ৫ ভাগ থেকে শতকরা ২১ দশমিক ৪ ভাগে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে হতদরিদ্রের হার ২৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের জন্য সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং এ বিষয়ক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৬ বাস্তবায়নে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ স্যানিটেশন এবং ৮৮ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছেন।’

দারিদ্র্য বিমোচনে পদক্ষেপ, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৬৫ লাখ বয়স্ক নারী-পুরুষ, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা বিভিন্ন সামাজিক সূচকে প্রভূত অগ্রগতি অর্জন করেছি। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লাখে ১৭০ এবং পাঁচ বছর বয়সের নিচে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।’

২০১০ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ১৯৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের মাতৃভাষার বই দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ১ কোটি ৪০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মায়েদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত হয়েছে। শিক্ষার হার গত সাড়ে ৯ বছরে ৪৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক হল নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ। নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা নিশ্চিত করেছি। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়ে ও ছেলে শিক্ষার্থীর অনুপাত ৫৩:৪৭। ২০০৯ সালের শুরুতে যা ছিল ৩৫:৬৫।’

বাংলাদেশের কৃষি, সেবা ও শিল্প খাতে প্রায় ২ কোটি নারী কর্মরত রয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সর্ববৃহৎ উৎস তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪৫ লাখ কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী।’ তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ৩৩ শতাংশ আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদই সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতা নারী। বর্তমান সংসদে ৭২ জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।’

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বাধিক ঝুঁকির সম্মুখীন পৃথিবীর প্রথম দশটি দেশের একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে আমরা আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের এক শতাংশ ব্যয় করছি এবং জলবায়ু সহায়ক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করছি। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য-সুন্দরবন সংরক্ষণে ৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।’

তিনি বলেন, অটিজম ও জন্মগত স্নায়ুরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে আমরা মহাকাশ প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করেছি। বস্তুত এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন।

বাংলাদেশের সরকারের প্রতি জাতিসংঘের প্রতি পূর্ণ সংহতি : বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি জাতিসংঘের পূর্ণ সংহতি এবং পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।’ জাতিসংঘ সদর দফতরে মহাসচিবের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গুতেরেস আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।’

একাধিকবার বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অনেক দেশ এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা গুতেরেস বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) অনেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের জন্য রোল মডেল হতে পারেন।’

মিয়ানমার সরকারের যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের যথাযথ পুনর্বাসন শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ইস্যুতে নেতৃত্ব দেয়া অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেন। পরে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মৌরার জাতিসংঘ সদর দফতরে দ্বিপক্ষীয় সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দ ইস্পিনোসা গ্রাসেসও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে ৩টি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি ত্বরান্বিত করা নিয়ে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় তিনি বলেন, বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহিংসতাসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং জীবন ও জীবিকার সব ক্ষেত্রে নারীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে। এই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উপস্থিত ছিলেন। লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিল অব উইমেন লিডার্সের সভাপতি দালিয়া গ্রাইবোস্কাইত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়নে নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যে নারীর ক্ষমতায়নের ফলে অর্থনীতিতে এর উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লিঙ্গ সমতার প্রভাব শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিফলিত হয়, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় এবং প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইরাকি মডেলকে গুলি করে হত্যা

বিদেশের খবর: ইরাকি মডেল তারা ফারেজকে বাগদাদে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যাম্প সারাহ’য় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন এই সাবেক মিস বাগদাদ। ইরাকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ইন্ডিপেন্ডেট’র।

ইরাকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদ মান ইরাকি টেলিভিশনে জানান, ফারেজ একটি গাড়ির ভেতর অবস্থানকালে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে।

জানা যায়, ২২ বছর বয়সী খ্রিস্টান ধর্মালম্বী ফারেজের বাবা ইরাকি এবং মা লেবানিজ। তিনি এরবিলে বসবাস করলেও মাঝে মাঝে রাজধানীতে আসতেন। সাহসী পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টের কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমেরিকায় মামলা হচ্ছে সিনহার বিরুদ্ধে

বিদেশের খবর: বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা হচ্ছে। ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি’ নামক আত্মজীবনী গ্রন্থে এমন কিছু তথ্য ও মতামত প্রকাশ করা হয়েছে- যাতে ক্ষুব্ধ হওয়া লোকজনের পক্ষে এ মামলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরীর মার্কিন অ্যাটর্নি ২৭ সেপ্টেম্বর এ মামলার কার্যক্রম শুরু করেছেন। খবর : এনআরবি নিউজ’র। নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত একটি ল’ ফার্মের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, ‘মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই ফেডারেল কোর্টে আবেদন করা হবে।’ জানা গেছে, মামলার গতি-প্রকৃতি নিয়ে এরই মধ্যে মার্কিন অ্যাটর্নিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে- সেটি এই সাবেক বিচারপতির ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার মধ্যদিয়ে ধার্য করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম চৌধুরী বলেন, ‘আমার ল’ ফার্ম কাজ শুরু করেছে। সময় হলেই বিস্তারিত জানাব।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিতর্কিত ফাইনালে কোনোমতে জিতল ভারত

খেলার খবর: এর চেয়ে আর উত্তেজনা ছড়াতে পারে না কোনো ম্যাচ! পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকল নাটক আর রোমাঞ্চ। কে হবে এবারের এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ না ভারত? অপেক্ষা করতে হলো চিত্রনাট্যের শেষ পর্যন্ত। অবশেষে শেষ হাসি হাসল টিম ইন্ডিয়া। চূড়ান্ত মহারণে টাইগারদের ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের মুকুট পরল রোহিত বাহিনী। এ নিয়ে সব মিলিয়ে ৭বার এশিয়ার রাজা হওয়ার গৌরব অর্জন করল তারা।

অন্যদিকে, এ নিয়ে তৃতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। এর আগে ২০১২ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে এবং ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে টাইগাররা। প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানের হারে বেদনাদায়ক চিত্রনাট্য রচিত হয়। আর সবশেষ টি-টোয়েন্টি সংষ্করণে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে দ্বিতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ হয়। এবারো তার ব্যত্যয় ঘটল না।

এশিয়া কাপের টানটান উত্তেজনাকর ফাইনালে ভারতের কাছে ৩ উইকেটে হেরে ভেঙ্গে গেল বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। দুবাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ২২৩ রানের লক্ষ্যকে ৩ উইকেট হাতে নিয়েই টপকে যায় ভারত। সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছেন রোহিত শর্মা। এছাড়া ৩৭ রান এনেছে দিনেশ কার্তিকের ব্যাট থেকে।

এর আগে বাংলাদেশের দেয়া ২২৩ রানের সাদামাটা লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা সাবধানে করলেও চাপে পড়ে ভারত। ভালোই শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় নাজমুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফেরেন ১৫ রান করা শেখর ধাওয়ান। এরপর আমবাটি রাইডুকে মাত্র ২ রানেই বিদায় করেন মাশরাফি। ৪৬ রানে ২ উইকেট হারানো ভারতকে এরপর এগিয়ে নিতে থাকেন অদিনায়ক রোহিত শর্মা ও দিনেশ কার্তিক। তবে ৮৩ রানে রুবেল হোসেন রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিলে চাপে পড়ে যায় ভারত।

এরপর দিনেশ কার্তিক ও ধোনির জুটিতে এগোতে থাকে ভারত। মাহমুদুল্লাহর বলে কার্তিক আউট হন দলীয় ১৩৭ রানের। ১৬০ রানের মাথায় ধোনিও বিদায় নিলে চাপে পড়ে ভারত। কেদার যাদব আহত হয়ে অবসর নেন একটু পর। ফলে জাদেজা ও ভূবনেশ্বরের উপর এসে পড়ে বিশাল দায়িত্ব। এই দুজন বুঝে শুনে জয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন ভারতকে। জয় থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থাকা অবস্থায় রুবেলের অসাধারণ বলে জাদেজার পতন হলে আরো একবার জমে ওঠে খেলা। এরপর মোস্তাফিজের ম্যাজিকে বিদায় নেন ভূবনেশ্বরও। জয়ের জন্য প্রয়োজন ১১ বলে ৯ রান। ভারত। বাকি পাঁচ বলে তিন রান এলে শেষ ওভারে দরকার হয় ৬ রান। মাহমুদুল্লাহর সেই ওভার থেকে প্রয়োজনীয় রান তুলতে শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হয় ভারতকে। কেদার যাদব ও কূলদীপের কৃতিত্বে সেই রান পায় তারা।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ওপেনিং জুটিতে ১২০ রানের অসাধারণ পার্টনারশিপের পর আর দাঁড়াতে পারেনি সোজা হয়ে। মিডল অর্ডারদের একের পর এক আত্নহত্যায় শেষ পর্যন্ত ২২২ রানে থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২১ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন লিটন। এছাড়া ৩৩ রান করেছেন সৌম্য সরকার। ভারতের পক্ষে ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন কূলদীপ যাদব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২২৫/৭ (৫০ ওভারে)
রোহিত ৪৭, শেখর ধাওয়ার ১৫
রুবেল ২/১৯, মোস্তাফিজ ২/৩৮

বাংলাদেশ: ২২২/১০ (৪৮.৩ ওভারে)
লিটন দাস ১২১, মিরাজ ৩২,
কূলদীপ ৩/৪৫

দুইদলের একাদশ:

বাংলাদেশ:
লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মিথুন আলি, মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হোসেন মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু

ভারত একাদশ:
রোহিত শর্মা(অধিনায়ক), শেখর ধাওয়ান, আমবাটি রাইডু, মহেন্দ্র সিং ধোনি, দিনেশ কার্তিক, কেদার যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, ভূবনেশ্বর কুমার, কূলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল, জসপ্রিত বুমরাহ

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই পুরস্কার গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সংকট সামাল দিতে দূরদর্শী ভূমিকার জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে বৃহস্পিতবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর পৃথক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার দুটি তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কার দুটি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, সব দেশেরই নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাড়ানো উচিৎ।

মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নজির স্থাপন করায় ইন্টার প্রেস সার্ভিস শেখ হাসিনাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ও বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মার্তি আহতিসারি এ পুরস্কার পেয়েছেন।

আর দাতব্য সংগঠন ‘গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন’ শেখ হাসিনাকে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা দিয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।

জাতিসংঘ সদর দফতরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ইন্টার প্রেস সার্ভিসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক উইলিয়াম লুসি সুইং। এরপর রাতে নিউইয়র্কের পার্ক এভিনিউয়ে আরেক অনুষ্ঠানে গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

নাইজারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদু ইসুফু, তিউনেসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেজি সাইদ এসেবসি এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাসও এই পুরস্কার পেয়েছেন।

সম্মাননা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে; তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মিয়ানমারে নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতর আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে শেখ হাসিনার এই বৈঠক হয়।

শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তাদের আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলেছন জাতিসংঘ মহাসিচব। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালবাসার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।

পররাষ্ট সচিব বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও জাতিসংঘ মহাসচিব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকৃত অর্থেই ‘লক্ষণীয় ও শিক্ষণীয়’। বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব ধরে রাখারও অনুরোধ করেছেন তিনি।

শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা এবং ৭৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফেরনান্দা এসপিনোসা গার্সিসও বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest