পরিত্যক্ত লালদালানে রাত কাটবে খালেদা জিয়ার

২০১৬ সালের ২৯ জুন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের লালদালান খ্যাত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৬ হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ২২৮ বছরের পুরনো কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কেউ কখনো কল্পনাও করেননি কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আর কোনোদিন এ কারাগারে ফের বন্দিজীবন কাটাতে হবে।
কিন্তু ২ বছর ৪ মাস ১০ দিন পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারে রাত কাটাবেন বেগম খালেদা জিয়া।
জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য কারাগারে ভিআইপি বন্দির কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। কক্ষটিতে এয়ারকন্ডিশন ও সোফা সেট দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলীয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। সেইসঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তৎকালীন মুখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকীসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের সশ্রম ও আর্থিক কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দুপুর সোয়া ২টায় রায় পাঠের সময় বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের আদালত কক্ষে অবস্থান না করার নির্দেশ দেন বিচারক। রায় পাঠের শুরুতে বিচারক বলেন, ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়টি পুরোপুরি পড়তে গেলে অনেক বিলম্ব হবে। তাই রায়ের মূল পয়েন্টগুলো পড়ে শোনাচ্ছি।
তিনি জানান, মোট ১১টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রায় দেয়া হচ্ছে। রায়ে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তারেক রহমান ও কামালউদ্দিন সিদ্দিকীসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থ আত্মসাতের সমপরিমাণ টাকা জরিমানা এবং সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হলো।
এ রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিএনপির আইনজীবীরা নো নো, ফলস জাজমেন্ট বলে হৈচৈ করে ওঠেন। তবে রায় শোনার পর বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ভাবলেশহীন।
সাজাপ্রাপ্ত ঘোষণার সঙ্গেসঙ্গেই আদালতে উপস্থিত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিশেষ করে নারী পুলিশ কর্মকর্তারা খালেদা জিয়াকে ঘিরে ফেলেন। তাদের কথামতো বেগম খালেদা জিয়া হেঁটে পাশের কক্ষে চলে যান। এসময় আদালত কক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, মওদুদ আহমদ, মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদসহ অন্য নেতারা মন খারাপ করে চেয়ারে চুপচাপ বসে থাকেন।
এসময় বিএনপির একজন আইনজীবী বলেন, ম্যাডামের চলাফেরা করতে সমস্যা হয়। আপনারা কেউ গিয়ে তার সঙ্গে একজন গৃহপরিচারিকা যেন থাকতে দেয় সে ব্যাপারে আলাপ করেন। এ সময় তারা বলাবলি করেন, এখনই ম্যাডামকে জেলে নেয়া হবে। আদালতে আপিল করা ছাড়া এভাবে কাউকে থাকতে দেয়া হবে না। আদালত কক্ষে উপস্থিতদের মধ্যে বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের একজন কর্মকর্তাকে কাঁদতে দেখা যায়। আদালত থেকে বিকেল ৩টার কিছু সময় আগে পুলিশ ও র্যাবসহ কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
এর আগে দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে আদালত এজলাসে প্রবেশ করেন বেগম খালেদা জিয়া। সকাল থেকেই আদালতের এজলাসের ভেতর দুদক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও মিডিয়াকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর আলিয়া মাদরাসায় প্রবেশের আওয়াজ শোনার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির আইনজীবীরা উত্তরমুখী প্রবেশদ্বারের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় বেগম খালেদা জিয়া একজন দলীয় নারী কর্মীর হাত ধরে আদালতের ভেতরে প্রবেশ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরনে এসময় ছিল ক্রিম কালারের প্রিন্টেড সিল্কজাতীয় শাড়ি ও পাতলা চাদর। এজলাসের সামনে রাখা চেয়ারের সামনে আসতেই সিনিয়র নেতারা ছুটে আসেন। চেয়ারে বসে তিনি ভ্যানিটি ব্যাগ ও রোদচশমা টেবিলের ওপর রাখেন। এ সময় তিনি মির্জা আব্বাসের স্ত্রীসহ অন্যান্য দু-একজনের সঙ্গে আলাপ করেন।
দুপুর সোয়া ২টায় বিচারক তার আসনে বসেন। এসময় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অনেকটা ভাবলেশহীন। বিচারক দুর্নীতির অভিযোগ পড়া শুরু করলে তিনি কখনো চেয়ারের হাতলে দুহাত রেখে আবার কখনো দুচোখ বন্ধ করে রায় শোনেন। রায়ে পাঁচ বছরের সাজা শোনেও তার মধ্যে কোনো দুঃখ বা ভীতি লক্ষ্য করা যায়নি। তাকে দেখে মনে হয়েছে রায়ে তার সাজা হবে এমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই তিনি এসেছেন।
উল্লেখ্য, দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের এই সাজা দেয়া হয়েছে। বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সাজা কমানো হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। মোট ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের বিশেষ অংশ পাঠ করেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া ছাড়া দুই আসামিও উপস্থিত ছিলেন। প্রথমেই বিচারক রায়ের প্রসিকিউশনের অভিযোগগুলো পড়ে শোনান।
এ মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তার মধ্যে তিনজন পলাতক। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
গত ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য ছিল। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। ১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। আত্মপক্ষ সমর্থনে সময় গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন হয়েছে ১৬ দিন এবং আসামিপক্ষ মামলাটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে গেছেন ৩৫ বার।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আসমানী শিশু নিকেতনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আসমানী শিশু নিকেতনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা পিএন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব আলাউদ্দিন আল আযাদ, পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য বিশিষ্ট সমাজ সেবক বিশ্বনাথ ঘোষ, স্কুলের অধ্যক্ষ মারুফা আক্তার স্বপ্না, উপাধ্যক্ষ স্বপন কুমার শীল, সৈয়দ আনিসুর রহমান ও অভিভাবক সদস্য রেফাজুর রহমান বিমান, মোঃ কিবরিয়া জলিল প্রমুখ। এসময় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলী, সম্মানিত অভিভাবক ও স্কুলের ছোট ছোট সোনামণিদের মধ্যে উচ্ছল, প্রাণ চাঞ্চল্য প্রলক্ষিত হয়। এছাড়া আগামী ১৬ ফেব্র“য়ারি স্কুলের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হবে। এব্যাপারে সকল অভিভাবক ও স্কুল সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নাশকতাকারীদের প্রতিহত করার লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামাত কর্তৃক নাশকতাকারীদের প্রতিহত করার লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা-১১টায় সার্কিট হাউজ মোড় থেকে জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ছাইফুল করিম সাবুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরসভার ০৯নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সমীর কুমার বসুর সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ছাইফুল করিম সাবু, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এম.এ খালেক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ সরদার, পৌর শ্রমিকলীগের সভাপতি মো. জোহর আলী, ০৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মীর্জা, জেলা সৈনিকলীগের সভাপতি মাহমুদ আলী সুমন, যুব মহিলালীগের সভাপতি সাবিহা হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর ফারহা দিবা খান সাথি, জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন, অটো রিকসা অটো টেম্পু মালিক ও চালক সমবায় সমিতির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. গাউস আলী, লেবার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল ইসলাম মিঠু, জাহিদ হোসেন খান, অলিউর রহমান মুকুল, শহিদুল ইসলাম, সানাউল্লাহ বাবু, বাবলু হাসান, ইব্রাহীম হোসেন, মশিয়ার রহমান, আসাদুর রহমান খান বিপু, মহিদুল হক, মো. আজিম খান শুভ প্রমুখ। এসময় জেলা আওয়ামী আইনজীবীবৃন্দরা বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভায় একাত্বতা ঘোষণা করেন। আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জজ কোর্টের পিপি এড. ওসমান গনি, মুক্তিযোদ্ধা এড. ইউনুচ আলী, এড. রফিকুল ইসলাম রফিক, এড. ত্বোহা কামাল, এড. ওসমান আলীসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্রীলঙ্কাকে ২২২ রানে গুটিয়ে দিলো বাংলাদেশ

শুরুতে উইকেট হারালেও এক সময় মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কার নিয়ে ফেলতে পারে তিনশ রান। তবে মাঝের ওভার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২২১ রানেই বেধে ফেলেছে বাংলাদেশ। ৪৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশে বোলিং হিরো রুবেল হোসেন। মোস্তাফিজ নিয়েছেন ২৯ রানে ২ উইকেট।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেছেন উপুল থারাঙ্গা। ফিফটির কাছে গিয়ে ফিরেছেন নিরোশান ডিকভেলা ও দিনেশ চান্দিমাল। শুরুর দিকে ঝড় তুলে ফেরেন কুশল পেরেরা। শেষ দিকে আকিলা ধনঞ্জয়ার ১৭ রান ছাড়া দুই অঙ্কেই যেতে পারেননি আর কেউ।

মাঝের ওভারে আটোসাটো বোলিংয়ের সঙ্গে পেসের ঝাঁজ দেখিয়েছেন রুবেল। মোস্তাফিজ ছিলেন পুরো ছন্দে। চোট পেয়ে সাকিব আল হাসান ৫ ওভারের বেশি বল করতে না পারলেও সে অভাব বুঝতে দেননি তারা।

বিপদজনক হতে থাকা উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে মোস্তাফিজের ৫০তম উইকেট নেওয়ার পর থিসিরা পেরেরাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন রুবেল হোসেন। ১৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

 

তৃতীয় উইকেটে বেশ ভালো জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন নিরোশান ডিকভেলা ও উপুল থারাঙ্গা। ডিকভেলাকে ফিরিয়ে তাদের ৭২ রানে জুটি ভাঙ্গেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। সাইফুদ্দিনের বলে টপ এজ হয়ে ফেরত যান ৪২ রান করা ডিকভেলা। দলের রান তখন ১১৩।

ওয়ানডাউনে নেমেই ঝড় তুলেছিলেন কুশল মেন্ডিস। মিরাজের এক ওভারে তিন ছয় আর এক চারে তুলে নিয়েছিলেন ২৪ রান। তাকে থামান মাশরাফি। আগ্রাসী খেলতে থাকা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান পুল করতে টপ এজ হয়ে বল যায় মিড অনে মিরাজের হাত। ৪২ রানে পড়ে লঙ্কানদের দ্বিতীয় উইকেট।

 

দলে ফিরে তৃতীয় ওভারেই সাফল্য এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনফর্ম দানুশকা গুনাথিলেকা উড়াতে চেয়েছিলেন মিরাজের বল। টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল উঠা যায় আকাশে, লং অফ থেকে বায়ে সরে ক্যাচ জমান তামিম। ৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

 

টানা চার ম্যাচে টস জেতার পর ফাইনালে এসে হারলেন মাশরাফি মর্তুজা। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের শিরোপা লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে এসেছে তিন পরিবর্তন।

ফাইনালের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশাল হারের পর বেশ ঝাঁকুনিই লেগেছে বাংলাদেশ দলে। অন্তত একাদশে তিন পরিবর্তন দেখেই তাই মনে করা যায়। ৮২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ম্যাচ থেকে বাদ পড়েছেন এনামুল হক বিজয়, নাসির হোসেন ও আবুল হাসান রাজু।

সাড়ে তিন বছর আগে ভারতের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে খেলেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে দলে আসা এই ব্যাটসম্যান নিচ্ছেন এনামুলের জায়গায়। ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী তিনিই।

অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের উপরও এই ম্যাচে আস্থা রাখছে না দল। সব ম্যাচেই দৃষ্টিকটু আউট আর বল হাতে বিশেষ কিছু করতে না পারায় বাদ পড়লেন তিনি। তার বদলে একাদশে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

তিন বছর পর ফিরেছিলেন আবুল হাসান রাজুও। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমেছিলেন সাত নম্বরে। তাতে হয়েছেন ব্যর্থ। বল হাতেও এই ম্যাচেও থেকেছেন উইকেট শূন্য। এই নিয়ে সাত ওয়ানডে খেলেও উইকেটের দেখা পাননি তিনি। একাদশে তাই ফিরেছেন আরেক পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

পরিবর্তন এসেছে শ্রীলঙ্কা দলেও। লাকসান সান্দাকানের জায়গায় অভিষেক হচ্ছে শিহান মধুশঙ্কা।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ মিঠুন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মাশরাফি মর্তুজা, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: উপুল থারাঙ্গা, দানুশকা গুনাথিলেকাম দিনেশ চান্দিমাল, নিরোশান ডিকভেলা, অ্যাসলে গুনারত্নে, কুশল মেন্ডিস, আকিলা ধনঞ্জয়া, সুরাঙ্গা লাকমাল, দুশমন্ত চামিরা, থিসিরা পেরেরা, শিহান মধুশঙ্কা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খালেদার ৫ বছর এবং তারেকসহ বাকিদের ১০ বছর জেল

অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। ১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। আত্মপক্ষ সমর্থনে সময় গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন হয়েছে ১৬ দিন এবং আসামিপক্ষ মামলাটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে গেছেন ৩৫ বার।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নাশকতা এড়াতে আটক-৫৭, পুলিশের পাশাপাশি ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় পুলিশের সন্ত্রাস, নাশকতা বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ৩৭ নেতা-কর্মীসহ ৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে, বিএনপির ১৩ জন ও জামায়াতে ইসলামীর ২৪ জন নেতাকর্মী রয়েছে। এদিকে, রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতা এড়াতে জেলায় পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৭ জন, কলারোয়া থানা ৫ জন, তালা থানা ৩ জন, কালিগঞ্জ থানা ৬ জন, শ্যামনগর থানা ৫ জন, আশাশুনি থানা ১৪ জন, দেবহাটা থানা ৪ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি আরো জানান, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে জেলায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

০৮.০২.১৮

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাজ পাওয়ার জন্য পার্টিতে যাই না: রাইমা

কাজ দিয়ে বরাবরই প্রশংসা কুড়িয়েছেন রাইমা সেন। বাংলা ও হিন্দি ভাষার সিনেমাতে পাল্লা দিয়ে কাজ করেছেন। ‘চোখের বালি’, ‘পরিনীতা’, ‘অন্তর মহল’ এর মতো কালজয়ী ছবি ভরেছেন নিজের ঝুলিতে। ঋতুপর্ণ ঘোষ, প্রদীপ সরকার, কৌশিক গাঙ্গুলি, অরিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর মতো পরিচালকের ছবিতে তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন সমালোচকরা।

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে বলিউড ছবি ‘ভদকা ডায়রিজ’। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফিরছেন রাইমা। এখন শ্যুটিং করছেন ‘সিতারা’ ছবিতে।
বাংলাদেশি অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। নিজের ফার্স্ট লুকও প্রকাশ করেছেন টুইটারে।

সম্প্রতি দেয়া সাক্ষাৎকারে রাইমা বলেন, ‘আমি শুধু সিনেমা করার জন্য বাঁচি না। সিনেমায় কাজ পাওয়ার জন্য পার্টিতেও যাই না। আমি বিশ্বাস করি, সিনেমায় ভালো কাজ করলে পরের সিনেমায় ডাক পাব।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তাসকিনের সঙ্গে চার তারকা

এক হয়েছেন পাঁচ তারকা। এরমধ্যে একজন ক্রিকেটার, বাকি চার জন অভিনয়শিল্পী। সম্প্রতি ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের দুটি বিজ্ঞাপনে অংশ নিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার তাসকিন আহমেদ। এগুলো পরিচালনা করেছেন মাহমুদ মাহিন।

ইয়ামাহা ব্র্যাণ্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে এই বিজ্ঞাপনগুলোতে মডেল হয়েছেন তাসকিন। দুটি বিজ্ঞাপনে তার সঙ্গে দুটি জুটি হিসেবে উপস্থিত হবেন জোভান ও তানজিন তিশা এবং শামীম হাসান সরকার ও সালমা খানম নাদিয়া।

নির্মাতা জানালেন, বিজ্ঞাপন দুটিতে আলাদাভাবে দুটি জুটিকে দেখানো হয়েছে যাদের মোটরসাইকেল চালানো সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সচেতন করবেন তাসকিন। গেল ১, ৩ ও ৫ ফেব্রুয়ারি টিভিসিটির শুটিং হয়েছে। ১ ও ৩ তারিখ কাজ করা হয়েছে রাজধানীর কোক স্টুডিওতে। ৫ তারিখে শুটিং হয়েছে উত্তরায়।

বিজ্ঞাপনটি নিয়ে তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘ইয়ামাহা’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছি। চেষ্টা করি খেলার ফাঁকে ওদের কাজগুলোতে সময় দেওয়ার। বেশ ভালোই লাগে কাজ করতে। এবার ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের মডেল হলাম। পাবলিক অ্যাওয়ারনেসের বিষয় কেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন। চারজন জনপ্রিয় তারকার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা হলো। দর্শকের ভালো লাগবে টিভিসিগুলো।’

নির্মাতা জানালেন, শিগগিরই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দুটি প্রচারে যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest