সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনির কাকবাসিয়ায় পাউবো’র বেড়ী বাঁধে আবারও ভয়াবহ ভাঙ্গনভালোবাসার একযুগ এতিম শিশুদের হাসি আর ভ্যানচালকদের পাশে যমুনা টেলিভিশনসাংবাদিক জিন্নাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনজংধরা ও ভাঙা ফ্লোরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার : সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমেআশাশুনির খাজরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাচ্চুকে অপসারন ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনসাতক্ষীরায় কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তিপ্রদান ও পুরস্কার বিতরণীসাতক্ষীরায় কলেজের অধ্যক্ষকে পিটিয়ে বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের পর উল্টো বিভিন্ন অনলাইনে অপপ্রচারInstant casino’s bieden meer dan alleen snelheid: een diepgaande analysePianificazione Strategica del Cool‑Off nel Gioco d’Azzardo Online – Come Trasformare le Pause in Strumenti di Benessereการเลือกเกมที่ตอบโจทย์สไตล์การเล่นของคุณใน playbet casino

‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ এ পুলিশের হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যাবে

ন্যাশনাল ডেস্ক: সম্প্রতি ধরে নিয়ে টাকা দাবি, ক্রসফায়ার ও বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ এসেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এছাড়াও প্রায় প্রতিনিয়তই পুলিশের হাতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে। কিন্তু মানুষ কোথায় অভিযোগ করবেন, সেটা জানা নেই। পুলিশের হাতে হয়রানির শিকার হলে অভিযোগ করার জন্য কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে। আছে হটলাইনও। তবে হটলাইনগুলো জরুরি সেবার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা সমীচীন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, পুলিশের হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য রয়েছে কয়েকটি মাধ্যম। তবে এজন্য আলাদাভাবে ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ নামে একটি সেল রয়েছে পুলিশ সদর দফতরে। পুলিশ সদস্যদের যেকোনও অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরাসরি অভিযোগ করার জন্য এই সেলে রয়েছে দু’টি মোবাইল ফোন নাম্বার (০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫ ও ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৬)। এ দু’টি নাম্বারে ফোন করে কিংবা ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) দিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করা যায়।

এছাড়াও রয়েছে একটি ই-মেইল ঠিকানা (complain@police.gov.bd)। এই ই-মেইল ঠিকানাতেও লিখিত অভিযোগ করা যায়। এছাড়া ডাক কিংবা কুরিয়ার যোগে ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ –এপুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যায়। ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ চালু করা হয়।

এছাড়া হয়রানির শিকার যে কেউ ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ করতে পারেন।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘পুলিশের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং বাহিনীতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ‘‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’’ চালু করা হয়। পুলিশের যেকোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সেটা সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে শাস্তির সুপারিশ করে থাকে। পরে পুলিশ সদর দফতর থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ছাড়াও ফৌজদারি মামলা করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশের সব পর্যায়ের সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

সহেলী ফেরদৌস আরও বলেন, ‘৯৯৯-এ যে কেউ অভিযোগ করতে পারবেন। তবে এটি জরুরি সেবার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তাই এখানে হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্টভাবে ‘‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’’-এ মোবাইলে কিংবা ই-মেইল ও ডাকযোগে অভিযোগ করলেই ভালো হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বড় হয়ে প্রিয়াঙ্কা হতে চায় রোহিঙ্গা শিশু মিমি

বিনোদন ডেস্ক: আফসানা মিমি (৬) বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ এর আশ্রিত জাফর আলমের মেয়ে। বিগত ৮ মাস আগে পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও সে বোঝে না দেশান্তরি হওয়ার মর্ম। তাই অন্য শিশুদের মতো পুরো পৃথিবীটাই তার ঘর। এ কারণে যেকোনো বিষয়ের সঙ্গেই নিজেকে কল্পনা করতে উৎসুখ সে। তাই ভবিষ্যতে প্রিয়াঙ্কা হতে চায় বালুখালীতে মুক্তি ও ইউনিসেফ পরিচালিত শিশুবান্ধব ‘ভোরের পাখী’ শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থী মিমি।
বুধবার ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত ও বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বালুখালী ক্যাম্পে এসে ‘ভোরের পাখী’ শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘বড় হয়ে কে কী হতে চাও’ এমন প্রশ্নে মিমি এ কথাটি বলে।
তবে বুধবারও শিশুবান্ধব কেন্দ্র পরিদর্শনকালে আগের দিনের মতো কোনো গণমাধ্যমকর্মী তার ধারে কাছে আসতে পারেনি।
ভোরের পাখী শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক জন্নাতুল ফেরদৌস জানায়, বুধবার সকালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তাদের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে আসেন। কেন্দ্রে অবস্থান করা শিশুদের কাছে তার পরিচিতি তুলে ধরা হয়। তাকে টিভিতে নাচতে দেখেছে বলে উল্লেখ করে অনেক শিশু। এরপরও সরল ভাবে বোঝাতে প্রিয়াঙ্কা তাদের (নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের) উন্নয়নে কাজ করতে ক্যাম্পে এসেছেন বলে জানানো হয়। তখন রোহিঙ্গা শিশু ও কিশোর-কিশোরিদের সঙ্গে খেলাধুলায় মত্ত হন প্রিয়াঙ্কা। ফাঁকে ফাঁকে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের কাছে জানতে চান, তারা বড় হয়ে কে কী হতে চাই। অনেকে অনেক পেশার কথা বললেও আফসানা মিমি বলে, বড় হয়ে সে প্রিয়াঙ্কা হতে চাই। সেও আশ্রিত মানুষ ও শিশুদের উপকারে কাজ করবে বলে জানায়।

জন্নাতুল ফেরদৌস আরও জানান, মিমির মুখে একথা শোনার পর প্রিয়াঙ্কা মিমিকে আদর করে বলেন, এটি হতে হলে তোমাকে পড়ালেখা করতে হবে। বিশ্বকে জানতে হবে। নিয়মিত স্কুলে আসতে হবে।

এখানে রোহিঙ্গা শিশুরা কী ধরনের সেবা পাচ্ছে? শিশুবান্ধব কেন্দ্রের ব্যবস্থাপককে প্রিয়াঙ্কা এমন প্রশ্ন করলে তাকে জানানো হয়, মিয়ানমারে নিপীড়ন দেখে এ দেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা কিশোর-কিশোরীদের মাঝে যে আতঙ্ক বিরাজমান ছিল শিশুবান্ধব কেন্দ্রে বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের অন্তর থেকে ক্রমশ সেই স্মৃতি ধূসর হচ্ছে। তারা এখানে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পড়ালেখা ও খেলাধুলা করতে পেরে আনন্দবোধ করছে।

এরপর তিনি সব শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা নিয়মিত স্কুলে আসবে, মনযোগ দিয়ে পড়বে। যাওয়ার সময় সবাইকে ডেকে ছবি তোলেন প্রিয়াঙ্কা। এ সময় আফসানা মিমি ‘ভি’ চিহ্ন দেখালে তার দেখাদেখি নূর ফাতেমা, আমেনা, হালিমা, মায়মূনা, নূর কায়েস ও রহিমসহ অন্য শিশুরাও তা দেখায়। আর এটি দেখে প্রিয়াঙ্কা হাস্যোজ্জল হয়ে ওঠেন।

এরপর সেখান থেকে জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হন প্রিয়াঙ্কা। সেখানে গিয়েও রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের মনের আকুতি-চিন্তাচেতনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। এখানেও শিশুদের সঙ্গে খেলেন তিনি।

তিনদিন ধরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৫টি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়ঙ্কা বলেন, সবার সহযোগিতায় বদলে যেতে পারে রোহিঙ্গা শিশুদের জীবন। আসুন হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাই একসঙ্গে তাদের জীবনকে পাল্টে দিতে কাজ করি।

এসব কথা তিনি ইউনিসেফের ফেসবুক ভেরিফাইড পেইজেও উপস্থাপন করেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন। সেখান থেকে তিনি প্রায় ১৫ মিনিট সময়ের জন্য ফেসবুক লাইভে আসবেন। এরপর তার কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুইটা বছর অনেক সহ্য করেছি, আর না: মাহি

বিনোদন ডেস্ক: দুইটা বছর অনেক সহ্য করেছি, আর না। আজকে আমি দুঃখিত, আমরা আমাদের বিবাহিত জীবনের তৃতীয় বছরে পা দিব। তাই, কান খুলে শুনে রাখো আজকে থেকে আমাকে একা একা আর যেনো ঝগড়া করতে না হয়। যখনি আমি ক্ষেপে যাব তুমিও আমার উপর ক্ষেপে যাবা। আর আমরা ঝগড়া শুরু করে দিব।

yesssssss…. কি মজাটাইনা হবে দুইজন মিলে ঝগড়া করবো, কাপড় চোপড়, চিরুনি, পারফিউমের বোতল, ঝাড়ু আরও কত কী ছুড়াছুড়ি করবো, wowwww

আর যদি ঝগড়া না করে চুপচাপ থেকে শুধু আমার চিল্লাচিল্লি শুনো, যা যা ছুড়ে মারবো সবকিছু ক্যাচ ধরো তাহলে দুই মিনিট পরে যখন মাথা ঠান্ডা হবে তখন আর ‘আই লাভ ইউ’ বলবোনা এক্কেবারে খামচি মারবো।

মনে থাকে যেনো ।

(অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেষ সময়টা দারুণ অর্থকষ্টে কেটেছে তাজিনের

বিনোদন ডেস্ক: শেষ জীবনে অর্থকষ্টে ভুগেছেন তাজিন আহমেদ। হাতে তাঁর কাজ ছিল না প্রায়ই। তাজিনের মা দিলারা জলি চেক ডিজঅনার মামলায় দুই বছর ধরে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন। একাকী বসবাস করতেন তিনি। অনেক ডিপ্রেশনেও ছিলেন বলে জানা যায়।

অর্থের অভাবে নাকি নিজের মা’কে বাসার খাবার পাঠাতে পারতেন না। এমনটাই জানালেন তাজিনের কাছের মানুষজন। নির্মাতা অনিমেষ আইচের ফেসবুক স্ট্যাটাসে পাওয়া যায় তাজিনের অর্থাভাবের কথা। অনিমেষ আইচ নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে লিখেন, ‘মরে গেলেই আহা…উহু! বেঁচে থাকতে কেউ পুছে না। ঈদ নাটক মানেই সব টাকা দিয়ে একটা মোশাররফ করিম, জাহিদ হাসান, অপূর্ব এবং স্টার কাস্ট কিনতে হবে। মরে গিয়ে বেঁচে গেলেন তাজিন। একজন শিল্পির অপমৃত্যুর জন্য আমরাই দায়ী। সামনে অকালমৃত্যুর দীর্ঘ সারি।’

অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে লিখেছেন, এখন নাটকে মিতা,তাজিনদের লাগে না,কিছু অসাধারন কাজিন আর চড়া মুল্যের পেছন ভুলে যাওয়া,কিছু অর্বাচীন হলেই হল!শিল্পী ছাড়ায় শিল্পের বড্ড বেশী জয়জয়াকার। কথা কোনও একজন তাজিনের নয়। অসংখ্য তাজিনরা বিলুপ্ত হচ্ছে নিদারুণ উদাসীনতায়।আমরা বেশ বিবেক কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে টকশো,র বিবেকের ভুমিকায় দিব্যি অভিনয় করে যাচ্ছি! সময়ের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে! এ দায় যে আপনার,আমার সবার।

নির্মাতা মাহাদী হাসান সোমেনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে অর্থাভাবের বিষয়টি স্পষ্ট। তিনি তার স্ট্যাটাসে জানান,পাঁচশ টাকার অভাবে মায়ের জন্য খাবার কিনেও পাঠাতে পারতেন না তাজিন।

সোমেন তার স্ট্যাটাসে হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘তাজিন আহমেদ। গত ৩টা বছর ধরে কি অমানুষিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছি তা অব্যক্ত। আজ কত কত মানুষ ঐ মৃত মুখটা দেখতে আসছেন, কিন্তু জীবিত অবস্থায় যদি একবারের জন্যও এই মানুষগুলো পাশে দাঁড়াতো তাহলে অন্তত এভাবে নীরবে চলে যেতে হতো না। পরপর দুইটা চাকরি চলে গেল, কেউ ঐভাবে কাজেও ডাকতো না, মাঝে মাঝে দুই থেকে তিন হাজার টাকার জন্য কত জনের কাছে হাত পেতেছেন, এই আমি তার সাক্ষী।

তিনি বলেন, ৫০০ টাকা হলে মায়ের জন্য কারাগারে খাবার পাঠানো যায়, সেই টাকাটাও থাকত না মাঝে মাঝে এই আমি তার সাক্ষী। আমাকে পাঠানো সর্বশেষ মেসেজ এখন কী করবা? আমি বুঝে উঠতে পারিনি। যেতে যেতেই অভিমানে বিদায়…’

জানা যায় তাজিন আহমেদ জীবনের শেষ সময়গুলোতে অর্থ কষ্ট ও নিদারুণ মানসিক কষ্টের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। মৃত্যুর সময়ও পরিবারের কাউকে পাশে পাননি। তাজিন আহমেদ গতকাল বিকেলে মারা যান। তার মৃত্যুতে বিস্মিত হয়ে যায় গোটা শোবিজ মিডিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পৃথিবীর হয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেবে না, রুহানির হুঙ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরমাণু ইস্যুতে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চলছে পাল্টাপাল্টি হুমকি। আর তারই জের ধরে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নতুন শর্ত মানবে না তেহরান।

ইরানের সঙ্গে হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে চলতি মাসের শুরুর দিকেই বেরিয়ে এসেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই একতরফা চুক্তিভঙ্গের তীব্র নিন্দায় সরব হয়েছিল তেহরান। সমালোচনা শোনা গিয়েছিল ওই চুক্তির অন্য অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর মুখেও।

তবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরানের সঙ্গে নতুন করে পরমাণু চুক্তি হতে পারে। কিন্তু তার জন্য ১২টি নতুন শর্ত ইরানকে মানতে হবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেও ঘোষণা করেন। তার পরেই কঠোর বয়ান দিয়েছে ইরান। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি নিজেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপানো আর কোনো নতুন শর্ত ইরান মানবে না ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘একাধিপত্য’ আর মানবে না পৃথিবী, মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। তিনি বলেছেন, গোটা পৃথিবীর হয়ে সব সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রই নেবে, সে যুগ শেষ হয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট রুহানির কথায়, ‘‘সব দেশই স্বাধীন…। আমাদের জাতির সমর্থনে বলীয়ান হয়ে আমরা নিজেদের পথেই চলব।’’

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রশ্ন, ‘‘ইরানের হয়ে এবং গোটা পৃথিবীর হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তোমরা কে?’’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন ও রাশিয়া ওই চুক্তির অংশীদার ছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আওয়ামীলীগের নতুন ভবনের কাজ শেষ, উদ্বোধনের অপেক্ষা

ন্যাশনাল ডেস্ক: এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পুরনো ও বৃহৎ দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ শেষ। এখন অপেক্ষা উদ্বোধনের। জানা গেছে, আসন্ন ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে এ অফিস উদ্বোধন করবেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নতুন এ অফিস ভবন পরিদর্শন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এ সময় তারা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, আরও সপ্তাহখানেক আগেই মূল ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শোভাবর্ধনের কাজ। ভবনের সামনে দলের নাম ও প্রতীকও স্থাপন করা হয়েছে। ভেতরের টুকিটাকি সাজগোজের কাজ চলছে এখন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ জানিয়েছেন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ২৩ জুন কার্যালয় উদ্বোধনের সম্ভাব্য দিন ঠিক করা হয়েছে।

ভবনের গায়ে ফুটন্ত ফুলের মতো টেরাকোটায় ফুটে উঠবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। তার পাশেই ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি মনে করিয়ে দেবে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই দৃশ্য। ভবনের দেয়ালে ভেসে থাকবে বিশ্ব ঐতিহ্যের সেই প্রামাণ্য দলিল, রাজনীতির কবির সেই বজ্রকণ্ঠের উদ্ভাসিত জনস্রোতের চিত্র।

ভবনটির প্রবেশ মুখে দেখা যাবে চলন্ত নৌকা। তার পাশেই দেয়ালে স্মৃতিচিহ্নের মতো স্মরণীয় হয়ে থাকবে দেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক কালো দিন।ভবনটির একপাশে লেখা থাকবে স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘জাতীয়তাবাদ’, ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ এই চারমূল নীতির রক্তাক্ত শপথ। ভবনের প্রতিটি তলায় থাকবে ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা চিহ্ন।

আটষট্টি বছর বয়সের এক রাজনৈতিক দলের প্রাণকেন্দ্র এই ভবন। রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের এই ঠিকানায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম শুরু হয় ৩৭ বছর আগে। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দেশের ফেরার পর পুরনো ভবনের এই জায়গাটিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়।

২০১৭ সালের ২৩ জুন দলের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছরের দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন এই ভবনের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভবনটির প্রবেশমুখের বামপাশে লেখা থাকবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘জাতীয়তাবাদ’, ‘গণতন্ত্র’, ‘সমাজতন্ত্র’- এই চার মূলনীতি। তার পাশে দেয়ালে মাটি অথবা টাইলসে খোঁচিত হবেন নারীনেত্রী আইভী রহমান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা নিহত হওয়া এই নারীনেত্রীর স্মৃতিচিহ্নই এটি। ভবনে প্রবেশ মুখ থেকে যে দেয়ালটি দেখা যাবে সেখানে বাংলাদেশের মানচিত্র খোঁচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দলের নিজস্ব ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য বিশ্বমানের ভবনটি সামনের দু’পাশের দেয়াল কাচ দিয়ে ঘেরা থাকবে। আর মাঝখানে সিরামিকসের ইটের বন্ধনে গড়ে উঠবে। এর সামনের দেয়ালজুড়ে দলের সাইনবোর্ডসহ দলীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, চার মূলনীতি, ভাষা আন্দোলন’৫২, মুক্তিযুদ্ধ’৭১ প্রভৃতি শব্দ খোদাই করে লেখা থাকবে। ভবনের সামনে-পেছনে হবে ফুলের বাগান।

জানা গেছে, ১০তলা বিশিষ্ট এ ভবনে চার ও পাঁচতলায় থাকবে আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গ-সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিমসহ সমমনা অন্যান্য সংগঠনের কার্যালয়। সাত, আট ও নয়তলায় দলীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কক্ষ থাকবে।

ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকবে ডিজিটাল লাইব্রেরি, সেমিনার রুম এবং সাংবাদিক লাউঞ্জ। আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিতব্য ভবনটিতে থাকবে দুটি স্বতন্ত্র কারপার্কিং, একাধিক লিফট, সিঁড়ি, কারলিফটসহ ভূমিকম্প ও অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা। ভবনের ছাদে থাকবে হেলিপ্যাড, যেখানে সরাসরি হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব উলআলম হানিফ বলেন, আমরা আশা করছি, ২৩ জুন দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলীয় সভাপতি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভবনটির কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইথোফেন দিয়ে আম পাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ইথোফেন দিয়ে ফল পাকালে তাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে সম্প্রতি বাজারে অভিযান চালিয়ে কয়েক হাজার মণ আম ও কলা ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) বলেছে, এতে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। যারা এটাকে সমস্যা মনে করে ফলমূল ধ্বংস করছে তাদের কাছে প্রকৃত তথ্য নেই বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিজ মিলনায়তনে বিএফএসএ আয়োজিত ‘মৌসুমি ফল পাকাতে বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহার ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ দাবি করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন। বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. শাহ মনির, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক (পুষ্টি) ড. মো. মনিরুল ইসলাম, একই প্রতিষ্ঠানের হর্টিকালচার বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ মো. আকরামুল হক, বারির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোরঞ্জন ধর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (অপারেশন) শাহেদ আলম, বিএসটিআইএর সহকারী পরিচালক এ এস এম আবু সাইদ, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুইয়া, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আব্দুর রশিদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং বিএফএসএর ফুড ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান প্রমুখ।

কর্মশালায় বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়, ইথোফেন আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রবন্ধে সারা বিশ্বে ইথোফেনের মাধ্যমে ফল পাকানোর বহু তথ্য তুলে ধরা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে যেভাবে ফল ধ্বংস করা হচ্ছে সেটা মূলত ইথোফেন সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার কারণেই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইথোফেন ফরমালিনের চেয়েও ক্ষতিকর এ তথ্যও সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, “ফল পাকাতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথোফেন ব্যবহার বৈধ। এটি ব্যবহার করার ফলে এর কোনো ‘রেসিডিউয়াল ইফেক্ট’ থাকে না, তাই ক্ষতি নেই। কার্বাইড ব্যবহারেও কোনো ক্ষতি নেই, যদি সেটা ফুড গ্রেডের (খাদ্য উপযোগী) হয়। তবে বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কার্বাইড ব্যবহার করা হয়, যা নিম্নমানের। ফুড গ্রেডের কার্বাইডের ব্যবহার দেখা যায় না, কারণ তা অনেক ব্যয়বহুল। যে কারণে কার্বাইড সরকার নিষিদ্ধ করেছে।” ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন বিভিন্ন গবেষণার প্রতিবেদন এবং ইথোফেনের বৈজ্ঞানিক কাঠামো বর্ণনা করে বলেন, ‘ফল পরিপক্ব হয়ে যখন পাকতে শুরু করে তখন প্রাকৃতিকভাবেই ইথোফেন তৈরি হয়। এই ইথোফেনই ফল পাকায়। এর বিক্রিয়ার কারণেই ফলের রং পরিবর্তন হয়, ফলে ঘ্রাণ তৈরি হয়। সারা বিশ্বেই নির্দিষ্ট চেম্বারে ইথোফেন ব্যবহার করে ফল পাকানো হয়। যার কোনো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নেই।’

অনুষ্ঠানে পুলিশের প্রতিনিধি শাহেদ আলম এবং বিএসটিআইএর সহকারী পরিচালক এ এস এম আবু সাইদ স্বীকার করেন, তাঁরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও ইথোফেন নিয়ে তাঁদের সঠিক ধারণা নেই। এ বিষয়ে তাঁদের আরো বেশি প্রশিক্ষণ দরকার বলে জানান তাঁরা। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে আমগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে সেগুলোর আঁটিই শক্ত হয়নি। কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারে এনেছেন ব্যবসায়ীরা। নিরাপদ খাদ্য আইনে আছে, ফলে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা যাবে না। আর ইথোফেনের ক্ষেত্রে কেউ বলেন, এটা বেশি ক্ষতিকারক না, কেউ বলেন ক্ষতিকারক।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জনপ্রিয় প্রার্থীর খোঁজে আ’লীগ; সাতক্ষীরা-৩ ও ৪সহ ১০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত

* ২০০ আসনের তালিকা নিয়ে কাজ চলছে, ঈদের পর চূড়ান্ত  * বাদ পড়ার শঙ্কায় অনেক প্রভাবশালী এমপি ও নেতা

ন্যাশনাল ডেস্ক: দশম সংসদের ২৩৪ দলীয় এমপি থেকে সাতক্ষীরা-৩, সাতক্ষীরা-৪ আসনসহ ১০০ প্রভাবশালী, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতার নাম ফের মনোনয়নের জন্য স্থির করেছে আওয়ামী লীগ। আরও ৫০ এমপির আমলনামা যাচাই-বাছাই শেষে মনোনীতদের তালিকায় স্থান দেবেন দলের হাইকমান্ড।

বাকিদের ভাগ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন জুটছে না বলেই আভাস দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন পার্টির নীতিনির্ধারকরা। দল ও সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণকারীরা আছেন বাদ পড়ার তালিকায়। এসব আসনে সন্ধান করা হচ্ছে নতুন মুখ।

এছাড়া অন্যান্য ও জোট বন্ধুদের ৬৬ আসনেও বরাবরের মতো দলীয় প্রার্থী দেবে শাসক দল। অক্টোবরের আগেই ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। সংসদ নির্বাচনের তফসিলের পরপরই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ‘গডফাদার’ ও ‘জনবিচ্ছিন্ন’ সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেসব এমপির বিরুদ্ধে এলাকায় খুন, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, ঋণ খেলাপি, টেন্ডার-চাঁদাবাজিসহ দখলদারিত্বের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তারা কেউ মনোনয়ন পাবেন না।

এ ধরনের বিতর্কিত এমপি শনাক্তে সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। অনেকের রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এর বাইরেও দলের সাংগঠনিক সফরে থাকা ১৫টি টিমের হালনাগাদ তথ্যও সংযোজিত হচ্ছে মূল তালিকায়। দলীয় সভাপতির নির্দেশে সাংগঠনিক সম্পাদকরা ও কয়েকটি বিশেষ টিম আসন ধরে ধরে প্রার্থীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করছেন। সেগুলো পর্যালোচনা করে তালিকা তৈরি হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের তালিকার কাজ শেষ হয়েছে। অভিযুক্তদের অনেকেই আইনের আওতায় আছেন। বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বিতর্কিতদের অধিকাংশই আইনি জটিলতায় বাদ পড়বেন। চাইলেও তাদের মনোনয়ন দেয়া সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে বর্তমান সংসদের কমপক্ষে ১০০ এমপি বাদ পড়ার তালিকায় আছেন বলেও জানায় আওয়ামী লীগের এ নির্ভরযোগ্য সূত্রটি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সংসদীয় মনোনয়নের বোর্ডের অন্যতম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বুধবার বলেন, আমরা ১০০’র মতো আসনে এমপি প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। এসব আসনে মনোনীত প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। বাকি ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ চলছে। আগামী ঈদের পরেই এসব আসনের বিপরীতে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ৩০০ আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশের কোনো সম্ভাবনা নেই।

আওয়ামী লীগ জরিপ টিমের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত দেড় বছর ধরে ৩ মাস পরপর মাঠ জরিপ করছেন। সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আলোচিত-সমালোচিত মন্ত্রী-এমপিদের নাম ওঠে এসেছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে- এসব আসনে ফের তাদের মনোনয়ন দেয়া হলে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অসাধ্য হবে। এসব মন্ত্রী-এমপিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ প্রার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের কারও বিরুদ্ধে এলাকায় জনপ্রিয়তা হ্রাস, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, অনেকের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, অনৈতিকভাবে বিত্তবৈভব গড়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সন্ত্রাস ও দলীয় কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ।

দলীয় নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি বিএনপি-জামায়াত নেতাদের নিয়েও নিজস্ব বলয় সৃষ্টির অভিযোগও আছে কারও বিরুদ্ধে। আর এসব কারণে প্রার্থী বাছাইয়ে সময় নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের দুই নেতা জানান, দলের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রতিটি সভায় বিতর্কিতদের মনোনয়ন না দেয়ার কথা বলেছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলে কে কি করেন, কার জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে সে তালিকাও আছে দলীয় সভাপতির কাছে। জনবিচ্ছিন্ন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারীদের শেষ সুযোগও দিয়েছেন তিনি। এরপরও নিজেদের শোধরাতে পারেননি বিতর্কিত অনেক এমপি।

৩১ মার্চ দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় পুনরায় বিতর্কিত নেতাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ওই সব এলাকায় ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন দলের সভাপতি।

একই বিষয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে সংশোধনের কথা বলছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদের প্রার্থী নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে বুধবার জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান। তিনি বলেন, প্রতি নির্বাচনের আগে এমপি-মন্ত্রীদের অনেকেই বাদ পড়েন, তারা মনোনয়ন পান না। এবারও ব্যতিক্রম হবে না। জনপ্রিয়তা, দলে সম্পৃক্ততা ও কাজের দক্ষতা দেখে দলীয় মনোনয়ন দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এই তিন ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জনে যারা ব্যর্থ হবেন তারা এমপি মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়বেন।
তিনি বলেন, বিগত এক বছর থেকে মনোনয়ন বাছাইয়ের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ নীতিনির্ধারক সূত্রে কথা বলে জানা যায়, গ্রিন সিগন্যাল দেয়া ১০০ আসনের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছেন। দল ও সমাজে কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখা এসব নেতা প্রতিপক্ষেরে যে কোনো নেতার চেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন। আগামী নির্বাচনে তৈরি থাকার বিষয়ে এমন নেতাদেরই গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নীতিনির্ধারকদের দেয়া তথ্য মতে- সাতক্ষীরা-৩, সাতক্ষীরা-৪, ঠাকুরগাঁও-১, দিনাজপুর-১, দিনাজপুর-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, নীলফামারী-২, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-২, বগুড়া-১, বগুড়া-৫, নওগাঁ-১, রাজশাহী-৪, রাজশাহী-৬, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, সিরাজগঞ্জ-২, সিরাজগঞ্জ-৬, পাবনা-৫, কুষ্টিয়া-৩, ঝিনাইদহ-২, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-৫, মাগুরা-২, বাগেরহাট-১, খুলনা-১, বরগুনা-১, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, ভোলা-২, ভোলা-৩, ভোলা-৪, বরিশাল-১, বরিশাল-২, ঝালকাঠি-২, টাঙ্গাইল-১, টাঙ্গাইল-৫, টাঙ্গাইল-৮, জামালপুর-৩, শেরপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৪, কিশোরগঞ্জ-৫, কিশোরগঞ্জ-৬, মানিকগঞ্জ-২, মানিকগঞ্জ-৩, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-২, ঢাকা-৩, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১১, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৪, গাজীপুর-১, গাজীপুর-২, গাজীপুর-৪, গাজীপুর-৫, নরসিংদী-১, নরসিংদী-৪, নারায়ণগঞ্জ-১, নারায়ণগঞ্জ-২, নারায়ণগঞ্জ-৪, রাজবাড়ী-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, ফরিদপুর-৩, গোপালগঞ্জ-১, গোপালগঞ্জ-২, গোপালগঞ্জ-৩, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, শরীয়তপুর-১, শরীয়তপুর-৩, সুনামগঞ্জ-৩, সিলেট-৩, সিলেট-৬, হবিগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-২, কুমিল্লা-৩, কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-৫, কুমিল্লা-৯, কুমিল্লা-১০, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-২, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-৪, নোয়াখালী-৫, চট্টগ্রাম-১, চট্টগ্রাম-৭, চট্টগ্রাম-১২, চট্টগ্রাম-১৩ ও কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে।

প্রার্থী বাছাইয়ে এবার কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিভিন্ন জরিপ সংস্থার পাশাপাশি দেশের সুশীল সমাজ ও দলের একটি টিম দিয়েও প্রার্থীদের জরিপ কাজ করছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলটি মাঠপর্যায়ে গিয়ে প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন নেত্রী (শেখ হাসিনা) নিজেই।

তিনি বলেন, দলে যারা বিতর্কিত ও বিভিন্ন সময়ে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন তারা এবার মনোনয়ন পাবেন না। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে এসব আসনে নতুনদের সন্ধান করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে জয় নিশ্চিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের আরেকটি সূত্র বলছে, নির্ধারিত ১০০ আসনের বাইরে থাকা আসনগুলোর প্রত্যেকটির বিপরীতে তিনজন করে প্রার্থীর নাম নিয়ে তালিকা তৈরি হচ্ছে। অনেক আসনে এ তিনজনের তালিকায় বর্তমান এমপিদের নাম নেই। নবীন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, পেশাজীবী নেতা, সাবেক পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তা, আমলা ও রাজনৈতিক নেতা এ তালিকায় আছেন। বিএনপির বিভিন্ন আসনের সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু নেতাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা সংসদ সদস্যদের তালিকা ধরে ধরে কমপক্ষে ১০০ বিতর্কিত এমপির নাম তুলে এনেছেন, যাদের আসনে উল্লিখিত নতুনদের জনপ্রিয়তার মাপ কাঠিতে মনোনয়ন দেয়া হবে। আর এসব আসনেই সরকারি, বেসরকারি জরিপ সংস্থা ও দলের সাংগঠনিক টিম প্রার্থী বাছাইয়ে বেশি বেশি করে কাজ করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest