সর্বশেষ সংবাদ-
উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনশ্যামনগরে পৃথক ঘটনায় একই দিনে দুজনের মৃত্যুসাতক্ষীরায় জমি দখলের অভিযোগ আ.লীগ নেত্রী রওশন আরা রুবির বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তিন নেতা গ্রেফতারসাতক্ষীরায় প্রভাষকের পদোন্নতিতে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হলেন ঝাউডাঙ্গা কলেজ অধ্যক্ষগণঅভ্যুত্থান স্মরণে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের স্মরণসভামাদকের আখড়ায় অতিষ্ঠ ঝাউডাঙ্গার দত্তবাগ এলাকাবাসীচলতি মাসেই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি : আলোচনায় যারাপেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ১৩সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা : এনডিসির উদ্ধতপূর্ণ আচরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা

এক ম্যাচই সবকিছু বদলে দিতে পারে : মাশরাফি

খেলার খবর: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিশাল জয়ে শুরু হয়েছিল টাইগারদের এশিয়া কাপ মিশন। এরপরই যেন স্বর্গ থেকে মর্ত্যে পতন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অলআউট ১১৯ রানে, হার ১৩৬ রানের। সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে অলআউট ১৭৩ রানে, পরাজয়ের ব্যবধান ৭ উইকেট।
পরপর দুই ম্যাচে হারলেও এখনো বেঁচে আছে টাইগারদের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা। তবে জিততে হবে নিজেদের পরের দুই ম্যাচ, মেলাতে হবে কিছু সমীকরণ। তবেই তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে খেলতে পারবে বাংলাদেশ দল।
কিন্তু এজন্য আগে দরকার দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও স্মার্ট ক্রিকেটের প্রদর্শনী। প্রথম তিন ম্যাচের একটিতেও স্বস্তির ব্যাটিং করতে পারেনি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের জুটি না হলে সেদিনও দেখা মিলতো ব্যাটিং বিপর্যয়ের। তবে এসব নিয়ে আর ভাবতে রাজি নন টাইগার অধিনায়ক।
এরই মধ্যে টানা দুই ম্যাচ হেরে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। রোববার সুপার ফোর রাউন্ডে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হয়ে যাবে টাইগারদের ভাগ্য। হেরে গেলে কঠিনতর হয়ে যাবে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফিও জানেন আফগানিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব। এই এক ম্যাচ জিততে পারলেই বদলে যাবে দলের পরিস্থিতি, বদলে যাবে পারিপার্শ্বিক সমীকরণও। ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও সে কথাই জানান মাশরাফি বিন মর্তুজা।
তিনি বলেন, ‘একটা ম্যাচই সবকিছু বদলে দিতে পারে। আমরা এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের দেখায় আমাদের ভালো করতে হবে। শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের কারণে তাদের হারানো কঠিন। তবে আমরা যদি ২৬০-২৭০ রান করতে পারি তাহলে অবশ্যই তাদের হারাতে পারবো। আমাদের বোলিং এখনো পর্যন্ত ঠিক আছে, ব্যাটিংটাই মূল চিন্তার বিষয়।’
অধিনায়কের ব্যাটিং চিন্তা লাঘবে দেশ থেকে দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে দুবাই পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তিন ম্যাচেই ওপেনারদের ব্যর্থতার কারণেই তড়িঘড়ি করে উড়িয়ে নেয়া হচ্ছে এ দুজনকে।
তবে এ ব্যাপারে জানতেন না টাইগার অধিনায়ক। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাকে এটি জানানো হলে বলেন, ‘ আমি মাঠে ছিলাম। কাদের নেয়া হয়েছে তা জানিনা এখনো। স্কোয়াডে দুইজন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও পরিষ্কার নয় আমার কাছে। শুনেছিলাম এ রকম কথা, তবে জানতাম না যে হয়ে গিয়েছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আইনগত ভিত্তি পেলেই ইভিএম ব্যবহার : সিইসি

দেশের খবর: আইনগত ভিত্তি পেলেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ইভিএম ব্যবহার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ইভিএম অতিরিক্তভাবে চাপিয়ে দেয়া যাবে না। যতটুকু নিখুঁতভাবে ব্যবহার করা যাবে ততটুকুই ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএম নিয়ে মানুষের মাঝে সন্দেহ থাকবে, প্রশ্ন থাকবে। আমরা সেগুলো দূর করার চেষ্টা করব। পরিপূর্ণভাবে ইভিএম ব্যবহার করব। কোনো ধরনের ত্রুটি থাকলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।’
‘আইনগত স্বীকৃতি পেলেই এটি (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এ যন্ত্র ব্যবহার করলে ভোট গ্রহণ সহজ হবে, কষ্ট কমে যাবে, ভোট গণনা সহজ হবে এবং ভোট কারচুপি হবে না’ বলেন নুরুল হুদা।
রাজনৈতিক দলের নেতাদের ইভিএম সম্পর্কে ভালোভাবে জানার পরামর্শ দিয়ে সিইসি বলেন, ‘জানার পর মন্তব্য করলে ভাল হয়। আমাদের অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ধাবিত হতে হবে। নির্বাচনের ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।’
২০১৮ সালের শেষে অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান সিইসি।
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। কর্মশালায় ৫০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নেবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সংসার ফে‌লে কাঠ‌মি‌স্ত্রির ফাঁ‌দে ইং‌রে‌জি স্কু‌লের শি‌ক্ষিকা

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানা এলাকার বাসিন্দা সোনিয়া সিকদার (ছদ্মনাম)। একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা। লেখাপড়া করেছেন দুবাইয়ে। তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী মোজাম্মেল সিকদার (ছদ্মনাম) লন্ডন থেকে এমবিএ পাস করে ব্যবসা করছেন দেশে। সোনিয়া-মোজাম্মেল দম্পতির সংসারে এক সন্তান।
এই উচ্চশিক্ষিত এবং বিত্তশালী পরিবারের গৃহবধূ সোনিয়া সিকদার হঠাৎ নিরুদ্দেশ। আনুমানিক ৩০ বছর বয়সের এই স্কুলশিক্ষিকাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। গত বছরের নভেম্বর মাসে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রীকে হারিয়ে গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হন স্বামী মোজাম্মেল সিকদার। এরপর শুরু হল গোয়েন্দা অভিযান।
অভিযানের শুরুতেই গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে, ওই শিক্ষিকা চট্টগ্রামে নেই। প্রযুক্তিগত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা আরও বুঝতে পারেন, শিক্ষিকা সোনিয়া চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সময়ই তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।
প্রযুক্তির সহায়তায় সোনিয়ার অবস্থান সম্পর্কে অনেকটা নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা দল যশোর যাত্রা করে। সেখানে পৌঁছে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন গোয়েন্দারা।
চট্টগ্রাম ছেড়ে যশোর কেন?-এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে যশোরের যুবক কাঠমিস্ত্রি তারিকুল ইসলামের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এই ফেসবুক তারিকুলের ডাকে তিনি সাড়া দিয়েছেন। চলে গেছেন যশোর। তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা জানার চেষ্টা করেন গোয়েন্দারা। পরে জানতে পারেন, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা সোনিয়া মার্জিত ও ভদ্র পরিবারের নারী। আর তিনি পড়েছেন একজন কাঠমিস্ত্রির খপ্পরে! তারিকুল প্রায়ই নানা অজুহাতে সোনিয়ার কাছ থেকে টাকা চাইতেন, আর সোনিয়া টাকা পাঠাতেন। একপর্যায়ে নিজেই চলে যান বখাটে তারিকুলের কাছে। অবশ্য, তারিকুলই যশোর যাওয়ার জন্য সোনিয়ার টিকিটের ব্যবস্থা করেছেন। সেই টাকা সোনিয়া আগেই তারিকুলের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
যশোর নিয়ে যাওয়ার পর তারিকুল ইসলাম একটি আবাসিক হোটেলে রাখেন সোনিয়াকে। আর পরিকল্পনা করছিলেন ভারতে পাচার করে দেওয়ার। কিন্তু গোয়েন্দারা এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে সোনিয়াকে উদ্ধার করায় তাঁকে আর পাচার করা যায়নি। তবে ঘটনায় জড়িত তারিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় গোয়েন্দারা। ওই ঘটনায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তারিকুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, ‘স্কুল শিক্ষিকার বয়স ছিল প্রায় ৩০ বছর। তিনি ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করেন ১৮ বছরের এক কাঠমিস্ত্রির সঙ্গে। যশোর পৌঁছার পর যখন ওই যুবকের সঙ্গে দেখা হয়, তখনই তিনি বুঝতে পারেন তিনি ফাঁদে পা দিয়েছেন। যে তরুণকে তিনি ফেসবুকে দেখেছিলেন, সেই যুবক আর সামনে দেখা যুবকের অনেক তফাৎ। অর্থাৎ, ওই যুবক ছদ্মপরিচয়ে শিক্ষিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করেছিল।’ তিনি জানান, ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করতে আর কিছুটা বিলম্ব হলে ভারতে পাচার করে দেওয়া হতো। সব আয়োজনই শেষ হয়েছিল। পাচারের আগেই তিনি ভাগ্যক্রমে উদ্ধার হন।
এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব করতেও সঠিক বিচার বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সুযোগ সন্ধানীরা ভার্চুয়াল বন্ধু হয়ে স্বার্থ হাসিল করতে পারে। এতে বাস্তব জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই সবারই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।’
তাঁর মতে, যদি সোনিয়া পাচার হয়ে যেতেন, তাহলে তাঁকে উদ্ধার করা কঠিন হত। এতে সন্তান মা হারাত, স্বামী হারাতেন স্ত্রী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘জাতীয় ঐক্য’ কতটা জাতীয়?

অনলাইন ডেস্ক: অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামের নতুন এক রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। শুরুতেই এই জোট ব্যাপক আলোচনায়। গণমাধ্যম সহ রাজনৈতিক মহলে তাদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই রাজনৈতিক জোট কতখানি প্রভাব বিস্তারকারী হতে পারে এনিয়ে নির্মোহ বিশ্লেষণের দাবি রাখলেও আদতে সেটা হচ্ছে না।
যুক্তফ্রন্ট জাতীয় ঐক্যের উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছে বলে জোটের শীর্ষনেতারা দাবি করলেও তাদের বক্তৃতা বিবৃতিতে যা পরিস্কার তা হচ্ছে এটা সরকারবিরোধি এক জোট, এবং উদ্দেশ্যই তাদের সরকার পরিবর্তনের। এই জোট আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে, এবং সেটা সকল দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে তারাও আগ্রহী নয়, কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আগামী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষে প্রস্তুতিও নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশন। কয়েকটি মিটিং আর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই গড়ে ওঠা এই জোটের এখন পর্যন্ত দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তারা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বাইরে অন্য সরকার চাইছে সেটা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
‘জাতীয় ঐক্য’ যারা করবেন বলে জানাচ্ছেন তাদের সকলেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি চরমভাবে বিরক্ত, অথবা আরও একটু খোলাসা করলে বলা যায় তারা সরকারের প্রতি চরম বিদ্বেষপোষণকারী। যেকোনো মূল্যে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে তারা অন্য কাউকে ক্ষমতায় দেখতে চান- এটাই উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যপূরণে তারা নিজেরা কতখানি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কিংবা সক্ষম এনিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে জাতীয় ঐক্য কেবল আওয়ামী বিরোধি ঐক্যের যে প্রক্রিয়া সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
যুক্তফ্রন্ট নামের যে রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে তার নেতৃত্বে আছেন ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আছেন ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার মত নেতারা। বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরী বাদে বাকি সকল নেতারা পূর্বে আওয়ামী লীগ থেকে বিভিন্ন সুবিধাদি প্রাপ্ত। এবং একটা সময়ে সেসব সুবিধা ভোগের পর আওয়ামী লীগ তাদের সরিয়ে দিয়েছে অথবা নিজেরা সরে গেছেন। এরপর থেকে তাদের রাজনীতির প্রধানতম লক্ষ্য আওয়ামী লীগ বিরোধিতা এবং সেটা দিবালোকের মত স্পষ্ট। আর বদরুদ্দোজা চৌধুরী নিজে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনীতিবিদ এবং একটা সময়ে বিএনপির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সেই দলের কারণেই তাকে সে পদও ছাড়তে হয়। তবে বিএনপি তার প্রতি নানা অবিচার আর অসম্মান করলেও এখনও তিনি বিএনপির প্রতি দুর্বল।
দেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এই দুই দলের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিমান হওয়ার কারণে দু’দলের যেকোনো একদলে আশ্রয় নিতে হয় অধিকাংশকেই। সে হিসেবে তার প্রতি বিবিধ অবিচার করা হলেও বি চৌধুরী বিএনপিকে ছাড়তে পারেন নি। ডানধারার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া তার পক্ষে আওয়ামী লীগের প্রতি হেলে যাওয়ার সুযোগ সামান্যই। তাই বিএনপি যাই করুক না কেন বিএনপি তাকে ছাড়লেও তিনি দলটিকে ছাড়তে পারছেন না। আ স ম আব্দুর রব জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের প্রধান। পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক ঘটনার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফের ক্ষমতায় আসার পর তিনি সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর একটা সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। জাসদ অপর অংশের নেতা হাসানুল হক ইনুকে কাছে নিয়ে আসলে আরও দূরে সরতে থাকেন রব; এবং দলীয় শত্রু-খণ্ডাংশের বন্ধুকে নিজের শত্রু হিসেবেও জ্ঞান করতে শুরু করেন। মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন কিন্তু একটা সময়ে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে জেলেও যেতে হয় তাকে। ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে দূরে সরতে সরতে একটা সময়ে গণফোরাম নামের একটা পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করেন, এবং তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও আওয়ামীবিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এ নেতাদের রাজনীতি দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের বিরোধি শিবিরে। পাঁচ বছর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট যখন সরকার পতনের লক্ষে পেট্টোলবোমা-নাশকতার রাজনীতি করছিল, তখন একা আওয়ামী লীগ সরকারকেই এ দুঃসহ পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। ওই সময়েও তারা সে সব নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন নি। উলটো সরকারের নাশকতা দমনের লক্ষে চালিত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। আওয়ামীবিরোধিতাই যে তাদের প্রকৃত লক্ষ সে নিয়ে তাই কোন প্রশ্ন নাই।
এই নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যের কথা বলছেন, এবং সেটা জাতীয় ঐক্যের নামে, কিন্তু জাতীয় ঐক্য যারা গড়তে চাইছেন তারা আগে থেকেই একটা পক্ষের বিপক্ষে। এই পক্ষ হচ্ছে সরকারপক্ষ। তাই তাদের জাতীয় ঐক্যের ধারণাটিকে জাতীয় ঐক্য বলা যায় না। কারণ তারা নিজ থেকেই সরকারকে এই ঐক্যের বাইরে রেখেছেন, অথবা ঐক্যের মধ্যে আনতে চান নি।
যুক্তফ্রন্টের দাবিকৃত জাতীয় ঐক্য তখনই জাতীয়ভাবে সমাদৃত হতো যখন তারা এই প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ও শরিক দলগুলোকে একই প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসতে চাইত। কারণ তারা স্বীকার করুক কিংবা নাই করুক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং তাদের বৃহৎ এক ভোটারশ্রেণি রয়েছে। এই বিশাল ভোটারশ্রেণিকে বাইরে রেখে কীভাবে জাতীয় ঐক্য হয়? এটা বড়জোর সরকারবিরোধি ঐক্য, জাতীয় ঐক্য নয় কোনোভাবেই।
যুক্তফ্রন্ট যারা গঠন করেছেন তাদের লক্ষ আওয়ামী লীগকে হটিয়ে নতুন সরকার। কী পরিকল্পনা তাদের এনিয়েও কিছু জানায় নি তারা। ফলে এই জোট উদ্দেশ্যবিহীন। দেশশাসনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নাই যাদের তারা কীভাবে আশা করে সরকার গঠনের? এছাড়া এই জোটের নির্দিষ্ট ক’জন ব্যক্তি ছাড়া সারাদেশে কি কোন নেতা-কর্মী-সমর্থক আছে? উত্তর- নাই! তাহলে? আর যারা কেন্দ্রে বিভিন্ন আলোচনা সভা আর সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন তারাও বা কতটুকু জনসম্পৃক্ত- এটাও প্রশ্নসাপেক্ষ। এই জোটের নামে নেতাদের কেউ যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করে তাহলে তাদের সম্ভাবনাই বা কতখানি? এসব ব্যাপারও আলোচনার দাবি রাখে, মূল্যায়নের দাবি রাখে।
যুক্তফ্রন্ট নামের জোট গঠনের পর তাদের কয়েকটি আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন বিএনপি নেতারা। ফলে ধারণা করাই যায় এই জোট আদতে বিএনপির একটা শাখা হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। অথচ তারা জাতীয় ঐক্যের নামে শুরু করেছিল।
যদি বিএনপির ২০ দলীয় জোটের সাথে তারা ঐক্য করে নির্বাচনে অংশ নেয় তবে মূল দল বা জোট হবে কোনটা? কারা এক্ষেত্রে আসন ভাগাভাগিতে মুখ্য ভূমিকায় থাকবে? যুক্তফ্রন্ট কি বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করবে, নাকি বিএনপি যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করবে? সেক্ষেত্রে কে কত আসন পাবে?
বিএনপি ও যুক্তফ্রন্টের ঐক্য হলে বাস্তবতা বিবেচনায় মূল দলের ভূমিকায় থাকবে বিএনপি। ফলে এই জাতীয় ঐক্য এক ফাঁপা বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়। মিডিয়ায় কভারেজ পাওয়া বড় বড় নেতারা ও তাদের জোট মূলত নামসর্বস্ব এক জোটে কিংবা খণ্ডাংশে পরিণত হবে।
আগামির সরকার নিয়ে যুক্তফ্রন্টের বাস্তবতাভিত্তিক কোন কর্মসূচি না থাকলেও ওই জোটের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না জানিয়েছেন, তারা অন্তত দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে চান। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হচ্ছে এটা ধরে নিয়েই তিনি একথা বলছেন। তার দাবি, দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে এই দুইবছর তারা ক্ষমতা চান। অর্থাৎ বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট হয়ে নির্বাচিত হলে তারা বাকি তিন বছর বিএনপিকে দিতে চান। সরকারে এই ভাগাভাগি বিএনপি কতখানি মানবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে এরআগে তারা বিএনপির কাছে কত সংখ্যক আসন চান এবং পান সেটাও দেখার বিষয়।
যুক্তফ্রন্ট-বিএনপির ঐক্য হলে এটা আদতে বাংলাদেশের রাজনীতির কোন পরিবর্তন করবে না। দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার অবর্তমানে বিএনপি গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন এনে যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানিয়েছে সেই তারেক রহমান বাংলাদেশের একাধিক আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং আইনের দৃষ্টিতে তিনি পলাতক আসামি। নিকট ভবিষ্যতে তার দেশে ফেরার সম্ভবনাও কম। এই মামলাগুলো বাদেও তিনি বিতর্কিত ‘হাওয়া ভবন’-এর কর্ণধার, এবং নানা কারণে চরমভাবে বিতর্কিত। এই বিতর্কিত একজনকে নেতৃত্বে রেখে যুক্তফ্রন্টের সুশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলাটা রীতিমত স্ববিরোধিতা।
বিএনপির ২০ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামি সহ এমন অসংখ্য দল রয়েছে যাদের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নেই। এমন অনেক দল রয়েছে যাদের নাম পর্যন্ত অনেকেই জানে না। আগে থেকেই তারা ভোটের মাঠে কোনরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না, পারার কথাও না। এই দলগুলোর সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট নামের জোট অন্তর্ভুক্ত হলে সেটা আগের অবস্থার কোন পরিবর্তন আনতে পারবে বলে মনে হয় না। ভোটের মাঠের এই হিসাবেই বাইরে এই অন্তর্ভুক্তিতে লাভ যে একেবারে নাই, তা নয়। লাভ আছে, তবে সেটা স্রেফ মিডিয়া কভারেজের ক্ষেত্রেই।
তাই যতই ঢাকঢোল পেটানো হোক না কেন, কেবল আলোচনায় থাকা ছাড়া যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক কোন সম্ভাবনা আদতে নাই। জাতীয় ঐক্য তাই কেবল ফাঁপা বুলি।সরকারি দল আওয়ামী লীগ, তাদের শরিক দলগুলো ও আওয়ামী লীগের বর্তমান মিত্র হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিও আসবে না এই জাতীয় ঐক্যে; ফলে জাতীয় ঐক্যের নামে যে আলোচনা হচ্ছে তা মূলত আওয়ামী লীগবিরোধি জোট।
স্রেফ সরকারবিরোধি কিছু দল আর জোটকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যের’ নামে যে জোট গঠনের চেষ্টা চলছে সেটা কোনোভাবেই ‘জাতীয় ঐক্য’ নয়; এটাকে বড়জোর সরকারবিরোধি ঐক্য বলা যেতে পারে, জাতীয় নয়। এই জোট আলোচনায় না থাকা নামে বৃহৎ কতিপয় রাজনৈতিক নেতার আলোচনায় আসা ছাড়া আর কিছু নয়, তাদের রাজনৈতিক সম্ভাবনাও তাই শূন্য!
লেখক- কবির আহমদ,

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বলিউডে নওয়াজ ও শহীদ, টলিউডে শাকিব

বিনোদনের খবর: ঈদুল আযহার পর বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি নতুন কোনো ছবি। বাধ্য হয়ে দর্শকরা দেখছেন পুরনো ছবিই। এদিকে পাশের দেশ ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও প্রায় প্রতি সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে নতুন নতুন ছবি। এ সপ্তাহেও হলো না তার ব্যতিক্রম।
শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) পশ্চিম বঙ্গের সিনেমা হলে মুক্তি পেল দুটি নতুন ছবি। এরমধ্যে একটি বাংলাদেশর তারকা অভিনেতা শাকিব খানের! সেই সাথে এইদিনে বলিউডে মুক্তি পেল তিনটি ছবি। যারমধ্যে আছে বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘মান্টো’! যা চলবে কলকাতার সিনেমা হলগুলোতেও।
কলকাতার শীর্ষস্থানীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস’। আর এই প্রযোজনা সংস্থা এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো নায়ককে দিয়ে তাদের লোকাল প্রোডাকশনের ছবি নির্মাণ করলেন। যদিও সাফটা চুক্তির ভিত্তিতে পশ্চিম বাংলায় মুক্তির দিনেই বাংলাদেশেও ছবিটি মুক্তির চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। তবে কলকাতায় প্রায় দেড়শো প্রেক্ষাগৃহে শাকিব অভিনীত ‘নাকাব’ মুক্তি পেয়ে আলোচনার শীর্ষে। ছবিতে তার বিপরীতে নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে কলকাতার নুসরাত ও সায়ন্তিকাকে।
কলকাতায় বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ছবির দাপটও বেশ। আর নতুন ছবি হলেতো কথায় নেই! আর তার উপর নন্দিতা দাশের নির্মাণে ‘মান্টো’ ছবির মূল ভূমিকায় আছেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী। কলকাতায় যিনি ভীষণ জনপ্রিয়। বেশ কয়েকটি ছবির শুটিংয়েও এরআগে বহুবার কলকাতায় এসেছিলেন নওয়াজ। তাছাড়া বাংলা সিনেমা কিংবা সাহিত্যের সাথেও নওয়াজের সম্পর্ক নতুন নয়। এদিক থেকেও বাঙালি দর্শকের সহানুভূতি পাবেন তিনি। আর ‘মান্টো’ ছবির প্রচারণায় গেল সপ্তাহেই নন্দিতা ও নওয়াজ ঘুরে গিয়েছেন কলকাতা।
এসব থেকে বোঝা যাচ্ছে শাকিবের ‘নাকাব’-এর চেয়ে ‘মান্টো’ ছবিটিও নিয়েও কলকাতার মানুষের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। তবে অনেকে বলছেন, ‘মান্টো’র দর্শক আর ‘নাকাব’-এর দর্শক সম্পূর্ণই ভিন্ন। তবে এমন খবরে হাফ ছেড়ে বাঁচার উপায় নেই। কারণ শাকিবের ‘নাকাব’-এর সামনে ‘বাত্তিগুল মিটার চালু’ নিয়ে হাজির বলিউডের হার্টথ্রব অভিনেতা শহীদ কাপুর। কারণ, শুক্রবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মতো কলকাতায় বেশকিছু প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শহীদ অভিনীত ছবিটি। যেখানে তার সাথে দেখা যাবে শ্রদ্ধা কাপুর ও ইয়ামি গৌতমের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের।
এছাড়াও কলকাতায় এদিন আরো একটি নতুন ছবি মুক্তি পেয়েছে। ছবির নাম ‘নূপুর’। রণদীপ সরকার পরিচালিত ছবিটি শতবর্ষী প্রেমলীলার কাহিনিকে কেন্দ্র করে চিত্রায়িত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার সড়কপথে আওয়ামী লীগের সফর

দেশের খবর: সিলেট থেকে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফরের তৃতীয় পর্যায়ে এবার কক্সবাজারের উদ্দেশে সড়কপথে যাত্রা করেছে দলটির ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এর আগ মুহূর্তে তিনি বলেন, সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়নের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সফর। সেই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে বিদ্যমান বিভেদ দূর করাও থাকছে দলটির সফরের এজেন্ডায়।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সফরে আওয়ামী লীগের নেতারা নয়টিরও বেশি জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।
এর মধ্যে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ, কুমিল্লা টাউন হল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম ফেনী ও সীতাকুণ্ডতে আজ জনসভায় অংশ নেবে প্রতিনিধি দলটি।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী থানা, লোহাগড়া উপজেলা, কক্সবাজারের চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড এবং রামু ঈদগাহ মাঠের জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন; সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে উত্তরবঙ্গ সফরে যায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল। সেই সফরের কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর গন্তব্যে পৌঁছায় নীল সাগর এক্সপ্রেস।
এর পর ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চ যোগে বরগুনা সফরের কথা থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিল দলে বার্সার মালকম

খেলার খবর: ব্রাজিল জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন বার্সেলোনার উইঙ্গার মালকম। আগামী মাসে হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা ও সৌদি আরবের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য তিতের দল থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার চিয়াগো সিলভা ও মিডফিল্ডার উইলিয়ান।
আগামী দুই ম্যাচের জন্য কোচ তিতে শুক্রবার ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেন। দলে ফিরেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার মার্সেলো ও ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার গাব্রিয়েল জেসুস।
ইউভেন্তুসের ফরোয়ার্ড দগলাস কস্তাও নেই দলে। তার দলে না থাকার কারণ হিসেবে সম্প্রতি পাওয়া চোট এবং গত শনিবার সাস্সুয়োলোর বিপক্ষে সেরি আ ম্যাচে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে থুথু দেওয়ার কান্ডের কথা উল্লেখ করেন তিতে।
“ঘটনা বা দুর্ঘটনা যাই হোক…শৃঙ্খলা ঘাটতির কারণে সে দলের বাইরে।”
মালকম ছাড়া দলে ডাক পাওয়াদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন বোর্দোর ডিফেন্ডার পাবলো ও গ্রেমিওর তরুণ গোলরক্ষক ফেলিপে।
দলে আরও ফিরেছেন ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার দানিলো ও গোলরক্ষক এদেরসন। এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও এল সালভাদরের বিপক্ষে ম্যাচের দলে ছিলেন না তারা।

ব্রাজিল দল:
গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ম্যানচেস্টার সিটি), ফেলিপে (গ্রেমিও)
ডিফেন্ডার: দানিলো (ম্যানচেস্টার সিটি), আলেক্স সান্দ্রো (ইউভেন্তুস), ফাবিনিয়ো (লিভারপুল), মার্সেলো (রিয়াল মাদ্রিদ), মার্কিনিয়োস (পিএসজি), মিরান্দা (ইন্টার মিলান), এদের মিলিতাও (পোর্তো), পাবলো (বোর্দো)
মিডফিল্ডার: আর্থার (বার্সেলোনা), রেনাতো আউগুস্তো (বেইজিং গোয়ান), কাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ), ফিলিপে কৌতিনিয়ো (বার্সেলোনা), ফ্রেদ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), মালকম (বার্সেলোনা), রিশার্লিসন (এভারটন), ওয়ালেস (হানোভার)
ফরোয়ার্ড: গাব্রিয়েল জেসুস (ম্যানচেস্টার সিটি), রবের্তো ফিরমিনো (লিভারপুল), নেইমার (পিএসজি), এভেরতন (গ্রেমিও)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ঐক্যের সমাবেশের’ আগে বি চৌধুরীর বাসায় ফখরুলদের বৈঠক

দেশের খবর: নির্বাচন সামনে রেখে ‘যুক্তফ্রন্ট’ ও ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশের আগের দিন অনেকটা গোপনীয়তার মধ্যে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠক করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন বিএনপি নেতা।
ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে শনিবার বিকালে ‘যুক্তফ্রন্ট’ ও ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশেও বিএনপি নেতাদের দেখা যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে দলটির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার কথায়।
সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বলয়ের বাইরের দলগুলোকে নিয়ে ‘বৃহত্তর ঐক্য’ গঠনের যে চেষ্টা গত কিছুদিন ধরে চলছে, তা শনিবার একটি আকার পেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য আর আ স ম রবের জেএসডি মিলে গতবছরের শেষ দিকে নতুন জোট ‘যুক্ত ফ্রন্ট’ গঠনের ঘোষণা আসে।
এরপর গত অগাস্টের শেষে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা আসে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে।
এ দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বেশ কিছুদিন ধরে সরকারবিরোধী একটি ‘বৃহত্তর ঐক্য’ গড়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
আর সেই ঐক্যের জন্য এক সময়ের বিএনপি নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী অথবা নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগ ছেড়ে আসা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব মেনে নিতে বিএনপি রাজি আছে- এমন কথাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারার বাসায় যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মওদুদ আহমদ ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ওই বাসা থেকে বিএনপি নেতাদের গাড়ি বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
এর মধ্যে মাহি বি চৌধুরী বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এলেও বৈঠক নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
বিএনপি নেতারা আলাদা গাড়িতে এলেও বৈঠক শেষে কালো একটি মাইক্রোবাসে করে তাদের একসঙ্গে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতে গেলে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন।
মির্জা ফখরুল নিজের গাড়ি না এনে অন্য একটি গাড়িতে করে এই বৈঠকে যোগ দিতে আসেন বলে তার ঘনিষ্ট একজন জানান।
বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে ফখরুলরা রাতে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ আরও কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বলে গুঞ্জন শোনা গেলেও বিএনপির কেউ এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।
কামালের দল গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, শনিবার বিকাল ৩টায় তাদের সমাবেশ শুরু হবে। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাতে প্রধন অতিথি থাকবেন।
“বিএনপিসহ কয়েকটি দলকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীদেরও বলা হয়েছে। আশা করছি তারা সবাই আসবেন।”
এ বিষয়ে বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশে তাদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি ‘মোটামুটি নিশ্চিত’। তবে কারা যাবেন, কি বক্তব্য নিয়ে যাবেন- সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এর আগে জেএসডির আ স ম আব্দুর রব, গণফোরামের সু্ব্রত চৌধুরী ও মাহমুদুর রহমান মান্না বৃহস্পতিবার দুপুরে বদরুদ্দোজার বাসায় যান। সেখানে সুব্রত চৌধুরীর ফোনে কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন বদরুদ্দোজা।
বিকল্পধারার সভাপতি বদরুদ্দোজার প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শনিবার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার যে সমাবেশ আছে, তাতে আমাদের প্রেসিডেন্ট প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।”

‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ ৫ দফা
>> একাদশ সংসদ নির্বাচনে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়া।

>> আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা ইসির উপর ন্যস্ত করা।

>> নির্বাচনের এক মাস আগে এবং নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন।

>> কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি এবং এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করা।

>> নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ গণমুখী করে সংশোধন।

কামাল- বদরুদ্দোজার জোট গঠনকে বিএনপি শুরু থেকেই স্বাগত জানিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে বিএনপি ‘ছাড় দিতেও প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও শরিকরা এই জোটের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশ করে আসছে সন্দেহ। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ‘জাতীয় ঐক্যের’ পাঁচ দফাকে বিএনপি-জামায়াতের অবস্থানের ‘ফটোকপি’ বলেছেন।
আর কামাল হোসেনের সঙ্গে বি চৌধুরীর ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে ‘স্বাগত’ জানিয়েই তাদের ‘অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা’ নিয়ে টিপ্পনী কেটেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন এই জোটকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘আওয়ামী লীগবিরোধীদের’ এক জায়গায় আসার চেষ্টা হিসেবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest