সরকারকে সামাজিক চাপে রাখার কৌশলে বিএনপি

দেশের খবর: দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে সরকারকে চাপে রাখা কৌশল থেকে কিছুটা সরে এসেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, প্রথমদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিল। তখন আন্দোলনে সাধারণ মানুষেরও সমর্থন ছিল। তবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা বেড়ে যাওয়ায় আন্দোলনে কিছুটা ভাটা পড়ে। ফলে এখন সরকারকে চাপে রাখতে মাঠের আন্দোলনের চাইতে কূটনৈতিক ও সামাজিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বেশি। এর অংশ হিসেব কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং সংবাদ সম্মেলনে করে সরকারের বিভিন্ন ‘অনিয়ম ও নিপীড়নের’ চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।
গত ৮ আগস্ট খালেদা জিয়ার কারাবাসের ৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে মানবন্ধন, প্রতীকী অনশন, স্মারকলিপি প্রদান, প্রতিবাদ সমাবেশসহ বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। কিন্তু গত ২ মাসে আন্দোলন কর্মসূচিতে অনীহা দেখা যায় দলটির। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই তার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। আন্দোলন অংশ হিসেবে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশ নেওয়া কর্মসূচি কিছুটা কম ছিল। কারণ নেতারা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এরপর নির্বাচনের সরকারের অনিয়মের প্রতিবাদে একদিনের কর্মসূচিও ছিল। এখন আবারও কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সরাসরি গণমানুষের কোনও আন্দোলন নয়। এটা প্রকৃতপক্ষে বিএনপির একার আন্দোলন এবং দলের নেতাকর্মীদের তা করতে হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জনগণের যে রকম সমর্থন পাওয়া গেছে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেই রকম পাওয়া যায়নি। ফলে বিএনপিকে সরকারকে চাপে রাখার কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এরমধ্যে গত ৭ আগস্টও কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বৈঠক করে খালেদা জিয়ার জামিনে সরকারের হস্তক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সামাজিকভাবে সরকারেকে চাপে রাখতে সরকার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কথা বলছেন দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা। তবে আগামী দিনে আন্দোলনের পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে দলের হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই পাশাপাশি আন্দোলনও করা হচ্ছে। এছাড়াও সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কূটনীতিকদের বিফ্র করে থাকি। তারই অংশ হিসেবে ৭ আগস্ট বৈঠক করেছি কূটনীতিকদের সঙ্গে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, চলতি মাসে আর বড় ধরনের কোনও আন্দোলন করার পরিকল্প নেই দলের। তাই এখন কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং সংবাদ সম্মেলনে করে সরকারের বিভিন্ন অনিয়মগুলো তুলে ধরবে বিএনপি। যাতে করে সরকারকে কূটনৈতিক ও সামাজিক চাপে রাখা যায়।
এদিকে, শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সৌদি জোটের হামলায় ইয়েমেনে ২৯ শিশু নিহত

বিদেশের খবর: সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলায় ইয়েমেনে ২৯ শিশু নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ৩০ জন।
সাদা প্রদেশের দাহিয়ান এলাকায় বাসে করে শিশুরা ভ্রমণ করছিল। এ সময় হামলা চালানো হয়।
হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের সংখ্যা ৪৩ বলে জানিয়েছে।
সৌদি জোট বলছে, তাদের বিমান হামলা যৌক্তিক বা বৈধ। এই জোটের সমর্থন রয়েছে ইয়েমেনের সরকারের ওপর।
সৌদি জোট বলছে, তারা কখনই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায় না। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বাজার, স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।
এর মধ্যে ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক মার্টিন গ্রিফিথস যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে নিয়ে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে তাদের জেনেভায় আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
মার্টিন গ্রিফিথস বিবিসিকে বলেন, সংঘর্ষের সমাধান না হলে ইয়েমেনের পতন ঘটবে।
ইয়েমেনের স্থানীয় লোকজন বলছেন, দাহিয়ান মার্কেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাসটি হামলা শিকার হয়। বাসে স্থানীয় লোকজন ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা ছিল।
শিশুবিষয়ক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, পিকনিক থেকে শিশুরা স্কুলে ফিরছিল। মার্কেটের সামনে চালক বাস থামিয়ে পানীয় নিচ্ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সেই আগের অবস্থা রাজধানীর সড়কে

দেশের খবর: সেই আগের অবস্থা রাজধানীর সড়কে। আগে যাওয়া নিয়ে বাসের রেষারেষি, মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা, যত্রতত্র থামানো, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার- সবই চলছে। ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেও ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় বাস রাস্তায় দেখা গেছে। অপরদিকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে পথচারী পারাপারের প্রবণতাও আছে আগের মতোই।
উল্টোপথে বা ট্রাফিক সিগন্যাল ভেঙে গাড়ি চালানোর ঘটনাও থেমে নেই। অথচ ৫ দিন আগে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে ছিল, তখন রাজধানীজুড়ে ছিল ভিন্ন চিত্র। নিয়ম মানার প্রবণতা তৈরি করেছিল শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পর সড়কে সেই আগের বিশৃঙ্খলাই ফিরে আসছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় হাইকোর্টের মোড়ে দেখা যায়, সিগন্যাল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি বাসের মধ্যে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিআরটিসিরই দুটি বাসের মধ্যে আগে যাওয়া নিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ নিয়ে দুই বাসের চালকদের মধ্যে তর্কও হয়।
এ সময় পেছনে থাকা অন্য বাসগুলো বিকট শব্দে হর্ন বাজাতে থাকে। শিক্ষা ভবনমুখী সড়কের আইল্যান্ডে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে একজন সার্জেন্ট দুটি বাসের রেষারেষির এ দৃশ্য দেখিয়ে বলেন, এভাবেই দুই বাসের প্রতিযোগিতা ও ঘষাঘষিতে প্রথমে হাত হারায় কলেজছাত্র রাজিব। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ফার্মগেট, পল্টন, কুড়িলসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্পট ঘুরে দেখা যায় আগের মতোই রেষারেষি করে বাস চলছে। বেশি যাত্রী পেতে একটি বাস আরেকটি বাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও করছে। পুলিশের সামনেই ভাঙাচোরা বাসও চলাচল করছে। শুধু তা-ই নয়, সিটিং সার্ভিসের নামে যেসব গাড়ি চলে সেগুলো দাঁড়িয়ে যাত্রী নিচ্ছে।
এসব দেখে হতাশার কথা জানান সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সড়ক নিরাপত্তাকর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন সবার মনে ধাক্কা দিয়েছে। আন্দোলন চলাকালে সবার চেতনায় শানিত ভাব লক্ষ করা যায়, কিন্তু কয়েক দিনেই যেন তা ভোঁতা হয়ে যেতে শুরু করেছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একেবারেই হতাশ নন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। সমাজচিন্তক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুদের আন্দোলনে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লাভ হয়েছে। সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে, তারা যে জেগে আছে, সে বার্তা। এদেশ নিয়ে বড়দের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে দিয়েছে তারা। বাচ্চারা বড়দের কাজ করে ক্লাসে ফিরে গেছে। এখন বড়দের প্রত্যয় নিয়ে বাচ্চাদের চিন্তা ধার করে বাস্তবায়ন করতে হবে। সড়কে দিন দিন আগের পরিস্থিতি ফিরছে- এমন মন্তব্য আমি করব না। কেননা চালকদের আগের চেয়ে সচেতন মনে হচ্ছে। আগের মতো পাগলাটে প্রতিযোগিতা নেই। তবে যেটুকু বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে, সেটা বাড়তে না দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। পাশাপাশি মালিকরা অতিমুনাফার চিন্তা বাদ দিলে আর শ্রমিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে পরিবহন খাতে সমস্যা একসময় দূর হবে।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিশুদের মুখে উঠে আসা দাবিগুলো এদেশের গণমানুষেরই দাবি। তারা শুধু দাবি তুলেই ক্ষান্ত হয়নি, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কী করে আইন বাস্তবায়ন করতে হয়। শিশুরা তাদের স্বপ্নের কথা জানিয়ে দিয়ে গেছে। জাতি ও দেশের প্রতি তাদের আস্থা ও শ্রদ্ধা অটুট রাখতে এখন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কী করতে হবে, সেটা সরকার জানে।’
সড়কে আগের সেই চিত্র ফিরে আসার বিষয়ে হাইকোর্ট মোড়ে কর্মরত পুলিশের এসআই মেহেদী ও কুড়িলে কর্মরত এএসআই আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফিটনেস সনদ থাকলে এসব গাড়ি আমরা জব্দ করতে পারি না। তবে বিভিন্ন ত্র“টির কারণে মামলা দিচ্ছি। আসলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে সকলের সচেতনতা দরকার।’
আলাপকালে পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবহন খাতে নানা নৈরাজ্যের জন্য বিআরটিএর অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকটা দায়ী। রাজধানীর তিনটি স্পটে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা লক্কড়ঝক্কড় বাস দেখিয়ে বলেন, এসব বাস কীভাবে ফিটনেস সনদ পেল। কোনো বাসের পেছনের সিগন্যাল লাইট নেই, আবার কোনোটির সামনের লাইট নেই। প্রায় সব বাসেই নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে বেশি আসন বসানো হয়েছে। অনেক গাড়ির সিটও ভালো নয়। কিছু গাড়ির ইঞ্জিনও ভালো নয়; প্রায়শ রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে। অথচ ফিটনেস সনদ থাকায় এসব গাড়ি আমরা জব্দ করতে পারছি না।’
জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সচিব মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী প্রতি বছর একবার গাড়ি পরীক্ষা করে ফিটনেস সনদ দেয় বিআরটিএ। বাকি দিনগুলো গাড়ি ফিট রাখা মালিক ও চালকের দায়িত্ব। তবে আমরা সারা বছরই ৫-৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করে থাকি। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে পুলিশেরও দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা উচিত।’
বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিটসহ অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা চলছে। তাই আগের চেয়ে যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার হার দ্বিগুণ বেড়েছে। পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাড়াতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিআরটিএ বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (এআরআই) অধ্যাপক মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘আন্দোলনের পরপরই ট্রাফিক সপ্তাহে মামলা, ডাম্পিং আর জরিমানার ঘটনা বেশি ঘটছে। আন্দোলনের আগে পরিবহন খাতে যে বিশৃঙ্খলা ছিল, তা এখনও আছে। পরিবহন খাতের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা আনতে পরিকল্পিত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দরকার।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পরিবহন দুর্ঘটনা কমাতে বৃহস্পতিবার থেকে চালককে চুক্তিতে বাস চালাতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগ বাস ওই সিদ্ধান্ত মেনে চলেনি। এ কারণে ৫টি কোম্পানির সমিতির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।
এদিকে সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য পথচারীও কম দায়ী নন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নানা পদক্ষেপের পরও ঝুঁকি নিয়ে চলছেন যাত্রীরা। বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, ১০ গজ দূরে ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও হাতে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। কোথাও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরও এমন কাজ করতে দেখা গেছে। অনেক স্থানে দৌড়ে বাসে উঠছেন যাত্রীরা। বিপরীত দিকে বাসের হেলপাররাও রাস্তার পাশে না থামিয়ে সড়কের ভেতরে রাখছেন গাড়ি। সেখানে যাত্রী তুলছেন। চলন্ত অবস্থায় যাত্রী টেনে তুলতেও দেখা যাচ্ছে। চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে কথা বলতেও দেখা গেছে চালকদের।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পথিকৃৎ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, চালক, মালিক, পথচারী যার ব্যাপারেই বলেন না কেন, অনেক অনিয়ম আমাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে। এটা দূর হতে সময় লাগবে। তবে শিশুরা ওই মজ্জায় আঘাত করে গেছে। চেতনা কিছুটা ফিরেছে। বাকিরা আইন প্রয়োগ করে বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে পথচারীকে জরিমানার আওতায় আনতে হবে। বাকিদের ব্যাপারে আইন তো আছেই। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন কলেজ শিক্ষক আকলিমা বেগম। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় দেখেছি, একজন মানুষ জেব্রা ক্রসিংয়ে নামলেই গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। আমাদের দেশেও চালকদের প্রশিক্ষণে এই বিষয়টা বলতে হবে যে, সবার আগে মানুষ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এই ঈদেও পাঁচ ছবি!

এই ঈদেও পাঁচ ছবি!

কর্তৃক daily satkhira

বিনোদনের খবর: সপ্তাহ দুই পরেই ঈদ। এবারের ঈদেও বিনোদনের বড় মাধ্যম হয়ে উঠবে বাংলা সিনেমা। ঈদের তালিকায় থাকা সব ছবির শুটিং শেষ। শেষ মুহূর্তে চলছে মুক্তির প্রস্তুতি। তাই চলচ্চিত্রপাড়ায় এখন ঈদের আমেজ। ঈদের ছবির খবরাখবর থাকছে এখানে। গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া পোড়ামন ২, সুপার হিরো, চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া, পাঙ্কুজামাই ছবি দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চলছে এখনো। সামনে ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে ঈদে ছবি মুক্তির ঢেউ ছড়িয়েছে সিনেমাপাড়া খ্যাত ঢাকার কাকরাইল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে। ঈদের ছবির ছোট-বড় নানা রঙের পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে কাকরাইলের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গার নির্ধারিত প্রেক্ষাগৃহগুলো। ঈদের ছবি ঘিরে প্রেক্ষাগৃহের মালিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা, বুকিং এজেন্টদের আনাগোনা বেড়েছে কাকরাইলের সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলোতে। কত টাকায় এমজি (মিনিমাম গ্যারান্টি), কত কমিশনে ছবি প্রেক্ষাগৃহে উঠবে তা নিয়ে হলের মালিক ও প্রযোজকদের মধ্যে চলছে দর-কষাকষি।
ঈদুল ফিতরের পরপরই ঈদুল আজহার ছবির হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছিল চলচ্চিত্রপাড়ায়। সপ্তাহ দুয়েক আগেও শোনা গিয়েছিল আগামী ঈদে সাতটি ছবি মুক্তি পাবে। এ তালিকায় ছিল—ক্যাপ্টেন খান, বেপরোয়া, মনে রেখ, জান্নাত, আমার প্রেম আমার প্রিয়া, নোলক ও মাতাল। কিন্তু এরই মধ্যে নোলক ঈদের তালিকা থেকে সরে গেছে। মাতাল ঈদে মুক্তি পাবে কি না তা নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন ছবির পরিচালক শাহিন সুমন। তিনি বলেন, এখনো ছবির একটি গান শুটিং করতে বাকি। তা ছাড়া ছবির আবহ সংগীতের কাজ চলছে।
শাকিবের দুইয়ের বেশি ছবি থাকলেও গত দুই বছরে ঈদে বুবলীর দুটি করে ছবি মুক্তি পায়। কিন্তু এবারের ঈদে এই দুই তারকার একটি করে ছবি মুক্তি পাচ্ছে। নোলক তালিকা থেকে সরে যাওয়ায় শাকিব খানের প্রতিদ্বন্দ্বী শাকিব খান নয়, অন্য তারকারা। ক্যাপ্টেন খান ছবির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো বড় তারকার কোনো ছবি এই ঈদে মুক্তির তালিকায় নেই। ঈদে একটি ছবি মুক্তি পেলেও বেশ খুশি শাকিব ও বুবলী।
শাকিব খান বলেন, ‘দুটি ছবি থাকলে ভালো হতো। ঈদের সময় মানুষ হলে হলে ঘুরে সিনেমা দেখেন। তখন সিনেমার বাড়তি দর্শক তৈরি হয়। মোটকথা সিনেমার বাজার বাড়ে। এ ধরনের উৎসবে একজন অভিনেতার কয়েকটি ছবি থাকলে তাঁর নিজের জন্য যেমন ভালো, প্রযোজকেরাও লাভবান হন।’মাহি অভিনীত অগ্নি ২ মুক্তি পায় ২০১৫ সালের ঈদে। এর পর আর ঈদের ছবিতে দেখা যায়নি এই তারকাকে। এবারের ঈদে একসঙ্গে দুটি ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে এই নায়িকার। জান্নাত ও মনে রেখ ছবির নায়িকা মাহি। দীর্ঘদিন পর ঈদে মাহির ছবি দুটিতে তাঁর ভক্তদের আলাদা আগ্রহ থাকবে। মাহি নিজেও ছবি দুটি নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন হলো ঈদে আমার কোনো ছবি নেই। এবার দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। বিষয়টি আমার জন্য আনন্দের। ছবি দুটি আমার ভক্ত-দর্শকেরও ঈদে বাড়তি আনন্দ দেবে বলে মনে করছি।’ জান্নাত ছবিতে মাহির বিপরীতে আছেন সায়মন সাদিক এবং মনে রেখ ছবিতে কলকাতার বনি সেনগুপ্ত।ঈদের আর বেশি দিন বাকি না থাকলেও ইউটিউবে এখনো ঈদের আমেজ লাগেনি। ঈদে মুক্তি চূড়ান্ত ছবিগুলোর মধ্যে মাত্র আমার প্রেম আমার প্রিয়া ছবির ‘টেরাম টেরাম’একটি গান ইউটিউবে ছাড়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো ছবির টিজার, ট্রেলার ইউটিউবে এখনো দেখা যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিগগিরই ক্যাপ্টেন খান, মনে রেখ ও বেপরোয়া ছবির গান ও টিজার প্রকাশের কথা বলেছে ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। বেপরোয়া ছবির প্রযোজক আবদুল আজিজ বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের এই অস্থির অবস্থা কাটলেই টিজার ও গানগুলো একে একে ইউটিউবে ছাড়ব।’ঢাকার চলচ্চিত্রে বেশ কয়েক বছর ধরেই শাকিব খানের ছবি মুক্তি মানেই হলো মালিক, পরিবেশক ও দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে। ঈদের সময় আগ্রহ আরও বাড়ে। আগেভাগেই শাকিব খান অভিনীত ছবির ঘরে হলের মালিক, কর্মকর্তা, পরিবেশক ও এজেন্টদের আনাগোনা শুরু হয়। শুরু হয় অগ্রিম হল বুকিং। এই ঈদেও ব্যতিক্রম ঘটছে না। এরই মধ্যে ক্যাপ্টেন খান ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার কার্যালয়ে ভিড় শুরু হয়ে গেছে। সর্বাধিক হলে মুক্তি পেতে পারে ছবিটি। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত বেপরোয়া ছবিরও বুকিং শুরু হয়েছে। জাজ জানিয়েছে, প্রায় ৮০টি হলে বেপরোয়া মুক্তির পরিকল্পনা আছে তাদের।
বাকি ছবিগুলোর বুকিং এখনো শুরু না হলেও মনে রেখ ৪০টি, জান্নাত ৩৫টি আমার প্রেম আমার প্রিয়া ৩০টি হলে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলেজ শিক্ষকের মাসিক বেতন মাত্র ১৭৯ টাকা

দেশের খবর: দেশে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। বেড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। এর মধ্যেও এক শ্রেণির শিক্ষকের দুঃখ ঘুচছে না কিছুতেই। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য, এক শ্রেণির কলেজ শিক্ষকের মাসিক বেতন এখনও মাত্র ১৭৯ টাকা ৪০ পয়সা। গত ৪১ বছরে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন না করলেও আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদেই বেতন বাড়ানোর দাবি করেছেন এই বঞ্চিত শিক্ষকরা। তারা সংস্কৃত ও পালি ভাষার শিক্ষক।
মৌলভীবাজারের নিত্যানন্দ সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বরুণ ভট্টাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণী বিজ্ঞানে অনার্স এবং ফিসারিজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে ব্যাকরণ ও কাব্যতীর্থ নিয়ে পড়াশোনা করেন। লেখাপড়া শেষ করে নিত্যানন্দ সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন ২০১২ সালে। তিনি জানান, চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রথম বেতন পান ১৪৯ টাকা ৫০ পয়সা। ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেল নির্ধারণের সময় সরকার তার বেতন ২৯ টাকা ৯০ পয়সা বাড়িয়ে নির্ধারণ করে ১৭৯ টাকা ৪০ পয়সা। সেই বেতন নিয়ে সংস্কৃত ভাষা সংরক্ষণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন শিক্ষকতার মহান পেশায়। এখন তিনি কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।
বরুণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘সংস্কৃত ও পালি ভাষা দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটিকে ধরে রাখতে শিক্ষকতা শুরু করি। বেতন না পেয়ে চলতে কষ্ট হয়। তারপরেও ভাষা ও পুরনো সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে শিক্ষকতা করছি। শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবো।’
রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার বিনাপানী সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক তপন কুমার সাহার অবস্থাও একই। তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দিনাজুরের একটি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। কাব্য ও ব্যকরণতীর্থ, স্মৃতি, বেদান্ত এবং পৌরহিত্য বিষয় নিয়ে লেখাপড়া শেষ করে বিনাপানী সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।
তপন কুমার সাহা বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। কাব্যতীর্থ, ব্যকরণতীর্থ, স্মৃতি বিষয়ে ছাত্রদের পড়াই। আগে বেতন পেতাম ১৪৯ টাকা ৫০ পয়সা, এখন বেতন পাই ১৭৯ টাকা ৪০ পয়সা। তবে বেতন মুখ্য বিষয় না ভেবে বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃত ও পালিভাষাসহ সনাতন ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষককতা করে যাচ্ছি। বর্তমানে কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছি।’
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, এসএসসি পাসের পর তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন শিক্ষার্থীরা। তাদের পড়ানো হয়— কাব্যতীর্থ, ব্যাকারণতীর্থ, আয়ুর্বেদতীর্থ, পুরাণ, জ্যোতিঃশাস্ত্র, স্মৃতি, বেদ ও বেদান্ত বিষয়ে। এই কলেজ থেকে পাস করে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিন্দুধর্মের শিক্ষক হিসেবেই বেশি যোগদান করে।
শিক্ষকরা আরও জানান, সংস্কৃত ও পালি কলেজ থেকে কাব্যতীর্থ বা ব্যাকরণতীর্থ পাস করলেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারেন। তবে বেদ, বেদান্ত, স্মৃতিসহ অন্যান্য বিষয়ে যারা পড়েন, তারা বেশি গুরুত্ব পান। পুরাণ বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিয়ের নিবন্ধন করার যোগ্যতা অর্জন করেন। জ্যোতিঃশাস্ত্র নিয়ে যারা পাস করবেন, তারা জ্যোতির্বিদ হতে পারেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর এসব শিক্ষককরা বেতন পেতেন ১১৫ টাকা। ১৯৭৭ সালে নতুন বেতন স্কেল নির্ধারণের সময় স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারিত হলেও তাদের হয়নি। ওই সময় ৩০ শতাংশ মহার্ঘভাতাসহ ১৪৯ টাকা ৫০ পয়সা আর কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন ৩০ শতাংশ মহার্ঘভাতাসহ ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ৪২ বছর পর গত ২০১৫ সালে বেতন বাড়িয়ে সরকার নির্ধারণ করে ১৭৮ টাকা ৪০ পয়সা। আর কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৮ টাকা। অর্থাৎ ৪২ বছরে শিক্ষকের বেতন বেড়েছে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা এবং কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে ১৮ টাকা।
স্বাধীনতার পর যখন এসব শিক্ষকদের ১৪৯ টাকা ৫০ বেতন নির্ধারণ করা হয়, ওই সময় সরকারি কলেজের প্রভাষকদের বেতন ছিল ৪৫০ টাকা। আর বেসরকারি পর্যায়ে একজন প্রভাষকের বেতন ছিল ৩৭৫ টাকা। এখন সরকারি ও বেসরকারি কলেজের প্রভাষকদের মাসিক বেতন স্কেল ২২ হাজার টাকা। কিন্তু সংস্কৃত ও পালি শিক্ষকদের বেতন-ভাতার কোনও পরিবর্তন হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, এই শিক্ষকদের বেতন বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এসব শিক্ষকদের বেতন-কাঠামোর আওতায় আনতে মাউশির মহাপরিচালকের কাছে বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড একটি প্রস্তাব পাঠায়। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী সনাতন পদ্ধতির সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। এর আগেও বিভিন্ন সময় কয়েক দফা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন স্কেলের আওতায় নিতে প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, জাতীয় বেতন স্কেল নির্ধারণ হওয়ার আগে কলেজের অধ্যক্ষদের পাঁচ হাজার টাকা, অধ্যাপকদের চার হাজার টাকা এবং কর্মচারীদের দুই হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয় সরকারের কাছে।
এর পর গত বছরের ১০ অক্টোবর মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি বেতন কাঠামো তৈরি করে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান। এর প্রায় একবছর পর গত ৭ আগস্ট এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাউশির পরিচালক অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নানের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রস্তাবিত কাঠামোতে অধ্যক্ষের মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ২৯ হাজার টাকা,আর অধ্যাপকদের বেতন ধরা হয়েছে ১৬ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব সালমা জাহান বলেন, ‘আমরা শিক্ষা বোর্ডকে দেশের সংস্কৃত ও পালি কলেজগুলোর কাছে যাবতীয় তথ্য চাইবো। এ তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার।’
মাউশির পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমরা দেখবো কলেজগুলোতে স্ট্যান্ডার্ড মান বজায় রাখা হয় কিনা। পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি ঠিক রয়েছে কিনা, সব প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো ছাত্র রয়েছে কিনা। এসব যাচাই করার পর যদি মান ঠিক থাকে, তাহলে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে সরকার।’
উল্লেখ্য, সারা দেশে এমন কলেজ রয়েছে ২২৭টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ৬১৪ জন ও ২২৭ জন কর্মচারীসহ মোট ৮৪১ জন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট অক্টোবরে চালু হচ্ছে

দেশের খবর: অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে চালু হচ্ছে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ইনস্টিটিউটের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ১৭তলা ভবনের নির্মাণ কাজ প্রায় পুরোটাই হয়ে গেছে। এখন যন্ত্রপাতি আসা শুরু হয়েছে। দেশের বাইরে থেকে যেসব যন্ত্রপাতি আসবে সেগুলোর ইন্সপেকশনও হয়ে গেছে।
ডা. সেন বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাদের বলেছেন— এটা যেন দেশের একটি সর্বাধুনিক হাসপাতাল হয়। এতে যেন কোনও ধরনের অবহেলা না থাকে। এটা যেন উদাহরণ দেওয়ার মতো একটি হাসপাতাল হয়। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের চিফ আমার সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি এটির উদ্বোধন করবেন।’
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রায় দুই একর জমির ওপর নির্মিত এই ইনস্টিটিউট চালু হলে এটি সর্বাধুনিক শিক্ষা, চিকিৎসা ও সেবার ক্ষেত্র তৈরি করবে। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি তারা বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। এখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির উন্নততর চিকিৎসার সুযোগ পাবেন রোগীরা।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহুতল এই প্রতিষ্ঠানটিতে থাকবে ১০০টি কেবিন, ৬০টি বেডের হাইডেফিসিয়েন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), ৪০ বেডের আইসিইউ, ১২টি অপারেশন থিয়েটার এবং পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডসহ সব ধরনের পরীক্ষার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৫০০ বেডের এই হাসপাতাল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। পুরনো ঢাকার চাঁনখার পুলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশেই নির্মিত হয়েছে হাসপাতালটি। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বার্ন ইউনিটের যোগাযোগের জন্য ফ্লাইওভারও নির্মাণ করা হবে। এটি হবে বিশ্বের অন্যতম বড় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে পাঁচটি শয্যা নিয়ে এই হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) বার্ন ইউনিটের যাত্রা শুরু করেছিলাম। পরে তা ২০টিতে উন্নীত হয়। সেখান থেকে বার্ন ইউনিট এখন একটি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট পুর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে পরিণত হতে যাচ্ছে। এটি চালু করতে পারলে আমার জীবনের অনেক বড় একটি স্বপ্ন পূরণ হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাকিস্তানকে গুণে গুণে ১৪ গোল দিল বাংলাদেশ

খেলার খবর: সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলো বাংলাদেশ। এবারও শিরোপার দাবিদার গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট।

ভুটানের থিম্পুতে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১২-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। পরের ম্যাচেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো অংশ নেয়া পাকিস্তানের জলে গুনে গুনে ১৪টি গোল দিয়েছে তহুরা, মারিয়ারা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মাণ্ডা বলেছিলেন, আমরা এখানে শিরোপার জন্য এসেছি। দেশে আমার কোচের অধীনে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতার আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে। প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বলে আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। সবাই ফিট ও মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী আছে, একটা দলের খেলে জেতার জন্য প্রস্তুত আছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রস্তুতি সভা

 

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষ্যে ৯ আগস্ট’১৮ তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মীর মোস্তাক আলী। সভার শুরুতে নিরাপদ সক আন্দোলনের নামে ধানমন্ডি আওয়ামীলীগ অফিসে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী হামলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আরাফাত ইসলাম বাপ্পীসহ ১৮জন নেতাকর্র্মী আহত হওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভায় জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, এড. সাহিদুজ্জামান জিকো, অরুন কুমার ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান টিটু, আয়েশা সিদ্দিকা, এড. ফারুক হোসেন, জাহাঙ্গীর কবির, মাজাহারুল ইসলাম জীবন, আক্তারুল, জজ, রনি, হযরত, জাহাঙ্গীর প্রমুখ। সভায় জাতীয় মোক দিবসে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে সারাদিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার, কুরআন খতম ও গণভোজ উল্লেখযোগ্য। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest