সর্বশেষ সংবাদ-
Sommerliche Jackpot‑Demo‑Strategien: Wie Nv Casino Spieler unterstützt und Boni maximiertশ্যামনগরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪১ বোতল বিদেশি মদ জব্দ  সাতক্ষীরায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ২০ গ্রামের মানুষের ঈদ উল ফিতর উদযাপনসাতক্ষীরায় শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্রসদরঘাটের মৃত্যু: দুর্ঘটনা নয়-এক নির্মম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবিসাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের কমিটি গঠন: সামাদ সভাপতি, রাজীব সম্পাদককালিগঞ্জে চোরাই ভ্যানসহ আটক-০৩মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংকটে ঈদযাত্রা ব্যাহত : বিপাকে বাইকাররাকলারোয়ায় ২৫০ অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণসাতক্ষীরায় নির্যাতিত মোটর শ্রমিক একতা ঐক্যের পরিচিতি সভা

এম. বেলাল হোসাইন: সাতক্ষীরায় পুলিশ পুত্র পুলিশ লাইন্স স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সাকিব হোসেন (১৬) হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী ওই কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশ নেয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ। সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিনা হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন, বুশরা মনজু, শিক্ষক ইমরান ফকির, রহিমা খাতুন, অরুন ঘোষ, মনোরঞ্জন মন্ডল, রাশেদ খান, মনোয়ারা বেগম, জাকির হোসেন, রাবেয়া খাতুন, ফিরোজা খাতুন, মীর রফিউল ইসলাম, আব্দুর রহিম প্রমুখ। মানববন্ধন চলাকালে সাকিবের খুনিদের ফাঁসির দাবি তুলে ধরেন বক্তারা। এরপর শিক্ষার্থী সাকিব হত্যার প্রতিবাদে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে শিক্ষার্থীরা। এসময় সাতক্ষীরা- আশাশুনি সড়কে যানবাহন চলাচল কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে পুলিশ পুত্র দশম শ্রেণির ছাত্র সাকিব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ ২৭ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে বুধবার (১৪-০২-২০১৮) থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত রনি বিচারিক হাকিম রাজীব রায়ের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপরদিকে সামিউজ্জামান অমি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিজ্ঞ আদালতে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রনি সরদার (১৯) শহরের কামালনগরের সেলিম সরদারের ছেলে। পুলিশ পুত্র সাকিব নিহত হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে পুলিশ হত্যার মোটিভসহ আসামী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার কারণে ঘাতকরা চিহ্নিত হয়েছে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরতলীর বকচরা বাইপাস সড়কে ভ্যানচালক রমজান আলীর বাড়ির পাশে এ হামলায় নিহত হয় নাজমুল হোসেন সাকিব (১৬)। সে পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ও পলাশপোল মেহেদীবাগে বসবাসরত কলারোয়া উপজেলার সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সিপাহী নজরুল ইসলামের ছেলে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শহরের রসুলপুরের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রাশেদ জানায়, সেসহ তার দু’সহপাঠী অমি ও সাকিব মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বকচরা আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসার মাঠে ইছালে সওয়াব মাহফিল শুনতে যায়। কামালনগরের রনির প্রেমিকার সঙ্গে সাকিবের পুরানো প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মাদ্রাসা মাঠের সামনে একটি স্টলে কামালনগর কলোনীর রনি, আব্দুল কাদের ও শান্তর সঙ্গে তারা বচসায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হলেও স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাশেদ, সাকিব ও অমি বাড়ি ফেরার পথে বাইপাস সড়কের বাসিন্দা ভ্যানচলক রমজানের বাড়ির কাছে পৌঁছানো মাত্র পিছন দিক থেকে রনি, কাদের ও শান্তসহ কয়েকজন তাদের উপর গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো শুরু করে। হামলার একপর্যায়ে অমি পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা গুরুতর জখম সাকিব ও রাশেদকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সাকিবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাফিজুল্লাহ জানান, ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত লাগার ফলে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়ে সাকিবের মৃত্যু হয়েছে। তবে রাশেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (আইসিটি) মহিদুল হক জানান, বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর হাপসাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে সাকিবের লাশ তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লে¬খসহ ২৭ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত রনি বিচারিক হাকিম রাজীব রায়ের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সামিউজ্জামান অমি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ১৬১ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
এদিকে, পুলিশ ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, শহরের কামাননগরের হাফিজুল ইসলাম (৬০), মেহেদি হাসান ফয়সল (১৫), যোবায়ের হোসেন (১৮), রনি (১৮), শাহিনুর (২৪) ও ইটাগাছার আবু হাসান (৩৮)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা শিশু পরিবারে শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নসহ নানা প্রকার অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ৪জন শিশুকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করার প্রতিবাদে নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ, সাতক্ষীরা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা নিউ মার্কেটস্ত শহিদ স.ম আলাউদ্দিন চত্বরে সংগঠনের আহবায়ক এড. ফাহিমুল হক কিসলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলীনুর খান বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে জে এস ডি’র সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু শেখর সরকার বলেন, শিশুদের উপর নির্যাতন নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাদের কে জামাই আদর করে যে সকল এতিম শিশুদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন করা হলো তাদের কেই বহিস্কার করে জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরার মানুষের সাথে তামাশা করলেন বলে আমি মনে করি। বিশিষ্ট সাংবাদিক নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতিম শিশুদের জীবন উন্নয়নের জন্য একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সেই সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্যই সাতক্ষীরা শিশু সদনের কর্মকর্তারা একের পর এক অনিয়ম দূর্নীতির জন্ম দিয়েছে। অবিলম্বে ৪জন শিশুর অবৈধ বহিস্কারাদেশ বাতিল, যৌন নির্যাতনে সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সদস্য ও ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, “শিশুদের উপরে যৌন নির্যাতনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রক্ষা করার জন্য কর্তৃপক্ষ এতিম শিশুদেরকে এতিম খানা থেকে বহিস্কার করে সাতক্ষীরার মানুষের বুকে আঘাত করেছেন। যারা নির্যাতন নিপীড়নকারী কর্মকর্তাদের রক্ষার জন্য মাঠে নেমেছে তারা এই সরকারের কখনোই ভালো চান না। এই সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœœ করে চলেছে। অবিলম্বে ৪জন শিশুর বহিস্কতাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।”
নির্যাতিত এতিম ছাত্র আব্দুল করিম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদেরকে বিনা দোষে আমাদের ছাত্রজীবনকে নষ্ঠ করে দিয়ে যারা আমাদের উপরে যারা নির্যাতন, নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি করলো তাদেরকে রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসক আমাদেরকে বহিষ্কার করেছেন। আমরা আমাদের ছোটভাইদের উপর যখন যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল তখন ডিসি স্যারকে এ বিষয়ে বলতে চাইলে তিনি আমাদের ভর্ৎসনা করেছিলেন এবং সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলার জন্য অসন্তষ্ট বলে জানিয়েছিলেন। আর এখন আমাদেরকেই উল্টো বের করে দেয়া হয়েছে। আমরা এতিমখানাতে ফিরে যেতে চাই।” সে আবেগতাড়িত কণ্ঠে আরো বলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন এতিম শিশুদেরকে রক্ষা করা জন্যে তাদের জীবনÑজীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ঠিক সেই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাতৃস্নেহ থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করা হলো। আমরা অবিলম্বে সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবারে ফিরে যেতে চাই। আমাদের অবৈধ বহিস্কারাদেশ তুলে নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী’র হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
কেন্দ্রীয় জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুস সুলতান বাবলু বলেন, “এতিম শিশুদেরকে যারা অবৈধভাবে বহিস্কার করেছেন, দোষীদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সাতক্ষীরাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ”
নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক এড. ফাহিমুল কিসলু বলেন, “যারা এতিম শিশুদের উপরে নির্যাতন নিপীড়ন করেছে যৌন হয়রানী করেছে, এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ বহিস্কৃত ৪জন কে অবৈধ বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।”
মানববন্ধনে একত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড. আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবেদুর রহমান, গাছের পাঠশালার পরিচালক সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন, জেলা জাসদের শ্রম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমির হোসেন খান চৌধুরী, সদর উপজেলা আ. লীগের প্রচার সম্পাদক হাসান হাদী, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের রওনক বাসার, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অহিদুজ্জামান টিটু, লোদী ইকবাল, সদর উপজেলা ভূমিহীন সমিতির আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বাবু, শহর ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহমেদ খান সাগর প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ আগামী মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করার ঘোষণা দেয়। আগামী শুক্রবার সকাল ১০টায় নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের জরুরি সভা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় সকল সদস্যদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আন্দোলন মঞ্চের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পার্কল্যান্ডের স্কুলে ঢুকে পড়া বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ব্রোওয়ার্ড অঞ্চলের শেরিফ স্কট ইসরায়েল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে এক সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ জানান, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গোলাগুলির পর হামলাকারী হিসেবে আটক করা হয়েছে ওই স্কুলের সাবেক ছাত্র নিকোলাস ক্রুজকে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুল থেকে ১৯ বছরের ওই তরুণকে এক সময় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর স্কুলটির সুপারিন্টেড জানিয়েছেন, সেখানে সর্বনাশ ঘটে গেছে।

এর আগে সিএনএন’র খবরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়। খবরে বলা হয়েছে স্থানীয় সময় বুধবার বেলা তিনটার কিছু আগে গোলাগুলির খবর পেয়ে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। গোলাগুলির শুরুর পর শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা এদিকওদিক ছোটাছুটি করেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে স্কুলটির সুপারিন্টেড বলেছেন, আমাদের ধারণা ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি স্কুলটির সাবেক ছাত্র। তাকে আটক করেছে পুলিশ।

ব্রোওয়ার্ড অঞ্চলের শেরিফ স্কট ইসরায়েল ওই ঘটনায় জড়িত বন্দুকধারীকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে হাসপাতালে পাঠানোর তথ্য জানিয়েছিলেন। একাধিক প্রাণহানির কথা বললেও তখন কোনও সংখ্যা নিশ্চিত করেননি তিনি।

ফ্লোরিডার সিনেটর বিল নেলসন স্কুলের সুপারিন্টেড ও এফবিআই প্রতিনিধির মধ্যে আলাপের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজকে বলেছেন এই ঘটনায় অনেকেই মারা গেছেন।

নিকোলাস বাল্টজার নামের ওই স্কুলের ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন ঘটনা শুরুর সময় ত্রিকোণমিতি ক্লাসে ছিলেন তিনি। স্কুল ছুটির দশ মিনিট আগেই ফায়ার এলার্ম বেজে ওঠে। শিক্ষার্থীরা পালাতে শুরু করলে ছয়টি গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানান তিনি। সব শিক্ষার্থী স্কুলের পেছন দিকে পালাতে শুরু করে জানিয়ে নিকোলাস বলেন, এসব শব্দ ছিল খুব কাছের।

হতাহতদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়ে টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি লিন্ডসে ওয়াল্টার জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে হোয়াইট হাউস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সকালে খালি পেটে পানি পানের ৭ উপকারিতা

সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু এটা ঠিক কী কী উপকারে আসে কিংবা তার সুফল কেমন করে পাওয়া যায়, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খালি পেটে পানি পান করার কিছু উপকারিতা।

১. সকালে প্রতিদিন খালি পেটে পানি খেলে রক্তের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়।

২. রাতে ঘুমানোর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে হজম প্রক্রিয়ার তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য অন্তত এক গ্লাস পানি খেয়ে নেয়া উচিত।

৩. প্রতিদিন সকালে নাস্তার আগে এক গ্লাস পানি খেলে নতুন মাংসপেশি ও কোষ গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

৪. প্রতিদিন খালি পেটে এক গ্লাস করে পানি খেলে মলাশয় পরিষ্কার হয় যায় এবং শরীর সহজেই নতুন করে খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।

৫. যারা ডায়েটের মাধ্যমে ওজন কমাতে চান, তারা অবশ্যই প্রতিদিন সকালে উঠে পানি পানের অভ্যাস করুন। কারণ যত বেশি পানি পান করবেন, তত হজম ভাল হবে এবং শরীরে বাড়তি ফ্যাট জমবে না।

৬. প্রতিদিন সকালে মাত্র এক গ্লাস পানি বমি ভাব, গলার সমস্যা, মাসিকের সমস্যা, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা, আথ্রাইটিস, মাথা ব্যাথা ইত্যাদি অসুখ কমাতে সহায়তা করে।

৭. ঘুম থেকে উঠে অনেকের মাথা ব্যথা করে। শরীরে পানির মাত্রা কমে যাওয়া মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ। সারা রাত শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি যায় না। তাই সকালে উঠে যদি খালি পেটে পানি পান করা যায় তবে মাথার যন্ত্রণা অনেকটা দূর হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন অ্যাম্বাসেডর নিক্কি হ্যালি নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন: মিয়ানমার সঙ্কটে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জাতিসংঘ। এই পরিষদকে অবশ্যই রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে সেনাবাহিনীকে দায়ী করতে হবে এবং অং সান সু চিকে তার দেশে হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের স্বীকৃতি দিতে হবে। এ বিষয়ে আর কোন অজুহাত নয়।

এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে মিয়ানমারে এখনও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি উল্লেখ করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন: আমাদের হিসাবে বহু রোহিঙ্গা বন্যা এবং ভুমিধ্বস প্রবণ এলাকায় রয়েছে। অরক্ষিত এই রোহিঙ্গাদের জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর প্রয়োজন। তাদের জীবন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এমনটি জানান তিনি।

গত আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর জাতিগত নিধনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরও রোহিঙ্গারা নিজেদের বাড়ি-ঘরে ফিরতে না পারায় এখনও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সংকট চলছে।

গ্রান্ডি বলেন, রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার কারণ এখনও স্বীকার করেনি মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা এবং গত কয়েক দশক ধরে তাদের অধিকার অস্বীকার করে আসার যে প্রবণতা, সেই পরিস্থিতিরও বাস্তবসম্মত কোন উন্নতি আমরা এখন পর্যন্ত দেখিনি।

গ্রান্ডি আরও বলেন, যে রাখাইনে শত শত গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার সেনারা, সেখানে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’এর প্রবেশের অনুমোদন নেই। মানবিক সহায়তা পৌঁছানো অত্যন্ত সীমিত করা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যের কেন্দ্রেও আমাদের প্রবেশ সংকুচিত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, শরণার্থীদের স্বাধীন তথ্য সরবরাহ এবং প্রত্যাবাসনের সময় রোহিঙ্গাদের সহয়তায় ইউএনএইচসিআর এর উপস্থিতি এবং রাজ্য জুড়ে তাদের প্রবেশাধিকার প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন গ্রান্ডি।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার কথাও বলেন গ্রান্ডি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জায়গা দেওয়ার জন্য বাংলদেশের জনগণের প্রশংসা করেন তিনি। মার্চে বর্ষার মৌসুম শুরুর আগেই রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতির জন্যও সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, আমরা এখন সময়ের সাথে প্রতিযোগিতা করছি। আমাদের হিসাবে বহু রোহিঙ্গা বন্যা এবং ভুমিধ্বস প্রবণ এলাকায় রয়েছে। অরক্ষিত এই রোহিঙ্গাদের জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর প্রয়োজন। তাদের জীবন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে।

গ্রান্ডির বক্তব্যের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন অ্যাম্বাসেডর নিক্কি হ্যালি বলেন, মিয়ানমার সঙ্কটে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জাতিসংঘ। এই পরিষদকে অবশ্যই রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে সেনাবাহিনীকে দায়ী করতে হবে এবং অং সান সু চিকে তার দেশে হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের স্বীকৃতি দিতে হবে। এ বিষয়ে আর কোন অজুহাত নয়।

রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে না পরায় মিয়ানমারের নেত্রী এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির সমালোচনা করেন হ্যালি।

নিক্কি হ্যালি আরও বলেন, যা কিছু হচ্ছে তার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করা হলো মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য। হ্যালি এবং আরও কয়েকজন জাতিসংঘের অ্যাম্বাসেডর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি বিশেষ করে উল্লেখ করেন। রাখাইনের একটি গণকবরের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে মিয়ানমারের অ্যাম্বাসেডর এ বিষয়ে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে তার দেশ সম্মান করে। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার নীতি লঙ্ঘণের জন্য ওই দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোনালদোর ইতিহাসের রাতে পিএসজিকে হারাল রিয়াল

অনন্য অর্জন থেকে মাত্র এক গোল দূরে ছিলেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অর্জনের সেই শততম গোলটি তো করেছেনই, সঙ্গে পিএসজির বিপক্ষে দলকে এনে দিয়েছেন বহু কাঙ্ক্ষিত এক জয়।

বুধবার রাতে রোনালদোর জোড়া গোলের সঙ্গে মার্সেলোর স্কোরিংয়ে পিএসজিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। কোয়ার্টার নিশ্চিত করতে আগামী মাসে ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে বড় ব্যবধানে জয় ছাড়া বিকল্প নেই নেইমারের দলের।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের শুরু থেকেই জমে ওঠে খেলা। প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে বলার মত আক্রমণটি ছিল কেবল রোনালদোরই। ২৮ মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে মার্সেলোর উড়ে আসা পাস সুবিধাজনক জায়গায় পেয়ে জোরাল শট নিয়েছিলেন রোনালদো। সেটি পিএসজি গোলরক্ষক আরিওলার মুখে লেগে ফিরে এসে গোলবঞ্চিত করে পর্তুগিজ অধিনায়ককে।

স্বাগতিকরা ব্যর্থ হলেও নিজেদের প্রথম পূর্ণ সুযোগের পুরো ফায়দাই তুলেছে পিএসজি। ৩৩ মিনিটে কাইলিয়ান এমবাপের থেকে আসা ক্রসে ব্যাকহিল করেন নেইমার। সেখান থেকে পেছনে ওঁত পেতে থাকা মিডফিল্ডার আদ্রিয়ান রাবিওর জোরাল শট রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাসকে পরাস্ত করে।

পিএসজি এগিয়ে যাওয়ার চার মিনিটে বাদে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন রোনালদো। ৩৭ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়েও বার উঁচিয়ে বাইরে পাঠিয়েছেন পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকা। ৪৪ মিনিটে করিম বেনজেমার আচমকা শট ফিরিয়ে দেন পিএসজি গোলরক্ষক।

বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সমতায় ফেরে রিয়াল। ডি-বক্সে টনি ক্রুজ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে বার্নাব্যুর দর্শকদের মুখে হাসি ফোটান রোনালদো। সঙ্গে প্রথম ফুটবলার হিসেবে নির্দিষ্ট একটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়েছেন সিআর সেভেন।

মধ্যবিরতি থেকে ফিরেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারিয়েছে পিএসজি। ৪৯ মিনিটে নেইমারের ক্রস থেকে এমবাপের শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক নাভাস। ৭৩ মিনিটে জটলার মধ্য থেকে কিমপেম্বের জোরাল শটে পা বাড়িয়ে রিয়ালের রক্ষাকর্তা হন অধিনায়ক রামোস।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে আরও একবার ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হয় পিএসজি। রিয়াল বক্সের বামপ্রান্ত দিয়ে কাভানির বদলি খেলোয়াড় টমাস মুনিয়েরের পাসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন নেইমার ও আলভেজ।

পরে ৭৯ মিনিটে ইস্কোর বদলি হিসেবে মার্কো আসেনসিওকে নামান রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান। তাতে যেন ম্যাচে প্রাণ ফিরে পায় স্বাগতিকরা।

আসেনসিওর ঝলকের সঙ্গে রোনালদোর জাদুতে ৮৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল। নিজেদের মধ্যে বল আদান-প্রদান করে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আসেনসিওর শট বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন পিএসজি গোলরক্ষক। সেই সুযোগে হাল্কা ছোঁয়ায় চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের এগারতম গোল পুর্ণ করেন সিআর সেভেন।

তিন মিনিট বাদে আবারও ঝলক দেখান আসেনসিও। তার পাসেই পিএসজিকে আরও একবার হতাশ করেন ডিফেন্ডার মার্সেলো।

রাতের অন্য ম্যাচে সাদিও মানের হ্যাটট্রিকে এফসি পোর্তকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিভারপুল। ইংলিশ জায়ান্টরা টুর্নামেন্টের সেরা আটে উঠেই গেছে বলা যায়। পোর্তোর মাঠে অল রেডসদের অন্য গোল দুটি মোহাম্মেদ সালেহ ও রবের্তো ফিরমিনোর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম; অর্ধশতাধিক শিক্ষা কর্মকর্তা চিহ্নিত

শ্রম, অর্থ ও সময় বাঁচানোর পাশাপাশি দুর্নীতি কমানোর লক্ষ্যে বিকেন্দ্রীকরণ করে অনলাইনে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু কিছু কর্মকর্তার জন্য এ বিকেন্দ্রীকরণে হয়েছে উল্টো ফল। মাঠ প্রশাসনে এই এমপিওভুক্তি নিয়ে বাণিজ্য হয়েছে। শিক্ষকদের হয়রানি করে, ঘুষ নিয়ে বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন কয়েকজন আঞ্চলিক উপ-পরিচালকসহ বেশ কিছু শিক্ষা কর্মকর্তা।

এমন অর্ধশতাধিক অসাধু কর্মকর্তার তালিকা দিয়ে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আর ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫ জন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, ২০ জনের বেশি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ৫০ এর অধিক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনিয়ম, বেপরোয়া ঘুষ-দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট। উপ-পরিচালক, কর্মকর্তা ছাড়াও এসব অনিয়মে জড়িত থাকেন অফিস সহকারীসহ অন্যান্য কর্মচারীও। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনিয়মের বিষয়টি জেনে গত বছরের জুলাইয়ে এসব দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন অধিদপ্তরের তত্কালীন মহাপরিচালককে।

মন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষক এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম ও জালিয়াতি ধরতে মাঠ পর্যায়ে ২০ টিম গঠন করা হয়েছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ৪০ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত এই টিম দেশের ৬৪টি জেলা সরেজমিন পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক চিত্র প্রতিবেদন আকারে ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সিন্ডিকেট। ফলে কমিটি হলেও কমিটি কাজ করেনি। অভিযোগ ছিল, ওই সিদ্ধান্ত যাতে বাস্তবায়ন হতে না পারে এ কারণে আঞ্চলিক উপ-পরিচালকরা জোটবেঁধে মাউশির সিন্ডিকেটকে ঘুষ দিয়েছে।

চার থেকে পাঁচ স্তরে অনিয়ম:চার থেকে পাঁচ স্তরে অনিয়ম হয় শিক্ষক এমপিওভুক্তিতে। প্রথমে স্কুল থেকে এপিওভুক্তির জন্য প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করতে হয় ঘুষ দিয়ে। এরপর উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সেখান থেকে জেলা শিক্ষা অফিসারকে ঘুষ দিতে হয়। উপ-পরিচালক পর্যন্ত এই অনৈতিক সুবিধা দিতে হয়। দিলেই অনলাইন ফাইলে সঠিক মন্তব্য করা হয়, নয়তো নানা কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করা হয়। জানা গেছে, নতুন এমপিওর ক্ষেত্রে প্রতি স্তরে ঘুষ দিতে হয় ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে প্রতি শিক্ষকের এমপিওতে মোট ঘুষ দিতে হয় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এমপিওভুক্তির কাজ শিক্ষার মাঠ প্রশাসনের ৯টি আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের হাতে ছেড়ে দেয়। এর পর থেকেই মূলত দুর্নীতির হিড়িক পড়ে যায় আঞ্চলিক অফিসগুলোয়। এমপিওভুক্তির প্রায় প্রতিটি কাজে নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আসতে থাকে মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নতুন আশায় আজ শুরু টি-টোয়েন্টি

নতুন ফরম্যাট, নতুন সিরিজ ও একঝাঁক নতুন খেলোয়াড়। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে এই ‘নতুন’-এর ওপরই ভরসা রাখছে বাংলাদেশ দল। টেস্ট সিরিজ ও ওয়ানডে টুর্নামেন্টের হতাশা ভুলে নতুন এই সিরিজে নতুন তারকাদের মুখ চেয়ে স্বপ্ন দেখছে তারা। আশা করছে, এবার অন্তত জয় ধরা দেবে বাংলাদেশের হাতে।

এই আশায় আজ বিকেল ৫টায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টির প্রথমটি খেলা শুরু করবে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশের অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড কখনোই ভালো নয়। দেশের মাটিতে অন্তত টেস্ট ও ওয়ানডেতে একটা শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে তারা। যদিও সর্বশেষ এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফলাফল ভালো নয়। তার চেয়েও খারাপ টি-টোয়েন্টিতে সামগ্রিক ফলাফল। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজেদের ইতিহাসে ৬৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২১টি মাত্র জয় পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রেকর্ডটা আরো খারাপ। এই দলটির বিপক্ষে ৭ ম্যাচে এসেছে ২টি মাত্র জয়। তবে আশার কথা হলো, এই ২টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ দুই দলের সর্বশেষ ৩ ম্যাচে। এখানে অন্তত একটু এগিয়ে আছে তারা।

তবে খেলোয়াড়রা প্রায়ই বলেন, টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড বা ইতিহাস কোনো ব্যাপার নয়। ম্যাচের নির্দিষ্ট দিনে যে দল ভালো খেলবে, সেই দল ম্যাচ জিতবে। আজ সেই ভালো খেলাটা নিজেরাই খেলতে চায় বাংলাদেশ। জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বললেন, তারা আশা করছেন- সাম্প্রতিক পরাজয়গুলোর স্মৃতি ভুলে এবং ব্যর্থতার ভয় কাটিয়ে আজ তারা সেরা পারফরম্যান্সটা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ দলে আজ কয়েক জন খেলোয়াড়ের অভিষেক দেখতে পাওয়ার কথা। টি-টোয়েন্টি দলটাকে অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ ঢেলে সাজাতে চাইছে। সেই লক্ষে কয়েক জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে দলে ডাকা হয়েছে পাঁচ জন একেবারে নতুন খেলোয়াড়কে। পাশাপাশি গতকাল পর্যন্ত ইনজুরি নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। এর আগে থেকেই ইনজুরিতে দলে নেই সাকিব আল হাসান। আর মাশরাফি বিন মুর্তজা টি-টোয়েন্টি থেকেই অবসর নিয়েছেন। ফলে একেবারে আনকোরা একটা দল দেখা যেতে পারে আজ মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে।

একাদশটা অবশ্য গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি। আজ উইকেট দেখে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। দুই দলই আশা করছে, টি-টোয়েন্টিতে অন্তত মিরপুরে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট পাওয়া যাবে। ওয়ানডে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এবং টেস্টে উইকেট ছিল একেবারেই বোলিং সহায়ক। সেটা হলে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আকর্ষণ হারাতে পারে। তাই একটু ভালো উইকেটের দিকে চেয়ে আছেন খেলোয়াড়রা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest