সর্বশেষ সংবাদ-
সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নে কাজ করা হবে- হাবিবুল ইসলাম হাবিবসাতক্ষীরা জেলা নাগরিক ঐক্যের সভাপতির নেতৃত্বে ২১৭ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদানচ্যানেল -নাইন এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রকৌশলী মাহমুদ হাসানসাতক্ষীরায় চাকুরী মেলায় চাকুরী পেলেন ৮ জনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের বিজয় নিশ্চিত করতে গণসংযোগ ব্যস্ত সময় পারছেন দলীয় নেতাকর্মীরাসাতক্ষীরা-২ আসনের অলিগলিতে ঘুরে ভোট চাচ্ছেন সাবেক এমপি আশুWie man bei Cipherwins Casino sicher ein- und auszahltনির্বাচনীয় জনসভায় বক্তব্য চলাকালিন সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক এমপি হাবিবসাতক্ষীরায় বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি প্রকল্প পরিদর্শণে জেলা প্রশাসকসাতক্ষীরায় বাস শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের পরিবারে নগদ অর্থ সহায়তা

ভুলে ভরা বাংলা- মিল্টন বিশ্বাস

বাঙালি জাতি হিসেবে আজ আমরা গর্বিত এবং মহিমান্বিত। ভাষার মাসে আমরা দেখতে পাই একদিকে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যদিকে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর আমলেই ১৯৯৯ সালে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত হয়ে ১৯৩টি দেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল রাষ্ট্রভাষার দাবি আদায়ের আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। কিন্তু ভাষা শহীদদের রক্তে স্নাত হওয়া সত্ত্বেও ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বর্তমান সময়েও আমাদের লড়াই থেমে নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে ভাষা আন্দোলনের পূর্বাপর প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে। এই গ্রন্থে তিনি তুলে ধরেছেন পাকিস্তানি শাসক ও এদেশীয় দোসরদের বাংলা ভাষার প্রতি বিরূপ মনোভঙ্গি। আর রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করার কঠিন সময়ের কথা লেখকের নিজের জবানিতে ব্যক্ত হয়েছে। তবে সেদিন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের যে অভিপ্রায় ছিল ভাষাসৈনিকদের তার অনেক কিছুই আজ অপূর্ণ রয়ে গেছে। ৬৬ বছর পর আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলার মান ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলি, নির্ভুল বানানে বাংলা লেখার জন্য তর্কবিতর্কে লিপ্ত হই আর হরহামেশায় ভুলে ভরা বাংলা লেখা নিয়ে খেদোক্তি করি।

২.

কিছুদিন আগে বিচারপতির পদত্যাগপত্রে বাংলা বানান ভুল নিয়ে হৈচৈ হয়ে গেল। আবার সরকারি সাইনবোর্ড, রাস্তার প্লাকার্ড, পোস্টার, ব্যানারে বানান ভুল নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃক সঠিক বানানের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকলেও মানতে নারাজ অনেকেই। এজন্য ঢাকার প্রধান সড়কের পাশে ফার্মেসি ও ফটোস্ট্যাটের দোকানের প্রত্যেকটির সাইনবোর্ডে লেখা ‘ফার্মেসী’, ‘ফটোষ্ট্যাট’ ইত্যাদি। কয়েকটি দোকানে স্টোর-এর জায়গায় ‘ষ্টোর’ লিখে রাখা হয়েছে। রাস্তা সংলগ্ন বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট চোখে পড়ে যেগুলোতে লেখা ‘রেষ্টুরেন্ট’। একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নামের বানানে ভুল করে মর্ডান না লিখে ‘ণ’ ‘মর্ডাণ’ লেখা রয়েছে। অথচ আমরা জানি, কোন বিদেশি শব্দে ণ, ষ এবং ঈ কার হবে না।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম পুণ্যস্থান ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ। কিন্তু সেখানেও বানান ভুল দেখতে পাবেন। মেডিকেলে ঢুকেই নজরে আসে ‘‘বার্ণ এবং সার্জারী’’ (বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট) বানান ভুল। একটু পিছন ফিরলেই চোখে মিলবে ইমারজেন্সি কমপ্লেক্স-এর ‘‘ইমারজেন্সী’’ ভুল বানান। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের বানান ভুল করে ‘সুপ্রীম’ লেখা। জাতীয় প্রেসক্লাবের কর্মচারী ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বানানটাই ‘ষ’ দিয়ে লেখা।

আবার একই শব্দ একেক সাইনবোর্ড বা দেয়ালে লেখা হচ্ছে একেকরকম। এতে একদিকে যেমন বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটছে তেমনি শিশুর ভাষা বিকাশে ত্রুটি ঘটছে বলে ভাষা বিশেষজ্ঞদের অভিমত। শিশুরা আগ্রহ নিয়ে সাইনবোর্ডগুলো পড়ে। আর সেখানে যদি ভুল থাকে তবে সেটি তাদের মনে গেঁথে যায়। অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত আর্টিস্ট দ্বারা যখন কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল কিংবা বাসা বাড়ির কাজ করা হয় তখন সেসব সাইনবোর্ড, ব্যানার ও দেয়াল লিখন বাংলা বানানে ভুলে ভরা থাকছে। সাইনবোর্ড হচ্ছে চোখের ঝিলিক; প্রতিষ্ঠানের আয়না। প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যদি ভুল বানানে থাকে তাহলে প্রথমেই একটা বিরূপ ধারণা চলে আসে। যেমন, ফার্নিচারের দোকানগুলোতে দেখা যায় ফার্নিচার শব্দটিই একেক দোকানে লেখা আছে একেকরকম। ‘মদিনা ফার্নিসারস’, ‘প্যারামাইন্ট ফার্নিশার্স’, ‘হোম ফার্নিষার্স’ বানানে লেখা হয়েছে শব্দটি।

অটোমোবাইলসের সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘এহানে মুবিল, গিরিজ, পিট্রোল’ (এখানে মবিল, গ্রিজ, পেট্রোল) পাওয়া যায়। ‘রহমান অটোমোবাইলসের’ জায়গায় লেখা আছে রয়মান অটোমোবাইল, গ্রিজকে লেখা আছে গিরিজ, অকটেনকে লেখা আছে অটেন। মোবাইলের দোকানের সাইনবোর্ডে দেখা যায়, ‘কলিম ইন্টারপ্রাইজ’- তাতে আরো লেখা ‘এখান থেকে ফিলিক্স লোড, এজি লোড করা হয়। মোবাইল টু মবেল ২ টাকা। বিকাষ করা হয়।’ বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপনেও ভুল লেখা চোখে পড়ে। যেমন, ‘এখানে ঘোর ভারা দেয়া হবে। পানি, গস সুবিধাসহ।’ ছাত্রাবাসগুলোর সাইনবোর্ডে লেখা আছে, ‘মেছ ভাড়া দেয়া হবে।’ যারা এসব বাংলা লেখে তাদের কেবল বর্ণমালা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে কাজ করতে হয়। বানান নিয়ে তারা মাথা ঘামায় না। তবে যারা লিখে নিচ্ছেন তাদেরও রয়েছে বানানে অদক্ষতা। এজন্য অসচেতন মানুষের কারণে বাংলা ভাষা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার যুগে ভুলে ভরা বাংলা স্ট্যাটাস সবসময়ই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। যেমন একটি স্ট্যাটাসে ভুলসমূহ এরকম- ‘আত্মপ্রচার করতে চাইনি, কিন্ত (কিন্তু) যে মিথ্যাচার করা হচ্ছ (হচ্ছে) তাতে কিছু কথা বলা জরুরী (জরুরি) হয়ে পড়েছে। তা নাহলে (না হলে) ভুল বার্তা চলে যাচ্ছে তরুনদের (তরুণদের) কাছে। এখনকার তরুনরা (তরুণরা) এসব ইতিহাস জানেনা (জানে না)। তরুন (তরুণ) সাংবাদিকরাও তাই। তাই তারা চতুর ফন্দীবাজ (ফন্দিবাজ) ও যেকোনও (যেকোনো) ভাবে সংবাদপত্রের পাতায় থাকার কৌশল করছে, …এখন মুক্তবুদ্ধিচর্চার নতুন ধান্দাবাজদের এই কুমভিরাশ্রারু (কুম্ভিরাশ্রু) দেখে মনে হয় ধরণী দ্বিধা হও।’

কেবল সোশ্যাল মিডিয়া নয় খ্রিষ্টীয় বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া বিনামূল্যের বই নিয়ে ২০১৭ সালে চলেছে তুমুল বিতর্ক। ছিল কবিতার বিকৃতি আর বানান ভুলের ছড়াছড়ি। এমনকি মুদ্রণের মান ও অলংকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তখন। প্রথম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে অক্ষরজ্ঞান সূচিতে পাঠ ১২-তে ‘ও’ অক্ষর চেনানোর উপকরণ হিসেবে ‘ওড়না’কে ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘শুনি ও বলি’ পাঠে ‘ও’ অক্ষর চেনাতে ওড়না পরা এক কন্যাশিশুর ছবি দিয়ে লেখা হয়েছিল- ‘ওড়না চাই’। প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ের লেখা ও ছবিতে ‘ছাগল গাছে উঠে আম খাচ্ছে’ বোঝাতে চেয়েছিলেন লেখক। বাংলা পাঠ্যবইটির ১১ পাতায় অ’তে অজ (ছাগল) বোঝাতে গিয়ে ছাগলের ছবি জুড়ে দেয়া হয়। সংশোধন করা না হলে ছাগলের গাছে উঠে আম খাওয়ার মতো অসম্ভব বিষয় শিখতে হতো শিশুদের।

তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি বিকৃত করা হয়। ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে’ না লিখে লেখা হয়েছিল ‘আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে?’ এছাড়া ‘মানুষ হইতে হবে- এই তার পণ’ না লিখে ‘মানুষ হতেই হবে- এই তার পণ’ লেখা হয়। ‘হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান’ এই লাইনে ‘খাট’ শব্দটির বানান বদলে দিয়ে লেখা হয়েছিল ‘খাটো’। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বইয়ের ৭৮ পাতায় ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ’ লেখায় মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি কখনো ‘মুক্তিযুদ্ধ’ আবার কখনো ‘মুকতিযুদ্ধ’। ‘বঙ্গবন্ধু’ বানানটি ভেঙে ঙ-গ আলাদা আলাদা করে লেখা হয়। যা হোক এসব সমস্যা সমাধান করা হয় অতি দ্রুত। কিন্তু ভুলে ভরা বাংলা ভাষার  দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়। আমরা মনে করি পাঠ্যপুস্তকে কেনো ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুদের কাছে উপস্থাপিত কবিতা বা লেখার কোনো ভুল বা বিকৃতি চলবে না।

৩.

আসলে বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটছে সর্বত্রই। এফএম রেডিও’তে বাংলা ভাষাকে ইংরেজি স্টাইলে উচ্চারণ করা হচ্ছে। ভুলে ভরা বানানে প্রতিবাদলিপি প্রেরিত হয়েছে দৈনিক পত্রিকায়; প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নে ভুল দেখা গেছে। গত বছর বিজ্ঞান পরীক্ষায় ছিল ব্যাকরণগত ভুল। সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের এক ফেস্টুনের ছবিতে দেখা গেছে বানান ভুলের ছড়াছড়ি। শিক্ষা, মেরুদণ্ড এমন সাধারণ বানানেও ভুল হতে দেখা গেছে সেখানে। পাওয়া গেছে ভুলে ভরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন নির্দেশিকাও। যেমন, ‘ঊর্মি’র সমার্থক শব্দ ‘ঢেউ’, ‘ঈশ্বর’-এর ‘স্রষ্টা’। কিন্তু সমাধানপত্রে লেখা হয়েছে ‘ঢেউ’-এর স্থলে ‘ডেউ’, ‘স্রষ্টা’র স্থলে ‘শ্রষ্টা’। ‘আগমনী’ শব্দের শুদ্ধ লেখা হয়েছে ‘আগমণী’। ‘তিমির বিদারী’র ব্যাসবাক্য লেখা হয়েছে ‘তিমিরের বিদারী’। সমাসের নাম লেখা রয়েছে ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ। ‘নিত্য সমাস’-এর স্থলে লেখা হয়েছে ‘নিত্র সমাস’। একটি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়ন-নির্দেশিকায় এসব ভুল লেখা ছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে নির্দেশনা মোতাবেক অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে নিজস্ব ওয়েবসাইট। কিন্তু এসব ওয়েবসাইটে রয়েছে অনেক ভুল। ওয়েবসাইটগুলো মানছে না বাংলা একাডেমির প্রমিত ‘বাংলা বানান রীতি’। জাতীয় সংসদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণে ইংরেজি শব্দের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার দেখা গেছে। অথচ এসব শব্দের বাংলা অর্থ রয়েছে। আবার এসব শব্দের ব্যবহারের রয়েছে ভুল। ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, ট্যাবগুলোর মধ্যে রয়েছে হোম, লাইব্রেরি। অথচ চাইলেই হোম-এর পরিবর্তে ‘প্রচ্ছদ’ আর লাইব্রেরির পরিবর্তে ‘গ্রন্থাগার’ শব্দটি ব্যবহার করা যেত। এসব প্রমাণ করে বাংলা শব্দ ব্যবহারে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। তাছাড়া পুরো ওয়েবসাইটজুড়ে রয়েছে ভুল বানানে বিদেশি শব্দের ব্যবহার। ভুল বানানে যেসব ইংরেজি শব্দগুলো লেখা হয়েছে সেগুলো হলো- চীফ, সেসন, ইংরেজী, স্পীকার, পার্লামেন্টরী, লাইব্রেরী, গ্যালারী। বাংলা একাডেমি প্রমিত বানান রীতি অনুযায়ী বিদেশি ভাষার শব্দ সরাসরি ব্যবহার করতে হলে তার বানানে ই-কার (ি) এবং উ-কার (ু) ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে স্পীকার এর পরিবর্তে লিখতে হবে স্পিকার। একইভাবে চিফ, ইংরেজি, পার্লামেন্টরি, লাইব্রেরি, গ্যালারি লিখতে হবে। আর ‘সেসন’ বানানটি হবে ‘সেশন’। যার পরিবর্তে লেখা যেত অধিবেশন বা মাত্রাকাল। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুসরণের মাধ্যমে সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহারে সামঞ্জস্য বিধান করা প্রয়োজন।

৪.

চলতি বছর(২০১৮) সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর পদত্যাগ করেছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারক মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। তবে তাঁর পদত্যাগপত্রটি ভুলে ভরা। বানানে ভুল থাকার পাশাপাশি শব্দেও ভুল দেখা গেছে। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী শব্দটি লিখেছেন ‘গনপ্রজাতন্ত্রী’। বঙ্গভবনকে এক শব্দ না লিখে আলাদা লেখা হয়েছে ‘বঙ্গ ভবন’। মহাত্মন লিখতে লিখেছেন ‘মহাত্নন’। আর কারণবশত লিখতে দুটি শব্দ লিখে বশতঃ লিখেছেন ‘স’ ব্যবহার করে। কারণেও ব্যবহার করেছেন ‘ন’। অনুগ্রহপূর্বক লিখতে দুটি শব্দ লিখেছেন। গ্রহণ বানানে ‘ন’ ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও তিনি সুপ্রীম ও আপীল লিখেছেন। যে শব্দ দুটি হবে যথাক্রমে সুপ্রিম ও আপিল। একইভাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার এক মাসের ছুটির আবেদনে ছিল অসংখ্য ভুল। লেখা হয় অমি (হবে আমি)। আবার লেখা ছিল ‘অক্রান্ত। হবে আক্রান্ত। আমরা প্রতিনিয়ত উচ্চ আদালতে বাংলা প্রচলনের পক্ষে কথা বলে থাকি এবং আদালত কর্তৃক বাংলায় সাইনবোর্ড লেখার নির্দেশনাও বহাল রয়েছে। সেখানে বিচারপতিদের ভুলে ভরা বাংলা দুঃখজনক।

ভুলে ভরা বাংলা ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার জন্য প্রথমে দরকার সচেতনতা; প্রমিত বানানরীতি অনুসরণ করা এবং ইংরেজি শব্দের গ্রহণযোগ্য বাংলা পরিভাষা ব্যবহার। এজন্য বিদেশি শব্দের যথার্থ পরিভাষা তৈরি এবং সেগুলোর বানানরীতিও স্পষ্ট থাকতে হবে। তাছাড়া প্রযুক্তির প্রসারের যুগে বাংলাকে ইন্টারনেটের এক্সপ্রেসওয়েতে আরোহণ করতে হবে। এজন্য সরকারি উদ্যোগ ও জনগণের উদ্যম দুটোই প্রয়োজন।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ  এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি, প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের আয়োজন করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল বিএনপি। এজন্য ডিএমপিতে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার ঢাকায় কালো পতাকা মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বুধবার বিকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির কথা জানান।

একই সঙ্গে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

এর আগে, গত শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ারি মুক্তির দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার কথা জানান রিজভী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিয়ের হ্যাটট্রিক করা ইমরানের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ!

খেলোয়াড়ি জীবনে হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও বিবাহিত জীবনে সম্প্রতি হ্যাটট্রিক করেছেন পাকিস্তানি ক্রিকট লিজেন্ড ইমরান খান। ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসা তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির এই নেতা কয়েকদিন আগে বুশরা মানেকার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৪২ বছর বয়সী বুশরার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। ৬৫ বছর বয়সী ইমরানের বিরুদ্ধে এবার ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ অভিযোগ আনলেন তার সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খান।

রেহাম খানের অভিযোগ বেশ গুরুতর। তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকার সময় থেকেই নাকি বুশরার সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছিলেন ইমরান খান। দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রেহাম খান ইমরানকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বুশরার সঙ্গে কমপক্ষে ৩ বছর ধরে ইমরানের মন দেওয়া নেওয়া চলছে। এমনকী তিনি এটাও বলেছেন, ইমরান-বুশরার বিয়ে নাকি চলতি বছরের ১ জানুয়ারিতেই হয়ে গেছে!

রেহাম খানের ভাষ্য, ‘আমি যতদূর জানি, বুশরার সঙ্গে ইমরানের সম্পর্ক ৩ বছর ধরে। এমনকি আমাদের দাম্পত্য জীবনের মাঝেও ইমরান প্রায়ই বুশরার সঙ্গে দেখা করত। সে আগাগোড়া একজন মিথ্যেবাদী।ইমরান বুশরাকে গত ১ জানুয়ারি বিয়ে করেছে। কিন্তু সে এটা জনসম্মুখে প্রকাশ করল এখন। একই ব্যাপার সে করেছিল আমাকে বিয়ে করার পর।’

খেলোয়াড়ি জীবনে ইমরানের বদনাম ছিল ‘লেডি কিলার’ হিসেবে। অসংখ্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। ১৯৯২ সালে অবসর নেওয়ার ৩ বছর পর ব্রিটিশ ধনকুবের জেমস গোল্ডস্মিথের মেয়ে জেমাইমাকে বিয়ে করেন তিনি। ২০০৪ সালে ডিভোর্স হয় দুজনের। এরপর ২০১৫ সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা রেহাম খানের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১০ মাস টিকেছিল সেই বিয়ে। এবার রেহাম খানের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ইমরানের দাম্পত্য জীবনে না হলেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় মহান শহিদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

কে. এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিস্তারিত কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে বুধবার মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল রাত ১২ টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন। পুষ্পমাল্য অর্পন করেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, দেবহাটা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দেবহাটা থানা, দেবহাটা প্রেসক্লাব, দেবহাটা উপজেলা আওয়ামীলীগ, জাতীয় পাটি, দেবহাটা কলেজ, দেবহাটা বিবিএমপি (মডেল) হাইস্কুল, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমাজসেবী সংগঠন। পরে সকাল ৯ টায় একটি র‌্যালী উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। পরে এক আলোচনা সভা ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান উপজেলা মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ। প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ¦ আব্দুল গনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম, উপজেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খোকন। এসময় উপজেলা প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই রকেট, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রনব কুমার মল্লিক, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিসেস নাজমুন নাহার, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ইসরাঈল হোসেন সহ উপজেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাংবাদিক সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা বলেন, বাঙালীর ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি স্বরুপ জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারীকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনা করে। সেখান থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ^ একযোগে এইদিনটি পালন করে আসছে আর আমাদের ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামের কথা ও অমর একুশের চেতনা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশে^র বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। আর সেজন্য এইদিনটির মর্যাদা রক্ষার জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানানো হয়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিবসটি যথাযথভাবে পালন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রাজস্থানের জয়পুরে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পাপড় বিক্রি করছেন বলিউড সুপারস্টার হৃত্বিক রোশন। ‘সুপার-৩০’ ছবির শুটিং চলছে। সেই শুটিংয়ের অংশ হিসেবেই পাপড় বিক্রি করছেন হৃত্বিক। চরিত্রের মধ্যে এতোটাই ঢুকে গিয়েছিলেন হৃত্বিক এবং মেকআপ ছিল এতোটাই সাধারণ যে, পথচলতি মানুষ কেউ তাকে চিনতেই পারেনি।

তবে এর আগেও নিজের ছবির চরিত্রের সঙ্গে একেবারে একান্তভাবে মিশে যেতে দেখা গেছে হৃত্বিককে। ‘কই মিল গয়া’ ছবিতে এক অটিজমে আক্রান্ত বাচ্চার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হৃত্বিক। ‘কাবিল’-এ তাকে অন্ধ মানুষের চরিত্রে দেখা গেছে।
মাত্র দিন কয়েক আগেই ‘সুপার-৩০’ছবির ফার্স্ট লুক প্রকাশ্যে আসে। ছবিতে গণিতবিদ আনন্দ কুমারের চরিত্রে অভিনয় করছেন হৃত্বিক। সেখানে হৃত্বিকের চেহারা দেখে, সকল দর্শকই চমকে গিয়েছিলেন।
বর্তমানে যে ছবিটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে, সেখানে ৪৪ বছর বয়সি অভিনেতা একটি পুরনো, নোঙরা জামা পরে পাপড় বিক্রি করছেন। গায়ে গামছা দেয়া এবং গালে দাড়িও রয়েছে হৃত্বিকের। গত ২২ জানুয়ারি, এই ছবির শুটিং মুম্বাইয়ে শুরু হয়। তারপর বারানসীতে ছবির একপ্রস্থ শুট হয়ে যায়। ছবিটি আগামী বছর জানুয়ারির ২৬ তারিখ পর্দায় মুক্তি পাবে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আইভোরিয়ান এক ব্যক্তির আট বছর বয়সী এক ছেলেকে সুটকেসের ভেতরে ভরে পাচার করা হয়েছিলো। তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো মরক্কো থেকে স্পেনে। সরকারি আইনজীবীরা এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে পিতা আলী ওয়াত্তারার কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই কড়া শাস্তি হয়নি। সন্তানকে যে সুটকেসে করে পাচার করা হচ্ছে সেটা পিতা জানতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর এ কারণে তার শুধু সামান্য জরিমানা হয়েছে।

ঘটনাটি ছিলো ২০১৫ সালের মে মাসের। অল্প বয়সী একটি মেয়েকে ভারী একটি ব্যাগ টেনে নিতে দেখে মরক্কো ও স্পেনের সুতা দ্বীপের সীমান্তের কর্মকর্তারা তাকে থামান। ১৯ বছর বয়সী এক নারী ওই ব্যাগটি টানছিলো। তারপর তারা যখন ওই ব্যাগটি স্ক্যান করে দেখেন তখন তারা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। দেখেন যে ব্যাগের ভেতরে ছোট্ট একটি শিশু। মায়ের গর্ভের ভেতরে একটি শিশু যেমন ভঙ্গিতে অবস্থান করে শিশুটিও ব্যাগের ভেতরে ওভাবে বসেছিলো। পরে ব্যাগটি খুলে কর্মকর্তারা শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

বাচ্চাটি এখন তার মায়ের সাথে পারিসিয়ানে থাকে। তবে সাক্ষ্য দিতে সে এসেছিলো স্পেনের সুতা দ্বীপের একটি আদালতে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মডেল জেরিনের প্রতারণা; ফ্লাটে ডেকে নগ্ন ছবি তুলে দেশের ১১ ব্যবসায়ীকে ব্লাকমেইল

১১ বছর আগে ২০০৭ সালে ইমরান হাশমি ও শায়লি ভগত ভিনীত ‘দ্য ট্রেইন’ সিনেমাটি অনেকেই নিশ্চয় দেখেছেন। সিনেমার একপর্যায়ে স্ত্রীকে রেখে ইমরান হাশমি যখন নতুন বান্ধবীর সঙ্গে রাত কাটাতে যান তখনই হানা দেয় এক সন্ত্রাসী। অস্ত্র ঠেকিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। সেসব ছবি দেখিয়ে পরবর্তী কয়েকবার ইমরান হাশমিকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেয় ওই সন্ত্রাসী। সিনেমাটির শেষে দেখানো হয়, ওই সন্ত্রাসী ও ইমরানের বান্ধবী একসঙ্গে ফাঁদ পেতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করে।

ইমরান হাশমি’র দ্য ট্রেইনের মতো প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশেও। ধরনটা একটু ভিন্ন। সন্ত্রাসী নয় এখানে রেইড দেয় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভুয়া সদস্যরা। তাদের টার্গেট বাংলাদেশের বড় বড় শিল্পপতি। এখানেও একজন বান্ধবী আছেন। যার প্রলোভনে ১১ জন ব্যবসায়ী বিছানা পর্যন্ত গিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন।

প্রতারণার মূল নায়িকা এবং সেই বান্ধবী হচ্ছেন বাংলাদেশের একজন উঠতি মডেল। নাম জেরিন খান। বয়স ২০। জন্ম চট্টগ্রামে, স্কুলে কখনো যাননি। তবে তার কথাবার্তা ও আচার-আচরণ দেখে এটি বোঝার উপায় নেই। ‘এই লাইনে’ আসার পর গত সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশের অন্তত ১১ জন শিল্পপতির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়েছেন তিনি। এরপর ডেকেছেন শ্যামলীর ফ্ল্যাটে। সেখানে আনন্দঘন মুহূর্তে তার ‘বন্ধুরা’ ডিবি সেজে হানা দেন। অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীকে বাধ্য করেন নগ্ন ছবি তুলতে। পরবর্তী সময়ে সেই ছবি দিয়ে চলতে থাকে প্রতারণার রমরমা ব্যবসা।

সম্প্রতি বাড্ডার এক টাইলস ব্যবসায়ীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশ ‘খদ্দের’ সেজে রাজধানীর একটি হোটেল থেকে জেরিনকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুয়া ডিবির সদস্য রাজ্জাক হোসেন রাজ, মো. জাকির হোসেন, খসরু ও মো. শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় শ্যামলীর যে ফ্ল্যাটে অপকর্ম চলতো সেটির মালিক রেহানা জামান পপিকে। সর্বশেষ গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে নগদ ১২ লাখ টাকা, পাঁচ হাজার ডলার (চার লাখ ২০ হাজার টাকা), দুটি ক্রেডিট কার্ড ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।

ডিবি পূর্ব বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) আতিকুল ইসলাম মুরাদ বলেন, আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতারণা করতো। তারা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হবে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ভিক্টিম সামাজিক মর্যাদা রক্ষার্থে পুলিশকে অভিযোগ করেন না।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের আরও বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, ৮ ফেব্রুয়ারি মা অসুস্থ বলে জেরিন ইমতিয়াজকে (ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর ছদ্মনাম) ফোন করে শ্যামলীর ওই ফ্ল্যাটে ডাকেন। ইমতিয়াজ সেখানে গেলে ডিবি পরিচয়ে কয়েজন তাকে বন্দুক ঠেকান ও মারধর করেন। ওই বাড়িতে জঙ্গি কার্যক্রম হয় বলে স্বীকারোক্তি দিতে বলা হয় তাকে। পরে টাকা, ক্রেডিট কার্ড ছিনিয়ে নেয়া হয়। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের ফেন্সি জুয়েলার্স থেকে ২৬ হাজার ১১০ টাকার স্বর্ণালংকার এবং নগদ এক লাখ ২৫ হাজার টাকা তোলেন জেরিন। ক্রেডিট কার্ডটি সচল আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রথমে একটি বিউটি পার্লারে ২৫০ টাকার ভ্রু প্লাক করান।

পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতারণা চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে আনে ডিবি। রিমান্ডে তারা জানান, ফ্ল্যাটমালিক পপি ব্যবসায়ীদের নম্বর সংগ্রহ করে জেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতেন। গত সাড়ে তিন বছরে চক্রটি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। জেরিন ছাড়াও আরেক মডেলের (ঐশী) নাম পেয়েছে ডিবি। জেরিনের একটি গাড়ি রয়েছে, সেটিও প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া।

গ্রেফতারের পর প্রতারণার বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানান জেরিন। পুলিশ জানায়, জেরিন খান বাংলাদেশের একজন উঠতি মডেল। হ-য-ব-র-ল নামের একটি নাটকে নীরব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এরপর নীরবের মাধ্যমে ডিরেক্টর রয়েল খানের সঙ্গে পরিচয়। রয়েল খানই নাকি তাকে দেহ ব্যবসায় আনতে বাধ্য করেছেন- এমন দাবি জেরিনের।

জেরিন আরও জানান, রয়েলের মাধ্যমে বাংলাদেশের নামীদামি ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। তাদের সঙ্গে কখনো স্পেন, কখনো ব্যাংকক আবার কখনো মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেন জেরিন। এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ভ্রমণের সময়ে প্লেনচলাকালীন ককপিটেও যান জেরিন। প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অনুরোধে ছবিও তোলেন পাইলটদের সঙ্গে।

জেরিন জানান, কয়েক বছর ধরে চলছে তার এ প্রতারণা। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতানো টাকা রাখেন নিজের ইস্টার্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে। ছয় মাস আগে শাকিল নামে এক ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তাদের প্রধান টার্গেট বিবাহিত ব্যবসায়ী। বিবাহিতরা সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় খুব সহজেই টাকা দিয়ে দেন।

গ্রেফতারের কয়েকদিন আগে দেশের অন্যতম বৃহৎ এক শিল্পগোষ্ঠীর মালিকের ছেলের সঙ্গে দেখা করে ২০ হাজার টাকা নেন জেরিন। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতারও দাবি করেন তিনি। পুলিশকে জেরিন জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছেলের সঙ্গে অনেক মডেল দেখা করে টাকা আনেন। শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য মডেলদের নগদ টাকার পাশাপাশি দামি উপহারও দেন ওই শিল্পপতি মালিকের ছেলে।

তদন্তে ডিবি আরও জানতে পারে, প্রতারণা এ চক্রে জেরিন ছাড়া আরও অনেক মডেল রয়েছেন। তাদের নামের তালিকা তৈরি হচ্ছে।

চক্রের অন্যতম সদস্য পপি। জেরিন ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করে শ্যামলীর খিলজি রোডের যে ফ্ল্যাটে নিয়ে যেতেন সেটির মালিক পপি। পপির অধীনে প্রতারণার কাজ করে অসংখ্য মডেল ও ছেলে। দেশের বড় বড় শিল্পপতিদের নম্বর ও ফেসবুক আইডি সংগ্রহ করে মডেলদের দেয়া ছিল তার কাজ। এরপর মডেলরা দু-তিন মাসের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে তাদের ওই ফ্ল্যাটে আনতেন।

কেন এমন প্রতারণায় জড়ালেন- পুলিশের এমন প্রশ্নে ‘মায়াকান্না’করে পপি জানান, স্বামী গুরুতর অসুস্থ। তার এ প্রতারণার অর্থ দিয়ে চলে স্বামীর চিকিৎসা।

ডিবি জানায়, ভুয়া ডিবি রাজ্জাক হোসেন রাজ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য। তিনি প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতিও ছিলেন তিনি।

বাকিদের একজন একটি ফার্মে ওকালতি প্র্যাকটিস করেন, আরেকজন একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। প্রতারণার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে।

সূত্র: জাগো নিউজ

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ডান্সিং কারে’ দমবন্ধ হয়ে মৃত প্রেমিক যুগল

ভালোবাসা মানে না কোনো জাত-পাত, মানে না কোনো বাঁধ। বয়স নিয়েও থাকে না কোনো মাথা ব্যথা। একই রকমভাবে শরীর মানে না স্থান-কাল-পাত্রের বাধা। কিন্তু, এই বাধা না মানার কারণ কী ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনতে পারে তার প্রমাণ দিলেন এক জার্মান যুগল।

ইঞ্জিন চালু করে বন্ধ গাড়িতে আলিঙ্গন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রেমিক যুগল। ঘটনাটি ঘটেছে জার্মানির বটট্রপে। একটি কমার্শিয়াল কমপ্লক্সের পিছন থেকে ওই ‘ডান্সিং কার’ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই যুগলকে মৃত অবস্থায় ওই গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাড়ির ইঞ্জিন চালু রেখেই বন্ধ গাড়ির মধ্যে আলিঙ্গনরত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ওই যুগলের। মৃত পুরুষের বয়স ৩৯ বছর এবং নারীর বয়স ৪৪। উদ্ধারের সময় উভয়েই সম্পূর্ণ নগ্ন ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালিয়ে রাখায় বদ্ধ গাড়িতে কার্বন মনোক্সাইড দূষণের ফলে দম আটকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহগুলো ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলোতে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা খতিয়ে দেখতেও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে মৃত যুগল বেশ কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই পুলিশের কাছে দায়ের করা হয়েছিল লিখিত অভিযোগ। সেই কারণে এই যুগলের মৃত্যুর পিছনে ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest