সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কবির হোসেনের যোগদাননূরনগর ইউনিয়নবাসীর জন্য সমাজসেবক লিটনের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুসারসা বাহরুল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ  মৃত্যুঞ্জয় কুমার ও আবু তাহেরের নেতৃত্বে প্রথম আলো সাতক্ষীরা বন্ধুসভার কমিটি ঘোষণাখালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় সাতক্ষীরায় তাঁতীদলের দোয়াসাতক্ষীরার ৪টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ২ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ২৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলসাতক্ষীরা-০১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আ’লীগ নেতা মুজিবের মনোনয়ন জমাসাতক্ষীরা জেলা কিন্ডার গার্টেন এ্যাসোসিয়েশনের ফলাফল প্রকাশExploring the Flavorful Journey of Ground Beef Enchiladasজেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি গঠন

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ভারতের শত শত বানভাসি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া কয়েকশ মানুষ এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
কোচবিহার জেলার অন্তত দুটি এলাকা থেকে বহু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার থেকে নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রী। খবর বিবিসির।
বাংলাদেশের লালমনিরহাটে বিজিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী ভারতীয় গ্রামগুলো থেকে বন্যাক্রান্ত হয়ে ৫ থেকে ৬শ’ লোক এসেছিল।
তিনি বলেন, যেহেতু তারা বিপদে পড়ে এসেছে, মানবিক কারণেই তাদেরকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়নি। তারা এখানে এসে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ঘর-বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে।
সীমান্তের ওই এলাকাটি একটু অদ্ভুত। সীমান্তে বাংলাদেশের দুটি গ্রাম মোগলহাটা ও দুর্গাপুরের মধ্যবর্তী জায়গায় আছে তিনটি ভারতীয় গ্রাম, যেগুলো ধরলা নদী দ্বারা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
সীমান্তে কাঁটাতারও নেই সেখানে। ফলে বন্যাপ্লাবিত হওয়ার পর তারা আর ধরলা পাড়ি দিয়ে ভারতে যেতে পারেনি, তাই বাংলাদেশে চলে এসেছে।
ভারত থেকেও একই রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় অংশের দিনহাটা মহকুমার জারিধরলা আর দরিবস গ্রামগুলি থেকে এবং তুফানগঞ্জ এলাকার চরবালাভূত এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি সেখানকার নদীগুলিতে প্রবল স্রোতের কারণে।
নদীতে গত কয়েকদিনের বন্যার কারণে ব্যাপক স্রোত বইছে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া সেই জারিধরলা ও দরিবস গ্রাম পুরোটাই প্রায় ডুবে গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নতুন পরিকল্পনায় ব্রাজিল, বাদ পড়লেন জেসুস

খেলার খবর: রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর মিশনে নেমেছেন ব্রাজিল কোচ তিতে। সেপ্টেম্বরের দুই প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা বাস্তাবায়নে বেশকিছু পরিবর্তন নিয়েই ব্রাজিলের দল ঘোষণা করেছেন তিনি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মাত্র একটি প্রিমিয়ার লিগ খেলা আন্দ্রেস পেরেরাকে ডাকা হয়েছে ব্রাজিল দলে। ডাক পেয়েছেন বার্সেলোনার আর্থার। বাদ পড়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার গাব্রিয়েল জেসুস, তার জায়াগা নিয়েছেন উঠতি তারকা পেদ্রো। এছাড়াও ডাক পেয়েছেন এভাটন।
নিউ জার্সিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে ব্রাজিল। রাশিয়া বিশ্বকাপের পর এটিই ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ হবে। কিন্তু সে ম্যাচে মাঠে থাকবেন না জেসুস। দলে জায়গা পাননি ফানান্দিনহো, দানিলো ও এডারসনের মতো তারাকা খেলোয়াড়।

ব্রাজিল স্কোয়াড:
আন্দ্রেস পেরেরা, আর্থার, এভাটন, লুকাস পুকেতা, ফিলিপে কুতিনহো, রিনাতো অগাস্টো, অ্যালিসন, হুগো, নেতো, অ্যালেক্স সুন্দ্রো, ডিডে, ফাবিনহো, ফাঙ্গার, ফিলিপ লুইস, মারকুইস, থিয়াগো সিলভা, কাসমিরো, ফ্রেড, ডগলাস কস্তা, রবার্তো ফিরমিনো, নেইমার, পেদ্রো, উইলিয়ান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবশেষে ফিরলেন স্টোকস

খেলার খবর: বর্তমানে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বেন স্টোকস। তবে পানশালা কাণ্ডে অনেকদিন থেকেই অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন দলে। চলছিল মামলাও। কিন্তু অবশেষে মামলায় মুক্তি পেলেন পাশাপাশি ডাক পেলেন ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টেও।
অন্যদিকে, স্টোকসকে জায়গা দিতে দল থেকে বাদ পড়েছেন এজবাস্টন টেস্টের ম্যাচসেরা স্যাম কুরান। সিরিজের প্রথম টেস্টে বল হাতে ৫ উইকেট, ব্যাটিংয়ে দুই ইনিংসে ২৪ এবং ৬৩ রান আসে কুরানের ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় টেস্টেও এক ইনিংস খেলে পান ৪০ রান আর ১ উইকেট।
তৃতীয় টেস্টের জন্য ইংল্যান্ড একাদশ:
জো রুট (অধিনায়ক), কেটন জেনিংস, অ্যালিস্টার কুক, জনি বেয়ারস্টো, অলি পোপ, বেন স্টোকস, জস বাটলার, আদিল রশিদ, ক্রিস ওকস, জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক: খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ব্রাশফায়ারে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
শনিবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে স্বনির্ভর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন- পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে স্বনির্ভর বাজার এলাকায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ এবং তাদের প্রতিপক্ষের মধ্যে সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয় জন নিহত ও ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় খাগড়াছড়ি শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেড় লাখ ইভিএম কিনছে ইসি

দেশের খবর: জরুরি ভিত্তিতে দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছু ভোট কেন্দ্রে এসব মেশিন ব্যবহার করা হতে পারে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৪ হাজার। মেশিনগুলো কেনার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গত সপ্তাহে একটি প্রকল্প অনুমোদন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে।
‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২১ কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।এর সিংহভাগই ব্যয় হবে ইভিএম কেনার খাতে। প্রতি ইউনিট ইভিএমের দাম পড়ছে প্রায় দুই লাখ টাকা।
আগামী রোববার এ প্রকল্পের ওপর পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির) সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ইভিএম সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করতে শিগগিরই ‘ইভিএম মেলা’র আয়োজন করতে যাচ্ছে কমিশন। ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসির সংলাপে বিএনপিসহ বেশির ভাগ দল নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দিয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা কয়েকটি দল মেশিনে ভোট গ্রহণের পক্ষে মত দেয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা একাধিকবার বলেছেন, সবাই না চাইলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। তবে সম্প্রতি এক বক্তব্যে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ সংশোধন করে ইভিএম ব্যবহারের বিধান অন্তর্ভুক্তের ইঙ্গিত দেন।
এছাড়া আইন সংস্কার কমিটিও আরপিও সংশোধন প্রস্তাবে ইভিএম অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেছে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন না করে এ মেশিনে ভোট গ্রহণ করা ঠিক হবে না। পাশাপাশি এ মেশিন পরিচালনায় দক্ষ জনবলও তৈরি করতে হবে।
দু’জন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দেড় লাখ ইউনিট ইভিএম কেনার প্রকল্পটি তৈরি করে যৌথভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর আওতাধীন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। এ প্রকল্পটি কমিশন সভায় তোলা হয়নি, তবে প্রশাসনিকভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য কমিশন সভায় উপস্থাপিত হয়নি। কমিশনে এমন সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হলে তখন সংগ্রহকৃত ইভিএমের সংখ্যা, দক্ষ জনবল ও ব্যবহারকারীদের অবস্থাসহ সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটা প্রশাসনিক বিষয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও সচিব এসব বিষয় দেখভাল করেন। এটি মূলত ইসি সচিবালয়ের কাজ। অপর এক নির্বাচন কমিশনার এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।
ইসির যুগ্মসচিব পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৪ হাজার। এতে ২ লাখ ২০ হাজার ভোটকক্ষ ধরা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একটি ও প্রতিটি কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষের অতিরিক্ত একটি ইভিএম রাখার নিয়ম। এ হিসাব অনুযায়ী, পুরো নির্বাচনে ২ লাখ ৬৪ হাজার ইউনিট ইভিএম দরকার হবে। কিন্তু ইসির হাতে এত ইভিএম নেই। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এবং নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে আগামী সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে এ ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
এ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে কমিশন প্রথমে ২ হাজার ৫৩৫টি ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তার মধ্যে ৩৮০টি এসে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হল।
তবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন না করে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা সঠিক হবে না বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন। তিনি বলেন, ইভিএমে কারচুপি হবে না এমন বিশ্বাস অর্জন করতে হবে, মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে। তাদের এ মেশিন ব্যবহারের উপকারিতা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। তারপরই ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, শুধু মেশিন কিনলেই হবে না, দক্ষ জনবল ও জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।
জানা গেছে, ইসির এ প্রকল্পে ৬টি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। এতে দেড় লাখ ইভিএম মেশিন ক্রয়, ভোটারদের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এসব মেশিন বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে বলেও প্রকল্পের ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ৫ বছর মেয়াদে (জুলাই ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের জুন) বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য- দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ফল প্রকাশ ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আস্থা ফেরানো।
জানা গেছে, কমিশনের ২২তম সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত একটি প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর ইসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা তাদের জবাবে জানায়, গত জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ, ১১টি সিটি কর্পোরেশন, ৩২৩টি পৌরসভা ও ৪ হাজার ৫৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য ৪৪ হাজার ভোট কেন্দ্রে ২ লাখ ২০ হাজার ভোটকক্ষ থাকবে। এতে ২ লাখ ৬৪ হাজার ইউনিট ইভিএম প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১১টি সিটি কর্পোরেশনে সম্ভাব্য ৫ হাজার কেন্দ্রে ৩০ হাজার ভোটকক্ষে ৩৫ হাজার ইভিএমের প্রয়োজন হবে। ৩২৩টি পৌরসভায় সম্ভাব্য চার হাজার কেন্দ্রের ২৪ হাজার ভোটকক্ষে ২৮ হাজার এবং ৪ হাজার ৫৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ৪৫ হাজার ৫০০ কেন্দ্রের ২ লাখ ৭৩ হাজার কক্ষে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ ইভিএম প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতি ইউনিট ইভিএমের দর প্রথমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। সর্বশেষ কমিশন যে ১৯০ সেট ইভিএম সংগ্রহ করেছে তার দর পড়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৫ টাকা। যদিও প্রকল্পে প্রস্তাবিত ইভিএমের দর ড. হুদা কমিশনের কেনা ইভিএমের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
এর আগে ড. শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রথমবার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে। প্রথম পর্যায়ে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১১ হাজার ৫৫৬ টাকা দরে ১৩০ ইউনিট ইভিএম সংগ্রহ করে ওই কমিশন। দ্বিতীয় ধাপে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩২ হাজার ৫৪৭ টাকা দরে ৪০০টি ও তৃতীয় পর্যায়ে মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) থেকে ৪৬ হাজার ৫০১ টাকা দরে ৭০০টি সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৩০ ইউনিট কিনেছিল ড. হুদা কমিশন।
২০১৩ সালে রাজশাহী সিটিসহ কয়েকটি নির্বাচনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইভিএমে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিগত কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর ইভিএমে প্রযুক্তিগত ব্যাপক উন্নতি এনেছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে কেনা ইভিএম ২০১৯ সালের শুরুতে অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাস পরই ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। আর সব পক্ষ একমত হলে জাতীয় নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করা হতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কমিশনের রয়েছে। এ কারণে ইসি সচিবালয় প্রকল্প তৈরি করে তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে।
ইভিএম পরিচালনা খাতে ব্যয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা : ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিশনের সময়ে রংপুর, খুলনা, গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং কক্সবাজার পৌরসভার কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইভিএম পরিচালনা খাতে ব্যয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোটে একটি কেন্দ্রের জন্য ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং খুলনার দুটি কেন্দ্রের ভোট পরিচালনায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সিলেট সিটির দুটি কেন্দ্রের জন্য ৪ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা, বরিশালের ১১টি কেন্দ্রের জন্য ১৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা, রাজশাহীর দুটি কেন্দ্রের জন্য ৪ লাখ ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

এর মধ্যে বরিশাল সিটিতে একটি কেন্দ্রের ইভিএম অকার্যকর ছিল। সেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়। পরিচালনা খাতে ইভিএম সেটসহ আনুষঙ্গিক মালামাল পরিবহন, টিমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ভাতা, গাড়ি ভাড়া, ডেকোরেটর সামগ্রী ভাড়া, স্ক্রিনসহ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর-শব্দযন্ত্র ভাড়া, মাইকিংসহ বিভিন্ন খাতে এ টাকা ব্যয় হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ শুরু হচ্ছে এলএনজি সরবরাহ

দেশের খবর: আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হচ্ছে আজ। এর মধ্য দিয়ে দেশে এলএনজির যুগও শুরু হল। তীব্র গ্যাস-সংকটের সমাধানে এ গ্যাস দেশবাসী ও শিল্প কারখানা মালিকদের আশার কথা শোনাবে।
শুক্রবার (১৭ আগস্ট) জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এক সভায় শনিবার (১৮ আগস্ট) থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়। পাইপ লাইনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথমে শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হবে। তাতে জাতীয় গ্রিড থেকে ওই অঞ্চলে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে দেশের সব অঞ্চলে গ্যাসের চাপ বাড়বে। সরবরাহ ঘাটতিও কমবে।
ইতিমধ্যে এলএনজি আনোয়ারা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনে চাপও তৈরি করেছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির পাইপলাইনগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে কোথাও কোনো ধরনের ছিদ্র আছে কিনা।
সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি পৌঁছে দেয়ার জন্য সব কিছু চূড়ান্ত। আজ সকালে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির পাইপলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করা হবে না। পরে দিনক্ষণ ঠিক করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করা হবে।
প্রতিদিন ২৮৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা। দেশে গ্যাসের চাহিদা এর চেয়ে অনেক বেশি। গ্যাসের অভাবে দেশের শিল্পকারখানা পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছে না। সারা দেশে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগের অনুমতি দিয়েও সংকটের কারণে গ্যাস দিতে পারছে না সরকার। এ সংকট সমাধানে সরকার এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করে।

এলএনজি প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার সকালে টার্মিনালটি থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ১৫ বছরের চুক্তির আওতায় এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করে এ গ্যাস সরবরাহ করবে এক্সিলারেট এনার্জি। এলএনজি আমদানির দায়িত্ব পেট্রোবাংলার। প্রাথমিক অবস্থায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস নেয়া হবে। অক্টোবরের পর নতুন আরেকটি পাইপলাইন বসলে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বৃহত্তর ঐক্যের জন্য বিএনপির সাত দফা

দেশের খবর: ‘তৃতীয় ধারা’র দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে আন্দোলনে নামার লক্ষ্যে সাত দফা খসড়া দাবিনামা প্রণয়ন করেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে ওই দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিন সদস্যের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও নজরুল ইসলাম খান। তবে ‘তৃতীয় ধারা’র প্রবীণ দুই নেতা অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের মধ্যে এখনো সমঝোতা না হওয়ায় ঐক্য প্রক্রিয়া থমকে আছে। বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে প্রস্তুত করা হয়েছে বৃহত্তর ঐক্যের জন্য সাত দফা দাবির খসড়া। এগুলো হলো—এক. নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, দুই. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, তিন. সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, চার. নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, পাঁচ. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা, ছয়. বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা এবং সাত. খালেদা জিয়ার মুক্তি। এসবের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিটিকে ‘দলীয়’ বলে মনে করেন বিএনপির নেতারা। কারণ নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপির সঙ্গে ঐক্যে আগ্রহী বিভিন্ন দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও এ সরকারের আমলে মামলা হয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়ার জন্য অন্য পাঁচটি দফার ব্যাপারে এরই মধ্যে ওই দলগুলোর নেতারা একমত হয়েছেন বলে জানা যায়। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে নেতৃত্ব নিয়ে। বিশেষ করে নির্বাচনে জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বিএনপির জন্য। এ কারণে থমকে আছে বৃহত্তর ঐক্যের প্রক্রিয়া।

এ বিষয়ে বিকল্পধারা সভাপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘কামাল হোসেন কী চান তার জবাব তিনি দেবেন। তবে আমি সুস্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি—সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি, এর কিছুই আমি হতে চাই না। আমি একটিরও প্রার্থী নই। তবে ঐক্যের প্রশ্নে আমরা অবশ্যই ক্ষমতার ভারসাম্য চাই। ভারসাম্য না থাকলে স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয়। যেমন—১৪ দলীয় জোট থাকলেও আওয়ামী লীগ এখন স্বেচ্ছাচারী শাসন চালিয়ে যাচ্ছে।’

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাঁর দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন কোনো দাবি-দাওয়ার মধ্যেই নেই। কত আসন পাওয়া যাবে, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নাকি রাষ্ট্রপতি হবেন এ বিষয়ে তিনি চিন্তাও করেন না। এমনকি নেতা হিসেবে তিনি সামনে থাকতে বা জাহির করতেও পছন্দ করেন না। তবে একটি শুভ পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন।’

ঐক্যের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বি চৌধুরীর আর কামাল হোসেনের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। তবে আমি বিএনপিকে বলেছি তোমরা চুপ করে থাকো। চিৎকার কোরো না। তারা দুজন, দুই দল বা যুক্তফ্রন্ট আলোচনা করে ঠিক করুক কে কী হতে চায়।’

কৌশলগত কারণে বিএনপির নেতারা অবশ্য এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে দলের স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইস্যুভিত্তিক ঐক্য তথা যুগপৎ আন্দোলনের কাছাকাছি পৌঁছার পর হঠাৎ করেই দুই নেতার (বি চৌধুরী ও কামাল হোসেন) মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা অনুভূত হয়েছে বিএনপির কাছে। এ অবস্থায় বিএনপির কিছুই করার নেই। তাঁরা বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই বিএনপি ছাড় দিতে রাজি আছে। এক বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁরা চান না। কিন্তু তাদের মধ্যে ঐক্য বা সমঝোতা না হলে বিএনপি কী করবে সে প্রশ্ন করেন তাঁরা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য দাবি করেন, বৃহত্তর ঐক্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আগ্রহী দলগুলো। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মেরুকরণ বা ঐক্য প্রথমে কিছুটা হোঁচট খায়—এটাই নিয়ম। কিন্তু পরে পরিস্থিতিই তাদের ঐক্যবদ্ধ করে দেয়। সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা গণতন্ত্র রক্ষায় সব দলকে একমঞ্চে এনে দেবে। চাওয়া-পাওয়া সেখানে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’

দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ায় বিএনপির প্রধান দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। কিন্তু এ অবস্থায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে নেতৃস্থানীয় একজনকে অন্তত এক বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হবে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে নির্বাচনের আগেই। কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিএনপিকে সুস্পষ্টভাবে ‘বার্তা’ দিতে হবে বলে দলটির মধ্যে আলোচনা আছে।

সূত্রমতে, এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির সামনে বিকল্প দুটি নাম আছে। এক. সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা সভাপতি ডা. বি চৌধুরী এবং দুই. গণফোরাম সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। প্রথম দিকে বি চৌধুরীকে কেন্দ্র করেই বেশি তৎপর ছিল বিএনপি। মির্জা ফখরুল ও ডা. জাফরুল্লাহর উদ্যোগে অনেকটা অগ্রগতিও হয়েছিল। কিন্তু মাহী বি চৌধুরী দেশে ফেরার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। গত ১ জুলাই মির্জা ফখরুলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি জোট গঠন প্রক্রিয়ার শর্ত হিসেবে ১৫০ আসন দাবি করার পাশাপাশি ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথা বলেন। এ নিয়ে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও পরে নানাভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেন যুক্তফ্রন্টের নেতারা। তাঁরা গত ৬ আগস্ট বিএনপির সঙ্গে একমঞ্চে উঠে বক্তৃতাও করেন। কিন্তু ওই ঘটনার রেশ এখনো রয়ে গেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এদিকে ড. কামাল হোসেন হঠাৎ করেই সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য রেখে লাইমলাইটে আসেন। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর কয়েক দফা বৈঠক হয়। গত ৪ আগস্ট সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়ে আলোচনার শীর্ষে চলে আসেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতার সঙ্গে ড. কামালের ভূমিকার যোগসূত্র থাকার আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সার্বিকভাবে কামাল হোসেনের সাম্প্রতিক ভূমিকায় বিএনপি বেশ খুশি হয় বলে জানা যায়। আবার বিএনপির মনোভাব ও তৎপরতায় সংশয় তৈরি হয় যুক্তফ্রন্টভুক্ত বিকল্পধারা, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মহাসমাবেশ করার বিষয়ে কামাল হোসেনের উদ্যোগকেও সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে যুক্তফ্রন্ট। গত ১৫ আগস্ট বি চৌধুরীর বাসায় অনুষ্ঠিত যুক্তফ্রন্টের বৈঠকে উপস্থিত কয়েক নেতা এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ ওই উদ্যোগের পেছনে বিএনপির হাত আছে কি না সে নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। যদিও বৈঠকে বৃহত্তর ঐক্যের ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত হয়।

ড. কামাল হোসেনের কর্মসূচির বিষয়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম রব বলেন, ‘আপাতত ওই কর্মসূচির বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তারা কর্মসূচি পালন করতে চায় করুক। আমরা যুক্তফ্রন্টের কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ বি চৌধুরী ও কামাল হোসেনকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে মন্তব্য করতে চাই না। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। একত্রে কাজ করতে চাইলে তিনি (কামাল হোসেন) আসবেন, অসুবিধা কী!’

জানা গেছে, বিএনপির প্রস্তাবিত সাত দফা আগ্রহী দলগুলোর মতামতের জন্য পাঠানোর পর ওই দলগুলোর কাছ থেকেও বিকল্প প্রস্তাব নেওয়া হবে। এরপর কমন ইস্যুগুলো একত্রিত করে যুক্ত ইশতেহার বা যৌথ ঘোষণা তৈরি করা হবে। এভাবে প্রথমে একই কর্মসূচিতে যুগপৎ আন্দোলন এবং পরে কঠোর আন্দোলন শুরু হলে দলগুলোর এক মঞ্চে গিয়ে ওঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আগে বিকল্পধারা, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব পালন করছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ আলোচনা করছিলেন গণফোরামের সঙ্গে। আর বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভার ছিল নজরুল ইসলাম খানের ওপর। কিন্তু সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বলা হয়, আলাদাভাবে তিন অংশের সঙ্গে আলোচনায় অনেক সময় তথ্য আদান-প্রদানে শূন্যতা থাকে। তাই সর্বশেষ বৈঠকে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে মাইক্রোবাস চাপায় শফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় ইসমাঈল হোসেন (৪০) আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ আগস্ট) ভোরে রাস্তায় রোড ডিভাইডারের সংস্কার কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শফিকুল শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে এবং আহত ইসমাঈল একই এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ হোসেনের ছেলে।

তেজগাঁও থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় রাতে রোড ডিভাইডার সংস্কারের কাজ করছিল শ্রমিকরা। ভোররাতে একটি দ্রুতগামী মাইক্রোবাস তাদের ওপর তুলে দেয়। এতে দু’জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ইসমাঈল হোসেন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার অবস্থাও আশংকাজনক। মাইক্রোবাসটিকে আটক করা গেলেও চালক পলাতক রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest