১০ বছরের শিশুকে মধ্যযুগীয় নির্যাতন, লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে

দেশের খবর: ১০ বছরের শিশু রোকসানা। নড়াইল সদর হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছে নিস্তেজ। ওইটুকু মেয়ের সারা শরীরে আঘাতের কালশিটে দাগ। দীর্ঘদিনের লাগাতার নির্যাতনের চিহ্ন, দগদগে ক্ষতও রয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।

কঙ্কালসার দেহটি হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে লেপ্টে আছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বাতাস, খাদ্যগ্রহণের শক্তিটুকু নিঃশেষ প্রায়। কৃত্তিম উপায়ে চলছে শ্বাসপ্রশ্বাস। ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজে নিয়ে রোকসানা নামের নড়াইলের ১০ বছরের এই শিশুটির ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে। যৌন নিপীড়ন থেকে শুরু করে দীর্ঘ আট মাস ধরে এমন কোনও নির্যাতন নেই যা হয়নি শিশুটির ওপর।

মৃত্যু পথযাত্রী শিশুটি এখন নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন শিশুটির স্বজনরা।

স্বজনরা জানান, আট মাস আগে ঢাকার ওয়ারী এলাকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে শিশু রোকসানাকে গৃহপরিচারিকার কাজে নিয়োগ করেন লোহাগড়া উপজেলার বাহিরপাড়া গ্রামের সালেহা বেগম। রোকসানার পরিবারের দূরাবস্থার কথা ভেবে সালেহা তাকে পূর্ব পরিচিত ওয়ারী এলাকার টিপু সুলতান রোডের আসাদুল্লাহর বাড়িতে রেখে আসেন।

পরিবারের সদস্যরা জানতেন না কার বাড়িতে থাকে রোকসানা। মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা হতো তাদের। আট মাস ওই বাসায় অবস্থানকালে রোকসানার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলে। নির্যাতন ছাড়াও প্রায়ই অনাহারে রাখা হতো তাকে।

একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে রোকসানা। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারটি। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে স্বজনদের খবর দিয়ে ঢাকায় আনা হয়। গত ১৭ আগস্ট রাতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় রোকসানাকে। মরণাপন্ন অবস্থায় তাকে গত ১৯ আগস্ট নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।

শিশু রোকসানার ওপর এই নির্মমতা দেখে কষ্টে বুক ফেটে যায় মায়ের। হাসপাতালে যে-ই শিশুটিকে দেখতে যাচ্ছে তাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছেন মা রত্না বেগম। বলেন, ‘একটু ভালো থাকার জন্য আমার মেয়েরে কোন জল্লাদের কাছে দিয়েছিলাম, আল্লাহ যেন জল্লাদদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়।’

শিশু রোকসানাকে সরবরাহকারী সালেহার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঢাকাস্থ নড়াইলের আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজনকে পাষণ্ড পরিবারটি সম্পর্কে সালেহা তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আমিনুল।

আমিনুলের কাছে সালেহার দেওয়া তথ্যমতে, আসাদুল্লাহর বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার খোলাপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম হাফেজ মোল্লা। বর্তমানে তিনি হজ্ব পালনের উদ্যেশ্যে মক্কায় অবস্থান করছেন। তার স্ত্রী সোনিয়ার গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান এলাকার জৈনসার গ্রামে। বাবার নাম খোরশেদ মোল্লা। ওয়ারীর বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন সোনিয়ার ভাই ইব্রাহিম। মূলত এই তিনজনই নির্যাতন করেছে শিশু রোকসানাকে।

আসাদুল্লাহর স্ত্রী সোনিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নড়াইল সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মুশিউর রহমান বাবু জানান, রোকসানার ওপর যে ভয়াবহ নির্যাতন হয়েছে তার সব আলামতই রয়েছে শিশুটির শরীরে। সে এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন সদর হাসপাতালের এই চিকিৎসক।

এদিকে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত আসাদল্লাহ, তার স্ত্রী সোনিয়া, সোনিয়ার ভাই ইব্রাহিম ও সরবরাহকারী সালেহা বেগমের নাম উল্লেখ করে গত ২২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা রাসেল শেখ।

লোহাগড়া থানার ওসি প্রবীর বিশ্বাস বলেন, ‘ইতিমধ্যে মামলার আসামিদের ঠিকানা ঢাকার ওয়ারী, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এবং সিরাজদীখান থানায় অনুসন্ধান স্লিপ পাঠানো হয়েছে। তারবার্তা ছাড়াও জরুরিভাবে মেইলে তথ্য জানানো হয়েছে।’

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম) বলেন, ‘শিশুটিকে যে ধরনের নির্যাতনের চিত্র পাওয়া গেছে তাতে এই ঘটনা যারাই ঘটাক তাদের কোনও মাফ হবে না। পুলিশ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারের বিচার চান আসিয়ানের ১৩২ এমপি

বিদেশের খবর: মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণসহ বর্বর নিধনযজ্ঞের জন্য দায়ীদের জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে চান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচ দেশের ১৩২ জন আইনপ্রণেতা। এ জন্য তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে দেশটির সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর চাপ বাড়াতে হবে।

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সঙ্কটের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগের দিন শুক্রবার আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের (এপিএইচআর) ওয়েবসাইটে ওই যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর ও পূর্ব তিমুরের আইনপ্রণেতারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন এপিএইচআর সদস্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় দেশটিকে বিচারের মুখোমুখি করার এখতিয়ার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নেই। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদই পারে আইসিসির মাধ্যমে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরুর ব্যবস্থা করতে।

এপিএইচআরের বর্তমান চেয়ার মালয়েশিয়ার আইনপ্রণেতা চার্লস সান্তিয়াগো বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে হত্যাযজ্ঞ শুরু করার পর এক বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু ওই ঘটনায় দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার কোনো লক্ষণ আমরা এখন পর্যন্ত দেখিনি।’

‘মিয়ানমার যেহেতু বিষয়টির তদন্ত করতে অনিচ্ছুক এবং অপারগতা প্রকাশ করছে, তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই এ ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারে যারাই ওই ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের ছেড়ে দিয়ে ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের বর্বরতা ঘটানোর সুযোগ আমরা দিতে পারি না।’

আসিয়ানের ১৩১ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মিয়ানমারের অপরাধের বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব আইসিসিতে পাঠাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিদাতা আইনপ্রণেতারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানকেও এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এছাড়া আসিয়ানের সদস্য দেশ ইন্দোনেশিয়া আগামী বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যোগ দিচ্ছে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে।

ইন্দোনেশিয়া এবং আসিয়ান যাতে মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে- সে আহ্বানও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

এছাড়া বিবৃতিদাতা এমপিরা জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংগি লি যাতে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্ত করার সুযোগ পান, সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও চেয়েছেন।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বৃহদাকারে দমন-পীড়ন শুরু করে। তারা নির্বিচারে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও পুরুষদের হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। আর প্রাণে বাঁচতে এ পর্যন্ত আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা মিয়ানমারের বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলে আসছে, তাদের লড়াই ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে, কোনো জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে নয়।

সম্প্রতি দেশটির ডি-ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি সিঙ্গাপুরে এক বক্তৃতাকালে রোহিঙ্গা ফেরানোর দায় বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে বলেন, তার দেশ শুধু ‘পালিয়ে যাওয়াদের’ গ্রহণ করতে পারে। তাদের ফেরানোর দায়িত্ব বাংলাদেশের।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের স্কীকার করে না। এমনকি দেশটির কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। সু চি তার বক্তৃতায় রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি। দেশটি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী বলে স্বীকারই করে না। যদিও সু চির পিতা জেনারেল অং সানের সরকারে চারজনে রোহিঙ্গা মন্ত্রী আরাকান তথা রাখাইনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

১৩২ এমপির বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মিয়ানমারে সুবিচারের অভাব কেবল রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নয়, দেশটির কাচিন ও শান প্রদেশে অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপরও প্রভাব ফেলছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের কারণে এ প্রদেশগুলিতেও হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৬ যাত্রী নিহত

দেশের খবর: ফেনীতে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসচাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও চার পুরুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ফেনী সদর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক রাশেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, লেমুয়া এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সংযোগ সড়ক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠে এলে বিপরীত দিক থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ৬ যাত্রী নিহত হন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চামড়া পাচার রোধে সাতক্ষীরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি

আসাদুজ্জামান: চামড়া পাচার প্রতিরোধে সাতক্ষীরার ২৩৮ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃখংলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঈদুল আযহার পরে কোন চোরাকারবারী যাতে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে কোন পশুর চামড়া পাচার করতে না পারে সে জন্য সীমান্তে এই কঠোর নজরদারী করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত জুড়ে রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী।
ট্যানারী মালিকদের নির্ধারন করা মূল্যে পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে কোন চোরাচালানী যাতে প্রতিবেশী দেশ ভারতে চামড়া পাচার করতে না পারে সে জন্য এই টহল জোরদার করা হয়েছে। কোরবানির পর চোরাকারবারীরা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচুর পরিমাণ পশুর চামড়া অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে পাচার করে থাকে। এ জন্য চামড়া পাচার রোধে বিজিবির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ন স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট বসানোসহ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করেছেন পুলিশ প্রশাসন।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ল লেঃ কর্লেল সরকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চামড়া আমাদের একটি জাতীয় সম্পদ তাই সাতক্ষীরায় সীমান্ত দিয়ে যাতে কোন চোরাচালানী ভারতে চামড়াসহ কোন ধরনের চোরাচালানী পন্য পাচার না করতে পারে সেজন্য সমগ্র সীমান্ত এলাকাজুড়ে বিজিবি বিশেষ সতর্কাবস্থাসহ গোয়েন্দা নজরদারীতে রয়েছে। তিনি আরো জানান, সীমান্ত দিয়ে যে কোনো ধরনের পাচার ও জঙ্গি-সন্ত্রাস প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে যাাতে কোন চোরাচালানী পরিবহন যোগে চামড়া সীমান্ত এলাকায় নিয়ে পাচার করতে না পারে সেজন্য পুলিশের কঠোর নজরদারী রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যশোরের কেশবপুরে ছেলের হাতে বাবা খুন

মোঃ রাসেল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে ছেলের লাঠির আঘাতে রেজাউল করিম (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে রুহুল আমীনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা শহরের সাহাপাড়া সংলগ্ন উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। রেজাউল পেশায় কাঠমিস্ত্রি। কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, সকালে পারিবারিক কোন্দলের জের ধরে বাবা রেজাউল করিমের সঙ্গে ছেলে রুহুল আমীনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছেলে লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা

দেশের খবর: আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’র (আরসা) হামলার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।
মিয়ানমারের অনলাইন ইরাবতীর সূত্র মতে, নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বরাবর বসিয়েছে ১৬০টিরও বেশি পুলিশ আউটপোস্ট।
পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল অং মাইয়াত মোই বলেছেন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মতে, আরসার সন্ত্রাসীরা দলে লোক জড়ো করেছে। তারা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও খাদ্য জমা করেছে। সীমান্তের কাছে ওই সব লোককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আরেকটি দেশে শরণার্থী শিবির রয়েছে। সেখানে শরণার্থীর বেশ ধরে অবস্থান করছে সন্ত্রাসীরা। আমরা জানতে পেরেছি প্রচুর পরিমাণের বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক জব্দ করা হয়েছে সেখানে। সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রচুর মানুষকে সেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই মংডু ও বুথিডাং শহর এলাকায় সার্বক্ষণিকভাবে টহল দিচ্ছে পুলিশ। তারা ক্রিমিনাল রেকর্ড ধরে অপরাধীদের দিকে দৃষ্টি রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ শে আগস্ট মংডু, বুথিডাং ও রাথেডাংয়ে ৩০টি পুলিশ আউটপোস্টে হামলা চালায় আরসা। আর এর জের ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর চালায় নৃশংস নির্যাতন। ওই হামলার প্রথম বার্ষিকী ২৫ শে আগস্ট শুক্রবার। আরসার ওই হামলায় এক ডজনেরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী ও সরকারি কর্মচারী নিহত হন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনি শ্রীউলায় সরকারের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়

তোষিকে কাইফু: আজ শুক্রবার সকালে শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালা মোড় মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে সরকারের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা ও মত বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মত-বিনিময় সভায় বর্তমান সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন চিত্র নেতা-কর্মীদের মাঝে তুলে ধরেন বক্তারা।বিশেষ করে ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,নলতায় প্যারা-মেডিকেল কলেজ,সাতক্ষীরা বাইপাস,আশাশুনি বাইপাস সড়ক, কালিগঞ্জ ও দরগাহপুরে ২ টি মা ও শিশু হাসপাতাল,মানিকখালী ব্রীজ, বড়দল ব্রীজ, তেতুলিয়া ব্রীজ, শোভনালী ব্রীজ, বাশতলা ব্রীজ, শোভনালী ব্রীজ, প্রায় অর্ধ-শতাধিক কাম সাইক্লোন সেল্টার,ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ,প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা-করণ সহ অসংস্য উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে।আর এই উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্ভব হয়েছে একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে বলে।

উন্নয়নের মহা-সড়কে এগিয়ে নিতে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে পুনারায় জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে বক্তারা আহ্বান জানান।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আমীর হোসেন জোয়ার্দ্দারে সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রীউলা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ সরদার,শিক্ষক নেতা আরশাদ আলী মোড়ল,শিক্ষক নেতা লুৎফর রহমান,৬ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হরিচরণ সরকার ও ৭ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আশুতোশ মন্ডল সহ প্রমুখ ।

এছাড়া আরোও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামীদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী,বীর মুক্তিযোদ্ধা রুলামিন,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাষ্টার পলাশ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক, ফটো সাংবাদিক ও এমপি এ্যাম্বেসেড়র তোষিকে কাইফু, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম,বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের ইউনিয়ন সভাপতি আলাউদ্দীন লাকি,
ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি আবু হোসেন,সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সহ অর্ধ-শতাধিক স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের যত খেলা

খেলার খবর: আগামী বছরের ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ডের মাটিতে পর্দা উঠবে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯ আসরের। বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য কমপক্ষে পাঁচটি সিরিজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে মাশরাফি মুর্তজা-সাকিব আল হাসানরা। যার মধ্যে তিনটি বিদেশের মাটিতে ও দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ঘরের মাঠে খেলবে টাইগাররা।

২০১৯ বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও এশিয়া কাপে বাংলাদেশের খেলার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছাড়াও যেখানে একাধিক টি-টোয়েন্টি ছাড়াও থাকছে টেস্ট ম্যাচ। এখনো পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিযোগিতায় খেলা চূড়ান্ত হলেও সময় গড়ানোর সাথে তা বাড়ার সম্ভাবনাও থাকছে।

আসছে সেপ্টেম্বরে আরব আমিরাতে বসতে যাচ্ছে এশিয়া কাপের ১৪তম আসর। যেখানে কম করে হলেও গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচে খেলবে টাইগাররা। গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারলে প্রতিযোগিতাতে ম্যাচ সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে মাশরাফিদের।

এশিয়া কাপ শেষে দেশে ফিরে ঘরের মাঠে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট ম্যাচে লড়বে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এরপর আবারও ঘরের মাটিতে উইন্ডিজকে আতিথেয়তা দিবে স্বাগতিকরা। যেখানে তিন ওয়ানডে ছাড়াও দুই টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে লড়বে মাশরাফি-সাকিবরা।

ঘরের মাঠে উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করে নতুন বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড উড়াল দিবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই সফরে স্বাগতিক কিউইদের বিপক্ষে তিন ওয়ানডের পর সাদা পোশাকেও তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে লড়াই করবে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

এরপর আবারও বিদেশের মাটিতে সিরিজ খেলতে রওনা হবে টাইগাররা। এই সফরে আইরিশদের বিপক্ষে কমপক্ষে চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে সফরকারীরা। দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই আয়োজন করা হবে সিরিজটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest