সর্বশেষ সংবাদ-
জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ইফতারসাতক্ষীরায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাত্রদলের দোয়াআশাশুনির এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলাদ্রুত বিচার আইনের মামলায় জামায়াত নেতা আজহারুজ্জামান ‍মুকুল কারাগারেসাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা: আটক -০২তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ভূগর্ভ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের শীর্ষে আশাশুনিদীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষ : কাঁকড়া আহরণ অনুমতি পেলো বনজীবীরাসাতক্ষীরা কারাগারে হাজতির মৃত্যু

ঝাউডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪মিষ্টি ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ঝাউডাঙ্গা ব্যুরো : ওজনে কারচুপি, খাদ্যদ্রব্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অননুমোদিত নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়, খাদ্যপণ্যে সঠিক মোড়ককরণ না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত ও বিক্রির অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪হাজার ৫শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে ঝাউডাঙ্গা বাজারের মিষ্টির দোকানগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন। এসময় সদর থানার এস.আই হাফিজুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪ মিষ্টি ব্যবসায়ীকে অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়েছে।

ঝাউডাঙ্গা বাজারের শফিকুল ইসলামের ছেলে ইমরান রেজাকে ১হাজার টাকা, রঞ্জন ঘোষের ছেলে সুমন ঘোষকে ১হাজার টাকা, লোলিত মোহন ঘোষের ছেলে দুর্গাপদ ঘোষ এবং মিষ্টি ও ভাতের হোটেল মালিক হযরত আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনকে ১হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়।

উল্লেখ্য যে, খাদ্য সুরক্ষা বিধির তোয়াক্কা না করে সাতক্ষীরার অধিকাংশ মিষ্টির দোকানে খোলা হাতেই মিষ্টিজাত পণ্য ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে ওই মিষ্টি যারা খাচ্ছেন তাদের শরীরে ব্যাকটিরিয়াজনিত ও পানিবাহিত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অধিকাংশ মিষ্টিজাত খাদ্য সামগ্রীর দোকান মালিকরা ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধির তোয়াক্কা না করেই আইনের চোখে ধুলা দিয়ে দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা ব্যবসা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন স্ব উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এলাকার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে এধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন এলাকাবাসি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রান্নার ভুলে ‘ভাত’ হয়ে ওঠে বিষের সমতুল্য

পুষ্টিগুণ কিংবা ডায়েট সব কিছু ভুলে গিয়ে বাঙালির প্রিয় আর অতি পরিচিত খাদ্য হল ভাত৷ আর এই খাবারটিও বেশ স্বাস্থ্যকর বলেও জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা ৷ তবে জানেন কি, রান্নার ভুল পদ্ধতির কারণে, সেই ভাতই হয়ে ওঠে বিষের সমান ৷

২০১৪ সাল থেকে চালে আর্সেনিকের পরিমাণ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টের কুইন’স বিশ্ববিবিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা জানাচ্ছেন, যেভাবে আমরা ভাত রান্না করে থাকি তা আমাদের শরীরের জন্য বিষাক্ত।

গবেষক অ্যান্ডি মেহার্গ বলেন, এখন অনেকেই রাইস কুকার কিংবা প্রেশার কুকারে ভাত রান্না করেন ৷ আর সে সময় ভাতের ফ্যান পুরো শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত রান্না করা হয় ৷ যাতে চালে থাকা আর্সেনিক পুরো মাত্রায় বজায় থাকে। আর এতেই বাড়ছে বিপদ ৷

তবে সঠিক ভাবে ভাত রান্নার পদ্ধতিটিও বলে দিয়েছেন তারা। সারা রাত চাল ভিজিয়ে রাখুন। এর ফলে চালে আর্সেনিকের মাত্রা কমবে। সকালে চালের পানি ঝরিয়ে আরও এক বার টাটকা ঠান্ডা পানিতে চাল ভাল করে ধুয়ে নিন।

এক কাপ চালে অন্তত ৫ কাপ পানি দিন এবং ভাল করে ফুটিয়ে ভাত রান্না করুন। বেশি করে পানি দেবেন যাতে কখনই ভাতের পানি শুকিয়ে না যায়। ভাতের মাড় ঝরিয়ে আরও এক বার ভাল করে গরম পানিতে ভাত ধুয়ে নিন।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সময় কিছুটা বেশি লাগলেও এই ভাবে রান্না করা ভাত খেলে শরীরে অনেক কম মাত্রায় আর্সেনিক ঢুকবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কারাগারে যুবলীগের মান্নান; ৭দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা চলাকালে যুবলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আটক সাতক্ষীরা যুবলীগের আহ্বায়ক মান্নানের ৭দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। আজ রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মান্নান বর্তমানে কারা হেফাজতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতা জয়নুল আবেদীন জোসি বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় আবদুল মান্নানকে ১নং আসামি করে ১৬ জনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনের নামে মামলা করা হয়। আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছে যুবলীগের মনোয়ার হোসেন অণু, তুহিনুর রহমান তুহিন, ইয়ারুল ইসলাম, এহসান, ইলিয়াস, কলারোয়ার শাহজাদা, শরিফ, মিলন, তুষার প্রমুখ। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক জানান, সোমবার গভীর রাতে তাকে খুলনার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ আবদুল মান্নানকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসানের আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গত ২৬ মার্চের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে সোমবার রাতে গ্রেফতারের আগে আবদুল মান্নান বলে, সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও তার সহোদরদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। এরই জেরে তারা এখন এসব প্রচার চালাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এসব অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমেরিকার কথায় ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারের কথা স্বীকার করল সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে স্বীকার করেছেন, “আমেরিকার আহ্বানে সাড়া দিয়ে রিয়াদ বিশ্বব্যাপী উগ্র ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারের কাজ করছে।” তিনি বলেন, ” শীতল যুদ্ধকালীন সময়ের প্রাচ্য ব্লককে মোকাবেলা করা ছিল ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারের উদ্দেশ্য।”

সৌদি যুবরাজ বিশ্বব্যাপী ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে তার দেশের অর্থ সহায়তার কথা স্বীকার করে বলেছেন, “সেদেশে তৎপর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে মূলত: এসব অর্থের যোগান আসে।” এ খবর দিয়েছে পার্সটুডে।

প্রকৃতপক্ষে, উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর চিন্তা-চেতনার উৎসমূল হচ্ছে ধর্মের নামে সৃষ্ট বিকৃত ওয়াহাবি মতবাদ। এই মতবাদ মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রেরণা হয়ে উঠেছে এবং এর পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের ভূমিকা। মুসলিম দেশগুলোতে উত্তেজনা, আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি এবং মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো ওয়াহাবি মতবাদের প্রধান উদ্দেশ্য। উগ্র ওয়াহাবিরা মুসলমানদের সব মাজহাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং একমাত্র তারা ছাড়া অন্য সব মুসলমানকে বাতিলযোগ্য এমনকি কাফের বলে মনে করে।

ওয়াহাবিরা যেহেতু কোনো ভৌগোলিক সীমা-রেখা মানে না তাই তারা সারা বিশ্বে বিকৃত এই মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। ওয়াহাবি মতবাদ ব্যবহার করে তাফকিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টিতে সৌদি আরবের ভূমিকা এতটাই স্পষ্ট যে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে, উগ্র ওয়াহাবি চিন্তা-চেতনাকে সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেছে। দৈনিকটি আরো লিখেছে, মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের আদর্শিক চিন্তা-চেতনার উৎপত্তি স্থল হচ্ছে ওয়াহাবি মতবাদ এবং সৌদি আরব এর মূল কেন্দ্র।

যাইহোক, দায়েশ ছাড়াও জাবহাতুন নুসরা, আল কায়েদা, তালেবান প্রভৃতি গোষ্ঠীগুলোর আদর্শিক চিন্তা-চেতনার উৎসভূমি হচ্ছে সৌদি আরব। এই গোষ্ঠীগুলোর নেতাকর্মীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন ধর্মীয় স্কুল বা মাদ্রাসা থেকে ওয়াহাবি মতবাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন দেশে তা বাস্তবায়ন করছে। সন্ত্রাসীদের উৎসই হচ্ছে ওয়াহাবি মতবাদ এবং সৌদি আরব হচ্ছে এ মতবাদের রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে মার্কিন কর্মকর্তারাও যুক্ত হওয়ায় সারা বিশ্বের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে রয়েছে।

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল অটোয়াড মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিস্তারে আমেরিকা ও সৌদি আরবের হাত থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সন্ত্রাসীরা মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মার্কিন দৈনিক হাফিংটন পোস্টও লিখেছে, বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের প্রধান উৎস ওয়াহাবি মতবাদ এবং এর সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে সৌদি আরব। দৈনিকটি আরো লিখেছে, আমেরিকার উচিত এইসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোকে সমর্থন দেয়া থেকে বিরত থাকা।

যাইহোক, সৌদি সরকার বিশ্বজুড়ে উগ্র সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক। আর রিয়াদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখে ওয়াশিংটনও নিজের অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মওদুদকে দলের কাজে মন দিতে বলেছেন খালেদা!

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জামিন স্থগিত হওয়ায় আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কেন জামিন স্থগিত হয়েছে, তা তিনি আইনজীবীদের কাছে জানতে চান। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরও আপিল বিভাগ স্থগিত করার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তাও জানতে চান তিনি। তবে আইনজীবীরা নিজেদের ত্রুটি থাকার কথা অস্বীকার করে পুরো দায় সরকারের ওপর চাপিয়েছেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তাড়াতাড়িই তিনি কারামুক্ত হবেন। গত ২৫ মার্চ বিকেলে ছয়জন আইনজীবী কারাগারে গিয়ে সাক্ষাৎ করলে জামিন স্থগিত হওয়া নিয়ে খালেদা জিয়া তাঁদের প্রশ্ন করেন। সেই সঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে আপাতত দলের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পরামর্শ দেন দলীয় প্রধান। গতকাল মঙ্গলবার বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

খালেদা জিয়া তাঁর মামলা থেকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে বিরত থাকতে বলেছেন—গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় চলছে বিএনপির ভেতরে। দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। গত রাতে গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ নিয়ে বৈঠক করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

এর আগে খালেদা জিয়ার জামিন না হলে নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলে ভাঙন তৈরি হতে পারে বলেও গুঞ্জন শুরু হয় দলটির মধ্যে।

বিএনপিপন্থী সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনাকালে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র এক আইনজীবী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীদের নিয়ে কথা বলতে থাকেন। এতে অনেকটা বিরক্ত হন খালেদা জিয়া। ওই জুনিয়র আইনজীবীই অন্যদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মওদুদ সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। আলোচনার এক পর্যায়ে মওদুদ আহমদকে আপাতত দলীয় কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগী হতে বলেন বিএনপিপ্রধান।

এ বিষয়ে আরেক আইনজীবী নেতা বলেন, ‘বেগম জিয়া এমন নির্দেশনা কেন দিলেন তা জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, এত বড় কথা উনি (বেগম জিয়া) না বললে তো আসা সম্ভব নয়। এটাও সত্য, মওদুদ আহমদকে নিয়ে এখন সন্দেহ করার কিছু নেই। তিনি বেগম জিয়ার ওপর শতভাগ আস্থা রেখে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি অন্ততপক্ষে তাঁকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে মনে করি না। পুরো বিষয়টিই পরিষ্কার হয়ে যাবে। মওদুদ যদি আগের মতোই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান তাহলে বুঝবেন এসব কিছুই না। আর যদি নিজেকে গুটিয়ে নেন তাহলে পরিষ্কার হয়ে যাবে, ম্যাডামের পক্ষ থেকে তাঁর মামলা পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “মূলত ম্যাডামের মামলার বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। বিভিন্ন মামলা নিয়ে কী করা হচ্ছে, তা ম্যাডাম জানতে চান।

একপর্যায়ে জামিন স্থগিত করা নিয়েও কথা বলেন ম্যাডাম। তিনি (খালেদা জিয়া) বলেন যে ‘হাইকোর্ট জামিন দিলেন। তার পরও কী কারণে আপিল বিভাগ স্থগিত করলেন?’ তিনি আরো বলেন যে ‘আমি তো (খালেদা) কোনো দুর্নীতি করিনি।’ জবাবে আমরা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি ম্যাডামকে জানিয়েছি। ম্যাডাম আমাদের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। এর বাইরে বার নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে।”

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা ছয়জন কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে জয়লাভের পর মূলত আমি ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন গিয়েছিলাম। সেখানে আরো চারজন সিনিয়র আইনজীবী যান। ম্যাডাম আমাদের অভিনন্দিত করেছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে দেখতে না পেয়ে ম্যাডাম জানতে চান যে কেন উনি এলেন না। আমরা ম্যাডামকে বলেছি যে তাঁর অন্য একটি প্রগ্রাম রয়েছে।’ জয়নুল আরো বলেন, ‘ম্যাডাম আমাদের সবাইকে সমন্বয় করে চলতে বলেছেন।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, “মামলার বিষয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ম্যাডাম আমাদের বলেছেন, ‘নিজেরা যেভাবে সমন্বয় করছেন সেভাবে চালিয়ে যান।’ তিনি (খালেদা জিয়া) অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। আইনি মোকাবেলা করে মুক্ত করব, সেটা তিনিও বিশ্বাস করেন। আমরা তাঁকে বলেছি, সরকার যতই অপচেষ্টা করুক না কেন, আপনাকে বেশি দিন রাখতে পারবে না।”

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।

ওই সময় ‘মওদুদকে সরে দাঁড়াতে বললেন খালেদা জিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিষয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে দলীয় চেয়ারপারসনের মামলার আইনজীবী প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো কথাই হয়নি। তিনি বলেন, সংবাদটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একজন নামকরা বয়োজ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তাঁর একটা সুনাম আছে। তাই এ সংবাদে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বলেন, মূলত বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত করার জন্যই এজাতীয় ভিত্তিহীন সংবাদ করানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলায় সামগ্রিকভাবে যারা আছি তারাই এ মামলা পরিচালনা করব। এর বাইরের কোনো নিউজ যদি আসে আপনারা বিশ্বাস করবেন না।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সরকার ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিলে বিএনপি খণ্ড-বিখণ্ড হবে। নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদে জ্বালাও-পোড়াও করবে। আর এ অভিযোগে বিএনপির নেতাকর্মীদের কারাগারে নেবে এবং মিথ্যা মামলা দেবে। কিন্তু সরকারের যড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। সরকার ব্যর্থ হয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে এখন বিভেদ সৃষ্টির অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সেদিন যারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, তিনি (খালেদা জিয়া) মওদুদ আহমদ সম্পর্কে এমন কোনো কথা বলেননি।’ তিনি বলেন, এটা সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির কলাকৌশলের ফসল।

বিএনপির একাধিক নেতা ও কয়েকজন আইনজীবী অবশ্য আলাপকালে বলেন, পত্রিকায় যেভাবে এসেছে, তেমনটি হয়তো নয়।

দুজন সিনিয়র ও দুজন জুনিয়র আইনজীবী নেতার বক্তব্য মেলালে বিষয়টি দাঁড়ায়, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই দলের একটি অংশ নেপথ্যে থেকে নানা সন্দেহ ও প্রচারণা চালাচ্ছিল। তাদের মতে, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর মামলা পরিচালনায় মওদুদ আহমদ উপস্থিত থাকলেও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য না থাকায় অসন্তুষ্ট ছিলেন দলের কয়েকজন আইনজীবী নেতাসহ সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া মওদুদের বইয়ে বিতর্কিত লেখা, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য এবং বিভিন্ন মামলা পরিচালনায় তাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনার কারণে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বিরক্ত ছিলেন বলে ওই অংশটি প্রচারণা চালায়। সূত্র মতে, পুরো পরিস্থিতিই পুঁজি করেছেন মওদুদের বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় নেতা ও আইনজীবী।

সর্বশেষ খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত আদেশের পর আদালত থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতা ও আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষে বৈঠক করেন। কিছুক্ষণ পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও খন্দকার মাহবুব হোসেন সেখানে যান। মহাসচিবের সামনেই খালেদা জিয়ার একজন আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কাছে জানতে চান, ‘আপনারা এ ধরনের আদেশের পরও নিশ্চুপ ছিলেন?’ জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের মতো বয়স হোক তারপর বুঝবে কখন নিশ্চুপ থাকতে হয়।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসব ঘটনা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানতে পারেন। মওদুদের বিরোধী পক্ষ এই সুযোগে ‘আগুনে ঘি’ ঢালে। তারেক বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এবং তাঁর বক্তব্য চেয়ারপারসনকে জানাতে বলেন। দলের সিনিয়র নেতারা যখন কারাবন্দি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে যান তখন আলোচনার একপর্যায়ে তারেকের বার্তা পৌঁছে দেন।

এক সিনিয়র নেতার বরাত দিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের সম্পাদক পর্যায়ের এক নেতা কালের কণ্ঠকে ওই দিনের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনজীবীরা যখন যান, তখন তাঁরা নির্ধারিত কক্ষে বসে কথা বলেন। অনেকটা ড্রয়িংরুমের মতো ওই কক্ষে বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। প্রথমেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁদের কুশল বিনিময় হয়। এরপর খালেদা জিয়ার মামলার সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন এক আইনজীবী। তাঁর কথা শেষ হওয়ার পরপরই খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল আছে কি না তা জানতে চান। আইনজীবীরা এ ক্ষেত্রে জানান, তাঁরা এতে ভুল দেখছেন না। বরং সরকারি সিদ্ধান্তে তাঁর জামিন প্রক্রিয়া আটকে আছে।

গত রবিবার বিকেল ৩টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারা ফটকে দেখা করেন তাঁর ছয় আইনজীবী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, জয়নুল আবেদীন, রেজ্জাক খান, এ জে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সানা উল্লাহ মিয়া গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘এইমাত্র আমরা মওদুদ স্যারসহ বৈঠক করলাম। তাঁর কাছে ফোন আসছে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করছেন না। তাঁর বক্তব্য আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো ঘটনা সেদিন ঘটেনি। আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং এর প্রতিবাদ যাচ্ছে।’

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিষয়টি পত্রিকায় যেভাবে এসেছে, তা দুঃখজনক। ম্যাডাম জেলে যাওয়ার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ সিনিয়র নেতারা বলেছেন, বিএনপি এখন আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। একইভাবে আইনজীবীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা বিভক্তি নেই। পত্রিকায় যেভাবে এসেছে বিষয়টি সেভাবে হয়নি বলে আমার বিশ্বাস, বিষয়টি অন্যভাবে থাকতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, জয়নুল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ও খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ চার-পাঁচজন সিনিয়র নেতা এবং আমরা জুনিয়ররা বসে দলের চেয়ারপারসনের মামলা কিভাবে পরিচালিত হবে সে সিদ্ধান্ত নিই। পরে চেয়ারপারসনের মতামত নিয়ে আমরা আদালতে কার্যক্রম চালাই। এ ক্ষেত্রে ভুল-বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।’

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তিনি (মওদুদ) দেশের একজন অন্যতম আইনজীবী। চেয়ারপারসনের মামলা লড়ছেন অনেক দিন ধরেই। আমার মনে হয় না ম্যাডাম তাঁকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন।’

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘চেয়ারপারসন কারাবন্দি হওয়ার পর আমাদের মধ্যে যে ঐক্য হয়েছে তা সরকার সহ্য করতে পারছে না। তাই গোয়েন্দা দিয়ে আমাদের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। এটা সম্ভব নয়।’

সূত্র: কালের কণ্ঠ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কম ক্যালরির খাবার

কম ক্যালরির খাবার

কর্তৃক Daily Satkhira

বাঁধাকপি

এই সবজিতে খুব কম ক্যালরি থাকে। ১০০ গ্রাম বাঁধাকপিতে ক্যালরির পরিমাণ মাত্র ২৫। বাঁধাকপি যত্রতত্র উত্পাদন হয় এবং খুব সহজেই পাওয়া যায়।

তরমুজ

প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালরির পরিমাণ ৩০। অনেকেই গরমকাল বলতে তরমুজের সময়কে বোঝে। তরমুজের ৯২ শতাংশই পানি।

ফুটি

১০০ গ্রাম ফুটিতে মাত্র ৩৪ ক্যালরি থাকে। এতে আছে প্রচুর পানি, ভিটামিন ‘সি’, পটাসিয়াম আর ফলেট।

টমেটো

এটি কাঁচা ও রান্না উভয়ভাবেই খাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম টমেটোতে ক্যালরি থাকে ১৮ গ্রাম। এতে আরো আছে লাইকোপেন, যা ক্যান্সার ও হার্টের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

শসা

ওজন কমাতে চাইলে চোখ বন্ধ করে শসার ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে। ১০০ গ্রাম শসাতে আছে মাত্র ১৬ ক্যালরি। এতে প্রচুর পানি থাকে।

পেঁপে

এতে আছে খুব কম ক্যালরি, ১০০ গ্রামে মাত্র ৩৭। সারা বছর পাওয়া যায় এ ফল। এতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ‘বি’ ও ফাইবার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্যান্সারের ৭ লক্ষণ

কোনো অসুখ হলে আমাদের শরীরই নানা রকম সংকেতের মাধ্যমে তা জানান দেয়। তেমনি মানুষের যত রকম ক্যান্সার হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীর সে সম্পর্কে কোন না কোন পূর্বসংকেত দেয়। কিছু লক্ষণ দেখে আপনি সন্দেহ করতে পারবেন যে আপনার দেহে হয়তো ক্যান্সার হয়ে থাকতে পারে।

কি লক্ষণ সেগুলো? চিকিৎসকেরা বলছেন সেই সংকেত মূলত সাতটি। এগুলোকে ক্যান্সারের সাতটি সতর্ক চিহ্নও বলাও হয়। জেনে নেয়া যাক কি সেগুলো।

১. হঠাৎ শরীরের ওজন কমতে শুরু করেছে কিন্তু তার তেমন কোন ব্যাখ্যা নেই।

২. হজম ও মল-মূত্র ত্যাগের অভ্যাসে কোন ধরনের পরিবর্তন হওয়া। যেমন ডাইরিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য। যেমন আপনার হয়ত কোষ্ঠকাঠিন্য নেই কিন্তু সেটিই হচ্ছে ইদানীং। অথবা পাতলা পায়খানা।

৩. সারাক্ষণ জ্বর বা খুসখুসে কাশি যা ঠিক যাচ্ছেই না।

৪. শরীরের কোথাও কোনো পিণ্ড বা চাকার উপস্থিতি।

৫. ভাঙা কণ্ঠস্বর যা কোন চিকিৎসায় ভালো হচ্ছে না।

৬. তিল বা আঁচিলের সুস্পষ্ট পরিবর্তন।

৭. শরীরের কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ।

মোটা দাগে এই উপসর্গ বা শরীরের সংকেতের কোন একটি যদি দু থেকে তিন সপ্তাহ ধরে থাকে আর সেগুলোর সাধারণ চিকিৎসায় না কমে যায়- তবেই ক্যান্সার শব্দটি মাথায় রেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

তবে তাই বলে উপরের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটা দেখা দিলেই নিশ্চিত হয়ে ধরে নেবেন না আপনার ক্যান্সারই হয়েছে।

কিন্তু সাবধান থাকতে তো আর দোষ নেই। তাই একটু না হয় ঘুরেই আসুন ডাক্তারের চেম্বার থেকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্বাসকষ্ট বাড়ায় পেঁপে!

গবেষণায় দেখা গেছে শরীরের গঠনে পেঁপের কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। ১০০ গ্রাম পেঁপেতে প্রায় ৪৩ ক্যালরি থাকে, ভিটামিন সি থাকে প্রতিদিনের মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ভিটামিন এবং ফলেট মজুত থাকে প্রায় ১০ শাতংশ। এছাড়াও পেঁপেতে মজুত রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সহ আরও সব পুষ্টিকর উপাদান। এক কথায় পুষ্টির ভান্ডার হল এই ফলটি। তবু অতিরিক্তি মাত্রায় এই ফলটি খেলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে নানা রোগ, যেমন ধরুন-

১) হার্ট বিট কমে যায়- হার্টের রোগে যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত, তাদের ভুলেও বেশি মাত্রায় পেঁপে খাওয়া উচিত নয়। কারণ পেঁপের ভিতর উপস্থিত প্যাপিন নামক উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর হার্ট রেট কমিয়ে দেয়। ফলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

২) শ্বাস কষ্ট বাড়িয়ে দেয়- অ্যালার্জিক কারণে যাদের প্রায়শই শ্বাস কষ্ট হয়ে থাকে, তাদের ভুলেও পেঁপে খাবেন না। কারণ এতে উপস্থিত প্যাপিন নামে একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র শ্বাস কষ্টের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও যাদের অ্যাস্থেমা রোগেও যারা ভুগছেন, তাদেরও এই ফলটি খাওয়া চলবে না।

৩) কিডনিতে পাঁথর সৃষ্টি করে- পেঁপেতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি রয়েছে। এই পরিমাণ ভিটামিন সি যদি প্রায় দিনই শরীরে প্রবেশ করতে শুরু করে, তাহলে দেহে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাবে। আর এর ফলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

৪) কনস্টিপেশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে- পেঁপে খেলে সাধারণত কনস্টিপেশনের রোগ দূর হয়, কিন্তু সেই পেঁপেই যদি অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া হয়, তাহলে শরীরের উপর উল্টো প্রভাব পরে। এক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রকোপ তো কমেই না, বরং আরও বেড়ে যায়। তাই ভুলেও বেশি মাত্রায় পেঁপের মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত নয়।

৫) শকর্রার মাত্রা কমিয়ে দেয়- রক্তে সুগার লেভেল বেশি মাত্রায় বেড়ে যাওয়াটা ভাল নয়, তেমনি বেশি মাত্রায় কমে যাওয়াটাও কিন্তু অনেক ক্ষতিকর। তাই মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে পেঁপে খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। কারণ পেঁপে শর্করার মাত্রা নিমেষে কমিয়ে দেয়। ফলে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পরার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

৬) পেটের সমস্যা বৃদ্ধি পায়- পেঁপেতে উপস্থিত প্যাপিন স্টামাকের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে নানা ধরনের পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। অল্প পরিমানে পেঁপে খেলে কোনও সমস্যাই হয় না। কিন্তু বেশি মাত্রায় খেলেই দেখা দেয় এই সব রোগ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest