সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

বাচ্চাদের সাথে রাস্তায় দাঁড়াব : শাকিব খান

বিনোদনের খবর: প্রশাসনের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিত্রনায়ক শাকিব খান বলেছেন, বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলবেন না। আপনার বাসায়ও এমন শিশু রয়েছে। বাচ্চাদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের স্কুলে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দিন।
শাকিব বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করার কথা সকলের। সেখানে এই বাচ্চারা আন্দোলন করছে। তাদের দাবি যৌক্তিক। আমি সমর্থন করি। প্রয়োজন হলে আমিও তাদের সাথে রাস্তায় দাঁড়াব। দুইজন শিক্ষার্থীকে হত্যার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন যৌক্তিক। পরিবহণ সেক্টরে স্থিতিশীলতা দরকার। তাদের আইন মেনে চলা দরকার।
গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ঢাকাই ছবির শীর্ষ নায়ক শাকিব এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আজকে একটা ভিডিও দেখলাম। গা শিউরে ওঠার মতো ভিডিও। কী ভয়ঙ্কর, এক শিক্ষার্থীর ওপর পিক-আপ উঠিয়ে দিয়েছে। এটা কি করে সম্ভব? ভাষা হারিয়ে ফেলেছি এই ভিডিও দেখে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালনা ও দুর্ঘটনা বন্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কাল দেখলাম সিনেমা হলে বাস ঢুকে গেছে। অদক্ষ চালক হলে এমনই হবে।
শাকিব আর ও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চই বিষয়টি দেখছেন। আমরা তাঁর ওপর আস্থা রাখি। এই নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী, ঘাতকদের শাস্তি দিয়ে এই অরাজকতা দূর করবেন। আমি আশু প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উল্লেখ্য, শাকিব খান অভিনীত কলকাতার ছবি ভাইজান এলো রে সারাদেশের হলগুলোতে ভালো ব্যবসা করছে। আগামী ঈদ উল আজহায় শাকিব অভিনীত ‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি এই ছবিটির শেষ পর্যায়ের কাজ করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আরো দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

বিদেশের খবর: সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে এসে গতকাল মঙ্গলবার মক্কা ও জেদ্দায় আরো দুই বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। মক্কায় বাংলাদেশ হজ অফিস থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহত হজযাত্রীরা হলেন নরসিংদীর শ্রীনগর চৌধুরী বাড়ির মো. ইদ্রিস আলী চৌধুরী (৬৩), তাঁর পাসপোর্ট নম্বর বিআর ০৩৪৮৬৫৮ এবং নওগাঁর কালিকাপুরের নূর মোহাম্মদ মণ্ডল (৭১), তাঁর পাসপোর্ট নম্বর বিএন ০৩৪৩৮৫৫।
চলতি বছর সৌদি আরবে হজ করতে এসে এখন পর্যন্ত মক্কা ও জেদ্দায় ১৫ বাংলাদেশি ইন্তেকাল করেছেন। এর মধ্যে দুজন নারী ও ১৩ জন পুরুষ।
বুধবার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজার ৭১৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় পৌঁছেছেন। এদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন তিন হাজার ২২৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৭১ হাজার ৪৮৯ জন।
আগামী ২০ আগস্ট পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্যবধান বাড়াল দক্ষিণ আফ্রিকা

খেলার খবর: শ্রীলঙ্কা পুরো ৫০ ওভার খেলে কষ্টেসৃষ্টে যে রান স্কোর বোর্ডে জমা করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা অনায়াসে তা পেরিয়ে গেছে। ওপেনার কুইন্টন ডি ককের ৭৮ বলে খেলা ৮৭ রানের ইনিংসই মামুলি সংগ্রহ বানিয়ে দিয়েছে লঙ্কানদের ২৪৪ রানকে। স্বাগতিকদের ওই রান ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৩বল বাকী থাকতে টপকে যায় প্রোটিয়ারা। ৪ উইকেটের এ জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ফাফ দু প্লেসিসের দল।
প্রোটিয়া পেসারদের তোপের মুখে ডাম্বুলায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকার অবস্থা হয়েছিল লঙ্কান ব্যাটস্যানদের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই উপুল থারাঙ্গা ও কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন লুঙ্গি এনদিদি। স্রোতের বিপরীতে লড়ে ডিকওয়েলা করেন ৬৯ রান। তাঁকে একমাত্র সঙ্গ দিতে পেরেছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। ১১১ বলে ৭৯* রানের ইনিংস খেলেছেন লঙ্কান অধিনায়ক। তাতেই আড়াই শর কাছাকাছি রান তাদের। প্রোটিয়া দুই ওপেনার ডি কক ও হাশিম আমলাই বুঝিয়ে দেন তা মোটেও যথেষ্ট নয়। ৯১ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এই জুটি। আমলা ৪৩ বলে করেছেন ৪৩। এইডেন মারক্রামকে আকিলা ধনঞ্জয় দ্রুত ফিরিয়ে দিলেও প্রোটিয়াদের চেপে ধরতে পারেননি লঙ্কান বোলাররা। অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিস নেমে একই রকম ছন্দে খেলতে থাকেন। ৪১ বলে ৪৯ করে ধনঞ্জয়ের বলেই ফিরেছেন তিনি। জয় থেকে তখন ৪৭ রান দূরে প্রোটিয়ারা। ৫ উইকেট হাতে রেখে সেই পথ পাড়ি দেওয়া মোটেও কঠিন ছিল না। সমস্যায় পড়তেও হয়নি। আর মাত্র একটি উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুতার ভেতর লুকিয়ে ইয়াবা পাচার, গ্রেফতার এক

দেশের খবর: জুতার ভেতরে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় মোঃ খোরশেদুল আলম (২১) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বুধবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন স্টেশন রোড় এলাকার নূপুর মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ৯শ ৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা। গ্রেফতারকৃত খোরশেদুল আলম আনোয়ার উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মৃত আব্দুর শুকুরের ছেলে। বর্তমানে সে নগরীর ইপিজেড থানাধীন ফ্রি পোর্টের কুড়ি পুকুর পাড় এলাকায় থাকে। মিমতানুর রহমান জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খোরশেদুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে তল্লাসি করে তার স্যান্ডেলের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৯৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদুল আলম জানিয়েছে, সে দীর্ঘদিন ধরে পায়ের স্যান্ডেল বদলের মাধ্যমে ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়, বিক্রয় ও পাচার করে আসছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সিরিজ জয়ের আশায় সাকিব

খেলার খবর: একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যাচ্ছে না সাকিবের মনে উঁকি দেওয়া সম্ভাবনাকে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট খুইয়েও তো ১১ ওভারে ১০০ ছুঁয়েছিল বাংলাদেশ। অবশ্য এমন মারমুখী ব্যাটিং প্রদর্শনীর বিবর্ণ দিকটা দৃষ্টি এড়ায়নি অধিনায়কের। ফ্লোরিডার সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড রিজিওনাল পার্কে সিরিজের শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে। যে মাঠ তো বটেই, আমেরিকাতেই প্রথমবার ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তবে সাকিব আল হাসানের ব্যাপারটা ভিন্ন। বৈবাহিক সূত্রে তিনি মার্কিন মুল্লুকের জামাই। আর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ সূত্রে ফ্লোরিডার এ স্টেডিয়াম তাঁর চেনা। তাই প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরেও সিরিজ জয়ের ব্যাপারে যথেষ্টই আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেন্ট কিটসে ক্ষণে ক্ষণে আশাজাগানিয়া নৈপুণ্য আর ব্রোওয়ার্ডের উইকেটের চরিত্রই আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে সাকিবকে।সিপিএলে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছি ফ্লোরিডার মাঠে। ওখানে স্ট্রোক খেলা অত সহজ না। উইকেট কিছুটা স্লো, যা আমাদের সুবিধাই দেবে। সিপিএলে ১৫০-১৬০ রানের বেশি হতে দেখিনি। তা ছাড়া মনে হয় ওখানে আমরা বেশি সমর্থনও পাব’—৭ উইকেটে হারের পর পুরস্কার বিতরণী সেরে এসে বেশ জোর দিয়েই কথাগুলো বলেছেন সাকিব আল হাসান।
আমেরিকায় তাঁর ক্রিকেট অভিজ্ঞতায় না হয় ভরসা রাখা যায়। কিন্তু সেন্ট কিটসে ব্যাটসম্যানরা যে অপরিকল্পিত ব্যাটিং করেছেন, তাতে আবার আস্থা রাখা যাচ্ছে না। তবে সাকিব বিশ্বাস করেন, ‘আমাদের একজন ব্যাটসম্যান যদি শেষ পর্যন্ত থাকতে পারত, তাহলে স্কোরটা আরো বেশি হতো। প্রথম ওভারে ২ উইকেট হারানোর পরও কিন্তু আমরা খেলাটা ধরে ফেলেছিলাম। আমি আর লিটন একটা সুযোগ তৈরি করেছিলাম। মুশফিক ভাই এবং রিয়াদ ভাইয়ের মধ্যে একটা ভালো পার্টনারশিপ হয়েছিল। ওই সময় মুশফিক আউট না হলে কিংবা রিয়াদ ভাই যদি শেষ পর্যন্ত থেকে যেতে পারতেন…।’ এমন অনেকগুলো ‘যদি’র মাঝেই যেন সাফল্যের সূত্র খুঁজে পেয়েছেন অধিনায়ক।
একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যাচ্ছে না সাকিবের মনে উঁকি দেওয়া সম্ভাবনাকে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট খুইয়েও তো ১১ ওভারে ১০০ ছুঁয়েছিল বাংলাদেশ। অবশ্য এমন মারমুখী ব্যাটিং প্রদর্শনীর বিবর্ণ দিকটা দৃষ্টি এড়ায়নি অধিনায়কের, ‘রান রেট ঠিক থাকলেও ততক্ষণে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলি আমরা। পরের ৯ ওভারে ৪৩ রানের বেশি তুলতে না পারার কারণও এটা। আসলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা উইকেট হারিয়েছি। টি-টোয়েন্টিতে এভাবে উইকেট হারালে ম্যাচে ফিরে আসা কঠিন।’
এর মধ্যে আবার বৃষ্টি বাগড়া দেওয়ায় ক্যারিবীয়দের সামনে নির্ধারিত হয় নতুন লক্ষ্য— ১১ ওভারে ৯৫ রান। তাদের এমন সব ব্যাটসম্যান আছেন, যাঁরা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারেন এমন স্বল্পদৈর্ঘ্যের চ্যালেঞ্জ। তবু মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত প্রথম ওভার আর স্পিনের বিপক্ষে ক্যারিবীয়দের অস্বস্তিই অধিনায়কের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে, ‘আমাদের বোলিংটা আজ ভালো হয়েছে। তবে এত কম রান নিয়ে তো লড়াই করা কঠিন। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে বেশ কয়েকজন টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান আছে। আন্দ্রে রাসেল একাই তো ম্যাচটা শেষ করে দিল। এর পরও এই হার থেকে ইতিবাচক অনেক কিছু আছে আমাদের জন্য। খারাপের চেয়ে ভালোটাই বেশি নিচ্ছি।’
খারাপের শুরুটা ওয়ানডে সিরিজের সেরা তামিম ইকবালকে দিয়ে। অ্যাশলে নার্সের করা ইনিংসের প্রথম বলটাই ডাউন দ্য উইকেটে এসে চালিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনারকে সামনে এগোতে দেখেই আরেকটু টেনে দেন ক্যারিবীয় অফস্পিনার। অতঃপর স্টাম্পড হয়েছেন তামিম। একজন অভিজ্ঞ এবং ইনফর্ম ব্যাটসম্যানের এমন অ্যাপ্রোচের ব্যাখ্যায় বোধগম্য কারণেই সমালোচনা করেননি সাকিব, ‘দেখুন, ব্যাটিংয়ে একেকজনের একেক অ্যাপ্রোচ থাকে। তবে তামিম ওটা ছক্কা কিংবা বাউন্ডারি মেরে দিলে কিন্তু সবাই অন্য রকম কথাই বলত। আমি বলব না অ্যাপ্রোচে আমাদের কোনো সমস্যা ছিল। প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যানেরই গেম প্ল্যান থাকে। সবারই লক্ষ্য থাকে বড় ইনিংস খেলার। দায়িত্বটাও তারই, সেটা আমি থেকে শুরু করে সবার। তবে আমাদের মূল সমস্যাটা হয়েছে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের একজনও বড় ইনিংস খেলতে পারিনি। সব দলেই দেখবেন কোনো না কোনো ব্যাটসম্যান ইনিংসটাকে টেনে নিয়ে যায়। আমরা সেটা পারিনি। এই উইকেটে রান করা সহজ ছিল। তবু আমরা কেউই বড় স্কোর করতে পারিনি। এটাই হতাশার। আমি চাইব পরের দুই ম্যাচে যেন এই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়।’
সেসব ভুল আত্মবিশ্বাসের ডানার ঝাপ্টায় উড়ে যাবে বলে বিশ্বাস সাকিবের, ‘সত্যি কথা বলতে আজকের পর আমার বিশ্বাসটা আরো বেড়েছে। প্রথম ম্যাচের আগে একটু দ্বিধায় ছিলাম। তবে এখন অনেক বেশি করে মনে হচ্ছে জেতা সম্ভব। আমি মনে করি আজকের পর আমাদের আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকা উচিত। ওদের সঙ্গে অনেক ভালোভাবেই জেতা সম্ভব। শুধু একটু বুদ্ধি খাটাতে হবে।’
‘বুদ্ধি’ বলতে সম্ভবত ব্যাটিংয়ে সঠিক পরিকল্পনার কথাই বুঝিয়ে থাকবেন সাকিব আল হাসান। ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই যখন হারের প্রধানতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইয়েমেন নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘ

বিদেশের খবর: ইয়েমেনের বন্দরনগরী হুদায়দাতে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। বুধবার ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিতা এইচ ইয়েমেনে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি এক বিবৃতিতে জানান, সেখানকার অবকাঠামোর ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়, অমানবিক এবং যুদ্ধের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
তিনি আরো বলেন, চলমান সংঘর্ষ এবং হুদায়দা বন্দরের বেসামরিক অবকাঠামোতে যেভাবে অব্যাহতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, তাতে হাজার হাজার শিশু এবং তাদের পরিবার হুমকির সম্মুখীন।
কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন অবকাঠামোতে যেভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, তার ফলে শিশু এবং তাদের পরিবার রক্ষা করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলার ফলে এসব এলাকায় কলেরা এবং ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জনসাধারণকে নিজ হাতে শোক ব্যাজ পরালেন এমপি জগলুল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বাঙালি জাতির ইতিহাসে আগস্ট মাস একটি শোকাবহ মাস। শোকাবহ মাসের শুরুর দিন বুধবার দিনব্যাপী সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিজ হাতে জনসাধারণকে কালো ব্যাচ পরিয়ে দেন। এসময় তিনি দলীয় কার্যালয়,পথযাত্রী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ,রাস্তায় অবস্থিত বিভিন্ন পথযাত্রী এবং বিভিন্ন শ্রেনীপেশার জন সাধারনের সাথে কুশল বিনিময় করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অবদান ও স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় রাখতে কালো ব্যাজ পরিয়ে দেন। দিনব্যাপী সংসদ সদস্য’র হাত দিয়ে জনসাধারণকে কালো ব্যাজ পরিধানকালে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ,উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্পাদক মিজানুর রহমান যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ,শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি একরামূল হক লায়েস, প্রভাষক অলিউর রহমান সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ ও সর্বসাধারণ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ তারকারা, ফেসবুকজুড়ে প্রতিক্রিয়া

বিনোদন সংবাদ: নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে কণ্ঠ মেলাচ্ছেন তারকা শিল্পীরাও। সাংগঠনিক কোনও জোটবদ্ধ কর্মসূচি কিংবা প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও দেশের নাটক, চলচ্চিত্র এবং সংগীতাঙ্গনের মানুষরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন প্রতিনিয়ত। যেমন প্রতিবাদ এর আগে এতটা কোনও ইস্যুতে লক্ষ করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পাশাপাশি কেউ কেউ সরাসরি রাজপথে নামারও আহ্বান জানাচ্ছেন।

তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো-
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম ১ আগস্ট নিজের ফেসবুকে লিখেছেন এভাবে, ‘‘সাধারণ মানুষের ভোগান্তি’’- এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই কথাটি খুবই অবান্তর। কারণ, সাধারণ মানুষ সারা বছরই নানা ভোগান্তিতে ভোগেন। আমিও সাধারণ মানুষ, আপনিও। পায়ে হেঁটে কাজে এসেছি আজ। আরও আসবো, কষ্ট করতে রাজি আছি। কিন্তু এই স্বেচ্ছাচারিতায় বাঁচতে রাজি না। হোক আন্দোলন, হোক স্বনির্ভর অভিযান।
কোণঠাসা হয়ে ঝিমিয়ে, নুইয়ে, মেনে নিয়ে, সহ্য করে, আপস করে, ঠকে বাঁচার চেয়ে প্রতিবাদ করে নিজের বাঁচার পথ সুগম করা অনেক ভালো।

অন্যদিকে নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ ১ আগস্ট শনির আখড়ায় ট্রাকচাপার ঘটনা প্রসঙ্গে তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘শনির আখড়ায় আজ যা হলো সেটার পর বলতেই হচ্ছে- এদেশে আল্লাহর গজব নামতে বেশি দেরি নাই…।’

অন্যদিকে একই দিনে দেশের নন্দিত চিত্রনাট্যকার মাসুম রেজা সরকারের উদ্দেশে তার পোস্টে লেখেন, ‘সরকারের দায়িত্বশীল কেউ একজন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিন। এ পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা ওদেরকে জানান। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট হলফনামা দেওয়া হোক। নৌমন্ত্রীর নিষ্ঠুর আচরণের তুলনায় তার সামান্য দুঃখপ্রকাশ যথেষ্ট নয়। পরিবহন নীতিমালায় কী কী থাকছে মন্ত্রিসভায় ওঠার আগেই তার সারাংশ জানানো হোক। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে আছি।’
অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা লেখেন, ‘ধানমন্ডি থেকে উত্তরা যাচ্ছিলাম শুটিংয়ের উদ্দেশে। এয়ারপোর্ট ক্রস করার পর পরই দেখলাম জটলা, সব গাড়ি যে যার মতো তাড়াতাড়ি ঘোরাচ্ছে। সব গাড়ির সাথে পুলিশের গাড়িও ঘোরাচ্ছিল। ঠিক বুঝলাম না, পরে জানতে পারলাম বাস পোড়াচ্ছে সামনে। একটু পরই আমার পাশের বাসেই মারপিট শুরু, ভাঙচুর শুরু, কিন্তু আমার একটুও ভয় লাগলো না। বাসের ড্রাইভারের লাইসেন্স চাওয়াতে সে ক্ষেপে গেলেন- তাই শুরু হলো মারামারি। আমি দেখলাম স্টুডেন্টদের আবেগ, তারা তাদের সোনার দেশ তো সোনার মতোই খাঁটি রাখতে চায়। সমর্থন রেখে গেলাম।’

এদিকে নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন জাবালে নূর পরিবহনের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে লেখেন, ‘শুধু জাবালে নূর এর ফিটনেস আর লাইসেন্স বাতিল করেই দায়িত্ব শেষ! দেশটা তো আবালে নূর দিয়ে ভরে গেছে! আগে ‘মানুষ মারার লাইসেন্স’ ফেরত দেন।’

অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রথম থেকেই বেশ অ্যাকটিভ সোশ্যাল মিডিয়ায়। ২৯ জুলাইয়ের একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হবে না কিচ্ছু…। রাজীবরা হাত পা খোয়ানোর কষ্টে অভিমানে মরবে। কার কী হবে! ওদের (চালকদের) বিচার কেউ করবে না। এত সময় কার আছে? সময় নেই বলেই পায়েলকে (এনএসইউর ছাত্র) ফেলে দিয়েছে ব্রিজ থেকে। তো কী হবে বিচার?
যে তিনটা বাচ্চাকে আজ (২৯ জুলাই) শরীর থেঁতলে দিয়ে খুন করা হয়েছে ওরা কি আবার কলেজে যাবার জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে পারবে?
কী হবে আন্দোলন করে? অ্যাকসিডেন্টের কোনও বিচার নেই এটা ওরা জানে। তাই রাস্তার দাঁড়ানো মানুষকে পোকামাকড় মনে করে পিসে দেয় ওরা।
আচ্ছা কবে দেখছেন গণধোলাইয়ে যদি কোনও চোর মরে- তাহলে কি বিচার হয়? রাস্তায় একটা ছিঁচকে চোর পাইলে তো পেটাতে হেব্বি মজা লাগে। তাহলে এইসব মানুষখেকো শয়তান পিটায় মারতে কী মজা লাগবে বলেন!! এত আন্দোলন এর সময় কই। ইনস্ট্যান্ট পিটিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখলেই হয়। ও মানুষ মারছে, তাই সে গণধোলাইয়ে মরছে। এইসব বিচার চাওয়ার সময় কই…। আর কবে দেখছেন বিচার পেতে? তাই যেখানে ওরা মারবে, ঠিক সেখানে ওরাও মরবে…। কি দরকার বিচার চেয়ে সময় নষ্ট করার।’

৩১ জুলাই যুক্তরাজ্যে বসে সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ লেখেন, ‘হে বাংলাদেশ- ১৮ বছর বয়সের বুকে এতো ঘৃণা ও ক্রোধ জমিয়ে তুমি কাকে দেশপ্রেমিক বানাতে চাও?’

একই দিন তরুণ কণ্ঠশিল্পী পুলক অধিকারী রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে লেখেন, ‘এতোদিন ছিলাম ডিজিটাল, আজ থেকে ফিজিক্যালি থাকবো রাস্তায় প্রিয় ছাত্রদের সাথে। উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’

একটি ভিডিও শেয়ার দিয়ে কণ্ঠশিল্পী কোনাল লেখেন, ‘এক মায়ের আর্তনাদ, এক বোনের হাহাকার, এক বন্ধুর কান্না, আর কত? আর কতবার বললে, আর কত অপরাধ করলে, আর কত জীবন পিষ্ট হলে দেশমাতা শুনবেন? আর কত মায়ের বুক খালি হলে, বেঠিক হবে সঠিক?’

এদিকে টেলিভিশন অভিনয়শিল্পী সংঘের নেতা ও অভিনেতা রওনক হাসান ৩১ আগস্ট তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে, পুলিশের মার খাবে আর তাদের বাবা মা বাসায় বসে ইয়া নফসি করবে, আমরা ফেসবুকে সহমত, মানি না, মানা যায় না ইত্যাদি ইত্যাদি বলে প্রতিবাদে ফেসবুক ফাটিয়ে ফেলবো তাতেই সমাধান ভাবছেন?
রাস্তায় নামলে কালার হবেন, সরকারবিরোধী বলে বিবেচিত হবেন, সরকারি যেসব সুবিধা ভোগ করছেন বা ভোগ করবেন বলে ভাবছিলেন সেগুলো ব্যাহত হবে বলে ঘরে বসে আছেন? অথবা আমি ছাপোষা মানুষ আমার কীইবা করার আছে- এসব ভাবছেন!
তাহলে শুনুন, রাস্তার নিরাপত্তার দাবি সরকারবিরোধী কোনও আন্দোলন নয়। এটি মানুষের মৌলিক দাবি। আওয়ামী লীগ আরও পাঁচ, দশ, বিশ বছর সরকারে থাক। কিন্তু অবশ্যই মানুষকে সাথে নিয়ে। এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। তাদের অগ্রাহ্য করে কখনও কেউ সফল হয়নি। আর সরকারবিরোধী দল যারা আছেন, সকল আন্দোলনে পলিটিক্স না খুঁজে জনগণের দাবির সাথে মিলিত হন। সবকিছুতেই সরকারের পতন চাই বলে তোতা পাখি না হয়ে মানুষের বন্ধু হন। আর সাধারণ আমরা যারা আম জনতা, আমরা কি ভাবছি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের কাঁধে বন্দুক রেখে দাবি আদায় হয়ে যাবে! মা-বাবারা ঘরে বসে ইয়ানাফসি না করে রাস্তায় সন্তানের পাশে দাঁড়ান। যে পুলিশ বাচ্চাদের রক্তাক্ত করছেন কাল দেখুন আপনারই সন্তান অন্য পুলিশের হাতে রক্তাক্ত হবে। আর প্রতিবাদী বিপ্লবীরা ফেসবুকে আর ঘরে বসে না থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসুন হে!’

৩০ জুলাই অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া লেখেন, ‘এইসব ১২/১৫ বছরের বাচ্চারা তো শখ করে রাস্তায় নামেনি! তাদের বাধ্য করা হইছে! হ্যাঁ কষ্ট হচ্ছে। শান্তিনগর থেকে গুলশান হয়ে, ৩০০ ফিট ঘুরে, উলুখোলা হয়ে উত্তরা যেতে হচ্ছে আমাকে! কিন্তু আমাদের এই সাময়িক কষ্ট থেকে এইসব সমস্যার একটা শক্ত সমাধান জরুরি।
আজকে ওদের বন্ধুদের মৃত্যুর জন্য ওরা রাস্তা অবরোধ করেছে! কালকে আমি আমার কোনও বন্ধুর মৃত্যুর বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে চাই না!’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আগে থেকে একটু জানালে কিছু মানুষ যারা বিদেশ যাচ্ছে কিংবা কারও পরীক্ষা আছে- তাদের দুর্ভোগটা কম হতো!’

১ আগস্ট নিজের ফেসবুক দেয়ালে আন্দোলনরত ছাত্রদের একটি ব্যানারের ছবি পোস্ট করে অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল লেখেন, ‘বুকে গুলি করিস না, এখানে বঙ্গবন্ধু ঘুমায়। বন্ধু জেগে উঠলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এদিকে চলচ্চিত্রের মানুষদের চলমান আন্দোলন নিয়ে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ফেসুবক-টুইটারে। এরমধ্যে চিত্রনায়ক নিরব হোসেন ছোট্ট করে লেখেন, ‘সাথে আছি ভাই তোদের…।’

অভিনেত্রী-নির্মাতা-কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন এই আন্দোলনের শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ অ্যাকটিভ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পোস্ট হলো এমন-
ওরা কিন্তু রাজনীতি বোঝে না- রাজনীতি করতে পথে নামেও নি.., কিন্তু রাজনীতির প্রতি, রাজনীতিবিদদের প্রতি কি পরিমাণ ঘৃণা জন্মে যাবে তাদের মনে ভেবে দেখছেন?
এই ছেলেপুলে গুলোই আগামী ২/১ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে- হয়তো ছাত্র রাজনীতিও করবে। আজকের এই ঘৃণা কি ওদের ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে দেবে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- তিনি তো কোমল হৃদয়ের মানুষ… সারা জীবন সেভাবেই দেখে এসেছি তাঁকে। আজ কেন তাঁর কোমলতা দেখাতে দেরি করছেন? তাঁর সম্বন্ধে এই বাচ্চাগুলোর ধারণা কোনদিকে যাচ্ছে!
প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- আপনি ছাড়া আর কে আছে আমাদের? কার কাছে যাব? আপনাকে এই কিশোর কিশোরীরা ভুলভাবে জানুক তা তো চাই না। এদের ঘরে ফেরাতে আপনার একটি আশ্বাসের বাক্যই তো যথেষ্ট। আপনি কি তাদের মাথায় আপনার হাতটা একটু রাখবেন না?

এদিকে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক তার সহকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে ১ আগস্ট লেখেন, ‘আমি রাজপথে নামছি। আপনি? চলুন সবাই মিলে সোচ্চার হই। আর কোনও মৃত্যু নয়।’

গীতিকার দেলোয়ার আরজুদা শরাফ পুলিশের প্রতি প্রশ্ন তোলেন গানের তালে, ‘কাকে পেটাও/ কার রক্ত ছিটাও/ কাকে করছো শেষ/ মনে রেখো- ওরাই বাংলাদেশ।’

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কড়া বক্তব্য নৌপরিবহন মন্ত্রীকে ঘিরে। তার ভাষ্য এমন, ‘ইনবক্সে কেউ কেউ লিখছেন, ভাই, শাজাহান খান তো নৌপরিবহন মন্ত্রী। সড়ক পরিবহনের সমস্যায় উনি পদত্যাগ করবেন কেন? উনি নৌপরিবহনমন্ত্রী সবাই জানে। কিন্তু উনি যেহেতু উভয়চর প্রাণী সেহেতু উনার রাজত্ব ডাঙ্গায়ও বিদ্যমান। সড়ক পরিবহন খাতের নাটের গুরু এই লোক, এটা সবাই জানেন। তবে উনাকে বরখাস্তের কথা আসছে, উনার নিষ্ঠুরতা এবং মন্ত্রীর পদমর্যাদা খাটাইয়া ষণ্ডামি করার কারণে। নৈতিকভাবে তো উনার মন্ত্রিত্ব হারানোর কথা ছিল তারেক মাসুদের ঘটনার পর উনার ভূমিকার কারণেই। এইবার সেটা ষোলকলা পূর্ণ হইছে। এখানে মনে রাখা দরকার, কেউ উনার পদত্যাগ চাচ্ছে না, চাচ্ছে বরখাস্ত। পদত্যাগ করার মতো লজ্জা শরমবোধ উনার নাই। সবশেষে, সড়ক পরিবহন নীতিমালা বা আইন কানুন সংস্কার সেটা অন্য বিষয়। সেটার জন্য সরকারের দায়িত্বশীল মহলকে চাপ দিতে থাকেন।’

এক জীবনে অনেক প্রতিবাদী গান নিজে লিখে কণ্ঠে তুলেছেন মাকসুদুল হক। হয়েছে প্রচুর জনপ্রিয়। এবার তিনি নতুন গান না বাঁধলেও জানিয়েছেন কড়া প্রতিক্রিয়া। তার পোস্ট এমন, ‘মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাটে বাস ও যানবাহন ভাংচুরের খবর আসছে। আমি মনে করি কেবল দুটো আততায়ী বাসের রুট পার্মিট বাতিল করে বা বাস আটক করলেই জনগণ সন্তুষ্ট হবে না। সুষ্ঠু তদন্ত, চালক ও মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ, নিহত ও আহতদের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ না পাওয়া অব্দি সমগ্র জাবালে নূর-এর বাস ও তাদের রুট পার্মিট বাতিল করার দাবি তুলুন। এদের পেটে লাথি না মারা অব্দি এরা এই হত্যাযজ্ঞ নির্দ্বিধায়, নির্দয়ে ও নির্বিকারভাবেই চালিয়ে যাবে। Stop them before it’s too late!’
এদিকে দেশের অন্যতম অভিনেত্রী বন্যা মির্জা কৌশলে লেখেন, ‘কাল (৩০ জুলাই) ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামে থেমে পড়েছিল ঢাকা। তবু পথচলতি মানুষেরা কেউ বিরক্ত হননি একটুও। যেন বা আজকের ট্রাফিক জ্যাম এবং কয়েক ঘণ্টা থেমে থাকা ঢাকা নগরী- আমাদের জন্য খুব জরুরি ছিল।’

ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ ১ আগস্ট আন্দোলনের কিছু ছবি পোস্ট করে মুগ্ধতা নিয়ে লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগের দৃশ্য এয়ারপোর্ট রোডের সামনে। ছাত্ররা পুলিশের গাড়ির কাগজ-পত্র চেক করে দেখে কারোরই কোনও লাইসেন্স নাই। তারা শুধু গাড়ির গায়ে লিখে দেয়- লাইসেন্স নাই। পুলিশের লোগোটা কলমের কালি দিয়ে কেটে দেয়। কি অদ্ভুত ব্যাপারটা!’
অভিনেত্রী নওশীন নাহরিন মৌ লেখেন, ‘আজকের পর থেকে পুলিশকে সম্মান করার কোনও যুক্তি আছে? এই বাচ্চাগুলোর গায়ে যারা হাত তুলতে পারে তারা আর যাই হোক, মানুষ না।’
জ্যোতিকা জ্যোতি লেখেন, ‘“ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত, আমরা আনিব রাঙা প্রভাত… চল্ চল্ চল্…’
আর ঘরে বসে থাকা যায় না, আমার মন উত্তাল তোমাদের সাথে! আপনি আছেন তো?
৩১ জুলাই রাতে সোহানা সাবা লেখেন তার বাবা-চাচাদের মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা টেনে অসাধারণ একটি লেখা। সেটি হলো এমন-
আমার বাবা আর বড় চাচ্চুকে ট্রেনিং এর জন্য ইন্ডিয়া পার করে দিয়ে আসেন আমার দাদুভাই৷ বাড়িতে এসে আমার দাদুভাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ, ট্রেনিং শেষে ছেলেরা দেশে আসবে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে, হয়তো ছেলেরা আর ঘরে ফিরবে না। হয়তো এটাই শেষ দ্যাখা।
আমার বাবা তখন ক্লাস এইটের ছাত্র, ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সেজো।
আমার বাবা সাহসের সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে ঘরে ফিরেছিলেন। তবুও বাবার চেয়ে আমি বেশি অহংকার করি দাদুভাই ও দিদুমনিকে নিয়ে৷ এই দুই মহৎপ্রাণ মানুষ দেশের জন্য প্রাণপ্রিয় ছেলেদের বলি দিতেও প্রস্তুত ছিলেন।
আজকেও বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের চেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাবো তাদের বাবা-মা’কে।
আমার ছেলের বয়স এখনও ৪ বছর হয়নি।
সে আরেকটু বড় হলে আমিও তাকে আন্দোলনে পাঠাতাম।
হতাম দেশের জন্যে জীবন বাজি রাখা ছেলের অহংকারী ‘মা’!

এদিকে কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী লেখেন, ‘যারা ইন্ধন দিয়ে বাচ্চাদের মারছেন, তারা কিন্তু পরবর্তী ফলাফল ভেবেই সরকারকে ডোবাচ্ছেন। এই আগুন কিন্তু থামানো মুশকিল।’

এই সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান লেখেন, ‘এ মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? ৩টা তরতাজা প্রাণ ঝরে গেলো! বিচার কি আদৌ হবে? নাকি চলছে, চলবে?’

অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি লেখেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্যে শিশুরা মার খাচ্ছে। আজব ! যারা প্রতিদিন গণপরিবহনে যাতায়াত করেন তারা কোথায়? কাউকেই তো দেখছি না?
মনে রাখবেন অপরাধ যে সহে এবং অপরাধ যে করে উভয়ই অপরাধী।’
প্রসঙ্গত, এমন আরও অসংখ্য প্রতিক্রিয়া রয়েছে তারকাদের ফেসবুক দেয়ালে দেয়ালে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest