সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুন মৃত্যুতুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুলিহরে এক যুবক পিটিয়ে জখম:থানায় মামলাসাতক্ষীরা প্রাণসায়রের ধারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকলারোয়ায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুসুন্দরবনের নদীতে জেলের জালে ধরা পড়ল ১০ কেজির বিরল কচ্ছপসাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরনতালায় খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জলবায়ু বিপন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণসাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবকে রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের শুভেচ্ছাদেবহাটায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক শ্রমিককে পিটিয়ে চার জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির মামলা : প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরা জেলা পর্যায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সম্মেলন

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুর্নীতিবাজদের ‘ঘুম হারামে’ নতুন কৌশলে দুদক

চলতি বছরের শেষে একাদশ সংসদ নির্বাচন, এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির বিরুদ্ধে হার্ড লাইনে যেতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতে আসামিদের সাজার হার কম ছিল। আর যে আসামিরা সাজা পেতেন, তারাও আপিল করে হাইকোর্টে গিয়ে কিছুটা স্বস্তি পেতেন। জামিন পাওয়া, মামলা স্থগিত হওয়া, দীর্ঘসময় বিচার চলমান থাকার প্রেক্ষাপটে কিছুটা সুবিধাও ভোগ করতেন আসামিরা। তাছাড়া হাইকোর্টে মামলা বাতিল, সাজা বাতিল, আসামি খালাসসহ এ ধরনের রায়ে দুদকের মামলায় সাজা বহালের হারও কমে যাচ্ছিল।

দায়সারা তদন্ত, তদন্তে ত্রুটি, দুর্বল চার্জশিট অথবা বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো আমলের অসম্পন্ন মামলায় সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে বিচারিক আদালতেই অন্তত ৭০ শতাংশ মামলা খারিজ অথবা আসামি খালাসের অতীত রেকর্ড রয়েছে। তবে দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর এ প্রেক্ষাপট অনেকটা পাল্টে যায়। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্নীতি মামলায় আসামিদের সাজার হার ক্রমাগত বাড়ছে। তা সংসদ নির্বাচনের আগে আরও বেড়ে যাচ্ছে। কমিশনের অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রসিকিউশনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও গুণগত কার্যকর পরিবর্তন আনা হয়েছে।

দুদকের তদন্ত বিভাগ ও প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমন্বয় জোরালো করা হয়েছে। ফলে বিচারিক আদালতেই দুদকের মামলায় সাজার হার ক্রমাগত বাড়ছে। আগে যেখানে দুদকের ৩০ শতাংশ মামলায় সাজা হতো, এখন উন্নীত হয়েছে ৬৮ শতাংশে। দুর্নীতি মামলায় সাজার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আসামিদের মাঝে এখন আতঙ্কও বাড়ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘কমিশনের যে কোনো পদক্ষেপ একটি চলমান প্রক্রিয়া। দুর্নীতি দমনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বর্তমান কমিশন মামলার অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রসিকিউশনে পরিবর্তন এনেছে। তদন্ত এবং প্রসিকিউশনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করা হয়েছে, ফলে এরইমধ্যে কমিশনের মামলার সাজার হার বৃদ্ধি পেয়েছে।’

এদিকে দুদক কর্মকর্তারা জানান, দুর্নীতির মামলায় মূলত দালিলিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। সাক্ষীদের বক্তব্য নিয়ে তাদের নাম-তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে সব সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা যায় না। এর মধ্যে কেউ কেউ আদালতে হাজির হলেও দুদকের বৈরী সাক্ষী হন। এতে মামলার মেরিট (উপাদান) দুর্বল হয়। দুর্নীতি মামলার আসামিরা সাধারণত ধূর্ত, কৌশলী ও প্রভাবশালী। তারা সাক্ষীদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন।

অপরাধের দায় থেকে রক্ষা পেতে তারা প্রায় সব রকম চেষ্টা করে থাকেন। এসব কারণে দুদকের অনেক মামলায় আসামিরা খালাস পেয়ে থাকেন। তবে এখন অভিযোগের যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধান, মামলার তদন্তসহ সব কার্যক্রম গুরুত্বসহকারে সম্পন্ন ও ত্রুটিহীন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় সব কর্মকর্তাকে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে অনুসন্ধান ও তদন্তে কোনো ঘাটতি না থকে। এতে মামলা দায়ের ও চার্জশিটের সংখ্যা কমলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণগতমান বাড়ছে।

দুদক থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বিচারিক আদালতে দুদকের মামলায় চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাসে ৬৩ দশমিক ৮২ শতাংশ সাজার রায় হয়েছে। গেল বছর (২০১৭) ৬৮ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। ২০১৬ সালে দুদকের মামলায় ৫৪ শতাংশ আসামি সাজা পেয়েছেন। আর আসামি খালাস বা মামলা বাতিলের রায় হয়েছে ৪৬ শতাংশ। এর আগের প্রায় সাত বছরে সাজার হার ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাসে বিচারিক আদালতে দুদকের ৪৭টি মামলার রায় হয়। এতে সাজা ঘোষণা হয় ৩০টি, আর খালাসের রায় ১৭টি; যাতে মোট মামলার ৬৩ দশমিক ৮২ শতাংশ সাজা হয়। গেল বছর (২০১৭) মোট ২৩৭টি মামলার রায় হয়। এতে সাজা হয় ১৬২টির আর খালাসের রায় হয় ৭৫টির। সাজার হার ৫৪ শতাংশ। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরে বিলুপ্ত ব্যুরো ও দুদক মিলে মোট ২ হাজার ৭৭টি দুর্নীতির মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। এতে মোট ৮৬২ মামলায় সাজা এবং বাকি ১ হাজার ২১৫টি মামলা বাতিল অথবা আসামি খালাস পেয়েছেন।

এর মধ্যে ২০০৯ সালে ২৩৭টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়। ১৫৪টিতে সাজা হয় এবং খালাস ৮৩টিতে। ২০১০ সালে ৬০০টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়। ৩১৫টিতে সাজা হয় এবং খালাস ২৮৫টিতে। ২০১১ সালে বিচার সম্পন্ন ১৬৬টির। ৩৩টিতে সাজা হয় এবং খালাস ১৩৩টিতে। ২০১২ সালে বিচার সম্পন্ন ২১৮টির। সাজা হয় ৫৭টিতে, আর খালাস ১৬১টিতে। ২০১৩ সালে বিচার সম্পন্ন ২৫৫টির। সাজা হয় ৯১টিতে ও খালাস ১৬৪টিতে। ২০১৪ সালে বিচার সম্পন্ন ২৯৫টির। সাজা হয় ১১৩টিতে আর খালাস ১৮২টিতে। ২০১৫ সালে বিচার সম্পন্ন হয় ৩০৬টির। এর মধ্যে সাজা হয় ২০৭টিতে ও খালাস ৯৯টিতে। এ সাত বছরে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মামলায় সাজার রায় হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা পৌর ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন

সাতক্ষীরা পৌর ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল পৌর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মেহেদী আলী সুজয়, যুগ্ম আহবায়ক তায়জুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে মোহাম্মাদ হারুন অর রশিদ কে আহবায়ক ও গোলাম মোস্তফা, রবিউল ইসলাম কাজল, আয়ুব আলীকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। উক্ত কমিটিকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় মুখোমুখী ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ; ১৪৪ ধারা জারি

কে.এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটায় ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রলীগ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ উপজেলার গাজীরহাটে সমাবেশ ডাকায় দেবহাটা থানার ওসি কাজী কামাল হোসেনের অনুরোধে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ উক্ত স্থানে সোমবার বিকাল ৩ টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন।
সূত্র মতে জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রলীগ সোমবার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলার বেজোরাটি গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে মহিউদ্দীন খোকন ও তার অপর সঙ্গী জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে রিপন হোসেন লিপুর বিরুদ্ধে তাদের কর্মী সেলিমকে মারপিট করার সুষ্টু তদন্তপূর্বক বিচার দাবী করেন। একই সাথে উপজেলা ছাত্রলীগ নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি সেলিম হোসেনকে মারপিট ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার প্রতিবাদে সোমবার বিকালে গাজীরহাট বাজারে একটি সমাবেশ ডাকে। অপরদিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দীন খোকনের উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে সোমবার একই স্থানে একই সময় সমাবেশের ডাক দেয়। উভয়পক্ষ একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী করেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ জানান, তাদের ওয়ার্ড সভাপতিকে মারপিট করার সুষ্টু তদন্ত ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অপরদিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খোকন জানান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দীন খোকনের উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে তারা এই সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। দেবহাটা থানার ওসি কাজী কামাল হোসেন যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৪৪ ধারা জারী করার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৪৪ ধারা জারী রাখার সময় বাড়ানো হতে পারে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে ওসি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত থেকে ৯পিছ স্বর্ণের বার উদ্ধার

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত থেকে ৯পিছ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) সদস্যরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার সময় বেনাপোল পোর্ট থানাধীন পুটখালী গ্রামস্থ খলসী বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে বটতলা নামক স্থান হতে এ স্বর্ণের চালান উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান তারিক জানান, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ আনুমানিক ১১০০ ঘটিকায় ২১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পুটখালী বিওপির একটি টহল দল যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানাধীন পুটখালী গ্রামস্থ খলসী বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে বটতলা নামক স্থান হতে ০৯ টি স্বর্ণের বার(ওজন আনুমানিক ০১ কেজি) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আটককৃত স্বর্ণের আনুমানিক সিজার মূল্য ৪২,০০,০০০/-(বিয়াল্লিশ লক্ষ) টাকা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন যে প্রথম বাংলাদেশি আলোকচিত্রি

৪০ দিন বয়সী মৃত সন্তানের অসাড় দেহটি বুকে জড়িয়ে ধরে আছেন এক নারী। বারবার তার মুখে চুমু খাচ্ছেন আর বিলাপ করে কাঁদছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে নৌকায় করে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে নৌকাডুবিতে সন্তানের মৃত্যু হয়।

হৃদয়বিদারক এই মুহূর্তটির ছবি তুলছিলেন মোঃ পনির হোসেন। তিনি তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা করছিলেন।

বলছিলেন, ঐদিন সাথে আরেক ফটোগ্রাফারকে নিয়ে শাহপরীর দ্বিপে ছবি তুলতে গিয়েছিলেন।

তাদের সিএনজি চালক খবর দিলো একটা নৌকাডুবি হয়েছে। কয়েক কিলোমিটার হেটে সেখানে পৌঁছান।

পনির হোসেন বলছেন, “ছবিগুলো যখন তুলি তখন আমি আমার আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম। কিন্তু হোটেলে ফিরে এডিট করতে গিয়ে ল্যাপটপে যখন ছবিগুলোকে দেখলাম তখন আর আমার পক্ষে আবেগ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি”

“মানুষের কষ্ট কতরকম এটা রোহিঙ্গা ইস্যু যদি কাভার না করতাম তাহলে সম্ভবত আমি বিষয়টা বুঝতাম না”

এই ছবিটি সহ আরো দুটি ছবির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

অন্য দুটির একটিতে দেখা যাচ্ছে গত বছরের আগস্টের শেষের দিকে সীমান্তের কাছে বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় একদল রোহিঙ্গা তুমুল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন।

সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি তাদের সেখানে আটকে রেখেছে।

অন্য ছবিটিতে রয়েছে ভেলায় চড়ে নদীপথে বাংলাদেশের আসা একদল রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গাদের এমন চরম দুর্ভোগ আর হৃদয়বিদারক কিছু ছবি তোলার জন্য আন্তর্জাতিক নিউজ এজেন্সি রয়টার্স এবারের পুলিৎজার পুরস্কারটি পেয়েছে।

পুলিৎজারকে বলা হয় সাংবাদিকদের অস্কার পুরস্কার।

রয়টার্সের মোট সাতজন আলোকিত্রি রোহিঙ্গাদের নানা মুহূর্তের ছবির জন্য দলগতভাবে এই পুরস্কার পান।

এ মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের মোঃ পনির হোসেন।

এই প্রথম কোনও বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচাইতে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন।

২০১০ সাল থেকে পনির হোসেন ছবি তুলতেন সখের বসে। সেই শখই একদিন তার পেশা হয়ে দাঁড়ালো।

শুরুতে তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেব কাজ করতেন। ২০১৫ সালে তিনি রয়টার্সে যোগদান করেন।

তিনি বলেন, “মানুষ যখন কোন দুর্দশায় পরে বা কোন সংকট তৈরি হয় তখনই আমাদের মতো ফটোসাংবাদিকদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। যেমন রোগী না থাকলে ডাক্তারের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ নেই, আমাদের জন্যেও বিষয়টা একই রকম”

তিনি বলছিলেন, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য তারা রোদে পুড়ে, পানিতে ভিজে লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছে এসেছেন।

তারা জানেন না সামনে কি আছে, তারা কোথায় যাচ্ছেন, কি খাবেন বা কোথায় থাকবেন।

কতটা কষ্টে পড়লে মানুষ এমন অনিশ্চিত যাত্রার উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন সেই বিষয়টি তাকে খুব নাড়া দিয়েছে, বলছিলেন পনির হোসেন।

তিনি বলছেন, “এই ছবিগুলো তুলতে গিয়ে আমি নিজে যতই কাদার মধ্যে হাটি, রোদে পুড়ি বা পানিতে সাতার কাটি, দিন শেষে যখন একটা ভালো ছবি হয় তখন আর সেই ক্লান্তির কথা মনে থাকে না।”

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি আসলে প্রকাশ করা সম্ভব না, বলছিলেন তিনি।

– বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেক্সিকো সীমান্তে ছয় মাসে আটক ১৭১ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ (সিবিপি) বলছে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে এপ্রিলের ১২ তারিখ পর্যন্ত মেক্সিকোর সাথে টেক্সাসের লারেডো সীমান্তে ১৭১ জন বাংলাদেশীকে তারা আটক করেছে।

মেক্সিকোর সাথে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টার সময় তাদের করা হয়।

২০১৭ অর্থ বছরে (অক্টোবর-আগস্ট) ঐ একই সীমান্তে ১৮০ জন বাংলাদেশীকে আটক করা হয়েছিল।

মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের আমেরিকায় ঢোকার এই পরিসংখ্যানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিরোধী বৃহত্তম এবং প্রভাবশালী সংগঠন ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্মস (এফএআইএ)।

ইমিগ্রেশন রিফর্ম ডট কম নামে সংস্থার ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি নিবন্ধ লিখেছেন গবেষণা বিভাগের প্রধান ম্যাট ও ব্রায়েন।

তিনি লিখেছেন – অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, টেক্সাসের লারেডো সীমান্ত ল্যাটিন আমেরিকা হয়ে দক্ষিণ এশীয় এবং আফগান অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের ঢোকার প্রধান রাস্তা হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশীদের নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মি ব্রায়েন। তার উদ্বেগের দুটো কারণ তিনি দেখিয়েছেন –

এক, আইসিস এবং আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (এ কিউআইএস) এবং আরো কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী বাংলাদেশে তৎপর এবং এরা বাংলাদেশ থেকে সদস্য সংগ্রহ করছে। “সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশ থেকে আসা এসব অবৈধ অভিবাসীদের কারো কারো সাথে ঐ সব সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগাযোগ থাকতে পারে।”

দুই, যদি বাংলাদেশের মত দূরবর্তী একটি দেশ থেকে লোকজন ল্যাটিন আমেরিকায় ঢুকে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুতে যেতে পারে, তাহলে অন্যান্য যেসব দেশে সন্ত্রাসবাদের সমস্যা রয়েছে সেখানকার লোকজনও উৎসাহিত হয়ে একই পথ নিতে পারে।

“প্রায় অরক্ষিত দক্ষিণের সীমান্ত যেন সন্ত্রাসীরা অপব্যবহার না করতে পারে, তা নিশ্চিত করার সময় এসেছে।”

গত বছর মার্কিন সাময়িকী লস এঞ্জেলস টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাটিন আমেরিকা হয়ে মেক্সিকোর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি, ভারতীয়, নেপালি ও পাকিস্তানীদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঢোকার সংখ্যা প্রচণ্ড বেড়ে গেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে ঐ রিপোর্টে বলা হয় ২০১৬ সালের অগাস্ট মাসের আগের ১১ মাসে এই চারটি দেশের ৪০৬০ নাগরিক এই পথে আমেরিকায় ঢোকে, যাদের মধ্যে ৩৬০৪ জনকে আটক করা। অথচ সাত বছর আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২২৫ জন।

লস এঞ্জেলস টাইমস লিখেছে – দক্ষিণ এশীয় এসব অবৈধ অভিবাসীরা প্রধানত দুবাই থেকে চার্টার্ড বিমানে ব্রাজিলে এসে নামে। তার পর সেখান থেকে স্থলপথে বলিভিয়া, পেরু, একুয়েডর, পানামা সিটি এবং গুয়েতামালা হয়ে মেক্সিকোতে ঢোকে।

এত পথ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছুতে অনেক সময় কয়েক মাস লেগে যায়। পথে পড়ে বিপজ্জনক জঙ্গল, পাহাড়, চাঁদাবাজ এবং ডাকাতের দল। সীমান্ত দিয়ে রক্ষীদের চোখ এড়িয়ে ঢুকতে না পারলে, অনেক সময় ধরা পড়ে যায় অথবা নিজেরাই ধরা দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চায়।

২০১৬ অর্থ বছরে মেক্সিকো সীমান্তে প্রায় চার হাজার দক্ষিণ এশীয়কে আটক করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্ষুদে আবৃত্তিকার দিঘীর সাফল্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় “ক” বিভাগে সাফানা ফারদিন দিঘী প্রথম হয়েছে। গত সোমবার সকাল ১১ টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত কবিতার নাম ছিল কাজী নজরুল ইসলামের লেখা “খুকি ও কাঠবিড়ালী ”।
মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন ক্ষুদে আবৃত্তিকার সাফানা ফারদিন দিঘীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এ সময় সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনসুর আহমেদ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিশ্বাস সুদেব কুমার , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ) মো: জাকির হোসেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ। এছাড়া সেখানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষুদে আবৃত্তিকার সাফানা ফারদিন দিঘী সাতক্ষীরা কিন্ডার গার্টেনের কেজি শ্রেণির ছাত্রী। সে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী “বর্ণমালা একাডেমির” নিয়মিত শিক্ষার্থী। দিঘী সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার, ভয়েস অব সাতক্ষীরার সম্পাদক এম কামরুজ্জামান ও সাতক্ষীরা ছফুরননেছা মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সেলিনা সুলতানা লিপির মেয়ে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় সন্তান হত্যার নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় জেল খাটানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় পানিতে ডুুবে মৃত সন্তানকে দাফনের ৭দিন পর হত্যার নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় ২ সতিনপুত্র ও সতিনকে জেল হাজত খাটানো এবং তার সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে জনার্কীন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্যামনগরের জয়নগর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রুবেল হোসেন শফি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন আমি কালিগঞ্জের দুদলি আল আমিন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। গত ৩বছর পূর্বে ৬ নং স্ত্রী হিসাবে কালিগঞ্জ উপজেলার লহ্মীনাথপুর এলাকার আয়ুব খানের কন্যা মমতাজ বেগমকে বিবাহ করেন। তাদের ঘরে মাহিন নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। তার বয়স দেড় বছর। গত ২৭/০৬/২০১৭ তারিখ বিকালে পিতা মাহিনকে নিয়ে বসতবাড়ির সামনে পুকুর পাড়ে ঘুমিয়ে ছিলো। সকলের অগোচরে মাহিন পানিতে ডুবে মারা যায়। মরে ভেসে ওঠার পরে স্থানীয়রা তার লাশ উদ্ধার করে। সে সময় চাচা রাজগুল দ্রুত তার দাফনের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা পুলিশে জানিয়ে দাফনের কথা বললেও তিনি কারো কোন কথা না শুনে তার দাফন সম্পন্ন করেন। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সৎ মা মমতাজ, সৎ ভাই রব্বানি ও চাচা রাজগুল বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। এক পর্যায়ে মৃত্যুর ৭দিন পর রব্বানি ও রাজগুল আমাকে জোরপূর্বক মাদ্রাসা থেকে বাড়ি নিয়ে যায়। ঘরে নিয়ে আটক রাখে। পরে রব্বানি দা ও রাজগুল লাটিসোটা নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে । এসময় তারা বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করে বলে, ‘আমরা যেটা শিখিয়ে দেবো সেটা সেভাবেই পুলিশের সাথে বলবি, তা না হলে তোকে মেরে ফেলবো, পুলিশ দিয়ে আটক করিয়ে জেল হাজত খাটাবো। এবং লাটি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায়ে তাদের ভয়ে সাথে পুলিশের সামনে গিয়ে বলি‘ মাহিন কে আমার সৎ মাতা জাহেরা বেগমের পুত্র সৎ ভাই রফিক গলা টিপে হত্যা করে আমার কাছে দেয় এবং আমি মাহিন কে পুকুরে ফেলে দেই। এরপর মমতাজ বেগম বাদী হয়ে আমাকে ২নং আসামী এবং সৎ ভাই রফিক কে ১ নং ও সৎ মাতা জাহেরা খাতুনকে ৩নং আসামী করে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। অথচ মাহিনের মৃত্যুর ঘটনার কিছুই আমি জানতাম না, সে সময় আমি কালিগঞ্জের দুদলি আল আমিন মাদ্রাসায় পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলাম। আর সৎ ভাই রফিক ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে তার শ্বশুর বাড়ি হাওয়াল ভাঙ্গীতে ছিলো। তাহলে কিভাবে আমি বা আমার ভাই রফিক মাহিনকে হত্যা করলাম। হত্যা যদি করা হলো তাহলে কেন ঘটনার ৭দিন পর তারা মামলা দায়েরের চিন্তা করলো এবং আমাকে ঘরের মধ্যে জিম্মি করে মারপিট করে মিথ্যা জবান বন্দি নিয়ে আমাকে এবং সৎ মাতা জাহেরা ও তার পুত্র রফিককে আসামী করে জেল হাজত খাটানো হলো। অথচ ঘটনার দিন রান্নাঘরে বসে আমার আরেক সৎ ভাই রব্বানি নেশা করছিলো। এটি পাশ্ববর্তী দুধওয়ালা কোহিনুর দেখেছিলো। পরবর্তীতে কোহিনুর একথা মানুষের সাথে বলতে গেলে রব্বানি দা নিয়ে কোহিনুর কে তাড়ায়। যে কারণে সে আর মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তারা সম্পত্তি গ্রাসের জন্য আমার মত একজন নাবালকসহ আরো ৩জন নিরাপরাধ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।
এব্যাপারে মিথ্যা মামলার হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি, আমার ভাই রফিক ও সৎ মাতা জাহেরা খাতুন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest