সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মাটি বহনকারী ট্রলির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যুইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউলের জীবন যুদ্ধগণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের মিছিল ও সমাবেশসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা : গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণশ্যামনগরে নদীর চরে গাছ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনকালিগঞ্জে চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের বাড়ি থেকে ১২শ লিটার ডিজেল উদ্ধারকলারোয়ায় সাপের কামড়ে তরুণীর মৃত্যুজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাআঙ্গুল : গার্লস স্কুলে ভর্তি নিচ্ছে না প্রধান শিক্ষকজাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের সদস্য সচিব এবং সদস্য -এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিবৃতিদিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষের বাগান বাড়ির চার শতাধিক গাছ কেটে ক্ষতিসাধন

ছেলেদের আগে মেয়েরাই দেশকে দিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব

এই কদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে সবকটি ম্যাচ হেরে এসেছিল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। তবে শেষের ম্যাচগুলোয় লড়াকু মনোভাবটা খুব ভালোভাবেই বোঝা গিয়েছিল রুমানা-সালমাদের। সেই লড়াকু মনোভাবের পরিণতি হলো এশিয়া কাপে। শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল টিম টাইগ্রেস।

বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলে যেমন বিশ্বমানের তারকা আছে, প্রচুর টাকা আর স্পনসরের ছড়াছড়ি আছে; মেয়েদের সেসব কিছুই নেই! তারপরেও দেশকে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব এনে দিল টাইগ্রেসরা। তিন বা ততোধিক দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ছেলেরা বারবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা হাতছাড়া করেছে। কিন্তু মেয়েরা সেই ভুল আর করল না। প্রথম সুযোগি বাজিমাত!

হ্যাঁ, এবারই প্রথম এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলল সালমা খাতুনের দল। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জিতল শেষ বলের ম্যাজিকে। আর ছেলেরা এর আগে ২০০৯ সালে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ, ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হার, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনালে হার, গত জানুয়ারিতে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আরেকটি হার এবং সর্বশেষ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে এই ভারতের কাছেই পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

মেয়েরা এবার ছেলেদের হয়ে কি প্রতিশোধ নিয়ে নিল? ম্যান অব দ্য ম্যাচ রুমানা আহমেদ কিন্তু এমন কিছু বলেননি, বলেছেন মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য আরও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে। তাহলে দেশকে আরও বড় বড় সম্মান এনে দিতে পারবে বাংলার বাঘিনীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতকে উড়িয়ে এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলার বাঘিনীরা

খেলার খবর: বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্মান এনে দিল জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে নিয়েছে বাংলার বাঘিনীরা।

দেশের পুরুষ ক্রিকেট দলও এর আগে কখনই তিন বা তার অধিক দেশের অংশগ্রহণে কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা এনে দিতে পারেনি। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে বাঘিনীরাই আজ দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দেশকে এশিয়ার সেরার মর্যাদা এনে দিল।

টসে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিং তাণ্ডবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রান তুলে ভারত। ভয়ংকর ব্যাটিং লাইনআপের দলটি এদিন খাদিজা-রুমানাদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর ৪২ বলে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন। মিথালি রাজ এবং কৃষ্ণমুর্তি ১১ রান করে করেন। যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত। রুমানা এবং খাদিজা ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে নেন অধিনায়ক সালমা এবং জাহানারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর মিয়ানমারের, হতাশ রোহিঙ্গারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরাতে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মিয়ানমার। এই চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি। এ কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশে শরনার্থী রোহিঙ্গারা। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

মিয়ানমারের সেনা শাসিত সরকার ১৯৮০’ র দশকে এক আইনের বলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়। কয়েক প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করছেন রোহিঙ্গারা। তবুও তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বলে চিহ্নিত করে চালানো হয় সেনা প্রচারণা। সুপরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বিদ্বেষী মনোভাব গড়ে তোলা হয়। সর্বশেষ গত বছর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে সহিংসতা জোরালো করে। এর ফলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক চাপে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর গত বুধবার জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে মিয়ানমার। তবে, ওই চুক্তিতে নাগরিকত্বের প্রশ্নের মীমাংসা না হওয়ায় বহু বছর ধরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের মিথ্যা আশ্বাস পেয়ে আসা রোহিঙ্গারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের তৈয়ব আলী বলেছেন, প্রথমে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিতে পারে ইয়াঙ্গুন সরকার। যখন আমরা দেখে শুনে নিশ্চিত হবো, তারা নাগরিক অধিকার অধিকার উপভোগ করছে তখন আমরা ফিরে যাবো।

শরণার্থী শিবিরের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা সত্যিকার অর্থে কোনো চুক্তিতেই খুশি হতে পারছেন না যতক্ষণ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে, জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জটিল আলোচনার ক্ষেত্রে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রথম পদক্ষেপ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঝড়-বজ্রপাতে ভারতে ২৬ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক খবর: ঝড় ও বজ্রপাতে ভারতের উত্তরপ্রদেশে শুক্রবার সকালে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে নয়জন বজ্রাঘাতে নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, বজ্রাঘাতের পর কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভবনের অংশ ধসে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আরও সাতজন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি লোক আহত ও নিহত হয়েছেন সুলতানপুরে।

এদিকে সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের পরিবারকে চার লাখ রুপি করে দিতে বলা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে রাজ্যে বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মোদীর দ্বারস্থ বিএনপি? ৩ সদস্যের দল এখন ভারত

রাজনীতির খবর: বিএনপির ৩ সদস্যের দল এখন ভারতে অবস্থান করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে দিল্লি গেছেন বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অপর দুই সদস্য হলেন: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়ার মিন্টু এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবির।

ভারতে বিএনপির প্রতিনিধি দলটি মোদীর দারস্থ হচ্ছেন বলে মনে করছে ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম। বিবিসির বরাত দিয়ে একটি গণমাধ্যম সংবাদের শিরোনাম করেছে এভাবে, “হাসিনাকে চাপে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মোদীর দ্বারস্থ খালেদার দল।”

বিবিসি তার সংবাদে লিখেছে, বিএনপি নেতারা সেখানে তারা দেশটির প্রভাবশালী কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা থিংক ট্যাংকে সাবেক কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

দি হিন্দু পত্রিকায় লেখা হয়েছে – দিল্লিতে বিএনপি নেতারা বাংলাদেশের একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের সহায়তার জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট৷ তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগে জোট সরকারের৷ সম্প্রতি দিল্লি গিয়েছিলেন আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা৷ তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর৷ এরপরেই পশ্চিমবঙ্গে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের পর সেখানেই হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ এই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক আরও জোরালো করার বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে৷ তবে বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা জলবন্টন চুক্তি এখনো সম্ভব হয়নি৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অর্থের বিনিময়ে জিপিএ-৫ বিক্রির ভিডিওসহ প্রতিবেদন

স্কুল-কলেজে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ নামক সোনার হরিণের জন্য শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু প্রশ্নফাঁস সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের এ অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। সম্প্রতি আরেকটি অভিযোগ উঠেছে। সেটি হল অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে এ জিপিএ-৫।বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এ তথ্য। সেখানে দেখা গেছে নাম সর্বস্ব কলেজ খুলে, মাত্র তিন লাখ টাকায় জিপিএ-৫ বিক্রি করা হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে:

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সুমনা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গরীব ও দুস্থ্যদের মাঝে ঈদ সামগ্রি বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার স্বেচ্ছাসেবামূলক সামাজিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সুমনা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অসহায়, গরীব ও দুস্থ্যদের মাঝে ঈদ সামগ্রি ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। রবিবার কাটিয়াস্থ রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে সুমনা ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সুমনা ফাউন্ডেশনের পরিচালক এ এস এম মাকছুদ খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে দুঃস্থ্যদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মনোয়ারা খান, শিমুন শামস, সাতক্ষীরা এক্সপ্রেসের সত্বাধিকারী মোঃ রেজাউল করিম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ আনোয়ার প্রমূখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সেহরি ও ইফতারে যেসব খাবার খাবেন না!

স্বাস্থ্য ডেস্ক: সিয়াম সাধনা আর সংযমের মাস রমজান। সারা দিনের সংযমের পর ইফতারির সময় আমাদের সব সংযম যে হারিয়ে যায়। মনে হয় রমজান এসেছে শুধু বেহিসাবি ও রকমারি খাবারের বার্তা নিয়ে। ভোজনরসিক অনেক বাঙালির ক্ষেত্রে রমজান যেন শুধু খাওয়ারই উৎসব। যুগ যুগ ধরে বাঙালি ধরে রেখেছে এই ইফতারির ঐতিহ্য।

সারা দিন রোজা রেখে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ইফতারের পর সেগুলো ধীরে ধীরে সতেজ ও কর্মক্ষম হয়ে ওঠে। তাই সবার মনে রাখতে হবে, এই ইফতারে যেন এমন কিছু খাওয়া বা পান করা না হয়, যাতে ওই অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সতেজ ও কর্মক্ষম হওয়ার পরিবর্তে দুর্বল হয়ে পড়ে। রোজাদারের মধ্যে কেউ সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে, আবার কেউ ডায়াবেটিক, কেউ হৃদরোগী কেউ বা আলসার আক্রান্ত থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, কার জন্য কোন ইফতার ক্ষতিকর; সেগুলো খাওয়া ঠিক হবে না।

রোজার একটি পরম আনন্দ ও তৃপ্তি হলো ইফতারে। সারা দিন রোজা রেখে দিন শেষে পরিবারের সবাই যখন একসাথে ইফতারে বসে এবং পরিবারের বাইরে হাটবাজারে, মসজিদে সবাই যখন একসাথে বসে ইফতার করে, তখন সবার মনে এক অনাবিল আনন্দ বিরাজ করে। কোথাও কোথাও ইফতার বিনিময় করে আনন্দে ও তৃপ্তিতে। কিন্তু এই ইফতার করতে গিয়ে কখনো আমরা বাড়াবাড়ি করে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

লোভ সংবরণ করাও রোজাদারের জন্য ইবাদত। লোভ সংবরণ করে যদি সুস্থ থাকতে পারি, তাহলে সেটাই কি ভালো নয়? লোভ সামলাতে না পেরে যদি এমন কিছু খাই, যা আমার কষ্ট বৃদ্ধি করে, সেটা কি আমাদের কাম্য হওয়া উচিত? ভাজাপোড়া বা ঝলসানো কোনো খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য উপাদেয় নয়। তবুও মুখরোচক বলে খাই। কিন্তু সেটাও সংযত হওয়া ভালো।

আমরা বলি, দিন শেষে পেঁয়াজু, ডালবড়া, আলুর চপ, কাবাব, গ্রিল করা মুরগি না খেলে ভালো লাগে না; কিন্তু সারা দিন উপবাস থেকে এই তেলে ভাজা খাবার যে কত ক্ষতিকর তা বুঝি না বা বুঝতে চাই না বলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পেটে গ্যাস হয়। টক ঢেঁকুর উঠতে থাকে। পেট ফুলে ওঠে। মাথা গরম হয়। পেটে উৎপন্ন গ্যাস ওপর দিকে চাপ দেয়। তখন বুকে ব্যথা হয়।

আল্লাহর রাসূল শুধু সাদা পানি ও খোরমা বা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। আমরা ইফতারে ভেজানো নরম চিঁড়া ও কলা, চিঁড়া ও টকদই বা মিষ্টিদই, শসা, ক্ষীরা, তরমুজ, বাঙ্গি ইত্যাদি দিয়ে ইফতার করতে পারি। এগুলো ভালো। লেবুর শরবতে ইসবগুলের ভুসি দিয়ে খেতে পারি। মুড়িতে অল্প তেলে ভাজা সেদ্ধ ছোলা খাওয়া যায়।

ডায়াবেটিক না থাকলে গুড় বা চিনির ফিরনি বা ক্ষীর খেতে পারেন। এগুলো ক্ষতিকর নয়। হৃদরোগী, ডায়াবেটিক রোগী, পেটে আলসার ও গ্যাস্ট্রিক রোগীদের ভাজাপোড়া খাওয়া নিষেধ। ইফতারের পর নামাজ শেষে শুয়ে পড়া ঠিক নয়। অন্তত ১৫-৩০ মিনিট হাঁটাচলা করা উচিত। যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করতে হবে। বাজারে যেসব টিক্কা, কাবাব ইত্যাদি বাহারি খানা পাওয়া যায়, ওইসব খাবার না খাওয়াই উচিত।

সেহরি বা রাতের খাবারে শাকসবজি, মাছ ও ডাল খাওয়া ভালো। যাদের পেটে আলসার তাদের সর্বপ্রকার ভাজাপোড়া খাবার নিষিদ্ধ। তাদের ইফতারে অবশ্যই এক কাপ টকদই খাওয়া উচিত। অথবা টকদই আর কলা মেখে খেলে উপকার হবে। যারা হৃদরোগী তারাও এটা খেলে ভালো হবে।

যারা পেপটিক আলসারে ভুগছেন, তারা ইফতারে কোনো ভাজাপোড়া বা ঝলসানো কিছু খাবেন না, বরং কচি শসা খেলে উপকার হবে। তবে লেবুর শরবত খাবেন না। রূহ আফজা, সিনারোজ বা মর্ডান শতায়ু শরবত খেতে পারেন। চিঁড়া-দই বা চিঁড়া কলা খাবেন।

যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তাদের জন্য ভাজাপোড়া নিষেধ। লাল গোশত না খাওয়াই ভালো। তাজা কচি মুরগি পেঁপে বা মানকচু দিয়ে কম গরম মসলা সহযোগে রান্না করে খেতে পারেন। ইসবগুলের ভুসির শরবতও উপকারী।
সেহরি বা রাতের খাবারে শাকসবজি, মাছ, ডাল ও সালাদ খাবেন। সেহরি বা ভোরে গোশত না খাওয়াই ভালো। হালকা খাবার শ্রেয়। যেমন-আটার রুটি, সেমাই, কম তেলে রান্না সবজি। খাওয়া শেষে এক গ্লাস মাঠা বা ঘোল অথবা টকদইয়ের শরবত খাবেন।

আমাদের রোজাদারদের মনে রাখতে হবে, দিন শেষে রাজকীয় খাবার, যেমন-পোলাও, বিরিয়ানি, কোপ্তা, কাবাব খাওয়ার জন্য রোজা রাখি না। ইবাদত-বন্দেগি ও জিকির করার জন্য রোজা, বেঁচে থাকার লক্ষ্যে খাওয়া-দাওয়ার জন্য রোজা নয়। ভুলে গেলে চলবে না, আল্লাহর রাসূল সামান্য ফলমুল বা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest