কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা; অবরোধ ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

দেশের খবর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন এবং অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামীকাল রোববার থেকে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান।

তিনি শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সংবাদ সম্মেলনে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং সারা দেশে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরসহ সাতজন আহত হন।

আহত অন্যরা হলেন- আরশ (২৬), আব্দুল্লাহ (২৩), আতাউল্লাহ (২৫), সাদ্দাম হোসেন (২৫), সাহেদ (২৫) এবং হায়দার।

আহতরা সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীরা জড়ো হন।

এ সময় ছাত্রলীগ ও সরকারি দলের লোকেরা সশস্ত্র হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উপস্থিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় আন্দোলনকারীদের পাঁচ–ছয়জনকে মারধর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার পর কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা পিছু হটেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কাউকে দেখা যায়নি। তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান জানান, বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর পিস্তল ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়। আমাদের অগণিত কর্মী আহত হয়েছে। আমরা তাদের কাছে এটা প্রত্যাশা করিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. হাবিব বলেন, হামলার বিষয়ে বলতে পারব না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথা বাতিলে সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়ন না করায় শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

এ সংবাদ সম্মেলন থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে ফাইনাল আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা ছিল।

শুক্রবার দুপুরে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান শনিবারের সংবাদ সম্মেলন ডাকার কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলন প্রতিহত করতে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে এতে শিক্ষার্থীদের দলবেঁধে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জানা গেছে, কোটাপ্রথা বাতিলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সর্বশেষ কর্মসূচি ছিল পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি।

গত ১৪-২০ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে রমজান মাসের কারণে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

ওই সময় বলা হয়েছিল, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ঈদের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর জন্য ঈদের পর থেকে ফেসবুকসহ সামাজিকমাধ্যমে প্রচারেও চলছিল।

এর মধ্যে গত বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততির জন্য কোটা থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন।

কোটাপ্রথা বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সব দিক বিবেচনা করে চাকরিতে কোটাব্যবস্থা চালু করি। কিন্তু যারা এই কোটার সুবিধাভোগী, তারাই তা চাইল না। এমনকি মেয়েরা বলছেন, তারাও কোটা চায় না। আমি বলেছি- তারা যখন চায় না, তখন কোটার দরকার নেই। এ বিষয়ে কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। বলেছি- কোটা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা তিনি ঠিক করবেন। এর পর যদি মফস্বলের কেউ চাকরি না পায়, তা হলে আমাদের দায়ী করতে পারবে না। তবে এখানে বিরোধী দলের নেত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের সাপোর্ট করে বললেন- আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য রয়েছে। তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সে জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততির জন্য কোটা থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে চার দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন।

পর দিন সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি- আগামী ৭ মের মধ্যে সরকার বিদ্যমান কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। সেই পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে।

এ সময় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্য কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান।

পরে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটাপদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পর দিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন।

এর দুই সপ্তাহ পর গত ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। না হলে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তারা।

পর দিন ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

গত ২ মে সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ছাত্ররা কোটাব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

এর পর গত ৭ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছিলেন, সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিল বা সংস্কারের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।

তার এ বক্তব্যের পর গত ৯ মে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

এ সময় তারা ঘোষণা দেন ১০ মের মধ্যে কোটা সংস্কারে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে সারা দেশে সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।

এর পর প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ১৪ মে সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়।

সর্বশেষ ২০ মে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য

এম বেলাল হোসাইন: সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিবছরই সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীরা কৃতিত্ব অর্জন করে চলেছে। এদের মধ্যে তালা উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের দেবপ্রসাদ পালের কন্যা দেবশ্রী পাল জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৮ তে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে ৩য় স্থান অধিকার করে। এছাড়া ২০১৬ সালে প্রথম নজরুল সঙ্গীতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে অংশগ্রহণ করে। ২০১৭ সালে নজরুল ও উচ্চাঙ্গে। সে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ¯œাতক (সম্মান) ৪র্থ বর্ষের একজন নিয়মিত ছাত্রী। একই এলাকার দীনবন্ধু দাশের পুত্র দীপ দাশ ২০১২ সালে জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্র সংগীতে ৩য় স্থান, ২০১২ সালে জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় উচ্চাঙ্গ সংগীতে ১ম স্থান, ২০১৪ সালে জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় নজরুল সংগীতে ১ম স্থান, ২০১৮ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতায় উচ্চাঙ্গ সংগীতে ২য় স্থান অধিকার কলে। বর্তমানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র হিসাবে বর্তমান বছরে উপজেলার শ্রেষ্ট শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে। একই উপজেলার মহল্লাপাড়া গ্রামের কাজী মমিনুল বারীর কন্যা কাজী নাফিয়া আনজুম চারু জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ তে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল সংগীত ‘ক’ বিভাগের ৩য় স্থান করে। সে শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। সাতক্ষীরা সদরের মুনজিতপুর গ্রামের শ্যামল সরকারের কন্যা মন্দিরা শিশু পুরষ্কার ২০১৮ তে ‘ক’ বিভাগে নজরুল সঙ্গীতে জাতীয় পর্যায়ে ৩য় স্থান অধিকার করেছে। সে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। একই উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের বিশ্বজিৎ সাহার কন্যা সুম্মিতা সাহা জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় ২০১২ সালে নজরুল সংগীতে ‘ক’ বিভাগে ২য়, ২০১৪ সালে রবীন্দ্র সংগীতে ‘খ’ বিভাগে ২য় পুরুষ্কার, ২০১৬ সালে দেশাত্মবোধক সংগীতে ‘খ’ বিভাগে ২য় পুরষ্কার এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৮ তে জাতীয় পর্যায়ে ‘গ’ বিভাগে দেশাত্মবোধক সংগীতে ১ম স্থান এবং নজরুল সঙ্গীতে ১ম স্থান অধিকার করেছে। সে জাতীয় পর্যায়ে ২টি স্বর্ণপদকও লাভ করেছে। সে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। ইটাগাছা এলাকার অনন্ত কুমার রায়ের কন্যা অনিষা রায় ২০১১ সালে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ বিভাগীয় পর্যায়ে শিশু শিল্পীর বাছাই প্রতিযোগিতায় সংগীতে ১ম স্থান, ২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরিক্ষায় টেলেন্টপুলে বৃত্তি লাভ, জাতীয় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় হামদ্/নাত এ জাতীয় পর্যায়ে ৩য় স্থান অধিকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সনদপত্র গ্রহণ। ২০১৭ সালে শিক্ষা অধিদপ্তরে কচি কাঁচা বোম্বে সুইটস এর আয়োজেনে দেশাত্ববোধক সংগীতে ২য় স্থান, কচি কাঁচা বোম্বে সুইটস প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান, ২০০৩ সালে হামদ্/নাত ২য় স্থান, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৮ তে জাতীয় পর্যায়ে ‘গ’ বিভাগে হামদ্/নাত ২য় স্থান অধিকার করে। সে সাতক্ষীরা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রসেনজিত বন্দোপাধ্যায়ের ছেলে শুভজিত বন্দোপাধ্যায় ২০১৭ সালে সমগ্র দেশের মধ্যে চিত্রাংকনে ২য় স্থান অর্জন করে এবং ২০১৮ সালে জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় চিত্রাংকনে ‘গ’ বিভাগে ১ম স্থান অর্জন করে স্বর্ণ পদক লাভ করে এবং প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান ২০১৮ সালে জাতীয় জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় আবৃত্তিতে ‘গ’ বিভাগে ৩য় স্থান অর্জন করে।

# প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সাতক্ষীলা জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব শেখ মুশফিকুর রহমান মিল্টন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এক বস্তা টাকায় এক কাপ কফি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: তীব্র মুদ্রাস্ফীতিতে পড়েছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির সরকারের ভ্রান্ত নীতির ফলে গত এক বছরে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে ৪৩,৩৭৮%। জিনিসপত্রের দাম এমন ভাবে বেড়েছে যে বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় এক কাপ কফির দাম স্থানীয় মুদ্রায় ১০ লাখ বলিভার !

ভেনেজুয়েলায় ন্যূনতম মাসিক বেতনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ দাম এক কাপ কফির। কিন্তু অবস্থাটা কিছুদিন আগেই এই রকম ছিল না। বছর দুয়েক আগে এক কাপ কফি মিলত ৪৫০ বলিভারে। কিন্তু ভেনেজুয়েলার সরকারের ইচ্ছেমতো টাকা ছাপানোর নীতি নেওয়ার পরই চূড়ান্ত দারিদ্র্যতে ডুবে যাচ্ছে দেশটি। ১০০ বলিভারের নোট সেদেশে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। মাত্র এক কাপ কফি কিনতে এরকম ১০,০০০টি নোট লাগবে।
এই ১০ লাখ বলিভারের কিন্তু আসলে কোনো দাম নেই। ডলারে কনভার্ট করলে ১০ লাখ বলিভারের মূল্য মাত্র ২৯ সেন্ট যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ টাকার সমান।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২২ মাদক মামলার আসামি ও জামায়াতের ৫ নেতাকর্মীসহ ৬৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে একটি শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি ও ৩২৫ পিস ইয়াবাসহ বেশ কিছু মাদকদ্রব্য। এসময় বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ২০ জন, কলারোয়া থানা থেকে সাতজন, তালা থানায় ছয়জন, কালিগঞ্জ থানায় ১২ জন, শ্যামনগর থানা নয়জন, আশাশুনি থানায় নয়জন, দেবহাটা থানায় একজন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতারা!

ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রস্পেক্টাস ও পাঠ পরিকল্পনা বিক্রি করতে দিতে রাজি না হওয়ায় পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সবুর খান ও উপাধ্যক্ষ আব্দুল জলিলকে ছাত্রলীগের নেতারা পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসময় তারা অধ্যক্ষের কক্ষের টেবিল, সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও কাগজপত্র তছনছ করে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার আরমান, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হাসানসহ প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মীরা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে এসে তার ওপর চড়াও হন। প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালি, পরে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও একপর্যায়ে অধ্যক্ষের কক্ষে থাকা উপাধ্যাক্ষ এবং অন্য শিক্ষকদের টেনে-হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে অধ্যক্ষকে তারা লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এসময় কয়েকজন শিক্ষক তাকে রক্ষা করতে গেলে ছাত্রলীগ নেতারা তাদেরও বেধড়ক মারধর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মারধরের পর কলেজের অধ্যক্ষকে প্রায় একঘণ্টা তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রলীগ নেতারা। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসিসহ পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

কয়েকজন শিক্ষক জানান, বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) বিকালে এ ঘটনা ঘটলেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলার কারণে ঘটনাটি কাউকে জানাতে চায়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতারা ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে রাতেই অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সবুর খান বাদী হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার আরমান, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হাসানসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০ জনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৭৯, ২৮-০৬-২০১৮)। মামলাটি রেকর্ড হয় রাত ১টার পরে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ড. মো. আব্দুস সবুর খান বলেন, ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রস্পেক্টাস ও পাঠ পরিকল্পনা বিক্রি করে দিতে তারা আমাকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছিল। আমি তাদের অন্যায় আবদার রাখতে পারিনি বলে ছাত্রলীগ নেতারা আমাকে, উপাধ্যাক্ষ আব্দুল জলিলসহ কয়েকজন শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করেছে।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনিসহ অন্যদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে কয়েক জনের ফোনে কল ঢুকলে তারা তা ধরেননি। বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে পাবনা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, ‘যারাই এ ঘটনা ঘটাক না কেন, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে মামলা গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেফতার করতে ঈশ্বরদী থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ঈশ্বরদী থানার ওসি আজিম উদ্দীন বলেন, ‘যারা কলেজের অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে, তাদের গ্রেফতার করতে ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লিবিয়া উপকূলে তিন শিশুসহ নিহত ১০০

উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা প্রাণহীন তিন শিশুর দেহ অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে নেওয়া হলো—মনে হচ্ছে শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তিন লোক তিন শিশুকে হাত প্রসারিত করে ধরে আছে। এক শিশুর পায়ে স্নিকার, আরেকজনের পায়ে লাল মোজা, সাদা ফোঁটাযুক্ত প্যান্ট পরা, তৃতীয়জনের খালি পা, অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে তার শরীর ঢেকে রাখা। গতকাল শুক্রবার লিবিয়ার উপকূলের এই চিত্র তুলে ধরেছে সিএনএন।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র ক্রিস্টিন পিটার জানান, লিবিয়ার উপকূলে নৌযান ডুবির ঘটনায় ১০০ বা তার বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ওই তিন শিশুও আছে। উন্নত জীবনের আশায় তারা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাচ্ছিল।এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা অভিবাসন নিয়ে একটি চুক্তিতে সম্মতি জানান। এতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আরো শরণার্থীদের যেতে নিরুসাহিত করা হয়েছে।আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌডুবিতে হাজারো মানুষ মারা গেছে।শুক্রবার নৌডুবির পর মাত্র ১৪ জনকে উদ্ধার করত পেরেছে আইওএম। উদ্ধার কাজ এখনো চলছে।আইওএমের মুখপাত্র ক্রিস্টিন পিটার সিএনএনকে বলেন, ‘পাঁচ বছরের কম বয়সী তিন শিশুর মৃতদেহ আমরা উদ্ধার করেছি। কতজন নিখোঁজ আছে বা মারা গেছে আমরা জানি না।’আইওএম জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে চিকিৎসকদের পাঠানো হয়েছে। মানবিক মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।পৃথক ঘটনায় লিবিয়ার কোস্টগার্ড প্রায় ৩৪৫ জন অভিবাসীকে উপকূলে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে প্রায় ১০ হাজার ২০০ জনকে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তারা সবাই সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাচ্ছিল।চিকিৎসা সহায়তাকারী সংগঠন ডক্টর উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্র্রতি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের কিছু মৌলিক শিষ্টতা দেখাতে হবে। সাগরে যারা সমস্যায় আছে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিতে হবে, লিবিয়ায় নয়।সংগঠনটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বিষয়ক প্রধান কার্লিন ক্লেইয়ার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা তাদের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব অস্বীকার করছেন।স্পেনভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা প্রোঅ্যাক্টিভা ওপেন আর্মসের প্রেসিডেন্ট অস্কার ক্যাম্পস বলেন, ইতালির কোস্টগার্ড তাদের সংস্থার উদ্ধারকারী নৌযান নিতে ডাকেনি। তিনি বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) ১০০ মানুষ মারা গেছে। আমরা ক্ষুব্ধ, কেবল মৃত্যুর কারণে নয়, উদ্ধারকারী নৌযান তারা ব্যবহার করেনি সেই কারণেও। ওপেন আর্মস এখানে অনেক দিন ধরেই আছে। এখন পর্যন্ত ইতালি ইতালি বা অন্য কেউ আমাদের সামর্থ্যের ব্যবহার করেনি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সংকল্পবদ্ধ আর্জেন্টিনা প্রস্তুত ফ্রান্সও

মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামের সামনে রয়েছে স্পার্তান যোদ্ধার মূর্তি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে দাবি ছিল সেই যোদ্ধার মতো লড়াইয়ের।

ঠিকই সেই যুদ্ধজয়ে নকআউট পর্বে নাম লিখিয়েছে আর্জেন্টিনা।

আজ শেষ ষোলোর সেই মহারণের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ভেন্যু কাজান এরেনা। তাতারস্তানের রাজধানী এই কাজান। যে তাতার যোদ্ধাদের খ্যাতি ইতিহাসের পাতায় পাতায়। আজ লিওনেল মেসির দলের কাছে আবারও সময়ের সেই অভিন্ন দাবি। প্রতিপক্ষ প্রবল—তাতে কী! লিওনেল মেসির মতো এক জাদুকর থাকলে কোনো কিছুই যে অসম্ভব নয়!

শেষ ষোলোর বাধা টপকে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তরণও তেমনি অলৌকিক কল্পনা নয় মোটেও।

মস্কোর ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে এই কাজান; সভ্যতার এক তীর্থ ভোলগা নদীর পাড়ে। মস্কো-সেন্ট পিটার্সবার্গের চেয়ে বিশ্বকাপের আমেজ এখানে বেশি।

রাস্তার পাশে বড় বড় হোর্ডিং দেখা যায় বিশ্বকাপের। প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিতে কাজানে খেলতে আসা দলগুলোর বড় বড় পোস্টার সাঁটা। শহরের মাঝখানে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর তিন তলা বাড়ির দেয়ালজুড়ে বিশাল ওই ছবিটাও রয়েছে এখনো। গেল বছর কনফেডারেশন কাপের সময় তৈরি করা হয়েছিল যা। সেই শহরেই মেসির আজ অমরত্বের পথে আরেক পদক্ষেপ ফেলার চ্যালেঞ্জ। আর্জেন্টিনার ৩২ বছরের অপ্রাপ্তি আর নিজের ক্যারিয়ারের একমাত্র হাহাহার বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের পথে আরেকটু এগোনোর উপলক্ষ।

ফ্রান্স অবশ্য এবারের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার। ফুটবলারদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য বিবেচনায় সম্ভবত টুর্নামেন্টের সেরা দল। ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউট পর্বে এসেছে তারা; তবে নজরকাড়া পারফরম্যান্স তেমন ছিল না। কাল কাজানের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক-কোচ বারবারই তাই আওরে যান একই বুলি—বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে এখান থেকেই।

‘বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে নকআউট পর্ব থেকে। এটি আমাদের জন্য বাড়তি প্রেরণা। প্রতি খেলোয়াড়ের জন্য প্রতিটি পাস, প্রতিটি থ্রো ইন, প্রতিটি বল দখলের লড়াই হতে পারে এই বিশ্বকাপের শেষ। আর প্রতিপক্ষ যখন আর্জেন্টিনার মতো দল, তখন নিজেদের সামর্থ্য ছাড়ানো কিছুই আমাদের করতে হবে। সে জন্য আমরা প্রস্তুত’—বলেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক লরি। কোচ দেশম বলেছেন তাই, ‘নতুন বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে এখন। ইউরোতে আমরা দেখেছি, প্রথম রাউন্ডে খুব ভালো খেলেও নকআউট পর্বে এসে ছিটকে গেছে কোনো কোনো দল। আমরা তাই সতর্ক আছি। মনোযোগ দিচ্ছি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে। ’

একইভাবে মেসি বন্দনাও দুজনের অভিন্ন সুরে। কোচ দেশম ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে খেলেছেন ব্রাজিলের রোনালদোর বিপক্ষে। তাঁর সঙ্গে মেসিকে মিলিয়ে করা প্রশ্নে দেশমের জবাব, ‘সেবারের রোনালদো এবং এবারের মেসির মধ্যে অবশ্যই মিল রয়েছে। দলে ওদের প্রভাবের দিক বিবেচনায়। তবে সেটি ছিল ফাইনাল, এটি শেষ ষোলোর এক ম্যাচ। আমরা এখন মনোযোগ দিচ্ছি কাল কিভাবে মেসিকে সামলানো যায়। ’ সেই কাজ যে সহজ নয়, তা আবার মেনে নিচ্ছেন লরি। সে জন্য নিজেদের করণীয়ও বলেছেন তিনি, ‘আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেয়াল করলে দেখবেন, ওদের আরো অনেক ভালো ফুটবলার রয়েছে। মেসি নিজেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঝলসে ওঠে। সেটি আর্জেন্টিনায় যেমন, তেমনি বার্সেলোনাতেও। আমাদের তাই ব্যক্তিগত লড়াইগুলোতে জিততে হবে; সম্মিলিতভাবেও মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সামলাতে হবে। ’

হোর্হে সাম্পাওলির সময়ে কোনো সময়ই পর পর দুই ম্যাচ একই একাদশ নিয়ে খেলেনি আর্জেন্টিনা। আজ প্রথমবারের মতো তা হতে পারে। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে হয়তো দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নররা। আর ১৯৯৮-এর চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স গেল ম্যাচের বিশ্রাম দেওয়া তারকাদের ফিরিয়ে নামবে পূর্ণশক্তিতে।

এমনিতে লাতিন আমেরিকার দলের বিপক্ষে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। ওই মহাদেশের দলের কাছে সর্বশেষ আট মুখোমুখিতে হারেনি তারা। সর্বশেষ হার? আর্জেন্টিনার কাছে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে। লাতিন আমেরিকান দলে বিপক্ষে সর্বশেষ সাত ম্যাচে কোনো গোল খায়নি। সর্বশেষ গোল করেছিলেন ব্রাজিলের কারেকা, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনার দুই মুখোমুখিতে দুবারই অবশ্য জয় আলবিসেলেস্তেদের। আর দুবারই ফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা। ইতিহাসের প্রেরণা তাই ফ্রান্সের মতো তাদেরও রয়েছে।

আরেকটি অনুপ্রেরণা হতে পারে ‘বজ বুলদ্রাবাস’। এটি তাতারস্তানের আন-অফিসিয়াল স্লোগান। যার বাংলা ‘আমরা পারি’। সেই মন্ত্র জপেই তো আজ মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এবং অতি অবশ্যই লিওনেল মেসি!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ মাদকাসক্তের সাজা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: মাদকের সেবনের অপরাধে কালিগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে আটক ৪ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান করা হয়েছে। থানা সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে পুলিশ মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে মাদক সেবনের অভিযোগে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের শওকাত আলী বিশ্বাসের ছেলে কবির বিশ্বাস (৩২), মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩২), গণপতি গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শেখ নবুয়াত কবির (২৭) ও ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামের গোপীনাথ সাহার ছেলে গৌতম সাহাকে (১৮) আটক করে। পরবর্তীতে সহকারী উপজেলা কমিশনার (ভূমি) নূর আহমেদ মাছুম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কবির বিশ্বাসকে ১০ দিন এবং অন্য ৩ জনকে ৭ দিন করে কারাদন্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest