সর্বশেষ সংবাদ-
সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল আহততালায় খালে মাছ ধরতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যুদেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুসাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যু

১৭ বছর পর প্রিয়ার খোঁজ নিলেন আসিফ

বিনোদনের খবর: নিজের প্রথম একক অ্যালবামে গানে গানে ২০০১ সালে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর জানতে চেয়েছিলেন ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়?’। ১৭ বছর পর ২০১৮ সালে এসে আবারও গানে গানেই প্রিয়ার খোঁজ নিলেন আসিফ। জানতে চাইলেন কেমন আছে ১৭ বছর আগে জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়া। ‘ও প্রিয়া তুমি কেমন আছো?’ শিরোনামের একটি গান গাইলেন আসিফ।
এই গানটি লিখেছেন স্নেহাশীষ ঘোষ, সুর করেছেন মোহাম্মদ মিলন এবং সংগীতপরিচালনা করেছেন এমএমপি রনি। ইতিমধ্যে গানটির মিউজিক ভিডিওর শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।
ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা। ভিডিওতে মডেল হিসেবে আছেন আসিফ নিজেই, সাথে আছেন সূচনা।শিগগিরই মিউজিক ভিডিওটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডেডলাইন এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে প্রকাশিত হবে।
এ প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, ‘হঠাৎ করেই নতুন এই গানটির পরিকল্পনা করা হয়। গানটি যখন আমি প্রথম শুনি তখনই আমার কাছে মনে হয়েছে ভালো কিছু হতে চলেছে। আমার ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ গানের সূত্র ধরেই এই গান করা। গানটির ব্যাপারে আমি শুধু একটা কথাই বলতে চাই তা হল নতুন এই গান ‘ও প্রিয়া তুমি কেমন আছো’ এতটাই ভালো হয়েছে যে আমার মনে হয় ১৭ বছর আগে প্রকাশিত হওয়া আমার ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ গানটিকে এই গান অসম্মান করবে না। শ্রোতারা ঐ গানের মতো এই গানের মধ্যেও বুঁদ হয়ে যাবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন মন্ত্রীর মেয়ে

অনলাইন ডেস্ক: সারোগেসির মাধ্যমে মা হয়েছেন মুম্বাইয়ের নামজাদা মডেল টলিউড অভিনেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডে। যিনি এখন সিঙ্গেল মাদার। একসময় এ অভিনেত্রী জিতের সঙ্গে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন। দুর্দান্ত প্রতাপে মডেলিংও করেছেন। জিৎ তাকে সুন্দরী নামে ডাকতেন।
গত আগস্টের ৩০ তারিখ পৃথিবীর আলো দেখেছে শ্রেয়া পাণ্ডের মেয়ে। অভিনেত্রী শ্রেয়া তৃণমূল নেতা সাধন পাণ্ডের মেয়ে। সাধন পাণ্ডে বর্তমানে তৃণমূলের পক্ষ থেকে মন্ত্রী।
এ বিষয়ে শ্রেয়া বলেন, ‘আমি বিয়ের বিপক্ষে নই। কিন্তু সোসাইটির জন্য যে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ হয়, সেটাতে বিশ্বাসী নই। যাকে ভালোবাসি না, তাকে বিয়ে করতে পারব না। কালকেই যদি প্রেমে পড়ি, আর মনে করি এটাই বিয়ে করার সঠিক সময়, আমি বিয়ে করব। আর হ্যাঁ, মেয়ের কাছে কোনো দিন কিছু লুকাবো না…।
শ্রেয়া মেয়ের নাম রেখেছেন ‘আদর’। আদরের বিষয়ে শ্রেয়ার মন্ত্রী বাবা জানিয়েছেন, ‘সে তো আমার নিজের, আমার আপন।’ পরিবারে নতুন সদস্য এখন মুম্বাইতে। তবে শীঘ্রই সে আসবে দাদুর বাড়িতে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সকালের নাস্তায় অনিয়মে নানা ধরনের ক্ষতি

স্বাস্থ্য কণিকা: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র তুলকালাম ফেলে দিয়েছে সারা বিশ্বজুড়ে। কিন্তু কেন? কী এমন আছে সেই গবেষণায়? দিনের পর দিন ব্রেকফাস্ট না করলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়, সে সম্পর্কে সবারই জানা ছিল। কিন্তু এই গবেষণায় এমন একটি তথ্য উঠে এসেছে যা বেজায় ভয়ঙ্কর।
পরীক্ষাটি চলাকালে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দিন সকালে কিছু না খেলে হার্টের উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে ধীরে ধীরে হার্টের কর্মক্ষমতা কমে যেতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, এমনটা হওয়ার কারণে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই তো চিকিৎসকেরা ব্রেকফাস্টকে দিনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মিল হিসেবে বিবেচিত করেছেন। কথায় আছে, ‘ইট ব্রেকফাস্ট লাইক এ কিং।’

ব্রেকফাস্ট না করার অভ্যাস থাকলে যে শুধুমাত্র হার্টের কর্মক্ষমতা কমে যেতে শুরু করে, তা নয়। সেই সঙ্গে আরও নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। যেমন-

১. ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে
দীর্ঘ ৬ বছর ধরে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করেন না, তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে যে হারে ডায়াবেটিকদের সংখ্যা বেড়েছে, তাতে সাবধান হওয়ার সময় যে এসে গেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই বন্ধুরা।

২. এনার্জির ঘাটতি হয়
১৪৪ জনের উপর করা ব্রিটিশ গবেষকদের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ঠিক মতো ব্রেকফাস্ট না করলে দিনের শুরুতেই শরীরে এনার্জি ঘাটতি এতটাই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কাজ করার ইচ্ছাই থাকে না। শুধু তাই নয়, যথাযথ পুষ্টি না পাওয়ার কারণে ব্রেন পাওয়ারও কমতে শুরু করে। যার প্রভাবে স্মৃতিশক্তি কমে যায়।

৩. চুল পড়া বেড়ে যায়
ব্রেকফাস্ট না করার অভ্যাস থাকলে শরীরে ক্যারেটিন নামে একটি উপাদানের মাত্রা কমতে শুরু করে। যার প্রভাবে চুল পরা খুব বেড়ে যায়। তাই আপনি যদি না চান কম বয়সেই মাথা ফাঁকা হয়ে যাক, তাহলে নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করা শুরু করুন, দেখবেন উপকার পাবেন।

৪. হজম ক্ষমতা কমে যায়
পেট্রোল বা ডিজেল ছাড়া কি গাড়ি চলবে? না তো! তেমনি ৮-৯ ঘন্টার উপোসের পর যদি ঠিক মতো ব্রেকফাস্ট না করা হয়, তাহলে হজম ক্ষমতার উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেটাবলিজম রেট কমে যেতে শুরু করে। এমনটা হওয়া মাত্র বদ-হজম এবং নানাবিধ পেটের রোগের প্রকোপও চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়। তাই সাবধান হওয়াটা জরুরি!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নেপথ্যে দৈনিক ৪২ লাখ টাকার খেলা

দেশের খবর: রাজধানীতে বিকল্প গণপরিবহনের ব্যবস্থা না করেই হঠাৎ লেগুনা বন্ধ ঘোষণা করার পর পুলিশই আবার চলতে দিচ্ছে যানবাহনটি। ওই ঘোষণার আগে লেগুনার বিকল্প পরিবহন কী হতে পারে তা নিয়ে ডিএমপি অংশীজনদের নিয়ে কোনো বৈঠকও করেনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চাপে কৃতিত্ব দেখাতেই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে লেগুনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল বলে অভিযোগ আছে। তাতে রাজধানীর ১৫৯টি রুটে প্রায় ছয় হাজার লেগুনা চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাতে যাত্রীরা বিপাকে পড়ে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি সামনে এনে ডিএমপি তিন দিন ধরে রাজধানীর শতাধিক রুটে আবার লেগুনা চলতে দিচ্ছে। পুলিশের দাবি, প্রধান সড়ক ছাড়া সংযোগ সড়কে লেগুনা চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলিস্তান, পান্থপথ, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রধান সড়কেও দাপিয়ে লেগুনা চলতে দেখা গেছে।
লেগুনা হঠাৎ বন্ধ করে আবার চালু করার কারণ খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ‘নির্বাচনের আগে ভোট কমে যাবে’—এমন কথা বলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি, পরিবহন নেতা ও পুলিশের চাঁদাবাজি টিকিয়ে রাখতেই মূলত লেগুনা চালু করা হয়েছে। পরিবহন মালিক, চালক, লাইনম্যানসহ বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন হারে প্রতিটি লেগুনা থেকে দিনে চাঁদা তোলা হচ্ছে গড়ে ৭০০ টাকা। বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ২০০ রুটে ছয় হাজার লেগুনা থেকে দিনে চাঁদা তোলা হয়ে থাকে প্রায় ৪২ লাখ টাকা। এই চাঁদা যায় মালিক সমিতি, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতা এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের হাতে। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশকেও দিতে হয় গোপন চাঁদা। এটি মূলত মালিক সমিতির মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে।
চাঁদার বিষয়ে বাংলাদেশ অটোরিকশা অটো টেম্পো পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, ‘পরিবহন ব্যয় পরিচালনার জন্য চাঁদা নেওয়ার রীতি রয়েছে। আমাদের পায়ে পায়ে চলায় দোষ আছে। তাই পুলিশও সুবিধা নেয় বলে অভিযোগ আছে। তবে এই খাতে শৃঙ্খলা আনতে বর্তমান পুলিশ কমিশনার আন্তরিক।’
জানা গেছে, লেগুনা বন্ধ থাকলে চাঁদার উৎসও বন্ধ থাকে। ফলে তা চালু করতে উঠেপড়ে লাগে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বড় একটি অংশ। ওই নেতারা অজুহাত দেখান যে নির্বাচন সামনে রেখে গণপরিবহনের ব্যাপক সংকটের এই সময়ে লেগুনা বন্ধ রাখলে জনদুর্ভোগ তৈরি হবে এবং ভোট কমে যেতে পারে। এই যুক্তি দেখিয়ে তাঁরা লেগুনা আবার চালু করার জন্য চাপ দেন পুলিশ প্রশাসনকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আবার চালু করা হয়েছে লেগুনা।

জানা গেছে, লেগুনা বন্ধ ঘোষণার পর পুলিশ বিকল্প যানবাহন কী হতে পারে তা নিয়েও পথ বের করতে পারেনি। গত ১০ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বৈধ কাগজপত্র আছে এমন লেগুনা সীমিতভাবে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা মালিক ও নেতাদের জানানো হয়।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ অটোরিকশা অটো টেম্পো পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, ‘যেদিন লেগুনা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল সেদিন রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় দুই হাজার চালক ও মালিক উপস্থিত হই। সর্বশেষ আমরা ১০ সেপ্টেম্বর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে বৈঠক করি। ১৫ জন পরিবহন মালিক ও নেতা বৈঠকে ছিলেন। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার ও দুই যুগ্ম কমিশনার বৈঠকে ছিলেন। এর পর থেকে ধীরে ধীরে চালু করা হয় লেগুনা।
পুলিশ ও পরিবহন মালিক সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী-শ্যামলী-মহাখালী, মিরপুর-১-শ্যামলী-মহাখালী, মোহাম্মদপুর-মহাখালী-গুলশান, ফার্মগেট-মানিক মিয়া এভিনিউ-মোহাম্মদপুর এবং ফার্মগেট-মানিক মিয়া এভিনিউ-জিগাতলা রুট ছাড়া অন্যান্য রুটে বৈধ কাগজপত্র আছে—এমন লেগুনা চলাচলে পুলিশের ইঙ্গিত পান মালিকরা।
গতকাল আগারগাঁও বেতার ভবনের সামনে থেকে ৬০ ফুট সড়ক ধরে মিরপুর ২ নম্বর সড়কে চলতে দেখা গেছে লেগুনা। বিকেলে ৬০ ফুট সড়কে মহানগর ডিজিটাল সিটি পরিবহন, ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের লেগুনায় অবিরত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছিল। মহানগর ডিজিটাল সিটি পরিবহনের একটি লেগুনার (ঢাকা মেট্রো-ছ-১১-৩৭২১) চালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিদিন ১৭টি ট্রিপ হচ্ছে। মালিককে দিনে এক হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। এর বাইরে মালিক সমিতিকে দিনে ৪০০ টাকা এবং পাকা মসজিদের কাছে দলের এক নেতাকে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।
জানা যায়, পাকা মসজিদের কাছের ওই নেতার নাম মো. রনি। তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নামে প্রতি লেগুনা থেকে ১০০ টাকা হারে চাঁদা তোলেন।

মহানগর ডিজিটাল সিটি পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তফা জানান, তাঁদের কম্পানির ২০টি লেগুনার রুট পারমিট আছে। এগুলোই চলছে ৬০ ফুট সড়কে। এর বাইরে প্রধান সড়কে কোনো লেগুনা চলছে না। তিনি জানান, ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের লেগুনা প্রধান সড়কে চলাচল করছে। তবে একটু পর দেখা যায়, ডিজিটাল পরিবহনের লেগুনাও আগারগাঁওয়ের প্রধান সড়কে চলছে।
ঢাকা ইন্দিরা পরিবহন লিমিটেড কম্পানির লাইনম্যান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের ২০টি লেগুনা ফার্মগেট থেকে মিরপুরের বড় বাগ পর্যন্ত চলছে। কেন চলছে সেটা আমি বলতে পারব না। কম্পানির লোকেরা বলতে পারবে।’
৬০ ফুট সড়কের আগারগাঁও রেডিও সেন্টারের কাছের মোড় থেকে ঢাকা ইন্দিরা পরিবহন লিমিটেডের একটি লেগুনায় (ঢাকা মেট্রো-ছ-১১-৩৮৭৫) ফার্মগেটের দিকে যেতে যেতে চালক মো. শাহীন বললেন, ‘দুই দিন হলো রাস্তায় লেগুনা চালাচ্ছি। লাইসেন্স আছে। রেডিও সেন্টার থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকা। আগে ৬৫টি লেগুনা এই রুটে চলত। এখন চলছে ২০টি। আমার পরিচিত একজন মালিক তাঁর লেগুনা বন্ধ ঘোষণার আগে বেচতে চেয়েছিলেন। দাম উঠেছিল দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। এখন দাম উঠছে ৯০ হাজার টাকা।’ শাহীন জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ৭০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এর মধ্যে ফার্মগেটে ৬০০ টাকা এবং পাকা মসজিদের কাছে এক নেতার নামে ১০০ টাকা দিতে হয়। ৬০০ টাকা দিতে হয় মালিক সমিতির নামে।
এ বিষয়ে ঢাকা ইন্দিরা পরিবহন লিমিটেড কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন চুন্নু বলেন, ‘আমরা চাঁদা তুলি না। যা তুলি তা পরিবহন পরিচালনা ব্যয়।’
ফার্মগেট থেকে নিউ মার্কেট রুটে চলাচল করতে দেখা যায় একের পর এক লেগুনা। এই রুটে আনন্দ পরিবহনের লেগুনা আগে চলত ৫০টি, এখন চলছে ২০টি। আনন্দ পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি মো. নুরুল হক লেগুনার চলাচল দেখতে দেখতেই বলেন, ‘লেগুনা বন্ধ ঘোষণার পর আমরা গত রবিবারের আগের রবিবার ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত ও যুগ্ম কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে আমরা বলেছি, লেগুনা নছিমন ও করিমনের মতো বিপজ্জনক নয়। এগুলোর রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদ বিআরটিএ থেকে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর আমাদের বলা হয়েছে, বৈধ কাগজপত্র আছে—এমন লেগুনা সংযোগ সড়কে বা ফিডার সড়কে চলতে পারবে। এর পর থেকে আমরা লেগুনা রাস্তায় নামিয়েছি।’
নুরুল হক আরো বলেন, ‘পুলিশকে লাইন চালুর জন্য কোনো অর্থ দেওয়া হয় কি না তা দেখার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি করা হবে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা আমাদের বলেছেন।’
ফার্মগেটে লেগুনার স্ট্যান্ডে ওই কম্পানির একাধিক চালক জানান, প্রতিদিন তাঁদের মালিক সমিতি ও রাস্তার খরচ দিতে হয় ৭০০ টাকা। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন মো. নুরুল হক। তিনি জানান, তাঁর নিজের দুটি লেগুনা আছে। এই কম্পানির ফার্মগেট অংশের সুপারভাইজার মো. জালাল বলেন, ফার্মগেট থেকে নিউ মার্কেট রুটের দূরত্ব চার কিলোমিটারের মধ্যে শুধু পান্থপথ মোড় অংশ পড়েছে প্রধান সড়কে। বেশির ভাগই অপ্রধান সড়ক।

ইন্দিরা পরিবহন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন চুন্নু বলেন, ‘আমরা এ ধরনের চাঁদা দিতে চাই না। এ জন্য অতীতে বারবার প্রতিবাদ করেছি। মহাখালীতে এই চাঁদাবাজি হয় গাড়ি চললেই।’ পাকা মসজিদের কাছে ১০০ টাকা চাঁদা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে তো তা বন্ধ করেছিলাম। এখন নতুন করে নিচ্ছে কি না খোঁজ নেব।’

মহাসড়কে লেগুনা চলাচলে প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় গত ২৭ আগস্ট সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় লেগুনা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপি রাজধানীতেও লেগুনা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় লেগুনা চালু করতেই হতো। কারণ বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। বাসসংকট তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন রুটে লেগুনা ভরসা হয়ে উঠেছে যাত্রীদের। দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘অংশীজনদের মতামত না নিয়ে এভাবে হুট করে আগেও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তা বেশিদিন টেকেনি। এবারও টিকল না।’

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সালেহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকায় বড় বাস নামাতে হবে। এ জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই বছর সময় লাগবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে। ফলে এই দুই বছর লেগুনার ওপর ভরসা আরো বাড়বে। তবে আগামী বছর ডিসেম্বরে উত্তরা-আগারগাঁও রুটে মেট্রো রেল চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই স্থানে চার দফায় চাঁদাবাজি : একই সংগঠনের নামে মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে একেকটি লেগুনা থেকে দিনে চার দফায় ৬০ টাকা করে ২৪০ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ আছে। লেগুনাচালকরা জানান, ঢাকা জেলা হালকা যানবাহন সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের (ঢাকা- ২১২৪) বনানী, তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল ও কাফরুল থানা কমিটির নামে এই চাঁদা নেওয়া হয়। ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান গত রাতে ফোনে বলেন, ‘আমাদের সংগঠন কোনো অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নয়। আমাদের সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে দিনে ২০ টাকা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ জন্য ছাপানো রসিদও আছে। কিন্তু মহাখালীতে যে চাঁদাবাজি হচ্ছে তা আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তাহলে আমরা বিষয়টির তদন্ত করে দেখতাম।’
জানা গেছে, গাবতলী, সিপাহীবাগ, গুলিস্তান, জিগাতলা, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এভাবে বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদা তোলা হয়।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমশিনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ গত রাতে বলেন, ‘আমরা প্রধান সড়কে লেগুনা চালাতে বারণ করেছি।’ লেগুনায় চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু অনিয়ম তো আছে। ধীরে ধীরে তা নিয়মে আনতে হবে। আমাদের নিয়মিত তদারকি আছে।’

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে ঢাকা থেকে তিন চাকার ৪০ হাজার অটো টেম্পো তুলে দিয়ে বিকল্প হিসেবে নামানো হয়েছিল কমসংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনা। বিআরটিএর গত জুলাই মাসের পরিসংখ্যান অনুসারে, বর্তমানে নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা আছে প্রায় ১৩ হাজার। এগুলোর আয়ুও শেষ হয়ে গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিলিপাইনে ভয়াবহ টাইফুনে নিহত ১৪

বিদেশের খবর: ফিলিপাইনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সুপার টাইফুন ‘ম্যাংখুত’। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। বিবিসি, আলজাজিরা, দ্য ইনকোয়ারার।
মধ্যরাতের পর চীনের উপকূলীয় লুজন দ্বীপে টাইফুন ম্যাংখুতের আঘাতে অনেক গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে, বহু ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যায় এবং অনেক এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এটিকে চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে কেবল উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে। তবে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় জানিয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এটি চীনের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন নৌ-বাহিনীর যৌথ ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা বিষয়ক কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ঝড়টি ঘণ্টায় ২০৫ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস নিয়ে এগুচ্ছে। পাশাপাশি বাতাসের ঝাপটা সৃষ্টি করছে ঘণ্টায় ২৫৫ কিলোমিটার গতিবেগে। পরবর্তীতে ঘণ্টা প্রতি বাতাসের গতি ২৬৮ ও বাতাসের ঝাপটার গতি ৩২৪ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে।সরকারি আবহাওয়াবিদ রেনে প্যাসিয়েন্তে জানিয়েছেন, ঝড়টি এখন গাড়ি উড়িয়ে নিতে পারে। আপনি দাড়িয়ে থাকতে পারবেন না, এমনকি হামাগুড়ি দিয়েও বাতাসের বিরুদ্ধে যেতে পারবেন না। উল্লেখ্য, ফিলিপাইনে প্রতি বছর গড়ে ২০টি টাইফুন আঘাত হানে। এতে শত শত লোক প্রাণ হারায় এবং লাখ লাখ লোক গৃহহীন হয়ে পড়ে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আ. লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে ডা. রুহুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হলেন সাতক্ষীরা-০৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. আ ফ ম রুহুল হক।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আ. লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দলটির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামকে। এই কমিটির সদস্য সচিব দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি।
সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি এই কমিটির ১৮তম সদস্য। কমিটিতে তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমুসহ

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডিসি, এসপি ও ইউএনও পদে বড় ধরনের রদবদল আসছে

দেশের খবর: জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশা-সনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে রদবদলের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারে কাজ চলছে। এই রদবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন। সূত্র বলছে, রদবদলের প্রক্রিয়ায় মূলত আগামী নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত মাঠ প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত থাকেন সেসব কর্মকর্তার পদে ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতি) হারুন অর রশিদ বলেন, রদবদল পরিকল্পনা আছে। তবে এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে আছেন, বদলির সময় হয়েছে বা কেউ যদি এলাকায় বিতর্কিত হয়ে পড়েন, এমন কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে রদবদল করা হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গত, অতীতেও সব নির্বাচনের আগে, সব সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিছুু পদে রদবদল করা হয়েছে।

জানা গেছে, ৪৯৫টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ইতোমধ্যে যাচাই বাছাই করা হয়েছে। কিছু কিছু ওসির জীবন বৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকদের বিষয়টিও বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কিছু কর্মকর্তা প্রত্যাহার ও কিছু নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ পরিকল্পার বিপক্ষেও মতামত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন নির্বাচনের মাত্র দুই মাস বাকি থাকতে এমন করা হলে নতুন কারো পক্ষে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরিবেশ বুঝে কাজ করা কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি রদবদলের প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্থিরতাও তৈরি হতে পারে।

অবশ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মাঠ পর্যায়ে কিছু কর্মকর্তার পদে রদবদল হবে। সেটি কবে নাগাদ শুরু হবে বা কাদেরকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া বা প্রত্যাহার করা হবে সেটি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বর্তমান সংসদের অনেক এমপি যারা আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন এমন কেউ কেউ ইউএনও-ওসি বদলের চেষ্টায় বেশ তত্পর রয়েছেন। অনেক এমপিকে ফোনে বা সশরীরে এসে তদ্বির করতেও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ না করে কারো কথায় কিছু এখন পর্যন্ত করেনি, করবে বলে আশ্বাসও দিচ্ছে না। অনেকটাই পেশাদারিত্ব দেখিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তা প্রমাণিত না হলে কারো কথায় বা সুপারিশে কাউকে পদায়ন ও বদলি করা হবে না। তবে যেসব সুপারিশ আসছে সেগুলো নিজেদের মতো করে তারা পর্যালোচনা করছেন। নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার আশায় কোনো সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে যেসব কর্মকর্তা অতিমাত্রায় অপ্রয়োজনে দলীয় কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের বিষয়টি শৃঙ্খলাভঙের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা হবে।

সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন যদি কোনো কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয় সেক্ষেত্রে যাতে তাত্ক্ষণিকভাবে ওই আদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সেজন্য উপযুক্ত কর্মকর্তার তালিকাও প্রস্তুত করে রাখার কাজ চলছে। পাশাপাশি নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পর্যবেক্ষণ টিমের কর্মকর্তাদের তালিকাও প্রণয়নের কাজ চলছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, সংবিধান অনুযায়ী ইসি যে কোনো কর্মকর্তার প্রত্যাহার চাইতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারের জন্য সে আদেশ পালনের আবশ্যকতা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ

খেলার খবর: ফাইনালের একদিন আগে সংবাদ সম্মেলনেই মালদ্বীপের কোচ পিটার সেগার্ট বলেছিলেন, ‘ফাইনালে একটি সেনসেশন অপেক্ষা করছে।’ সত্যিই তার দল সেনসেশনটা দেখিয়ে দিল। দক্ষিণ এশিয়ার ফটুবল পরাশক্তি হয়ে উঠা ভারতের দম্ভ চূর্ণ করে দিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে মালদ্বীপ।

আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে এক দশক পর সাফের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করল তারা। প্রথমবার তারা সাফের শিরোপা জয় করেছিল ২০০৮ সালে। সেবারও ফাইনালে এই ভারতকেই পরাজিত করেছিল ১-০ গোলে।

সাফের শুরুতে মালদ্বীপের পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। তাদের পারফর্ম্যান্স দেখে হতাশ ছিলেন খোদ সমর্থকরাই। কেউ বিশ্বাসই করেননি মালদ্বীপ সাফের ফাইনাল খেলবে। কারণ গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল। এরপর ভারতের কাছেই ২-০ গোলে হারের লজ্জা পেতে হয় তাদেল। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান সমান হওয়ায় টস ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে শেষ চারে নাম লেখায় তারা। এমন দল নিয়ে কে বাজি ধরতে চায়?

অথচ সেই দলটিই কি না সেমি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঠিকই জ্বলে উঠল। নিজেদের খোলস থেকে বেরিয়ে শিরোপা প্রত্যাশী নেপালকে ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালের মহারণে নাম লেখায় মালদ্বীপ। আর শিরোপার মহামঞ্চে অতি আত্মবিশ্বাসী ভারতকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ঠিকই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে তারা।

শুরুতে কোনো দলকেই দেখা যায়নি উল্লেখ করার মতো আক্রমণ রচনা করতে। ম্যাচটি ফাইনাল বিধায় হয়তো উভয় দলই কিছুটা সময় নিয়েছে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে একে অপরের অবস্থান বুঝে নেয়ার জন্য। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে প্রথম আক্রমণেই সফল হয় মালদ্বীপ। বাম প্রান্ত দিয়ে হাসান নিয়াজের বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে ডি বক্সে গিয়ে ভারতীয় গোলকিপার বিশাল কাইতের মাথার উপর দিয়ে আলত টোকা দিয়ে বল জালে জড়ান মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড মাহুদি হাসান।

তিন মিনিট পর ফের আক্রমণে যায় মালদ্বীপ। তবে এবার সতর্ক ভারতীয় ডিফেন্ডাররা বেশ দক্ষতার সঙ্গেই প্রতিহত করে মালদ্বীপের সংঘবদ্ধ আক্রমণটি। ২ মিনিট পর ডি বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রী কিক থেকে মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড আলী ফাসির চমৎকার বাঁকানো শট নিলেও বলটি অল্পের জন্য ক্রস বার ঘেষে বাইরে চলে যায়। এরপর আবারো মধ্যমাঠে চলে যায় খেলা। ভারত গোল পরিশোধের জন্য এ সময় বেশ কয়েকটি কর্নার আদায় করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে মালদ্বীপের অধিনায়ক আকরাম আবদুল ঘানি গুরুতর আহত হওযায় তাকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে পরিবর্তিত হিসেবে নামানো হয় আহমেদ নোমানকে। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে বিপজ্জনক ফাউলের কারণে বরং হলুদ কার্ড দেখতে হয় ভারতীয় অধিনায়ক সুবাশিষ বোসকে।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। শুরুতেই আক্রমণে যায় তারা। তবে এসব আক্রমণগুল ছিল বিচ্ছিন্ন। পরিকল্পনার কোন ছাপ ছিলনা আক্রমণে। ফলে গোলও আসেনি।

একপর্যায়ে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টায় অল আউট খেলতে শুরু করে ভারত। আর ওই সুযোগে প্রতি আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুনে নিয়ে যায় মালদ্বীপ। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে মধ্য মাঠ থেকে হামজাদ মোহাম্মেদের বাড়িয়ে দেয়া বল ফাঁকায় পেয়ে ক্ষিপ্র গতিতে সেটি নিয়ে ভারতীয় গোল বক্সে ঢুকে পড়েন আলি ফাসির। এসময় ভারতীয় গোল কিপার এগিয়ে এলে কিছুটা আড়াআড়ি ভাবে চলন্ত বলে মাটি কামড়ানো শটে এগিয়ে দেন তিনি। বলের গতির সঙ্গে দৌঁড়ে সেটি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন ডিফেন্ডার শার্থাক গুলুই। কিন্তু এর আগেই ঠিকানা খুঁজে নেয় বল। এ সময় আগ্রাসী উদযাপনের জন্য হলদু কার্ড দেখতে হয় মালদ্বীপের ওই ফরোয়ার্ডকে।

ম্যাচের ইনজুরি টাইমে (৯০+২) সুমিত পাসির গোলে ব্যবধান কমায় ভারত। বাম প্রান্ত থেকে নিখিলের ক্রসের বলটি একেবারেই মালদ্বীপের গোলপোস্টের সামনে পেয়ে আলতো শটে গোল করেন পাসি (২-১)। এতে ব্যবধান কমলেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest